অয়ন কিছুক্ষণ সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে। একবার নয়, দু’বার নয়, বারবার আহি'র দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় উঠে আসতে বলে। কিন্তু আহি একদম নড়েচড়ে বসে না। উল্টো বাবার পাশে বসে দাঁত কেলিয়ে হাসছে, যেন ইচ্ছা করেই তাকে আরও ক্ষেপিয়ে তুলছে। এই দৃশ্য দেখে অয়নে র ধৈর্যের বাঁধ ভাঙতে শুরু করে।
সে দাঁতে দাঁত চেপে, বিরক্ত কণ্ঠে বলে ওঠে—
“দোয়েল পাখি, আমার রুমে আয় তো। তোর সঙ্গে আমার পার্সোনাল কথা আছে।
আহি নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে তার দিকে তাকায়। চোখেমুখে এমন এক ভাব, দেখলে কেউ বোঝতেই পারবে না মেয়েটা এতো বিচ্ছু। সে কোনো উত্তর দেয় না, শুধু ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ঝুলিয়ে বসে থাকে।
ঠিক তখনই অয়নে'র কণ্ঠস্বর কানে যেতেই মহিবুল শেখ গম্ভীর হয়ে ওঠেন।
- আহি তোমার সঙ্গে কেন যাবে? তোমরা হলে ভাই-বোন। তোমাদের মধ্যে এমন কোনো পার্সোনাল কথা নেই, যেটা আলাদা করে বলতে হবে।
মহিবুল শেখের কথায় আহি যেন আরও সাহস পেয়ে যায়। সে সঙ্গে সঙ্গে মাথা নেড়ে সায় দিয়ে বলে,
"হ্যাঁ হ্যাঁ, অয়ন ভাই! আব্বাজান তো ঠিকই বলেছেন। আপনার যদি কিছু বলার থাকে, এখানেই বলুন।
অয়নে'র মুখ শক্ত হয়ে যায়। চোখে একরাশ বিরক্তি জমে ওঠে। সে আবারও আদেশের সুরে বলে,
“তোকে আসতে বলছি। তাড়াতাড়ি আমার পিছু পিছু আয়।
কিন্তু এবারও তাকে থামিয়ে দেন মহিবুল শেখ। আগের চেয়েও স্পষ্ট ও কঠোর কণ্ঠে বলেন,
- বললাম তো, আমার মেয়ে তোমার সঙ্গে যাবে না। যদি কোনো দরকার থাকে, এখানেই বলো। আলাদা করে কোথাও যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
অয়ন দাঁতে দাঁত খিচিয়ে হঠাৎই বলে ওঠে—
“আপনার মেয়েকে আমি শক্ত করে বুকে জড়িয়ে চুমু দেবো। দিতে দেবেন? দেবেন না তো? তাহলে শুনে রাখুন, ওকে আমার রুমে নিয়ে গিয়ে পটাপট কয়েকটা চুমু দিয়ে আবার ঠিক আপনার পাশেই এনে বসিয়ে দিয়ে যাবো। বুঝতে পেরেছেন তো?
জাহিদ শেখ হঠাৎ করেই জোরে কাশতে শুরু করেন। তিনি এক পলক নিজের ছোট ভাইয়ের আগুনঝরা মুখের দিকে তাকান, তারপর পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই কিছু না বলে কিচেন রুমের দিকে হাঁটা দেন।
তিনি ভালো করেই জানেন, এখন এখানে থাকলে জামাই বনাম শ্বশুর যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী। পরক্ষণেই মহিবুল শেখ বজ্রকণ্ঠে গর্জে ওঠেন,
- বেয়াদব ছেলে! কোথায় কী বলতে হয়, সেই বোধটুকুও কি তোমার নেই?
সে দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে আবারও কঠোর স্বরে বলেন,
- আমি তোমাকে কতবার বলেছি, আমার মেয়েকে নিজের মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দাও। অথচ তুমি তার বদলে এমন অসভ্য, কথা বলছো!
অয়ন হেসে ফেলে। সেই হাসিতে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই, আছে স্পর্ধা আর জেদ।
“এ্যাহ্! বললেই হয়ে গেল নাকি? আপনার মেয়েকে আমি বিয়ে করবো। আর আপনাকে ‘নানা’ ডাক না শোনা পর্যন্ত আমার কাছ থেকে কোনো সভ্য ব্যবহার আশা করবেন না। তে আপনার প্রব্লেম হলে কানে তুলা গুঁজে রাখুন।
তারপর হঠাৎ করে আহি'র দিকে তাকিয়ে অয়ন বলে উঠলো,
“দোয়েল পাখি, তুই নিজে আমার কাছে আসবি, না কি তুলে নিয়ে আসতে হবে?
মহিবুল শেখের মুখ রাগে শক্ত হয়ে যায়। তিনি দাঁত চেপে বলেন,
- এদিকে এসে বলো, এক থাপ্পড় দিয়ে সব দাঁত ফেলো দেবো। আর দরকার হলে আমার মেয়েকে একটা পাগলের সাথে বিয়ে দেবো, তবুও তোমার সাথে এক চুলও সম্পর্ক করবো না।
অয়ন হেসে ওঠে এবং মুখ বাকিয়ে আওরায়,
“তা দেবেন কেন? আপনি তো নিজেই একটা পাগল। তাই মেয়েটাকেও পাগলের সাথেই বিয়ে দিতে চাইছেন। চোখের সামনে দিনরাত একটা হ্যান্ডসাম ছেলে ঘুরঘুর করছে, তাকে না দেখে আপনি ওই পাগল ছাগলের কথা বলছেন! আপনার রুচি এতো জঘন্য কবে থেকে হলো শুনি?
মহিবুল শেখ চেঁচিয়ে উঠলো,
- অয়ন…
“আরে শ্বশুর আব্বা এতো চিৎকার করছেন কেন? এমনিতেই আপনার হাই প্রেসার, কখন কি করে বসেন বলা যায় না তো।
অয়ন শান্ত দৃষ্টিতে আহি'র দিকে তাকিয়ে আবারও বলল,
“আপাতত তোর পানিশমেন্ট তুলে রাখলাম পড়ে এর বাঁদরামি করার ফল পাবি। তারাতাড়ি রেডি হয়ে নে, দশটা প্রায় বেজে গেছে।
অয়ন কথাটা বলেই গটগট করে নিজের রুমে ঢুকে পড়ে। আহি সেদিকে তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে। একটু হাফ ছেড়ে বাঁচলো।
_
_
অয়ন শার্টের হাতা গুটাতে গুটাতে সদর দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসে। দেয়ালে ঝোলানো ঘড়ির দিকে একবার তাকিয়েই কপাল কুঁচকে যায় তার। ঠিক এগারোটায় অপারেশন, আর এখন বাজে সাড়ে দশটা। মাত্র ত্রিশ মিনিটের মধ্যে তাকে হসপিটালে পৌঁছাতে হবে। সময়ের এই চাপটুকু তার কাঁধে যেন পাহাড় হয়ে বসে আছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা— আহি, সে এখনো রেডি নয়।
একবার ডাক দেয়,
দু’বার ডাক দেয়,
তিনবার ডাক দেয়,
কোনো সাড়া নেই।
অয়ন বিরক্তিতে দাঁতে দাঁত চেপে নেয়। ঠিক তখনই গুটি গুটি পায়ে আহি সামনে এসে দাঁড়ায়। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই, অয়ন থমকে যায়। সাদা কলেজ ড্রেসে আহি'কে আজ অসম্ভব রকম সুন্দর লাগছে। সেই সৌন্দর্য কোনো সাজগোজের না, একেবারে স্বাভাবিক, নিষ্পাপ। চোখ ফেরাতে চাইলেও পারে না অয়ন। এক মুহূর্তের জন্য সময়, অপারেশন, হসপিটাল,সব কিছু ভুলে যায় সে।
"অয়ন ভাই?
আহি'র ডাকে তার ঘোর কাটে।
অয়ন অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিজেকে সামলে গাড়ির দিকে পা বাড়ায়। দরজা খুলতেই হঠাৎ চোখে পড়ে, ড্রাইভিং সিটের পাশেই বসে আছে তার বাবা, জাহিদ শেখ। অয়ন যেন পাথর হয়ে যায়।
ভ্রু নাচিয়ে অবাক কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে,
“আব্বা! আপনি হঠাৎ আমার গাড়িতে কী করছেন?
জাহিদ শেখ তাড়াহুড়ো করে উত্তর দেন,
- বাপ, এখন আর প্রশ্ন করিস না। তোদের জন্য অপেক্ষা করতে করতে অনেক দেরি হয়ে গেছে। আমার গাড়িটাও স্টার্ট নিচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে তোর গাড়িতেই উঠলাম। দয়া করে তাড়াতাড়ি আমাকে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছে দে।
অয়নের চোখ কপালে উঠে যায়।
“কিহহহহ! এখন আপনিও আমাদের সঙ্গে যাবেন?
ঠিক তখনই আহি বিরক্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে ওঠে,
"অয়ন ভাই, আপনি এভাবে চিৎকার করছেন কেন? বড় আব্বা যাবে এতে সমস্যা কী? আপনি ড্রাইভ করুন, আমি পেছনে বসছি।
এই বলে আহি ব্যাক সিটের দরজা খুলতে গেলে, ঠিক তখনই খপ করে অয়ন তার হাত ধরে ফেলে।
“হুসস! আব্বা আমাদের সঙ্গে যাবেন, ঠিক আছে। কিন্তু তুই ব্যাক সিটে বসবি না, তই আমার পাশেই বসবি। আব্বা ব্যাক সিটে বসবে৷
আহি হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকে।
"অয়ন ভাই, আপনি পাগল হয়ে গেছেন নাকি? এসব কী বলছেন?
অয়ন দাঁত চেপে ফিসফিস করে,
“চুপ কর মাতারি। আব্বা, আপনি ব্যাক সিটে বসুন।
জাহিদ শেখ গম্ভীর কণ্ঠে বলেন,
- তোমার পিঠে ঝাঁটার বাড়ি পড়েনি বলেই মাথা খারাপ হয়ে গেছে। দাঁড়াও তোমাড আম্মাকে ডাকছি।
অয়ন সঙ্গে সঙ্গে গলা নরম করে ফেলে,
“এই না না, তার কোনো দরকার নেই। এখানেই বসুন, আজ এভাবেই গাড়ি চালাচ্ছি। বুড়া বয়সে ঢং দেখে বাঁচি না হু!
এরপর আর কোনো কথা না বলে অয়ন গাড়ি স্টার্ট দেয়। গাড়ি ছুটতে থাকে নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে , আর অয়নে'র বুকের ভেতর জমে ওঠে একরাশ বিরক্তি, অস্থিরতা আর না বলা অনুভূতি।
গাড়ি চলছে দ্রুত, রাস্তার বাতাস আর অয়নের মন দু’টোই অস্থির। অয়ন মুখ ভার করে স্টিয়ারিং ধরে ড্রাইভ করছে। মন চায়, এই মুহূর্তেই সব ছেড়ে পালিয়ে যেতে কিন্তু যাওয়া অসম্ভব। কত সখ, কত ইচ্ছে ছিল,
বাসায় না পারলেও অন্তত গাড়িতে বসে দু’চারটা আদুরে চুমু দিতে পারত। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে— সঙ্গে আছে নিজের বাবা। জাহিদ শেখ সিটে হেলান দিয়ে বসে আছে। হঠাৎ গাড়ির হেলানে তাল সামলাতে না পেরে অয়নে'র ওপর ঝুঁকে পড়ে। অয়ন চোখ-মুখ কুঁচকে তাকায়, মনে শান্তি নেই। তার ওপর বাবা!
জাহিদ শেখ ছেলের রাগী দৃষ্টি বুঝে গম্ভীর স্বরে বলেন,
- এভাবে রাক্ষসের মতো তাকিয়ে আছো কেন? মনে হচ্ছে ওই চোখ দিয়েই আমাকে গিলে খাবে!
অয়ন দাঁত চেপে, গম্ভীর স্বরে জবাব দেয়,
“শুনুন আব্বা, আপনাকে খাওয়ার রুচি আমার কোনো কালেই নেই। তবে যদি মাইন্ড না করেন, তাহলে আপনার ভাইয়ের মেয়েটাকে একটু টেস্ট করতে পারি।
জাহিদ শেখ চমকে ওঠে। কপাল কুঁচকে বলে,
- লজ্জা করে না এসব নোংরা কথা বলতে? বেয়াদব ছেলে!
অয়ন ঠোঁটের কোণে অল্প ব্যঙ্গমিশ্রিত হাসি টেনে নিলো,
“এই সিম্পল কথাটাকেই আপনার নোংরা মনে হচ্ছে? হাও ফানি, তাহলে রাতে যদি…
জাহিদ শেখ কড়া স্বরে তাকে থামিয়ে দেয়।
- জাস্ট শাট আপ অয়ন। তুমি কি পাগল হয়ে গিয়েছো, মাথায় কোনো বোধ-বুদ্ধি নেই? কোথায় কী বলতে হয় সব ভুলে গেছো!
অয়ন এবার চোখ মেলে মুখে জেদ জমিয়ে বলে,
“হ্যাঁ, ভুলে গেছি, সব ভুলে গেছি। বিয়ে করিয়ে দেন তাহলেই সব মনে পড়বে। আর মনে রাখবেন, বিয়ে তো আমি আপনার মেঝ ভাইয়ের মেয়েকেই।
- স্বপ্ন দেখতে থাকো। স্বপ্ন দেখতে তো আর টাকা লাগে না।
জাহিদ শেখে’র কথায় কটাক্ষ স্পষ্ট। অয়ন তার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে উওর দেয়,
“শুধু টাকা না, যে বা*ল-ই লাগুক না কেন তবুও আপনার ভাইয়ের মেয়েকেই বিয়ে করবো। দেখে নিয়েন।
গাড়ির ভেতরে হঠাৎ অদ্ভুত এক পরিবেশ তৈরি হয়। আহি কখনো অয়নে’র দিকে, কখনো জাহিদ শেখে’র দিকে তাকাচ্ছে আহাম্মকের মতো। তারপর আর নিজেকে সামলাতে না পেরে খিলখিল করে হেসে ওঠে। অয়নের বিরক্তি চরমে পৌঁছায়। সে চোখ রাঙিয়ে ধমক দেয়,
—
“এই মাতারী হাসছিস কেন?
সঙ্গে সঙ্গে আহি’র হাসি উধাও। ঠোঁট চেপে চুপ হয়ে যায় সে। ঠিক সেই মুহূর্তে গাড়িটা সামান্য এদিক–ওদিক হলে জাহিদ শেখ আবার অয়নে’র গায়ে ধাক্কা খায়। একবার নয়, পরপর কয়েক’বার। বাবার শরীর গায়ের সঙ্গে ঘেঁষে যেতেই অয়নের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়।
সে দাঁত খিচিয়ে চেঁচিয়ে ওঠলো—
“আব্বা আব্বার জায়গায় থাকেন, এমন ভাবে ঘেঁষা ঘেঁষি করছেন কেন? মনে হচ্ছে আমি আপনার বউ, আর আপনি আমার জামাই। ছেলের বউ'কে ছেলের পাশে না বসিয়ে হাতির মতো নিজে এসে বসেছেন৷ একটু রোমান্টিক মুডে ড্রাইভ করবো সেটাও পারছি না হু!
জাহিদ শেখ হঠাৎ করেই প্রবলভাবে কাশতে শুরু করলেন। মুহূর্তের মধ্যেই গাড়ির ভেতরের বাতাস ভারী হয়ে উঠল। নিজের ছেলের মুখ থেকে এমন নির্লজ্জ কথা বেরোতে পারে এটা তিনি কল্পনাও করেননি। এতদিন জানতেন ছেলে বেয়াদব, কিন্তু যে এই মাত্রায় বেহায়া, সেটা আজ নতুন করে বুঝলেন। আহি দ্রুত ওয়াটার বোতল এগিয়ে দেয়। জাহিদ শেখ কাঁপা কাঁপা হাতে বোতলটা নিয়ে ঢকঢক করে পানি খেয়ে ফেলেন। বুকের ভেতর ধুকপুক করছে, চোখে বিস্ময়ের ছাপ স্পষ্ট। নিজের কানকেই যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না—এই কথাগুলো কি সত্যিই তার নিজের ছেলের মুখ থেকে বেরিয়েছে?
কিছুটা শান্ত হয়ে তিনি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে অয়নে’র দিকে তাকালেন। গলায় জমে থাকা রাগ আর বিস্ফোরিত হয়ে বেরিয়ে এলো,
- নির্লজ্জ, বেহায়া,নষ্টা ছেলে! তোমার মুখে কি কোনো কথা আটকায় না?
অয়ন একেবারেই নির্লিপ্ত।
স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে, চোখ সামনে রাস্তার দিকে, একটুও বিচলিত না হয়ে বলল—
“শুধু মুখে না আব্বা, আরও অনেক জায়গাতেও আটকায় না। নেহাত আমি দেখাই না বলে আপনি দেখতে পান না।
- অয়ন…
জাহিদ শেখের গলা কাঁপছে রাগে।
অয়ন হালকা হাসি দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে কথাটা ঘুরিয়ে নেয়,
“আরে আব্বা, আপনি রেগে যাচ্ছেন কেন? আমি তো চোখের দৃষ্টির কথাই বলছি। যেদিকে তাকাতে না চাই, সেদিকেই এই চোখ জোড়া এমনভাবে তাকিয়ে থাকে।
জাহিদ শেখ আর নিজেকে সামলাতে পারেন না। গম্ভীর, কঠোর কণ্ঠে বলে ওঠেন,
- তুমি গাড়ি থামাও। আমি এখানেই নেমে যাবো।
কথাটা শেষ হতে না হতেই অয়ন আচমকা ব্রেক কষে। গাড়ি ঝাঁকুনি দিয়ে থেমে যায়। অয়ন ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে নির্লজ্জ ভঙ্গিতে বলে—
“গাড়ি থামিয়েছি আব্বা। আপনি নিশ্চিন্তে নামতে পারেন।
- চুপ কর আহাম্মক, তারাতাড়ি আমাকে অফিসের সামনে নিয়ে চলো।
এই কথায় অয়ন মুখ বাঁকিয়ে নেয়। চোখে একরাশ তাচ্ছিল্য হাসি টেনে বলল,
“যার কথার সঙ্গে পাছার কোনো মিল নেই, তার সঙ্গে সংসার করছে আমার আম্মা, এটাই আশ্চর্যের। আমার আম্মা বলে করছে। অন্য কেউ হলে তো অনেক আগেই আপনার সংসারে লাথি দিয়ে চলে যেতো, হু।