আজ শুক্রবার। অন্যান্য দিনের চাইতে একটু আলাদা, তবে রোদ্দুরের জীবনে আজকের দিনটা পুরোপুরি আলাদা। জীবনের সবচেয়ে বড় একটা সিদ্ধান্ত আজকের দিনে পরিপূর্ণ হতে যাচ্ছে। রোদ্দুর তার জীবনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছে, তাই ভালো খারাপ কিছুই তার মাথায় খেলছে না। এখন একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে, যে করেই হোক সানিয়াকে তার'ই পেতে হবে। ঠিক বাচ্চাদের আজগুবি জেদের মত হয়েছে তার ধারণা!
নামাযের পর সে বন্ধুদের নিয়ে কাজী অফিসে চলে এলো। সানিয়া তখনও আসে নাই। রোদ্দুর ওকে ফোন করল অনেকবার, কিন্তু ফোন বন্ধ দেখাচ্ছে বারবার। হন্যে হয়ে অপেক্ষা করতে লাগল। বন্ধুরা অধৈর্য হয়ে পড়ল। হাসান বলল, 'তুই কি সানিয়াকে ফোন করেছিস?'
রোদ্দুর কথা বলল না। সানিয়া যে আর আসবে না, এটা সে এতক্ষণে বুঝে গেছে। ওর নীরবতা লক্ষ্য করে আরেকজন বলল, 'সানিয়া কি আজকের শুক্রবার'ই ভেবেছে নাকি...'
রোদ্দুর তাকে পুরো কথা শেষ করতে দিল না। বেশ শান্তভাবেই বন্ধুদের উদ্দেশ্য বলল, 'যে যার মত বাড়ি ফিরে যা। এখানে আর তোদের কোনো কাজ নেই।' মাত্র এইটুকু কথা সে বলল। কাউকে কিছু বলারও সুযোগ দিল না। সবাইকে পেছনে ফেলে নিজেই এগিয়ে গেল নিজের গন্তব্যে।
মনের ভেতরকার অসহনীয় অনুভূতি থেকে রোদ্দুরের কপালের দু'পাশের শিরা দপদপ করছিল। সব ঠিকঠাক ছিল কিন্তু শেষে সানিয়া এই খেলা খেলল? যে মানুষটা তার না, কোনোদিন হয়ত ছিল'ই না, এতদিনের ভালোবাসাও যেখানে মিথ্যে, যার কাছে সব ছেলেখেলা, তাকে পাওয়ার জন্য নিজের সাথে যুদ্ধ করে এতকিছু করে ফেলল! আর সে, সামান্য দয়া-মায়াটুকু নেই।
গতকাল রাতেই তানভীরের একটা এসএমএস এসেছিল রোদ্দুরের কাছে। সেখানে লেখা ছিল— "আগামীকালের জন্য শুভকামনা! আনন্দে পরিপূর্ণ জীবন খুব শীঘ্রই হতাশায় পাল্টে যাবে। আমি বলছি, একশত ভাগ নিশ্চিত হয়ে। আমি যা একবার নিজের করে পেতে চাই, তা যেকোনো কিছুর বিনিময়ে নিজে অর্জন করে নিই। যাইহোক, অবশ্যই তোমার জীবনের জন্য আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন রয়েছে। ভালো থেকো।"
রোদ্দুর এই এসএমএস'টার অর্থ বোঝার চেষ্টা করে নাই তখন। কিন্তু এখন হলফ করেই বুঝে গেল। কী আশ্চর্য! সানিয়ার মনে যখন এই ছিল, তখন সে সরাসরি বলল না কেনো? রোদ্দুর কখনোই তাকে জোর করে ধরে রাখতে চাইতো না। বন্ধুদের বিষয় বাদ যাক কিন্তু নিজের কাছে আজ যে অপমানিত হলো সে, সচিব অপমানের জবাব তো সানিয়াকে দিতেই হবে।
রোদ্দুর ওখান থেকে ফিরে নিজের ফোন বন্ধ করে রেখেছিল। কোনো প্রয়োজনে ফোনের আশেপাশেও ঘেঁষে নাই। আজকের দিনটার কথা ভাবতেই মন-মেজাজের তারতাম্য ঘটছিল। সানিয়া আসে নাই— এই বিষয়টা তার জন্য যতটুকু না কষ্টের তারচেয়েও বেশি কষ্টের হচ্ছে— তানভীরের কাছে এইভাবে হেরে যাওয়াটা। নিজের মনেই সে অবাক হয়ে ভাবতে লাগল, তবে কি সত্যিকার অর্থে সানিয়াকে সে ভালোবাসে নাই? সানিয়ার দিক থেকেও কি একইরকম কাহিনী? শুধুমাত্র নিজের জেদের কাছে জিতে যাওয়ার জন্য রোদ্দুরের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া?
এইমাত্র রোদ্দুরের মাথায় খেলল, সে একটা হারা খেলা এতদিন টেনে নিয়ে এই পর্যন্ত গড়িয়েছে। এতকিছু তো হওয়ার কথা ছিল না। আগে বুঝলে বিষয়টা এক চুটকিতেই মিটিয়ে ফেলা যেত।
তবে এতকিছুর মাঝেও মন টিকছে না। সানিয়াকে ডেকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করল, এসব নাটকের মানে কি?
.
কাজী অফিস থেকে বন্ধুরা সবাই নিজেদের বাড়ি ফিরে গিয়েছিল। রোদ্দুরকে ফোনে অনেকবার ট্রাই করেছিল, কিন্তু তখন তার ফোন বন্ধ। বাড়ি আসার চিন্তা-ভাবনাও করেছিল, তারপর আবার কি মনে করে এলো না। যে যতই ব্যস্ত থাকুক না কেনো, শুক্রবার সন্ধ্যায় বন্ধুরা তাদের নির্দিষ্ট স্থানে এসে হাজির হবেই হবে। মাস্ট, আজ আড্ডা তাদের দিতেই হবে। স্থানীয় টি স্টলের পা তাদের খেতেই হবে। সবাই সময়মত চলে এসেছিল, রোদ্দুরকে পাওয়া গেল না। ফোন করেও তার হদিস মিলল না।
আবীর বলল, 'রোদ্দুরের কাহিনী আমি কিছুই বুঝলাম না। বিয়ে করার জন্য নিজেই খুব লাফালাফি করল। সবকিছু তো ঠিকঠাক'ই ছিল। তবে মত চেঞ্জ করল কেন?'
হাসান গভীর ভাবে কিছু একটা ভেবে বলল, 'যদিও আমি ব্যাপারটা জানি না তবুও ধারণা করতে পারি। নিশ্চয়ই সানিয়া গন্ডগোল বাঁধিয়েছে। এই মেয়ে তো তালের পাগল ভাই। রোদ্দুরকে এত বুঝিয়েছি, কিন্তু ও বুঝল না। পরে অবশ্য আর কিছু বলি নাই এই নিয়ে, কারণ যদি আবার ভাবে ওর গার্লফ্রেন্ড সম্পর্কে ওকে উল্টাপাল্টা কথা বলছি। আরে ভাই, ওই মেয়েটাকে আমি তানভীরের সাথে যতবার দেখেছি ততবার তো রোদ্দুরের সাথেও কখনো দেখি নাই।'
'আমাদের উচিত এই সময়টায় রোদ্দুরকে বোঝানো। যে গেছে, তাকে যেতে দেওয়াই ভালো। আশা করি, এইবার সে বুঝবে; এতদিন দুধকলা দিয়ে কালসাপ পুষেছে। উঠ সবাই, ওর সাথে দেখা করে আসি। আমরা সবাই মিলে গেলে নিশ্চয়ই আমাদের তাড়িয়ে দিবে না।'
সবাই উঠল। রোদ্দুরের বাড়ির দিকে রওনা হলো। কিন্তু রোদ্দুরকে ওর বাড়িতে পাওয়া গেল না। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল ওখানেই। সৌভিক আশেপাশে তাকিয়ে দেখছিল, তার সেই সেদিনের ক্রাশকে দেখা যায় কিনা! কিন্তু দেখতে পেল না। মনে মনে হতাশ হলো। ওরা সিদ্ধান্ত নিল আরোও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবে। তাই যে যার মত সিঁড়িতে বসে পড়ল। যখন'ই হোক না কেন রোদ্দুর ফিরবে তো!
ওইদিকে বাসায় বসে থেকে ভালো লাগছিল না রোদ্দুরের। বের হওয়ার ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে দেখল সেখানে কেউ নেই। ফোনটাও সাথে আনে নাই যে ফোন করে খোঁজখবর নিবে। অবশেষে সে ক্লান্ত পথিক হয়ে একলা একলাই অনেকক্ষণ পথচারণ করল। হাঁটতে হাঁটতে মিরপুরের এইদিকে চলে এলো। আবার হেঁটেই নিজেই গন্তব্যে ফিরল। তখন রাত বাজে দশটা। আরও কিছুক্ষণ বাহিরে কাটানোর প্রয়াস চালিয়ে গেল কারণ ঘরে ঢোকা মাত্রই যেনো ঘুম এসে যায়। এই ক্লান্ত শরীরে আর রাত জেগে মনের কষ্ট বাড়াতে চায় না।
রোদ্দুর যখন ফিরবে তখন সাড়ে এগারোটা। এখনও চারিপাশ আলোয় আলোকিত। সে লিফটে নিজের ফ্লোরে আসতেই সিঁড়িতে চোখ পড়ল। বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গাধা গুলোর দিকে তাকিয়ে রইল। এগিয়ে এসে সকলের উদ্দেশ্যে বিশ্বাস করল, 'তোরা সবাই এই সবাই এখানে? তাও আবার এই অবস্থায়?'
সৌভিক ধরফর করে উঠে বসল। এতক্ষণ রাজের গায়ের সাথে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করতে করতে প্রায় ঘুমিয়েই পড়েছিল। রোদ্দুরের কথা শুনে বলল, 'সকাল হয়ে গেছে? মাত্রই না ঘুমালাম।'
রোদ্দুর'ও ওদের পাশে বসে পড়ল। হাসান সৌভিকের উদ্দেশ্য বলল, 'শালা টাল! নিশ্চয়ই এতক্ষণ ঘুমের মধ্যে লাল পানি খেয়েছে। তার ইফেক্ট বাস্তবে পড়ছে।'
রোদ্দুর পুনরায় প্রশ্ন করল, 'কিন্তু তোরা এখানে কেন?'
'দোস্ত সেই সন্ধ্যা থেকে তোমার অপেক্ষা করছি। এখন ঘুম ধরেছে। তুই যেয়ে দরজা খোল। এখন আর বাড়ি ফিরে যাওয়ার শক্তি নেই। শালা কই মরছিলি?'
'এখানেই ছিলি তোরা সব? মানুষজন চোর মনে করে দৌড়ানি দেয় নাই?'
'আমাদের কোয়ালিটি এতটাও খারাপ না যে আমাদের দেখে চোর মনে হবে। বর্তমানে তোকে দেখে কি মনে হচ্ছে জানিস?'
'কি?' রোদ্দুর চোখ ছোট ছোট করে তাকায়।
'তোকে দেখে মনে হচ্ছে পাক্কা ছ্যাঁকা খোর।' এটুকু বলেই হাসান অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। হাসি তো ছোঁয়াচে রোগ। ওর দেখাদেখি বাকিরা হেসে উঠল। হঠাৎ হাসি থাকলে আদিয়াত জিজ্ঞেস করল, 'তোরা হাসছিস কি জন্য?'
'তুই যে কারণে হাসছিস। হেহেহ।'
'আমি কেন হাসছি?' আদিয়াত বোকার মত প্রশ্ন করল।
এইবার রোদ্দুরকে ছেড়ে অট্টহাসি শুরু হলো আদিয়াতকে নিয়ে। রোদ্দুর ওদের মাঝ থেকে উঠে দাঁড়াল। এরা সবগুলো চিরিয়া। কখন কি করে নিজেরাও জানে না। রাতটা সবাই ওখানে থাকার বন্দোবস্ত করল। কারো আর এত রাতে ঠান্ডার মধ্যে বাড়ি ফিরে যাওয়ার ইচ্ছে নেই। একটা মাত্র ঘরে এতগুলো মানুষ যে কীভাবে চাপাচাপি করে ছিল, সেটা ভাবলেও হাসি পায়।
.
ঝিলমিল চেয়েছিল এই সময় বন্ধু-বান্ধবদের সাথে কোথাও ঘুরতে যাবে। সবাই সেই পরিকল্পনাই করছিল। ঝিলমিল'ও বহুত খুশি। আগে কখনও সেইভাবে বাহিরে যাওয়ার অনুমতি পায় নাই ছোটো ছিল বলে। এখন যথেষ্ট বড় হয়েছে, এখন নিশ্চয়ই বাড়ি থেকে আর বাঁধা দিবে না। খুশিমনেই ক্লাস শেষ করে বাড়ি ফিরছিল। বাড়ি এসে মাকে কথাটা বলতেই তিনি বললেন, 'আমি জানি না কিছু। তোর বাবার কাছে গিয়ে বল।'
ঝিলমিল বাবাকে গিয়ে বলতেই তিনি তৎক্ষণাৎ নাকোচ করে দিলেন। একা একা মেয়েকে ছাড়তে নারাজ।
ঝিলমিল অনুরধের সুরে বলল, 'প্লিজ বাবা। আমি তো একা একা যাচ্ছি না। আমার বন্ধুরা সকলেই আছে। এমনকি শিউলিও থাকবে।'
'না মা। সম্ভব নয়। যাও দেখি, আমার কাজ আছে।'
ঝিলমিল তবুও নানাভাবে বায়না করতে লাগল। মা-বাবা এমনকি বাড়ির অন্যকেউ'ও রাজি হলো না। দাদিকে গিয়ে সকলের নামে নালিশ করল। দাদি হেসে বললেন, 'বিয়ের পর বরের সাথে ঘুরতে যাবি। এখন বাড়িতেই থাক দাদু।'
'তো দিয়ে দাও আমার বিয়ে। আমি আমার বরের সাথে সারা দুনিয়া ঘুরে বেড়াব। বসিয়ে রেখেছ কেনো আমাকে? তোমার ছেলের বউ আমায় আগে বলত, এখন তুই ছোটো যখন বড় হবি তখন ইচ্ছেমত ঘুরবি। আর এখন যখন আমি বড় হলাম তখন বলে, বড় মানুষের আবার কীসের বাচ্চাদের মত আহ্লাদ। তোমরা বলো, আমি এখন কি করব?' ঝিলমিল চেঁচামেচি করতে লাগল।
রেহানা খাতুন ওকে থামিয়ে দিয়ে বলল, 'আচ্ছা, তাহলে পাত্র দেখব?'
'শুধু দেখবা কেনো? দেখার সাথে সাথে আমার বিয়েটাও দিয়ে দাও। আমি থাকব না তোমাদের এই বাড়িতে। তোমরা সবাই স্বার্থপর, পাষন্ড, নিষ্ঠুর।' ও রাগে গজগজ করতে করতে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল। দক্ষিণের বারান্দায় আসতেই রিমঝিমের সাথে দেখা হয়ে গেল। রিমঝিমকে জিজ্ঞেস করল, 'তুই কি এই বাড়িতে খুব শান্তিতে আছিস?'
'হ্যাঁ আছিই তো।'
'কেনো আছিস? আমি শান্তিতে নেই তুই কেনো একা শান্তিতে থাকবি?'
'ওমা! তোমার কি হয়েছে আপু? এরকম রেগে আছো কার উপর? কে কি বলেছে তোমাকে? ঘুরতে যাওয়ার অনুমতি দেয় নাই?'
'না।'
রিমঝিম মন খারাপ করে বলল, 'ওহ। এইদিক দিয়ে আমিও অবশ্য একটু অশান্তিতে আছি। ভাইয়ার কী শান্তি! ও সবকিছু করতে পারছে। আমরা কিছুই করতে পারছি না। থাক, মন খারাপ করো না।'
ঝিলমিল সিদ্ধান্ত নিল, বাড়ির কারো সাথেই সে আর কথা বলবে না। দু'চোখ পৃথিবীর যে প্রান্তে যায় সেখানেই চলে যাবে। কিন্তু কোথায় যাবে এই কনকনে শীতের মধ্যে? ইশশশ, তার যে কেনো পার্মানেন্ট কোনো থাকার জায়গা নেই!
.
রোদ্দুর সবাইকে ডেকে তুলল। রাতে কারোর'ই ঘুম ভালো মত হয় নাই। রোদ্দুর সকালে ফোন ওপেন করেছিল। তার অবোধ মন হয়ত ভেবে নিয়েছিল, সানিয়ার একটা ফোনকল বা এসএমএস আসবে। কিন্তু পুনরায় তাকে আশাহত হতে হলো। কললিস্ট ঘেঁটে দেখল ছোট চাচ্চু, আর মা-বাবা ফোন করেছিল। তাদের সাথে কথা বলে বন্ধুদের পাকড়াও করল।
জিজ্ঞেস করল, 'এখন বল, তোরা কীসের উদ্দেশ্য এসেছিস?'
আদিয়াত বলল, 'তোর বিয়ের ঘটকালি করতে চাচ্ছি। শোন, তোর যখন এতই বিবাহের শখ তবে আমার হাতে একটা বিবাহযোগ্যা পাত্রী আছে।'
'আমি বলেছি তোকে যে আমার বিয়ে করার শখ!'
'না না ওসব আমাদের বলতে হবে কেনো? আমরা বুঝি না নাকি! মানুষের একটা বয়স আছে, সে বয়স পার হয়ে গেলে বুড়ো বয়সে বিয়ে করে কোনো লাভ নাই। শোন, আমার বউয়ের একটা চাচাতো বোন আছে; দেখতে শুনতে ভালোই। তুই চাইলে....'
রোদ্দুর ওকে থামিয়ে দিয়ে বলল, 'বাদ দে, আমি আর বিয়েশাদী করব না।'
এরপর রোদ্দুর আর কোনো কথার বলার সুযোগ দিল না। কাজের দোহাই দিতেই একেকজন বেড়িয়ে গেল। আজ শনিবার, তার অফ ডে। আপাতত কোনো কাজকর্ম নাই। একা থাকতে ইচ্ছে করছিল, তাই সবাইকে বিদায় করে দিয়েছে। আবার একা থাকলেই ঘুরে ফিরে সেই সানিয়ার বিশ্বাসঘাতকতার কথা মনে পড়ছে। ভালোবাসার মত একটা অপার্থিব সুর তার ভেতরটাকে আটকে ধরেছে। ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে বুকের ভিতরে। একজন মানুষের জন্য সীমাহীন মায়া সবকিছু চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিচ্ছে। সেই ধ্বংসযজ্ঞে মিশে রয়েছে আর্তনাদের তীব্র ছোঁয়া।
নাহ, এভাবে ভালো থাকা যাবে না..... বেঁচে থাকা যাবে না। এই শহরে বারবার ওর কথা মনে পড়ে যাবে, ওর বিশ্বাসঘাতকতা বারংবার আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরবে।
.