পুরো এক সপ্তাহ কেটে গেছে আদিলে’র অপারেশন হয়েছে। আর এই পুরো সপ্তাহটাই সে হসপিটালে কাটিয়েছে। আজ তাকে হসপিটাল থেকে ডিসচার্জ দেওয়া হবে। সেই কারণেই অয়ন আর মাহি সকাল থেকেই হসপিটালে আছে। আদিল’কে বাসায় নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে।
অন্যদিকে আহিও আজ কোচিং করতে বের হয়েছে। তার সঙ্গে মুনও ছিল, কিন্তু কোচিং শেষ হওয়ার পর রাকিব এসে মুন’কে নিয়ে একটু ঘুরতে গেছে। তাই আহি’কে একাই ফিরতে হচ্ছে। আহি ধীরে ধীরে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। তার হাঁটার ভঙ্গিটা গুটি গুটি, যেন ছোট্ট কোনো পাখি পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছে। আজ তার মনটা ভীষণ ভালো। অনেকদিন পর তাদের বাসায় আবার একটু আনন্দ ফিরবে। তার ভাই আজ বাসায় ফিরে আসবে—এই ভাবনাটাই তাকে অদ্ভুত রকমের খুশি করে তুলেছে। হাঁটতে হাঁটতে সে কখনো আকাশের দিকে তাকাচ্ছে, কখনো নিজের মনে হালকা হাসছে। মনে মনে ভাবছে, আজ বাসায় গেলে ভাইয়াকে দেখতে পাবে। এতদিন হসপিটাল থেকে কত কষ্ট করেছে সে! এইসব ভাবনায় ডুবে থেকেই সে রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল।
হঠাৎই এক জায়গায় এসে তার পা যেন থেমে গেল। মনে হলো কেউ যেন তাকে জায়গাতেই আটকে দিয়েছে। তার দৃষ্টি স্থির হয়ে গেল সামনে থাকা একটি দৃশ্যে। রাস্তার পাশে একটি রেস্টুরেন্ট। আর সেই রেস্টুরেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে আছে,অয়ন। আহি’র বুকটা মুহূর্তেই ধক করে উঠল। সে স্পষ্ট দেখতে পেল, অয়ন একটি মেয়ের হাত শক্ত করে ধরে রেস্টুরেন্টের ভেতরে ঢুকছে। দৃশ্যটা এতটাই হঠাৎ ছিল যে আহি কয়েক সেকেন্ড বুঝতেই পারল না সে ঠিক কী দেখল। তার মনে হলো হয়তো সে ভুল দেখছে। কিন্তু না চোখের সামনে যা দেখছে সেটা একেবারেই সত্যি। মুহূর্তেই তার বুক কেঁপে উঠল। হৃদপিণ্ডটা বিদ্যুতের গতিতে লাফাতে লাগল।
এই সময় তো অয়নে’র হসপিটালে থাকার কথা ছিল। সে তো আদিলে’র সঙ্গেই থাকবে,এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সে এখন এখানে আর একটা মেয়ের সঙ্গে। এই চিন্তাটা মাথায় আসতেই আহি’র বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠল। যেন কেউ তার বুকের মাঝখানে তীব্রভাবে কিছু একটা চেপে ধরেছে। তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেল।
গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। সে পরপর কয়েকটা শুকনো ঢোক গিলে ফেলল।
পা দুটো যেন আর তাকে সাপোর্ট দিতে চাইছে না। কিছুক্ষণ সে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। মাথার ভেতর তখন হাজারো প্রশ্ন ঘুরছে। অয়ন এখানে কেন? ওই মেয়েটা কে? অয়ন তাকে লুকিয়ে অন্য কারও সঙ্গে দেখা করছে কেন? এই প্রশ্নগুলো তাকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছে।
শেষমেশ নিজেকে সামলে নিয়ে আহি ধীরে ধীরে রেস্টুরেন্টের ভেতরে ঢুকে পড়ল। তার হাঁটা এখন আর স্বাভাবিক নেই। প্রতিটা পদক্ষেপ যেন ভারী হয়ে গেছে। চারপাশে অনেক মানুষ বসে আছে। কেউ খাচ্ছে, কেউ গল্প করছে। কিন্তু আহি’র চোখ শুধু একজনকেই খুঁজছে, সো অয়ন। ধীরে ধীরে সে ভেতরের দিকে এগিয়ে গেল। আর কিছু দূর যেতেই তার চোখ থেমে গেল।
অয়ন বসে আছে। আর তার পাশপ সেই মেয়েটি। এইবার আহি মেয়েটিকে খুব ভালো করে চিনতে পারল। সে আর কেউ নয়, মন্ত্রীর মেয়ে সাদিকা। সাদিকা খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে অয়নে’র বাহু আঁকড়ে ধরে বসে আছে। তার চোখে এক ধরনের মায়া আর আত্মবিশ্বাস। যেন অয়নে’র পাশে দাঁড়ানোর অধিকার তারই আছে। এই দৃশ্যটা দেখেই আহি’র বুকের ভেতরটা হঠাৎ শূন্য হয়ে গেল। মনে হলো কেউ তার ক'লি'জা ছিঁড়ে নিয়েছে।
সে ধীরে ধীরে এক পা পিছিয়ে গেল। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তার। হৃদপিণ্ড এত জোরে ধকধক করছে যে মনে হচ্ছে এখনই হয়তো বের হয়ে আসবে। সে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। হঠাৎ ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্রুত পায়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে গেল। বাইরে বের হওয়ার আগেই তার চোখের কোণে অশ্রু জমে উঠেছে। আর কয়েক সেকেন্ড পর সেই অশ্রু গড়িয়ে পড়ল গাল বেঁয়ে। সে থামানোর চেষ্টা করল না। কারণ এই মুহূর্তে তার ভেতরটা পুরো ভেঙে পড়েছে।
সে আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকল না। কারও দিকে না তাকিয়ে, কিছু না ভেবে দ্রুত পায়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে এলো। তার মনে হচ্ছিল, যদি আর এক সেকেন্ডও সেখানে থাকে তাহলে হয়তো নিজেকে আর সামলাতে পারবে না। দৌড়াতে দৌড়াতে সে সোজা বাসার দিকে রওনা দিল। রাস্তার চারপাশে মানুষজন চলাফেরা করছে, গাড়ির হর্ন বাজছে, দোকানগুলোতে আলো জ্বলছে কিন্তু এই মুহূর্তে আহি’র কাছে সবকিছুই যেন অস্পষ্ট।
তার চোখ ঝাপসা হয়ে আছে। মনে হচ্ছে পুরো পৃথিবীটাই যেন তার সামনে ঘুরছে। তার বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। বারবার সেই দৃশ্যটা তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। চিন্তাটা যতবার মাথায় আসছে, ততবার তার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠছে। সে চেষ্টা করছে নিজেকে সামলাতে, কিন্তু পারছে না।
মনে হচ্ছে কেউ যেন ভেতর থেকে তার হৃদয়টাকে টেনে ছিঁড়ে ফেলছে। দৌড়াতে দৌড়াতে প্রায় দশ মিনিটের মধ্যেই সে বাসার সামনে এসে পৌঁছে গেল। এক মুহূর্তও দেরি না করে দ্রুত ভেতরে ঢুকে পড়ল। ড্রয়িংরুমে তখন বাড়ির কয়েকজন সদস্য বসে গল্প করছিল। আহি’কে হঠাৎ এভাবে ঢুকতে দেখে সবাই অবাক হয়ে গেল। প্রথমত আহি একা এসেছে তার উপর কারো দিকে এক বারের জন্যও তাকালো না। মাথা নিচু করে দ্রুত সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল সে।
সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে শুরু করতেই পেছন থেকে তার বাবা মহিবুল শেখ তাকে ডাক দিলেন,
- আম্মা, তুমি একা এলে কেন? আর দৌড়াচ্ছো কেন, কিছু হয়েছে?
কণ্ঠে ছিল মমতা আর বিস্ময়। কিন্তু আহি একবারের জন্যও পেছনে তাকাল না। সে যেন কিছুই শুনতে পাচ্ছে না। দ্রুত পায়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেল। তারপর নিজের রুমে ঢুকে দরজাটা জোরে বন্ধ করে দিল। রুমের ভেতরে ঢুকেই যেন তার সমস্ত শক্তি শেষ হয়ে গেল। কাঁধ থেকে ব্যাগটা খুলে ছুড়ে ফেলে দিল মেঝেতে। গলায় জড়ানো ওড়নাটাও খুলে একইভাবে ফেলে দিল। তারপর দেয়ালের পাশে হেলে বসে পড়ল। আর তখনই যেন তার ভেতরের সব বাঁধ ভেঙে গেল। চোখ থেকে অঝোরে অশ্রু ঝরতে শুরু করল। সে দুই হাঁটুর ভেতর মুখ গুঁজে কাঁদতে লাগল নিঃশব্দে।
•
•
কিছুক্ষণ আগেই আদিল’কে হসপিটাল থেকে বাসায় আনা হয়েছে। সবার মুখে এখন একটু স্বস্তির ছাপ। এতদিনের দুশ্চিন্তার পর অবশেষে সে সুস্থ হয়ে ফিরেছে, এটাই যেন সবার জন্য বড় শান্তি। আদিল’কে ধীরে ধীরে তার রুমে নিয়ে গিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেওয়া হয়েছে। মাহি তার পাশে বসে আছে, আর বাড়ির সবাই একবার করে তাকে দেখে গেছে।
সবকিছু একটু স্বাভাবিক হতেই অয়ন নিজের রুমের দিকে হাঁটা দিল। তার পা ধীরে ধীরে এগোচ্ছে, কিন্তু মনটা যেন অন্য কোথাও আটকে আছে। আজ সারাটা দিনই আহি’র সঙ্গে তার দেখা হয়নি। সকালে হসপিটালে যাওয়ার পর থেকে একটানা ব্যস্ততা ছিল। অপারেশনের পর কাগজপত্র, ডক্টরদের সঙ্গে কথা সব মিলিয়ে একবারও ফোন দেওয়ার সুযোগ হয়নি। এখন বাসায় ফিরে হঠাৎ তার মনে হলো, আজ সারাদিন আহির কোনো খোঁজই তো নেয়নি সে। তার উপর বাসায় এসে এখনো একবারের জন্যও আহি’কে চোখে পড়েনি। এটা ভেবেই তার বুকের ভেতর অজানা এক অস্বস্তি কাজ করতে লাগল।
আদিল তো তার নিজের ভাই। সে বাসায় ফিরে এসেছে, এমন খবর শুনলে আহি তো দৌড়ে গিয়ে তাকে দেখার কথা। কিন্তু সে তো একবারও সামনে এল না! এই ভাবনাটা অয়ন’কে আরও অস্থির করে তুলল। কিছুটা দ্রুত পায়ে সে নিজের রুমের দরজার সামনে এসে দাঁড়াল। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই হঠাৎ তার বুকের ভেতরটা কেমন ফাঁকা হয়ে গেল। রুমটা অদ্ভুতভাবে নিঃশব্দ। অয়ন চোখ ঘুরিয়ে চারপাশে তাকাল। আহি কোথাও নেই। বিছানায়, সোফায়, এমনকি বেলকনিতেও নেই। অয়ন কিছুটা অবাক হয়ে গেল। আহি রুমে না থাকাটা তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হলো।
সে ধীরে ধীরে বেলকনির দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকাল। কিন্তু সেখানে কেউ নেই। এবার তার ভেতরের অস্থিরতা আরও বাড়তে লাগল।
হঠাৎ তার মনে হলো, ওয়াশরুমটা দেখা হয়নি। সে দ্রুত পায়ে ওয়াশরুমের দরজার দিকে এগিয়ে গেল। দরজাটা একটু খোলা ছিল। অয়ন ভেতরে উঁকি দিতেই তার পা যেন হঠাৎ থেমে গেল। মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে আছে আহি। সম্পূর্ণ নিথর, তার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে মুখের উপর ছড়িয়ে আছে। মুখটা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে উঠেছে। আর ওয়াশরুমের ঝর্ণা তখনও খোলা, পানি ঝরে পড়ছে অবিরাম। পানির নিচে পড়ে থাকতে থাকতে আহি’র পুরো শরীর ভিজে গেছে।
মুহূর্তেই অয়নে’র বুক মোচড় দিয়ে উঠল।
“পাখি!
চিৎকার করে উঠে সে দ্রুত ভেতরে ঢুকে পড়ল। প্রথমেই হাত বাড়িয়ে ঝর্ণাটা বন্ধ করে দিল। তারপর তাড়াতাড়ি নিচু হয়ে আহি’কে তুলে বুকে নিল। আহি’র শরীর স্পর্শ করতেই অয়ন কেঁপে উঠল। তার শরীর একদম বরফের মতো ঠান্ডা। অয়ন দুই হাতে আহি’র গাল ধরে তাকে হালকা ঝাঁকাতে লাগল।
“পাখি এই পাখি এখানে পড়ে আছিস কেন? কথা বল, শুনতে পাচ্ছিস আমার কথা?
তার কণ্ঠে স্পষ্ট আতঙ্ক। কিন্তু আহি কোনো সাড়া দিল না। সে সম্পূর্ণ অজ্ঞান হয়ে অয়নে’র বুকে ঢলে পড়ল। অয়ন মুহূর্তের জন্যও দেরি করল না। তাড়াতাড়ি করে আহি’কে কোলে তুলে রুমে নিয়ে এল।
তার ভেজা কাপড়গুলো বদলে দিল যতটা সম্ভব সাবধানে। তারপর বিছানায় শুইয়ে দিল। ঝর্ণা বন্ধ করতে গিয়ে অয়নে’র নিজের শার্টও পুরো ভিজে গিয়েছিল। সে তাড়াতাড়ি নিজের কাপড়ও বদলে আবার ফিরে এল আহি’র পাশে।
বিছানার পাশে বসে অয়ন স্থির দৃষ্টিতে আহি’র দিকে তাকিয়ে রইল। আহি’র নিথর শরীরটা দেখে তার বুক বারবার কেঁপে উঠছে। মনে হচ্ছে বুকের ভেতর কেউ শক্ত করে কিছু একটা চেপে ধরেছে। সে বুঝতে পারছে না, হঠাৎ করে আহি কেন অজ্ঞান হয়ে গেল। কি এমন ঘটেছে? কিন্তু আহি’র মুখের দিকে তাকিয়েই অয়ন বুঝতে পারল, কিছু একটা হয়েছে। তার চোখের কোণ ফুলে আছে। মনে হচ্ছে অনেকক্ষণ কেঁদেছে সে।
এই দৃশ্যটা দেখে অয়নের বুকের ভেতর অদ্ভুত যন্ত্রণা অনুভূত হলো। সে ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে আহি’র ভেজা চুলগুলো সরিয়ে দিল। মনে মনে শুধু একটাই প্রশ্ন ঘুরছে,
তার পাখিটার সাথে এমন কি ঘটেছে, যার জন্য সে এতটা ভেঙে পড়েছে?
কিছুক্ষণ আগেও আহি’র শরীরটা ছিল একেবারে বরফের মতো ঠান্ডা। কিন্তু এখন যেন উল্টো চিত্র। তার শরীর জ্বরে পুড়ছে। মাথাটা প্রচণ্ড গরম হয়ে উঠেছে। জ্বরের তাপে তার শরীর বারবার কেঁপে উঠছে।
বিছানায় শুয়ে থাকা আহি অস্ফুটভাবে কাঁপছে, যেন ভেতর থেকে অস্থির হয়ে উঠছে। অয়ন তার পাশে বসে আছে, আর উদ্বিগ্ন চোখে তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
হঠাৎ আহি দুহাত বাড়িয়ে অয়নে’র শার্টটা শক্ত করে খাঁমচে ধরল। সে ভয়ে আরো গুটিয়ে যাচ্ছে। অয়ন একটু চমকে উঠল। সে নিচু হয়ে আহি’র মুখের দিকে তাকাল। আহি’র জ্ঞান কিছুটা ফিরেছে বোধহয়, কিন্তু সে এখনো পুরোপুরি সচেতন না। তার চোখের পাতা কাঁপছে, কিন্তু চোখ খুলতে পারছে না। ঠোঁট দুটো কাঁপছে হালকা করে।
ঘুমের ঘোরে, অস্পষ্ট কণ্ঠে সে শুধু একটাই নাম উচ্চারণ করছে—
"অয়ন ভাই, অয়ন ভাই
এই শব্দগুলো শুনে অয়নে’র বুকটা হঠাৎ করে মোচড় দিয়ে উঠল। সে ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে আহি’র গাল দুটো আলতো করে স্পর্শ করল। অয়ন খুব আস্তে, প্রায় ফিসফিস করে বলল,
“বউ এই বউ, অনেক কষ্ট হচ্ছে তোর, তাই না? তোর ডক্টর বর থাকতে তোর এত জ্বর এলো কিভাবে বল তো?
কথাগুলো বলার সময় অয়নে’র চোখে স্পষ্ট উদ্বেগ। কিন্তু আহি আর কিছু বলতে পারল না। সে শুধু অয়নে’র শার্টটা আরও শক্ত করে ধরে রইল। অয়ন বুঝতে পারল, এখন কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। প্রথমে তাকে সুস্থ করতে হবে। সে ধীরে ধীরে আহি’র হাতের তালু নিজের হাতে নিয়ে মালিশ করতে লাগল। তারপর পায়ের তালুতেও আলতো করে মালিশ করতে শুরু করল। তার হাতের স্পর্শের ছোট্ট ছোট্ট কাজগুলো দিয়েই সে আহি’র কষ্টটা কমিয়ে দিতে চায়। কিন্তু তবুও যেন তার মন শান্ত হচ্ছে না।
আহি’র কপালে হাত দিয়ে আবার তাপটা মাপল। জ্বরটা বেশ বেশি। অয়ন একটু ভ্রু কুঁচকে গেল। তারপর দ্রুত উঠে গিয়ে ড্রয়ারটা খুলল। ভেতর থেকে ওষুধের স্ট্রিপ বের করল। একটা প্যারাসিটামল বের করে নিয়ে আবার আহি’র পাশে বসে পড়ল। আহি তখনো আধা ঘুমের মধ্যে। অয়ন খুব সাবধানে তাকে একটু তুলে ধরে ওষুধটা খাইয়ে দিল। তারপর আবার ধীরে ধীরে তাকে বিছানায় শুইয়ে দিল। আহি তখনো অয়নে’র শার্টটা শক্ত করে ধরে রেখেছে। অয়ন সেটা ছাড়ানোর চেষ্টা করল না। বরং একটু ঝুঁকে এসে তার কপালে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিল। তার চোখে তখন একটাই চিন্তা, তার পাখিটার এমন কি হয়েছিল, যার জন্য সে এতটা ভেঙে পড়েছে?