ঝিলমিল একদম হতবাক হলে গেল। এইরকম কথার প্রত্যুত্তরে যে কি বলতে হয় তার জানা নেই। ঝটপট ফোনটা কেটে দিল। রোদ্দুর'ও এইখানে, ফোনটাও লাউড স্পিকারে দেওয়া ছিল; ও শুনেছে কিনা কে জানে? ঝিলমিল আড়চোখে রোদ্দুরের দিকে তাকাল। নাহ, সে তার নিজের কাজে ব্যস্ত এইদিকে মনোযোগ নেই। একবার ফোন হাতে নিচ্ছে আরেকবার ল্যাপটপে টাইপিং করছে। হয়তো শুনে নাই কিংবা খেয়াল করে নাই। তবুও ঝিলমিলের মনের ভেতর খুঁতখুঁতে ভাবটা রয়েই গেল। রোদ্দুর কথাটা শুনে ফেললে চরম বেইজ্জতির একটা কান্ড ঘটবে।
ঝিলমিলকে ঘরের মধ্যে পায়চারি করতে দেখে রোদ্দুর দৃষ্টি তার ল্যাপটপে রেখেই জিজ্ঞেস করল, 'কথা শেষ এত তাড়াতাড়ি?'
ঝিলমিল চমকে তাকাল। কোনোরকম বলল, 'হুম, নেটওয়ার্কের সমস্যা।'
'ওহ আচ্ছা। কাল তো শেষ পরীক্ষা, গিয়ে পড়তে বস। পড়াশোনায় এত হেলাফেলা করা ঠিক না। কী পড়িস আর কী যে পরীক্ষা দিস, কে জানে?'
'তোকে এতকিছু ভাবতে হবে না। তুই নিজে এত পড়াশোনা করে কোন বিদ্যাসাগর মহাশয় হয়েছিস?'
'ঠিক আছে.... আমি যখন কিছু হতে পারি নাই তবে তুই কিছু হয়ে দেখা!' রোদ্দুর ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে বলল।
ঝিলমিল ভেংচি কাটল, 'আমার এত শখ নেই।' এরপর ঝিলমিল চলে গেল ওখান থেকে। রোদ্দুরের সাথে কথা বলে জাস্ট এইটুকু শিওর হতে চেয়েছিল যে দাদির বলা কথাটা। ও শুনেছে কিনা। নিশ্চয়ই শুনে নাই, শুনলে অবশ্যই এর পরিপ্রেক্ষিতে হাজারটা আজেবাজে কথা বলে ফেলত যার সত্যিকার অর্থে কোনো দাঁড়ি কমা থাকত না।
ঝিলমিল ওই ঘরে যেতেই রোদ্দুরের মনে দাদির কথাটা ঘুরঘুর করতে লাগল। একটু আগে তিনি যেটা বললেন, তার মানে কী? 'স্বামী থাকলে সঙ্গে, শীত লাগে না অঙ্গে'— বড্ড গভীর কথা! রোদ্দুর এই কথাটা নিজের দিকে টেনে নিল, বউ থাকলে সঙ্গে শীত লাগে না অঙ্গে। কিন্তু তার বউ সাথে থাকা সত্ত্বেও শীতে ঠকঠক করে কাঁপার কাহিনী কি? নাহ, সব ছেড়েছুড়ে এটা বুঝতে হবে। কিন্তু বুঝতে বুঝতে আবার না শীত'ই চলে যায়! শীত চলে গেলে আবার সামনের শীতের জন্য ওয়েট করতে হবে।
.
আজ ঝিলমিলের শেষ পরীক্ষা ছিল। এমনিতে রোদ্দুর পরীক্ষার মধ্যে একদিন'ও নিতে আসে নাই, আজ এসে হাজির। ঝিলমিল ভেবেছিল, বান্ধবীদের সাথে একটু সিনেমা দেখতে হলে যাবে। রোদ্দুর তো একদম'ই যেতে দিবে না। ওকে বলতেই বলল, 'একা? না না, কিছুতেই না। অসম্ভব!'
এতদিক থেকে যেহেতু রোদ্দুর না বলেই দিয়েছে, তো ঝিলমিলের আর কিছু বলার থাকে না। সে মন খারাপ করে বাড়ি চলে এলো। রোদ্দুর যাওয়ার আগে বলে দিয়েছে, সে ফিরে এসে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাবে।
কিন্তু তবুও ঝিলমিলের মন খারাপ। বাড়ি থাকতে একমাত্র শিউলি ছিল, ওর সাথে ওদের পাড়া পুরোটা ঘুরে বেড়িয়েছে। এইখানে তাও যেই কয়টা বান্ধবী জুটল; ঝিলমিল শিওর রোদ্দুরের জন্য একজনের সাথেও সম্পর্ক টিকবে না। ওরা কী সুন্দর প্রতিদিন ঘুরতে বের হয়, ঝিলমিলের চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুর উপায় নাই। আহা! কী লয়াল সে! কী হবে ওই দয়ালের জন্য এত লয়াল সেজে? ঝিলমিলের হাঁকডাক ছেড়ে কাঁদতে ইচ্ছে করছে এখন।
.
রোদ্দুর অবশ্য নিজের কথা রাখল। সন্ধ্যার পর ঝিলমিলকে নিয়ে বের হলো। কিছুটা পথ যেতেই ঝিলমিলের সাথে ওর মামাতো ভাইয়ের দেখা হয়ে গেল। ওরা এখানেই থাকে, কিন্তু এতদিন দেখা হয় নাই। সে ঝিলমিলকে দেখেই 'ঝালমুড়ি' 'ঝালমুড়ি' করতে করতে এগিয়ে এলো। অনেকদিন বাদে মামাতো ভাইকে দেখে ঝিলমিল'ও খুশি হয়ে গল্প করতে লাগল। রোদ্দুর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ওদের দিকে তাকিয়ে রইল। এই ছেলেটাকে তার চেনা চেনা লাগছে, কিন্তু ঠিক চিনতে পারছে না। আবার ঝিলমিলকে ঝালমুড়ি সম্বোধন করছে। কত্ত বড় সাহস!
ঝিলমিল নিজেই পরিচয় করিয়ে দিল, 'ও রাকিব, আমার বড় মামার ছেলে। তুই তো চিনিস? আমাদের ওখানে গিয়েছিল কয়েকবার, তাও অনেক আগে। মনে আছে?'
রোদ্দুর দাঁতে দাঁত চেপে বলল, 'হুম মনে আছে।' তারপর রাকিবের সাথে করমর্দন করে মুখে প্লাষ্টিক হাসি ঝুলিয়ে কথা চালিয়ে গেল। কিন্তু ও যে বারবার ঝিলমিলকে ঝালমুড়ি সম্বোধন করছিল, এটা তার পছন্দ হচ্ছিল না। আশ্চর্য! আস্ত একটা মানুষকে কেনো ঝালমুড়ি বলতে হবে? ও কি ঝালমুড়ি?
রোদ্দুর বলেই ফেলল, 'ভাই তোমার মনে হয় ঝালমুড়ি খাওয়ার ইচ্ছে হয়েছে? আমি ওইদিকে একটা ঝালমুড়ির দোকান দেখে এসেছি। চলো, ওখান থেকে তোমাকে ঝালমুড়ি খাইয়ে আনি। চলো, চলো। কোনো বারন শুনব না আমি।'
তারপর ঝিলমিলের দিকে তাকিয়ে বলল, 'তুই এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবি। আমরা আসছি।' ঝিলমিল থতমত খেয়ে গেল। রোদ্দুর রাকিবকে একপ্রকার জোর করেই ঠেলেঠুলে নিয়ে গেল। ঝিলমিল ওখানে দাঁড়িয়েই কপাল চাপড়াতে লাগল। এই ছেলেটা ছোটো বেলা থেকেই এমন হিংসুটে। ওর নিজের জিনিসে কারো দখলদারিত্ব সহ্য করতে পারে না।
'এক মিনিট, এক মিনিট!'— ঝিলমিল নিজের মনেই ভাবতে লাগল, রোদ্দুর তার নিজের জিনিসের ভাগ কাউকে দিতে চায় না। তবে এর সাথে তার কী সম্পর্ক? শুধুমাত্র বউ বলেই!
উত্তর খুঁজে পাওয়ার আগেই ওদের আসতে দেখতে পেল। রোদ্দুরের মুখে শয়তানি হাসি আর রাকিবের চোখমুখ লাল হয়ে গেছে। সে ঝালে হাঁসফাঁস করতেছে। রাকিব কোনো কথা বলার অবকাশ পেল না। শুধুমাত্র ঝিলমিলকে বলল, 'আজ আসি। তোমাদের সাথে পরিচয় হয়ে ভালো লাগল। আমাদের বাড়ি যেও।'
ঝিলমিল মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানাল। রাকিব চলে গেলে সে রোদ্দুরকে জিজ্ঞেস করল, 'তুই কি করেছিস ওর সাথে? এমন পাগলের মত হাঁপাচ্ছে কেনো?'
'ঝালমুড়ি খাওয়ালাম। যত যাইহোক শালা বলে কথা!'
'ফাজিল কোথাকার! বাঁদর ছেলে একটা! এত পাজি কেন তুই?'
রোদ্দুর কলার নাচিয়ে বলল, 'আমি এমন'ই। এমন'ই সহ্য করতে হবে। এসব মামাতো, খালাতো ফুফাতো, চাচাতো ভাইদের সাথে রংঢং আমি একদম পছন্দ করি না।'
ঝিলমিল হালকা করে ওর পিঠে কিল মেরে বলল, 'অ্যাহ আসছে! উনার সব কথা যেনো আমায় মেনে চলতে হবে। যত্তসব! বাড়ি যাব, নিয়ে চল। ঠান্ডার মধ্যে কিছু ভালো লাগছে না।'
'তোর ওই মামাতো ঝালমুড়ি ওয়ালাকে ডেকে নিয়ে আসব?'
ঝিলমিল চোখ গরম করে তাকিয়ে একটা ধমক দিল রোদ্দুরকে। রোদ্দুর প্রতিবারের মত সেসব পরোয়া না করে বাইক স্টার্ট দিল। অর্ধেক পথ যেতেই হাসান ফোন করে ওদের বাসায় যেতে বলল। রোদ্দুর তাই তাড়াহুড়ো করে ঝিলমিলকে লেনের মাথায় নামিয়ে দিয়ে বলল, 'সাবধানে বাড়ি যা। আমি একটূ পর ফিরে আসছি।'
ঝিলমিল ফেরার পথে হঠাৎ রাস্তায় ওই মেয়েটাকে লক্ষ্য করল, যার সাথে তার হাসপাতালে দেখা হয়েছিল। ওর ভাষ্যমতে, রোদ্দুর ওর বয়ফ্রেন্ড আর রোদ্দুরের ভাষ্যমতে, এককালে ওর সাথে সম্পর্ক ছিল কিন্তু এখন আর নেই। ওর মেয়েটার নামটা জানা হয় নাই। আগ বাড়িয়ে কথা বলবে কি বলবে না, ভাবতে ভাবতেই ওর সাথে চোখাচোখি হয়ে গেল। ঝিলমিলকে দেখেই ওই মেয়েটা দ্রুত রাস্তা পেরিয়ে ওর সামনে এসে দাঁড়াল। অদ্ভূত ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করল, 'অ্যাই মেয়ে! তুমি এখানে কি করছ? এখানে তো রোদ্দুর থাকে, তোমার কাজ কি? তোমাকে বলেছি না রোদ্দুরের কাছ থেকে ১০০ হাত দূরে থাকবে।'
ঝিলমিল বেশ ইনোসেন্ট মুখ করে বলল, 'আমি দূরে থাকতে চাইলেও ও তো দূরে থাকছে না আপু।'
'তোমার বাড়ি কোথায়? তুমি কে? তোমাকে তো এর আগে কখনো দেখি নাই। রোদ্দুরের সাথে তোমার কি সম্পর্ক?'
ঝিলমিল বলেই ফেলল, 'এর আগে কীভাবে দেখবেন? এর আগে কি ওর সাথে আমার বিয়ে হয়েছিল? কিছুদিন আগে বিয়ে হয়েছে, তাই এত ঘনঘন আমাদের দেখতে পাচ্ছেন।'
ঝিলমিলের কথা শুনে সানিয়া মনে হয় আকাশ থেকে পড়ল। প্রথমেই তার মুখ থেকে কোনো কথা বের হলো না। অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। ঝিলমিল পুনরায় বলল, 'আসলে বিয়েটা হঠাৎ হলো তাই আপনাদের জানানোর সুযোগ পায় নাই। ঠিক আছে, নো প্রবলেম। খুব শীঘ্রই অনুষ্ঠানের চিন্তাভাবনা চলছে, আপনার পক্ষ থেকে আপনার দাওয়াত রইল। চলে আসবেন কিন্তু। আচ্ছা আপু, ঠিকানা জানেন? আমি বলি, আপনি লিখে নেন।'
সানিয়া সর্বশক্তি দিয়ে চেঁচিয়ে উঠল, 'শাট আপ। হাউ ডেয়ার ইউ! রোদ্দুরের সম্পর্কে এত বাজে কথা কীভাবে বলো তুমি? আই লাভ হিম!'
'বাট হি ডাস'নট লাভ ইউ। কাউকে আমাদের বিয়ের খবর জানানোর ইচ্ছে ছিল না। নজর লেগে গেলে সমস্যা হবে। কিছু মানুষের দৃষ্টি তো আবার শকুনের মত। ভেবেছিলাম একেবারে বাচ্চাকাচ্চা হলে তোমাদের জানাব। তখন তো তুমি খালামণি... সরি সরি ফুপি হবে। তোমার একটা দায়িত্ব আছে না? বাই দা ওয়ে, আমাকে আমার হাজব্যান্ডের জন্য রাতের রান্না করতে হবে। আসি কেমন? টাটা। আর হ্যাঁ, আমার হাজব্যান্ডকে ডিস্টার্ব করো না প্লিজ আপু।' ঝিলমিল হেসে বলল। সানিয়ার চাহনিটা দেখার মত ছিল। ও বোধহয় ঝিলমিলকে বাগে পেলে গপাগপ চি'বিয়ে খেয়ে ফেলবে। ঝিলমিল আড়ালে গিয়ে হাসতে হাসতে কুলকিনারা খুঁজে পেল না। রোদ্দুর বাড়ি এলে ওকেও সবটা বলল এবং মেয়েটার নামটাও জেনে নিল।
ঝিলমিল বলল, 'আমাকে কিন্তু ব্রেকআপের কাহিনী শোনাতে হবে। আর এটাও বলবি, ওমন রাক্ষুসীর প্রেমে পড়লি কীভাবে?'
'ধুর, এসব ভালো লাগে না। জীবনে সবচেয়ে বড় একটা ভুল করেছিলাম এই আপদটাকে ডেকে এনে।'
'প্যারা দিত বুঝি খুব?'
'মাঝে মাঝে প্রচুর।'
'ব্রেকআপ কেনো করলি?'
'ব্রেকআপ না করলে তোকে বিয়ে করতে পারতাম?'
'উল্টো কথা বলবি না। তুই মনে হয় আমাকে বিয়ে করার জন্য পাগল হয়ে গেছিলি। সত্যি করে বল! আমি শুনব।'
রোদ্দুর সত্যি কথাটা চেপে গেল। যা গেছে তা গেছেই, ওসব ফালতু কথা নিজের মধ্যেই থাকুক; জনে জনে বলে বেরিয়ে নিজের ইমেজ নষ্ট করার কোনো মানেই হয় না।
.
ঝিলমিল এখন রেগুলার ক্লাস করছে। ক্লাস করছে বলা ভুল, ভার্সিটি যাচ্ছে। সেখানে গেলেই যে ক্লাস করতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা তো আর নেই। যাচ্ছে, আড্ডা দিচ্ছে, মন চাইলে ক্লাস করছে আবার ফিরে আসছে। সামনে ফাইনাল পরীক্ষার জন্য একটা ফর্ম পূরণ করতে হবে, যেটার সাথে কিছু কাগজপত্র লাগবে। এই মুহূর্তে ঝিলমিলের কাছে সেসব নেই, বাড়ি আছে সেগুলো। অথচ খুব জরুরী দরকার, কাল লাস্ট ডেট। ঝিলমিল জানত বিষয়টা কিন্তু ওর মনেই ছিল না। নিজের গা ছাড়া ভাবের জন্য নিজেকেই মনে মনে জুতোপেটা করল। আজকে রোদ্দুরের'ও সময় হবে না, ওর ইম্পর্ট্যান্ট মিটিং আছে। হঠাৎ'ই সিদ্ধান্ত নিল, সে একাই বাড়ি ফিরবে। কাগজপত্রগুলো নিয়ে ছোট চাচ্চুর সাথে রাতের মধ্যেই ফিরে আসবে। যেই ভাবা সেই কাজ। রোদ্দুরের সাথে যেহেতু যাওয়া আসা হয়েছে, তাই রাস্তাঘাট মোটামুটি চেনা। এখান থেকে বাসে উঠলে সোজা তার শহরে নামিয়ে দেয়। ঝিলমিল তাই করল। তৎক্ষণাৎ রওনা হলো নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে। এই প্রথম, একা একা এতদূরের যাত্রা। ভয় বা চিন্তা কোনোটাই হচ্ছে না। রোদ্দুরকে একটা মেসেজ পাঠিয়ে দিল, 'আমি এই মুহূর্তে বাসে আছি, বাড়ি যাচ্ছি। আমার কিছু জরুরী কাগজপত্র লাগবে, সেসব নিয়েই ফিরে আসব।'
পরপর বেশ কয়েকটা মেসেজ পাঠাল। নিজের এই যাত্রাটা বেশ ভালো উপভোগ করছিল। বাড়িতেও ফোন করে জানাল না, হঠাৎ গিয়ে চমকে দিবে সকলকে।
রোদ্দুরের মিটিং শেষ হতে হতে সাড়ে তিনটা পেরিয়ে গেল। নিজের কেবিনে এসে ফোনটা অন করতেই একেরপর এক মেসেজ এসে ঢুকল। সেসব সিন করতেই তার চক্ষু চড়কগাছ! তৎক্ষণাৎ ফোন করল ঝিলমিলকে। ঝিলমিল ফোন রিসিভ করতেই ধমক মেরে বলল, 'তোর সাহস তো কম না। একা একা কেনো গিয়েছিস? আমাকে আগে বললে আমি একটা ব্যবস্থা করতাম।'
'কিছু হবে না। আমি যেতে পারব। এইতো প্রায় পৌঁছে গেছি। আর পনেরো/বিশ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাব। আমি বাড়ি গিয়ে ফোন করছি, রাখি এখন।' ঝিলমিল ফোন রেখে দিল। রোদ্দুর ছোট চাচ্চুকে ফোন করে বলে দিল, তিনি যেনো বাসস্ট্যান্ড উপস্থিত থাকেন। তিনি দোকানে ব্যস্ত ছিলেন তাই বললেন, 'আচ্ছা আমি দোকানের এই ছেলেটাকে পাঠাচ্ছি।'
তবুও রোদ্দুর নিশ্চিন্ত হতে পারল না। ঝিলমিলকে আবার ফোন করে বাসের নামটা শুনে নিল এবং হেল্পারের সাথে কথা বলে ঝিলমিলকে যেনো ঠিক জায়গায় নামিয়ে দেয়। উনার সাথে কথাবার্তা বলে নিশ্চিত হলো। এইদিকে ছোট চাচ্চুর সাথেও সমানতালে ফোনে যোগাযোগ হচ্ছে। তিনি বললেন, 'আরে আমি রবীনকে অনেকক্ষণ আগে পাঠিয়ে দিয়েছি। এতক্ষণে হয়তো পৌঁছে গেছে।'
রোদ্দুর সবাইকে ফোন করে হুলুস্থুল কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলল। হেল্পারের ফোন নম্বর নিয়ে রেখেছিল। উনাকে ফোন করে জানতে পারল, ঝিলমিলকে ঠিক জায়গায় নামিয়ে দিয়েছে।
রোদ্দুর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে কিছুক্ষণ পর ঝিলমিলকে ফোন করল। ওর ফোন বন্ধ পেল। এই মেয়ে নিশ্চয়ই বিরক্ত হয়ে ফোনটাই অফ করে রেখেছে। রোদ্দুর আর ছোট চাচ্চুকে বিরক্ত করতে চাইল না। সে আরও একঘন্টার মত অপেক্ষা করে বাড়িতে ফোন করল। মায়ের সাথে কথা বলে জানতে পারল, ঝিলমিল এখনও যায় নাই।
.