রোদ্দুর হতবাক হয়ে আশেপাশে তাকাল। কিছু উৎসুক জনগণ এইদিকেই তাকিয়ে রয়েছে। কেউ কেউ আবার একধাপ এগিয়ে আসার চেষ্টা করছে। রোদ্দুর ইশারায় ঝিলমিলকে চোখ রাঙাল। ঝিলমিল সেসব পাত্তা না দিয়ে বলল, 'শেষবারের মত বলছি হাত ছেড়ে দে, নাইলে কিন্তু কিডন্যাপের দায়ে গণপিটুনি খাবি।'
'আচ্ছা! তো ঠিক আছে। ডাক দে। আমিও দেখি কার কত বড় সাহস আমার গায়ে হাত দেয়।'
কাউকে ডাক দিতে হলো না। কিছু লোকজন নিজ দায়িত্বে এগিয়ে এলো। দু'জনের উদ্দেশ্য বলল, 'কী সমস্যা আপনাদের?'
ঝিলমিল কিছু বলতে যাবে সেই মুহূর্তে রোদ্দুর বলে উঠল, 'তেমন কিছু না, আসলে পাগলা গারদ থেকে এই মেয়েটা পালিয়ে চলে এসেছিল। কত জায়গায় যে খোঁজাখুঁজি করেছি, তার ইয়ত্তা নেই। অবশেষে আজকে পেলাম। দেখেন, নিয়ে যাব তাতেও পাগলামী করছে। আপনারা চেহারা দেখেছেন ওর? দেখতে একদম পাগলের মত না? কী বলব দুঃখের কথা! প্রেমিকের কাছ থেকে ধোঁকা খেয়ে বেচারা মেয়েটার এই অবস্থা। যাইহোক, কিছু বলবেন আপনারা?'
যে কয়জন এসেছিল তারা ফের মুখ বেজার করে উল্টো পথে পা বাড়াল। যেচে শখ নাই পাগলের দৌড়ানি খাওয়ার।
ঝিলমিল রোদ্দুরের কথা শুনে এতটাই হতভম্ব হয়ে গেল যে মুখ দিয়ে আর কোনো কথা ফুটল না। শত্রু এভাবেই সারাজীবন তার সাথে শত্রুতা করে এসেছে।
ঝিলমিল বাড়ি ফেরার পর সকলের সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেল। ততক্ষণে বাড়ির অন্যান্য সবাই 'ও চলে এসেছে। ছোট চাচ্চু এসে রোদ্দুরের পিঠ চাপড়ে বললেন, 'এই কারণেই তোকে বলি, তুই আমাদের সকল সমস্যার মুশকিল আসান। গতকাল এসে দেখলি, সবাই বিয়ের অনুষ্ঠানে মুখ ভার করে ঘুরে বেড়াচ্ছে; আর আজ'ই সকলের মুখে হাসির ব্যবস্থা করে দিলি। ব্রাভো!'
রোদ্দুর বেশ একটা ভাব নিয়ে কলার নাচিয়ে বলল, 'ইট'স রোদ্দুরের কামাল! বুঝতে হবে তো।'
ঝিলমিল পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। রোদ্দুরের কথা শুনে ভেংচি কেটে তার নিজস্ব স্টাইলে সামনের চুলগুলো পেছন দিকে ঝটকা মেরে চলে এলো। তিথি আপুকে দেখতে পেল পথিমধ্যে, ওর ছেলেটা কাঁদছে। সে কোলে নিয়ে এপাশ ওপাশ পায়চারি করছিল। ঝিলমিল সেদিকেই এগিয়ে গেল। তিথি ওকে দেখে বলল, 'ওকে একটু নে না বোন। আর পারি না। ইদানিং প্রচুর যন্ত্রণা করছে। বোঝালেও কিছু বোঝে না। দুনিয়ার অবুঝ।'
ঝিলমিল মাহিনকে কোলে নিতে নিতে বলল, 'কেনো? কান্না করছে কেনো?'
'ওর বাবা বাইরে বেড়িয়েছে, নিয়ে যায় নাই বলে কান্নাকাটি। তোর কাছে রাখা কিছুক্ষণ। কতদিন পর এলাম, এখনও সেভাবে কারো সাথে দেখাই করতে পারলাম না। কে যে কখন কোথায় ব্যস্ত থাকে বুঝি না বাপু। রোদ্দুর কোথায় জানিস? ভাইটাকে দেখলাম 'ও না একবার।'
রোদ্দুরের কথা শোনা মাত্র ঝিলমিল মুখটা বিষিয়ে গেল। সে বিড়বিড় করে বলল, 'চুলোয় গেছে তোমাদের রোদ্দুর।'
তিথি অবশ্য সে কথা শুনল না। ছেলেকে ঝিলমিলের কাছে দিয়ে নিশ্চিন্তে চলে গেল। ঝিলমিল'ও নিজের ঘরের উদ্দেশ্য পা বাড়াল।
.
বিকালবেলা ছাদে উঠে রোদ্দুরের দেখা মিলল। সূর্য্যি মামার তাপ আর জলজ্যান্ত রোদ্দুর ভালোই ভেল্কিবাজি দেখাচ্ছে। আজ এই ছেলেটা জনসম্মুখে তাকে পাগল বলেছে, অপমান করেছে। প্রতিশোধ তো একটা নিতেই হবে। ছেড়ে দেওয়া যাবে না কিছুতেই। ঝিলমিল ভাবতে লাগল, কী করা যায়! কীভাবে বেয়াদবটাকে একটা চরম শিক্ষা দেওয়া যায়! কীভাবে ওর তেজ কমানো যায়! কীভাবে শায়েস্তা করা যায়! হঠাৎ একটা বুদ্ধি এলো, কতটুকু যুক্তিসঙ্গত তা ভাবার প্রয়োজন মনে করল না। বাংলা সিনেমার ভিলেনদের মত 'ইউরেকা ইউরেকা' করতে করতে নিচে নেমে এলো, সোজা চলে গেল রান্নাঘরে। সেখানে গিয়ে দেখতে পেল বাড়ির মেয়ে বউরা সব এক হয়ে গল্পগুজবে মত্ত। এত বড় বাড়ি, এত জায়গা থাকা সত্ত্বেও এরা কেনো রান্নাঘরে এসে পড়ে আছে ঝিলমিল বুঝতে পারল না। যে কাজে এসেছিল সেটাই হবে না এদের জন্য। অন্য উপায় বের করল। দাদির ঘরে গিয়ে চুপিচুপি ফার্স্ট এইড বক্স থেকে ছোট্ট স্যাভলনের কৌটা'টা বের করল। সেটা নিয়ে রোদ্দুরের ঘরের সামনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়ে শয়তানি হাসি হেসে আবারও উপরে উঠল।
রোদ্দুরকে দেখল ফোনে হেসে হেসে কথা বলতে। ঝিলমিল একটু আড়ালে গিয়ে আড়ি পাতার চেষ্টা করল। ওখান থেকে কথাগুলো খুব স্পষ্ট শোনা গেল না। ভাসা ভাসা ভেসে এলো, 'হ্যাঁ হ্যাঁ, এইতো মাত্র আর কিছুদিন..... আপুর বিয়েটা হোক......এইতো এখনও পাঁচদিন.......তুমি পারবে না আর এক সপ্তাহ ওয়েট করতে?.....ওকে জান......লাভ ইউ!'
ওহ আচ্ছা! তারমানে লাভ কেস। ঝিলমিল বিড়বিড় করে বলল, 'জান? আরে শয়তান তোর মুখে এত মধুর শব্দ মানায় না রে। তুই যেমন সবসময় ক্যাঁচ ক্যাঁচ করিস, ওটাই ভালো মানায়। হঠাৎ ভালো কথা বললেও মনে হয়, ভূতে ধরেছে নাকি? তোর ওই গার্লফ্রেন্ডের কপাল খারাপ রে, নয়ত তোর মত গাধার সাথে প্রেম করে। হুহ।'
রোদ্দুরের কথা শেষ হতেই ঝিলমিল এগিয়ে গেল। নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল, 'তোর ঘরে মাহিনকে দুষ্টুমি করতে দেখলাম। দেখ গিয়ে কী আবার এলোমেলো করছে।'
রোদ্দুর জিজ্ঞেস করল, 'কখন?'
'এইতো মাত্র দেখে এলাম।'
ঝিলমিলের বলতে দেরি হলো, রোদ্দুরের দৌড়াতে এক মুহূর্ত'ও দেরি হলো না। ঝিলমিল হাসি চেপে রাখতে পারল না। গালে হাত দিয়ে অপেক্ষা করতে লাগল কখন নিচ থেকে চিৎকার চেঁচামেচি ভেসে আসবে। ঝিলমিল অধৈর্য হয়ে অপেক্ষা করে যাচ্ছিল, একবার রেলিংয়ে হেলান দিয়ে আরেকবার সিঁড়িতে বসে।
ঝিলমিল নিচে নেমে এলো। রোদ্দুরের ঘরের সামনে গিয়ে দরজা খোলা দেখতে পেল, কিন্তু তাকে কোথাও দেখতে পেল না। ঝিলমিল আরেকটু এগিয়ে যেতেই নিজের ফাঁদে নিজেই পা দিয়ে ফেলল। ধপাস করে পড়তে যাবে সেই মুহূর্তে রোদ্দুর এসে ধরে ফেলল।
ঝিলমিল খেঁকিয়ে উঠল, 'আমি এখানে পড়ে যাচ্ছিলাম কেনো? তুই কীভাবে এখনও ঠিকঠাক ভাবে হাঁটতে পারছিস?'
রোদ্দুর চোখ পিটপিট করে মৃদু মৃদু হাসতে লাগল। ওর হাসি দেখে ঝিলমিলের শান্তশিষ্ট মেজাজটাই বিগড়ে গেল।
সে পুনরায় জিজ্ঞেস করল, 'তুই এখানে কি করিস?'
'আমার ঘরে আশেপাশে আমি থাকব না? ওখান থেকে দেখলাম একটা পাগলী আমার ঘরে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছিল। দিতে দিতে হঠাৎ ধপাস! তাই বাঁচাতে এলাম। এইভাবে হাত পা ভাঙ্গলে চিকিৎসা করতে কত খরচ জানিস? আইডিয়া আছে কোনো? আমার চাচার কতগুলো টাকা খসে যাবে তোর পেছনে। আমি বেঁচে থাকতে আমার বাড়ির মানুষদের এত বড় লোকসান কখনোই হতে দিব না....হতে দিতে পারি না।'
ঝিলমিল দাঁত কিড়মিড় করে বলল, 'ম'রে যা তুই।'
ওখান থেকে সরে এসে নিজের ঘরে রাগে গজগজ করতে লাগল। কোনো পরিকল্পনা'ই সফল হচ্ছে না, বারবার নিজেই নিজের জালে ফেঁসে যাচ্ছে। নাহ, বড় আপুর বিয়ে শেষ হোক; তারপর যেভাবেই হোক এই বংশের মানুষের আদরে বাঁদর হয়ে যাওয়া একমাত্র বেয়ারা ছেলেটাকে সে টাইড দেবেই।
.
রোদশীর বিয়ের দিনগুলো দ্রুতি ঘনিয়ে এলো। আজ ঘরোয়াভাবেই মেহেদি অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ করা হলো। আগামীকাল গায়ে হলুদের জন্য স্টেজ সাজানোর দায়িত্ব দেওয়া হলো রোদ্দুর এবং মনোয়ার সরকারকে। নিজের ঘরে বা রাখল, তখন রাত একটা বাজে। টেবিলের উপর ফোনটা ভাইব্রেট করছিল। দ্রুত এগিয়ে গেল, দেখল সানিয়া ফোন করছে; একবার নয়, পরপর বেশ কয়েকবার! রোদ্দুর কল ব্যাক করল।
সানিয়া বেশ আহ্লাদী সুরে বলল, 'জান! কখন থেকে ফোন করছি। ফোন ধরছ না কেনো? আমার বুঝি তোমার জন্য টেনশন হয় না। কি করছিলে? ঘুমিয়ে পড়েছিলে!'
'না জান। কাল আপুর গায়ে হলুদ। কিছু কাজকর্ম বাকি ছিল, সেসব করলাম।'
'ওহ আচ্ছা, এখন কি করছ?'
'মাত্র ঘরে এলাম এবং এই মুহুর্তে আমার জানের সাথে কথা বলছি। তুমি কি করো?'
'আমিও তাই করছি যা তুমি করছ! খাইছো জান?'
'ইয়েস.......' ননস্টপ কথা বলে গেল দু'জন। রোদ্দুরের সাথে সানিয়ার সম্পর্ক একবছরের একটু বেশি। মেয়েটা যথেষ্ট ভালো। রোদ্দুরের একসময় মনে হয়েছিল, প্রেম ভালোবাসা একটা বড়সড় প্যারা। কিন্তু মেয়েটার সাথে ব্রেকআপ করার জন্য যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ খুঁজে পায় নাই, তাই আজ'ও লেগে আছে। কতটুকু ভালোবাসে, জানা নেই! তবে মেয়েটাকে না ভালোবাসার মত কোনো কারণ'ও অবশিষ্ট নেই। এইভাবেই চলছে দু'জন। রোদ্দুরের ইচ্ছে আছে, খুব শীঘ্রই সানিয়াকে নিজের পরিবারের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার। এইদিকে রোদশী আপুর বিয়েটা হয়ে যাক, তারপর সময় সুযোগ বুঝে একদিন সানিয়াকে নিয়ে সকলের সামনে উপস্থিত হবে!
.
সকালে সবাই বসে গল্প করছিল। হঠাৎ দমকা হাওয়ার মত ঝিলমিল উড়ে এসে রোদ্দুরকে বলল, 'কিরে, তোর গার্লফ্রেন্ডের গল্প করিস নাকি? আমিও শুনব, আমিও শুনব।'
তন্বী আপু অবাক হয়ে বলল, 'কী রে ভাই! তুই প্রেম করিস?'
রোদ্দুর কিছু বলার আগে ঝিলমিল ওর পিঠে দু'টো চাপড় দিয়ে বলল, 'তোর গার্লফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে যাব। দেখা করাবি না?'
রোদ্দুর এক ঝটকায় ঝিলমিলের হাতটা সরিয়ে দিল। বিড়বিড় করে বলল, 'শকুনদের সাথে আমার জানের দেখা করাব না। নজর দিয়ে দিবে।'
ঝিলমিল ফেল সকলের দিকে তাকিয়ে বলল, 'মেয়েটা কিন্তু সুন্দর। তোমাদের ভাইয়ের পছন্দ আছে বলতে হবে। দু'জনকে সুন্দর মানিয়েছে।'
তন্বী আপু বলল, 'তাই নাকি রে রোদ্দুর? আমরা কবে দেখব?'
'ধুর, ও বানিয়ে বানিয়ে কি না কি বলে সেটা আবার বিশ্বাস করো নাকি? এসব তো ওর বাজে অভ্যাস। ওসব বাদ দাও, যা বলছিলাম আর কী......!'
ঝিলমিল রোদ্দুরের পুরো কথা শেষ হতে দিল না। নিজে বলল, 'আরে ভাই আমার, কথা ঘুরাচ্ছিস কেনো? আপু তোর গার্লফ্রেন্ডের ছবি দেখতে চেয়েছে। তুই লজ্জা পাচ্ছিস বলে না হয় দেখাবি না। আমাকে বল, আমি দেখাই। আমার তো এখানে লজ্জা পাওয়ার কিছু নাই তাইনা?'
ঠিক ওই সময় তন্বী আপুর ডাক পড়ল ভেতরের ঘরে। সে উঠে চলে গেল।
রোদ্দুর ঝিলমিলের হাত চেপে ধরে বলল, 'কি শুরু করেছিস তুই?'
'যা আমার মন চাচ্ছে। কিন্তু মেয়েটা আসলেই সুন্দর।' নির্বিকার জবাব তার।
'তুই কীভাবে দেখলি?'
ঝিলমিল বাঁকা হেসে আরেক হাতে ধরে রাখা ছবিটা সামনে নিয়ে এলো। রোদ্দুরকে একনজর দেখিয়েই আবার লুকিয়ে ফেলল। তারপর নিজের ওড়না ঘোরাতে ঘোরাতে বলল, 'চিনতে পেরেছিস? আবার দেখবি? দেখে কি করবি? রোজ'ই তো দেখিস।'
রোদ্দুরের চেহারার ভাবভঙ্গি নিমিষেই বদলে গেল। সানিয়ার কথা এই মুহুর্তে সে বাড়ির কাউকে জানাতে চায় না। আগে সানিয়ার অনুমতি নিবে, তারপর সব! কিন্তু দশ্যি মেয়েটা কোথা থেকে যেনো ছবিটা পেয়ে গেছে। তাই সে মুখে মিষ্টি হাসি ফুটিয়ে তুলে বলল, 'লক্ষী মেয়ের মত ছবিটা আমায় দিয়ে দে।'
ঝিলমিল একগাল হেসে বলল, 'দিব তো। তোর গার্লফ্রেন্ডের ছবি দিয়ে আমি কি করব? একটু পর দিই কেমন! বাড়ির সবাইকে দেখাই গিয়ে।'
রোদ্দুর বাধ্য ছেলের মত বলল, 'ওমা! তূই কেনো দেখাবি। আমাকে দে, আমি দেখাই সবাইকে।'
'তুই দেখাবি?'
'হুঁ।'
'আচ্ছা? তো দেখিয়ে কি বলবি শুনি?'
'তুই আগে আমার কাছে দে। ওর ছবি আমি যার তার কাছে রাখি না। ও আমার একমাত্র ভালোবাসার মানুষ। তোর নজর লাগবে, ছবিটা ফেরত দে ঝিলমিল।'
ঝিলমিল বিরক্ত হয়ে বলল, 'সর তো। কি করছিলি, তাই কর। আমি যাই ভাই, আমারও অনেক কাজ আছে। সবাইকে তো সুখবর টা দিতে হবে নাকি? আমাদের বাড়িতে নতুন বউ আসতে চলেছে বলে কথা।'
ঝিলমিল হেলতে দুলতে চলে গেল। রোদ্দুর রাগে লাল হয়ে গেল। মেয়েটা চরম বেয়াদব হয়ে গেছে। ওকে যদি এখন বাড়ির পেছনের ডোবায় দু'টো চুবানি দেওয়া হয়, তবে কি পাপ হবে? চাচা-চাচি, দাদি কি অনেক বেশি কষ্ট পাবে? তারা কি রোদ্দুরকে ক্ষমা করতে পারবে? আদরের মেয়েকে চুবানি দেওয়ার জন্য ছোট চাচ্চু কি রাগারাগি করবে?
.