রোদ্দুর বরাবর'ই তার কাজের প্রতি খুব অনুগত। স্কুল জীবন অথবা কর্ম জীবন যেখানেই হোক না কেন, সজ্ঞানে কখনোই ফাঁকিবাজি করে নাই। এই কাজ কাজ করে বাড়ি আসার পরে না খুব একটা। এই কাজের জন্য নিজের বাড়ি-ঘর ছেড়ে, মা-বাবা, আপনজন ছেড়ে পড়ে আছে। আজ ঢাকা ফিরে যেতে হবে, কেনো যেনো যেতে ইচ্ছে করছে না। ঝিলমিলকে এখানে রেখে যেতে ভরসা পাচ্ছে না তারচেয়েও বড় কথা তার ঝিলমিলকে রেখে যেতেই ইচ্ছে করছে না। ওইদিকে গতকাল ওয়ান এন্ড অনলি শশুর মশাই বলে দিয়েছেন, 'তোর যখন কাজের তাড়া আছে, তুই বরং যা। ঝিলমিল কিছুদিন আমাদের এখানেই থাকুক। ওর তো এখন পরীক্ষা শেষ, পড়াশোনা এমনিতেও করতে চায় না; তারচেয়ে বাড়িতে মায়ের কাছে থাকুক কিছুদিন।'
রোদ্দুর তৎক্ষণাৎ হেসে সায় জানিয়েছিল। শশুর মশাইকে বোঝাবে কি করে, তার বুকের ব্যথা? ইশশশ, এ মানুষগুলো কোনোদিন তাকে বুঝবে না। শশুর বাড়ি থেকে এত কষ্ট পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে.... নাহ একটা বন্দোবস্ত করতেই হবে। সবসময় দেখে এসেছে শশুর বাড়িতে জামাইরা থাকে আদরে, আহ্লাদে, সকলের চোখের মণি হয়ে। রোদ্দুর মনে হচ্ছে, এই বাড়ির ছেলে হয়ে যতটা আদর পেয়েছে জামাই হিসেবে এখনও পায় নাই। পাবে কি করে? বিয়েটাই তো হয়েছে কোনোরকম!
রোদ্দুর দাদির কাছে গিয়ে ইয়া বড় অভিযোগের ঝুলি খুলে বসল, 'তোমরা শুধু আমাকে মুখে মুখেই ভালোবাসো। একটা বিয়ে দিলে দায়সারাভাবে। আমি এসব মানব না। তুমি আর তোমার ছেলেরা মিলে আমার সাথে বেইমানি করেছ। এই বাড়ির নাতজামাই হিসেবে মান্য করো না আমকে। যে যেভাবে পারছে ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে। কিছু একটা হলে এমনকি তোমার পান থেকে চুন খসলেও তুমি "রোদ্দুর" বলে চেঁচিয়ে উঠছ! বলো আমাকে, মানে হয় এসবের? আমার সাথে কি এসব অন্যায় হচ্ছে না?'
তারপর ফিসফিস করে বলল, 'তোমরা তো আমাকে পাত্তা দেও না সাথে আমার বউ'ও দেয় না। এমন ভাব করে মনে হয়, চেনে না। ছিঃ, জীবনে কোনোদিন ভাবতে পারি নাই এতটা পাত্তা হীনতায় ভুগব আমি।'
দাদি রোদ্দুর কথা শুনে দফায় দফায় হাসলেন। রোদ্দুর রেগেমেগে চলে গেল।
দিন এতটাই ছোটো, কীভাবে যে সময় চলে যাচ্ছে বোঝাই যায় না। রোদ্দুর যেতে চেয়েছিল সন্ধ্যার পর, তাই ব্যাগপত্র গুছিয়ে রেডি করে রাখল। সকালে ঘুম থেকে উঠার পর একবার ঝিলমিলের সাথে দেখা হয়েছিল মাত্র, কোনো কথা হয় নাই। এই দুপুর পর্যন্ত মহারাণী কোথায় রয়েছেন কে জানে? কাল রাতের কথাগুলো কীভাবে যে নিয়েছে! রোদ্দুরের জানামতে, সে খারাপ কিছু বলে নাই। কিছুদিন দ্বিধাগ্রস্ত ছিল, নিজের অনুভূতির সাথে একপ্রকার যুদ্ধ করেছে বলা চলে কিন্তু এখন সেসব দ্বিধা-ফিধা উড়ে গেছে। মনের মধ্যে যা ছিল, তা সৎভাবে প্রকাশ করে দিয়েছে। তাই বলে ঝিলমিলকে আড়ালে লুকিয়ে থাকতে হবে? ওর খোঁজে ছাদে গেল, চিলেকোঠার ঘরে গেল একবার এসে রান্নাঘরেও উঁকি দিল, কোথাও পেল না।
রিমঝিমকে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করল, 'ঝিলমিল কোথায় বলতে পারিস?'
'হুমম... আমরা তানিশার ঘরে আছি। কেনো ভাইয়া কিছু বলবে?'
'ঝিলমিলকে ঘরে পাঠিয়ে দে।'
'আপু যাবে না মনে হয়।'
রোদ্দুর খানিকটা চেঁচিয়ে বলল, 'মানে কি? কি সমস্যা ওর?'
রিমঝিম ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে বলল, 'আমি জানিনা।'
তারপর রোদ্দুর নিজেই ওই ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। দরজায় নক করে কয়েকবার ঝিলমিলকে ডাকল। ঝিলমিল ওপাশ থেকে বলল, 'কি হয়েছে? চেঁচামেচি করছিস কেনো? ধীরে সুস্থে কথা বলা যায় না?'
'বের হয়ে আয়।' ঝিলমিল ঘর থেকে বের হতেই রোদ্দুর পুনরায় বলল, 'আমি চলে যাচ্ছি।'
'কোথায়?'
'ঢাকা।'
'ওহ আচ্ছা। কখন যাবি?'
রোদ্দুর চিবিয়ে চিবিয়ে উত্তর দিল, 'এখন এবং এই মুহুর্তে।'
ঝিলমিল ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে সময় দেখে নিয়ে বলল, 'এখন কেনো? মাত্র দু'টো বাজতে চলেছে। না খেয়ে কোথায় যাবি আজব! এই খা খা রোদের মধ্যে তোকে বের হতে দিবে কেউ? খেয়েদেয়ে রেস্ট কর, তারপর সন্ধ্যার পর যাস।'
'আমি কিন্তু সত্যি চলে যাব ঝিলমিল।'
'তো যা.... আমি কি বাঁধা দিয়েছি? সাবধানে যাস। আর হ্যাঁ, ঠান্ডার মধ্যে সন্ধ্যার পর বাহিরে.....'
রোদ্দুর হাত উঠিয়ে ঝিলমিলকে থামিয়ে দিয়ে নিজে বলল, 'থাক, আপনাকে এত দরদ দেখাতে হবে না। এতদিন তো আপনি ছিলেন না, আমি নিজেরটা নিজেই দেখেছি। এখনও পারব। দয়া করে আমাকে যে জ্ঞানটা দিলেন ওটা নিজে আয়ত্ত্ব করুন। আপনার সাথে আমার আর হয়ত দেখা হচ্ছে না কারণ আমি ঢাকা ফিরে গেলে, বেঁচে থাকলে আগামী দশ বছরের মধ্যে এই বাড়ি পা রাখব না। আসি, আল্লাহ হাফেজ।'
ঝিলমিল ওর কথা শুনে ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে রইল।
রোদ্দুরের এত রাগ হলো যা বলার মত নয়। কেউ জানে না, কোনোদিন জানতেও পারবে না পৃথিবীপৃষ্ঠের চেয়েও বড় ভূমিকম্প তার ভেতরে হয়েছিল। রোদ্দুর কাউকে কিছু না বলে দুপুর নাগাদ বেরিয়ে পড়ল।
ঝিলমিল দুপুরে খাওয়ার সময় রোদ্দুরকে অনুপস্থিত দেখে খোঁজ করতে ঘরে গেল। গিয়ে দেখল ওর ঘর লক করা। ঝিলমিল আশেপাশে খুঁজে দেখল, কোথাও পেল না। রান্নাঘরে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, 'তোমরা জানো রোদ্দুর কোথায়? ওকে খুঁজে পাচ্ছি না।'
বড় চাচি চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে বললেন, 'বাব্বাহ! আজকাল রোদ্দুরকে চোখে হারানো হচ্ছে বুঝি খুব। একটু আগেই তো দেখলাম ওইদিকে, খুঁজে দেখ।'
'আমার মনে হয় ও চলে গেছে। আজকে না ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল।'
নীলিমা ঝিলমিলের কথা শুনে এগিয়ে এসে বললেন, 'না বলে চলে যাবে তাই? আমাকে তো সকালেও বলল সন্ধ্যার পর যাবে। ওর ঘরে গিয়ে দেখ, শুয়ে আছে বোধহয়। যা গিয়ে ঢেকে নিয়ে আয়, সবাই খেতে বসেছে।'
ঝিলমিল ধীর কণ্ঠে বলল, 'ওর ঘর তো লক করা দেখলাম। আচ্ছা দাঁড়াও, আমি ফোন দিয়ে দেখি। তোমাদের ছেলের ইদানিং ঢং বেড়েছে, কথায় কথায় রাগ করে মানে এমন রাগ যে মুখ ঘুরিয়ে বসে থাকে। কিছু বলতে পারো না অভদ্রটাকে?'
বড় চাচি ঝিলমিলের থুতনিতে হাত রেখে আদুরে কণ্ঠে বললেন, 'আমরা কি বলব? আমাদের সাথে কি এর রাগ-অভিমান করে নাকি। করে তোর সাথে, ওর বউয়ের সাথে। তুই'ই বলিস আবার বলতে বলতে এত বলিস না যে বিরক্ত হয়ে যায়।'
ঝিলমিল কোনো কথা না বলে বারান্দায় দাঁড়িয়ে রোদ্দুরকে ফোন দিল। পরপর কয়েকবার ফোন করার পরেও সে ফোন রিসিভ করল না। অনেকক্ষণ বাদে একটা টুংটাং আওয়াজে একটা মেসেজ এলো। ঝিলমিল দেখল রোদ্দুর লিখেছে, 'কারো ফোন রিসিভ করার মত সময় আমার কাছে নাই। কথা বলতে চাচ্ছি না, সময় নাই। ব্যস্ত আছি। দয়া করে আপনার শাশুড়ি মা'কে বলে দিয়েন তার একমাত্র ছেলে ঢাকা ফিরে যাচ্ছে। আমার জন্য চিন্তা করার মানুষ দুনিয়াতে ওই একজনে'ই আছে।'
ঝিলমিল মেসেজের রিপ্লাই দিল না আর ফোন'ও করল না। সবাইকে জানিয়ে দিল, রোদ্দুর ফিরে গেছে।
রোদ্দুর আর ঝিলমিলের মাঝে মান-অভিমানের পর্ব বাড়ল বৈ কমল না। ঝিলমিল তো আর ফোন করলই না রোদ্দুর'ও করল না। তবে ঝিলমিলের'ও এখানে মন টিকছে না। কিছু করারও নেই তার। গতকাল তানিশা চলে গেছে ওর মামা বাড়িতে। ঝিলমিলের আলস্য সময় কাটছে। সেদিন রাতে রোদ্দুরের বলা কথাগুলো মনে দরজায় খুব করে হানা দিচ্ছে।
ভালোবাসা জিনিসটা আসলে কেমন? ঝিলমিল জানা নেই। ছোট্ট এই জীবনে নিজের আপনজন ছাড়া কাউকে ভালোবাসে নাই, প্রয়োজনও পড়ে নাই। কিন্তু রোদ্দুর যে বলল ভালোবাসার কথা! ওর অবর্তমানে ওর প্রতি ভেতর থেকে দমবন্ধ করা একটা টান অনুভব করছে; এ মানসিক সংযুক্তিকে কি ভালোবাসা বলা যায়! ভালোবাসা এতই সহজ? এত তাড়াতাড়ি হয়ে যায়? না না, সম্ভব নয়। রোদ্দুরের সাথে তো আগে অন্য একজনের সাথে সম্পর্ক ছিল। তার ভাষ্যমতে ভালোবাসা ছিল না কিন্তু ঝিলমিলের ভাষ্যমতে ভালোবাসা না থাকুক, প্রেম তো ছিল। রোদশী আপুর বিয়েতে এসেও গার্লফ্রেন্ডের সাথে কথা বলতে পারছিল না বলে কী উতলা হয়ে উঠেছিল। ওর জন্য একটা আংটিও কিনেছিল, যদিও সেটা বর্তমানে ঝিলমিলের কাছেই রয়ে গেছে।
তাও খারাপ লাগছে। সেই খারাপ লাগা থেকেই রোদ্দুরের কাছে মেসেজ পাঠাল, 'আমাকে নিয়ে যা।'
রোদ্দুর তৎক্ষণাৎ রিপ্লাই দিল, 'কাউকে নিয়ে আসা আমার ডিউটি না। আপনার আব্বাজান আমাকে বেতন দিয়ে রাখে নাই। যদি আসার প্রয়োজন মনে করেন, তবে আপনার বাসায় আপনার জন্য অনেক অভিভাবক আছে তাদের কাউকে বলে সাথে নিয়ে চলে আসেন।'
হুম... এটা তো ঝিলমিলের মাথায়'ই ছিল না। ছোট চাচ্চুকে বললে, সাথে সাথে দিয়ে আসবে। কিন্তু বলাটাই তো রিস্ক। এমনিতেই বিয়ের পর কী অদ্ভুত অদ্ভুত কথার সম্মুখীন হয়েছে, এখন যদি আবার শোনে রোদ্দুরের ওখানে যাওয়ার জন্য তার মন কেমন কেমন করছে; তবে তো আর রক্ষা নাই। এখন বেলা তিনটা বাজে। ঝিলমিল মায়ের কাছে গিয়ে বলল, 'আমার ইমারজেন্সি ঢাকা যেতে হবে। খুব ইম্পর্ট্যান্ট ক্লাসগুলো মিস হয়ে যাচ্ছে। তুমি কি আজ আমার ঢাকা যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে পারবে?'
শিমু রাজি হলেন না। তার কথা হচ্ছে, গেলে কাল সকাল সকাল যাবি। এটা যাওয়ার একটা সময় হলো? কিন্তু ঝিলমিল কোনো বাঁধা বারণ শুনল না, সে যাবেই। ছোট চাচ্চুকে রাজি করাল। বাবার কাছ থেকে অনুমতি নিল। তারপর সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওনা দিল। যানজটের কারণে ওখানে পৌঁছাল সন্ধ্যার পর। রোদ্দুর তখন বাড়ি নেই। ছোট চাচ্চুকে যখন বাড়ি ফিরতেই হবে, তাই ঝিলমিল তাকে পাঠিয়ে দিয়ে দরজায় অপেক্ষা করতে লাগল। নিশ্চয়ই চৌরাস্তার মোড়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ায় ব্যস্ত সে। গেলেই পাওয়া যাবে কিন্তু ঝিলমিলের যেতে ইচ্ছে করল না। সে দেওয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রোদ্দুরকে ফোন করল। রোদ্দুর ফোন রিসিভ করল। ঝিলমিল বলল, 'বাসায় এসেছিস?'
'না।'
'কখন আসবি?'
'কেনো কোনো দরকার ছিল?'
'দরকার? উমমম.... ছিল তো একটু।' ঝিলমিল দুষ্টুমির ছলে বলল।
'বল।'
'আগে বাড়ি ফিরে যা। তোর জন্য একটা সারপ্রাইজ ওয়েট করছে।'
'দেরি হবে।'
ঝিলমিল বিরক্ত হয়ে বলল, 'উফফফ কত দেরি করবি? আমি এখানে কতক্ষণ পর্যন্ত ওয়েট করছি। দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে আমার পা ব্যথা হয়ে গেল। এতদিন তো ছিলি খুব রাগ করে এখন ফিরে আসার পরেও বাহিরে দাঁড়া করিয়ে রাখবি?'
'তুই এখানে? কখন এসেছিস?' রোদ্দুর বিস্ময় চেপে প্রশ্ন করল। ঝিলমিল রোদ্দুরকে সবটা বলতেই সে দ্রুত অর্থাৎ দশ মিনিটের মাথায় পৌঁছে গেল। দরজা খুলে দিল। ঝিলমিল ঘরে ঢুকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পুরো ঘর খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করল। সব ঠিকঠাক দেখে বলল, 'আমি আবার অপরিষ্কার পছন্দ করি না। ঘরবাড়ি ঠিক করে রাখার জন্য ধন্যবাদ।'
রোদ্দুর বলল, 'তুই আসবি আমাকে আগে বলিস নাই কেনো?'
'বলতে হবে কেনো? এই ঘরের অর্ধেক দাবিদার আমি নিজেও, সেই অধিকারে যখন তখন নিজের ঘরে আসতেই পারি। তোর অনুমতির কি দরকার?'
'সেটা বলি নাই। কাল-পরশু আমি নিজে গিয়েই তোকে নিয়ে আসতাম। সামনের সপ্তাহে রায়হানের বিয়ে।'
ঝিলমিল আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলল, 'ওয়াও! ঠিক সময়ে এসেছি। নিজের বিয়ে খাওয়ার তো সৌভাগ্য নাই তাই অন্যজনের বিয়ে খেয়ে মনে প্রলেপ লাগাই।'
বলতে বলতে ঝিলমিল বারান্দায় যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়েছিল। পথে হঠাৎ খাটের কোণার সাথে পা বেজে পড়ে যেতে নিলেই রোদ্দুর ধরে ফেলল। এক লহমায় ওকে বাহুবন্ধনে আবদ্ধ করতে পারল। ঝিলমিল ভেবেছিল ও পড়েই গেছে। তার শ্বাস-প্রশ্বাসের গতির জোর বাড়ল। তারপর নিজেকে এভাবে আবিষ্কার করে ঝপ করে ওর চেহারায় আঁধার ঘনিয়ে এলো। সে টানটান হয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বলল, 'ছাড় আমাকে।' বলে নিজের কাছে মনে হলো সে বাংলা সিনেমার ডায়লগ পেটাচ্ছে। তাই পুনরায় বলল, 'এভাবে ধরে রেখেছিস কেনো আমাকে? পড়লে ব্যথা আমি পাব। তোর কি?'
রোদ্দুরের অপূর্ব ওষ্ঠ্যদ্বয়ে মায়াজাল বিছানো হাসি ফুটে উঠল। সে বলল, 'আমার কিছু না?'
'না। হাত সরা। তুই আমার ধারেকাছেও আসবি না।' রোদ্দুরের দু'হাতের বাঁধনে চটপট করতে করতে বলল ঝিলমিল।
রোদ্দুর জিজ্ঞেস করল, 'তাহলে ছেড়েই দিই?'
'হুমম... বলছি তো।'
'ঠিক আছে।' এই বলে রোদ্দুর ঝিলমিলকে ছেড়ে দিল। আর সাথে সাথে সে শূণ্যে শূণ্যে ভাসতে ভাসতে মেঝেতে ঠাস করে পড়ে গেল।
.