ঝিলমিল রোদ্দুরে

পর্ব - ৫

🟢

রোদ্দুরের সাথে সেই রাতে সানিয়ার আর কোন কথা হলো না। সানিয়া অবশ্য বেশ কয়েকবার ফোন করেছিল, কিন্তু সে রিসিভ করে নাই। কাল সকালে অফিস আছে, তাই একটু তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিল।

সকাল সকাল তৈরি হয়ে নিজের কাজে রওনা দিল। সেই যে রাতে ফোন সাইলেন্ট করে রেখেছিল, তারপর আর একবারের জন্যও চেক করে নাই। বাড়ি থেকে হয়তো ফোন করেছে, সমস্যা নেই পরে কথা বলে নিবে।

প্রতিদিন অফিসের কাজ শেষে রোদ্দুরের বাড়ি ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। আজ'ও তাই হলো। নিচে নেমে সোজা বাইকে চেপে বাইক স্টার্ট দিতে যাবে ঠিক সেই মুহূর্তে দমকা হাওয়ার মত উড়ে এলো সানিয়া। রোদ্দুর কিছুটা অবাক হলেও কথা বলল না।

সানিয়া নিজে থেকেই বলল, 'কতদিন পর দেখলাম তোমাকে! কাল থেকে ফোন করে যাচ্ছি রিসিভ করছ না কেনো? তুমি জানো কত চিন্তায় আছি! কি হয়েছে তোমার? কাল দেখা করতে পারি নাই বলে রেগে আছো তাইনা? সো সরি, জান। একটা কাজে আটকে গিয়েছিলাম। আসলে আমার এক কাজিনের বার্থডে পার্টি ছিল। আমি এটেন্ড করেছিলাম ঠিকই, বাট পরে যখন আসতে চেয়েছি ওরা আমাকে আসতেই দিল না। আর আমি তো.....'

রোদ্দুর হাত উঁচিয়ে ওকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে নিজে বলল, 'এত কৈফিয়ত তোমার কাছ থেকে আমি চেয়েছি?'

সানিয়া মন খারাপ করা কণ্ঠে উত্তর দিল, 'না কিন্তু তুমি আমাকে এই কারণেই এভয়েড করছ, আই নো! সরি সরি, আর কখনো হবে না। কান ধরব বলো? কান ধরি, তবুও প্লিজ রাগ করে থেকো না। তুমি রাগ করে থাকলে আমার ভালো লাগে না।'

রোদ্দুর মিনিট দুয়েক চুপচাপ থেকে অনেককিছু চিন্তাভাবনা করে ফেলল। সবচেয়ে বড় কথা, তানভীর একটা বাজে ছেলে আর সানিয়াকে সে ট্র্যাপে ফেলতে চাইছে। এটা কিছুতেই হতে দেওয়া যায় না। যাইহোক, সানিয়াকে আগে সে নিজের করে নিয়েছে তারমানে সানিয়া শুধুমাত্র তার। মাঝখানে এই ফাউল ছেলেটা এসে গন্ডগোল বাঁধানোর চেষ্টা করলে তাকে তো কিছুতেই সফল হতে দেওয়া যাবে না।

রোদ্দুর সানিয়াকে বলল, 'আচ্ছা, বাইকে উঠো।'

সানিয়াও খুশি হয়ে ওর পেছনে বসে আলতো হাতে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল। বলল, 'আমরা কোথায় যাচ্ছি?'

'দেখি, কোথায় যাওয়া যায়!'

রোদ্দুর একটা আলো ঝলমলে রেস্টুরেন্টে এসে বাইক থামাল। সানিয়াকে নিয়ে বসার জন্য একটা নির্দিষ্ট জায়গা দখল করে নিল। খাবার অর্ডার করতে বলল তাকেই। রোদ্দুর চুপচাপ থেকে মাথার ভেতর ঝট পাকানো কথাগুলো সাজিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল।

সানিয়া জিজ্ঞেস করল, 'তুমি কবে এসেছ?'

রোদ্দুর ওর দিকে সরাসরি তাকিয়ে বলল, 'গতকাল না এলে তোমার সাথে বিকালে নিশ্চয়ই দেখা করতে চাইতাম না।'

সানিয়া মাথা নিচু করে বলল, 'ওহ হ্যাঁ তাই তো।'

'অনেক বেশি পুরাতন হয়ে গেলাম নাকি যে কোনোকিছুই আর মনে রাখার প্রয়োজন বোধ করছ না? গতকাল যে এসেছি, এটা আমি মুখে না বললেও তো আমার কথাবার্তায় তোমার বোঝার কথা ছিল।'

'সরি, আমার খেয়াল ছিল না।'

'ইট'স ওকে। বাট আমি তোমাকে এখন কিছু সিরিয়াস কথা বলব, যেসব তোমাকে মন দিয়ে শুনতে হবে এবং বুঝতে হবে। তারপর ভেবেচিন্তে আমাকে নিজের মতামত জানাবে।'

সানিয়া বলল, 'আচ্ছা বলো।'

'আমি চাই, এরইমধ্যে খুব দ্রুত আমরা বিয়েটা করে ফেলি। আমার ফ্যামিলির দিক থেকে কোনো আপত্তি থাকবে না আমি আশা করছি। এখন তুমি বলো, রাজি? কিংবা তোমার ফ্যামিলি রাজি?'

সানিয়া বিস্ময়ে হতবাক হয়ে বলল, 'বিয়ে?'

'হুঁ বিয়ে! অবাক হচ্ছো কেনো? আমরা প্রেমটা তো বিয়ের উদ্দেশ্যেই করছি, তাইনা?'

'না... মানে, এখন'ই বিয়ে? আমার তো পড়াশোনা শেষ হলো না। বিয়েশাদীর পর পড়াশোনা হবে না তো। আর... আর...'

'আর কি?' রোদ্দুর পাল্টা প্রশ্ন করল।

'বুঝতে পারছি না। আমার ক্যারিয়ারের কি হবে রোদ্দুর?'

'কেনো? বিয়ের পর তোমাকে তোমার পড়াশোনায় বাঁধা দেওয়ার জন্য কে থাকবে? আমার ফ্যামিলি থেকে কোনো বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তুমি তো থাকবে আমার সাথে, এখানেই। তাহলে সমস্যা কোথায়?'

সানিয়া চুপ। রোদ্দুর হঠাৎ বিয়ের কথা তুলবে কল্পানাও করে নাই। এই মুহূর্তে সমস্যা তৈরির কোনো উপায়'ও দেখছে না। রোদ্দুরকে বিয়ে করতে তার অসুবিধে নেই কারণ দু'জনেই দু'জনের কাছে কমিটেড। আর রোদ্দুর ছেলে হিসেবে ভালো, অন্তত তার জীবনে দেখা প্রত্যেকটা ছেলের থেকে বেস্ট। শুধু মাঝেসাঝে তানভীরকে নিয়ে একটু অনিশ্চয়তায় ভোগে, এই যা! কিন্তু সানিয়ার মনে সেসব মোটেও নেই। একদিকে তানভীর তার দুই ইয়ার সিনিয়র অন্যদিকে দুঃসম্পর্কের কাজিন— এর বেশি তানভীরকে সে ভাবে না।

রোদ্দুর ওর উত্তরের আশায় তাকিয়ে আছে। সানিয়া রোদ্দুরের হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল, 'আমি রাজি। তবে মা-বাবাকে রাজি করাতে হবে। আমি আজ'ই তাদের সাথে কথা বলব।'

রোদ্দুর সরু চাহনি নিক্ষেপ করে বলল, 'আর ইউ শিওর? ভেবে বলছ? যদি মনে করো, কোনো দ্বিধা রয়েছে তবে সময় নাও। আমার দু'দিনের মধ্যে কোনো তাড়াহুড়ো নেই। তুমি এই দু'টো দিন সময় নাও।'

বিজ্ঞাপন

'আমি যথেষ্ট ম্যাচিউর রোদ্দুর। যা বলেছি ভেবেচিন্তে বলেছি, মন থেকে বলেছি।'

এতক্ষণে রোদ্দুরের ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল। মনের মধ্যে ঝাপটে বসে থাকা মেঘলা আকাশে তৎক্ষণাৎ কয়েক'শ রঙের প্রজাপতি ডানা মেলল, উড়ে গেল। বাড়ি ফিরে এলো মনে আনন্দ নিয়ে। বাড়ি এসে মায়ের সাথে অনেকক্ষণ কথা বলল। আসলে মা-বাবাকে নিজের মুখে বিয়ের কথা বলতে কীরকম লাগে! রোদ্দুর অনেকবার চেষ্টা করেও বলতে পারল না। তারচেয়ে ভালো হতো, সেদিন ঝিলমিল যদি সানিয়ার কথাটা সবাইকে জানিয়ে দিত। কেন যে সে অযথা বারণ করতে গেল, কে জানে? কোনো উপায় না পেলে ছোট চাচ্চুকে দিয়ে ম্যানেজ করা যাবে, কোনো সমস্যা হবে না। রোদ্দুরের বিষয়টা ভাবতেই ভালো লাগছে। অবশেষে তানভীর নামক থার্ড পারসন তাদের জীবন থেকে চিরতরে বিদায় তো হবে, এটাই অনেক! বিয়ের পর তো নিশ্চয়ই সানিয়া যখন-তখন ওর সাথে, যেখানে খুশি সেখানে বেড়িয়ে যেতে পারবে না!

.

ঝিলমিলের চন্দ্র বিলাসের নেশা রয়েছে। প্রতি রাতেই খাওয়া দাওয়ার পর ছাদে উঠবে, একা একা কিছুক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকবে। এই সময়টা একান্তই তার নিজের জন্য! কেউ সাথে থাকবে না... কাউকে সে সাথে নিবে না। সারাদিনে যতই মাথা গরম করুক, চেঁচামেচি করুক; রাতেই এই সময়টায় সে একদম নিঃস্তব্ধ! এই সময়টা একান্ত তার এবং তার কল্পমানবের। ওই মানুষটাকে ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করে, জানতে ইচ্ছে করে কিন্তু নিরুপায় সে। ওই মানুষটা তো ধরাছোঁয়ার বাইরে তার কল্পনায় অবস্থান করছে। ঝিলমিল ঠিক করেছে, বিয়ের পর সে তার স্বামীর সাথে মোটেও চিৎকার চেঁচামেচি করে কথা বলবে না। সে হবে তার ভালোবাসা, তাকে তো মাথায় তুলে রাখতে হবে‌। বাবা নিজের কাজের ব্যস্ততার জন্য পাশাপাশি যৌথ পরিবার হওয়ার কারণে অনেক দূরে কোথাও ঘুরতে যেতে পারে নাই। সে কখনো সমুদ্রের বুকে নিজেকে উজাড় করে যেতে পারে নাই, পাহাড়ের কোলে হারিয়ে যেতে পারে নাই। ইচ্ছে আছে অনেক.... সব পূরণ করবে সেই কল্পমানবের হাত ধরে, তার কাঁধে মাথা রেখে!

ভাবনা চিন্তা শেষে শীতে কাঁপতে কাঁপতে নিচে নেমে এলো। দরজায় পা রাখতেই শুনতে পেল ফোন বাজতে‌। এগিয়ে যেতে যেতে ফোন কেটে গেল। ঝিলমিল দেখল রোদ্দুর তাকে ফোন করেছে। অবাক হলো! এই অভদ্রটা তাকে ফোন করছে কেনো? কী আজব! এটা তো পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য। ঝিলমিল ফোন ব্যাক করল না। অযথা বকবক করে ফোনের টাকা নষ্ট করার শখ নাই তার। যার প্রয়োজন সেই আবার ফোন দিক। তার আবার কীসের ঠ্যাকা?

দশ মিনিট বাদেই পুনরায় ফোন বেজে উঠল। এইবার ঝিলমিল রিসিভ করে কানে ঠেকাল। ওপাশ থেকে রোদ্দুর বলল, 'ভালো আছিস?'

ঝিলমিল বিস্ময় চাপিয়ে বলল, 'ভালো আছি। সবসময় ভালোই থাকি। তুই আমাকে কেনো ফোন করেছিস? কী সমস্যা?'

'একটু দরকার ছিল তোর সাথে। সময় আছে?'

'ভাই তুই এত ফর্মালিটিজ না দেখিয়ে কি বলবি তাই বলে ফেল। তোর এই ভালো ভালো কথা শুনে আমার মনে ব্যাপক সন্দেহ জাগে।' ঝিলমিল ঠেস মেরে কথাটা বলল।

রোদ্দুর এতকিছু গায়ে না লাগিয়ে সরাসরি বলল, 'তুই কি সানিয়ার ছবিটা সবাইকে দেখিয়েছিস?'

'সানিয়া? এটা আবার কে? কোন ক্ষেতের মূলা?'

'আরে ওই যে আমার গার্লফ্রেন্ড! যার ছবি ছিল তোর কাছে, তুই যে সবাইকে দেখিয়ে দিতে চাইলি না...'

ঝিলমিল মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে বলল, 'হইছে হইছে, এত বলতে হবে না। আমি বুঝতে পারছি। তো তোর গার্লফ্রেন্ডে আবার কী কেস? আমাকে কেনো ফোন করেছিস? দেখ ভাই, তোর গার্লফ্রেন্ডের কিচ্ছা-কাহিনী শোনার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই আমার।'

রোদ্দুর বিরক্ত হয়ে বলল, 'উফফফ, বেশি কথা বলিস তুই। আমি কি বলছি, তা তো আগে শুনবি তাইনা? তা না করে আগেই নিজের মত প্যাঁচপ্যাঁচ করা শুরু করে দিয়েছে।'

ঝিলমিল ফোঁস ফোঁস করে উঠল। এত বড় কথা! নিজের প্রয়োজনে ফোন দিয়ে কাজের কথা না বলে তাকে আজেবাজে কথা শোনানো হচ্ছে! ঝিলমিল ফোন কেটে দিল। যাহ, আর বলবেই না কথা। অসভ্য ছেলে একটা! নিশ্চয়ই গার্লফ্রেন্ড কেসে ফেঁসে গিয়েছে। যত্তসব! যত্তসব!

রোদ্দুর আরও কয়েকবার ফোন করল, ঝিলমিল পাত্তা দিল না। ফোন সাইলেন্ট করে রেখে দিল।

.

সানিয়া সকাল সকাল রোদ্দুরের সাথে কথা বলে ক্লাসে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিল। বাড়িতে মা-বাবার সাথে বিয়ের ব্যাপারে কথা বলা হয় নাই এখনও, খুব শীঘ্রই কথা বলতে হবে। ক্যাম্পাসের গেটে পা রাখতেই তানভীরকে দেখতে পেল। তানভীর এগিয়ে এসে বলল, 'তোমার জন্য'ই ওয়েট করছিলাম। এত দেরি হলো যে? আজকে কোথাও যাবে ঘুরতে?'

'না। জানো আমি বিয়ে করছি।'

তানভীর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, 'মিথ্যা কথা। ফাজলামি করছ?'

'উহুঁ। রোদ্দুর বলল দ্রুত বিয়ে করতে চায় সে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিয়ে করব।'

'পাগল নাকি? এটা তোমার বিয়ের বয়স? এখন তুমি বিয়ে করবে? আংকেল আন্টি রাজি? শোনো সানিয়া, তোমরা সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। দয়া করে উল্টাপাল্টা কাজকর্ম করে নিজের জীবন নষ্ট করো না। বিয়ে করলে তুমি এখনকার এই স্বাধীনতা পাবে না। তখন তোমার জীবনটা রোদ্দুরের আয়ত্তে চলে যাবে। বুঝতে পারছ তুমি? বোঝার চেষ্টা করো....।'

সানিয়াকে দ্বিধাগ্রস্ত দেখাল। রোদ্দুরকে তো বলেই দিয়েছে, সে রাজি। এখন মা-বাবাকে বললে কীভাবে রিয়্যাক্ট করবে বুঝতে পারছে না। আবার তানভীরের কথাগুলো'ও ফেলে দেওয়ার মত না। প্রেমে থাকাবস্থায়'ই রোদ্দুর অতিরিক্ত অধিকার ফলায় আর একবার বিয়ে হয়ে গেলে তো কথাই নেই। তাহলে এখন কি করবে?

তানভীরের সাথে আর কথা হলো না সানিয়ার। তবুও তানভীর নিজের মত করে তাকে বোঝাতে লাগলো, সে যেনো কিছুতেই এই বিয়েটা না করে।

অবশেষে সানিয়া বলল, 'দেখো, আমি রোদ্দুরকে কথা দিয়েছি আর ওকে ভালোওবাসি। আমার বিশ্বাস রোদ্দুর এমন নয়, তাকে অনেকদিন থেকে আমি চিনি। আমি শীঘ্রই মা-বাবার সাথে কথা বলব। আর হ্যাঁ, বিয়ের প্রথম দাওয়াতটা আমি তোমাকেই দিচ্ছি। চলে এসো কিন্তু।'

সানিয়া চলে গেল আর তানভীর হা করে তাকিয়ে রইল।

.

রোদ্দুর সন্ধ্যার পর তার আসন্ন বিয়ে নিয়ে বন্ধুদের সাথে আলাপ আলোচনা করছিল। বাড়িতে কীভাবে বিয়ের কথাটা বলা যায় সেটাই ভাবছিল। গতকাল মনে হয়েছিল, ঝিলমিলকে দিয়ে কথাটা বলাবে। কিন্তু মেয়ের যা চটাং চটাং জবাব তাতে তাকে দিয়ে কাজ হবে বলে মনে হয় না! তাই বাধ্য হয়ে বন্ধুদের শরণাপন্ন হতে হলো।

হাসান হঠাৎ বলল, 'তোর বাড়ি থেকে যেহেতু সমস্যা নেই তাহলে তুই একটা কাজ করতে পারিস। তুই সানিয়াকে এখান থেকে মানে কাজী অফিসে বিয়ে করে সরাসরি বাড়ি নিয়ে যা। গিয়ে বলবি, বিয়ে করে তোমাদের জন্য বউ নিয়ে এলাম। তখন আর কোনো সমস্যাই হবে না।'

রোদ্দুর চিন্তিত হয়ে বলল, 'বলছিস? তাই করব? সানিয়া কি রাজি হবে কিংবা ওর পরিবার?'

'সানিয়া তোকে বিয়ে করতে যেহেতু রাজি হয়েছে, তাহলে যেভাবেই বিয়ে করবি ও সেভাবেই রাজি হবে। তুই ওর সাথে কথা বল। ওকেও বল, একেবারে বিয়ের পর ওর বাবা-মাকে জানাতে। যেহেতু ও ওর বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে, তাই ওখান থেকেও কোনো সমস্যা হবে বলে আমার মনে হয় না।'

রোদ্দুরের পছন্দ হলো এই প্রস্তাবটা। এটাই করতে হবে। আজ রাতেই সানিয়ার সাথে কথা বলে সামনের শুক্রবার বিয়েটা সেরে ফেলতে হবে।

.

বিজ্ঞাপন
ঝিলমিল রোদ্দুরে গল্পটি আফিয়া আফরিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও রহস্যময় গল্প