ঝিলমিল রোদ্দুরে

পর্ব - ১৩

🟢

কারো সম্পর্কের টানাপোড়েন, জটিলতা আবার কারো আনন্দে-উল্লাসে, নির্বিঘ্নে কিছুদিন কেটে গেল। দাদি এখন অবশ্য আর বিয়ের কথা তোলেন না, তবে রোদ্দুরকে বাড়িও ফিরতে বলেন না।

ছোট চাচ্চু কিছুদিন দেখেছে, কিন্তু ঝিলমিলের ঘরের জানালায় কে ঠকঠক করে তা উদঘাটন করতে পারে নাই। যখন ওরা খুব বেশি সতর্ক থাকে, তখন কিছুদিন আগুন্তকের আগমন'ও বন্ধ থাকে। তবে ঝিলমিল এখন আর একা একা ঘরে থাকার সাহস পাচ্ছে না, বেশিরভাগ সময় সে দাদির সাথেই থাকে। নিজের বই-খাতা, কাপড়-চোপড় সব'ই এই ঘরে ট্রান্সফার করে নিচ্ছে। বাড়ির অন্য মেয়েরা অর্থাৎ তানিশা এবং রিমঝিম'ও একলা থাকছে না।

মনোয়ার সরকার গিয়ে পুলিশে ইনফর্ম করে এসেছেন। অন্তত কোনো ছিঁচকে চোর হলেও ধরা পড়ুক।

.

বিয়ে-শাদী মানেই মানুষ মনে করে, কত জানি মজা! বিয়ের পর শুধু আনন্দ আর আনন্দ। সারাদিন ঘোরাঘুরি, খাওয়া-দাওয়া; এককথায় যা ইচ্ছে হয় তাই করতে পারা। কিন্তু আসলেই কি তাই? উঁহু, একদম নয়। এ সম্পর্কে আদিয়াত এবং রায়হান নামক তুই জ্ঞানী ব্যক্তি কিছু মতবাদ দিয়েছে।

আদিয়াতের ভাষ্যমতে, 'ভাই তোরা কেউ যদি নিজের ব্যক্তিগত জীবন প্লাস নিজেকে নিশ্চিন্তে একজন মানুষের হাতে তুলে দিতে পারিস তবে বিয়ে কর। যদি চাস তোদের জীবনে শাসন চলুক, তোদের বদভ্যাস গুলোকে কেউ এক লহমায় পরিবর্তন করে দিক তবে বিয়ে কর। আর তা না হলে বিয়ে-শাদী করিস না, আমার মত ফেঁসে যাবি একদম। আমি সারাজীবন নিজের মত হেলেদুলে, যেভাবে খুশি সেভাবে চলেছি। কিন্তু এখন তোদের ভাবী কি নিয়ম করে দিয়েছে জানিস? সকালে ঘর থেকে বের হয়ে সোজা অফিসে যাব এবং অফিস থেকে সাতটার মধ্যে আমাকে বাড়ি ফিরতে হবে। মানে বোঝ! সাতটার মধ্যে কেমনে সম্ভব? বাড্ডার জ্যামে যদি একবার ভুল করে পড়ি তো ওই জ্যাম থেকে মুক্তি পেতে পেতে আমার এক জীবন পার হয়ে যাবে।'

রায়হানের ভাষ্যমতে, 'ভাই আর কতদিন সিঙ্গেল থাকবি? বিয়েটা করেই ফেল। বিয়া যে কত্ত মজা আমি বলি, ওয়েট.... শশুড় বাড়িতে গেলে আদর আর আদর, একদম কব্জি ডুবিয়ে জন্মের খাওয়া খাইতে পারবি। খাইতে খাইতে যেকোনো মুহূর্তে অজ্ঞান'ও হয়ে যাইতে পারিস বলা যায় না। আর তারপর এক্সট্রা কথার করানোর জন্য শালী গুলো তো আছেই। এমন খাতির করবে যে কখন তোদের পকেট খালি হয়ে যাবে টের'ই পাবি না। ওয়েট.... আরও বলি, কান খুলে শোন। তোর নিজের বাড়ি, অথচ তুই মন খুলে কিচ্ছু করতে পারবি না। বিছানায় বসলে ঝাড়ু নিয়ে এসে চেঁচাবে, এইমাত্র আমি বিছানা গুছিয়ে রাখ রাখছি। নামো এখান থেকে নামো।

আরও কাহিনী আছে, যেমন ধর ঝগড়াঝাঁটি কিংবা মনোমালিন্য। বাবারে বাবা, কী বলব আর? সামান্য কিছু বলাই যাবে না, কান্নাকাটি করে বুক ভাসাবে। অথচ সারাদিন আমাদের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করবে তার বেলায় কিছুই না। আমাদের মুখে কুলুপ এঁটে চুপ করে বসে থাকতে হবে। তবে এখানে একটা লাভ আছে। সেটা হচ্ছে, ঝগড়াঝাঁটি যদি একবার একটু বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যায় না? তবেই বউ চলে যাবে বাপের বাড়ি। আর তখন হচ্ছে স্বাধীনতা দিবস। এইতো যেমন আমি। আমার বউ কিন্তু এখন এখানে নেই। বাপের বাড়ি আছে, দু'দিন পরে আনতে যাব। একটু মনমতো স্বাধীনতা দিবসটা পালন করে নিই। হেহে, ভাইজানেরা আপনারাও বিবাহ করে ফেলুন। আমরা কেনো শুধু অশান্তিতে থাকব। আপনারাও যোগ দিন, মজা দেখুন। শান্তি অশান্তি দু'টোই ফেস করতে পারবেন।'

এরপর অনবরত চলতেই থাকে বাকবিতন্ডা। বাকিরা গালে হাত দিয়ে সমস্তটা চুপচাপ গিলে। সব শুনে কারো বিয়ে করতে ইচ্ছে করে কারো করে না। আর রোদ্দুর? সে তো সন্ন্যাসী হয়ে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। তাকে আর কিছু বলার নেই।

প্রতিদিনের মত আজও চায়ের দোকানে সবাই মিলে ভীড় জমিয়েছে। তবে আজ তাদের কথাবার্তার বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন। একেবারে গিরগিটির মত বদলে গেছে এক নিমিষেই। আজ আবার দু'জনের এক কথা, 'যত যাইহোক ঘরে গিয়ে বউয়ের চাঁদ মুখখানি না দেখলে শান্তি লাগে না। বুকের মধ্যে ব্যাথা করে।'

একেকজন একেক কথা বলে! শোনার আর ধৈর্য নেই। হাসান একটা কাজের অযুহাত দেখিয়ে রোদ্দুরের সাথে বেরিয়ে পড়ল।

.

আজ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হবে। হাইস্কুল মাঠে মানুষজনের ছড়াছড়ি, সাথে রয়েছে পুলিশি পাহাড়া। ওসমান খন্দকার কিছুক্ষণ পরপরই আসছেন, অবস্থা দেখে যাচ্ছেন। আর কারো কোনো উৎকণ্ঠা নেই, শুধুমাত্র তিনি আসছেন এবং যাচ্ছেন। তার দুই ছেলে অবশ্য প্রথম থেকেই ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত রয়েছে। জনে জনে ধরে জিজ্ঞেস করছে, 'আপনারা এইবার কাকে ভোট দিচ্ছেন?'

অনেকেই উত্তর দিচ্ছে আবার অনেকে তাদের পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে। ঝিলমিল শিউলিকে নিয়ে ভোট দেখতে এলো। একই পাড়ার মানুষজন, প্রায় সকলকেই চেনে।

ওরা একপাশে দাঁড়িয়ে মানুষজনের আনাগোনা দেখছিল। ওসমান খন্দকারের বখাটে ছোটো ছেলে আহাদকেও দেখল কয়েকজনের সাথে তর্কাতর্কি করছে। উড়ে এসে মারামারি'ও করতে চাচ্ছে। আশেপাশের সাঙ্গপাঙ্গরা দৌড়ে এসে তাকে থামাচ্ছে, শান্ত করছে।

শিউলি বলল, 'ব্যাটার তেজ দেখেছিস? র'ক্ত বোধহয় সবসময় গরম থাকে।'

'ওর কথা বাদ দে। আয় আমরা মাঠের পেছন থেকে ঘুরে আসি।'

'এখন ওখানে কোনোভাবেই যাওয়া সম্ভব নয়। বাজে বাজে ছেলেদের আড্ডা বসে এই সময়। আর আজকে তো মাস্ট। এখানেই দাঁড়িয়ে থাক চুপচাপ।'

ঝিলমিল বলল, 'তাহলে চল ফুচকা খাই। সকাল থেকে কিছু খাই নাই। মায়ের বকা খেতে খেতে পেট ভরে গেছে।'

ও শিউলিকে সাথে নিয়ে ফুচকা কিনতে গেল। ফিরে আসার সময় আহাদের গন্ডগোলের মুখে পড়ে দু'জনের হাতের ফুচকাই পড়ে গেল।

শিউলি বিরক্ত ভঙ্গিতে বলল, 'আরে ধুর... ফালতু পোলাপান।'

তৎক্ষণাৎ আহাদ এগিয়ে এলো। আহ্লাদী সুরে বলল, 'ওহো, আমি তো তোমাদের দেখি নাই।' তারপর বাকিদের দিকে তাকিয়ে বলল, 'এই তোরা জায়গা খালি কর। এইদিকে এইরকম ঝামেলা করিস না। মানুষজনের যাওয়া আসার রাস্তা কেনো ব্লক করে রেখেছিস? সর সর, সরে যা।'

তারপর আবার ঝিলমিলদের দিকে তাকাল। বলল, 'সরি, এক্সট্রিমলি সরি। চলো আমি তোমাদের ফুচকা কিনে দিচ্ছি।'

ঝিলমিল রিনরিনে কন্ঠে চটাস চটাস করে উত্তর দিল, 'নো, থ্যাংকস।'

তারপর ওরা ওখান থেকে বেরিয়ে সোজা বাড়ি চলে এলো। বাড়ি এসেও ঝিলমিল কিছু করার পাচ্ছিল না। সারাদিন'ই তার কিছু করার থাকে না। ওইদিকে মা-চাচীরা সবসময় নিজেদের মধ্যে গল্প করে, কী এত গল্প করে কে জানে! ঝিলমিল এসব নিয়ে কখনোই মাথা ঘামায় না।

সে বাড়িতে বসে বোর ফিল করতে করতে বাড়ির পেছন দিকে চলে এলো। বিগত কিছুদিন হলো ছিঁচকে চোরের উৎপাত কম। ছিঁচকে চোর বলতে তাকেই বোঝানো হয়েছে, যে তার ঘরের জানালায় ঠকঠক করে।

বিজ্ঞাপন

ঝিলমিল বিষয়টা খতিয়ে দেখার জন্য তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করল চারিপাশে। ঘুরে ঘুরে পুরো জায়গাটা দেখল, পরখ করল। সন্দেহজনক কিছু দেখলে সেখানেই নানা গবেষণা শুরু করে দিল, কিন্তু ফলাফল শুন্য। কিছুই পেল না। এমনকি কোথাও কারো পায়ের ছাপ পর্যন্ত না। ভেজা মাটি হলে অবশ্য খুব সহজে পায়ের ছাপ ধরা পড়ত, কিন্তু এখন মাটি শুকনো।

ফিরে আসার সময় হঠাৎ পায়ে কিছু একটা বিঁধল। ঝিলমিল থেমে গিয়ে সেটাকে হাতে নিল। বিশেষ কিছু না, একটা কালো বেল্টের সাধারণ ঘড়ি। যে কারো হতে পারে! তবুও প্রমাণ হিসেবে নিজের কাছে নিয়ে রাখল।

.

ভোটের আনুষ্ঠানিকতা বিকেলের মধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। ফলাফল রাতে প্রকাশ করা হবে। বাড়ির সবাই নিঃশ্বাস আটকে টিভির সামনে বসেছে। ওইদিকে ছোট চাচ্চু রোদ্দুরকে সব ইনফরমেশন ফোনে দিচ্ছে। বলে দিয়েছে, 'এবার ভাইজান নির্বাচনে জিতলে তোকে বাড়ি আসতে হবে।'

রোদ্দুর হেসেছে, সহসা উত্তর দেয় নাই।

অবশেষে সবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে, ওসমান খন্দকারের অহংবোধের চুক্তি দলাই মলাই করে ভোটে নিযুক্ত হলেন ফজলুল সরকার।

সরকার বাড়িতে আনন্দের ধুম নেমে গেল। বাড়িতে পুরুষ মানুষ যারা যারা ছিলেন, সবাই তৎক্ষণাৎ আনন্দ মিছিল নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। ঝিলমিল, তানিশা, রিমঝিম'ও পিছু পিছু কতক্ষণ দৌড়াল। রেহানা খাতুন আফসোস করে বললেন, 'আহারে! আজকের এমন একটা খুশির দিনে আমার দাদুভাইটা নাই। ও ঝিলমিল, দাদুভাইরে একটা ফোন করে দেখি। মাঝেমাঝে নিজেও তো একটু কথাবার্তা বলতে পারিস। বাড়িতে আসতে বলতে পারিস তো নাকি?'

ঝিলমিল নিজস্ব কায়দায় তার মুখ বাঁকিয়ে বলল, 'উহ শখ কত! তোমার দাদুভাইকে আমি কেন আসতে বলব? আমি বললেই যেনো তোমার সাহেব শুনবে আমার কথা? আমি ফোন করে দিচ্ছি, তুমি কথা বলো। খুব তো বলেছিলে, রাগ করে থাকবে আর কথাই বলবে না। এখন কোথায় তোমার রাগ? হুঁ হুঁ?'

'কতক্ষণ আর রাগ করে থাকব বল? তোর দাদার খুব ইচ্ছে ছিল, একমাত্র নাতীকে নিজের কাছেই রাখবে, তাই আমাকে বলে গিয়েছিল; নিজেদের মধ্যেই ওর বিয়ে দিতে। এখন বিয়ের উপযুক্ত এই বাড়িতে তুই ছাড়া আর কে আছে বল?'

আজকে বাড়ির সকলের মন ভালো। তাই ঝিলমিল আর তর্ক করল না এই বিষয়ে। দাদিকে ফোন ধরিয়ে দিল।

রেহানা খাতুন হেলান দিয়ে আয়েশ করে বসলেন। তার চোখজোড়া বোজা। পাশেই ঝিলমিল বসে পান বানিয়ে দিচ্ছে। তিনি ফোন লাউড স্পিকারে দিয়ে রোদ্দুরের সাথে কথা বলছেন। ঝিলমিল এইপাশ থেকে রোদ্দুরের সব কথাই শুনছে, আর নাকমুখ কুঁচকে ফেলছে। কী নাটক! কী আদিখ্যেতা! কী আহ্লাদ! একদম অসহ্যকর। ঝিলমিল ফিসফিস করে দাদিকে বলল, 'আর কথা বলতে হবে না। আমার ফোনের সব ব্যালেন্স শেষ হয়ে যাচ্ছে তো। ফোন রাখো। ব্যাদ্দব ব্যাটায় মিসড কল দিলে ব্যাক করে না।'

দাদি ইশারায় ওকে থামিয়ে দিলেন। রোদ্দুর ওপাশ থেকে বলল, 'দাদি তোমার পাশে কে পেত্নীর মত ফিসফিস করে কথা বলছে?'

দাদি হেসে বললেন, 'আরে ঝিলমিল!'

'ওহ আচ্ছা, তাই তো বলি। আমাদের বাসায় হঠাৎ পেত্নীর আবির্ভাব হলো নাকি? বাবা কী ভয়ঙ্কর গলা। এইভাবে মানুষ কথা বলে? ওরে বাড়িতে না রেখে সবচেয়ে ভালো হবে যদি শ্যাওড়া গাছের নিচে রেখে আসো। ভূতেদের সাথে মিলে ভালো নিত্য করতে পারবে, মানুষকে ভয় দেখাতে পারবে।'

ঝিলমিল ফুঁসে উঠে চেঁচিয়ে বলল, 'ওকে বলে দাও আমি ভূত হলে আগে ওর ঘাড় মটকাব।'

দাদি বললেন, 'আরে তোরা ঝগড়া করিস না। আমি একটু কথা বলি। কতদিন পর দাদু ভাইয়ের সাথে কথা বলছি!'

ঝিলমিলের এসব আদিখ্যেতা সহ্য হয় না কখনোই, কোনোকালেই। সে ফোন আর ব্যালেন্সের মায়া ছেড়ে দিয়ে এই ঘর ছেড়ে উঠে চলে গেল।

রেহানা ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে বললেন, 'শোন দাদুভাই, কখন যে মা'রা যাই! শরীরটা খুব খারাপ জানিস? সবাই মনে করে ভালো আছি, কিন্তু আমার ভেতরে যে কী হচ্ছে তা আমিই জানি। বলছিলাম কি, এইবার একবার বাড়িতে আয় না? না হয় শেষ দেখা দেখে গেলি, দাদিকে। ম'রে গেলে পরে কিন্তু এই ম'রা মানুষের জন্য আফসোস করতে হবে।'

আরও কিছুক্ষণ কথা বলার পর রোদ্দুর ফোন রেখে দিল। আজ বুধবার। ইচ্ছে করলে বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া যায়, কিন্তু সেটা কতটুকু নিরাপদ হবে জানা নেই! বলা যায় না, আবারও বিয়ের কথা উঠতে পারে। যাইহোক না কেনো, দাদির কথা শুনে আজ নিজের কাছে খুব খারাপ লাগছে। রোদ্দুর সিদ্ধান্ত নিল, সে আগামীকাল সন্ধ্যায়'ই রওনা দিবে।

প্রথমত নতুন বছরের শুরু, দ্বিতীয়ত শীতকাল একটু ঠান্ডা ঠান্ডা আবহাওয়া; তাই সাধারণত পিকনিকের একটা ধুম পড়ে। রোদ্দুরের বাড়ি যাবার কথা শুনে ওর কলিগরা বলল, 'ভাই এইবার যাচ্ছ যাও, পরেরবার অর্থাৎ পরের শুক্রবার কিন্তু শ্রীমঙ্গল যাওয়ার পরিকল্পনা করছি। তখন কিন্তু ছাড়ব না।'

'আচ্ছা আচ্ছা।'

রোদ্দুর যে বাড়ি যাবে তা আগে থেকে কাউকে জানায় নাই। গাড়িতে বসেও মায়ের সাথে ফোনে হচ্ছিল, তবুও মাকে জানায় নাই। রওনা দিতে দিতে বেশ দেরিই হয়ে গেছে। বাড়ি ফিরতেও দেরি হবে, আনুমানিক দশটা তো বাজবেই। কিন্তু দশটার দিকেও গাড়ি জ্যামে আটকে রইল। দশ মিনিট গাড়ি আগালে এক ঘন্টা বসে থাকতে হয়।

অবশেষে বারোটা নাগাদ সুখানপুর বাসস্ট্যান্ডে গাড়ি থামল। মানুষজন এই শীতের রাতে সবাই শুয়ে পড়েছে বোধহয়। চারিদিক অন্ধকার, খাঁখাঁ করছে, কেমন গা ছমছমে একটা পরিবেশ। বাকি পথটুকু হাঁটার রাস্তা, ১০ মিনিট হাঁটলেই বাড়ি পৌঁছে যাবে।

রোদ্দুর একটা পরিকল্পনা করল— এখন যেহেতু বাড়িতে সবাই ঘুমে আর তার আসার খবর যেহেতু কারো জানা নাই তাই সকালে যদি হঠাৎ করে সবার সামনে উপস্থিত হওয়া যায় তখন সবাই সারপ্রাইজড হবে।

তাই রোদ্দুর পেছনের দিক দিয়ে ঢুকল। এই গেটের একটা চাবি তার কাছে থাকে সবসময়। সামনের গেটের লকের চাবি নাই। রোদ্দুর ফোনের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে গেল। হঠাৎ উপর থেকে কেউ একজন 'অ্যাই অ্যাই পাইছি পাইছি' বলে চেঁচিয়ে উঠল।

.

বিজ্ঞাপন
ঝিলমিল রোদ্দুরে গল্পটি আফিয়া আফরিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও রহস্যময় গল্প