রাত তখন ঠিক তিনটা!
চারপাশ নিস্তব্ধ, শীতের হিমেল বাতাসে বাড়িটা যেন আরও গুমোট হয়ে আছে। অয়ন আর আদিল গুটি গুটি পায়ে সদর দরজা দিয়ে বাড়ির ভেতর ঢুকছে। নিজেদের বাড়ি হয়েও তাদের চলাফেরায় চোর-চোর ভাব। কারণ একটাই—এক্সট্রা চাবি নেই। বাধ্য হয়ে মাঝরাতে সাজ্জাদ'কে ফোন দিতে হয়েছে দরজা খুলে দেওয়ার জন্য। সাজ্জাদ দরজা খুলেই এক দৌড়ে আবার নিজের রুমে ঢুকে পড়ে। এই শীতে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা তার কাছে একেবারেই নিরাপদ মনে হয়নি। অথচ এই হাড়কাঁপানো শীতের রাতেই তাদের দুই হ্যান্ডসাম ভাইয়া কোথায় যেন “মিশনে” গিয়েছিল!
ভেতরে ঢুকেই অয়ন শীতে কাঁপতে কাঁপতে বিরক্ত গলায় আওড়ায়,
“যাহ্ শালা! নিজের বাড়িতে ঢুকতেও চোরের মতো ঢুকতে হয়। এমন আবুলা কপাল কয়জনের থাকে রে?
আদিল হালকা হাসি চেপে জবাব দেয়,
"এমন কপাল তোর আর আমার ছাড়া আর কারো আছে বলে তো জানা নেই।
অয়ন দাঁত কাঁপাতে কাঁপাতে গজগজ করে,
“বা*লের শীত পড়ছে! ইয়ে থেকে মাথা পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিচ্ছে।
আদিলের দৃষ্টি বুঝে অয়ন হঠাৎ আমতা আমতা করে বলে,
“আ আ আরে না না, আমি ইয়ে মানে পা বুঝাচ্ছি! সবকিছু নেগেটিভ মাইন্ডে নিস কেন?
আদিল তীক্ষ্ণ চোখে তাকায়,
"আমাকে তোর লেদা বাচ্চা মনে হয় নাকি? তুই কোন ইয়ে-র কথা বলেছিস, আমি বুঝিনি এটা ভেবেছিস? ভণ্ডামি বাদ দে, চল রুমে। তোর এই বা*লের মিশনের জন্য ঠান্ডায় একটুখানি শান্তিতে ঘুমাতেও পারছি না।
কথা বলতে বলতে দু’জন ধীরে ধীরে ড্রয়িং রুমে এসে পৌঁছায়। হঠাৎ অয়ন নিজের পেটে হাত বুলিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে ওঠে,
“শালাবাবু, তুই রুমে যা। আমার খুব খিদে পেয়েছে। আগে কিছু খেয়ে আসি।
আদিল আর কোনো দ্বিমত না করে ক্লান্ত পায়ে নিজের রুমের দিকে হাঁটা দেয়। অয়ন খুশি মনে গুনগুন করতে করতে কিচেন রুমের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে।
“শীতে আমার বউ লাগবে বা*লের শ্বশুর বুঝে না। আমার যেদিন সময় আসবে আপনার বউও থাকবে না, লা লা লা লা
অয়ন নিজের গান শুনে নিজেই হাসতেছে। অত্যাধিক খিদে লাগার ফর এমনটা হতে পারে নিজেও জানতো না। সপ ফ্রিজের দরজা খুলে ভেতরে উঁকি দিতেই তার মুখটা মুহূর্তেই বেঁকে যায়।
খাওয়ার মতো কিছু নেই, শুধু একটা প্লেটে রাখা আছে ঠান্ডা ভাত, আর কিছু না। দৃশ্যটা দেখেই অয়নে'র মেজাজ তুঙ্গে উঠে যায়। এত খিদে নিয়ে ভাত দেখার মানে যেন খিদের সাথে ঠাট্টা করা। দাঁত চেপে সে বিড়বিড় করে ওঠে। অবশেষে সিদ্ধান্ত নেয়,নিজেই রান্না করবে।
যদিও রান্নার সঙ্গে তার সম্পর্ক খুব একটা ভালো না, তবুও নিজের ওপর একটা অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস আছে চেষ্টা করলে পারা যায়। এই ভরসাতেই সে ফ্রাইং প্যান চুলায় বসায়।
তেল দিতে গিয়ে সমস্যার শুরু। হালকা তেল দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হাতে কন্ট্রোল না থাকায় প্যানে ঢেলে ফেলে অনেকটা তেল। সেটা নিয়ে ভাবার আগেই আরেক কাণ্ড— তেল গরম হওয়ার আগেই ডিম ভেঙে প্যানে ঢেলে দেয়।
হাত বাড়িয়ে চামচ খুঁজে পায় না। চারপাশে তাকিয়ে শেষমেশ একটা ছোট কাঁটা চামচ পায়। সেটাই নিয়ে ডিম উল্টাতে যায়। ফলাফল ডিম সুন্দরভাবে উল্টানোর বদলে মাঝখান থেকে ভেঙে একাকার।
ডিমের সঙ্গে সঙ্গে যেন অয়নে'র মনটাও ভেঙে যায়। ভাঙা মন নিয়েই সে এক চিমটি লবণ দিতে যায়। কিন্তু আজ ভাগ্য পুরোপুরি বিপক্ষে। এক চিমটির জায়গায় পুরো এক চামচ লবণ পড়ে যায় প্যানে। এইবার আর সহ্য হয় না। মাথার ভেতর যেন আগুন জ্বলে ওঠে। রাগে গজগজ করতে করতে সে ফ্রাইং প্যানটা তুলে নিয়ে সোজা মেঝেতে ছুড়ে ফেলে দেয়। ধপাস করে শব্দ ওঠে।
সে চিৎকার করে বলে ওঠে,
“বা*লের রান্না করবো আমি! এই কিচেন রুমের কেউ আমার কথা শোনে না! এর থেকে সহজ ছিল আদিলে'র বোনকে পটিয়ে খেয়ে ফেলতাম! খেতেও টেস্ট হতো, এতো আকামও করতাম না।
অয়ন নিজের জিব্বাহে কামড় দিয়ে আবারও বলল,
“ছেহ্ শালা নষ্ট পুরুষদের মতো কথা বলিস কেন? এমনিতেই মাতারী কথা বলতে চায়, আবার নষ্টামি করতে গেলে আমার ইয়ে কেঁটে দেবে।
অন্যদিকে,
মাঝরাতে হঠাৎ করেই আহি'র তেষ্টা পেয়ে যায়। গলা শুকিয়ে কাঠ, পানি না খেলে আর শান্তি নেই। সে ধীরে ধীরে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ে এবং সাবধানে সিঁড়ির দিকে এগোয়। ঠিক তখনই নিচতলা থেকে কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ ভেসে আসে। আহি মুহূর্তেই থমকে যায়। বুকের ভেতরটা কেমন করে ওঠে। রাত গভীর, চারপাশ নিস্তব্ধ—এই সময় এমন শব্দ মানেই অস্বাভাবিক কিছু। সে নিঃশ্বাস চেপে ধরে ধীরে ধীরে পা ফেলে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে থাকে। ড্রয়িং রুমের লাইট বন্ধ, চারদিকে আধো অন্ধকার। চোখ সয়ে নিতে একটু সময় লাগে। হঠাৎই কিচেন রুমের সামনে এক ছায়ামানবের নড়াচড়া চোখে পড়ে।
মূহুর্তেই আহি'র গলা শুকিয়ে আসে। ভয়ে সে সঙ্গে সঙ্গে সিঁড়ির আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। ছায়ামানবটা যে অয়ন, এই কথাটা তার মাথায় আসে না। তার চোখে তখন শুধু একজন অচেনা মানুষ, গভীর রাতে ঘরের ভেতর ঘোরাফেরা করছে। ওদিকে অয়ন নিজের খিদে মেটানোর জন্য খাবার খুঁজে বেড়াচ্ছে। ফ্রিজ খুলে দেখে ভেতরে মোটামুটি অনেক ফল আর মিষ্টি আছে কিন্তু সবই ঠান্ডা। শীতের রাতে ঠান্ডা কিছু খাওয়ার কথা ভাবতেই তার শরীর কেঁপে ওঠে। বিরক্ত হয়ে সে ফ্রিজ বন্ধ করে দেয় এবং শুকনো খাবারের খোঁজে খাবার টেবিলের দিকে যায়।
এদিকে আহি ভয়ে ভয়ে আবার সিঁড়ির কাছে এগিয়ে আসে ছায়ামানবটার নড়াচড়া স্পষ্ট দেখতে পেয়ে তার সন্দেহ আর ভয় দুটোই নিশ্চিত হয়ে যায়। সে ফিসফিস করে গজগজিয়ে ওঠে,
"শেখ মঞ্জিলে চোর? দাঁড়া, চোরের বাচ্চা তোকে আজ মজা দেখাচ্ছি।
মানুষটাকে সামনে থেকে না দেখেই সে তাকে চোর ধরে নেয় আহি। ভয়টা এবার রূপ নেয় দুঃসাহসে। মাথার ভেতর দুষ্টু এক বুদ্ধি খেলে যায়।
"মানুষ হাজার ভাবে চোরকে ঘায়েল করে। কিন্তু আনকমন ভাবে আজ আরুহি শেখ আহি ঠান্ডা পানি ঢেলে চোর ঘায়েল করবে।
আর এক মুহূর্তও দেরি করে না সে। অয়ন যখন কিচেন রুম থেকে বেরিয়ে আসে, ঠিক তখনই আহি নিঃশব্দে কিচেনে ঢুকে পড়ে। চারপাশে চোখ বুলিয়ে অবশেষে একটা বালতি খুঁজে পায়। সে ফ্রিজ থেকে বরফঠান্ডা পানি নেয়, তার সঙ্গে বাইরে রাখা ঠান্ডা পানি মিশিয়ে নেয়। বালতিটা দু’হাতে ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় আহি। ওদিকে অয়ন হাতে একটা কলা নিয়ে খেতে খেতে সামনের দিকে আসে। খিদের চোটে সে একদম নিশ্চিন্ত।
ঠিক তখনই এক ঝাঁপটা বরফশীতল পানি এসে সরাসরি অয়নে'র গায়ে পড়ে। অয়ন বিদ্যুতের গতিতে লাফিয়ে ওঠে,
“কোন শাউ*য়্যার নাতিরে…
একই সঙ্গে আহি আতঙ্কে চিৎকার দিয়ে ওঠে,
"বড় চাচ্চু, ছোট চাচ্চু, আব্বাজান! দেখে যান চোর এসেছে শেখ মঞ্জিলে। ভাইয়া, মাহি, মুন, চোর চোর চোর
অয়ন কিছুটা এগিয়ে যেতেই আবারও তার শরীর ঠান্ডা পানি ছুড়ে দেয়। আহি আরো জোরে চিৎকার করছে ঠিক তখনই অয়ন বিদুৎ গতিতে গিয়ে আহি'র মুখে চেপে ধরে,
“মা*ঙ্গে নাতি মুখটা বন্ধ কর, নয়তো আস্ত জাহাজ ঢুকে যাবে! আর আমি চোর না, তোর ভাতার লাগি ভাতার। শুধু বউ করে ঘরে তুলতে দে,তারপর আমার গায়ে ঠান্ডা পানি দেওয়ার ফল তখন পাবি। এক রাতেই ৭০ বার শাওয়ার নেওয়াবো তোকে!
আহি’র চিৎকারে কেঁপে ওঠে পুরো বাড়ি। মুহূর্তের মধ্যেই ড্রয়িং রুমে হাজির হয় বাসার প্রায় সব সদস্য। আদিল ঢুকেই হাত বাড়িয়ে লাইটের সুইচ অন করে দেয়। হঠাৎ আলো জ্বলে উঠতেই যে দৃশ্যটা চোখে পড়ে, তা দেখে সবাই যেন এক সেকেন্ডের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। ভেজা শরীর, ক্ষুব্ধ চোখে অয়ন দাঁড়িয়ে আছে ঠিক আহি’র সামনে। সবাই আহাম্মকের মতো তাকিয়ে আছে দু’জনের দিকে।
আহি চোখ তুলে সেই লোকটার দিকে তাকাতেই শরীর কেঁপে ওঠে। গলা শুকিয়ে আসে, কথা বের হয় কাঁপা কাঁপা স্বরে—
"অ…অ…অয়ন ভাইয়া!
অয়ন দাঁতে দাঁত চেপে গর্জে ওঠে,
“ভাইয়া না ভাতার বলবি ভাতার।
পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে আহি তাড়াতাড়ি নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়। এক ধাপ পিছিয়ে দাঁড়ায়। মুখ ফ্যাকাশে, চোখে স্পষ্ট ভয়। মহিবুল শেখ বিস্ময়ে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছেন। তিনি অয়নের দিকে এগোতেই অয়ন মুখ বাঁকিয়ে বিরক্ত স্বরে বলে ওঠে,
“দেখেন শ্বশুর আব্বা, এখন আমার কোনো দোষ নাই। আপনার মাইয়া আমাকে চোর ভেবে আমার গায়ে ঠান্ডা পানি ঢেলে দিয়েছে! মন চাইতেছে এক থাপ্পড় দিয়ে চান্দের দেশে পাঠিয়ে দেই। এই শীতের দিনে শাওয়ার নিতেই হিমশিম খাই, আর এই শালী কিনা ঠান্ডা পানি ঢেলে দিল!
হঠাৎ করেই দাঁত কিড়মিড় করে কথা বলে ওঠেন অয়নে'র মা, শান্তা শেখ—
- বাপ, তোরে চোর ভাবার কী আছে? তোকে দেখতেই তো চোরের মতো লাগে!
কথাটা শুনে আহি খিলখিল করে হেসে ফেলে। অয়ন চোখ পাকিয়ে তাকাতেই মুহূর্তেই হাসি গিলে ফেলে সে।
অয়ন দৃঢ় গলায় বলে ওঠে,
“আম্মা! আপনি আমার জননী হয়ে আমাকে চোর বলছেন? জানেন আপনার ছেলের জন্য কত মেয়ে পাগল?
শান্তা শেখ নির্বিকার ভঙ্গিতে জবাব দেন,
- তাদের রুচি খারাপ, তাই তোর জন্য পাগল। যেদিন রুচি ঠিক হবে, সেদিন তোকে এমনিতেই ভুলে যাবে।
অয়ন দাঁত চেপে আদিলের দিকে তাকিয়ে বলে,
“আদিল, তোর শাশুড়ি'কে বল আমাকে যেন ইনসাল্ট না করে, নয়তো…
- নয়তো কী করবি?
অয়ন ঠোঁটে বাঁকা হাসি টেনে বলে,
“নয়তো আপনার আদুরে আহি’কে তুলে নিয়ে বিয়ে করে ফেলবো। আম্মা-আব্বা হয়ে কোনো দায়িত্বই তো পালন করছেন না। এই শীতে যে ছেলের বউ লাগে, সেটা কি একবারও ভেবে দেখেছেন?
ঠিক তখনই সিঁড়ি দিয়ে তাড়াহুড়ো করে নামতে থাকে মাহি। হঠাৎ পা ফসকে যায়। পড়ে যাওয়ার আগ মুহূর্তে আদিল দু’হাতে তাকে আগলে নেয়। রাগী চোখে তাকিয়ে বলে ওঠে,
"ইডিয়েট! ঠিক করে হাঁটতে পারিস না? একটুর জন্য পড়ে যাসনি!
মাহি চোখ টিপে মুচকি হেসে বলে,
- আমি যতবার পড়ে যাবো, আপনি আমার হিরো হয়ে ধরে ফেলবেন। মাই ক্রাশ, মাই সুপারম্যান!
হঠাৎ করেই সবার দৃষ্টি তাদের দিকে চলে আসতেই আদিল অস্বস্তিতে হাত ছেড়ে দেয়, মুখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে চলে যায়। মাহি সঙ্গে সঙ্গে জিজ্ঞেস করে,
- আম্মা আপনি আমার ভাইয়াকে চোর বললেন কেন?
- আরেক চুন্নি হাজির। তোদের চোর চুন্নি বললেও ভুল হবে, দুইটাই না না তিনটাই ছেঁচড়া।
হঠাৎ জাহিদ শেখ গম্ভীর গলায় ধমকে উঠলেন
- শান্তা, থামো তো তুমি! আগে শুনে নেই এখানে আসলে কী হয়েছে। আহি মা, তুমি বলো। কী হয়েছিল এখানে?
আহি তখনো ভয়ে শক্ত হয়ে আছে। ঠোঁট শুকিয়ে গেছে, চোখে জমে আছে অস্বস্তি আর লজ্জায়। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে সে পুরো ঘটনা খুলে বলে। আহি কথা শেষ করতেই শান্তা শেখে'র মুখের রং বদলে যায়। কিছু না বলে তিনি সোজা কিচেন রুমের দিকে উঁকি দেন। আর ঠিক তখনই দৃশ্যটা দেখে তার মাথায় যেন আগুন ধরে যায়।
চারদিকে ছিটকে থাকা পানি, ভেজা মেঝে, এলোমেলো জিনিসপত্র, কিচেনের বেহাল দশা দেখে তিনি রাগে ফুসতে থাকেন। মুখ খুললেই যে ঝড় উঠবে, সেটা বুঝতে কারোই বাকি থাকে না। শান্তা শেখ তড়িঘড়ি করে ড্রয়িং রুমের দিকে পা বাড়াতেই অয়ন বিপদের আশংকা বুঝতে পেয়ে যায়। এক সেকেন্ড দেরি না করে সে এক দৌড়ে নিজের রুমে ঢুকে পড়ে। তার পিছু পিছু আদিল, মাহি, এমনকি বাকিরাও ধীরে ধীরে সরে যায়। কেউ সামনে থাকতে চায় না, কারণ সবাই জানেন এখন যদি শান্তা শেখ চিৎকার শুরু করেন, তাহলে সেটা থামবে না অন্তত ঘণ্টা খানেক। আর মাঝরাতে এমন চেঁচামেচি সহ্য করার মতো ধৈর্য বা শক্তি কারোরই নেই।