ঝিলমিল আর রোদ্দুর বাড়ি ফিরল সন্ধ্যার আগে আগে। এখন শীতের প্রকোপ কমে আসছে। আগের চেয়ে দিনের দৈর্ঘ্য কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাড়ি এসে ঝিলমিল খেয়াল করল, রোদ্দুর কেমন চুপ করে আছে। অথচ এই কয়েকদিনে ওকে যেইরকম বুঝেছে, যেইরকম দেখেছে তাতে রোদ্দুরকে এইরকম হুট করে চুপ করে যাওয়ার মত মানুষ মনে হয় নাই। হ্যাঁ এমনিতেই সে সকলের কাছে নিজেকে একটা শক্ত খোলসে মোড়ানো মানুষ হিসেবেই উপস্থাপন করে, বাড়িতে সবাই ওকে কাঠখোট্টা আর গম্ভীর ধরণের মানুষ হিসেবেই চেনে; কিন্তু ঝিলমিলের সাথে তো এই সম্পর্ক নয়।
ঝিলমিল এসে জিজ্ঞেস করল, 'তোর কি মন খারাপ?'
রোদ্দুর উত্তর দিল, 'না তো।'
'ওহ আচ্ছা, আমরা যে ওখান থেকে এলাম, ওনার কাহিনী শুনলাম এটা কি ছোট চাচ্চুকে বলা উচিত? যেহেতু তার জীবনের সাথেই জড়িত ঘটনা। আর ওই লোকটা তো প্রথমে ছোট চাচ্চুকে খুঁজতেই এসেছিল।'
রোদ্দুর ভেবে উত্তর দিল, 'বলা উচিত নয়। আমাদের মুখ থেকে এসব শুনলে সে ভালোভাবে নাও নিতে পারে। তিনি এতকাল ছিলেন একভাবে, সেইভাবেই তাকে থাকতে দেওয়া উচিত। এখন এই সময়ে তাকে এসব বলে অন্য জগতে ভাসিয়ে দেওয়ার কোনো মানেই হয় না। সময় ধীরে ধীরে সব ক্ষত মুছিয়ে দেয়। আবার সময়'ই প্রয়োজন মত সেই ক্ষত জাগিয়ে তোলে। আমাদের এখানে কোনো কথা বলার প্রয়োজন নেই। এমনভাবে থাকবি, যেনো কিছুই জানিস না।' রোদ্দুর এক নিমিষে কথাগুলো বলে গেল।
ঝিলমিলের কাছে এই রোদ্দুরকে কেমন অচেনা মানুষ মেনে হচ্ছে। ওর কথা বলার ধরণ, তাকানোর ভঙ্গিমা— সবকিছুই অচেনা মানুষের মত। ঝিলমিল ভাবল, ওখান থেকে আসার পর হয়ত মনটা খারাপ হয়ে গেছে তাই এরকম করছে, পরে আবার ঠিক হয়ে যাবে। সে নিজের কাজে মনোযোগ দিল। রোদ্দুরকে আর ঘাঁটাতে চাইল না। থাকুক কিছু সময় নিজের মত। কতক্ষণ আর কথা না বলে থাকবে? সারাক্ষণ'ই তো ছটফট করতে থাকে। এই বলে, সেই বলে, কত কথা তার!
সেদিনটা এইভাবেই কেটে গেল। নতুন আরেকটা দিনের শুরু হলো। প্রতিদিনের মতোই রোদ্দুর অফিসে চলে গেল এবং ঝিলমিল তার ক্লাসে। এমনিতে রোদ্দুর ফোন করে, খোঁজখবর নেয় বেশ কয়েকবার। আজ আর ফোন করল না, ঝিলমিল ফোন হাতে নিয়ে চাতক পাখির অপেক্ষা করতে লাগল। সময় পেরিয়ে গেলেও যখন রোদ্দুরের একটা ফোন এলো না তখন সে নিজেই তাকে ফোন করল। সে রিসিভ করল না, ফোন কেটে দিয়ে মেসেজ পাঠাল।
'আমি একটু ব্যস্ত আছি। ক্লাস শেষ হয়ে গেলে ভালোভাবে বাড়ি ফিরে যা। আমার ফিরতে দেরি হতে পারে।'
ঝিলমিলের কেমন মুড অফ হয়ে গেল। সে মন খারাপ করে বের হলো। ফুটপাত দিয়ে ধুলো মাড়িয়ে হেঁটে হেঁটেই ফিরল।
বাড়ি এসে মায়ের সাথে কথা বলল, বাবার সাথে কথা বলল। তাও মনের মধ্যেকার বিষন্নতা দূর হলো না।
রোদ্দুর আজ বাড়ি ফিরল সন্ধ্যার একটু পরে। ঝিলমিল তখন চা বানাচ্ছিল, রোদ্দুরকেও এক কাপ দিল কথা বলার উসিলায়। কিন্তু সে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে শুকনো মুখে শুধু 'ধন্যবাদ' জানাল। ঝিলমিল কিছুক্ষণ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে রইল। রোদ্দুর সেটা খেয়াল করে বলল, 'ওইভাবে তাকিয়ে কি দেখছিস?'
'দেখছি, অনেককিছুই দেখছি।' দরাজ গলায় বলল সে।
'ওহ আচ্ছা, দেখ।'
এতক্ষণ ঝিলমিলের মন খারাপ থাকলেও এখন রাগ লাগল। সেই রাগ সপ্তম থেকে অষ্টমে গিয়ে পৌঁছাল। রাগ, দুঃখের মিশ্র অনুভূতিতে বিষিয়ে উঠল মন। বারান্দায় গিয়ে ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দিল। ওর যা মন চায় ও তাই করুক, ঝিলমিল কিচ্ছুই বলতে যাবে না। অভদ্র, শিষ্টাচার হীন ছেলে একটা! ঝিলমিল দরজা সামান্য খুলে উঁকি দিয়ে দেখল, ওর ভেতর কেনো প্রতিক্রিয়া নেই। সে কম্বলের ভেতর ঢুকে ল্যাপটপ নিয়ে বসে পড়েছে।
বাহ! খুব সুন্দর মনমাতানো দৃশ্য। কার সাথে রাগ দেখাচ্ছে ঝিলমিল? কার উপর অভিমান করেছে? ভেবেছিল, সম্পর্কটাকে সময় দিয়ে কাছে টেনে আনবে। এখন তো দেখ যাচ্ছে, সে নিজে এক পা আগালে রোদ্দুর দশ পা পিছিয়ে যাচ্ছে। সমস্যা কোথায় ওর? এইরকম ব্যবহার করছে কেনো? সমস্যার কথা আগে বাড়িয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেও বলবে না। ঝিলমিল নিজের মনেই কিছুক্ষণ গজগজ করল। তারপর ঘরে গিয়ে রোদ্দুরের পাশে বসল। কম্বলটা টান মেরে নিজের কাছে নিয়ে এলো। গায়ে জড়াতে জড়াতে বলল, 'আমি আবার কোনোকিছুর ভাগ দিতে পারি না কাউকে।'
রোদ্দুর কিছু বলল না। একবার তাকাল'ও না। ঝিলমিল নিজেই ল্যাপটপৈর স্ক্রিনে উঁকি দিল। নাহ, ইন্টারেস্টিং কিছুই নেই। যা আছে সবটাই তার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।
ঝিলমিল'ও নিজের মত ফোন হাতে নিয়ে বালিশে হেলান দিল। কাউকে ফোন করে তার সাথে কথা বলতে লাগল খুব হাসি মুখে, কিছুক্ষণ পর তো হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ল। কথা বলার ধরণে বোঝা যাচ্ছে ওপাশে একজন ছেলে। রোদ্দুর শুধুমাত্র একবারে জন্য আড়চোখে তাকাল। তারপর ফের নিজের কাজে মনোযোগ দিল।
ওপাশে থেকে ওই ছেলেটা কী মজার কথা বলছে কে জানে? হাসতে হাসতে ঝিলমিলের হেঁচকি উঠে গেছে। সে বলল, 'ওয়েট ওয়েট, এক মিনিট ফোনে থাকো প্লিজ। আমি একটু পানি খেয়ে নিই। হাসির তালে আর কথাই বলতে পারছি। তুমি এত্ত ফানি!'
এরপর ঝিলমিল পাশ থেকে পানির বোতল নিয়ে ঢকঢক করে পানি খেয়ে আবারও ফোনে মনোযোগ দিল। সে পাশে বসে থাকা রোদ্দুরে শান্ত সুলভ চোখ দুটোর দিকে তাকিয়ে সুন্দরভাবে বলল, 'কী যে বলো না? আমার আবার কি সমস্যা হবে? বাড়ি যাব খুব শীঘ্রই, তারপর তো তোমার সাথে দেখা হবেই। তোমাকে কষ্ট করে আমার সাথে দেখা করার জন্য এতদূর আসতে হবে না।'
এরপর ওপাশ থেকে আরও কিছু একটা বলল। ঝিলমিল তার উত্তরে বলল, 'তুমি দেখেই আমাকে জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছো। অন্যকেউ তো ফিরেও তাকায় না। মানে আমি যে একটা মানুষ, মূল্যই নেই কোনো।'
ঝিলমিল খেয়াল করল, রোদ্দুর পাশ থেকে উঠে গেছে। ল্যাপটপ বন্ধ করে জায়গায় রেখে পুনরায় ফিরে এলো।
কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, 'আমার ঘরে বসে এইভাবে রাক্ষসীর মতো হেসে হেসে কথা বলার অনুমতি আমি কাউকে দিই নাই। এখান থেকে উঠে যেখানে ইচ্ছে সেখানে গিয়ে কথা বল, খেয়াল রাখবি সে কথা যেনো আমার কান পর্যন্ত এসে না পৌঁছায়।'
ঝিলমিল বলল, 'আচ্ছা আচ্ছা, আর এক মিনিট।'
এক মিনিটের কথা বলে সে অবশ্য আরো পাঁচ মিনিট টানা কথা বলল। কথা শেষ করে ফোন রেখে ঝিলমিল বলল, 'সরি অনেকদিন পর কথা হলো তো তাই। ছোটবেলার ফ্রেন্ড বলে কথা! যাইহোক, তুই গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করে নে। আমি সবকিছু রেডি করে রেখেছি।'
রোদ্দুর ঝিলমিলের দিকে এমনভাবে তাকাল, যেনো ও একটা পঁচা ইঁদুর। রোদ্দুর এ ঘর থেকে যাওয়ার পর অযথাই ঝিলমিল কিছুক্ষণ হাসল। তারপর নিজেও খেতে গেল। খিদে পেয়েছে প্রচুর।
প্রথম বিয়ে হয়ে এখানে আসার পর ঝিলমিলের যেই অবস্থা হয়েছিল, এখন রোদ্দুরের অবস্থা হয়েছে ঠিক সেইরকম।
.
ভোরের আলো ফুটতেই ঠাস ঠাস শব্দে ঝিলমিলের ঘুম ভেঙ্গে গেল। চোখ মেলে তাকিয়ে দেখল, রোদ্দুর রেডি হচ্ছে। যেসব জিনিসপত্র হাতে নিচ্ছে, সেসব রাখছে ঠাস ঠাস করে। কপাল কুঁচকানো ঘুম ঘুম চোখ দু'টো নিয়ে সে প্রচন্ড বিরক্ত বোধ করল।
উঠে বসে রোদ্দুরের উদ্দেশ্যে বলল, 'তুই কি পাগল? এরকম অভদ্রের মতো আচরণ করছিস কেন? দেখতেই পাচ্ছিস ঘুমিয়ে আছি। তারপরও এইরকম শব্দ করার কোনো মানে হয়?'
রোদ্দুর রা করল না। শেষে পারফিউমটাকে ঠাস করে টেবিলের উপর রেখে দিয়ে চলে গেল। ঝিলমিল'ও উঠে পেছন পেছন দৌড়াল। কিছু জিনিসপত্র তো সে মেঝেতেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছে। পাগলের এহেন কান্ডে সে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল। তারপর উঠে সব জিনিসপত্রগুলো গুছিয়ে রাখল। হাতমুখ ধুয়ে এসে নিজেও রেডি হলো ভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য। ক্লাস করল না একটাও, বন্ধু-বান্ধবদের সাথে করে ক্যান্টিন, মাঠ কয়েকবার চক্কর দিল। তারপর সময়ের আগেই বেরিয়ে এলো। বাড়ি ফিরে এসে শিউলিকে ফোন করল।
কোনোরূপ সৌজন্যতা বিহীন হড়হড় করে জিজ্ঞেস করল, 'এই তুই না সেদিন আমায় কতকগুলো ভালোবাসার ডেফিনেশন দিলি। একটাও তো কাজ করছে না। আমি নিজেই ওর সাথে আগ বাড়িয়ে কথা বলতে যাচ্ছি, ও পাত্তাই দিচ্ছে না। ব্যাটার এত বেশি ভাব!'
'ভাব সবার'ই থাকবে। কিন্তু তোর মূল সমস্যা হচ্ছে, তুই ধৈর্য্য ধরতে পারিস না। তুই তো সেদিন আমাকে বললি, রোদ্দুর ভাইয়া তোকে ভালোবাসার কথা বলেছিল কিন্তু তুই একটা ধোঁয়াশার মধ্যে ছিলি। ব্যাপার না, এক সাথে থাকতে থাকতে যে মায়া জন্মায় তার থেকে ভালোবাসা আপনাআপনি হয়ে যায়। এতদিন তুই ওকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরিয়েছিস, এখন সে তোকে ঘোরাচ্ছে। টিট ফর ট্যাট।' শিউলি বলল।
ঝিলমিল মুখ কালো করে উত্তর দিল, 'ওসব কিছুই না। ও আমাকে স্রেফ ইগনোর করে যাচ্ছে। আচ্ছা ওর জীবনে ওর এক্স গার্লফ্রেন্ড আবার ফিরে এলো না তো? ওটা না একটা ডাইনী বুড়ি, শাকচুন্নী।'
'হিংসে হয় দোস্ত?'
হিংসের ঠেলায় ঝিলমিলের হাত পা ছুঁড়ে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু শিউলিকে কী আর ওতো কথা বলা যায়!
সে অল্প কথায় বলল, 'না ভাই, ওসব কিছু না। ওর ফোন তো আমি সচরাচর ধরি না। এরপর থেকে ওর ফোন চেক করতে হবে। ও কোথায় যাচ্ছে না যাচ্ছে, সেটাও আমাকে দেখতে হবে।'
'দেখিস যেনো টের না পায়।' শিউলির সাথে হাবিজাবি অনেক কথা বলে দুপুরটা কাটিয়ে দিল। রোদ্দুর সেদিন সময় মতই বাড়ি ফিরল। আগের মতই ঝিলমিলের সাথে কথা বলল না। ঝিলমিল'ও তা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়ে, চুপ করে রইল। ফোনে কথা বলে, ম্যাসেজ করে সময় কাটিয়ে দিল। তারপর রাতে যখন রোদ্দুর ঘুমিয়ে পড়ল তখন ওর ফোনটা বালিশের পাশ থেকে তুলে নিল। লকটা জানাই ছিল, এর আগে ওর ফোন হারিয়ে গিয়েছিল তখন রোদ্দুর লক বলেছিল। এইবার সেটা ট্রাই করে দেখল পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করে ফেলেছে। ঝিলমিলের মনের মধ্যে সন্দেহ উঁকি দিল, নিশ্চয়ই ফোনে এমন কিছু আছে যা গোপনীয়। ফোনটা রেখে দিল জায়গামতো, ওর ইচ্ছে করল রোদ্দুরের চুলগুলো ইচ্ছেমত টেনে দিতে। পিঠের উপর ধুরুমধারুম কয়েকটা কিল বসিয়ে দিতে। নাহ, এসব সহ্য হচ্ছে না। সে ঠেলেঠুলে রোদ্দুরকে জাগিয়ে তুলল। কাঁচা ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ায় রোদ্দুর কিছুটা বিরক্ত হলো। ওর দিক থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না পেয়ে ঝিলমিল আবারও রোদ্দুরের চুল টেনে ধরে বলতে শুরু করল, 'তুই ঘুমাচ্ছিস কেনো?'
ডাকিনীর হাত থেকে রোদ্দুর নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলল, 'কী সমস্যা? রাতের বেলা ঘুমাব না তো কি নাচব?'
ঝিলমিল উঠে বসল। রোদ্দুরকেও উঠে বসতে বলল। এই রাতের বেলা ঘুম থেকে উঠিয়ে এসব অত্যাচার তার সহ্য হচ্ছে না। তবুও উঠে বসল। বলল, 'কি হয়েছে?'
'বল, বিয়ে মানে কি?'
রোদ্দুর ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে বলল, 'চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়। রাত দেড়টা বাজে। এসব ফালতু প্রশ্নের মানে কি?'
'ফালতু প্রশ্ন? আমি ফালতু প্রশ্ন করছি? আর তুই যা করছিস তা কি খুব ভালো মানুষের কাজ? তুই এখন ঘুমাতে পারবি না। বিয়ে মানে হচ্ছে শেয়ারিং। আমার ঘুম আসছে না মানে তুই'ও ঘুমাতে পারবি না।'
'রাতবিরাতে এ আবার কি নাটক?'
'দু'দিন পর টিভিতে এক্টিং করতে যাব তো তাই একটু প্র্যাকটিস করছি।' ঝিলমিল মুখ ঝামটে বলল।
রোদ্দুর কোনো কথা না বলে চুপচাপ ভদ্র মানুষের মত বসে রইল। একবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে, আরেকবার ঝিলমিলের দিকে। ওর দিকে তাকাতেই ও মুখ ভেংচি কাটল। আচমকা নীরবতা ভেঙ্গে বাজখাঁই আওয়াজে ঝিলমিলের ফোনটা বেজে উঠল। রোদ্দুর তাকিয়ে দেখল যে ফোন করেছে তার নাম 'সৈকত' দিয়ে সেভ করা। ঝিলমিল তড়িঘড়ি ফোন হাতে নিয়ে আড়াল করার চেষ্টা করল। রোদ্দুরের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বলল, 'এখন ঘুমিয়ে পড়। সরি, মাঝরাতে ডিস্টার্ব করার জন্য।'
এই বলে সে উঠে বারান্দায় চলে গেল। এত রাতে ঝিলমিলের কাছে কেউ ফোন করায় রোদ্দুর অবাক তো হয়েছে বটেই, তার থেকেও বেশি রাগান্বিত হয়েছে। সে নিজেও উঠে দাঁড়াল। তার পরিকল্পনায় জল ঢালে এমন সাহস কার, সে দেখতে চায়।
.