নেশাময় আসক্তি

পর্ব - ৭

🟢

অন্ধকার কক্ষ!

চারপাশে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ, বাতাস ভারী আর দমবন্ধ করা। মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রক্ত শুকিয়ে কালচে হয়ে গেছে, কোথাও আবার টাটকা রক্তের আভা। সেই রক্তের মাঝখানেই পড়ে আছে একটি যুবক—আধমরা অবস্থায়। তার সারা শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন। কোথাও নীলচে দাগ, কোথাও কেটে যাওয়া চামড়া, কোথাও জমাট বাঁধা রক্ত। দু’হাত শক্ত করে বাঁধা, এতটাই শক্ত যে আঙুলগুলো অবশ হয়ে এসেছে। চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু আলো পেলেই চিকচিক করে ওঠে। তৃষ্ণায় তার জিহ্বা শুকিয়ে বেরিয়ে এসেছে, গলা এমন শুকিয়ে গেছে যেন কাঠ হয়ে গেছে।

অথচ কেউ তাকে এক ফোঁটা পানিও দিচ্ছে না। ব্যথা আর অসহায়ত্বে সে ক্ষীণ শব্দে কাতরাতে থাকে। প্রতিটা শ্বাস যেন তার জন্য যুদ্ধ। মনে হচ্ছে এই অন্ধকার ঘরটাই বুঝি তার কবর। হঠাৎ কড়কড় শব্দে দরজা ঠেলে কেউ একজন ভেতরে ঢুকে পড়ে।

মৃদু আলোয় মেঝের উপর একটা লম্বা ছায়া পড়ে। সেই ছায়া ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। চোখের সামনে অচেনা সেই ছায়ামূর্তি দেখে যুবকটির শরীর আরও কেঁপে ওঠে। ভয় তার বুক চেপে ধরে, নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

ভাঙা গলায়, গোঙাতে গোঙাতে সে বলে ওঠে—

"কে…কে কে আপনি? আমাকে ধরে রেখেছেন কেন? আমি কী করেছি? প্লিজ, আমাকে ছেড়ে দিন…

ছায়া মানবটি কোনো উত্তর দেয় না। ধীর পায়ে এগিয়ে এসে একটি রকিং চেয়ারে বসে পড়ে, ঠিক যুবকটির মুখোমুখি। চেয়ারটা হালকা দুলে ওঠে, কিচকিচ শব্দে ঘরটা আরও ভীতিকর হয়ে ওঠে। আলো একটু স্পষ্ট হতেই মুখটা পরিষ্কার দেখা যায়। মুহূর্তেই যুবকটির চোখ বড় হয়ে যায়। শরীরটা যেন জমে যায় আতঙ্কে।

ঠোঁট কাঁপতে কাঁপতে সে ফিসফিস করে বলে,

"মি. আদনান শেখ অয়ন আপনি?

পরের সেকেন্ডেই কোনো কথা না বলে অয়ন উঠে দাঁড়ায়। তার চোখে কোনো আবেগ নেই, ন আর না দয়া, শুধু ভয়ংকর হিংস্রতা। আচমকাই সে যুবকটির বুক বরাবর সজোরে লাথি মারে। আঘাতের চোটে যুবকটি উল্টে গিয়ে ছিটকে পড়ে। শরীরটা শূন্যে ভেসে গিয়ে দেয়ালের সঙ্গে সজোরে আছড়ে পড়ে। বিকট শব্দে ঘরটা কেঁপে ওঠে। প্রচণ্ড যন্ত্রণায় সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না, চিৎকার করে ওঠে।

ব্যথায় শরীর মোচড়াতে থাকে, শ্বাস আটকে আসে। বুকের ভেতরটা যেন ফেটে যাচ্ছে। কিন্তু অয়নে র মুখে কোনো পরিবর্তন নেই। সে ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে থাকে, যেন এই যন্ত্রণাটা তার কাছে কিছুই না। অন্ধকার ঘরটা তখন শুধু আর্তনাদের শব্দে ভরে ওঠে।

ঘরটা আবার নিস্তব্ধ হয়ে যায়। নিস্তব্ধতা এতটাই গভীর যে শুধু যুবকটির কষ্টে কাঁপা শ্বাসের শব্দ দেয়ালে দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে। প্রতিটা শ্বাস যেন তার বুক ছিঁড়ে বেরোচ্ছে। রক্ত আর ঘামের গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে আছে। অয়ন ধীরে ধীরে রকিং চেয়ারে ফিরে বসে। এক পা আরেক পায়ের ওপর তোলে, কনুইয়ে ভর দিয়ে দুই হাতের আঙুল জোড়া করে রাখে। চোখে কোনো তাড়া নেই, নেই রাগের বিস্ফোরণ বরং ভয়ংকর এক ঠান্ডা ধৈর্য। সে নিঃশব্দে যুবকটির দিকে তাকিয়ে থাকে, যেন তার ভেতরটা পড়ার চেষ্টা করছে।

হঠাৎ অয়ন গম্ভীর, ভারী স্বরে বলে ওঠে,

“মিনিস্টার কোথায়?

শব্দটা ঘরের ভেতর ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে।

যুবকটি কষ্টে কাশতে কাশতে মাথা তোলে। চোখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট, তবুও সে প্রশ্ন করে—

"ডক্টর…আপনি আমাকে এখানে ধরে নিয়ে এসেছেন? আপনি কি ভুলে যাচ্ছেন আমি কে? আমার শরীরে আঘাত করার পরিনাম কি কি হতে পারে।

অয়নে'র চোখের দৃষ্টি একচুলও নড়ে না। একই প্রশ্ন আবার ছুড়ে দেয়,

“মিনিস্টার কোথায়?

যুবকটি এবার একটু শক্ত হওয়ার চেষ্টা করে। ব্যথায় কুঁকড়ে থাকলেও কণ্ঠে প্রতিবাদের সুর ঢোকে। সে দ্বিমত না করে সোজাসাপটা উত্তর দেয়,

"আমি জানি না স্যার কোথায় আছে।

অয়ন চেয়ার থেকে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। দুই-তিন পা এগিয়ে আসে। কণ্ঠ এবার আরও ঠান্ডা, আরও ভয়ংকর—

“লাস্ট বার জিজ্ঞেস করছি। মিনিস্টার কোথায় আছে?

যুবকটি দাঁতে দাঁত চেপে বলে,

"বললাম তো জানি না। আর জানলেও আপনাকে কেন বলবো? কে আপনি?

অয়নে'র ঠোঁটের কোণে হালকা, ভয়ানক এক হাসি ফুটে ওঠে। সে ধীরে বলে,

“তোর আজরাইল!

পরের সেকেন্ডেই অয়ন হাতের হালকা ইশারা করে। অন্ধকার কোণ থেকে একজন গার্ড এগিয়ে এসে তার হাতে একটি রিভলভার তুলে দেয়। ধাতব অস্ত্রের ঠান্ডা চকচকে আলো ঘরের মিটমিটে বাল্বে ঝলসে ওঠে। রিভলভারটা দেখে যুবকটি চমকে উঠবে, এটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু না।

সে হঠাৎ হেসে ওঠে। হাসিটা কাঁপা হলেও ভেতরে একরাশ তাচ্ছিল্য লুকানো।

"এই সামান্য রিভলভার দেখিয়ে আমার পেট থেকে সত্য বের করতে এসেছেন? তাহলে ভুল জায়গায় ভুল লোক ধরেছেন, ডক্টর। আপনার দৌড় হসপিটালের করিডোর পর্যন্ত।

কথাগুলো শেষ হওয়ার আগেই ঘরের বাতাস হঠাৎ ভারী হয়ে ওঠে।

অয়ন আর এক সেকেন্ডও সময় নেয় না। সে যুবকটির বুকে রিভলভার ঠেকায়। চোখে কোনো দ্বিধা নেই, নেই অনুতাপের ছায়াও। প্রথম গুলিটা'ই তার বুকে ঢুকে যায়। পরপর আরো কয়েকটা গুলি। বিকট শব্দে ঘরটা কেঁপে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যেই যুবকটির বুক ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। গরম রক্ত ছিটকে পড়ে মেঝেতে, দেয়ালে।

ব্যথায় চিৎকার করার সুযোগও পায় না সে, শরীরটা কেবল একবার কেঁপে উঠে নিস্তেজ হয়ে যায়। সে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। রক্তে ভিজে যায় চারপাশ। নিথর শরীরের বুক থেকে এখনও ক্ষীণ শ্বাস বেরোনোর চেষ্টা করছে, কিন্তু তাও দ্রুত মিলিয়ে যাচ্ছে। অয়ন ধীরে ধীরে রিভলভারটা নামায়। ঠোঁটের কোণে বাঁকা, ভয়ংকর এক হাসি ঝুলে ওঠে। চোখে সেই চেনা শীতলতা, যেন এই মৃত্যু তার কাছে খুব স্বাভাবিক কিছু। সে ঠান্ডা গলায় বলে—

বিজ্ঞাপন

“সীমাহীন কথা আমার কোনো কালেই পছন্দ ছিল না!

এক পা এগিয়ে এসে সে নিথর দেহটার বুকে সজোরে লাথি মারে। শরীরটা সামান্য নড়ে ওঠে, তারপর আবার স্থির। অয়ন উল্টো দিকে হাঁটতে হাঁটতে বলল,

“এবার উপরে গিয়ে দেখিস…আমার দৌড় হসপিটালের করিডোর পর্যন্ত'ই ছিল নাকি আরও দূর অবধি যেতে পারে, শুয়োরের বাচ্চা?

কথা শেষ করেই সে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। যাওয়ার আগে গার্ডদের দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা মাথায় সব নির্দেশ দিয়ে দেয়, তাদের কি কি করতে হবে। সাথে সাথেই দরজা বন্ধ হয়ে যায়। হালকা অন্ধকার ঘরের ভেতর পড়ে থাকে রক্তে ভেজা নিথর দেহটা। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত যুবকটির চোখ খোলা ছিল—সেই চোখ দুটো স্থির হয়ে তাকিয়ে ছিল অয়নে'র চলে যাওয়ার পথে।

হয়তো এই কারণেই কাউকে কখনো অতটা তুচ্ছ, অতটা নগণ্য মনে করতে নেই!

রাত তখন গভীর!

চারপাশ নিস্তব্ধ, বাতাসে শীতের হিমেল ছোঁয়া। অথচ অয়ন এই শীতের রাতেও ঘেমে জবজব করছে। সাদা শার্টটা ঘামে ভিজে শরীরের সঙ্গে লেপ্টে আছে, ভেতর দিয়ে তার পাঁজরের রেখা পর্যন্ত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মাথাটা ঝিমঝিম করছে, পা দুটো যেন আর তাকে টানতে চাইছে না। জীবনে কখনো এমন ক্লান্তি অনুভব করেনি সে।

হেলেদুলে ধীরে ধীরে নিজের রুমের দিকে হাঁটতে থাকে অয়ন। প্রতিটা পা ফেলতেই মনে হচ্ছে এখানেই যদি লুটিয়ে পড়ে…যদি আর এক পা-ও না হাঁটে। তবুও জানে, রুম পর্যন্ত যেতেই হবে তাকে। একটা লম্বা শাওয়ার তার এখন ভীষণ দরকার, তারপর গভীর ঘুম, হয়তো তাতেই শরীর আর মন দুটোই একটু শান্ত হবে। ঠিক তখনই হঠাৎ থমকে যায় সে। আহি’র রুমে আলো জ্বলছে।

ঘড়ির দিকে তাকানোর দরকার হয় না অয়নে'র। সে জানে, রাত প্রায় দুটো। এত রাতে আহি জেগে আছে? এই ভাবনাটাই তার বুকের ভেতর অজানা এক শঙ্কা ঢুকিয়ে দেয়। কারণ মেয়েটা ভীষণ ঘুমকাতুরে। একটু রাত হলেই যার চোখ জড়িয়ে আসে, সে মেয়েটা এত গভীর রাতে জেগে, এই ধারণাটাই অয়নে'র বুকটা চেপে ধরে। হাতে ধরা ব্লেজারটা অজান্তেই মেঝেতে পড়ে যায়। অয়ন নিঃশব্দে, প্রায় নিঃশ্বাস চেপে, আহি’র রুমের দিকে এগিয়ে যায়। দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দেয়। চোখে পড়তেই তার বুক থেকে একটা ভারী শ্বাস বেরিয়ে আসে—স্বস্তির!

আহি ঠিকই আছে। সে বিছানার ওপর উল্টো হয়ে বসে আছে, যেন কারো সঙ্গে কথা বলছে। মাথার ওপর একটা ছোট্ট গোমটা টানা, বাচ্চাদের শাড়ি দিয়ে। অয়ন এক পলকে শাড়িটা চিনে ফেলে। এই শাড়িটা সে নিজেই আহি’কে উপহার দিয়েছিল, তখন আহি ছিল অনেক ছোট। সেই স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে উঠতেই অয়নের বুকের ভেতর কেমন একটা শীতল অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে। সময় কত দ্রুত বদলে গেছে, অথচ কিছু জিনিস ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে।

কিন্তু আহি’র অঙ্গভঙ্গি অয়ন'কে আবার সতর্ক করে তোলে। মেয়েটা খুব মনোযোগ দিয়ে কথা বলছে। কার সঙ্গে? কী নিয়ে? এই প্রশ্নগুলো অয়নে'র মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে। আহি যেহেতু দরজা খোলা রেখেই ঘুমাতে অভ্যস্ত, তাই অয়নে'র ভেতরে ঢুকতে কোনো অসুবিধা হয় না। সে নিঃশব্দে পা ফেলে রুমে ঢুকে পড়ে। আলোটা নরম, পরিবেশটা অদ্ভুত শান্ত কিন্তু সেই শান্তির ভেতর কোথাও যেন অজানা অস্থিরতা লুকিয়ে আছে।

অয়ন ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়। একেবারে নিঃশব্দে গিয়ে আহি’র ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে পড়ে।

আহি’র হাতে ধরা একটা ছবি। অয়ন আর আহি একসঙ্গে! ছবিটা যে এডিট করা, সেটা বুঝতে পারছে অয়ন। কারন গত ছয় বছরে দু'জনে এক সঙ্গে একটা ছবিও তুলেনি। আহি সম্ভবত অনেক যত্ন করে একটা ছোট্ট এলবাম বানিয়েছে। প্রতিটা ছবিতে স্মৃতি লুকিয়ে আছে। আহি সেই সবচেয়ে প্রিয় ছবিটায় ঠোঁট ছোঁয়ায়, তারপর ছবিটা বুকে জড়িয়ে ধরে শক্ত করে।

মুহূর্তেই বুকের ভেতর কেমন এক শান্তি নেমে আসে। যেন এতক্ষণ ধরে জমে থাকা অস্থিরতা হঠাৎ থেমে গেছে। ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ঝুলিয়ে আহি ধীরে ধীরে বলে—

"ডিয়ার অয়ন ভাই! আপনি মানুষটা একটুও ভালো না। আপনি আমাকে ভালোবাসেন, এটা আমি জানি। অথচ আপনার ‘প্রেয়সি’ যে গত ছয় বছর ধরে আপনার ওপর এক আকাশ সমান অভিমান জমিয়ে রেখেছে, সেই দিকে আপনার একটুও নজর নেই। সুযোগ পেলেই আমার ঠোঁটে হামলা করেন, অথচ এক মুহূর্তের জন্যও বুকে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞেস করেননি “দোয়েল পাখি, তুই কি আমার ওপর অভিমান করেছিস?”

আহি হালকা নিশ্বাস ফেলে।

"না…আপনি এসব করবেন না। আপনার ধারণা, আপনার দোয়েল পাখি আপনাকে সহ্যই করতে পারে না। কিন্তু আপনি কি জানেন? আপনার দোয়েল পাখি আপনাকেও অনেক অনেক অনেক ভালোবাসে। সে সারাজীবন আপনার বক্ষজোড়ে থাকতে চায়। আপনার বুকে মাথা রেখে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করতে চায়। আপনার নিঃস্বার্থ ভালোবাসার চাদরের ভেতর নিজেকে আঁটকে রাখতে চায়।

অথচ আপনি এত বড় হয়েও এসব বুঝতে পারেন না। কেন বুঝেন না? আমার চোখে কি আপনার প্রতি ভালোবাসা আপনার নজরে পড়ে না?

নাকি আপনি বুঝতে চান না?

হঠাৎই সে খিলখিল করে হেসে ওঠে। হাসিটা কেমন ভাঙা, নিজের সঙ্গেই মজা করার মতো। নিজের গালে হালকা দুটো থাপ্পড় দেয়। নিজে নিজেই বলল,

"আহি, তোকে সবাই এমনি এমনি গাঁধি বলে না। তুই কি এক দন্ড অয়ন ভাইয়ের পাশে বসে কথা বলেছিস? শুধু শুধু ওই মানুষটার দোষ দিচ্ছিস। ওই মানুষটা তোকে কত ভালোবাসে অথচ তুই এতো অভিযোগ করছিস।

আহি আবার মুখ বাকিয়ে উঠে। এতক্ষণ জমে থাকা অভিমান যেন আর ধরে রাখতে পারে না। ঠোঁট ফুলিয়ে, শিশুসুলভ জেদ নিয়ে সে বলে ওঠে—

"অভিযোগ কেন করবো না? অয়ন ভাই তো বিদেশ থেকে এসেছে কতদিন হয়ে গেল! কই, আমার জন্য তো একটাও গিফট নিয়ে আসেনি। ইভেন এই ছয় বছরে আমার বার্থডেতে একটা উইশও করেনি, গিফট তো দূরের কথা। আর মাত্র দু’দিন পরই আমি আঠারো বছরে পা রাখতে যাচ্ছি, সেদিকেও তার কোনো নজর নেই!

আহি বুকের সামনে হাত জোড়া করে বসে পড়ে।

"আমাকে একটু বেড়াতেও নিয়ে যায় না। অথচ ভাইয়া মাহি'কে ভালোবাসে না তবুও ওকে নিয়ে কত ভাবে, কত কিছু গিফট করে! আর আপনি? আপনি আমাকে কিছুই গিফট করেন না। আপনি আমার পঁচা অয়ন ভাই। আমি আপনাকে আর একটুও ভালোবাসবো না… হু!

ঠিক তখনই তার কানের খুব কাছে ভেসে আসে এক শান্ত, ভারী কণ্ঠস্বর।

“পাখি আমার এতো অভিমানী! সে আমাকে ভালোবাসে, আমার দেওয়া ছোট্ট ছোট্ট ভালোবাসা ফিল করে অথচ সে আমাকে বুঝতেই দেয় না, আমি তার কাছে কতটা প্রিয়!

আহি আঁতকে উঠে। বুকের ভেতর ধক করে ওঠে হৃদয়। মুহূর্তেই সে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়,

আর ঠিক তখনই অয়ন’কে দেখে লাফিয়ে একপাশে সরে যায়।

চোখ দুটো বিস্ময়ে বড় হয়ে যায়। মুখ ফ্যাকাশে।

হাত-পা কাঁপতে থাকে।

কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে শব্দগুলো কোনোরকমে বের হয়,

"অ অ অ অয়ন ভাই …

বিজ্ঞাপন
নেশাময় আসক্তি গল্পটি বন্যা সিকদার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় স্পেশাল রোমান্টিক গল্প