রোদ্দুর বিড়ালের মত নিঃশব্দে এগিয়ে দরজায় এসে দাঁড়াল। ওপাশ থেকে ঝিলমিল দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। জানালায় হাত দিয়ে দেখল, সেটাও বন্ধ। কথা বলছে এত চুপিচুপি যে কোনো কথাই এপাশে পৌঁছাচ্ছে না। রোদ্দুরের চোখ থেকে ঘুম উড়ে গেল। নিজেকে ভয়াবহ রকমের স্থির রেখে শান্ত ভঙ্গিতে বুকে আড়াআড়িভাবে হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে রইল। ঝিলমিল বের হলেই ওকে খপ করে করে ধরে ফেলবে।
ওপাশ র না ঝিলমিল কথা বলছিল ফিসফিস করে। ওর গলার আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল কিন্তু ও কী বলছে তা শোনা যাচ্ছে না। অবশেষে পাক্কা আঠারো মিনিট পর সে বের হলো। রোদ্দুরকে দরজায় ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভয়ে হৃদপিন্ডটা আছড়ে পড়ল। সে আশেপাশে তাকিয়ে তোতলাতে তোতলাতে বলল, 'তুই-তুই? ঘুমাসনি এখনো? আমি তো তোকে শুয়ে পড়তে বললাম। আচ্ছা দেখি সামনে থেকে সর, আমি ঘুমাতে যাই।'
ঝিলমিল রোদ্দুরকে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিল। রোদ্দুর পেছন থেকে ওর হাতটা চেপে ধরল। এতটাই জোরে ওর হাত চেপে ধরেছে যে সে ব্যাথায় চোখমুখে কুঁচকে ফেলল। রোদ্দুর ওর ধরে সামনের দিকে টেনে নিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল, 'এতক্ষণ কার সাথে কথা বললি?'
ঝিলমিল ফাঁকা ঢোক গিলে বলল, 'সব কথা তো শুনতে হবে কেন? আমি যার সাথে ইচ্ছে তার সাথে কথা বলতেই পারি। তোকে বলতে হবে নাকি? তুই তোর সব কথা আমাকে বলিস?'
'সোজাসুজি আমার প্রশ্নের উত্তর দে।'
'প্রয়োজনবোধ করছি না।' ঝিলমিল নির্বিকার কণ্ঠে বলল।
'আমাকে রাগাস না। এত রাতে তুই কারো সাথে ফোনে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলবি, হাসাহাসি করবি এসব আমি একদম সহ্য করব না। কথা না বাড়িয়ে এক কথায় বলে দে ছেলেটা কে?'
ঝিলমিল মুখ ঘুরিয়ে উত্তর দিল, 'বলব না।'
রোদ্দুর আরও শক্ত করে ওর হাত চেপে ধরল। ঝিলমিল হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করল না। চুপচাপ দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে নিল। সে শুষ্ক ঠোঁটে জিভ বুলিয়ে বলল, 'তুই সবসময় আমার সাথে এমন করতে পারিস না।'
কথাটা বলতে দেরি ঝিলমিলের হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিতে রোদ্দুরের দেরি হলো না। ফোনটা নিয়ে সে হাত ছেড়ে দিল। ঝিলমিল হাত চোখের সামনে নিয়ে দেখল, ওই দিকটা লাল হয়ে গেছে। র'ক্ত আটকে থাকার কারণে চিনচিন করছে। ওইদিকে রোদ্দুর অলরেডি ওই নম্বরে কল দিয়েছে। ঝিলমিল তাকে আটকানোর চেষ্টা করে বলল, 'দেখ তুই সব বিষয়ে নাক গলাবি না। আমি তোর কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করি না। আমাকে আমার মত থাকতে দে। আমার ফোন দে। তুই ওকে কেনো ফোন করছিস আজব! আমি কখনো তোর ফোন থেকে কাউকে ফোন করেছি? দিয়ে দে, বলছি।'
রোদ্দুর তার ভেতরকার সূক্ষ্ম ক্রোধটা আড়াল করে শান্তভাবে বলল, 'একদম চুপ।'
ওর কন্ঠে এমন কিছু একটা ছিল যে ঝিলমিল চুপ করে যেতে বাধ্য হলো। ওপাশ থেকে ফোন রিসিভ হলো। রোদ্দুরের কিছু বলা লাগল না। ওই পাশ থেকে কণ্ঠস্বরটা বলছ উঠল, 'আরে ভাই এত রাতে ঘুম বাদ দিয়ে আবার ফোন দিছিস কেন? আমাকেও ঘুমাতে দিবি না, নিজেও ঘুমাবি না। এত বাড়াবাড়ি কিন্তু ভালো না ঝিলমিল। এত জেলাস ফিল করাতে চাইলে তো, ওই ব্যাটা ধসে যাবে। তোদের কাহিনী শুনে মনে হচ্ছে তোরা দু'জনেই জলন্ত সূর্যের মত। মনে রাখিস, এক আকাশে কিন্তু দু'টো সূর্য একসাথে থাকতে পারে না।'
কন্ঠটা মেয়ের। রোদ্দুর আরেকবার দেখল, ফোনে নামটা 'সৈকত' লিখেই সেভ করা আছে। সে ঝিলমিলের দিকে তাকাল। ঝিলমিল শুধু পারল না মাটির নিচে ঢুকে যেতে। ধরা পড়ে কই লুকাবে সেটাই ভাবছিল।
রোদ্দুর ফোন কেটে দিল। ঝিলমিলের দিকে তাকাল। ঝিলমিল অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে হাসল। গলার কাছে বিশ্রী ভাবে দম আটকানোর মতো ভয়ংকর অবস্থা হলো। ওইদিকে বাজ পাখির মত শাণানো দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রোদ্দুর। কোনমতে হাসতে হাসতে একটা তুচ্ছ কারণ তুলে ধরল, 'কোনোভাবে মনে হয় ওর ভয়েজ চেঞ্জ হয়ে গেছে। না মানে একটা এপস আছে, অন্য কারো সাথে কথা বললে নিজে নিজেই ভয়েস চেঞ্জ হয়ে যায়। আর যখন আমার সাথে কথা বলে তখন ঠিকঠাক থাকে।'
রোদ্দুর হাসল। সে হাসি দেখে ঝিলমিলের গা পিত্তি জ্বলে গেল। সে ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে বলল, 'আমার অনেক মাথাব্যথা করছে। আমি ঘুমাতে গেলাম।'
ঝিলমিল যাওয়ার সময় রোদ্দুর ওর ফোনটা দিয়ে দিল। ঝিলমিল কিড়মিড় করতে করতে ফোনে দিকে তাকাল। কাল ক্লাসে গিয়ে মাহিটাকে আচ্ছামত দিতে হবে। কিন্তু রোদ্দুরের সামনে সে বেইজ্জতি হলো, তার থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো উপায় নেই। সে আর কোন কথা না বলে চুপচাপ শুয়ে পড়ল। অযথাই নেতাগিরি করার জন্য এত রাতে ওকে ফোন দিতে বলেছিল। ঝিলমিল যতই কারণ দেখাক না কেনো, রোদ্দুর তো আসল বিষয়টা জেনেই গেছে। ইশশশ, আরেকটু সতর্ক থাকলে ওকে আরেকটু বেশি করে জেলাস করা যেত!
এইদিকে রোদ্দুর হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারছিল না। বেচারা তাকে জেলাস ফিল করাতে গিয়ে কী একটা পন্থা অবলম্বন করল যে একেবারে হাতেনাতে ধরা পড়ে গেল। ও কোথায় যেনো শুনেছিল, কারো কাছ থেকে উপযুক্ত পাত্তা না পেলে তাকে একদম ইগনোর করা শুরু করে দাও তারপর দেখবে ম্যাজিক। রোদ্দুর আসলেই সেই ম্যাজিকটা দেখতে পেয়েছিল। কিন্তু গতকাল ঝিলমিল যখন ফোনে কথা বলছিল ওমন হেসে হেসে তখন প্রচুর রাগ উঠেছিল। কিছু বলার বা করার অবকাশ ছিল না। তারপর তো বুঝতেই পারল কালপ্রিট'টা আসলে একটা মেয়ে! ঠোঁট জুড়ে হাসি খেলে গেল। ঝিলমিলের দিকে এগিয়ে এলো। এরইমধ্যে মেয়েটা ঘুমিয়েও পড়েছে। রোদ্দুর হেসে বিড়বিড় করে বলল, 'আমার ঘুম নষ্ট করে নিজে তো খুব আরাম করে ঘুমানো হচ্ছে। পাগল কোথাকার! নিজের মনের মধ্যে যে লাড্ডু ফুটেছে, তা সরাসরি বলে দিলেই হয়। এত ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে আমাকে জেলাস করানোর কি দরকার? আমি বাচ্চা ছেলে নাকি? আমাকে একঝলক বললেই তো বুঝে যাই।'
তারপর সে গিয়ে নিজের জায়গায় শুয়ে পড়ল। রোদ্দুর শুয়ে পড়েছে নিশ্চিত হয়ে কিছুক্ষণ পর ঝিলমিল চোখ মেলে তাকাল। প্রথমেই বড় করে একটা নিঃশ্বাস নিল, এতক্ষণ তো দম খিচড়ে শুয়ে ছিল। তারপর তাকাল রোদ্দুরের দিকে। ওর বলা কথাগুলো ঠিক'ই তার কানে এসেছে। সে আপনমনে বলল, 'এহহ, শখ কত! মনে লাড্ডু ফুটেছে সেটা আবার গিয়ে সেধে সেধে বলতে হবে? কেনো রে? বুঝে নিতে পারিস না। এমনি এমনি কি তোকে অভদ্র বলি আমি? আমার মনের লাড্ডু মনেই থাকুক, তোকে সেই লাড্ডু দিতে যাব না। বজ্জাত কোথাকার! আবার আমার সাথে এমন করবি তো, আবারও ইগনোর করবি তো; ঠিক আছে যা খুশি কর, আমিও দেখে নিব তোকে।'
.
বাড়িতে আজ অনেকদিন পর তিন্নি এসেছে। এর আগে যতবারই আসতে চেয়েছে কখনো অসুখ তো কখনো ভিসায় জটিলতা। এইবার ভিসা পেয়ে সরাসরি না জানিয়েই বাড়িতে এসে উঠেছে। সাবরিনা তো মহাখুশি! কিছুদিন থেকে তানিশাকে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। আজ আরেক মেয়েকে দেখে মনটা নিমিষেই হালকা হয়ে গেল।
তিন্নি আসা উপলক্ষ্যে এই বেলাতেও সকলে বাড়িতে উপস্থিত। তার এখন একটাই ইচ্ছে, সে অনেকদিন পর বাড়ি এসেছে যার যত কাজ'ই থাকুক না কেনো এইবার সবাইকে বাড়ি আসতে হবে। তিন্নি এখনও কাউকে বলে নাই, সে এসেছে। ঝিলমিল আর রোদ্দুরের বিয়েতেও অনুপস্থিত ছিল। এইবার ইচ্ছে আছে, ওদের বিয়ের অনুষ্ঠানেও যদি এটেন্ড করতে পারে! প্রথমে নিজের বোনেদের সাথে কথা বলল।
ওদের সাথে কথা শেষ করে সে ফোন করল রোদ্দুরকে। রোদ্দুর তো পুরাই অবাক! তিন্নি যখন বাড়ি আসার কথা বলল, তখন রোদ্দুর একটু দোনোমনো করল। দ্বিধাগ্রস্ত কণ্ঠে বলল, 'দেখি আপু, এখন হয়ত আসা সম্ভব নয়।'
'কেনো রে? তোর কি খুব কাজের চাপ? কি এমন কাজ করিস ভাই? দেখ, শত কাজের মধ্যেও আমি সেই। কতদূর থেকে মানে সাতসমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে এসেছি। আমার দাম দিলি না? ঠিক আছে। তোর বউ কই? ম্যাডামকে ফোন দিয়ে পাচ্ছি না কেনো? তোকে বিয়ে করে সেও কি কাজেকর্মে ব্যস্ত হয়ে পড়ল নাকি। আমি বেশি কথা শুনতে চাই না, কাল-পরশু দু'দিন তল্পিতল্পা গুটিয়ে এদিকে চলে আয়।'
'অসম্ভব! এই মাসের চার পাঁচদিন বাকি আছে। আমাদের আবার বাসা চেঞ্জ করার কথা সামনের মাসে। আচ্ছা, এইদিকের ঝামেলা শেষ হোক তারপর আসব।'
'বাসা চেঞ্জ করবি? ওয়াও, ফ্যামিলি প্ল্যানিং করছিস নাকি তোরা? এত তাড়াতাড়ি, তাও ভালো। গুড গুড।'
রোদ্দুর মাথা নাড়িয়ে বলল, 'না না আপু। এসব কিছু না। এমনিতেই এখানে জায়গা কম তো তাই। আমাদের বাড়ির ম্যাডামের আবার এখানে থাকতে খুব অসুবিধে হয়। মনে হয় দিনকে দিন মোটা হচ্ছে, ঘরে তার জায়গা হয় না।'
তিন্নি তবুও বারবার করে বলে দিল, ওখানকার কাজ শেষ হলেই তারা যেনো দ্রুত চলে আসে।
ঝিলমিল ক্লাসে ছিল। মাহির সাথে মাত্রই একচোট ঝগড়া হয়ে গেল। ওকে বারবার বলে দিয়েছিল, সে যখন কথা বলবে তারপর যেনো ও কথা বলে। ও ভুল না করলেই কাল ধরা পড়তো না। এখন রোদ্দুরের সামনে মুখ দেখানো দায় হয়ে গেছে। সকাল বেলা ঘুম থেকে বলছে, 'কিরে তোর প্রেমিকা তোকে সকাল সকাল ফোন করল না?'
উফফফ কী যন্ত্রনা! এখন কথায় কথায় এই প্রেমিকার নাম করে খোঁটা দেবে। বাড়ি যেতেই ইচ্ছে করছে না। সন্ধ্যার পরের সময়টুকু বেশ লম্বা, রোদ্দুরের মুখোমুখি থাকবে কীভাবে কে জানে? মাহির সাথে আলাপ হয়েছে এখানে ভর্তি হওয়ার পরপর'ই। মাহি বলল, 'এইবার ছেড়ে দে। আমি বলছি তুই তাকে ভালোবেসে ফেলেছিস। এটা তুই মুখে স্বীকার করতে না চাইলেও তোর মন কিন্তু ঠিকই স্বীকার করে নিয়েছে। এখন ভাই তুই নিজে ভাইয়ার কাছে যা। একটা গোলাপ নিয়ে হাঁটু মুড়ে বসে অথবা বুকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বল, জান আমি তোমাকে ভালোবাসি!'
ঝিলমিল বিরক্তিতে বলল, 'নাটকীয় কথাবার্তা বলিস না। ওর সারা শরীরের আগায় গোড়ায় ভাব। একদম মাথা থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত। ওরে আমি যদি বলি ভালোবাসার কথা, পাত্তাই দিবে না। উল্টো এমন একটা ভাব দেখিয়ে কথা বলবে যেনো ভালোবাসা শব্দটা ও প্রথম আমার মুখ থেকে শুনবে। আমার না ভালো লাগছে না কিছু।'
'প্রেম রোগে পেয়েছে তোকে।'
'পরিত্রাণের উপায় বল!'
মাহি বলল, 'বলছিই তো। ভাইয়াকে গিয়ে বলে দে।'
ঝিলমিল মোটেও রাজি হলো না। রোদ্দুরের সামনে যেতেই কেমন লাগছে। আর যদি ভালোবাসার কথা বলতে যায়, তাহলে তো তৎক্ষণাৎ ফিট খেয়ে পড়ে যাবে। ঝিলমিল বাড়ি ফিরে গেল। ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে বারবার। চাচ্ছে, সময়টাকে ধরে রাখতে। এই মুহূর্তে রোদ্দুরের তোমার কি হওয়া মানে, স্বেচ্ছায় মাঝ সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়া।
কলিংবেল বাজতেই ঝিলমিলের বুকের মধ্যে ধক করে উঠল। গিয়ে দরজা খুলে দিতেই রোদ্দুর প্রশ্ন করল, 'ওমা তুই বাসায়? আমি তো ভেবেছিলাম প্রেমিকার সাথে ঘুরতে গিয়েছিলি। আমার সাথে এতদিন বেকার ঘুরে বেড়ালি, ওর সাথে ঘোরাঘুরি করলেই হতো।'
ঝিলমিল কথার উত্তর দিল না। রোদ্দুর ঘরে ঢুকল। ঝিলমিল কোনো কথা না বলে, কোনোদিকে না তাকিয়ে চুপচাপ বই নিয়ে বসল। পড়াটা তার মুখ্য বিষয় নয়, রোদ্দুরকে এড়ানোটাই মুখ্য। যদিও রোদ্দুর ওর মুখোমুখি বসে আছে, ওর কাজকর্ম তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখছে।
ঝিলমিল অপ্রস্তত ভঙ্গিতে বইগুলো এলোমেলো করছিল। হঠাৎ একটা বইয়ের ভাঁজ থেকে ছোট্ট একটা চিরকুট মতন চারকোনা কাগজ বেরিয়ে এলো। ঝিলমিল সেটা তোলার আগেই রোদ্দুর তুলে নিল। গতকাল রাতের মত তার ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি টাইপের অবস্থা হলো। কারণ, এই কাগজে সে ক্লাসের মধ্যে আজাইরা বসে থেকে রোদ্দুরের উদ্দেশ্য কিছু লিখেছিল। ছিঁড়ে ফেলতে চেয়েও যত্ন করে বইয়ের ভাঁজে রেখে দিয়েছিল। এজন্যই বলে বোধ হয়, যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যে হয়।
.