এ কী বুদ্ধি দিলে তুমি?

পর্ব - ১০

🟢

আর কোনো কথা না বাড়িয়ে চেয়ার থেকে উঠে ইরা চলে গেল তার রুমে। আর শান্ত গেল সবার সাথে আলোচনা করতে। আলোচনা শেষে সন্ধ্যার পর সবাই ইরাকে ছাদে ডাকল। ছাদে গিয়ে বসার পর শান্ত ইরাকে বলল, “আমরা সবাই মিলে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

“কী সিদ্ধান্ত?” ইরা জিজ্ঞেস করল।

“আমরা সবাই মিলে তোমার বাসায় যাবো, তোমাকে সাথে নিয়ে। গিয়ে তোমার মা বাবাকে বুঝিয়ে বলবো।” শান্ত বলল।

“আমিও তাই ভাবছিলাম। কিন্তু সবার আগে করিম আঙ্কেলকে বুঝিয়ে বলতে হবে সব। করিম আঙ্কেল বাবার ছোট বেলার বন্ধু। আব্বু সবকিছু তার সাথে আলোচনা করেই করে। আর আঙ্কেল আমাকে অনেক ভালোবাসে। সে থাকলে বিষয়টা সহজ হবে। আর আমার বেস্ট ফ্রেন্ডকেও সাথে নিয়ে যাবো বাসায়।” ইরা বলল।

“আচ্ছা, তাহলে তোমার আঙ্কেলকে সবটা খুলে বলো রাতের মধ্যেই। আর তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড কে? নাম কী?” শান্ত জিজ্ঞেস করল।

“বৈশাখী” ইরা জবাবে বলল।

“বাহ! নামটা তো ভীষণ সুন্দর।” পাশ থেকে নীলা বলল।

“হ্যাঁ, ওর জন্ম হয়েছিল পহেলা বৈশাখে। তাই নাম রাখা হয়েছে বৈশাখী সাহা। ডাক নাম তৃষা। কিন্তু বৈশাখী নামটাই আমার বেশী প্রিয়।” ইরা বলল।

“আচ্ছা, তাহলে বলে ফেলো তোমার আঙ্কেল আর বৈশাখীকে।” শান্ত বলল।

“ঠিক আছে। কিন্তু আমরা কবে যাবো?” ইরা প্রশ্ন করল।

“কালকে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়বো সবাই।” শান্ত জবাবে বলল।

করিম সাহেবকে ফোন দিয়ে সব খুলে বলে ইরা। সে সবকিছু শুনে কালকে সময়ের আগেই ইরাদের বাসায় উপস্থিত থাকবে বলে কথা দেয়। আর রাতের খাবার শেষে বৈশাখীকে সবকিছু খুলে বলে ইরা। বৈশাখী ইরাদের সাথেই বাসায় ঢুকবে।

পরদিন সকাল সকাল বেরিয়ে পড়ে সবাই। গাড়িতে যেতে যেতে একটা গান শুনার আবদার করে নীলা। কিন্তু আজকে কী হবে সেই চিন্তায় গলা শুকিয়ে গেছে শান্তর। পরবর্তীতে ইরা বলায় শান্ত গাইতে শুরু করল তাহসান খানের গান,

“ভালোবাসা ফুরায় না

প্রেম কভু হারায় না

অনুভবে থাকে যার যার…

কেউ না জানুক আমি তো জানি আমি তোমার

কেউ না জানুক তুমি তো জানো তুমি আমার…”

শান্তর কণ্ঠে গান শুনে ইরা নিজেও কিছুটা শান্তি পেল। বেশ চিন্তিত সে। আজকে কী যে হবে?

অবশেষে গাড়ি এসে ইরাদের বাসার নিচে হাজির। সেখানে আগে থেকেই দাঁড়ানো ছিল বৈশাখী। গাড়ি থেকে নামতেই সবার সাথে কুশল বিনিময় করল বৈশাখী। এতক্ষণ খুব বেশি চিন্তিত না হলেও এখন যেন চিন্তা আর অস্থিরতা ঝাপটে ধরেছে শান্তকে। এক একটা সিঁড়ি উঠলেই যেন চিন্তা বেড়ে কয়েকগুণ হয়ে যায়। অবশেষে তৃতীয় তলায় এসে হাজির হয় সবাই। বাসার কলিং বেল দিতেই ইরার আম্মু এসে দরজা খুলে। দরজা খুলে এত মানুষ একসাথে দেখে উপস্থিত কী বলবে বুঝে উঠতে পারছে না সে। পেছন থেকে ইরা সামনে আসলে তাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে শুরু করে ইরার আম্মু।

“কে এসেছে?” বলে ভেতর থেকে হাঁক দিল ইরার বাবা।

বিজ্ঞাপন

“তোমার মেয়ে এসেছে।” কান্না জড়িত কণ্ঠে ইরার আম্মু বলল।

এইকথা শোনায় ভেতর থেকে বেরিয়ে আসলো ইরার বাবা ও করিম সাহেব। সবাই তখনো দরজার বাইরেই দাঁড়ানো।

“এত মানুষ কেন? আর ও আমার বাসায় আসছে কেন? চলে যেতে বলো ওকে।” বলে ভেতরের রুমে চলে যায় ইরার বাবা।

“শফিক অনেক অভিমান করে আছে ইরার উপর। ইরা মা, এই কাজটা একদমই ঠিক হয় নাই তোর। এইভাবে না বলে বাসা থেকে চলে যায় কেউ?” করিম সাহেব গম্ভীরভাবে বললেন।

এই কথা শুনার সাথে সাথে করিম সাহেবের কাছে এসে কান্না করতে থাকে ইরা।

“আপনারা ভেতরে আসুন, বসুন এইখানে।” ড্রয়িং রুমের সোফার দিকে ইশারা করে করিম সাহেব বললেন।

ইরাকে নিয়ে ভেতরে গেলেন করিম সাহেব। মোটামুটি আধা ঘণ্টা পর রুম থেকে বেরিয়ে আসলেন করিম সাহেব।

এসে বললেন, “শান্ত, বাবা তুমি ভেতরে আসো।”

শান্ত ভেতরে গিয়ে দেখলো বাবার পাশেই বসে আছে ইরা। আর শফিক সাহেবের চেহারাতেও আগের রাগ বা অভিমানের ছাপ নেই। কিন্তু সে যে কান্না করেছে এটা তার চেহারাতেই ফুটে আছে। এখনো গালের এক পাশে কয়েক ফোঁটা চোখের পানি লেগে আছে।

“বাবা, তুমি এখানে বসো।” বিছানার একটা পাশ কে ইঙ্গিত করে করিম সাহেব বললেন।

“আমি আমার মেয়েকে অনেক ভালোবাসি। আমার একমাত্র মেয়ে ইরা। এই পৃথিবীতে ওর হাসির চেয়ে প্রিয় কিছু নেই আমার কাছে। আমি তোমার ব্যাপারে সব শুনেছি। করিম আর ইরা দুজনেই বলেছে আমাকে। আমার মেয়েটাকে ভালো রেখো।” বলে থামলো শফিক সাহেব।

“আমি কখনো হয়ত আপনার চেয়ে বেশি ভালো রাখতে পারবো না ইরা কে। ভালোবাসতেও পারবো না আপনার চেয়ে বেশি। কিন্তু আপনি এবং আন্টির পরে যদি ইরা কে কেউ ভালোবাসে, ভালোরাখে সেটা আমি হব, ইনশাল্লাহ।” বিনয়ের সাথে এই কথা বলে থামলো শান্ত।

“তাহলে আর কী? তোমার মা বাবাকে খবর দাও। তারা আসুক, একটা ভালো দিন দেখে চার হাত এক করে দেই তোমাদের।” শফিক সাহেব বললেন।

“জি” শান্ত জবাবে বলল।

কথাবার্তা শেষে রুম থেকে বেরিয়ে আসলো শফিক সাহেব। পেছন পেছন ইরা, শান্ত আর করিম সাহেবও বেরিয়ে এলেন।

“এই, তুমি এখনো ওদেরকে কিছু খেতে দাওনি?” ইরার আম্মুকে উদ্দেশ্য করে বলল ইরার বাবা।

“তোমরা কিছু মনে করো না বাবা। বুঝতেই তো পারছো এতক্ষণ কি গেছে।” করিম সাহেব সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন।

“আরে না না আঙ্কেল, কোনো সমস্যা নেই। এত সহজে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে আমরা ভাবিনি” রবি বলল।

একটু পর নাস্তা আসলো। নাস্তা খেতে খেতে সবাই মিলে একটা আড্ডা হলো।

কিছুদিন পর পারিবারিক সম্মতিতে ইরা এবং শান্তর বিয়ে হয়। দুই পরিবারের সবাই খুশি। বিয়েতে অনেক আনন্দ করে মাহির, রবি, তানিশা, জারা, নীলা ও বৈশাখী সহ সবাই।

বর্তমানে তাদের সংসারের ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। মাহির তার স্ত্রীকে নিয়ে ইংল্যান্ড ফিরে গেছে অনেক আগেই। রবি ও জারা তাদের রিসোর্টে কর্মব্যস্ততার মাঝে দিন কাটাচ্ছে।

সূর্য যেমন প্রতিদিন অস্ত যায়, আবার নতুন ভোর নিয়ে ফিরে আসে, তেমনি তাদের জীবনও নতুন দিনের দিকে এগিয়ে চলল। আর সেই পথচলার সাক্ষী হয়ে রইল তাদের অগণিত স্মৃতি। এখানেই শেষ হলো তাদের গল্প— তবে জীবনের পথচলা নয়।

বিজ্ঞাপন
এ কী বুদ্ধি দিলে তুমি? গল্পটি মীর মোঃ তানজিরুল ইসলাম-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও ফ্যামিলি ড্রামা