নেশাময় আসক্তি

পর্ব - ৪৫

🟢

রাত অনেকটা গড়িয়েছে।

রুমের একপাশে স্টাডি টেবিলে বসে মাহি গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করছে। সামনে খাতা, বইয়ের স্তূপ চোখে পুরো ফোকাস। কয়েকদিন পরই পরীক্ষা, অথচ তার তেমন প্রস্তুতি হয়নি। তাই এখন সে একেবারে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পড়ায় ডুবে আছে। অন্যদিকে আদিল বিছানায় বসে পা দোলাচ্ছে। মুখে বিরক্তি, তার আসল সমস্যা একটাই তার “বউ” তাকে একদমই পাত্তা দিচ্ছে না।

সে অনেকক্ষণ ধরেই মাহি’কে ডাকছে। কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না।

শেষমেশ সে একটু জোরে বলল,

"বউউউউ!

.......?

কোনো উত্তর নেই।

মাহি যেন শুনতেই পায়নি। আদিল এবার আরেকটু জোরে চিৎকার দেয়,

"এই বউউউ!

মাহি এবার বিরক্ত হয়ে ছোট্ট করে উত্তর দিল,

- তেল মেরে লাভ নেই। পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি কোথাও যাচ্ছি না। আপনি বরং ঘুমিয়ে পড়ুন, আগামীকাল সকালে কথা হবে।

"কিহহহ? ঘুমিয়ে পড়বো? নো নো নো, বউকে তো....

কথাটা শেষ করার আগেই মাহি ঝট করে পেছনে ঘুরে বসলো। রাগে চোখ দুটো বড় বড়। সে রাগান্বিত কন্ঠে প্রতিধ্বনিত করে,

- আর একটা কথা বললে মুখ ভেঙে দেবো আপনার। নষ্ট পুরুষ, বিয়ে হতে না হতেই বউ বউ বউ বলে পাগল করে দিচ্ছেন। পৃথিবীতে আর কেউ নেই? শুধু আমার কাছেই চেপকে থাকতে হবে?

আদিল একটুও না দমে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,

"আছে কিন্তু তুই যেটা দিতে পারবি, সেটা পৃথিবীর আর কেউ দিতে পারবে না তো। তাই তো বউ বউ করি! বউ আমার কষ্ট বুঝে না, জামাই যে তার ভালোবাসার অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে, সেটাও দেখছে না।

- ঢং বাদ দিয়ে ঘুমান, নির্লজ্জ লোক।

"আগে তুই আমাকে একটুও টাইম দে, তারপর তোর যত ইচ্ছে বকা দিস। যা বলবি তাই শুনবো, সত্যি।

মাহি বিরক্তিকর চাহুনিতে আওরায়,

- পারবো না। আমি আপনাকে চিনিনা ভেবেছেন? আপনি রোজ মিথ্যা বলে ডাকেন, তারপর আর পড়তেই পারি না।

"তোর হয়ে আমি পড়ে দেবো, তবুও কাছে আয় বউ। কষ্ট হচ্ছে বুঝিস না কেন? আয় না, লক্ষ্মী কুইন!

মাহি আর একটাও কথা শুনলো না। সাথে সাথে কানে হেডফোন গুঁজে নিল, যেন আদিলে’র একটা কথাও তার কানে না যায়। আদিল কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইলো। মুখটা ধীরে ধীরে ভারী হয়ে গেল। শেষমেশ বিরক্ত হয়ে শুয়ে পড়লো। কিছুক্ষণ পর মাহি পড়ার ফাঁকে আড়চোখে তাকিয়ে দেখল, আদিল ঘুমিয়ে গেছে। তার মুখে হালকা স্বস্তির ছাপ ফুটে উঠল। ধীরে ধীরে সে বই বন্ধ করল, রুমের লাইট অফ করে নিঃশব্দে বিছানার দিকে এগিয়ে গেল।

তারপর আদিলে’র বুকের উপর রাখা কোলবালিশটা টেনে নিয়ে এক ঝটকায় মেঝেতে ফেলে দিল। গজগজ করতে করতে বলল,

- বালিশ বালিশের মতো থাকবি তুই কেন আমার জামাইয়ের বুকে লেপ্টে থাকবি বল তো? জামাইয়ের জন্য আমি আছি, সো তুই আউট! কালকেই তোকে এই রুম থেকেই আউট করে দেবো, শালা!

নিজের কথাতেই সে একটু হাসল। তারপর ধীরে ধীরে আদিলে’র বুকের উপর মাথা রেখে তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। একটা অদ্ভুত শান্তি নেমে এলো তার ভেতরে। ঠিক তখনই

হালকা একটা হাসির শব্দ কানে এলো। মাহি চমকে উঠে তাকালো। দেখল, আদিল তার দিকেই তাকিয়ে হাসছে! মুহূর্তেই মাহি’র চোখ বড় হয়ে গেল। সে তো ভেবেছিল লোকটা ঘুমিয়ে আছে! কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে বলল,

- আ আ আপনি এখনো ঘুমাননি?

আদিল কোনো উত্তর দিল না। বরং দু’হাত দিয়ে মাহি’র কোমড় শক্ত করে জড়িয়ে তাকে নিজের দিকে টেনে নিল। নরম কণ্ঠে আওরায়,

"ওহু! বউ’কে রেখে কিভাবে ঘুমাবো? এবার অন্তত বই রেখে আমার দিকে নজর দে। দেখ, কত শুকিয়ে গেছি আমি।

মাহি ঠোঁট চেপে হেসে ফেলল,

- কই? আপনি তো একদম ঠিকঠাক আছেন। জলহস্তির মতো চেহারা, জলহস্তির মতোই লাগছে।

আদিল অবাক হয়ে বলল,

"কুইন! মাঝরাতে তুই আমাকে খোঁটা দিচ্ছিস? কোথায় আমাকে জলহস্তির মতো লাগে? আমি তো একদম চিকনা-চাকনা।

মাহি ভ্রু তুলে তাকিয়ে ঠাট্টা করে বলল,

- ঠিকই বলেছেন, ৮০ কেজির বেডায় বেশ চিকনা!

আদিল একটু বিরক্ত গলায় বলে উঠল,

"আমি যা ইচ্ছা হই তাতে তোর কী? তোর বাপেরটা খেয়ে মোটা হয়েছি নাকি?

কথাটা মুখ থেকে বের হতেই যেন পরিবেশটা বদলে গেল। মাহি এক মুহূর্তে স্থির হয়ে গেল। তার চোখের দৃষ্টি বদলে গেল। সে বাজ খাই মেজাজ বলে উঠলো,

- আমার বাপকে নিয়ে কথা বললেন কেন? ওও দুদিন হলো না আমি আপনার টাকায় খাই বলে আমাকে কথা শুনাচ্ছেন? খাবো না আপনার ভাত। থাকবো না আপনার রুমে। কাল থেকে আমি আমার বাপের টাকায় খাবো। দুইদিন যেতেই খাওয়ার খোঁটা দিচ্ছেন আর দুদিন গেলে তো হয়তো আমাকে রাস্তায় ফেলে আসার কথাও বলবেন।

কথাগুলো বলেই মাহি আর এক মুহূর্তও দাঁড়ালো না। গটগট করে দরজা খুলে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

"মাহি কুইম শোন প্লিজ...

আদিল ডাক দিল, কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। সে হাজার চেষ্টা করেও তাকে থামাতে পারল না। দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দটা যেন তার মাথার ভেতর গেঁথে গেল। আদিল হতাশ হয়ে বিছানায় বসে পড়ল। দু’হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরল।

বিজ্ঞাপন

"ধুর! ওর বাপের কথা টানতে গেলাম কেন। মাইয়া মানুষ সত্যিই ভালো না। কথা না বুঝেই তিলকে তাল বানিয়ে চলে গেল।

আদিল নিজেই নিজের উপর প্রচন্ড ক্ষীপ্ত,

"তোকে একটু মোটা বলেছে, তাতে কী হয়েছে? এখন যে কতদিন তোকে বউ ছাড়া থাকতে হবে কে জানে!

কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকল। তারপর দ্রুত দরজার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে লাগলো। যেভাবেই হোক, তাকে ফিরিয়ে আনতেই হবে।

অয়ন বেলকনিতে বসে আছে। সামনে খোলা ল্যাপটপ, স্ক্রিনের আলো তার মুখে পড়ছে। কানে হেডফোন গুঁজে কিছু একটা গভীর মনোযোগ দিয়ে করছে। তার মুখে আজ কোনো কোমলতা নেই বরং এক ধরনের কঠোরতা, অচেনা এক ছায়া। ঠিক তখনই আহি’র ঘুম ভেঙে গেল। সে ধীরে চোখ খুলে পাশ ফিরে তাকাল। কিন্তু পাশে অয়ন নেই। মুহূর্তেই তার বুক ধক করে উঠল। কিছুক্ষণ আগেও তো ছিল! তাহলে এখন কোথায় গেল? ভেতরে এক অজানা ভয় মাথা চাড়া দিয়ে উঠল। সে ধীরে ধীরে উঠে বসল। তারপর বিছানা থেকে নেমে এল।

রুমের চারপাশে তাকালো, কিন্তু কেউ নেই। ঠিক তখনই তার চোখে পড়ল বেলকনির দিকে কারো ছায়া। আহি থেমে গেল। তার পা যেন জমে গেল মেঝেতে। কিছুক্ষণ স্থির থেকে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেল সেদিকে। যতই কাছে যাচ্ছে, ততই অয়নে’র কিছু কিছু কথা তার কানে ভেসে আসছে। সে আর সামনে গেল না। বেলকনির দরজার আড়ালেই নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইল। সে বুঝতে পারছে অয়ন কারো সাথে কথা বলছে।

আহি গভীর মনোযোগ দিয়ে বুঝার চেষ্টা করছে অয়ন কার সাথে কথা বলছে এতো রাতে। হঠাৎ অয়ন গর্জে উঠল—

“জাস্ট শাট আপ। পালিয়ে গেছে মানে কী? মিনিস্টারের সাথে ওর ছেলেকেও আমার চাই! অনেক কষ্টে ওই কু*ত্তার বাচ্চাদের খুঁজে পেয়েছি! যদি আজ পালিয়ে যায় তাহলে তোদের আজই শেষ রাত। আগামীকাল সূর্য ওঠার আগেই তোদের পৃথিবী ছাড়তে হবে! জ*বাই করে ফেলবো যদি ওই জা*রকের বাচ্চাকে খুঁজে বের করতে না পারি।

এই কথাগুলো শুনে আহি’র শরীর অবশ হয়ে গেল। তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। গা শিরশির করছে। সে আগেই সন্দেহ করেছিল, অয়ন কিছু একটা লুকাচ্ছে। কিন্তু সেটা এতটা ভয়ংকর হতে পারে তা সে কল্পনাও করেনি। তার কপাল বেঁয়ে ঘাম গড়িয়ে পড়ছে। অয়ন আবারও গর্জন তুলে,

“আমি কোনো এক্সকিউজ শুনতে চাই না। আমার দু’জনকেই চাই। আমার মেয়েগুলো ভালো নেই, ওরা অপেক্ষা করছে ওদের বাবা ওই পাপিষ্ঠদের শাস্তি দেবে।

আহি বরফের মতো জমে গেল। অয়নে’র মেয়ে আছে? এটা কীভাবে সম্ভব? তাহলে সে কে? তার সাথে এতদিন যা ছিল সেটা কী? মাথার ভেতর হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগল। কিন্তু কোনো উত্তর নেই। অয়ন কখনো কিছু বলেনি। এই মানুষটা আসলে কে? সে কী করছে? কার সাথে জড়িত? আহি’র বুকের ভেতর ভয় আর কৌতূহল একসাথে লড়াই করছে। কিন্তু এবার সে ঠিক করল৷ সে সব জানবে। নিজেই জানবে, যে করেই হোক।

ঠিক তখনই অয়ন আবার দৃঢ় গলায় বলল,

“ফাইভ মিনিট ওয়েট কর, ওই জা*রকের বাচ্চাদের আজ রাতেই পৃথিবী থেকে ওদের অস্তিত্ব মুছে ফেলবো।

এই কথাটা শুনেই আহি’র বুক ধড়ফড় করে উঠল। সে আর এক সেকেন্ডও দাঁড়াতে পারল না। দ্রুত পায়ে পিছিয়ে এল। প্রায় দৌড়ে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল। চোখ বন্ধ করে নিল, যেন সে কিছুই জানে না, কিছুই শোনেনি। কিন্তু তার বুকের ভেতর তখনো ঝড় বয়ে যাচ্ছে। নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠছে। হাত কাঁপছে। আর মনের ভেতর একটা কথাই ঘুরছে, অয়ন আসলে কে?

অয়ন ধীরে ধীরে ল্যাপটপটা বন্ধ করল। হেডফোন খুলে ঠিক জায়গায় রেখে একবার গভীর নিঃশ্বাস নিল। তার মুখে তখনো সেই কঠোরতার ছাপ লেগে আছে কিন্তু রুমের ভেতরে পা রাখতেই সেই অভিব্যক্তি বদলে গেল। নরম হয়ে এল তার চোখ। ধীরে ধীরে সে এগিয়ে গেল আহি’র দিকে। বিছানায় শুয়ে থাকা আহি’কে দেখে এক মুহূর্ত থমকে দাঁড়ালো। মেয়েটা নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে, এমনটাই মনে হচ্ছে। অয়ন খুব আস্তে করে বসে পড়ল তার পাশে। তারপর ঝুঁকে গিয়ে আহি’র কপালে আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়ালো। একবার, দু’বার তারপর যেন নিজেকে থামাতে পারল না, আহি’র সারা মুখে একের পর এক কোমল চুমুতে ভরিয়ে দিল।

হঠাৎ স্পর্শে আহি’র শরীর কেঁপে উঠল। অয়ন থেমে গেল। সে ভাবল ঘুমের ঘোরেই হয়তো নড়েচড়ে উঠেছে। আলতো করে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। তার স্পর্শে যেন এক অদ্ভুত মায়া মিশে আছে। তারপর খুব নিচু স্বরে, নিজের মনেই বিড়বিড় করে বলল,

“পাখি, আর একটা রাত অপেক্ষা কর। কাল থেকেই তুই তোর আগের অয়ন ভাইকে ফিরে পাবি। যে তোকে সারাদিন বিরক্ত করে, তোর আশেপাশে ঘুরে বেড়ায়। কালই তোকে সব সত্য বলে দেবো।

কথাগুলো বলেই অয়ন উঠে দাঁড়াল। আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। ধীরে ধীরে দরজা খুলে কক্ষ ত্যাগ করল। দরজা বন্ধ হওয়ার ক্ষীণ শব্দটা শোনা মাত্রই—আহি চোখ খুলে ফেলল। তার চোখে ঘুমের লেশমাত্র নেই। বরং সেখানে জমে আছে ভয়। সে উঠে বসলো। কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল, তারপর হঠাৎ দ্রুত নড়েচড়ে উঠল। আলমারি থেকে একটা শাড়ি টেনে নিয়ে দৌড়ে বেলকনিতে চলে গেল। তার হাত কাঁপছে, তবুও সে থামছে না। দ্রুত শাড়িটা শক্ত করে গ্রিলের সাথে বেঁধে নিল। একবার নিচে তাকাল, রাত গভীর কিন্তু চারদিক হালকা মৃদু আলো জ্বলে আছে।

ধীরে ধীরে শাড়ি বেয়ে নিচে নামতে শুরু করল সে। তার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠছে, হাত কাঁপছে, তবুও থামল না। নিচে নেমে আসতেই দূরে অয়নে’র গাড়ি দেখতে পেল। এক সেকেন্ডও দেরি না করে সে দ্রুত এগিয়ে গেল। গাড়ির পেছনে গিয়ে নিঃশব্দে শুয়ে পড়ল, নিজেকে আড়াল করে ফেলল। আজ সে অয়নে’র পিছু নেবে। আজ সে সব সত্য জেনে ছাড়বে। আর এই অন্ধকার, এই ধোঁয়াশার মধ্যে আর থাকতে চায় না সে। সে বুঝে গেছে, অয়ন তাকে কিছুই বলবে না। এই ভাবনাটা তার বুকের ভেতর কষ্ট হয়ে বিঁধছে। তবুও আজ তাকে যেতে হবেই।

তাছাড়া ইদানীং তার শরীরও ভালো যাচ্ছে না। খেতে ইচ্ছে করে না, মাঝে মাঝেই বমি বমি লাগে। কিন্তু এসব নিয়ে কেউ তেমন খেয়াল করেনি। এমনকি সে নিজেও কাউকে কিছু বলেনি। আজও শরীরটা ভালো লাগছে না। মাথা ঘুরছে হালকা, বুকটা কেমন করছে, তবুও সে নিজেকে থামাল না। আজ নিজের কথা ভাবার সময় না। আজ তাকে সত্য জানতে হবে। যত কষ্টই হোক, যে মূল্যই দিতে হোক, আজকের রাতেই সব উত্তর খুঁজে বের করবে আহি।

অয়ন তড়িঘড়ি হয়ে নিজের পার্সোনাল গাড়িতে উঠে বসলো। ফুল স্প্রিডে গাড়ি চালাতে শুরু করলো। তার লাল টুকটুকে মুখে রাগের ছাপ এখনো স্পষ্ট। প্রায় আধ ঘণ্টা পরে, সে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছে যায়। গাড়ি থেকে বিদ্যুৎ গতিতে নেমে সে সরাসরি একটি অন্ধকার রুমের দিকে ধাওয়ায়। ভেতরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তার ঠোঁটের কোণে বাঁকা, বিদ্রূপমূলক হাসি ফুটে উঠলো।

ধীরে ধীরে সে এগিয়ে এল বরাদ্দকৃত চেয়ারে

পা ওপরে তুলে বসে। তার মুখোমুখি হাত পা বাঁধা অবস্থায় চেয়ারে বসে আছে এই শহরের মিনিস্টার এবং তার ছেলে রাহাত। মিনিস্টার ভয়কে সামলে রাখার চেষ্টা করলেও রাহাতে’র মুখে ভয়ের কোনো ছাপ নেই।

অয়ন হঠাৎ ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি নিয়ে ধীরে ধীরে আওরায়,

“বাহ্ মিনিস্টার বাহ্, আপনার তারিফ না করে পারছি না। সামান্য এইটুকু দম নিয়ে এতো বড় শহর চালাতে এসেছেন? আর নগন্য একজন ডক্টরকে ভয় পেয়ে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ইঁদুরের গর্তে লুকিয়ে পড়লে। আর ভেবেছিলেন আমি খুঁজে পাব না আপনাদের? স্যাডলি, মনে হয় আপনি ভুলে গেছেন আমি আদনান শেখ অয়ন। যাকে কেউ আঘাত করলে, তাকে বন্ধু বানিয়ে বুকে টেনে নেয়, কিন্তু তার প্রিয় মানুষদের দিকে একবারও ভুলে তাকালে তাদের অবস্থা হয় করুণতার চেয়েও করুণ। আর আপনি তো শুধু আমার প্রিয় মানুষ নয়, আমার ক'লি'জায় হাত দিয়েছেন। সো, আপনি কিভাবে ভেবেছিলেন, এতো সহজে আপনাকে ছেড়ে দিবো?

মিনিস্টার অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। সে নিজেও বুঝতে পারছে না অয়ন কিভাবে তাদের ডেরা খুঁজে পেরেছে। এই জায়গার অস্তিত্ব জানে কেবল হাতে গোনা কয়েকজন। ভয়ের কণ্ঠে কাঁপতে কাঁপতে সে বলল,

- ত ত ত তুমি কিভাবে জানলে আমরা কোথায় ছিলাম?

অয়ন হঠাৎ হেসে উঠলো। পাগলের মতো হাসি, হাসির প্রতিধ্বনি রাহাতে’র রাগে মাথা ফেঁটে যাচ্ছে। রাহাত চিৎকার করে উঠে,

"ওই কু*ত্তার বাচ্চা। কেন আমাদের এখানে নিয়ে এসেছিস?

অয়নের চোখে তখন এক অদ্ভুত শীতলতা। মুখে তখন সেই বাঁকা, বিদ্রূপমূলক হাসি। তার কথা শোষ হতে না হতেই অয়ন ঝটপট নাক বরাবর শক্ত ঘুষি মারে রাহাতে’র। ক্ষণের মধ্যে রাহাতে’র নাক দিয়ে কলকলিয়ে রক্ত ঝরতে শুরু করে।

এই দৃশ্য দেখে মিনিস্টার মুহূর্তে স্তম্ভিত হয়ে যায়। সে যা কখনো দেখেনি আজ তাই দেখছে। নিজের ছেলের সামান্য জ্বর হলেও সে পাগল হয়ে যেতো। আর আজ তার চোখের সামনে কেউ তার ছেলের শরীর থেকে রক্ত ঝরাচ্ছে।

হঠাৎ মিনিস্টার ক্ষিপ্ত কন্ঠে গর্জে ওঠে,

- কু*ত্তার বাচ্চা। তুই কোন সাহসে আমার ছেলের শরীরে আঘাত করলি? তোকে আমি জ্যান্ত কবর দেবো।

সঙ্গে সঙ্গেই অয়ন তার প্রতিক্রিয়া দেখাতে ছাড়েনি। রিভেলভার দ্রুত তুলে মিনিস্টারের হাতের তালুতে ঠেকিয়ে শুট করলো। শুটের শব্দে পুরো ঘর কেঁপে ওঠে, দেয়াল এবং আসবাবের প্রতিটি কোণে শিহরণ ছড়িয়ে পড়ে। রাহাত চিৎকার করে ওঠে,

"এটা কি করলি? ড্যাড, তুমি ঠিক আছো তো? ড্যাড, কথা বলো প্লিজ!

মিনিস্টার ব্যথায় কুঁকড়ে পড়ে। তার বিকৃত, কাঁপতে কাঁপতে মুখের অভিব্যক্তি দেখে অয়নে’র ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটে ওঠে। অয়ন ধীরে ধীরে তার দিকে ঝুঁকে ফিসফিসিয়ে আওরায়,

“আপনার গালে থাপ্পড় দেওয়ার সাহস আমার নেই, তবে আপনার বুকে হাজার খানেক শুট করার ক্ষমতা আমার আছে। সো, বাড়াবাড়ি করার কোনো বৃথা চেষ্টা করবেন না।

তারপর অয়ন দ্রুত রাহাতে’র গালে একের পর এক কয়েকটি থাপ্পড় বসিয়ে হুংকার তুলে চিৎকার করে,

“শু**য়োরের বাচ্চা! তোর সাহস হয় কিভাবে আমাকে কু*ত্তার বাচ্চা বলিস? তুই কু*ত্তার বাচ্চা, আমি নই। তোকে কু*ত্তার বাচ্চা বললেও কু*ত্তার নামের অসম্মান হবে। নইলে, তোর মতো শাউ*য়্যা ফুলের মতো বাচ্চা মেয়েদের কেন কষ্ট দেবে?

বিজ্ঞাপন
নেশাময় আসক্তি গল্পটি বন্যা সিকদার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় স্পেশাল রোমান্টিক গল্প