এ কী বুদ্ধি দিলে তুমি?

পর্ব - ৯

🟢

কথাবার্তা শেষ করে সবাই বেরিয়ে আসল। রবি বের হয়ে শান্তকে বলল, “তুই কিছু মনে করিস না। মেয়েটা এমনভাবে বলছিল, ‘শান্ত, এ কী বুদ্ধি দিলে তুমি?’ তাতে সবাই ভুল বুঝেছিল।”

“আরে না। বাদ দে ওইসব।” শান্ত, রবি আর মাহিরের পিঠ চাপড়ে বলল।

নিজের প্রতি শান্তর এমন কোমলতা দেখে ইতিমধ্যেই মনে মনে শান্তকে বেশ পছন্দ করে ফেলেছে ইরা। কিন্তু কীভাবে বলবে, এভাবে বাসা থেকে বেরিয়ে আসা একটি মেয়ের পছন্দের কতখানি মূল্য আছে তার কাছে? বললে আবার হিতে বিপরীত হয় কি না, তা ভাবতে ভাবতেই দিন গড়িয়ে মোটামুটি বিকেল চলে এল।

বিকেলবেলা শান্ত একটি চেয়ারে বসেছিল রিসোর্টের এক পাশে, বাকিরা ছাদে ছিল। রিসোর্টের ভেতর থেকে বেরিয়ে এল ইরা। ছাদ থেকে ইরাকে দেখে সবাই বেশ খুশি, যে সে অন্তত রুম ছেড়ে বের হয়েছে।

ইরাকে এগিয়ে আসতে দেখে উঠে দাঁড়ালো শান্ত।

“বসুন, শান্ত সাহেব বসুন।” হাত নাড়িয়ে ইশারা করতে করতে ইরা বলল।

“আপনি বের হয়ে আসছেন? এটা পৃথিবীর নবম আশ্চর্য হতে পারে।” মুচকি একটা হাসি দিয়ে শান্ত বলল।

“নবম? অষ্টম কোনটা তবে?” ইরা জিজ্ঞেস করল।

“মাহির কে এয়ারপোর্ট থেকে নিতে আসার দিন আমি কোনো অ্যালার্ম নামক শব্দ বোমার আগেই ঘুম থেকে উঠে গিয়েছিলাম। ওইটা অষ্টম আশ্চর্য ছিল।” জবাবে শান্ত বলল।

কথাটা শুনে ইরা হাসলো। আর বলল, “আপনি অনেক মজার মানুষ।”

“তো, কি ঠিক করলেন? বাড়ি ফিরছেন কবে?” শান্ত জিজ্ঞেস করল।

“দেখি, আপনারা যতদিন আছেন ততদিন এখানে থাকি। পরে অন্য কোথাও যাবো। বাড়িতে এত তাড়াতাড়ি ফিরছি না। দরকার হয় মামার কাছে যাবো।” জবাবে ইরা বলল।

“আমরা তো কালকেই ফিরে যাচ্ছি।” শান্ত বলল।

“ওহ, কালকেই ফিরছেন।” ইরা একটু নিচু সুরেই বলল।

“হ্যাঁ, তবে আপনার সাথে আমার একটা কথা ছিল, যদি না বলি আক্ষেপ থেকে যাবে।” শান্ত বলল।

“কী কথা?” ইরা জিজ্ঞেস করল।

“হাঁটতে হাঁটতে বলি?” বসা থেকে দাঁড়িয়ে শান্ত জিজ্ঞেস করল।

“হ্যাঁ, চলুন।” ইরা সম্মতি দিয়ে হাঁটতে শুরু করল।

“বিগত অনেক দিন ধরেই আমার জন্য মেয়ে দেখছে আমার পরিবার। বেশ অনেক গুলো মেয়ে দেখলেও আমার পছন্দ হয়নি। কিন্তু আপনাকে দেখে আমি চোখ সরাতে পারছি না। ভুলতেও পারছি না এই মায়াবী চেহারা। বারবার ঘুরেফিরে আপনার কথাই মাথায় আসছে, আপনার মুখই চোখে ভেসে উঠছে।” বেশ ভালোভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে থামলো শান্ত।

“কী বলতে চাচ্ছেন? আমি ঠিক স্পষ্ট নই।” মনে মনে খুশি হয়ে ইরা বলল।

“আপনার বয়ফ্রেন্ড আছে?” শান্ত জিজ্ঞেস করল।

“না, থাকলে হয়ত বয়ফ্রেন্ডের সাথেই পালাতাম। আসলে বয়ফ্রেন্ড এর ব্যাপারে আমার বেশি একটা আগ্রহ নেই। ছোট থেকেই ঠিক করে রেখেছি ডিরেক্ট বিয়ে করবো।” জবাবে ইরা বলল।

“আমরা কি আপনি থেকে তুমিতে আসতে পারি না?” শান্ত জিজ্ঞেস করল।

“হ্যাঁ, তা পারি।” ইরা জবাবে বলল।

তাহলে তুমি করেই বলি, “একটু দাঁড়াও আর আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনো।”

পাশের বাগান থেকে একটি গোলাপি গোলাপ ছিঁড়ে শান্ত ইরার দিকে এগিয়ে দিল। তারপর ধীরে ধীরে এক হাঁটু গেড়ে বসে মৃদু স্বরে বলল—

“আমি পাহাড় দেখেছি, তবু থামিনি।
সমুদ্র দেখেছি, তবু হারাইনি।
ভোরের শিশির ছুঁয়েছি, তবু মুগ্ধ হইনি।
হাজারো ফুলের সুবাস নিয়েছি, তবু মাতাল হইনি।
আমি তোমায় দেখেছি, নিজেকে আর নিজের বলে মনে হয়নি।
হৃদয়টা নিঃশব্দেই তোমাকে দিয়ে দিয়েছি।
তুমি কি আমার হবে, ইরা?”

এক্ষুনি এমন ঘটনা হবে স্বপ্নেও ভাবেনি ইরা। শান্তর হাত থেকে গোলাপ ফুলটা নিয়ে সে বেশ কাঁপা কাঁপা গলায় উত্তর দিলো, “হ্যাঁ।” উত্তরটি দিয়ে দৌড়ে একপাশে গিয়ে দাঁড়ায় সে। লজ্জায় চোখ মেলতে পারছে না ইরা।

ছাদ থেকে সব দেখছিল মাহির, রবি, তানিশা, জারা ও নীলা। প্রপোজের উত্তর শুনার অপেক্ষায় ছিল তারা। উত্তর দিতেই দৌড়ে নিচে নেমে আসে সবাই। আকস্মিক সবার এমন উপস্থিতিতে শান্ত ও বেশ লজ্জা পায়। আর ওইদিকে ইরা এখনো এইদিক ফিরে তাকায়ই নি। তানিশা আর জারা গিয়ে এগিয়ে নিয়ে আসলো ইরাকে।

“প্রথম দিন শান্ত ভাইয়ের তাকানোর ভঙ্গি দেখেই বুঝে গিয়েছিলাম, এইখানে ঘাপলা আছে।” নীলা বলে উঠলো।

“যাক, অবশেষে শান্তর বিয়ে খেয়েই ফিরতে পারবো মনে হচ্ছে।” বেশ প্রফুল্ল হয়ে মাহির বলল।

“কিন্তু, বিয়ে কীভাবে হবে? ইরার বাবা তো ভীষণ রেগে আছে।” তানিশা বলল।

সবার কথা শুনেও ইরা চুপ করেই আছে। লজ্জায় এখনো কারো চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারছে না, মুখ তুলে তাকাতে পারছে না।

“আমরা সবাই মিলে ইরার বাবার সামনে গিয়ে দাঁড়াব। সবাইকে ওনি না করতে পারবেন না আশা করি। যত যাই হোক মেয়ের মায়াবী চেহারা কি কোনো বাবা উপেক্ষা করতে পারে?” রবি বলল।

“আমরা তো এখনো এই ব্যাপারে ঠিক করে কথাই বলতে পারলাম না। কথার মাঝেই সবাই এসে উপস্থিত।” শান্ত বলল।

“আচ্ছা, আমরা যাচ্ছি। কথা বলে জানা, কী করতে হবে না করতে হবে।” বলে সবাইকে নিয়ে চলে গেল মাহির।

সবাই চলে যাওয়ার পর ইরার দিকে এগিয়ে গেল শান্ত। এগিয়ে বলল, “আমরা বসেই কথা বলি নাহয়। কী বলো?”

বেশ কোমল ভাবে ইরার মুখ থেকে উত্তর এলো, “হু।”

“তাহলে চল, গিয়ে বসি।” বলে ইরাকে নিয়ে এগিয়ে গেল শান্ত। গিয়ে মুখোমুখি চেয়ারের দুইদিকে বসল দুইজন।

“তোমার আমাকে সত্যিই পছন্দ হয়েছে তো?” শান্ত জিজ্ঞেস করল।

কোনো কথা বলে শুধু মাথা নাড়ল ইরা।

“এখনো লজ্জা পাচ্ছো। এমন লাজুক মেয়ে কয়জনের কপালেই বা জোটে? আমি সব দিক থেকেই ভাগ্যবান।” ইরার দিকে কোমল দৃষ্টি নিয়ে শান্ত বলল।

“কিন্তু, আমার বাবা কি মেনে নেবে?” এতক্ষণে ইরার মুখ দিয়ে কথা ফুটলো।

“কী করলে সহজে মানতে পারে?” শান্ত জিজ্ঞেস করল।

“বাবার অনেক রাগ, আর রাগের চেয়েও বেশি হলো জেদ। যা বলে তাই করে।” ইরা বলল।

“আচ্ছা, আমরা সবাই ভাবি কি করবো। ভেবে চিন্তেই সব করতে হবে। তুমি তোমার রুমে যাও, আমি দেখছি কি করা যায়।” ইরা কে আশ্বস্ত করে শান্ত বলল।

বিজ্ঞাপন
এ কী বুদ্ধি দিলে তুমি? গল্পটি মীর মোঃ তানজিরুল ইসলাম-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও ফ্যামিলি ড্রামা