ঝিলমিল রোদ্দুরে

পর্ব - ৬

🟢

বাড়ি এসে মায়ের কথা শুনে ঝিলমিলের মাথায় হাত। সকাল সকাল বাড়ির ছেলে মানুষেরা যে যার কাজে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছিল। আর বাকিরা কেউ রান্নাঘরে রান্নার কাজে ব্যস্ত, কেউ বাগানে পানি দিচ্ছে আবার কেউ অন্যান্য কাজকর্ম করছে। ঠিক সেই মুহূর্তে বাজখাঁই শব্দে কলিংবেল বেজে উঠল। মাহমুদ সরকার গিয়ে দরজা খুলে দিলেন। আগত ব্যক্তিটিকে তিনি চিনেন। এই পাড়ার মাষ্টার মশাইয়ের শালা তিনি। সালাম দিয়ে ভেতরে আসার অনুরোধ করলেন। উনার নাম শাহ্ আলম।

উনি বললেন, 'ভাই সাহেব এসেছিলাম তো একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজে। কীভাবে কি বলব বুঝতে পারছি না।'

'জি জি অবশ্যই বলবেন। একটু বসুন, আমি চা দিতে বলছি।'

ততক্ষণে বসার ঘরে ফজলুল সরকার, মনোয়ার সরকারের 'ও উপস্থিতি ঘটল। সবাইকে উদ্দেশ্য করে তিনি বললেন, 'সবাই যেহেতু আছেন তবে কথাটা বলেই ফেলি। বলছিলাম আমার ভাগ্নে সাইফুলের কথা। ছেলে তো মাশআল্লাহ বড় হয়েছে। বিয়েশাদীর কথাবার্তা চলছে অনেকদিন ধরেই। আজ ওর মাকে বলল, তার পছন্দ রয়েছে। জানাল, আপনাদের বাড়ির মেয়ের কথা।'

ফজলুল সরকার হেসে বললেন, 'কোন মেয়ে বলুন তো? আমাদের বাড়িতে এখনও অবিবাহিত তিনটি মেয়ে রয়েছে।'

'আজ্ঞে সাইফুল বলল মাহমুদ ভাইয়ের ছোটো মেয়ে ঝিলমিল মামণির কথা। ওদের মধ্যে নাকি চেনা পরিচয় রয়েছে অনেকদিনের। দুলাভাই নিজেই আপনাদের সাথে কথা বলতে আসতো, কিন্তু একটু ব্যস্ত থাকায় আজ আমাকে পাঠালেন। আপনারা কী বলেন? আপনাদের মতামতটা শুনতে চাই।'

সবাই চুপ। একজন আরেকজনের দিকে তাকাচ্ছে।

মাহমুদ সরকার বললেন, 'ভাই সাহেব আমাদের তো বাড়িতে আলাপ আলোচনা করতে হবে। আগেভাগেই তো কোনো কথা বলতে পারছি না। সাইফুলকে তো অনেক আগে থেকেই চিনি, ভালো ছেলে। তবুও মেয়ের মতামত ছাড়া কিছু বলতে পারছি না।'

'না না ঠিকই আছে। অবশ্যই আপনারা মেয়ের মতামত নিবেন। আমি তো শুধু বিষয়টা আপনাদের জানিয়ে রাখলাম। বিয়ে-শাদী তো আর তাড়াহুড়ার ব্যাপার নয়। আমরা আপনাদের উত্তরের অপেক্ষায় থাকব। তাহলে আজ উঠি।'

উনি চলে গেলেন । ফজলুল সরকার সেজো ভাইয়ের উদ্দেশ্যে বললেন, সম্বন্ধ কিন্তু খারাপ না। ছেলে ভালো, পরিবার ভালো, তুই ভেবেচিন্তে দেখতে পারিস।'

তিনি মাথা নাড়িয়ে বললেন, 'আমি শিমুর সাথে কথা বলে দেখি।'

সবাই যে যার মতো কাজে চলে গেলেন। মাহমুদ সরকার তার স্ত্রীর সাথে ঘটনাটা নিয়ে আলোচনা করলেন। তিনি তো প্রস্তাবটা শোনার সাথে সাথেই রাজি। তবে মেয়ের বাবা হিসেবে তিনি একটু দোনোমনো করছিলেন। বললেন, 'বড় মেয়েটার বিয়ে দিলাম, ছোটটাকেও এত তাড়াতাড়ি বিদায় করে দিব?'

'ভালো সমন্ধ এলে পায়ে ঠেলে দিতে হয় না। আরেকটা কথা ভেবে দেখো। বড় মেয়েকে তো অনেক দূরেই পাঠিয়ে দিয়েছি। ও চাইলেই আমাদের কাছে আসতে পারবে না। কিন্তু ঝিলমিলের বিয়ে যদি সাইফুলের সাথে হয়, তাহলে ও এখানেই থাকবে। যখন তখন আমাদের কাছে আসতেও পারবে।'

'তবুও.... মেয়ের বিয়ে আমি এখন'ই দিতে চাচ্ছি না। যাক, আরও দুয়েক বছর তখন ভেবেচিন্তে দেখব।'

শিমু কোনো কথা বললেন না। তবে সে মনে মনে চাচ্ছে, মেয়ের এই সমন্ধে সকলে রাজি হয়ে যাক। এর আগেও টুকটাক সমন্ধ এসেছিল, কিন্তু তারা সেভাবে গায়ে লাগায় নাই। কিন্তু এইবারেরটা ফেলে দেওয়ার মত নয়। যাইহোক, যাদের বাড়ির মেয়ে তারা রাজি না হলে তার একার পক্ষে তো আর কিছু করা সম্ভব নয়।

ঝিলমিল বাড়ি আসার পর তাকে জানানো হলো। এমনিতেই সেদিনকার ঘটনার পর থেকে তার মন-মেজাজ সাইফুলের উপর খারাপ ছিল, আজ সেটা সপ্তমে গিয়ে পৌঁছাল। এরপর রাস্তাঘাটে দেখা হলে আচ্ছা করে কিছু কথা শুনিয়ে দিতে হবে। ব্যাটার সাহস কত বড়! বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাচ্ছে। সাইফুলের সাথে মোটেও তার কল্পমানবের মিল নেই। সে তো আকাশপূরী থেকে পঙ্খিরাজ ঘোড়ায় চেপে আসা রাজকুমার'কে বিয়ে করবে। ওইতো দাদী আগে রূপকথার গল্প শোনাত না! রাজকন্যাকে দুষ্কৃতিকারীদের হাত থেকে বাঁচাতে সাত-সমুদ্র পাড়ি দিয়ে রাজকুমার আসে; তার জন্য ঠিক সেই রকম ভালো রাজকুমার আসবে। তখন থাকবে পূর্ণিমা রাত, রাতের আলোয় ছেয়ে যাবে চারিপাশ। আলোকিত হবে তার জীবনটাও।

রেহানা খাতুন'ও এই সমন্ধে সন্তুষ্ট হলেন না। তার অন্যরকম ইচ্ছে আছে। সব কয়টা নাতনীকেই ভালো ঘরে বিয়েশাদী দিয়েছেন। বাকিগুলো'কেও দিবেন। তবে ঝিলমিলের বেলায় অন্যরকম ইচ্ছে পোষণ করেন তিনি। যদিও কাউকে জানানো হয় নাই, সময় সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন। আজ বিয়ের সমন্ধে আসায় সত্যিই মনে হলো, ঝিলমিল অনেক বড় হয়ে গেছে অন্তত বিয়ে দেওয়ার যোগ্য। তিনি শীঘ্রই তার ইচ্ছে সকলের সামনে ঘোষণা করবেন।

.

সন্ধ্যা নাগাদ রোদ্দুর অফিস থেকে সরাসরি বাড়ি ফিরল। বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই কলিংবেল বেজে উঠল। বিরক্তিতে নাক-মুখ কুঁচকে উঠে বসল। দরজা খুলে দেখতে পেল রায়হান আর সৌভিক এসেছে। রোদ্দুর বলল, 'ধুর শালা, অসময়ে এন্ট্রি নিস কেন? মাত্রই শুয়েছিলাম।'

সৌভিক রোদ্দুরের কাঁধে হাত রেখে বলল, 'আরে বন্ধু রাগ করিস কেন? উপরে আসার পথে তোর পাশে অ্যাপার্টমেন্টে একটা মেয়েকে দেখলাম। মেয়েটা কে রে? হেব্বি দেখতে। সেটিং করায়ে দে না!'

'তোর মত আমি সারাদিন মেয়ে দেখে বেড়াই নাকি? পাশের বাড়ির কোন না কোন মেয়ে, আমার দেখিই তো নাই কখনো। ভাই আমারে এসব ঘটকালি করতে বলিস না তো। এসব সম্ভব না আমার দ্বারা। নিজের সেটিং নিয়েই টেনশনে বাঁচি না।'

'ধুর ব্যাটা তুই আস্ত একটা নিরামিষ। এত সুন্দরী নারীও তোর চোখে পড়ে না, ওই চোখ রেখেছিস কেন?'

রায়হান দু'জনের মধ্যে এসে দাঁড়াল। দু'জনকে থামিয়ে দিয়ে বলল, 'রোদ্দুরের গার্লফ্রেন্ড আছে তাই সে কারো দিকে নজর দেয় না। আর এইদিকে সৌভিকের কেউ নেই তাই রাস্তায় যারে দেখে তারেই ওর ভাল্লাগে। তারেই বিয়ে করতে মন চায়, তার সাথেই পিরিত করতে মন চায়। আমাদের রোদ্দুর হচ্ছে সর্বদা এক নারীতে আসক্ত। ওকে দিয়ে এসব হবে না।'

রোদ্দুর বলল, 'আমার আর সৌভিকের ব্যাখা দিলি। এইবার নিজেরটাও দে। তুই কোন পর্যায়ে আছিস?'

'আমি মাঝামাঝি পর্যায়ে আছি। মা প্রতিদিন একটা করে পাত্রী দেখায়। একজায়গায় কথাবার্তা কিছু এগিয়েছে। সামনে মাসে বিয়ে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।' রায়হান কথাটা বলে দু'জনের দিকে তাকাল।

বিজ্ঞাপন

রোদ্দুর তৎক্ষণাৎ লাফিয়ে উঠে বলল, 'আরে কংগ্রাচুলেশন দোস্ত। কেমনে কী? আমি কিন্তু বিয়েতে আগাম দাওয়াত চাই। এখন বল, ভাবীর নাম কি? কোথায় থাকে? আমাদের দেখাবি না?'

দু'জনেই হন্তদন্ত হয়ে রায়হানকে ধরল। রায়হান ওদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বলল, 'যাহ শালা বিয়েই করব না। এমন অদেখা মানুষের মত হাউকাউ করিস কেন?'

রোদ্দুর সুর টেনে বলল, 'বন্ধু করছে বিয়ে, টোপর মাথায় দিয়ে। বন্ধুর বিয়েতে যাব, কব্জি ডুবিয়ে খাব।'

তৎক্ষণাৎ সৌভিক'ও তাল মেলাতে লাগল। শুধু গান নয় এইবার নাচানাচি'ও শুরু করে দিল। রায়হান বিতৃষ্ণা নিয়ে দুই বন্ধু নামক পাগলের দিকে তাকিয়ে রইল। বিয়ের কথাটা যে কোন কুক্ষনে তুলতে গেছিল কে জানে? তারপর রোদ্দুরের ওখানে ওরা আরও অনেকক্ষণ ছিল। রাতে নাই খাইয়ে রোদ্দুর ছাড়ল না।

ওরা বেড়িয়ে যাওয়ার পর রোদ্দুর সানিয়াকে ফোন করল। সে নিজের সিদ্ধান্তটা সানিয়াকে সকালেই জানিয়ে রেখেছিল। সানিয়া বলেছে, ভেবেচিন্তে রাতে জানাবে। এখন রোদ্দুরের কথায় রাজি হয়ে গেল। তার কাছেও এই বিষয়টা যুক্তিসঙ্গত মনে হয়েছে। এখন মা-বাবাকে বললে তারা হয়ত রাজি হবে না, কিন্তু একবার বিয়ে করে সামনে উপস্থিত হলে তখন আর মানা করতে পারবে না। রোদ্দুর বলল, 'তাহলে সামনে শুক্রবার সবকিছুর বন্দোবস্ত করব?'

'করতে পারো। আমার আগামীকাল হলেও কোন অসুবিধা নেই। আচ্ছা আমার দিক থেকে আমার বন্ধু-বান্ধব থাকবে না?'

'থাকতেই পারে, যদি তুমি তাদের ইনভাইট করো।'

'ঠিক আছে।'

রোদ্দুর ফোন রাখার পর ভাবতে লাগল, সে কি আসলে কাজটা ঠিক করছে। এভাবে পরিবারকে না জানিয়ে, তাদের কাউকে সাথে না নিয়ে; নিজেই নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তটা নিয়ে নিয়েছে। কিন্তু সানিয়াকে নিজের কাছে আটকে রাখতে হলে, এটাই তো দরকার। তার ব্যক্তিগত জিনিসে অন্যকারো হস্তক্ষেপ কখনোই তার পছন্দ ছিল না, এখনও পছন্দ করে না বলেই তো তাড়াহুড়ো করে এই বিয়ের আয়োজন। আপাতত ভালোমন্দ কিছু ভাবতে চাইছে না। এসব ভাবলেই, বর্তমানের ভাবনা গুলিয়ে যাচ্ছে। যা হয় হবে! নিজের মানুষকে পাওয়ার জন্য যদি দুনিয়ার সাথে যুদ্ধ করতে হয় কিংবা দশজনের কথা শুনতে হয়; তাতেও তার আপত্তি নেই। শুধুমাত্র, সানিয়া তার থাকুক।

পরদিন রোদ্দুরের অফ ডে থাকার কারণে সে সানিয়ার ক্যাম্পাসে চলে এলো। ক্যান্টিনে পা রাখতেই তানভীর নামক আপদটার সাথে দেখা হয়ে গেল। রোদ্দুর ওকে এড়িয়ে সামনে এগিয়ে যেতে নিলে সে এসে পথরোধ করে দাঁড়াল। হাসি হাসি মুখ করে হিংস্র গলায় বলল, 'বিয়েটা তাহলে করেই ফেলছ?'

'হ্যাঁ, তোমাদের দোয়া নিয়ে করছি। দাওয়াত রইল, চলে এসো। বাই দা ওয়ে, বিয়ের কথা কোথা থেকে জানতে পারলে? সানিয়া বলেছে?'

'ওর বলতে হবে কেন? এসব কথা কি চাপা থাকে? ক্যাম্পাসের হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে তো।'

রোদ্দুর হেসে বলল, 'আরেহ বাহ! তাহলে তো ক্যাম্পাসের আকাশ বাতাসকেও ইনভাইট করতে হয়। তবে আপাতত এত পারছি না। তুমি চলে এসো কেমন! তুমি ছাড়া বিয়েটাই তো অসম্পূর্ণ।'

তানভীর প্রশ্ন করল, 'দুনিয়াতে এত মেয়ে থাকতে সানিয়াকে'ই কেনো নিজের ট্র্যাপে ফেলতে হবে? ওকেই কেনো....?'

রোদ্দুর তাকে বাকি কথাটুকু শেষ করতে দিল না। নিজেও মুখে হাসি ঝুলিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করল, 'দুনিয়াতে এত মেয়ে থাকতে সানিয়াকে'ই কেনো তোমার টার্গেট করতে হবে? আমার জিনিস আমার'ই থাক না। তুমি এত লাফালাফি করছ কেনো? হঠাৎ যদি পা ফসকে পড়ে গিয়ে পা ভেঙ্গে যায় তখন কি হবে বলো তো? হাঁটাচলা করতে পারবে? ভাঙা পা নিয়ে হাঁটাচলা করার অভ্যাস বোধহয় তোমার আছে!'

তানভীর আঙ্গুল তুলে বলল, 'সাট আপ রোদ্দুর.....'

রোদ্দুর পুনরায় হেসে তানভীরের হাত নামিয়ে দিয়ে বলল, 'আঙ্গুল নামিয়ে ভদ্রভাবে কথা বলো। আমার ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করার একদম ইচ্ছে নেই। নেক্সট টাইম কখনো তোমাকে যেনো আমি সানিয়ার আশেপাশে না দেখি। ইটস্ মাই ফাস্ট এন্ড লাস্ট আল্টিমেটাম!'

রোদ্দুর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে হাতে থাকা বাইকের চাবিটা ঘোরাতে ঘোরাতে ক্যান্টিন থেকে বেড়িয়ে এলো। সানিয়ার সাথেও সহসা দেখা হয়ে গেল। রোদ্দুর মেজাজ ঠিক করল, নিজের চোখ-মুখে সতেজ ভাবটা ফিরিয়ে আনল।

.

ঝিলমিল তার দাদীর মাথায় তেল দিয়ে মাথা টিপে দিচ্ছিল। দাদী আয়েশে চোখ বন্ধ করে বললেন, 'রোদ্দুর দাদুভাইকে এইবার বিয়েশাদী দিতে হয়, কি বলিস?'

ঝিলমিল বিরক্তি নিয়ে বলল, 'তা আমি কীভাবে বলি? তোমার আদরের নাতিকে বলো। আচ্ছা ভালো কথা, ওকে বিয়ে কে করবে? তোমার কি মনে হয়, ওর সাথে দুইদিনও কেউ টিকে থাকতে পারবে? বদমেজাজি ফাজিল ছেলে একটা।'

'আমার দাদু ভাইয়ের জন্য মেয়ের অভাব হবে নাকি?'

'অভাব না হলেই ভালো। বিরক্তিকর ছেলে একটা। জীবনেও আমি ওর মুখ থেকে ভালো কথা শুনি নাই জানো! কথা বলবে খটখট করে, কথার আগাগোড়ায় ধমক দিবে। নিজেকে যে কোন মহারাজা ভাবে আল্লাহ ভালো জানে! বাঁদর একটা, একদম দেখতে ইচ্ছে করে না।'

'তুই এই বাঁদরটাকে সারাজীবন সহ্য করতে পারবি না দাদু?'

ঝিলমিল মুখ ঝামটা দিয়ে বলল, 'সহ্য করিই তো। তোমাদের বাড়ির ছেলেকে ছুঁড়ে ফেলে দিলে তোমরা আমাকে আস্ত রাখবে? বাধ্য হয়েই সহ্য করতে হয়। আচ্ছা এই সময়টায় তুমি এখন ঘুমাও একটু। আমি শিউলির সাথে দেখা করব। বিলের ওপাশ থেকে ঘুরে আসি একটু। সারাদিন বাসায় বসে থাকতে ভালো লাগে না।'

'আচ্ছা যা।'

ঝিলমিল শিউলির সাথে দেখা করে সাইফুলের ঘটনাটা তাকে বলল। শিউলি'ও রেগে গেল। দু'দিন একটু ফাজলামি করেছে বলেই কি বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়ে দিতে হবে নাকি? আজব ছেলেপেলে! দুনিয়ার আজব মানুষজন! সর্বক্ষণ চুপচাপ থাকা শিউলি বসে বসে সাইফুলের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করে ছাড়ল। ঝিলমিল ঠোঁট চেপে হেসে হেসে তা সব শুনল।

.

বিজ্ঞাপন
ঝিলমিল রোদ্দুরে গল্পটি আফিয়া আফরিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও রহস্যময় গল্প