ঝিলমিল রোদ্দুরে

পর্ব - ১৪

🟢

ঝিলমিল জেগে ছিল। সকালে ঘুম থেকে উঠেছিল দেরিতে, তারপর আবার দুপুরে খেয়েদেয়ে দারুণ একটা ঘুম দিয়েছে। তাই রাতের ঘুম বাবাজি তাকে টাকা বাই বাই করে মামা বাড়ি ঘুরতে বেরিয়েছে। অবশেষে অনেকক্ষণ বিছানায় এ'পাশ ওপাশ করে ঘুম আসছিল না দেখে রান্নাঘরে গিয়ে কড়া করে এক কাপ চা বানিয়ে পেছনের বারান্দায় এসে বসেছে। ঠিক তক্ষুনি চোখে পড়ল এক আগুন্তক। ভয় পেলেও ঝিলমিল মনে সাহস রেখে উঠে দাঁড়াল। বারান্দার এ'কোণা ও'কোণা থেকে অনেকবার দেখেও অন্ধকারের কারণে আগুন্তকের মুখ দেখতে পেল না। আশ্চর্য! ব্যাটা আবার বাড়ির মধ্যে ঢুকছে। উদ্দেশ্য কি তার? চুরি করতে আসছে নাকি এই সেই যে ঝিলমিলের ঘরের জানালায় ঠকঠক করে? বাড়ি ঢুকে পড়ছে, আটকানোর কোনো পথ নেই বলে ঝিলমিল চেঁচিয়ে উঠল। আগুন্তক ওখানেই থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। ঝিলমিল পুনরায় বলল, 'শালার সাহস কত্ত বড়! বুকের পাটা কত্ত বড়! আমাদের বাসায় আসছে চুরি করতে? বুকের পাটা আরেকটু বড় থাকলে দাঁড়া ওইখানেই, আমি বাড়ির সবাইকে ডেকে আনতেছি।'

রোদ্দুর কণ্ঠ শুনেই বুঝতে পারল এটা ঝিলমিল। এই মেয়ের স্বভাবই হচ্ছে না বুঝে শুনে চিল্লানো। রোদ্দুর'ও চাপা স্বরে চেঁচিয়ে উঠল, 'অ্যাই ছেমড়ি, চুপ থাক। এত রাতে চেঁচামেচি করে কি সারা পাড়ার মানুষ জড়ো করবি নাকি?'

ওমা ভূত নাকি! ঝিমঝিল চোখ বড় বড় করে তাকাল। মানুষের অবয়ব'ই তো মনে হচ্ছে। কোন ভূত আবার মানুষের রূপ ধরে এলো নাকি? তাও আবার রোদ্দুরের?

ঝিলমিল সাবধানী কন্ঠে বলল, 'কে..….. কে?'

'আবার তুই ষাঁড়ের মতো চেঁচাচ্ছিস? নিচে নেমে গেট খুলে দে।'

'তুই এত রাতে এখানে কি করিস?'

'আশ্চর্য! আমার বাড়িতে আমি এত রাতে কি করি, তার কৈফিয়ত তোকে দিতে হবে? তোকে যেটা বলেছি সেটা কর।'

ঝিলমিল এক মুহূর্ত ভেবে নিচে নেমে এলো। তবে বুঝতে পারছে না, এটা সত্যি রোদ্দুর নাকি ওর রুপ ধরে আসা ভূতরূপী নকল রোদ্দুর! ঝিলমিল পেছনের দরজায় এসে দাঁড়াল। ঝিলমিল ওপাশ থেকে বলল, 'আগে তোর হাত দেখা, তারপর গেট খুলছি।'

'আজব! হাত দেখাতে হবে কেনো? তুই জ্যোতিষী?'

'না। হাত দে।'

রোদ্দুর চুপচাপ হাত বাড়িয়ে দিল। ঝিলমিল বেশ জোরেশোরেই একটা চিমটি বসিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিল, এটা রোদ্দুর। গেট খুলে দিল। আবছা লাইটের আলোয় রোদ্দুর নিজের হাত বাড়িয়ে দিয়ে হাতটা দেখে নিল। রাক্ষসী এমনভাবে চিমটি দিয়েছে যে ওই অংশটুকু লাল টকটকে হয়ে গেছে। ওই জায়গায় চিনচিন করে ব্যাথাও করছে। রোদ্দুর চোখমুখ কুঁচকে বলল, 'কী সমস্যা তোর? হাতে চিমটি দিলি কেন? দেখ হাতের কি অবস্থা হয়েছে।'

'আমি দেখলাম তুই আসল নাকি নকল?'

রোদ্দুর ভুল কুঁচকে বলল, 'মানে?'

'মানে হচ্ছে, পরীক্ষা না করে তোকে বাড়িতে ঢুকতে দিই কি করে বলতো? তুই যদি ভূত হোস আর এসে আমার ঘাড় মটকাস? তখন কি হবে ভাবতে পারছিস? বাবারে!' ঝিলমিল দৃশ্যটা কল্পনা করেই চমকে উঠল।

রোদ্দুর জিজ্ঞেস করল, 'তুই ভূতে ভয় পাস?'

ঝিলমিল দাঁত কেলিয়ে হেসে বলল, 'হেহে মাম্মা, ভূত ভয় পায় না এমন কোন মানুষ আছে? তোর ঘাড় মটকাতে এলে তুই'ও বাপ বাপ করে পালাবি। হাহাহা!'

রোদ্দুর ঝিলমিলের দিকে তাকিয়ে বলল, 'আমি এই মুহূর্তে ভূতের ভয় পাচ্ছি না। কিন্তু তুই যেভাবে হাসছিস, ঠিক পেত্নীর মত, ওই যে শেওড়া গাছের পেত্নী— তোকে দেখে আমার ভয় হচ্ছে। আমি তো এখানে থাকি না, আমার বাড়ির মানুষজন থাকে। কখন যে কার ঘাড়ে চেপে বসে ঘাড় মটকাস আল্লাহ ভালো জানেন।'

ঝিলমিলের হাসিমুখটা দপ করে নিভে গেল। মুখ কালো করে বলল, 'তুই জীবনেও মানুষ হবি না। যা যা, বকবক করিস না। আমিও যাই। তোর চক্করে পড়ে এতক্ষণে নিশ্চয়ই আমার চা ঠান্ডা বরফ পানি হয়ে গেছে।'

'যাব'ই তো। অযথা তোর সাথে এতক্ষণ বকবক করে সময় নষ্ট করলাম। তোর মত তো আর সারাদিন গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াই না, আমার অফিস আছে, কাজ আছে; সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে হয়। অন্য মানুষের মত পড়ে পড়ে ঘুমাতে পারি না আর নিশাচর হয়ে রাত'ও জাগতে পারি না।'

রোদ্দুর এইটুকু বলেই ভোজবাজির মত চোখের পলকে উধাও হয়ে গেল। ঝিলমিল ভাবল, ওর কথাবার্তা ঠিকঠাক লাগছে না! ও কি আসলেই রোদ্দুর অর্থাৎ মেজো কাকা-কাকির একমাত্র ছেলে, দাদির আদরের নাতি, আর বাড়ির সবার চোখের মণি? যা হয় হোক, ঝিলমিল আর ওখানে দাঁড়িয়ে থাকার সাহস পেল না। বাহিরের দিকে তাকাতেই পিলে চমকে উঠল। আমাবস্যার মতো অন্ধকার! এখন ভূতে ধরলেও বাঁচানোর মত কেউ নেই। একটু আগে রোদ্দুরকে বলে সে নিজেই এখন বাপ বাপ করে দৌড়ে পালাল।

.

শীতকাল হোক আর গরমকাল হোক, সরকার বাড়ির বউয়েরা সূর্য্যি মামা উঠার সাথে সাথেই উঠে যায়। তারপর মামার সাথে পাল্লা দিয়ে চলে সংসারের নানান আয়োজন। যেহেতু যৌথ পরিবার, তাই কাজকর্ম বেশি। সবাই মিলে করলে কারোরই গায়ে লাগে না। সকালে একেকজন একেকরকম নাস্তা খায়, কারোর সাথে কারো মিলে না। তাই বাড়ির বউয়েরা সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।‌

রোদ্দুরের আসার খবর এখনও কারো জানা নেই। ঝিলমিল রান্নাঘরে এসে বলল, 'বাহ! তোমাদের ওয়ান এন্ড অনলি সাহেবের জন্য রান্নাবান্না শুরু করে দিয়েছ?'

'কীসের সাহেব? আমরা রান্না তোদের সবার জন্য'ই করছি। ভালো কথা, তুই আজ এত তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে এসেছিস যে? সূর্য কোন দিকে উঠল?'

'সূর্য তার জায়গা মতই আছে কাকি। কথা হচ্ছে, ভূতের ভয়ে আমার একদম ঘুম হয় নাই। চোখ বন্ধ করলেই মনে হচ্ছে, কেউ সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। আবার চোখ খুলেও থাকতে পারতেছি না। কী যে অশান্তি! তারমধ্যে ওই রোদ্দুর ব্যাটা যে আসলেই মানুষ না ভূত বুঝতে পারছিলাম না। সারারাত এ'পাশ ও'পাশ করেই কাটল।'

নীলিমা এগিয়ে এসে বললেন, 'রোদ্দুরের কথা কি বললি?'

ঝিলমিল আহ্লাদী কণ্ঠে বলল, 'ওপস সরি! তোমার ছেলের নামে তো আবার কিছু বলা যাবে না। সরি সরি ডিয়ার, আমার ভুল হয়ে গেছে। ক্ষমা করে দাও প্লিজ। আর কখনো বলব না। কানে ধরতে হবে?'

নীলিমা ঝিলমিলের পিঠে হালকা চাপড় মেরে বললেন, 'ধুর শুধু ফাজলামি করিস। হঠাৎ ছেলেটার কথা বললি তো, তাই জিজ্ঞেস করলাম। কতদিন থেকে বলতেছি, ছুটির দিনগুলোতে একটু আয়। কই আর আসে? কী এক মুসিবতে পড়লাম বল তো? তোর চাচাকে কতবার বলেছি, ছেলেকে ওতদূর পাঠিয়ো না এখানে রেখেই পড়াশোনা করাও। না, উনি আমার কোনো কথা শুনবে না। আগে উনি শোনেন নাই, এখন উনার ছেলে শোনে না। আমার জ্বালা আর যন্ত্রণা!'

ঝিলমিল অবাক হয়ে বলল, 'কাকি! তুমি জানো না?'

'কী জানব?'

'তুমি আসলেই জানো না?' ঝিলমিল আবারও অবাক হয়ে প্রশ্ন করল।

'হেঁয়ালি না করে বল তো।'

বিজ্ঞাপন

'তোমার ছেলে তো এখানেই, কাল রাতে আসলো তো... আসলেই জানো না তুমি?'

ঝিলমিলের কথা শুনে সবাই ওর দিকে ঘুরে তাকাল। নীলিমা বলল, 'বলিস কি তুই? স্বপ্ন দেখেছিস নাকি?'

'না, তুমি গিয়ে দেখে আসো।'

নীলিমা সত্যি দেখতে চলে গেলেন। তার ছেলে এসেছে, অথচ তিনিই জানেন না! রোদ্দুর ঘরের দরজা ভেতর থেকে লাগানো। জানালা দিয়ে তিনি উঁকি দিয়ে দেখলেন, আসলেই তার ছেলে এসেছে। খুশি হয়ে সবাইকে জানালেন, শাশুড়িকেও এক পলক জানিয়ে এলেন। রেহানা বললেন, 'দাদুভাই ঘুম থেকে উঠলেই আমার এখানে পাঠিয়ে দিবে।'

.

ছাদে উঠে রিমঝিম ঝিলমিলকে পাকড়াও করল। বলল, 'ভাইয়া যে আসছে, ত তুমি কীভাবে জানো? হুমমমম, ডাল মে কুছ কালা হে! কী চলছে তোমাদের মধ্যে? তুমি কি আসলেই আমার ভাবী হবে? ভাইয়ার সাথে তোমার বিয়েটা হলে কী যে মজা হবে?'

'ফালতু বকিস না। রোদ্দুরকে কাল রাতে আমি বারান্দা থেকে দেখেছিলাম, তাই জানতে পেরেছি ও এসেছে। নয়তো আমিও জানতাম না।' মুখ কেলিয়ে উত্তর দিল ঝিলমিল।

রিমঝিম কাঁধ নাড়িয়ে দুষ্টু হাসি হেসে বলল, 'ওমা! ওতো রাতে বারান্দায় কি করছিলে তুমি? ভাইয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলে নিশ্চয়ই। সামনাসামনি ঝগড়া করো আর মনে মনে ঠিকই আদান-প্রদান হয়ে গেছে!'

'যা সর, যত্তসব আলতু ফালতু কথাবার্তা। ছোটো মানুষ ছোটো মানুষের মত থাকা।'

রিমঝিমের কথা ঝিলমিলের কাছে আলতু ফালতু মনে হলেও বাড়ির সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলো। দাদি আবারও হন্যে হয়ে পড়লেন বিয়ে নিয়ে। রোদ্দুরকে ডেকে বললেন, 'এইতো আমি ম'রে যাচ্ছি। আমাকে বাঁচানোর জন্য আমার বাড়ির মানুষের কোনো ভূমিকাই নাই। যাদের কোলে পিঠে করে ছোটো বেলা থেকে মানুষ করলাম, ওরাই আজকে আমারে চিনে না। আল্লাহ! এত দুঃখ আমি কই রাখব? এই পোলা মাইয়া গুলারে এত বড় কইরা কোনো ফল পাইলাম না আমি। ম'ইরা যাওয়ার পর আফসোস করব এরা। আমার কথা এখন শুনতাছে না, বুঝব একদিন! ঘরের বউগুলা আনলাম শখ কইরা, ওরাও এখন পোলা মাইয়া শাসন করে না। আদর দিতে দিতে মাথায় তুলছে, এখন ওরা সবডি মিইলা আমার মাথার উপর চড়ে নাচতেছে।'

রোদ্দুর অসহায় দৃষ্টিতে সকলের দিকে তাকাল। তারাও কিছু বলল না, নিজেদের দিকে তাকিয়ে রইল। ছোট চাচ্চু বললেন, 'আমি বুঝিনা বিয়েতে তোদের কি সমস্যা? কারো অন্য জায়গায় প্রেম নাই, তারপরও দোনোমনো করছিস কেনো? অন্য কোনো সমস্যা? ঝিলমিল আর তুই দু'জনই বেঁকে যাচ্ছিস। মায়ের কথা একবার ভাব, এত করে যখন বলছে একবার রাজি হয়ে দেখতে পারিস!'

রোদ্দুর কিছু বলল না। ঝিলমিলের খোঁজ করল। ওকে পেল ওর ঘরেই। গিয়ে জিজ্ঞেস করল, 'এই বিয়ের বিষয়ে তোর মতামত কি?'

ঝিলমিল নখে নেইলপলিশ দিচ্ছিল। রোদ্দুরের কথা কানে নিল না। নেলপলিশ দেওয়া শেষে ফুল দিতে দিতে রোদ্দুরের দিকে তাকিয়ে বলল, 'কিছু বলছিলি?'

রোদ্দুর বলল, 'তুই একটা অসহ্য! তোকে আমি বিয়ে করব কীভাবে আশ্চর্য। সময়ের কোনো দাম'ই নাই তোর কাছে। পনেরো মিনিট যাবত এখানে দাঁড়িয়ে আছি জাস্ট একটা মাত্র উত্তর শোনার আশায়।'

'হ্যাঁ বল, কী বলছিলি। নিজের কাজের সময় অন্য কারোর কথা কানে নিতে পারি না।'

রোদ্দুরের রাগ হলেও তা সামলে বলল, 'তোর বিয়ের ব্যাপারে তোর মতামত কি?'

'আমাকে বিয়ে দিলে আমি লাফাতে লাফাতে বিয়ে করে নিব, এই বাড়িতে থাকতে ভালো লাগে না। শশুর বাড়িতে যাব, জীবনে কোনোদিন শশুর বাড়ী দেখি নাই। স্বামীর সাথে ঘুরে বেড়াবো, তিন্নি আপু তিথি আপুদের মতো। লাইফে শুধু চিল আর চিল। পড়াশোনা নামক আপদ তখন জীবন থেকে বিদায় দিয়ে দিব।'

রোদ্দুরের মনে হলো সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পাগলের গ'লা টিপে ধরে। সে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল, 'তোর মত গাধার সাথে বাড়ির সবাই আমাকে বিয়ে দিতে চাচ্ছে!' রোদ্দুরের কথাটা বলতে বোধহয় খুব কষ্ট হল.....

ঝিলমিল মাছি তাড়ানোর ভঙ্গিতে বলল, 'হুশশ, তোকে কে বিয়ে করবে? ভাই তোর জীবনেও বিয়ে হবে না, তোর যা মেজাজ।'

রোদ্দুর মনে মনে বলল, 'তোর যা কথাবার্তার ধরণ তোর'ও কোনোদিন বিয়ে হবে না। তার উপর বাড়ির সবাই আবার তোর মত ঘাড়ত্যাড়া আমার গলায় ঝুলাতে চাইছে।'

কিন্তু মুখে বলল, 'তাহলে সবাইকে বলে দে তুই আমাকে বিয়ে করবি না।'

'কেনো রে? আমি কেনো বলব? আমি সবার কাছে খারাপ হবো, আর তুই রাজপুত্তুরের মত নেচে নেচে বেড়াবি তা আমি মানব কেনো? তোর আপত্তি আছে তুই গিয়ে বল।'

'তোর'ও তো আপত্তি আছে, তুই বল।'

'সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কথা বলবি না আমার সাথে, যা। এখন আমি শিউলির সাথে ঘুরতে যাচ্ছি। সাইড প্লিজ..... ডিয়ার ভাইয়া।'

রোদ্দুর সরে দাঁড়াল। ঝিলমিল চুলের জুটি নাড়াতে নাড়াতে বেড়িয়ে গেল।

রাতের বেলা দাদি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। ওনার একটাই কথা, নাতিকে ঘরে ফেরাতে হবে নাতি দিনকে দিন বিগড়ে যাচ্ছে। আর ঘরে ফেরানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে বিয়ে দেওয়া।

ঝিলমিল বাড়িতে নেই, সেই যে গেছে এখনও ফেরে নাই। রোদ্দুরের আর কোনো মতামত দেওয়ার নেই। সে যা বলছে, তার কোনো গুরুত্ব'ই দিচ্ছে না কেউ। এখন ঝিলমিল যদি 'না' বলে, সেটাই একমাত্র ভরসা। এতদিনকার শত্রুকে আজ বন্ধু মনে হচ্ছে। নিশ্চয়ই ঝিলমিল এসে কিছু একটা করবে! তার হাতে আর কিছু নাই, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেছে।

এইদিকে ছোট চাচ্চু আরেককাজ করে বসে আছে। স্থানীয় মসজিদের ইমামকে ডেকে নিয়ে আসছে, তিনি বিয়েও পড়ান। যেকোনো সময় রেহানা খাতুন বিয়ের রায় দিতে পারেন, তাই আগে থেকে সবাই সব বন্দোবস্ত করে রেখেছে।

দাদি বলতে শুরু করলেন, 'দোয়া দুরুদ পড়ো বউয়েরা, যেকোনো সময় চলে যাব। মাথা ঘোরে, বুকের মধ্যে ব্যাথা করে। আল্লাহ.. এইদিন মরণের দরজা থেকে ফিরিয়ে এনেছে। আর কতদিন? এইবার ডাক পড়েছে আমার।'

কিছুক্ষণ বাদেই ঝিলমিল ঘরে ঢুকল। বাড়ির পরিস্থিতি দেখে একদম অবাক, মাথায় হাত! রোদ্দুরকে দেখল এক কোণায় মুখ কালো করে বসে আছে। বসার ঘরে ইমাম সাহেবকে দেখল বাবা এবং চাচাদের সাথে বসে আলাপ আলোচনা করছে। বাড়ির বাকিরাও আছে, যে যার মত। কিন্তু সবাই ব্যস্ত হয়ে এ ঘর থেকে ওই ঘরে দৌড়াচ্ছে।

রোদ্দুর ঝিলমিলকে চোখের ইশারায় কিছু বলতে বলল। তৎক্ষণাৎ বড় চাচি তা দেখে ফেললেন এবং বললেন, 'এই তোরা চোখে চোখে কি বলছিস? কোনো পিরিতের আলাপ এখন চলবে না। এই তোমরা সবাই কোথায় আছো? বউ এসে গেছে, বউ এসে গেছে......!'

বাকিরাও চিপাচাপা থেকে বেড়িয়ে এসে চেঁচামেচি শুরু করে দিল, 'বউ এসে গেছে, বউ এসে গেছে!'

.

বিজ্ঞাপন
ঝিলমিল রোদ্দুরে গল্পটি আফিয়া আফরিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও রহস্যময় গল্প