বাসস্ট্যান্ড পৌঁছানোর আগেই রোদ্দুরের সাথে ওসমান খন্দকারের দেখা হলো। রোদ্দুর অবশ্য উনাকে খেয়াল না করে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিল। উনি নিজেই রোদ্দুরকে ডাকলেন, 'অ্যাই তুমি আমাদের নতুন চেয়ারম্যান সাহেবের ভাতিজা না? হুমমম.....? এত তাড়াহুড়া করে কোথাও ছুটছ? তা শুনলাম তোমার'ই নাকি বিয়ে হয়েছে। কী করলে বলো তো? বিয়ে করলে অথচ আশেপাশের মানুষজন জানল না। চুপিচুপি এই শুভ কাজটা সেরে ফেলার পেছনে রহস্য কি? তোমাদের আগে থেকে কোনো কাহিনী ছিল নাকি?'
রোদ্দুর থেমে গেল এবং ওনার কথা শুনে ওর ভ্রু জোড়া আপনাআপনি কুঁচকে গেল। রোদ্দুর পাল্টা প্রশ্ন করল, 'কোনোকিছু না জেনে আগাম কথা বলছেন কেনো?'
'আগাম কথা কেন হতে যাবে? চার পাঁচ জন লোক বলাবলি করছিল। তা করবেই তো। তোমার বাপ-চাচার ঠাট-বাট কি কোনো অংশে কম? তার উপর তুমি আবার তাদের বংশের একমাত্র ছেলে। তাই একটু সন্দেহ হচ্ছে। দেখো বাবা, তোমার চাচারা কিন্তু তোমায় সব সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে পারে। এগুলা তো ইদানিং ডালভাত। বড় শহরে থাকো, সব তো তোমাদের জানাই আছে।' তিনি আফসোসের সুরে কথাটা বললেন।
রোদ্দুরের কপালে পরপর কয়েকটা ভাঁজ পড়ল। এই লোক চায় কি? নামডাক শুনেছে অনেকবার, তাদের বাড়িতে দাদু বেঁচে থাকাকালীন খুব আনাগোনা ছিল। তারপর তো রোদ্দুরের পড়াশোনা'সহ সবকিছু ঢাকাতেই, তাই উনার সাথে খুব একটা আলাপ পরিচয় নেই।
রোদ্দুর বলল, 'আমার বাবা আমায় যথেষ্ট পড়াশোনা করিয়েছেন, নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখিয়েছেন। আমার মনে হয় না, আমার পূর্বপুরুষের এসব সম্পত্তি আমার কোনো কাজে আসবে। আসছি কেমন? আপনার সাথে কথা বলে ভালো লাগল। আপনি আমাকে সেইভাবে চিনেন না, তবুও আমার কথা ভাবলেন দেখে আরও ভালো লাগল। তবে আসি, আবার এলে আপনার সাথে একসাথে বসে চা খাব এবং আমার বাপ-চাচাদের মতলব শুনব।'
রোদ্দুরের কথাটা অপমানজনক ছিল নাকি সে ভালোর উদ্দেশ্যে বলেছে, ওসমান খন্দকার তা ঠিক বুঝতে পারলেন না। তাই কোন প্রতিক্রিয়া ব্যাতীত নিজের গন্তব্যের দিকে পা বাড়ালেন।
.
রোদ্দুর যে ঘরে নেই, এটা কারোর'ই জানা ছিল না। সন্ধ্যার দিকে ওর খোঁজ পড়ল। নাই.... নাই... কোথাও নাই! ছোটো চাচ্চু ফোন করলেন, রোদ্দুর ফোন রিসিভ করল না। বাড়ির সবাই ভেবে নিল, হয়তো বাহিরে কোথায় গেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে। রোদ্দুর এলো না তবে ওর একটা মেসেজ ঠিকই এলো। তখন সবাই বুঝতে পারল যে, পাখি খাঁচা ছেড়ে ফুড়ুৎ!
শিমু এসে ঝিলমিলকে বকাবকি করতে লাগলেন, 'নিশ্চয়ই তুই কিছু বলেছিস? তোর আসলে স্বভাবটাই খারাপ। একদম কারো ভালো সহ্য হয় না।'
ছোট চাচ্চু সকলকে থামিয়ে বললেন, 'আরে ভাবি থামেন আপনারা। রাগারাগী করছেন কেনো? রোদ্দুর তো বলল, ওর অফিস আছে। যাওয়ার প্রয়োজন ছিল তাই চলে গেছে। ঝিলমিলের সাথে চেঁচামেচি করে লাভ নাই। আমি কাল ওকে গিয়ে দিয়ে আসব। এই পাখিকেও খুব শীঘ্রই খাঁচায় বন্দী করতে হবে।'
যেই বলা সেই কাজ। ঝিলমিল ঢাকা যেতে আপত্তি করল না। ছোট চাচ্চুর কথায় সুরসুর করে রাজি হয়ে গেল। সকাল সকাল বাড়ির সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসস্ট্যান্ড পৌঁছাল। যাওয়ার সময় সকলেই এক রোখা কণ্ঠে তাকে হাজারখানেক সাবধান বাণী শুনিয়ে দিল। ঝিলমিল মনে মনে ভাবল, 'যাক বাবা, কিছুদিন হোক আর যতদিন'ই হোক; এদের নজরদারি তো আর আমাকে সহ্য করতে হবে না।'
তারপর রওনা দিল। ওখানে পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় বাজে নয়টা। এই সকাল বেলাতেও ভীড়ের মাঝে পা রাখার জো নেই। সেখানে যেখানে গাড়ি আটকে পড়ে, ছাড়ার কোনো নামই নেই। রোদ্দুরের বাসায় পৌঁছাতেই সাড়ে দশটা। রোদ্দুরকে পাওয়া গেল না, গেট লক করা। নিশ্চয়ই অফিসে চলে গেছে। ছোট চাচ্চু চিন্তিত কণ্ঠে বললেন, 'ইশশশ, দেরি করে ফেলেছি রে। তুই ওয়েট কর, আমি রোদ্দুরের সাথে ফোনে কথা বলি।'
'আচ্ছা।'
ছোট চাচ্চু রোদ্দুরের সাথে ফোনে কথা বলে ঝিলমিলকে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করতে বলে নিচে নামলেন। ঠিক পাঁচ মিনিটের মাথায় ফিরে এলেন, চাবি নিয়ে। ঝিলমিল অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, 'চাবি কোথায় পেলে?'
'ডুপ্লিকেট চাবি ম্যানেজ করেছি ম্যানেজারের কাছ থেকে।' তিনি দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলেন, ঝিলমিল'ও পিছু পিছু গেল। সারাজীবন নিজের বাড়িতে ছিল, তাদের বাড়ি'ও ছিল বিশাল। এখন এই ঘরে ঢুকে মনে হচ্ছে, পৃথিবীর সবচাইতে ছোট্ট ঘরে সে উপস্থিত হয়েছে। বিরক্তি নিয়ে আশেপাশে তাকাল। ধুর, এই ঘুপচি ঘরে তাকে থাকতে হবে এখন থেকে! এমনিতে সব ঠিকঠাক, রোদ্দুর যথেষ্ট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন; এটা আগে থেকেই জানা আছে। তবে এই ছোট্ট ঘরটা যা সুন্দর করে সাজিয়েছে, তাতে ঝিলমিল তার চরম শত্রুর প্রশংসা মুখে না করলেও মনে মনে করতে বাধ্য হলো।
ছোট চাচ্চু ঝিলমিলকে বললেন, 'তুই থাক এখানে। ঘুরেফিরে সব দেখ। আমি কিছুক্ষণ বাদে আসছি।'
নতুন জায়গা, তবুও ঝিলমিলের ততটা অস্বস্তি হলো না; কখনো কোথাও হয় নাই। সে পরিস্থিতির সাথে খুব ভালো করে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। তাই খুশিমনে বলল, 'আচ্ছা ঠিক আছে।'
মনোয়ার সরকার চলে যাওয়ার পর ঝিলমিল ঘুরে ঘুরে ঘরের প্রতিটা কোণা পর্যবেক্ষণ করল। তাতে আর সময় লাগল, মাত্র দশ মিনিট। বাকি সময় কি করবে কি করবে ভাবতে ভাবতে রান্নাঘরে উঁকি মারল। ওমা! এটা রান্নাঘর নাকি মুরগির খোপ? তাদের এলাকার সাবুর মায়ের মুরগির গুলোও তো এর থেকে তিনগুণ।
নাহ, এখানে তো বেশিদিন থাকা যাবে না। দমবন্ধ হয়ে যাবে স্রেফ। গতবছর একবার ঢাকা এসেছিল, তার ছোট মামার বাসায়। কিন্তু রোদ্দুরের এখানে কখনোই আসা হয় নাই, এইবার'ই প্রথম। তাও আবার সম্পর্ক পরিবর্তন হয়ে গেছে এক লহমায়।
ছোট চাচ্চু ফিরে এলেন হাতে কতকগুলো খাবারের প্যাকেট নিয়ে। ঝিলমিলকে সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে বললেন, 'তুই খেয়ে নিস। আর শোন, রোদ্দুরের সাথে ঝগড়াঝাঁটি করবি না। কোনো সমস্যা হলে অবশ্যই বাড়িতে ফোন করবি। আর হ্যাঁ, রোদ্দুরের সাথে তখন ফোনে কথা হয়েছিল ও আমাকে ওয়েট করতে বলেছে। তোর কথা এখনও জানে না। আমার তো আর অপেক্ষা করার সময় হচ্ছে না, আমি আসছি। ও এলে তোকে দেখে সারপ্রাইজড হয়ে যাবে।'
ছোট চাচ্চুর চলে যাওয়ার কথা শুনে ঝিলমিলের মনটা খারাপ হয়ে গেল। সে মানা করল না, হাসিমুখেই বিদায় দিল। এরপর ফিরে এসে আর কিছুই করার নেই। চারিপাশ স্তব্ধ, নিরব; থেকে থেকে দূর থেকে গাড়ির আওয়াজ ভেসে আসছে। সকাল সকাল উঠার কারণে ঘুমে চোখ বুজে আসছিল। ঝিলমিল বালিশে হেলান দিল এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল। আবছা আবছা কীসব স্বপ্ন দেখল, সেসব কিছুই মনে নেই। এরইমধ্যে আর ঘুম ভাঙ্গল না। হঠাৎ কলিংবেল বেজে উঠল। ঝিলমিল ধড়ফড়িয়ে উঠে বসল। ধাতস্থ হওয়ার চেষ্টা করল। সকাল না রাত; বোঝার চেষ্টা করল। আচমকা মনেও পড়ল না সে কোথায় আছে। আবার কলিংবেল বেজে উঠল। ঝিলমিল উঠে গেল। ও'পাশ থেকে রোদ্দুরের গলার আওয়াজ ভেসে এলো।
'ছোট চাচ্চু.......।'
ঝিলমিল গিয়ে দরজা খুলে দিল। রোদ্দুর দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলল, 'ঘুমাচ্ছিলে নাকি? আমি তো.....'
এটুকু বলতেই সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানবীর দিকে চোখ পড়ল। কোথায় ছোট চাচ্চু? কোথায় কে? ঝিলমিলকে দেখে সে এতটা অবাক হলো যে কথা বলতেই ভুলে গেল। নিজেকে যথাসম্ভব সামলে নিয়ে বলল, 'তুই এখানে? কখন এসেছিস? আবার কখন যাবি?'
ঝিলমিল এমনি এমনি রোদ্দুরের সাথে রাগারাগী করে না। কথাবার্তার ধরণ কী অভদ্র ছেলেটার! আসতেই পারল না এখন পর্যন্ত, আবার চলে যাওয়ার কথা বলছে। জীবনে আর কতবার বিরক্ত হবে? এত বিরক্ত হতে হতে এখন নিজের প্রতি রাগ লাগে। তাই সে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল, 'হ্যাঁ আমি এখানে। আজকে এসেছি এবং ছোট চাচ্চুর সাথে এসেছি। এখান থেকে আপাতত কোথাও যাচ্ছি না, কিছুদিন থাকব।'
'মানে কী? তূই এখানে কীভাবে থাকবি?'
'তুই যেভাবে থাকিস সেভাবেই থাকব।'
রোদ্দুর গলার টাই'টা ঢিলা করে সেটা খুলে একদিকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বলল, 'অসহ্য, অসহ্য। ছোট চাচ্চু কোথায়? চলে গেছে? তোকে রেখে গেল কেনো আর নিয়েই বা এলো কেনো? আমি আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছি সবার কর্মকাণ্ডে।' তারপর নিজ মনেই কীসব কীসব গজগজ করে বলে গেল। ঝিলমিল কিছু বুঝল না। রোদ্দুর পুনরায় বলল, 'তুই কি এখানে সত্যি থাকবি?'
'মিথ্যা থাকা যায় বলে আমার জানা নেই।'
'ঠিক আছে। এখানে থাকতে হলে ভদ্রভাবে থাকতে হবে। অবশ্যই আমার কথা মেনে চলতে হবে। অবশ্য আমি সবসময় বাসায় থাকি না, তাই তোর মুখটা আমার বেশি দেখতে হবে না। অচেনা শহর, বাসা থেকে বের হবি না। তুই হারায়ে গেলে তার দায় আমি নিতে পারব না। আর হ্যাঁ, আরেকটা কথা আমি আমার বেড শেয়ার করে অভ্যস্ত নয় তাই তুই.....'
রোদ্দুরকে কথা শেষ করতে দিল না ঝিলমিল। নিজে বলল, 'বেড শেয়ার করতে অভ্যস্ত না হলে হলে আবার সেদিনের মত বারান্দায় থাকিস। সমস্যা কোথায়?'
'এখানে তোর কোনো ভাঁওতাবাজি চলবে না।'
'আপাতত কিছু চালাতেও চাচ্ছি না। তোর কথা শেষ তো! এইবার আমার শর্তাবলী শুনে রাখ, যেহেতু আমি তোকে দয়া করে বিয়ে করেই ফেলেছি তাই...'
রোদ্দুর ঝিলমিলের মুখ থেকে কথা কেড়ে নিল, 'তুই আমাকে দয়া করে বিয়ে করেছিস? হাসালি! হাসতে হাসতে আর সত্যি কথা মুখে আসছে না। আমি তোর মত গাধীকে বিয়ে না করলে তোর জীবনেও বিয়ে হতো? কে তোকে বিয়ে করত? একটা মানুষ আমাকে দেখাতে পারবি তুই? পারবি না, পারবি না।'
ঝিলমিল কোমরে হাত গুঁজে বলল, 'কবুল প্রথম আমি বলেছি তাই বিয়ে আমি আগে তোকে করেছি। এত বড় বড় কথা বলিস না। ছিল তো গার্লফ্রেন্ড একটা। গেল কেন? হুম? তোর এই ত্যাড়ামি আর বাড়াবাড়ি স্বভাবের কারণে না কেউ থাকবে না।'
রোদ্দুর'ও এক রোখা কণ্ঠে বলল, 'আমার অতীতে কেউ না কেউ তো ছিল। তোর ছিল? ভেবে দেখ কেনো নাই। কারণ তোর এই দজ্জালরূপী পিশাচিনী স্বভাব।'
ঝিলমিলও কোমর বেঁধে নেমে পড়ল ঝগড়ায়। ঝাড়ি মেরে বলল, 'আমি পিশাচিনী? ঠিক আছে, একবার যখন এসেই পড়েছি তখন পদে পদে তোর মুন্ডু মটকাবো। তখন বুঝবি, আমাকে এসব আজেবাজে কথা বলার স্বাদ।'
রোদ্দুর হেসে বলল, 'সময়ে সব দেখা যাবে। কে কাকে মটকায় আর কাকে আস্ত রাখে?'
'আমিও তাহলে সময়ের অপেক্ষায় থাকলাম। এখন কাজের কথা বলি। তুই তো মনে হয় একাই রান্নাবান্না করিস, এখন আমি যেহেতু তোকে দয়া করে নিজের গলায় ঝুলিয়েছি তাই একবেলার রান্না আমি করে দিব, নো প্রবলেম। আর হ্যাঁ, এই বাড়ির সব কাজ তুই করবি। এতদিন যেহেতু করে এসেছিস, বাদবাকি দিনগুলোতেও করতে পারবি।'
রোদ্দুর সরু চাহনি নিক্ষেপ করে সবগুলো কথা শুনে কোনোরূপ বাক্যব্যয় না করে ফ্রেশ হতে চলে এলো। ফ্রেশ হয়েই বাইরে বেরিয়ে গেল। ঝিলমিল মনে মনে বলল, 'এই কাঠখোট্টা স্বভাবের কারণে এই ছেলের গার্লফ্রেন্ড বেচারা ওর কপালে টেকে নাই আর শেষমেষ আমাকে ওর গলায় ঝুলতে হয়েছে।'
রোদ্দুর বেড়িয়ে যাওয়ার মিনিট পাঁচেক পর আবার কলিংবেলের আওয়াজ ভেসে এলো। নিশ্চয়ই, রোদ্দুর এসেছে। কিছু একটা ফেলে গেছে নয়ত বাইরে যাওয়ার মত ঘুরে গেছে। ঝিলমিল দরজা খুলে দিল। রোদ্দুরের বদলে সেখানে হাসানকে দেখতে পেল। গতবার হাসান ভাইয়ের সাথে পরিচয় হয়েছিল। উনি রোদ্দুরের সাথে ঝিলমিলদের বাড়ি ঘুলতে এসেছিল। সেই থেকে টুকটাক পরিচয়।
হাসান ঝিলমিলকে দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, 'আরে! তুমি ঝিলমিল না? অনেক বড় হয়ে গেছ তো। কেমন আছো? ঢাকা কবে এলে?'
ঝিলমিল হাসিমুখে সব প্রশ্নের উত্তর দিল। হাসান ফের জিজ্ঞেস করল, 'রোদ্দুর কোথায়?'
'জানিনা। বাইরে চলে গেল।'
'আচ্ছা আচ্ছা, ঠিক আছে। আমাদের বাসায় বেড়াতে এসো। কতদিন থাকবে?'
ঝিলমিল নির্বিকার ভাবে উত্তর দিল, 'আমার মত মুক্তোর গলায় যেহেতু ওই বাঁদর ঝুলে পড়েছে, তাই ঠিক বলতে পারছি না কতদিন থাকব এখানে!'
হাসান বিস্ময়ে হতবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, 'মানে কী? বুঝলাম না।'
ঝিলমিল ওকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলল। ওদের বিয়ের দিন থেকে শুরু করে আজকের দিন পর্যন্ত সব! ঘটনা শুনে তো হাসান স্তব্ধ, হতবাক, হতভম্ব! বিড়বিড় করে বলল, 'সম্পর্ক বদলে গেল একটি সিগনেচারে!'
.