নেশাময় আসক্তি

পর্ব - ১৫

🟢

“বউ তুই আমার, গাল ফ্রেন্ড নয়। ব্রেকআপ, ব্রেকআপ মারানি মাতারী, রাত হতে দে তারপর দেখবো এই তেঁজ কই থাকে।

আহি হঠাৎ মুখ বাঁকিয়ে স্পষ্ট ব্যঙ্গ নিয়ে সে বলে ওঠে,

"কত রাতই তো আসেন! চুমু ছাড়া আর কিছু তো পারেন না। এমনি এমনি বউ বানিয়েও আজ পর্যন্ত নিজের ঘরে তুলতে পারেননি। আর এই আপনি নিজেকে বীর পুরুষ বলেন!

অয়ন এক মুহূর্ত থমকে যায়। চোখের দৃষ্টি ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে ওঠে। ভ্রু কুঁচকে সে তাকিয়ে থাকে আহি’র দিকে,

“তুই কি আমাকে ডাউট করছিস?

আহি নিঃশব্দে উওর দেয়,

"যা সত্যি তাই তো বলছি। কোন বাড়ির জামাই শ্বশুরের ভয়ে বউ’কে নিজের কাছে নিতে পারে না, শুনি। আপনি তো মনে হয় শ্বশুরের ভয়ে জীবনে বাচ্চা-কাচ্চাও পয়দা করবেন না!

এই কথাটুকুই যথেষ্ট ছিল। মূহুর্তেই অয়নে’র বুকের ভেতর যেন মুহূর্তেই আগুন জ্বলে ওঠে। তার চোয়াল শক্ত হয়ে আসে, চোখে জমে ওঠে ভয়ংকর এক অন্ধকার। সে আর কোনো কথা না বলে পকেট থেকে ফোন বের করে দ্রুত কারো কাছে একটা মেসেজ পাঠায়।

মেসেজ পাঠানো শেষ হতেই তার ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে এক বাঁকা হাসি ফুটে ওঠে, যে হাসির মানে আহি তখনো বোঝে না।

নিচু, শীতল কণ্ঠে অয়ন বলে—

“জাস্ট ওয়েট, পাখি!

পরের মুহূর্তেই গাড়ির ইঞ্জিন গর্জে ওঠে। অয়ন হঠাৎ করেই গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেয়। রাস্তা যেন চোখের সামনে দৌড়ে পালাতে থাকে। আচমকা এই পরিবর্তনে আহি’র বুক কেঁপে ওঠে। ভয় পেয়ে সে ঝাঁপিয়ে পড়ে অয়নে’র দিকে, শক্ত করে তাকে আঁকড়ে ধরে। কাঁপা কাঁপা গলায় সে আকুতি করে,

"অয়ন ভাই, থামুন প্লিজ থামুন! আমার ভুল হয়েছে, আমি আর ফাজলামো করবো না। এমন করে গাড়ি চালাবেন না, এক্সিডেন্ট হয়ে যাবে!

গাড়ির গতি আরও বেড়ে যায়।

"আমি এত তাড়াতাড়ি মরতে চাই না, অয়ন ভাই! প্লিজ ধীরে চালান!

কিন্তু অয়ন একটুও সাড়া দেয় না। তার চোখ সামনে স্থির, মুখ পাথরের মতো শক্ত। যেন আশপাশের কিছুই তার অস্তিত্বে নেই। আহি যতই অনুনয় করে, সে ততই স্পিড বাড়ায়।

ভয়ে আহি গুটিয়ে যায়। চোখ বন্ধ করে সে অয়নে’র শার্ট শক্ত করে খামচে ধরে বসে থাকে। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বুকের ভেতর শুধু একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খায়— এই মানুষটা তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?

কিছু সময় পরে হঠাৎ করেই গাড়িটা বিকট শব্দ করে থেমে যায়। ঝাঁকুনিতে আহি সামনে ঝুঁকে পড়ে। কিছু বোঝার আগেই অয়ন দরজা খুলে এক ঝটকায় তাকে কোলে তুলে নেয়। আহি আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠে,

"অ অ অ অয়ন ভাই! কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে? একটু মজা করেছি বলে আমাকে মেরে ফেলবেন নাকি? আমি এখনই মরতে চাই না! আমি মরে গেলে আমার বাচ্চা-কাচ্চার কী হবে? ওরা তো ‘মা’ ডাক দেওয়ার আগেই এতিম হয়ে যাবে!

অয়ন কোনো উত্তর দেয় না। সে শক্ত হাতে আহি’কে ধরে সামনে এগিয়ে যায়। আহি কাঁপা কাঁপা গলায় কাঁদু কাঁদু স্বরে বলে ওঠে—

"এই বাবুর আব্বু, ছেড়ে দিন না আমায়। আপনি কি নিজের বউ’কে নিজেই মেরে ফেলতে পারবেন বলুন?

অয়ন এক ঝলকে থেমে যায়। তারপর দাঁত চেপে রুক্ষ কণ্ঠে গর্জে ওঠে,

“শাউ*য়ার নাতি, মুখ বন্ধ কর। ভাঙা রেকর্ডের মতো একই কথা বলে যাচ্ছিস। আমার জীবন তো এমনিতেই শেষ করে দিয়েছিস, এখন শুধু আমাকে খাওয়া বাদ।

আহি ঠোঁট বাঁকিয়ে ভয়ার্ত স্বরে বলে,

"ওয়াক থু! আপনাকে খাইতে একটুও মজা লাগবে না। আমার চিকেন খেতে ভালো লাগে, মানুষরূপী ছাগল খাই না।

অয়নে’র চোখ মুহূর্তেই আগুন হয়ে ওঠে। সেই দৃষ্টির তাপে আহি’র মুখের সব কথা হঠাৎ থেমে যায়। সে ভয়ে চুপ করে যায়, শরীরটা কুঁকড়ে আসে।

আর কোনো কথা না বলে অয়ন নিজের রাগ সংযত করার চেষ্টা করে। শক্ত হাতে আহি’কে কোলে তুলে নেয় এবং দ্রুত পায়ে একটি বিশাল বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে। বাড়িটা বিশাল, চারপাশে অদ্ভুত এক থমথমে পরিবেশ। আলো কম, অথচ ভেতরে মানুষের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়।

অয়ন সোজা ড্রয়িংরুমে ঢুকে আহি’কে নিয়ে আসে। সেখানে কয়েকজন লোক বসে আছে। আহি চোখ তুলে তাকাতেই চমকে ওঠে, তাদের মধ্যে শুধু রাকিব’কেই সে চিনতে পারে। বাকিদের মুখ অচেনা, অয়ন ধীরে ধীরে আহি’কে সোফায় বসিয়ে দেয়।

তারপর এমন এক কণ্ঠে বলে ওঠে, যেন সবকিছু আগেই ঠিক করা—

“কাজী সাহেব, বিয়ে পড়ানো শুরু করেন!

কথাটা শোনামাত্র আহি’র মনে হলো মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়েছে। সে লাফিয়ে উঠে দাঁড়ায়। গলা কেঁপে যায়, জিভ জড়িয়ে আসে…

"অ অ অয়ন ভাই! কাজী সাহেব বিয়ে পড়াবেন মানে কী? আপনি আমাকে এখানে কেন এনেছেন? আমি বাড়ি যাবো। আব্বা, আমাকে নিয়ে যান…

হঠাৎ অয়ন ধমকে ওঠে,

“থামবি পাখি! তোর না আমার ওপর ডাউট হচ্ছিল? তাই আজ তোকে দেখিয়ে দেবো। শুধু তোর বাপ কেন, তোর দাদাও আসলে অয়ন ভয় পায় না।

তাদের কথার মাঝে কাজী সাহেব আহি’র দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলেন,

- মা, কবুল বলো।

এই কথাটুকু যেন আহি ফ্যাল ফ্যাল করে কাঁদতে শুরু করে দেয়,

"অয়ন ভাই আমি বিয়ে করবো না। আব্বা, আপনার মাইয়াকে এই ছাগল বিয়ে করতে চায়!

“দেখ দোয়েল, অলরেডি আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে। এখন শুধু পবিত্র কালেমা পড়ে পুরোপুরি আমার করে নেবো। আর এখন যদি ত্যাড়ামো করিস, তাহলে পরিণাম ভালো হবে না।

আহি থরথর করে কাঁপতে থাকে। চারপাশের মানুষগুলো যেন পাথরের মূর্তি, কেউ কিছু বলছে না। ঠিক তখন পেছন থেকে রাকিব সামান্য ঝুঁকে ফিসফিস করে বলে,

বিজ্ঞাপন

"ভাবি, তাড়াতাড়ি কবুল বলেন। আপনাদের বিয়ে হলে এই সুযোগে আমার বউ’টাকে একটু দেখে আসতে পারবো। বুকটা চিনচিন করছে বউ’কে দেখার জন্য।

রাকিব কথাটা শেষ করার আগেই অয়নে’র চোখ দুটো হঠাৎ রক্তিম হয়ে ওঠে। সেই দৃষ্টি যেন বজ্রপাতের মতো গিয়ে পড়ে রাকিবে’র ওপর। মুহূর্তের মধ্যেই রাকিবে’র মুখের হাসি উধাও হয়ে যায়। সে ভয় পেয়ে কাচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে, আর একটাও শব্দ বের করার সাহস পায় না। রুমের ভেতর হঠাৎ এক নিঃশব্দ চাপা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

অয়ন দৃষ্টি পুরোপুরি আহি'র দিকে। সে স্বাভাবিক কন্ঠে প্রতিধ্বনিত করে,

“দোয়েল পাখি, তাড়াতাড়ি কবুল বল!

"আব্বা জানতে পারলে…

কথাটা শেষ করার আগেই যা ঘটে, তা কেউ কল্পনাও করেনি। অয়ন হঠাৎ এক ঝটকায় আহি’র মুখ নিজের দিকে টেনে নেয় এবং জোর করে তার ঠোঁট নিজের দখলে নেয়। এক মুহূর্তে পুরো ঘরটা স্তব্ধ হয়ে যায়।

কাজী সাহেব সহ উপস্থিত সবাই চোখ নামিয়ে নেয়।

শুধু রাকিব ব্যতিক্রম। সে আড় চোখে তাকিয়ে দেখছে বারবার।

সময় যেন থেমে যায়। অয়ন এখনো আহি’কে ছাড়ছে না। আর আহি আপ্রাণ চেষ্টা করছে নিজেকে মুক্ত করার।

সে অয়নে’র বুকে কিল মারছে, ঘুষি দিচ্ছে, থাপ্পড় মারছে কিন্তু কিছুতেই নিজেকে ছাড়াতে পারছে না।

তার শক্তি, অয়নে’র কাছে তুচ্ছ। কয়েক মুহূর্ত পর পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে রাকিব তোতলাতে তোতলাতে বলে ওঠে—

"ভাই…এবার মাইয়াটাকে ছেড়ে দে। নয়তো বিড়াল মরার আগেই ওপরে চলে যাবে।

এই কথাটাই যেন অয়নে’র মাথায় ঢোকে।

মুহূর্তেই সে আহি’কে ছেড়ে দেয়। আহি হাঁপাচ্ছে, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তার। সে কটমট দৃষ্টিতে অয়নে’র দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে ওঠে—

"বেহায়া, নির্লজ্জ, রাক্ষস লোক, আপনার লজ্জা-শরম বলে কিছু নেই!

“চুপ কর শাউ*য়ার নাতি! আগে কবুল বল, তারপর যা ইচ্ছে বলিস।

আহি ভ্রু জোগল কুঁচকে বলে,

“যদি না বলি তাহলে?

এই কথাটা শোনামাত্রই অয়নে’র মাথা পুরোপুরি গরম হয়ে যায়। সে নিজের গা থেকে ব্লেজারটা ছুড়ে ফেলে দেয়। এক মুহূর্তেই শার্টের প্রথম তিনটা বোতাম খুলে ফেলে। তার আচরণ দেখে রুমের সবাই হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকে। কেউ কিছু বলার সাহস পায় না। আহি আর এক সেকেন্ডও সময় নেয় না। সে মূহুর্তেই অয়নে’র হাত চেপে ধরে ফেলে।

তার চোখে আতঙ্ক এবং কণ্ঠ ভাঙা,

"এই অয়ন ভাই, থামুন প্লিজ। আমি কবুল বলছি, বলছি। কবুল…কবুল…কবুল, একশোবার কবুল, না না, এক হাজার বার কবুল! তবুও থামেন প্লিজ থামেন!

মূহুর্তেই অয়নে’র ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি খেলে যায়। অতঃপর অয়ন এবং আহি'র বিয়ে সম্পূর্ণ হয়। অয়নে’র ঠোঁটে বিশ্ব জয় করার হাসি, আর আহি সে তো ভয়ে কুঁকড়ে আছে। না জানি বাসায় গিয়ে কি হবে?

অয়ন ধীরে ধীরে আহি’র হাত নিজের হাতের ভাঁজে ঢুকিয়ে শেখ মঞ্জিলের ভেতরে প্রবেশ করে। অন্য দিনের মতো আজ এই বাড়িতে ঢোকাটা আহি’র কাছে মোটেও স্বাভাবিক লাগছে না। বুকের ভেতর অজানা আশঙ্কা ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ছে। প্রতিটা পা ফেলার সঙ্গে সঙ্গে মনে হচ্ছে— সে কোনো নতুন বাড়িতে এসেছে। নতুন নতুন অনুভূতি জন্ম নিচ্ছে তার হৃদয়ে। সে অয়নে’র ঠিক পেছন পেছন হাঁটছে। সামনে কী অপেক্ষা করছে, তা সে আন্দাজ করতে পারছে। জানে৷ একটা ঝড় আসছে, ভয়ংকর ঝড়।

আর সেই ঝড়ের সামনে দাঁড়িয়ে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো অয়নে’র ছায়া আঁকড়ে থাকা। দুজন একসাথে সদর দরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢোকে। ঠিক তখনই অয়ন হঠাৎ থমকে যায়। সামনে তাকিয়ে তার চোখ দুটো ক্ষণিকের জন্য বিস্ময়ে স্থির হয়ে যায়।দরজার ঠিক সামনে শান্তা শেখ দাঁড়িয়ে আছেন, হাতে বরণ ডালা। মুখে প্রশান্ত, বিজয়ী এক হাসি।

কোনো প্রশ্ন নেই, কোনো বিস্ময় নেই, যেন তিনি সব আগেই জানতেন। একটাও কথা না বলে তিনি এগিয়ে এসে আহি’কে অয়নে’র পাশে দাঁড় করান। তারপর নিয়মমাফিক বরণ করে নেন। চোখে-মুখে এক ধরনের তৃপ্তি—যাকে নিজের বউমা হিসেবে চাইছিলেন, তাকেই আজ সত্যি সত্যি পেয়েছেন।

তার হাসিটা প্রাণোচ্ছ্বল, কিন্তু সেই হাসির আড়ালে লুকানো এক অদ্ভুত দৃঢ়তা। দূরে দাঁড়িয়ে মহিবুল শেখ গম্ভীর মুখে পুরো দৃশ্যটা দেখছেন। তার চোখে কোনো আনন্দ নেই, নেই সন্তুষ্টি। বরং এক ধরনের কঠোর নীরবতা।

অয়ন প্রথমে পুরো ব্যাপারটা বুঝে উঠতে পারে না। কিন্তু ড্রয়িং রুমের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা রাকিব’কে চোখে পড়তেই সব পরিষ্কার হয়ে যায়। রাকিব মেকি হাসি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অয়ন বুঝে যায়, রাকিব আগেই তাদের বিয়ের ব্যপারটা বলে দিয়েছে।

হঠাৎ শান্তা শেখ আহি’কে নিজের এক বাহুতে জড়িয়ে ধরে আদুরে কণ্ঠে বলে ওঠেন,

- আমার রাজকন্যা পুরোপুরি আমার ঘরে চলে এলো তাহলে! ইস্‌স…কী যে সুন্দর লাগছে আমার মেয়েটাকে!

আহি কিছু বলে না। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। তার চোখে পানি জমে উঠলেও সে কাউকে দেখাতে চায় না। শান্তা শেখের কথার উষ্ণতায় কোনো স্বস্তি নেই—বরং বুকের ভেতরটা আরও ভারী হয়ে আসে। সে ধীরে ধীরে তার পিছু পিছু এগোয়।

হঠাৎ এক পলকের জন্য আহি’র চোখ পড়ে সামনের দিকে। তার বাবা—মহিবুল শেখ। এক মুহূর্তের জন্য তাদের চোখাচোখি হয়। আহি’র বুক কেঁপে ওঠে। চোখে জমে থাকা কান্না আর ধরে রাখতে পারে না সে। কিন্তু পরক্ষণেই আবার চোখ নামিয়ে নেয়।

এভাবে তাকিয়ে থাকার সাহস তার নেই।

অয়ন একটুও দ্বিধা না করে মহিবুল শেখের সামনে গিয়ে বুক ফুলিয়ে দাঁড়ায়। তার মুখে স্পষ্ট আত্মবিশ্বাস, যেন সে কোনো অপরাধ করেনি, বরং বিজয় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঠোঁটের কোণে মুচকি এক হাসি খেলিয়ে অয়ন বলে ওঠে—

“হেই শ্বশুর আব্বা! কেমন আছেন?

মহিবুল শেখ কোনো উত্তর দেন না। তিনি এখনো মুখ ভাড় করে তাকিয়ে আছেন। হঠাৎ তিনি দাঁতে দাঁত চেপে গম্ভীর স্বরে বলেন,

"নিজের চাচাতো বোনকে বিয়ে করতে লজ্জা করলো না তোমার? বদমাইশ ছেলে।

অয়ন বাঁকা হেসে ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে আওরায়,

“না একটুও লজ্জা করেনি! শুধু বিয়ে নয় আপনার মেয়ের সাথে হাফ বা'স'র ও করে ফেলছি। রাত হলেই বাকি বা'স'র সেরে ফেলবো। এতে যদি আপনার বিশ্বাস না হয় তাহলে কয়েক মাস ওয়েট করেন হাতে কলমে প্রমান পেয়ে যাবেন হু!

অয়নে‘র কথা শুনে সবাই বিষ্ময়কর দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। ছেলেটা আগে থেকেই নির্লজ্জ প্রকৃতির ছিল, এখন বিয়ে করেছে। এখন যে তাদের কি কি শুনতে হবে কে জানে।

"চুপ কর বেহায়া ছেলে। বড়দের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় জানো না।

“সত্যি বলছি শ্বশুর আব্বা আগে জানতাম না, তাই তো আপনার মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ে আসলাম। এবার বলুন মেয়ের জামাইকে দেখে আপনার ফিলিংস কেমন হচ্ছে?

বিজ্ঞাপন
নেশাময় আসক্তি গল্পটি বন্যা সিকদার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় স্পেশাল রোমান্টিক গল্প