নেশাময় আসক্তি

পর্ব - ১৪

🟢

দুপুর প্রায় গড়িয়ে গেছে। ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক দুইটা। শরীরটা আজ সকাল থেকেই ভালো লাগছিল না আদিলে’র। মাথার ভেতর কেমন এক অদ্ভুত ভার, বুকের ভেতর চাপা চাপা ক্লান্তি। তাই কাজ শেষ হওয়ার আগেই সে বাসায় ফিরে এসেছে।

ধীর পায়ে নিজের রুমের দিকে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ থমকে দাঁড়ায় সে। অভ্যাসবশত একবার মাহি’র রুমের দিকে তাকায়। দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দেয় ভেতরে। কিন্তু ঘরটা ফাঁকা, মাহি নেই। এক মুহূর্তের জন্য আদিলে’র চোখে হতাশা ভর করে। বুকের ভেতরটা কেমন খালি খালি লাগে। কিছু না ভেবেই সে আবার নিজের রুমের দিকে এগোতে নেয়।

ঠিক তখনই করিডোরের একপাশে কাউকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চমকে ওঠে আদিল। এই ভর দুপুরে, কলেজ টাইমে মুন এখানে—দৃশ্যটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত। সে তড়িঘড়ি এগিয়ে যায়। ভ্রু কুঁচকে কণ্ঠে বিস্ময় আর চিন্তা মিলিয়ে বলে ওঠে,

"মুন তুই? এসময় কলেজ বাদ দিয়ে এখানে কী করছিস? আর বাকি দু’জন কই?

মুন কোনো জবাব দেয় না। চোখ নামিয়ে পাশ ফিরে হেঁটে যেতে শুরু করে। আদিল পেছন থেকে ডাকে,

"এই বোন, চলে যাচ্ছিস কেন? ভাইয়ের সাথে কথা বলবি না?

তবুও কোনো উত্তর আসে না। আদিলে’র বুকের ভেতর অস্বস্তি বাড়তে থাকে। সে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে মুনের সামনে দাঁড়ায়। কিন্তু মুন চোখ তুলেও তাকায় না। নিঃশব্দ, নিস্পন্দ। আদিল আর নিজেকে সামলাতে পারে না। সে আলতো করে মুনে’র হাত আঁকড়ে ধরে। কণ্ঠে অসহায়ত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে—

"ভাইয়ের সাথে কথা বলবি না? ভাই এমন কী করেছে যে তার সাথে দুটো কথাও বলা যাবে না?

এই কথার পরই হঠাৎ যেন বাঁধ ভেঙে যায়।

মুন ডুকরে কেঁদে ওঠে।

এমন পরিস্থিতির জন্য আদিল একেবারেই প্রস্তুত ছিল না। সে হতভম্ব হয়ে যায়। দ্রুত মুনের দু’গাল আলতো করে ধরে মুখটা নিজের দিকে তোলে,

"বোন, কী হয়েছে তোর? কাঁদছিস কেন?

উত্তরের বদলে মুন হঠাৎ আদিলকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। কান্নার শব্দ আরও বেড়ে যায়। তার ছোট্ট শরীরটা কাঁপছে। কাঁপা কাঁপা গলায় সে কথা বলতে শুরু করে,

- ভাইয়া…তুমি মাহি’র সাথে এমন করছো কেন? আমার একটুও ভালো লাগে না যখন মাহি কাঁদে। তুমি জানো, যেদিন থেকে মাহি জানতে পেরেছে তুমি মৌরি আপুকে ভালোবাসো, সেদিন থেকে ও কেমন চুপ হয়ে গেছে। আগের মতো আর হাসে না। আমার সাথে, আহিঃর সাথে ঝগড়াও করে না। ঠিক মতো খাবার খায় না। সারাক্ষণ চুপচাপ থাকে আর কাঁদে।

ভাইয়া, তুমি চাইলে তো সব সম্ভব। তুমি মৌরি আপুর সাথে ব্রেকআপ করে নাও না। আমি জানি তুমি মাহি’র সাথে খুব ভালো থাকবে। মাহি তোমাকে খুব, খুব ভালোবাসে। আচ্ছা বলো তো, তোমাদের রিলেশন কয় দিনের? এক বছর? দুই বছর? তিন বছর? অথচ মাহি তোমাকে ভালোবাসে অনেক বছর ধরে। যখন থেকে ও ভালোবাসার মানে বুঝতে শিখেছে, তখন থেকেই ওর মনে শুধু তুমি’ই বিচরণ করো!

এই কথাগুলো আদিলে’র বুকে সজোরে আঘাত করে। সে স্তব্ধ হয়ে যায়।

এক মুহূর্তের জন্য তার চারপাশের সব শব্দ যেন থেমে যায়। মাথার ভেতর হাজারটা প্রশ্ন, বুকের ভেতর অসহনীয় চাপ।

আর এক সেকেন্ডও দেরি করে না সে। গম্ভীর কণ্ঠে মুনকে জিজ্ঞেস করে,

"মাহি কোথায়?

মুন চোখ মুছতে মুছতে ফিসফিস করে বলে,

- ছাদে!

আদিল সঙ্গে সঙ্গে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। চোখে দৃঢ়তা,

"তুই এখনই খাবার নিয়ে আয়। আমি ছাদে যাচ্ছি।

এই বলে সে দ্রুত পা বাড়ায়। আজ আর পালাবে না আদিল।

আজ তাকে মুখোমুখি হতেই হবে। আদিল বড় বড় পা ফেলে ছাদের দিকে এগিয়ে যায়। শরীরের চেয়ে মনটাই আজ বেশি ভারী। বুকের ভেতরটা অদ্ভুত এক অস্বস্তিতে টনটন করছে। প্রতিটা সিঁড়ি যেন তাকে আরও গভীর কোনো সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ছাদে পা রাখতেই চোখে পড়ে মাহি’কে। ছাদের এক কোণায় একা দাঁড়িয়ে আছে সে। রোদে ঝলসে যাওয়া ছাদ, চারপাশে খোলা আকাশ—তবুও মেয়েটার মুখে কোনো উজ্জ্বলতা নেই। চোখের নিচে স্পষ্ট ফোলা দাগ, যেন অনেকক্ষণ ধরে কেঁদেছে। মুখে বিষণ্নতার ছায়া, দৃষ্টিতে অনাবিল ক্লান্তি। আদিল ধীরে ধীরে মাহি’র পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। তার উপস্থিতি টের পেয়ে মাহি সরে যেতে চায়। কিন্তু মাত্র কয়েক কদম যেতেই আদিল তার হাত আঁকড়ে ধরে ফেলে। শক্ত নয়, তবুও ছাড়ার সুযোগ নেই।

চাপা কণ্ঠে আদিল বলে উঠলো,

"রেগে আছিস আমার উপর?

মাহি কোনো উত্তর দেয় না। চোখ নামিয়ে নেয়।

আদিল আরেকটু কাছে এগিয়ে আসে,

"আমার সাথে কথা বলবি না?

"সত্যি সত্যি একটা কথাও বলবি না?

তবুও মাহির ঠোঁট নড়ে না। রোদের তীব্রতা আজ খুব প্রখর নয়। তবুও মাহি’র কপাল বেয়ে ঘাম গড়িয়ে পড়ছে। মাথাটা ঝিমঝিম করছে তার। চোখ দুটো জ্বালা করছে, বুকের ভেতরটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। আদিল কিছুক্ষণ চুপ থেকে হঠাৎ প্রশ্নটা ছুড়ে দেয়—

"মৌরির সাথে যদি আমি ব্রেকআপ করি…তাহলে তুই খুশি হবি?

এই প্রশ্নেই মাহি’র বুকের ভেতর জমে থাকা সব চাপ এক মুহূর্তে কেঁপে ওঠে।

- আমি স্বার্থপর নই আদিল ভাইয়া। আর ‘খুশি’ শব্দটা, ওটা আমার সাথে আর যায় না। আমার লাইফে খুশি বলে কিছু নেই। যতটুকু ছিল, সব আমি সবাইকে দিয়ে ফেলেছি।

কথাগুলো যেন নিঃশব্দে এসে আদিলে’র বুকে আঘাত করে। আদিল গলা শক্ত করে আবার প্রশ্ন করে,

"তাহলে খাওয়া-দাওয়া ঠিক মতো করিস না কেন?

মাহি ঠোঁটের কোণে এক চিলতে তিক্ত হাসি টেনে নেয়,

- দু’দিন না খেয়ে থাকলে কেউ মরে যায় না। খিদে লাগলে এমনিতেই খেয়ে নেবো

আদিল শক্ত করে মাহি’র বাহু চেপে ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। তার চোখে মুখে অদ্ভুত এক অস্থিরতা, যেন ভেতরে ভেতরে নিজেই নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। কণ্ঠটা কঠিন রাখতে চাইলেও ভেঙে পড়ার উপক্রম—

"মাহি কেন এমন করছিস? এইভাবে নিজেকে ধ্বংস করছিস কেন? তোর এই পাগলামিগুলো আমার একটুও সহ্য হয় না। কেউ যদি কারো জীবন থেকে চলে যায়, তার জন্য নিজের জীবনকে এভাবে কষ্ট দেওয়ার কোনো মানে হয় না। সময় এলে দেখবি, তোর জীবনে আমার থেকেও ভালো কেউ আসবে, যে তোকে অনেক ভালোবাসবে, আগলে রাখবে।

মাহি ধীরে ধীরে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয়। তার মুখে কোনো অভিযোগ নেই, নেই চিৎকার। বিষন্ন চোখে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বলে,

- যেখানে আপনিই আমার জন্য নিষিদ্ধ, সেখানে অন্য কোনো পুরুষ আসবে এমন ভাবনাটাও আমার কাছে পাপ মনে হয়। আমার কথা আপনাকে ভাবতে হবে না আদিল ভাইয়া। আপনি বরং মৌরি আপুকে নিয়ে ভাবুন। আর দয়া করে এবার নিজের দিকে একটু খেয়াল রাখবেন।

আমার মতো আর কেউ এই অগোছালো মানুষটাকে এমন নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসবে না!

আদিল নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। বুকের ভেতরটা কেমন মোচড় দিয়ে ওঠে। সে জানে, এই মেয়েটাকে কষ্ট দেওয়া তার নিজের কাছেও অসহনীয়। তবুও সে কিছু বলতে পারে না। কারণ সত্যিটা সে বদলাতে পারবে না। ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

স্ক্রিনে ভেসে ওঠে একটি নাম— মৌরি! নামটা চোখে পড়তেই মাহি এক পা পিছিয়ে যায়। যেন বুকের ভেতর শেষটুকু শক্তিও ভেঙে পড়ে। আদিল একবার মাহি’র দিকে তাকিয়ে ফোনটা রিসিভ করে কথা বলতে শুরু করে।

মাহি’র বুকের ভেতরটা হা হা করে ওঠে। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। চোখের কোণ ধরে রাখা অশ্রু আর মানে না, গাল বেয়ে নিঃশব্দে ঝরে পড়ে। ভাঙা কণ্ঠে নিজের সাথেই ফিসফিস করে বলে,

- কখনো না কখনো অনুভব হবে আপনার।

কেউ একজন তো ছিল,

যে আপনাকে কোনো কারণ ছাড়াই চেয়েছিল!

চোখের পানি মুছে মাহি আর একবারও পিছনে তাকায় না। নিঃশব্দে ছাদ থেকে নেমে যায়। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকার মতো শক্তি আর তার শরীরে নেই। আজ সে শুধু একজন ভালোবাসায় হেরে যাওয়া এক মেয়ে— যে ভালোবাসতে জানতো। কিন্তু নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে পায়নি সে। তাকে খুব কাছে থেকে দেখেছে কিন্তু তার বুকে ঠায় হয়নি তার!

অয়ন আহি’র কলেজ গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এক হাত গাড়ির বডিতে ভর দেওয়া, চোখে কালো সানগ্লাস, গায়ে সাদা শার্ট যেটা তার ব্যক্তিত্বকে আরও তীক্ষ্ণ আর আকর্ষণীয় করে তুলেছে। রোদে ঝলমল করছে গাড়ির কাচ, অথচ অয়নে’র মনটা ক্রমেই বিরক্তিতে ভরে উঠছে।

কলেজ ছুটি হয়ে গেছে।

এক এক করে মেয়েরা গেট দিয়ে বের হচ্ছে। যেহেতু এটা গার্লস কলেজ, তাই চারপাশে শুধু মেয়েদেরই ভিড়। কেউ হাসছে, কেউ গল্প করছে, কেউ আবার ফোনে ব্যস্ত। অনেক মেয়েই বের হলো, কিন্তু আহি’র দেখা নেই।

অয়নে’র ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে। ঠিক তখনই একটি মেয়ে তার দিকে এগিয়ে আসে। মনে হয় কিছু বলতে চায়। অয়ন সানগ্লাসের ফাঁক দিয়ে তাকায়— আর ঠিক সেই মুহূর্তে কোথা থেকে যেন আহি এসে অয়নে’র সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে।

মেয়েটি মুখ খুলতে যাবে, তার আগেই আহি তড়িঘড়ি বলে ওঠে,

"অয়ন ভাই, বাসায় চলুন। এখনই, দেরি হচ্ছে।

অয়ন ভ্রু কুঁচকে বলে,

“ওয়েট কর পাখি, মেয়েটা আমাকে কিছু বলতে চাচ্ছে।

আহি এক সেকেন্ডও সময় না নিয়ে কথার মাঝেই ঢুকে পড়ে,

"না না, আপনি এখনই আমার সাথে যাবেন। আপু, পরে কথা হবে এখন আসি।

মেয়েটা হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। অয়ন কিছু বলার আগেই আহি তার হাত শক্ত করে টেনে গাড়ির দিকে নিয়ে যায়। প্রায় জোর করেই তাকে গাড়িতে বসিয়ে দেয়। বাধ্য হয়ে অয়ন দ্রুত গাড়ি স্টার্ট দেয়। পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটি, নিজের ক্রাশ’কে এত কাছে পেয়েও একটি কথাও বলতে না পেরে নিরাশ চোখে তাকিয়ে থাকে। তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে ধীরে ধীরে নিজের গন্তব্যের দিকে হাঁটা দেয়।

গাড়ি চলতে শুরু করতেই আহি যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে।

অয়ন কপাল ভাঁজ করে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। সেই দৃষ্টিতে প্রশ্ন, আহি ইচ্ছে করেই সেই দৃষ্টি উপেক্ষা করে। মাথা থেকে এক এক করে হিজাব পিন খুলতে থাকে। অবশেষে অয়ন বিরক্ত স্বরে বলে ওঠে,

“দোয়েল পাখি, তুই ওই মেয়েটার সাথে কথা বলতে দিলি না কেন?

আহি নির্লিপ্ত ভান করে বলে,

"কোন মেয়ে, অয়ন ভাই?

“ফাজলামো করিস আমার সাথে?

আহি চোখ ঘুরিয়ে বলে,

"ওহ, ওই মেয়ে? আসলে সে আমাদের সিনিয়র আপু। অনেক পঁচা সে, এমনকি সে একই ক্লাসে তিন বছর ধরে আছে। ফেলটু একটা মেয়ে।

“তো?

আহি চোখ রাঙিয়ে তাকায়,

"তো মানে তো'ই। ওই ফেলটু মেয়ে আমার অয়ন ভাইয়ের সাথে কথা বলবে কেন? তাছাড়া মেয়েটা ভীষণ গায়ে-পড়া। রাস্তাঘাটে ছেলেদের হাত ধরে ঘোরে।

অয়ন হালকা হেসে বলে, “লাইক সিরিয়াসলি, ডিয়ার? তুই কি তাহলে ওই মেয়েটাকে জেলাস ফিল করছিস?

আহি সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে,

"আমি আর জেলাস? নো ওয়ে! আমি ওই ফেলটু মেয়েকে জেলাস করবো কেন?

অয়ন ধীরে ধীরে আহি’র দিকে ঝুঁকে আসে। গলার স্বর তীক্ষ্ণ,

“পাখি, আমার আগে তুই পৃথিবীর আলো দেখিসনি। আমাকে তুই যা বলবি, তাই বিশ্বাস করবো। ওই মেয়েটা কে, কেমন স্টুডেন্ট, কার মেয়ে, সব ইনফরমেশন আমার জানা।

আহি হঠাৎ থমকে যায়। "কে ওই মেয়ে?

অয়নে’র ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটে ওঠে।

“সাদিকা ইমরোজ! মন্ত্রীর মেয়ে, যার ফার্স্ট ক্রাশ আদনান শেখ অয়ন। যাকে পাওয়ার জন্য হাজার ছেলে পাগল কিন্তু মেয়েটা পাগল শুধু এই অয়নে’র জন্য।

গাড়ির ভেতর হঠাৎ অদ্ভুত এক নীরবতা নেমে আসে। আহি অদ্ভুত সন্দেহ ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। হুট করে সে কাঁদতে থাকে। অয়ন হকচকিয়ে উঠে,

“পাখি কাঁদছিস কেন?

আহি তবুও থামে না। সে আরো চিৎকার করতে করতে কান্না করে। শেষ মেষ অয়ন ধমকে স্বরে বলল,

“থামবি তুই? এমন ন্যাকামো করছিস কেন?

আহি নাক টানতে টানতে বললো,

"আমি ন্যাকামো করি? ও আরেকজন পাত্তা দিচ্ছে তাই আমার কথা ভুলে গেলেন। আমার সাথেও পিরিত করবেন আবার তাদের সাথেও ইকিরমিকির করবেন।

“দোয়েল মেজাজ খারাপ করবি না। এমনিতেই মুড অফ আছে।

আহি গড় গড় করে বললো,

"আমি মেজাজ খারাপ করছি? থাকবো না আপনার সাথে, বিয়ে করবো না আমি। ব্রেকআপ, ব্রেকআপ, ব্রেকআপ, আপনার সাথে আমার আর কোনো রিলেশন নেই।

সঙ্গে সঙ্গে গালে থাপ্পড় এসে পড়ে। আহি ছোট্ট ছোট্ট করে তাকায়, চোখের কোনে অশ্রু চিকচিক করছে। সঙ্গে সঙ্গে অয়ন গর্জন তুলে,

“বউ তুই আমার, গাল ফ্রেন্ড নয়। ব্রেকআপ, ব্রেকআপ মারানি মাতারী, রাত হতে দে তারপর দেখবো এই তেঁজ কই থাকে।

বিজ্ঞাপন
নেশাময় আসক্তি গল্পটি বন্যা সিকদার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় স্পেশাল রোমান্টিক গল্প