এ কী বুদ্ধি দিলে তুমি?

পর্ব - ৫

🟢

ফ্রেশ হয়ে নির্ধারিত সময়ে খাবারের টেবিলে এসে উপস্থিত সবাই। রিসোর্টের একদিকে রেস্টুরেন্টের মধ্যেই সবার খাবারের ব্যবস্থা হয়েছে। রিসোর্টে আসা সবাই এখানেই খাওয়া দাওয়া করে, কেউ চাইলে রুমেও খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়।

টেবিলে বসে খাবারের বাহার দেখে মাহির বলে উঠলো, “কিরে এত রকম পদ পাওয়া যায় এই রেস্টুরেন্টে?”

“আরে না। তোদের জন্য এক্সট্রা আছে অনেক কিছু এখানে, যেগুলো এখানে এমনিতে বানানো হয় না।” জবাবে রবি বলল।

“এক্সট্রা করে এত কিছু করতে গেলি কেন? আজকেই লাস্ট, সামনে যতদিন আছি এক্সট্রা কিছু করিস না। এত খাবার কে খাবে?” শান্ত বলল।

“আচ্ছা, ওইসব আমি বুঝবো।” রবি বলল।

“না না, এত কিছুর আয়োজন করিস না রবি।” মাহির বলল।

খাওয়া দাওয়া শেষে সবাই মিলে বসে বেশ গল্প গুজব হলো। তারপর সবাই রেস্ট নিতে গেলেও শান্ত আর নীলা একসাথে চারিদিকটা দেখতে বের হলো। একটু হাঁটাহাঁটি করে রিসোর্টের এক দিকে বসার একটি জায়গায় বসলো দুজনে। বসে গল্প করার সময় একজন লোক তাদের দিকে এগিয়ে এসে বলল, “আপনিই তাহলে রবি স্যারের বন্ধু?”

“আমি শান্ত, রবি আমি আর মাহির এক সাথেই বড়ো হয়েছি। কিন্তু আপনাকে তো ঠিক চিনলাম না, কে আপনি?” তার কথার উত্তর দিয়ে শান্ত জিজ্ঞেস করল।

“আমি এখানকার হাউস কিপিং ম্যানেজার।” উত্তর দিলো লোকটা।

“আপনার নাম?” শান্ত জিজ্ঞেস করল।

“আমি জায়েদ।” প্রত্যুত্তরে বলল লোকটা।

“আচ্ছা জায়েদ সাহেব, আপনার সাথে পরে দেখা হবে।” বলে ফুলের বাগানের দিকে এগোতে থাকে শান্ত আর নীলা।

ফুলের বাগানে একটি অদ্ভুত সুন্দর ফুল দেখতে পেল নীলা। বাগানটা রিসোর্টের মেইন বিল্ডিং এর সাথে লাগোয়া। গাছটার ফুল যেমন সুন্দর, তার পাতাও সুন্দর। ফুল গাছটা দেখে এগিয়ে যেতে যেতে নীলা বলল, “এই গাছটা চেনেন ভাইয়া?”

“না, আগে দেখিনি কোথাও।” শান্ত জবাবে বলল।

“দেখেন কত সুন্দর ফুলগুলো, আর গাছটাও কত সুন্দর। এখানে আমার কয়েকটা ছবি তুলে দেবেন?” ফুল গাছটার কাছে গিয়ে নীলা বলল।

“তোমার ফোন দাও, তুলে দিচ্ছি।” শান্ত বলল।

নীলা ফোন এগিয়ে দিতেই পাশের জানালা থেকে একটা মেয়ে বলে উঠলো “এখানে এসে এত কথা বলছেন কেন? কথা বলার কি আর কোনো জায়গা নেই?”

নীলা আর শান্ত জানালার পাশেই ছিল। জানালায় এতক্ষণ পর্দা দেওয়া থাকায় ভেতরে কারো উপস্থিতি টের পাওয়া যায়নি। আকস্মিক এমন প্রশ্নে জানালার বুক বরাবর দাঁড়াতেই শান্তর পৃথিবী যেন খানিকটা ধীর গতিতে চলতে শুরু করে। জানালার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে এক তরুণী। ভ্রু সামান্য কুঁচকে আছে, ঠোঁটে বিরক্তির ক্ষীণ রেখা, চোখে স্পষ্ট অস্বস্তির ছাপ। তবু সেই বিরক্তির মধ্যেও কী অপার্থিব সৌন্দর্য! মনে হলো, বিরক্তি কিংবা রাগও বুঝি কখনো কখনো রূপের অলংকার হয়ে ওঠে।

শান্ত বিস্মিত চোখে তাকিয়ে রইল। এ কেমন মুখ, যার বিরক্তিও মুগ্ধতা জাগায়! এ কেমন চোখ, যেখানে রাগের ঢেউয়ের আড়ালেও গভীর সমুদ্রের নীল নীরবতা লুকিয়ে আছে। যেন শত অভিমানের ভেতর দিয়েও আলো ছড়িয়ে পড়ছে। মুহূর্তটির পর আর চারপাশের কোনো শব্দ তার কানে পৌঁছাল না। সে কেবল অনুভব করল, পৃথিবীর সমস্ত কোলাহল স্তব্ধ হয়ে সেই দুটি চোখের গভীরে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

“ভাইয়া, এই ভাইয়া” এই বলে একটা ধাক্কা দেওয়ার পর শান্ত হতচকিত হয়ে নীলা কে বলল, “ধাক্কা দিচ্ছ কেন?”

“আপনারা এইখান থেকে অন্য জায়গায় যান, প্লিজ। আমার মাথা ব্যথা করছে, আপনাদের কথার শব্দে ঘুমাতেও পারছি না।” জানালার ওপাশ থেকে তরুণী বলল।

এই কথা শুনে শান্ত বলল, “চলে যাচ্ছি, কিন্তু একটা প্রশ্ন ছিল।”

“কী প্রশ্ন?” তরুণী জিজ্ঞেস করল।

বিজ্ঞাপন

“আপনার নাম কী?” শান্ত জবাবে পুনরায় প্রশ্ন ছুড়ে দিল।

“আমার নাম নিয়ে আপনার তো কোনো দরকার থাকতে পারে না। আপনি এইখান থেকে এখন যান।” তরুণী আবারও একটু বিরক্তি নিয়ে বলল।

“আচ্ছা যাচ্ছি…” বলেই নীলা কে নিয়ে জানালার সামনে থেকে প্রস্থান করল শান্ত।

একটু রেস্ট নেওয়ার পর পরই সন্ধ্যা নেমে আসলো। শান্তর রুমের দরজায় তৃতীয় বারের মতো ধাক্কা দিয়ে কেউ একজন বলে গেল, “ভাই, রবি স্যারেরা রিসোর্টের ছাদে গেছে আপনাকেও যেতে বলল।”

এবার না গেলে সমস্যাই হবে এটা ভেবে নিজের গিটারটি হাতে নিয়ে ছাদে গেল শান্ত। তার মন আজকে বেশ ভালো। ছাদে গিয়ে দেখলো সবাই বসা, শুধু তার জন্যই একটা ফাঁকা চেয়ার পড়ে আছে। চেয়ারে গিয়ে বসার পর মাহির বলল, “কিরে কি করিস তুই রুমের ভেতর? এতবার খবর পাঠাতে হলো!”

“কিছু করছিলাম না, একটু পরে আসবো ভেবেছিলাম। কিন্তু তোদের পাল্লায় পড়ে কি আর সেই উপায় আছে?” শান্ত একটু বিরক্তি নিয়ে বলল। বিরক্তি নিয়ে বললেও তার চোখে মুখে স্পষ্ট যে সে বেশ খুশি মনেই আছে। শান্ত আসার পূর্বে ইতিমধ্যেই নীলা বিকেলের ঘটনার সবকিছু বলে সবাইকে।

“মেয়েটা কে রে শান্ত?” মাহির জিজ্ঞেস করল।

“কে? কোন মেয়ে?” শান্ত জবাবে জিজ্ঞেস করল।

“ওই যে আজকে তুই যার জানালার পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলি কিছুক্ষণ।” রবি পাশ থেকে বলল।

“আমি কী করে জানবো সে কে?” শান্ত একটু হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় বলল।

“আচ্ছা, ওই খবর পরে নিচ্ছি। এখন বল, কালকে কোথায় যাবি প্রথমে?” রবি জিজ্ঞেস করল।

“এখানে আশেপাশে কি কি আছে আগে বল আগে, তারপর ডিসিশন নিবো।” মাহির বলল।

রবি বলতে শুরু করল, “এখানে আশে পাশে বেশ কিছু চা বাগান আছে। যেমন - বৃন্দাবন চা বাগান, মধুপুর চা বাগান, ইমাম বাওয়ানি চা বাগান। এছাড়া রুপাইছড়া রাবার বাগান আছে। আর সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো ‘দ্য প্যালেস লাক্সারি রিসোর্ট।’ এই রিসোর্টটা সারাদেশে বেশ সুপরিচিত এবং সুন্দর রিসোর্ট।” বলে থামল রবি।

“হ্যাঁ, বৃন্দাবন চা বাগান আর দ্য প্যালেস লাক্সারি রিসোর্টের ব্যাপারে শুনেছি আমি।” পাশ থেকে নীলা বলল।

“তাহলে কী দিয়ে শুরু করবি বল?” রবি জিজ্ঞেস করল।

“আশেপাশে তো আমরা চিনি না তুই যেভাবে বলবি ওইভাবেই হবে সব।” শান্ত জবাবে বলল।

কথা বলতে বলতেই মাঝে জায়েদ এসে রবিকে জানাল, “স্যার, ১০৪ নাম্বার রুমে যেই মেয়েটা উঠেছে সে রুম থেকে কখনো বের হয় না। রুমের ভেতর থেকেই খাবার অর্ডার করে, আমরা পৌঁছে দিলে রুমেই খাওয়া দাওয়া করে।”

“রুম থেকে কখনো বের হয় না?” রবি জায়েদকে জিজ্ঞেস করল।

“একদমই বের হয় না, খাবার দিতে গেলে দরজা খুলে খাবার নেয়, এইটুকুই।” জায়েদ জবাবে বলল।

“আচ্ছা, নজরে রেখো। এইভাবে রুমে বসে থাকে, উল্টো পাল্টা কিছু করে এসে এখানে গা ঢাকা দিয়েছে কি না কে জানে।” রবি বলল।

“আরে না, আমার কাছ থেকেই তো নিলো রুম। আমার তো এমন কিছু মনে হয় নি।” জারা বলল।

“একা একটা মেয়েকে রুম দিয়েছ, না জানি কোন বিপদে পড়ি।” রবি একটু চিন্তিত সুরে বলল।

“কেন মেয়েরা একা এসে রুম নিলে সমস্যা কী? ছেলেরাও তো একা আসে।” জারা বলল।

বিজ্ঞাপন
এ কী বুদ্ধি দিলে তুমি? গল্পটি মীর মোঃ তানজিরুল ইসলাম-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও ফ্যামিলি ড্রামা