রোদ্দুর মাথা চুলকাল। সেই কখন বাস থেকে নেমেছে অথচ এখনও বাড়ি যায় নাই! সে আরেকবার ফোন করল, এখনও ফোন অফ। তখন ছোট চাচ্চুর ফোন এলো। তিনি রোদ্দুরকে বলল, 'রবিন তো এইমাত্র ফিরে এলো। ঝিলমিলকে নাকি দেখতে পায় নাই।'
রোদ্দুর চিন্তিত স্বরে বলল, 'বাড়িতে ফোন দিলাম, ওরা বলল ঝিলমিল নাকি এখনও বাড়ি পৌঁছায় নাই।'
'দেখ.. পথের মধ্যে কোনো বন্ধু-বান্ধব পেয়ে হয়তো গল্প জুড়ে দিয়েছে। ফোন দিয়েছিলি?'
'হুম ফোন অফ করে রেখেছে। তুমি এখন বাড়ি যাবে তো? ওকে রাস্তায় দেখো অবস্থা বাড়িতে, আগে গিয়ে ঠাস করে একটা চড় মারবে। একদম আক্কেল ছাড়া একটা মেয়ে। এখান থেকে গেছেও আমাকে না বলে। মানে কী বলব আমি? একদম অশান্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।'
ছোট চাচ্চু হেসে বললেন, 'চিন্তা করিস না। আমি দেখছি।'
রোদ্দুর ফোন রেখে আরও কয়েকবার ঝিলমিলকে ফোন করল, কিন্তু এইবারও ফোন অফ। রাগে রোদ্দুরের কপালের শিরাগুলো পর্যন্ত দপদপ করে উঠল। নাহ, এই মেয়েটাকে একটা শিক্ষা দিতেই হবে। কিছুতেই কথা শোনে না, কাউকে মানে না। কবে যে মানুষ হবে কে জানে! রোদ্দুর অফিস থেকে বের হলো।
.
ঝিলমিলের আসার কথা শুনে বাড়ির সবাই খুশি হয়েছে। কিন্তু ও এখনও বাড়ি আসছে না কেন, তাই বুঝছে না। মেজো চাচি তানিশাকে বললেন, শিউলিদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে। তানিশা সেখান থেকে ফিরে এসে খবর দিল, ঝিলমিল ওখানে নেই। ব্যস, ফের সকলের টেনশন শুরু। এইদিকে রোদ্দুর বারবার ফোন দিচ্ছে। ছোট চাচ্চু নিজে বাসস্ট্যান্ড গিয়ে দেখে এলেন, কোথাও ঝিলমিলের টিকি দেখা যাচ্ছে না। অবশেষে রোদ্দুরকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তোরা কি আমাদের সাথে ফাজলামি করছিস? ঝিলমিল একা কেনো আসবে? আর যদি পোঁছে যায়, তবে এখনও বাড়ি আসছে না কেনো? প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেল।'
ঝিলমিল এখনও বাড়ি ফেরে নাই, সন্ধ্যা হয়ে গেছে এটা শুনে রোদ্দুরের আত্মারাম খাঁচাছাড়া হয়ে গেল। ওর ফোনটাও বন্ধ। কী করবে দিকদিশা খুঁজে পেল না। বন্ধুদের সাথে ছিল, ওর চিন্তিত ভাব দেখে হাসান বিভিন্নভাবে শান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিল। যখন রাত হয়ে যাচ্ছে অথচ ঝিলমিলের খোঁজ কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না রোদ্দুর ওই রাতেই বাইক চালিয়ে হাসানকে সাথে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো। এখানে বসে থেকে অযথা টেনশন করার চেয়ে বাড়ি যাওয়া ভালো। অন্তত সকলের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কিছু তো একটা করা যাবে!
এর আগে তো বাড়ি এসে ঝিলমাল চিলেকোঠার ঘরে হারিয়ে গিয়েছিল, এইবার পুরো বাড়ি তন্নতন্ন করে খোঁজা হলো; আশেপাশে তাদের চেনা-পরিচিত যত জায়গা ছিল সবখানে খোঁজ নেওয়া হলো কিন্তু ঝিলমিল কোথাও নাই। শুধুমাত্র তাদের এক পরিচিত দোকানদার বলল, সে বিকালে ঝিলমিলকে বাসস্ট্যান্ডে দেখেছে।
এটুকু শিওর হলো যে সে এই পর্যন্ত এসেছে। তাহলে এলাকাতেই আছে। কিন্তু একবার বাড়ি আসবে না কিংবা ফোন করে ভালোমন্দ জানাবে না? সবাই ঝিলমিলের দায়িত্বহীনতার কারণে ক্ষেপে গেল। এতক্ষণ সকলের মধ্যে একটা চাপা টেনশন ছিল, হয়ত ঝিলমিল ঠিকঠাক মত স্ট্যান্ডে নামতে পারে নাই কিন্তু এখন তো তা খোলাসা হয়ে গেল। মাহমুদ সরকার রেগে আছেন ভীষণ। ওরা বাহিরে খোঁজখবর করে না পেয়ে বাড়িতে ড্রইংরুমে অপেক্ষা করতে লাগল। ঝিলমিল এলে তো ওকে এখান দিয়েই ঘরে যেতে হবে। তখন সবার মুখোমুখি হলে তো এই দায়িত্বহীনতার জবাব ওকে দিতেই হবে! ঝিলমিল এলো না তবে রোদ্দুর এলো। বাড়ির সবাই মিলে আবার বের হলো। রোদ্দুর কোনোকিছু ছাড় দিল না; নদীর পাড়, খাল পাড়, উত্তরের শেষ প্রান্তের জঙ্গল, শিউলিদের বাড়ি, সম্ভাব্য সকল জায়গা সবকিছুতে চিরুনি তল্লাশি চালাল।
অবশেষে বলল, 'আমাদের একবার পুলিশ স্টেশনে যাওয়া উচিত। আমরা তো এতক্ষন ওকেই দোষারোপ করে যাচ্ছি। চলো একবার।'
যেই বলা, সেই কাজ। কিন্তু সেখানে তো একদিন পার না হলে কেস হাতে নিবে না। বড় চাচা যেহেতু পরিচিত মুখ, তাই তারা দেখবেন বলে জানাবেন। ওরা বাড়ি ফিরে এলো অনিশ্চিয়তার মাঝে। রোদ্দুর ভেবেছিল, ঝিলমিলকে হয়তো দেখবে! কিন্তু এই ভাবনা অবাস্তব রয়ে গেল।
ওরা বাড়ি ফিরার পর শিমু যখন শুনল, ঝিলমিলের নিখোঁজ হওয়ার জন্য থানায় ডায়েরি করতে হয়েছে তখন অঝোরে কান্নাকাটি শুরু করে দিলেন। কেউ তাকে কোনোরূপ শান্ত্বনা দিয়ে থামাতে পারল না। সে রাতেই থানার ওসি বাড়ি এলেন। রোদ্দুরের কাছ থেকে সব ইনফরমেশন নিলেন এবং সেই হেল্পারের ফোন নম্বরটাও নিয়ে রাখলেন। সারাটা রাত কেটে গেল এই জিজ্ঞাসাবাদে। সকালের আলো ফুটল, বাড়ির কারো চোখে ঘুম নেই। এক তুড়িতে এই বাড়ির মানুষগুলো যেনো হাসতে ভুলে গেছেন। দাদি প্রার্থনা করছেন, অমঙ্গল কিছু যেনো না হয়! মাহমুদ সরকার'ও নিজেকে সামলাতে পারলেন না। মেয়ের শোকে এই দিনের স্পষ্ট আলোতেও চোখে অন্ধকার দেখে অসুস্থ হয়ে পড়লেন।
থানা থেকে ঝিলমিলের লাস্ট লোকেশন ট্র্যাক করা হয়েছে, তার বাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরে ওর লোকেশন দেখাচ্ছে। রোদ্দুর ছুটল ওদিকেই, ওর সাথে হাসানও রয়েছে। এই দুঃসময়ে হাসানকে পাশে পেয়ে রোদ্দুরের সুবিধাই হয়েছে। অনেক করা কিংবা চিন্তাচেতনার বিষয় সে পরিবারের মানুষের সাথে শেয়ার করতে পারে না কিন্তু ঠিকই সেসব বন্ধুদের সাথে নির্দ্বিধায় শেয়ার করে।
নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে ওরা ঝিলমিলকে খুঁজে পেল না কিন্তু ওর ফোনটা ওখানে ঘাসের মধ্যে পেল বন্ধ অবস্থায়। পুলিশ যা ভাবার ভেবে নিয়েছে কিন্তু রোদ্দুরের অবস্থা হলো দেখার মত! নিজেকে ভীষণ অপরাধী মনে হচ্ছে। মন-মস্তিষ্কে বিভিন্ন ধরনের চিন্তাভাবনা উঁকি দিচ্ছে। ভুলক্রমে যদি ঝিলমিলের কিছু হয়ে যায় তাহলে নিজের কাছে নিজে মুখ দেখাবে কি করে? ঝিলমিলের পাগলামীগুলো চোখের সামনে একের পর এক ভেসে উঠছে। নাহ, ওকে ছাড়া তার জীবন চলবে না। রোদ্দুর হন্যে হয়ে গেল। পুলিশ, প্রশাসন কিংবা বাড়ির কারো উপর এই মুহূর্তে ভরসা করে সবটা ছেড়ে দিতে পারছে না। তাদের আশেপাশে শত্রুদের অভাব নেই। হতে পারে কেউ শত্রুতামি করে ঝিলমিলকে তুলে নিয়ে গেছে। মন কিছুতেই মানতে চাইছে না, বিশ্বাস করতে চাইছে না; ঝিলমিলকে পাওয়া যাচ্ছে না। এইতো সারাক্ষণ ছটফট করতে থাকা মেয়েটা কোথায় কাবু হলো?
সরকার বাড়ির অবস্থা খুবই খারাপ। শিমু এত লোক নাতে না পেরে ক্ষণে ক্ষণে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন। তাকে সামলাতে হচ্ছে, শাশুড়িকে সামলাতে হচ্ছে— বাড়ির সবাই হিমশিম খাচ্ছে। একে তো তারাও চিন্তায় অস্থির, তার উপর এই অবস্থা। সবার খাওয়া-দাওয়া বন্ধ, কে কোথায় আছে, কী করছে কারো জানা নেই।
আরেকটি বিভীষিকাময় সন্ধ্যা নেমে এলো। রোদ্দুর হাসানকে উদ্দেশ্য করে বলল, 'এমন একটা সময় এলি! তুই ফিরে যা দোস্ত। এখানে অযথা....'
হাসান তৎক্ষণাৎ রোদ্দুরের কাঁধে হাত রেখে বলল, 'আমি তোর অবস্থা বুঝতে পারছি, তোদের বাড়ির পরিস্থিতি একটু হলেও আন্দাজ করতে পারছি। যতদিন পর্যন্ত ভাবিকে খুঁজে না পাওয়া যাবে তোর সাথে আমি এখানেই আছি।'
রোদ্দুর আলতো করে মাথা নাড়াল। আঁধারে ছেয়ে যাওয়া খোলা আকাশের দিকে তাকাল। তার ভেতর এমন এক মানসিক যন্ত্রণার অনুভূতি হচ্ছে যে সে কাউকে কিছু বোঝাতে পারছে না। ইচ্ছে হচ্ছে পৃথিবীর সবকিছু থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নিতে। এতটা অবসন্ন কখনোই উপলব্ধি করতে পারে নাই। সেই রাতটা এভাবেই কেটে গেল। দু'টো রাত মেয়েটা নেই। আশ্চর্য! অবিশ্বাস্য! কিছুতেই যেনো বিশ্বাস হয় না। মনে হচ্ছে, একটা দুঃস্বপ্ন... ঘুম ভাঙ্গলেই সব কেটে যাবে। ঝিলমিলকে নিয়ে আবার একটা সুন্দর দিন শুরু হবে। কিন্তু তা হয় না আর। সময় কেটে যায়... রাত পেরিয়ে যায়... ঘন্টা মিনিট সব চলে যায় কিন্তু অপেক্ষার অবসান ঘটে না।
সকাল সকাল আবার আরেক কান্ড ঘটল। এই ঘটনার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিল না। তানিশার যেহেতু পরীক্ষা চলছে তাই ওকে শত ঝড়ঝাপ্টার মধ্যেও কলেজে যেতে হয়। আজও তাই গিয়েছিল। সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ফিরে আসছিল না দেখে বাসা থেকে ফোন করা হয়েছিল, কিন্তু ওর ফোন অফ। এই দুঃসময়ে উল্টাপাল্টা কিছু ভাবা উচিত নয় তবে তাদের মাথায় সেই বাজে চিন্তাটাই এসেই ভর করল। সেদিন ঝিলমিলকে যেভাবে খোঁজা হয়েছিল, ওকেও হন্যে হয়ে খোঁজা হলো। খুঁজে পাওয়া গেল না। ফজলুল সরকারের হঠাৎ মনে পড়ল, উসমান খন্দকারের সাথে শত্রুতা আছে; মনমালিন্য চলছে। উনি শত্রুতার বশবর্তী এই কাজ করতে পারেন। তৎক্ষণাৎ পুলিশে জানালেন। তদন্তের মোড় ঘোরার কারণে প্রশাসন প্রথম থেকে কেসটা নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করলেন এবং দু'দিন সময় নিলেন।
বাড়ির দু'দুটো মেয়ে নিখোঁজ হলে সেই বাড়ির পরিস্থিতির কথা মুখে বর্ণনা করা যায় না। পরশু থেকে যে আহাজারি শিমুর ছিল এখন সেটা সাবরিনার'ও। নীলিমা রিমঝিমকে সর্বদা নিজের সাথে রাখছেন। বাইরে যাওয়া তো দূরে থাক, রুমের দরজায়'ও পা রাখতে দিচ্ছেন না। কী কান্ড শুরু হলো। সবার মুখে মুখে এক কথা!
সেদিন সন্ধ্যায় হঠাৎ পাড়ার মোড় থেকে ফেরার সময় রোদ্দুর লোকমুখে শুনতে পেল, দুই/তিনদিন থেকে এ পাড়ায় নতুন কিছু মানুষজনের আনাগোনা বেড়েছে। ওদের বেশিরভাগই নাকি উসমান খন্দকারের লোক। রোদ্দুর জানতে চাইল, 'ওই লোকগুলো কোথায় থাকছে কিংবা কোন জায়গায় তাদের আনাগোনা বেশি?'
উনারা উত্তর দিতে পারল না, একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করল। দেখেছে তাদের কিন্তু তারা কোথায় থাকছে বা কী করছে এই সম্পর্কিত কিছু জানার আগ্রহ প্রকাশ করে নাই। রোদ্দুর ঘটনাটা মস্তিষ্কে রেখে দিল, এখন এটাই প্রমাণ। এই দুইদিন শুধুমাত্র পুলিশের উপর ভরসা করে বসে ছিল। কিন্তু এখন আর সেটা সম্ভব নয়। মন্টু মামার বাড়ি উসমান খন্দকারের বাড়ির ওইদিকে। রোদ্দুর উনার কাছেই ছুটে এলো। জিজ্ঞেস করল, 'এই কয়েকদিন সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়েছে কিনা?'
উনি উত্তর দিলেন, 'মামা সন্দেহজনক বলতে তেমন কিছু দেখি নাই। কিন্তু আপনি যেহেতু বলতেছেন, আমি ওই পাড়ার পৌড়বাড়িতে ওদের আনাগোনা করতে দেখেছি বেশ কয়েকবার। বিশেষ করে উসমান খন্দকারের বড় ছেলেকে।'
রোদ্দুর ঠিক করল, হাসানকে সাথে নিয়ে সে একলাই ওইদিকে যাবে। পুলিশ তাদের মত তদন্ত করতে থাকুক, রোদ্দুর এই বিষয়টা দেখে আসবে। হাসানকে তার সাথে নিয়ে উসমান খন্দকারের বাড়ির আশেপাশে নজর রাখল। রাত প্রায় নয়টা নাগাদ রোদ্দুর পেছনের রাস্তা দিয়ে উনার বড় ছেলেকে বাড়ি ফিরতে দেখল। রোদ্দুর দেরি করল না, তৎক্ষণাৎ হাসানকে নিয়ে ওইদিকে রওনা দিল। ওদের পৌড়বাড়িটা ওদিকেই। পায়ে হেঁটে রওনা দেওয়ার কারণে বেশ খানিকটা সময় লাগল।
বিশাল বড় বাড়ি। ছোটোবেলায় শুনেছিল, এটা নাকি এখানকার একসময়কার জমিদারের বাসস্থান ছিল। উসমান খন্দকারের দাদা সে আমলে জমিদারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এই বাড়ি দখল করে নিয়েছে। বাড়ির সামনে কয়েকজন পাহাড়াদার রয়েছে।
হাসান ফিসফিস করে বলল, 'এই বাড়ির ভেতর কি আমাদের ঢুকতে দেবে?'
'মনে হয় না। তুই খেয়াল করে দেখ, এই রাতের বেলা এই বাড়িতে কতকগুলো পাহারাদার। তারপর এমনিতেই অন্যসময় ভেতরটা থমথম করে, এই মুহূর্তে অনেক মানুষজনের সমাগম; বুঝতে পারলি?'
হাসান হালকা সুরে মাথা নাড়ল। রোদ্দুর ওকে নিয়ে খুব সাবধানে বাড়ির পেছন দিকে এগিয়ে এলো। এই রাতের বেলায় তারা একা এত মানুষের সাথে খালি হাতে যুদ্ধ করতে পারবে না, চোরাই পথে এ পথ পাড়ি দিতে হবে। বনজঙ্গল পার হতেই পেছনের একটা ঘর থেকে গমগমে গম্ভীর কণ্ঠে কারো ভাসা ভাসা আওয়াজ ভেসে এলো, 'আমরা আমাদের মত চেষ্টা করতেছি..... পুলিশের বাপ'ও কিছু করতে পারবে না... ক্ষমতা? হাহা! এইবার সব আমাদের দখলে হবে। দু'জনে কাজ না হলে পুরো বাড়ি খালি করে দিব... দেখে নিচ্ছি। আমাদের হেফাজতে যখন আছে, তখন চিন্তার কারণ নাই সাহেব।'
হাসান আর রোদ্দুর একে অপরের মুখের দিকে তাকাল। রোদ্দুরের নিকোষ আঁধারের মত কালো হয়ে যাওয়া মুখ খানিতে একটু আলোর আভাস দেখা গেল। মাথার উপর দিয়ে সশব্দে বাজ পাখি উড়ে গেল। রোদ্দুর নিঃশব্দে, বিড়ালের মত পা টিপে টিপে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকল।
.