লাল টুকটুকে শাড়িতে মোড়া আহি ধীরে ধীরে অয়নে’র সামনে এসে দাঁড়ায়। ঠিক সেই মুহূর্তে অয়ন যেন সময়ের ভেতর আটকে যায়। এক মুহূর্তের জন্য তার চারপাশের সব শব্দ থেমে যায়, দৃষ্টি জোড়া স্থির হয়ে থাকে আহি’র ওপর। চোখ সরানোর শক্তি তার নেই—যেন লাল শাড়ির আড়ালে লুকিয়ে থাকা মেয়েটা হঠাৎ করেই তার চেনা আহি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন কেউ হয়ে উঠেছে।
আহি সেই দৃষ্টি টের পেয়ে লজ্জায় মাথা নিচু করে নেয়। তার গালের ওপর লালচে আভা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মাহি পুরো দৃশ্যটা একবার ভালো করে লক্ষ্য করে নেয়। অয়ন আর আহি’র মাঝের নীরব ভাষা সে বুঝতে পারে খুব সহজেই। ঠোঁটের কোণে হালকা একচিলতে হাসি খেলিয়ে সে নিঃশব্দে দরজার দিকে পা বাড়ায়। দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দটা কানে যেতেই অয়ন যেন হুঁশ ফিরে পায়। এক মুহূর্ত দেরি না করে সে সামনে এগিয়ে এসে আচমকা আহি’কে কোলে তুলে নেয়। চারপাশে ঘুরতে শুরু করে।
হঠাৎ এমন কাণ্ডে আহি ভয় পেয়ে অয়নে’র চুল শক্ত করে খামচে ধরে।
"অয়ন ভাই নামান প্লিজ! ভয় লাগছে আমার, পড়ে যাবো তো!
অয়ন কিছু না বলে আরও কয়েকবার ঘুরিয়ে নেয় তাকে। তারপর ধীরে ধীরে নিচে নামিয়ে দেয়। কিন্তু ছাড়ে না। তার কোমর জড়িয়ে ধরে আরও একটু কাছে টেনে নেয়। খুব কাছ থেকে, নিঃশ্বাসের উষ্ণতায় মিশে গিয়ে আহি’র নাকের ডগায় গভীর এক চুম্বন বসিয়ে দেয়। হঠাৎ এই ঘনিষ্ঠতায় আহি ছটফট করে ওঠে। কিন্তু অয়ন তাকে ছাড়ে না বরং কানে ঠোঁট ছুঁইয়ে ফিসফিস করে বলে—
“পাখি, এবার চুলটা ছেড়ে দে। যখন টাইম আসবে, তখন ইচ্ছে মতো টানবি, কিন্তু এখন না।
আহি আরও লজ্জায় পড়ে যায়। ধীরে ধীরে আঙুলের বাঁধন আলগা করে দেয়। ঠিক তখনই অয়ন আবার তাকে কোলে তুলে নেয়। তার কণ্ঠ গভীর করে আওরায়,
“আজ আমার পাখি’টাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। ঠিক এতটাই অপূর্ব লাগছে যে নিজেকে কন্ট্রোল করতে কষ্ট হচ্ছে। এখন বলেন তো ম্যাডাম, এই কষ্টের মূল্য কবে দেবেন?
লজ্জা যেন আহি’কে আরও শক্ত করে ঘিরে ধরে। সে কিছু বলতে গিয়েও পারে না। কথাগুলো গলায় এসে আটকে যায়। শুধু অয়নে’র শার্ট শক্ত করে খামচে ধরে রাখে, ঠিক যেন এই মুহূর্তে সেটাই তার একমাত্র ভরসা। অয়ন আর এক সেকেন্ডও দেরি করে না। তাকে কোলে নিয়েই ছাদের দিকে পা বাড়ায়।
এক এক করে সিঁড়ির ধাপ পার হচ্ছে অয়ন, আর প্রতিটা ধাপে আহি’র বুকের ভেতর অজানা এক ভয় জমে উঠছে। কেন এমন হচ্ছে, কেন বুকটা এত জোরে ধুকপুক করছে, সে নিজেও জানে না। ঠিক তখনই অয়ন নিচু স্বরে, আদেশের সুরে বলে ওঠে—
“পাখি, চোখ বন্ধ করে রাখবি। আমি না বলা পর্যন্ত একটুও তাকাবি না। নয়তো মাইর দেবো।
অগত্যা আহি কিছু না বলে চোখ বন্ধ করে রাখে। অয়নে’র কণ্ঠে অদ্ভুত এক নিশ্চয়তা আছে, যার বিরুদ্ধে সে কখনো যেতে পারে না। হঠাৎ ছাদের মেঝেতে পা পড়তেই ঠান্ডা রাতের বাতাস এসে আহি’র গায়ে লাগে। শরীরটা হালকা কেঁপে ওঠে। অয়ন সেটা টের পেয়ে এক পলক তাকায় তার দিকে, তারপর আবার দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। ধীরে ধীরে আহি’কে কোলে থেকে নামিয়ে সোজা করে দাঁড় করায়।
ঠিক সেই মুহূর্তে চারপাশে মানুষের উপস্থিতি টের পায় আহি। কিন্তু চোখ খোলা নেই। অয়ন তার সামনে মুখোমুখি হয়ে দাঁড়িয়ে খুব আলতো করে আহি’র হাত নিজের হাতের ভাঁজে ঢুকিয়ে ফিসফিস করে বলে…
“এবার চোখ খোল, পাখি!
আহি দ্বিধা নিয়ে ধীরে ধীরে চোখ মেলে। এক ঝলকে চারপাশ আলোয় ভরে ওঠে। রঙিন লাইটের ঝিলমিল, সাজানো ছাদ, হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই। সবকিছু একসঙ্গে তার চোখে পড়ে। একসঙ্গে সবার কণ্ঠে ধ্বনিত হয়,
❝হ্যাপি বার্থডে আহি❞
আহি যেন হতভম্ব হয়ে যায়। বিশ্বাস করতে পারে না নিজের চোখকে। এক এক করে সবাই এগিয়ে এসে তাকে গ্রিটিংস জানায়, হাসে, আদর করে।
সবশেষে অয়ন খুব যত্ন করে আহি’র হাতের ভাঁজে এক আলতো চুম্বন এঁকে দেয়। তার কণ্ঠ নরম, গভীর আর ভীষণ আপন—
“𝑯𝒂𝒑𝒑𝒚 𝑩𝒊𝒓𝒕𝒉𝒅𝒂𝒚, 𝒎𝒚 𝑫𝒐𝒚𝒆𝒍 𝑷𝒂𝒌𝒉𝒊
𝑴𝒂𝒏𝒚, 𝑴𝒂𝒏𝒚 𝑯𝒂𝒑𝒑𝒚 𝑹𝒆𝒕𝒖𝒓𝒏𝒔 𝒐𝒇 𝒕𝒉𝒆 𝑫𝒂𝒚!
আহি যেন আকাশ থেকে মাটিতে নেমে আসে। এই প্রথম তার জন্ম দিনে সে এতোটা সারপ্রাইজ হয়েছে। খুশিতে বুকটা ভরে ওঠে তার, চোখ জোড়া ঝাপসা হয়ে আসে। কী বলবে, কীভাবে বলবে—কিছুই বুঝে উঠতে পারে না। শুধু এই মুহূর্তটা বুকের গভীরে চিরদিনের জন্য ধরে রাখতে ইচ্ছে করে।
আহি তখনো পুরো ব্যাপারটা বুঝে ওঠার আগেই অয়ন ধীরে ধীরে তার সামনে এসে হাঁটু গেঁড়ে বসে পড়ে। হঠাৎ এমন দৃশ্য দেখে আহি একেবারে হতভম্ব হয়ে যায়। তার চোখ দুটো বিস্ময়ে বড় হয়ে ওঠে, বুকের ভেতরটা অদ্ভুত এক কাঁপুনিতে ভরে যায়। শ্বাস নিতে কেমন যেন কষ্ট হচ্ছিল, হৃদপিণ্ডটা অস্বাভাবিক দ্রুত ছুটে চলেছে। সে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে অয়নে’র দিকে। ঠিক করে বুঝে উঠতে পারছে না, এই মুহূর্তে কী ঘটতে যাচ্ছে।
অয়ন ধীরেসুস্থে পকেট থেকে একটি ছোট্ট ভেলভেটের বক্স বের করে। তার আঙুলে সামান্য কাঁপুনি, কিন্তু চোখে অদ্ভুত এক দৃঢ়তা। বক্সটা খুলতেই ভেতর থেকে আলোয় ঝিলমিল করে ওঠে একটি ডায়মন্ডের রিং। চারপাশের আলো যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, আর সেই আলোয় রিংটার সঙ্গে সঙ্গে আহি’র চোখও চকচক করে ওঠে।
অয়ন রিংটা আঙুলের ডগায় ধরে আলতো করে আহি’র দিকে এগিয়ে দেয়। তার ঠোঁটের কোণে নরম ও গভীর এক হাসি।
অয়নে’র গলা একটু ভারী হয়ে আসে, তবুও সে নিজেকে সামলে নেয়। এবং ধীর স্পষ্ট কণ্ঠে বলে ওঠে—
“আমি জানি না পাখি, ঠিক কিভাবে প্রপোজ করতে হয়। জানি না কিভাবে নিজের মনের সব কথা সাজিয়ে গুছিয়ে বললে তুই আমাকে হ্যাঁ বলবি। আমি কথার মানুষ নই, আমি আবেগ লুকাতে পারি না, ঠিকমতো প্রকাশ করতেও পারি না।
কিন্তু একটা জিনিস খুব ভালো করে জানি, এই দুনিয়ায় তোকে ছাড়া আমার আর কাউকে চাই না। তোর হাসিটাই আমার শান্তি, তোর চোখের অশ্রু আমার দুর্বলতা। তুই আমার জীবনে এমনভাবে জড়িয়ে গেছিস যে তোকে ছাড়া এক পা এগোনোর কথাও ভাবতে পারি না। আমি তোকে কোনো স্বপ্নের প্রাসাদ, কোনো নিখুঁত জীবনের প্রতিশ্রুতি দিতে পারবো না। কিন্তু একটা জিনিস নিশ্চিত করে বলতে পারি, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তোর হাতটা আমি শক্ত করে ধরে রাখবো। তোর কষ্ট আমার হবে, তোর হাসি আমার শান্তি হবে।
অয়ন বড় বড় শ্বাস ছেড়ে কণ্ঠ আরও নরম করে বলল,
“বিয়ে করবি আমায় পাখি? তোকে মিসেস আদনান শেখ অয়ন বানাবো, আমার মনের রাজ্যের একমাত্র রানী। যার হাতের ইশারায় এই অয়ন সারাজীবন চলবে। হবি আমার আহ্লাদী বউ, সারাজীবন তোকে ভালোবাসার চাদরে মুড়িয়ে রাখবো। একটুও অভিযোগ করার সুযোগ দেবো না, আমার রানী বানিয়ে রাখবো তোকে। বল না বিয়ে করবি আমায়!
আহি তখনো নিঃশব্দে তাকিয়ে আছে। চোখের কোণে জমে ওঠা অশ্রু, কাঁপতে থাকা ঠোঁট আর বুকের ভেতরে উথালপাথাল করে উঠলো।
আহি ঠিক কি বলবে, সেটাই ভেবে পাচ্ছিল না। বুকটা ধুকধুক করছে, চোখে হাসি আর লজ্জার মিশ্রণ। হঠাৎ পেছন দিক থেকে সাজ্জাদ উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে উঠল,
- এই আহি হ্যাঁ বল তো। আরে বোন, তারাতাড়ি বল না! হ্যাঁ বললেই ভাইয়ের কাছ থেকে ট্রিট পাবে। আর আমি সেই ট্রিটের টাকা দিয়ে তোর ভাবির জন্য শপিং করবো।
রাকিব সাথে সাথে সাজ্জাদে’র পিঠে কিল বসিয়ে দেয়।
"ছেঁছড়ামি বন্ধ কর শালা। লজ্জা করে না ভাইয়ের টাকা দিয়ে গার্লফ্রেন্ডকে শপিং করে দিবি?
সাজ্জাদ এক পলক ঘুরে তাকাল। তবুও মৃদু হাসি মুখে সে ফিসফিস করে,
- লজ্জা পেলে আর জীবনে আর বাপ হতে হবে না। তাই আগে থেকেই লজ্জা দূরে সরিয়ে দিচ্ছি।
হঠাৎ অয়ন ধমক দিয়ে স্বরে আওড়ালো,
“তোরা চুপ করবি শাউ*য়্যার নাতিরা?
সঙ্গে সঙ্গে সবাই নিশ্চুপ হয়ে গেল। অয়ন ধীরে ফিসফিস করে বলল,
“এই পাখি…কিছু তো বল। বল না আমায়, বিয়ে করবি তুই?
আহি দৃষ্টি সরিয়ে আদিলে’র দিকে তাকাল। আদিল নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে আছে। বুকটা তার হা হা করছে, বোন’কে না চাইতেও আরেকজনের হাতে তুলে দিতে হবে। যতই সে নিজের বাড়িতে থাকুক না কেন, হৃদয় তো মানছে না, কষ্ট হচ্ছে ভিষন।
এক পলকের নীরবতার পর আদিলে’র চোখে ছোট্ট ইশারায় হ্যাঁ বলতে বলে আহি'কে। সে নিঃশব্দে মাথা কুঁচকায় একরকম অনুমোদন জানাল। আহি অল্প হাঁসফাঁস করতে করতে মাথা এক দিক থেকে অন্য দিকে ঘোরালো। মুখে তার মৃদু হাসি, চোখে আনন্দ আর লজ্জার ঝিলিক। হৃদয়টা যেন উল্লসিত, মনে হচ্ছে এক মুহূর্তেই পুরো দুনিয়া উজ্জ্বল হয়ে উঠল। অয়নে’র চোখে আনন্দ আর মুগ্ধতা দেখা গেল।
হঠাৎ করেই অয়ন সকলের সামনে আহি’কে টেনে নিজের বুকে জড়িয়ে ধরে। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে আহি’র ঠোঁট জোড়ায় নিজের ঠোঁট মিলিয়ে দেয়। মুহূর্তের ভেতর চারপাশ যেন স্তব্ধ হয়ে যায়। এমন দৃশ্য কেউ কল্পনাও করেনি। সময়টা থমকে দাঁড়ায় কয়েক সেকেন্ডের জন্য।
প্রথম ধাক্কা সামলে উঠে আদিল তৎক্ষণাৎ মাহি’র চোখ দু’হাত দিয়ে চেপে ধরে। পাশ থেকে রাকিবও তড়িঘড়ি করে মুনে’র চোখ ঢেকে দেয়। সাজ্জাদ এক পলক তাকিয়েই বিব্রত হয়ে চোখ নামিয়ে নেয়। পরিস্থিতির আকস্মিকতায় সবারই যেন শ্বাস আটকে আসে।
ঠিক তখনই আদিল দাঁতে দাঁত চেপে গম্ভীর স্বরে বলে ওঠে—
"অয়নে’র বাচ্চা, এটা তোর বেডরুম না যে যা ইচ্ছে তাই করবি। আমাদের কথা বাদ দিলাম, এখানে তোর দুই দুইটা বোন আছে!
আদিলে’র কণ্ঠে বিরক্তি আর রাগ একসাথে স্পষ্ট। অয়ন তখন ধীরে ধীরে আহি’কে ছেড়ে দেয়। হঠাৎ ছাড়া পেয়ে আহি লজ্জা ও অপ্রস্তুততায় অয়নে’র পেছনে লুকিয়ে পড়ে। তার হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক দ্রুত হয়ে গেছে। মুখটা আগুনের মতো জ্বলছে, চোখ নামানো, ঠোঁট কাঁপছে কিছুই সামলাতে পারছে না সে।
আর অয়ন?
সে একেবারেই নির্লিপ্ত। যেন কিছুই হয়নি। বরং তার চোখেমুখে স্পষ্ট এক ধরনের ডোন্ট কেয়ার ভাব। সে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে উদাস কণ্ঠে বলে ওঠে,
“দুইটা কেন, পাঁচটা বোন থাকলেও আই ডোন্ট কেয়ার। ওদেরও বুঝা উচিত, ওদের ভাই তার বউ’কে ঠিক কতটা ভালোবাসে।
এই কথায় আদিলে’র মুখের রং বিরক্তিতে পাল্টে যায়। কিন্তু এই মুহূর্তে কিছু বলার ইচ্ছে তার নেই। সে মাহি’র হাত শক্ত করে ধরে ছাদ থেকে নেমে যায়। তার পেছনে একে একে রাকিব, মুন আর সাজ্জাদও নীরবে নেমে পড়ে।
ছাদটা হঠাৎ নিস্তব্ধ হয়ে যায়। শুধু অয়ন আর আহি। চারপাশের নীরবতার মাঝখানে অয়ন ধীরে ধীরে আহি’র হাত ধরে। তার আঙুলগুলো কাঁপছে বুঝতে পেরে সে আরও যত্নে ধরে রাখে। তারপর খুব সাবধানে আহি’র বাম হাতের অনামিকায় রিংটা পরিয়ে দেয়। ছোট্ট করে সেই হাতের ওপর একটি আলতো চুমু এঁকে দেয় সে, যেন নিজের ভালোবাসার সিলমোহর বসিয়ে দিল।
সঙ্গে সঙ্গে আহি অয়নে'র বুকে কিল বসিয়ে দেয়,
"বদ লোক, কখন কি করতে হয় বুঝেন না আপনি?
অয়ন ঝুঁকে পড়ে তার দিকে,
“তাহলে তুই বুঝিয়ে দে কখন কখন তোকে পাপ্পি দেবো!
আহি চোখ রাঙিয়ে অয়নে’র দিকে আঙুল তুলে ধরল। কণ্ঠে কৃত্রিম রাগ, কিন্তু চোখে লুকানো লাজুক ঝিলিক।
"দেখেন অয়ন ভাই, সাবধান করে দিচ্ছি এমন পঁচা পঁচা কথা বলবেন না। নয়তো আপনাকে আমি বিয়ে’ই করবো না!
অয়ন ভুরু কুঁচকে তাকায়। ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি ঝুলে পড়ে।
“দেখ পাখি? না দেখিয়ে দেখেন দেখেন বলবি না। তোর কি মনে হয় আমি অসভ্য লোক? মোটেও না, আমি কিন্তু খুবই সভ্য লোক হু!
আহি নাক কুঁচকে তাকায়।
"ভদ্র লোক? তা তো দেখতেই পাচ্ছি আপনি কেমন ভদ্র!
অয়ন চোখ টিপে ধীরে ধীরে বলে,
“দেখেই বিচার করছিস কেন? না দেখে একটু টেস্টও তো করতে পারিস। খেতে খুব বেশি খারাপ লাগবে না, ট্রাস্ট মি.!
"অয়ন ভাই…
“চুপ কর মাতারী, এই ভাই ভাই ডাকাটা একটু কমা। মাঝে মাঝে জান টান বলেও ডাক। তাতে একটু বউ বউ ফিল আসবে!
আহি মাথা নেড়ে স্পষ্ট জবাব দেয়,
"পারবো না আমি।
অয়ন কৃত্রিম বিস্ময়ে তাকায়।
“তা পারবি কেন? পারবি শুধু এই সভ্য, ভদ্র মানুষটাকে ক্যারেক্টার লেস করতে!
আহি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। ঠোঁটের কোণে লাজুক হাসি খেলে যায়। অয়ন আর এক মূহুর্ত দেরি না করে তার হাত টেনে নিয়ে যায় ছাদের দোলনার কাছে। দু’জন পাশাপাশি বসে পড়ে। চারপাশে নরম আলো, ওপরে খোলা আকাশ, আর আকাশজুড়ে ঝুলে থাকা পূর্ণিমার চাঁদ। আজকের রাতে, এই দোলনায় বসেই অয়ন তার ‘প্রেয়সী’র সঙ্গে নতুন করে ভালোবাসার পূর্ণিমা দেখবে! তাকে বুঝতে শেখাবে ভালোবাসা কেমন, কি তার অনুভূতি!