ঝিলমিল রোদ্দুরে

পর্ব - ১১

🟢

আনোয়ার ইসলাম সরকার অর্থাৎ রোদ্দুরের দাদা এককালে এই এলাকার বেশ প্রতাপশালী একজন মানুষ ছিলেন। এলাকার উন্নয়নে চেয়ারম্যানের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভালো রকমের উন্নতি করেছিলেন। সেখান থেকেই এই এলাকার মানুষজন তার পুরো পরিবারকেই চেনে। ওনার খুব ইচ্ছে ছিল, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সরাসরি চেয়ারম্যান হয়ে মানুষজনের মুশকিল আসান করবে। তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ার কারণে তা আর পূরণ হয় নাই। বাবার এই আগ্রহের দিকটা ফজলুল সরকার এইবার বাস্তবে রূপ দিলেন। নির্বাচনে দাঁড়িয়ে পড়লেন। অপরপক্ষ ক্ষ্যাপল প্রচন্ড, কারণ সরকারদের টেক্কা দেওয়া কঠিন বিষয়।

এইবার ফজলুল সরকারের প্রতিদ্বন্ধে রয়েছে ওসমান খন্দকার। এনাদের সাথে অনেক আগে থেকেই পারিবারিক বিরোধ রয়েছে নানান বিষয়ে। কখনো নিজেদের জায়গা জমি নিয়ে আবার কখনো ব্যবসা-বাণিজ্য নয়। আর এইবার সেই বিরোধ রাজনীতি এসে ষোলোকলা পূর্ণ করে দিল। মনোয়ার সরকার অবশ্য অনেকবার বড় ভাইজানকে বলেছেন, এইবার নির্বাচনে না দাঁড়াতে। এমনিতেই আশেপাশে শত্রুর অভাব নেই, অযথা আরও শত্রু বাড়িয়েও কাজ নেই। কিন্তু তিনি তা মানেন নাই। কার না কার ভয়ে, ঘরের মধ্যে লেজ গুটিয়ে বসে থাকবেন নাকি! ঘরের ছাদ'ও তো যেকোনো সময় মাথার উপর ভেঙে পড়তে পারে।

প্রায়ই সময় পাড়ার মোড়ে বারেক মামার চায়ের দোকানে বসে থাকতে দেখা যায়। আজ সকাল থেকে বেশ কয়েকবার একজন অচেনা লোককে তার খোঁজ করতে দেখা গেছে। ওই লোকটাকে এই এলাকার মানুষ আগে কখনো দেখে নাই বলেই, সকলে জানাল। মনোয়ার সরকার সেরকম কিছু মনে করতে পারলেন না। কন্ট্র্যাকের কাজের জন্য অনেকেই তার খোঁজ করে, কিন্তু তারা তো সরাসরি বাড়িতে যায় অথবা নিজের পরিচয় দেয়। এই অজ্ঞাত লোকটা নাকি নিজের নামটাও জানায় নাই। তার সাথে তো কারো দেখা করতে আসার কথা ছিল না, তাই তিনি বিষয়টা পাত্তা দিলেন না। তিনি চায়ের দোকানে বলে রাখলেন, 'এরপর যদি উনি আমার খোঁজ করতে আসে, তাহলে তাকে সরাসরি বাড়িতে পাঠিয়ে দিবে।'

'আচ্ছা ভাই।'

বাড়ি ফেরার পথে ওসমান খন্দকারের সাথে লাইব্রেরীর বা'পাশের রাস্তায় দেখা হয়ে গেল। লোকটাকে অনেক আগে থেকেই একইরকম দেখে আসছে। একটুখানিও বদলায় নাই। চেহারায় কেমন সন্দেহজনক একটা ভাব আছে। দেখলেই মনে হবে, এই ব্যাটা নিশ্চয়ই মনে মনে কোনো ছক কষছে।

মনোয়ার সরকারকে দেখেই কেমন অদ্ভুত হাসলেন! ঠোঁটের হাসির রেখা বিস্তৃত করে বললেন, 'আরে ছোটো সাহেব ভালো আছো? শরীর ভালো তো? বাড়ির খোঁজখবর কি? আমার খালাম্মা ভালো আছেন? ডাক্তার সাবের কাছ থেকে শুনলাম বিগত কিছুদিন আগে তার শরীরটা নাকি খারাপ ছিল।'

'আপনাদের দোয়ায় আম্মা'সহ সবাই আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছে। আপনারা ভালো আছেন তো?'

উনি মুখে উত্তর না দিয়ে উপর নিচ মাথা ঝাঁকিয়ে হাসলেন। পান খেয়ে লাল করে ফেলা ঠোঁট আর দাঁতের সেই হাসিটা র'ক্তচো'ষার মতই ঠেকল মনোয়ার সরকারের কাছে!

.

গতকাল রায়হানের গায়ে হলুদে একমাত্র রোদ্দুর অনুপস্থিত ছিল। আজ বিয়েতে উপস্থিত থাকবে কিনা সেটা নিয়েও সন্দেহ! রায়হান কাল রাতে ফোন করে বহুত রাগারাগি করেছে। রোদ্দুর নির্বিকার ভঙ্গিতে বলেছে, 'ভাই আমি এসব গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে গিয়ে কি করব বল? আমার কাজ কি?'

'তুই শুধু নিজেরটাই দেখলি? আমি যে কতবার করে তোকে অনুরোধ করলাম, তার বেলায় কিছু না? হাসান, রাজ ওরা সবাই ছিল। মা বারবার তোর কথা জিজ্ঞেস করছিলেন।'

'আচ্ছা আচ্ছা, আমি কাল চলে আসব।'

'ভাই তোকে আমার বিশ্বাস হয় না। শোন, জীবনে কত ঘটনা ঘটে যায়। তুই মনে হয় এই বিষয়টাকে অনেক বড় করে নিয়েছিস। বিয়েশাদী সব'ই আল্লাহর হাতে। নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে তো ধরা খাবি'ই। যা হয়ে গেছে, সেটা ভুলে যা। আই থিঙ্ক সানিয়া তোকে তার মনের ধারে কাছেও রাখে। সো, ফরগেট এভরিথিং।' খানিকটা ধমকের সুরে'ই কথাটা বলেছিল রায়হান।

রোদ্দুরের মনে তখন সানিয়া যতটা না প্রভাব ফেলছিল, তারচেয়েও বেশি প্রভাব ফেলছিল বাড়ির বিষয়টা। ওটা কোনোভাবেই মাথা থেকে নামাতে পারছে না।

দাদির কাছে কিছুদিন যাবত ফোন দিচ্ছিল, কিন্তু তিনি কিছুতেই ফোন রিসিভ করছে না। আর সানিয়া? সে যেমন রোদ্দুরকে মনে ধারেকাছেও রাখে নাই, রোদ্দুর'ও ওকে পুরোপুরি ভুলে যাওয়ার চেষ্টায় আছে। হোক না দীর্ঘদিনের প্রেম, তাতে কী? মানুষের তো বছর বছর গড়ে তোলা ভালোবাসাও এক নিমিষেই ভেঙে যায়!

সকাল সকাল হাসান এসে হাজির হলো। রায়হান তাকে পাঠিয়েছে। বিয়ের ব্যস্ততার কারণে নিজের আসা তো আর সম্ভব হচ্ছে না, তাই বন্ধুকেই পাঠিয়ে দিয়েছে।

হাসান এসেই তাড়াহুড়ো শুরু করে দিয়েছে। রোদ্দুর ওকে বলল, 'ভাই! বিয়ে কখন? তুই এত তাড়াহুড়ো করিস কেন? সবকিছুতেই এমন করিস।'

'আরে ভাই! তুই আমার দুঃখ কী বুঝবি? ওর যে শালী গুলো আছে, সব তো মিস হয়ে যাবে। আমি তো ভেবে রেখেছি আজ ভাবীর বান্ধবী পটিয়ে নিজের দিকটাও ক্লিয়ার করে নিব। বন্ধু-বান্ধব সবার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। আমি সিঙ্গেল থাকলে কেমন দেখায় না! ইজ্জতের ব্যপার ভাই।'

রোদ্দুর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল, কপাল চাপড়াল। এই ছেলে দু'দিন পর পর একটাকে পছন্দ করে বসে থাকে। এই কারণেই ওর কপালে আজ পর্যন্ত ঠিকঠাক প্রেম জুটল না। হাসানের কথা চিন্তাভাবনা করেই রোদ্দুর দ্রুত রেডি হয়ে নিল। আয়নার সামনে চুলগুলো ঠিক করতে নিতেই হাসান ফের দৌড়ে এলো। তাড়া দিয়ে বলল, 'আয়নায় এত নিজের চেহারা দেখতে হবে কেন? প্রেমে পড়ছিস নাকি? তুই এমনিতেই সুন্দর, আর দেখতে হবে না।'

রোদ্দুর বিরক্ত হয়ে বলল, 'আমি বাচ্চা পোলাপান না যে প্রেমে পড়লে সারাক্ষণ আয়নার সামনে ঘুরঘুর করব আর নিজের চেহারা দেখব। যথেষ্ট বড় হয়েছি, এসব আবেগের বয়স নাই।'

'বড় হয়েছিস, বুড়ো হয়ে যাস নাই। আবেগ মানুষের চিরকাল থাকে। কারোরটা বেশি, করোরটা কম। তোর নাই বললেই চলে। নিরামিষ পার্সন!'

রোদ্দুর কথা বাড়াল না। সত্যি কথার পিঠে তর্ক করতে হয় না। হাসানকে নিয়ে সোজা রায়হানের ওখানে রওনা হলো। পৌঁছেও গেল কিছুক্ষণের মধ্যে। বাড়িঘর সুন্দর করে ফুলে ফুলে সাজানো। নতুন বউকে বরণ করার জন্য যা যা করা দরকার সবটাই করা হয়েছে।

ওরা নতুন বছর শুরু হওয়া উপলক্ষে ব্যাচেলর পার্টি করতে চেয়েছিল। আদিয়াত তো প্রথমেই বাদ, এখন বাদ পড়ল রায়হান। সৌভিক লিস্ট করল, এরপর কে কে বাদ পড়তে পারে। হাসান নিজের নামটা দেখে চেঁচিয়ে উঠল। সৌভিক বলল, 'তোর কপালে বিয়ে নাই ‌সেটা আমাদের ভালো করেই জানা আছে। তাই তোর নাম লিখে কলমের কালি নষ্ট করলাম না।'

'আন্ডারস্টিমেট করছিস তো? ঠিক আছে কর, মেনে নিচ্ছি। তবে আজকের পর থেকে বিন্দু পরিমান খোঁচা দেওয়ার সুযোগ পাবি না। আজ আমি ফাইনালি আমার জীবন থেকে ২৬ বছর পার হয়ে যাওয়ার পর সিঙ্গেল থেকে মিঙ্গেল হতে চলেছি। দোস্ত, তোদের জন্য খুব শীঘ্রই আমি ভাবি আনতে চলেছি। প্লিজ, আমার এই ডিসিশনটাকে তোরা সবাই উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানা।' আপ্লুত হয়ে বলল হাসান।

বিজ্ঞাপন

রোদ্দুর আর সৌভিক দু'জনেই ওর পিঠে ধুপধাপ কয়েকটা কিল বসিয়ে দিল। এরপর সবাই মিলে রওনা হলো।

হাসানের কথা সত্য। বিয়ে বাড়িতে সুন্দরীদের অভাব নেই। যেদিকে চোখ পড়ে সেদিকেই সুন্দরী ললনাদের সমাহার!

বরকে নিজের আসনে গিয়ে বসাতেই বন্ধুরা আলাদা আলাদা হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ল। সৌভিক হাসানকে বলল, 'তোর মিশন কখন শুরু করবি?'

'করব করব। তার আগে আরেকটা আরেকটা বিষয় আমাদের বাবা উচিত না?'

'কী?'

'ওইতো রোদ্দুরকে দেখ, সানিয়ার সাথে সম্পর্কটা নষ্ট হওয়ার পর থেকে ওর ভাবভঙ্গি অনেক পাল্টে গেছে। সবসময় অন্যমনস্ক থাকে। ও আসলে একাকিত্বে ভুগছে। ওকে এই একাকীত্ব থেকে বের করে আনতে হবে।'

'কীভাবে?'

'চল ওর সাথে কারো প্রেমের ব্যবস্থা করে দিই। শালা ছ্যাঁকা একটা খাইয়া পুরা দেবদাসের ভাব ধরছে। ওকে দেবদাস থেকে রোমিও বানিয়ে জুলিয়েটের গলায় ঝোলাতে হবে।'

'কিন্তু ও কি আদৌ প্রেম করবে? আমার তো মনে হয় না। শালার চেহারা দেখ। ভাই তুই একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে আসছিস, কোথায় হাসিখুশি থাকবি, মজা করবি, আনন্দ-উল্লাস করবি। তা না করে মুখটা বাংলার পাচের মত করে দাঁড়িয়ে আছে। দেখে মনে হচ্ছে, কেউ জোর করে ওকে নিমপাতার রস খাইয়ে দিয়েছে।' সৌভিক মুখ ঝামটা দিয়ে বলল।

রোদ্দুরের এসব হৈ-হুল্লোড় ভালো লাগছে না। সে আশেপাশে তাকিয়ে নিরিবিলি পরিবেশ খোঁজার চেষ্টা করছিল। কিন্তু যেহেতু বিয়ে বাড়ি তাই সবখানেই বাচ্চাদের হৈচৈ, মেয়েদের চেঁচামেচি সবমিলিয়ে রুদ্ধশ্বাস পরিবেশ। অনুষ্ঠান শেষ না হতে চলেও আসতে পারবে না। ওইদিকে বাকিরা সবাই নিজেদের মত আনন্দ করতেছে।

রোদ্দুর এক কোণায় চেয়ারে মানুষের দৃষ্টির আড়ালে গিয়ে বসল। যেহেতু এখন বিয়ে পড়ানো হচ্ছে, তাই কেউ নাই আশেপাশে। নিজের মত করে ফেসবুক স্ক্রল করছিল। বেশ অনেকক্ষণ বাদে একটা মেয়ে এসে বলল, 'আচ্ছা ভাইয়া আপনি এখানে একা বসে আছেন কেনো?'

রোদ্দুর পাশ ফিরে তাকাল। মাঝখানে সিঁথি করে দু'পাশে বেনী করা বাচ্চা একটা মেয়ে। ঠিক বাচ্চাও না, ইন্টারমিডিয়েটে পড়ে হয়ত! যাইহোক, রোদ্দুরের তুলনায় বেশ বাচ্চা।

রোদ্দুর অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে বলল, 'একা.... না মানে একা ছিলাম না তো। আমার বন্ধুরা আমার সাথে ছিল, ওরা একটু অনুষ্ঠানের ওখানে গেছে।'

'ও আচ্ছা। আপনিও যান‌। ওখানে একা একা বসে কি করছেন?'

রোদ্দুর জবাব দিল, 'তেমন কিছু করছি না আমার অনেক কিছুই করছি।'

'আচ্ছা আপনার নাম কি?'

রোদ্দুর এইবার নড়েচড়ে বসল। বলল, 'আমার নাম শুনে আপনি কি করবেন? আপনি কি আমাকে চেনেন?'

মেয়েটি এইবার হেসে বলল, 'না চিনলে কি নাম শোনা যাবে না? আপনার বন্ধুরা আপনাকে কি বলেছে জানেন?'

'কী বলেছে?'

'বলেছে আপনি মানে আপনার কথাবার্তা নাকি মুরুব্বী টাইপের। আপনার সাথে আমি যদি ১০ মিনিট ঠিকঠাক মত কথা বলতে পারি তবে বরের আই মিন আমার দুলাভাইয়ের জুতো চুরির ক্ষেত্রে তারা কোন বাঁধা দেবে না, ঝামেলা করবে না। কিন্তু আপনার সাথে দুই মিনিট কথা বলতেই আমার কথা বলার মুড নষ্ট হয়ে গেছে। আর পারছি না। হার মেনে নিলাম, আত্মসমর্পণ করলাম। মশাই এইভাবে বসে না থেকে আপনার বন্ধুদের কাছে যান, গিয়ে দেখেন ওরা কি করছে। আপনার বউয়ের কপাল মন্দ হবে বোঝা যাচ্ছে।'

'কেনো মন্দ হবে?'

'এইতো আপনার কারণেই। আপনার কথা বার্তায় রস কষ নেই তো। কেমন জানি আলগার থেকে কথা বললেন। যেমন আমি আপনাকে নাম জিজ্ঞেস করলাম, আপনি তো পারতেন আপনার নামটা আমাকে সুন্দর করে বলে আবার আমার নামটা জিজ্ঞেস করতে। কিন্তু আপনি তা করলেন না। এমন একটা কথা বললেন যে, আপনার সাথে কথা বলার মুডটাই নষ্ট হয়ে গেল। যাইহোক, আমি আবার আপনার মত এত নাক উঁচু ধরণের মানুষ না। আমার নাম মিলা, কনের ছোটো বোন আমি।' গড়গড় করে কতকগুলো কথা বলে থামল মেয়েটা।

রোদ্দুর বলল, 'আচ্ছা আমার বন্ধুরা কোথায় বলতে পারেন?'

মিলা নামের মেয়েটা বা'দিকে হাত দিয়ে ইশারা করল। রোদ্দুর সেই অনুযায়ী তাকাল। রোদ্দুরকে এইদিকে তাকাতেই সৌভিক আর হাসান উল্টোদিকে দৌড় দিল। হাসান দ্রুত বলল, 'আরে মামা পালা। ফাইসা গেছি রে। ওরে বললাম রোদ্দুরকে আমাদের কথা বলো না, তাও বলেই দিল। শালার দুই দিনের দুনিয়ায় কাউরে বিশ্বাস করতে পারতেছি না।'

'এইসব বাদ দে। রোদ্দুরের কথা শুনলি তুই? এরপর আর অন্তত বলিস না, প্রেম করার জন্য ওকে কাউকে খুঁজে দিবি। ওর আর প্রেম পিরিতি কিছুই হবে না। মিশন আনসাকসেসফুল।'

.

বিজ্ঞাপন
ঝিলমিল রোদ্দুরে গল্পটি আফিয়া আফরিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও রহস্যময় গল্প