নেশাময় আসক্তি

পর্ব - ৩৭

🟢

রাত প্রায় দশ-টা। সবাই যার যার মতো নামাজ আদায় করে নিজের রুমে চলে গেছে। পুরো বাসায় এখন নীরবতা। আর ঠিক এই সুযোগটাই কাজে লাগালো আদিল। সে ধীরে ধীরে মাহি’র রুমের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল। ছোট ছোট পা ফেলে একদম নিঃশব্দে হাঁটছে, যেন কেউ টের না পায়। মাহি’র দরজার কাছাকাছি পৌঁছাতেই হঠাৎ সামনে কেউ এসে দাঁড়াল। আদিল থমকে গেল। তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে অয়ন।

অয়ন দুহাত বুকের কাছে ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে আছে, মুখে রহস্যময় হাসি। আদিল’কে দেখে সে ভ্রু নাচিয়ে বলল,

“ওই শালা, কি লুকিয়ে ফেললি দেখি? আর এত রাতে কোথায় যাচ্ছিস হুম?

অয়ন’কে দেখে আদিল ঘাবড়ে গেল। তড়িঘড়ি করে সে এক হাত পেছনে লুকিয়ে ফেলল। সে তোতলাতে তোতলাতে বলল,

"ক ক কোথাও না তো। আমি কোথাও যাচ্ছি না, ট্রাস্ট মি।

অয়ন মুচকি হেসে মাথা দোলাল।

“তোকে করব ট্রাস্ট? লাইক সিরিয়াসলি? সারাদিন ভদ্র সেজে থাকা মিছে বিড়াল। আমি কিন্তু ড্যাম শিওর তুই মাহি’র কাছে যাচ্ছিস। কিন্তু তোর হাতে কি আছে সেটা আগে দেখি।

"ব ব ব বললাম তো কিছু না।

অয়ন এবার ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে গেল। আদিলও পেছনে সরে দাঁড়াল। অয়ন তার হাতটা দেখার চেষ্টা করতেই আদিল তড়িঘড়ি করে ঘুরে গেল। অয়ন কয়েকবার চেষ্টা করেও দেখতে পারল না আদিলে’র হাতে কি আছে। এবার আদিল একটু বিরক্ত হয়ে কপাল কুঁচকে বলল,

"সর তো শালা! বউ থাকতে আমার পেছনে কেন লেগেছিস? যা না, নিজের বউয়ের কাছে গিয়ে পিরিত কর।

অয়ন ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,

“পিরিত তো করবই। কিন্তু তার আগে দেখি তোর হাতে কি আছে।

"আরে ভাই, এখানে পার্সোনাল জিনিস আছে। তুই দেখে কি করবি?

“আমার আবার অন্যের পার্সোনাল জিনিস দেখতেই বেশি ভালো লাগে। নে এবার বের কর, দেখি কি নিয়ে যাচ্ছিস আমার বোনের জন্য!

হঠাৎ আদিল রাগান্বিত কণ্ঠে বলে উঠল,

"এই বক্সটা আর দেখবি কি? চাইলে আমি আমার প্যান্ট খুলে দেই, তুই সেটাই ভালো করে দেখে নে।

অয়ন সঙ্গে সঙ্গে মুখ বাঁকিয়ে বলল,

“সরি ভাই, আমি ছেলেদের কিছু দেখি না। তোর আর আমার তো একই জিনিস, নতুন কিছু দেখার কী আছে?

"ভন্ডর ঘরে ভন্ড! দাঁড়া, আহি’কে গিয়ে বলছি তুই নাকি আরও মেয়েদের দেখতে চাস!

এই বলে আদিল দুই কদম এগিয়ে যেতেই অয়ন ধপ করে তার সামনে এসে দাঁড়িয়ে গেল।

“এই ইয়ার, আমাদের ঝামেলার মধ্যে আবার তোর বোনকে টানছিস কেন? আর আমি কখন বললাম আমি মেয়েদের দেখতে চাই?

"ভাই, যা প্লিজ! তোকে কিছু দেখতে হবে না। রাত শেষ হয়ে আসছে, আর আমি এখনো শুভ কাজটাই শুরু করতে পারলাম না। এই দুঃখ আমি কোথায় রাখব বল তো?

“তোর যেখানে ইচ্ছে রাখ। কিন্তু আগে আমাকে দেখা ওই বক্সে কি আছে।

আদিল বিরক্তির চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। সে দাঁতে দাঁত পিষে আওরায়,

"ধুর, এখানে চকলেট আছে, চকলেট। খাবি তুই?

অয়ন সঙ্গে সঙ্গে মুখ বিকৃত করে বলল,

“ওয়াক থু! এই নোংরা জিনিস আমি খাই না। তোর ইচ্ছে হলে তুই খা, এগুলো তোর সাথেই মানায়।

অয়নের কথা শেষ হতেই আদিল আর সহ্য করতে পারল না। সে নিজের পা থেকে জুতা খুলে সোজা অয়নে’র দিকে ছুড়ে মারল। একটুর জন্য সেটা অয়নে’র গায়ে লাগেনি। অয়ন চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল, আর আদিল রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল—

"এই বা*লের মাইন্ড এতো জঘন্য কেন কে জানে? দাঁড়া, তোকে আমি পরে দেখে নেব শালা!

আদিল চুপিচুপি মাহি'র রুমে ঢুকে পড়লো। মাহি যেহেতু দরজা আঁটকে ঘুমায় তাই রুমে ঢুকতে খুব বেশি প্রব্লেম ফেস করতে হলো না। সে ধীরে ধীরে দরজা লক করে মাহি'র দিকে এগিয়ে যায়। তারপর নিঃশব্দে হাতে থাকা বক্স টেবিলের উপর রাখে।

হঠাৎ, আদিল মাহি’র উপরে গিয়ে শুয়ে পরে। এবং মূহুর্তেই মাহি'র গলায় মুখ গুঁজে দিয়ে গভীর শ্বাস নেয়। মাহি হঠাৎ নিজের উপর ভার অনুভব করে পিটপিট করে তাকায়। ঠিক যখনই চিৎকার দিতে যাবে, সেই মুহূর্তে আদিল তার মুখ চেপে ধরে ফিসফিসিয়ে আওরাল,

"হুসসসস! আমি তোর একমাত্র পেয়ারের জামাই। চিৎকার করিস না, কুইন, নয়তো সবাই এসে আমাকে গণ ধোলাই দেবে।

মাহি খানিকটা কাঁপতে কাঁপতে তার দিকে তাকিয়ে রয়। আদিল ধীরে ধীরে মাহি’র মুখ থেকে হাত ছেড়ে দেয়। আর মাহি কাঁপা কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,

- আ আ আপনি এতো রাতে এখানে কেন?

আদিল তার ঠোঁটের দিকে ধীরে ঝুঁকে ফিসফিসিয়ে আওরাল,

"বিয়ে করার পরও কি বউ ছাড়া ঘুম আসে? তাছাড়া বিয়ে তো হয়ে গেল, কিন্তু আসল কাজটা এখনো হয়নি। সেটাই করতে আসলাম।

মাহি চোখ বড় করে তাকায় এবং কম্পিত কণ্ঠে বলল,

- মা মা মানে?

"এখন মানেটাও আমাকেই বলতে হবে, ম্যাডাম?

মাহি শুকনো ঢুকে গিলে। আর সেটা দেখে আদিল দুষ্টু হাসি ফেলে,

"ওহু, তখন তো ঠিকই বললি একশোবার বিয়ে করতে পারবি। তাহলে এখন কেন ঢুক গিলছিস, হুম?

মাহি কিছু বলতে পারে না। হুট করে আদিল তার পাশে শুয়ে পরে এবং নেশা মিশ্রিত দৃষ্টিতে দিয়ে ধীরে ধীরে মাহি’র দিকে এগিয়ে আসে। মাহি ভয়ে চোখ মুখ বন্ধ করে নেয়। তারপর কাঁপা কাঁপা কন্ঠে প্রতিধ্বনিত করে,

- আমার প্রচন্ড ঘুম পাচ্ছে আদিল ভাইয়া?

আদিল আগের ন্যায় উওর দেয়,

"ওকে, নো প্রব্লেম! আমি ঘুম ভাঙিয়ে দেব। বিয়ে যখন করেছি, ঘুম ভাঙানোর দায়িত্ব তো আমাকেই নিতে হবে, তাই না, মেডাম?

মাহি ভয়ে গুটিয়ে যায়, দৃষ্টি নিচু করে বসে থাকে। ঠিক সেই মুহূর্তে আদিল ধীরে হাত বাড়িয়ে টেবিলের ওপর রাখা বক্সটি ধরে মাহি’র হাতে গুঁজে দেয়। মাহি প্রথমে কিছু বুঝতে পারে না, চোখ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। আদিল হঠাৎ ভ্রু নাচিয়ে বলল,

"তোকে জন্য, খুলে দেখ কি আছে ভেতরে।

মাহি তড়িঘড়ি করে বসে, কাঁপা হাতে বক্স খুলতে শুরু করে। ধীরে ধীরে সে ভেতরের জিনিসগুলো দেখতে পায় বিভিন্ন ধরনের চকোলেট, তার প্রিয় কাঠ গোলাপ ফুল। মাহি অবাক হয়ে চোখ কপালে মেলেছে। সে ফুলটি তুল আদিলে’র দিকে এগিয়ে দিয়ে এক গাল হেসে বলল,

- ফুলটা আমার মাথায় গুঁজে দেন না?

আদিল কোনো প্রশ্ন না করে, নিঃশব্দে সেই ফুল মাহি’র খোঁপায় গুঁজে দেয়। মাহি কিছু বলার আগেই নিজের প্রিয় চকোলেট গুলো খেতে শুরু করে। এক এক করে প্রতিটি চকোলেট মুখে দেয় এবং শেষে আদিলে’র দিকে তাকিয়ে হাসি ফেলে।

- অনেক টেস্ট ছিল চকলেটগুলো। আর কয়েকটা আনতে পারলেন না? আপনি জানেন না, চকোলেট খেতে আমার খুব ভালো লাগে।

আদিল আনমনে বিরবির করলল,

"আমারও!

মাহি অবাক হয়ে চোখ বড় করে তাকাল,

- কিন্তু আপনি তো চকোলেট খান না আদিল ভাইয়া।

"এটা স্পেশাল চকলেট কুইন! যেটা খাওয়ার অধিকার আজ পুরোপুরি আমার হয়েছে।

মাহি তার কথাগুলো পুরোপুরি হজম করতে পারছে না। হঠাৎ আদিল তার গলার দিকে ঝুঁকে গিয়ে একটি ছোট ডায়মন্ডের নেকলেস মাহি”র গলায় পরিয়ে দেয়। মাহি চমকে ওঠে, চোখে বিস্ময়ের ছাপ।

বিজ্ঞাপন

- এটা কেন দিলেন? আমার এতো দামী গিফট চাই না।

আদিল কণ্ঠ নরম করে ফিসফিসিয়ে বলল,

"বা’স’র রাতে এইটুকু তো দিতেই হবে। আফটার অল, একটা মাত্র বউ আমার!

মাহি লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে নেয়, গাল দুটো টমেটোর মতো লাল আভায় ছড়িয়ে পড়েছে। ঠিক তখনই আদিল ধীরে ধীরে মাহি'র সামনে একটা ওষুধ ধরল। সেটা দেখে মাহি ভ্রু দুটো কুঁচকে তাকিয়ে রইল। তার চোখে স্পষ্ট অনীহা। আদিল নরম গলায় বলল,

"এটা খেয়ে নে।

মাহি ঠোঁট বাঁকিয়ে একটু দূরে সরে গেল। মাথা নেড়ে বলল,

- আমার ওষুধ খেতে ভালো লাগে না। আপনি নিজেই খান। তাছাড়া আমার খুব বেশি জ্বরও নেই। এখন তো আমি প্রায় ঠিক আছি।

আদিল বিরক্তির হয়ে ভ্রু কুঁচকাল। গলার স্বর একটু শক্ত করে বলল,

"চুপ কর। এটা খেয়ে আমি কি করবো? এটা তোর দরকার, আমার নয়। তাড়াতাড়ি খেয়ে নে।

এই বলে সে মাহি'র সামনে এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিল। মাহি আবারও নাক সিটকাল। তার মুখের ভঙ্গি দেখে বোঝাই যাচ্ছে, সে কিছুতেই ওষুধ খেতে চাইছে না। কিন্তু আদিলে’র কড়া দৃষ্টি দেখে শেষমেশ কাচুমাচু হয়ে গেল সে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ধীরে ধীরে ট্যাবলেটটা মুখে দিল। তারপর পানি খেয়ে গিলতে বেশ কষ্ট হলো তার। ওষুধটা গেলার পর মুখ কুঁচকে বলল,

- এটা কি খাওয়ালেন আদিল ভাইয়া? ওষুধটা এত বিশ্রী স্বাদের কেন? এটা তো জ্বরের ওষুধ না তাহলে এটা কিসের?

মাহি অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল।

ঠিক তখনই হঠাৎ আদিল এগিয়ে এসে তার কোমড়টা আলতো করে আঁকড়ে ধরল। আচমকা এই স্পর্শে মাহি চমকে উঠল। আদিলে’র ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে একটা বাঁকা হাসি ফুটে উঠল। সে একটু ঝুঁকে মাহি'র কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বলল,

"আমার ভালোবাসার প্রতিটি স্পর্শ যেন তোকে সহ্য করতে খুব বেশি কষ্ট না হয় তারই মেডিসিন এটা। আফটার অল, তুই তো আমার একমাত্র বউ। তুই কষ্ট পেলে কি আমার ভালো লাগবে?

মাহি মুহূর্তেই কথার ইঙ্গিতটা বুঝে গেল। তার বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে গেল। সে আরও গুটিয়ে বসে পড়ল। হাত দুটো শক্ত করে আঁকড়ে ধরল নিজের ওড়না। তার চোখে এখন স্পষ্ট ভয়। আদিল কিছুক্ষণ নীরবে তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর শীতল কণ্ঠে বলল,

"কুইন, তুই রেডি তো?

কথাটা বলেই সে ধীরে ধীরে মাহি'র মুখের কাছে ঝুঁকে এল। মুহূর্তের মধ্যে মাহি'র ঠোঁটে পরপর কয়েকটা চুমু এঁকে দিল। প্রতিটি স্পর্শে মাহি কেঁপে উঠছিল। তার শরীর যেন অদ্ভুত অনুভূতিতে থরথর করে উঠছিল। আদিল আবার ডাকল,

"কুইন…

মাহি মাথা নিচু করে কাঁপা গলায় বলল,

- আমার ভয় লাগছে আদিল ভাইয়া।

তার কণ্ঠে শিশুসুলভ আতঙ্ক। আদিল একটু থেমে গেল। তারপর মৃদু হাসল। ধীরে ধীরে মাহি'কে নিজের বুকের কাছে টেনে নিল। তার মাথাটা আলতো করে নিজের কাঁধে ঠেকিয়ে দিল। এবং খুব নিচু স্বরে বলল,

"তোর ভয়টাকে জয় করতেই তো চাই, কুইন। ট্রাস্ট মি, আমি তোকে খুব বেশি কষ্ট দেব না। একটু ভরসা রাখ আমার ওপর। আর এই রাতটার জন্য অনেকদিন অপেক্ষা করেছি আমি। কত প্রহর গুনেছি জানিস? তাই প্লিজ এভাবে আমাকে দূরে ঠেলে দিস না। অনেক কষ্ট পাবো কিন্তু।

মাহি ধীরে ধীরে মুখ তুলে তাকাল তার দিকে। আদিলে’র চোখে আজ অন্যরকম এক দৃষ্টি। প্রিয় মানুষকে কাছে পাওয়ার আকুলতা। মাহি কিছু বলল না। শুধু নিঃশব্দে তার দিকে তাকিয়ে রইল।

আদিলে’র মুখের দিকে তাকিয়ে মাহি’র মনে হঠাৎ মায়া হলো। তার চোখে আজ এমন এক আকুতি ছিল, যেটা উপেক্ষা করা সত্যিই কঠিন। এতক্ষণ যে ভয়টা বুকের ভেতর শক্ত হয়ে বসে ছিল, সেটা যেন একটু একটু করে নরম হয়ে এল। সে কিছুক্ষণ চুপ করে আদিলে’র দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে মাথা নিচু করল। এবং নিচু স্বরে বলল

- সত্যি কষ্ট দেবেন না তো?

আদিল মৃদু হেসে উঠল। তার চোখে তখন কোমল এক আশ্বাস। সে ধীরে ধীরে মাহি’র থুতনিটা আঙুল দিয়ে তুলে ধরল তারপর নরম গলায় বলল,

"সত্যি বলছি কুইন, আমি যতটা সম্ভব তোকে সেফ রাখবো।

- প্রমিজ করুন?

আদিল এক মুহূর্তও দেরি করল না। সে সঙ্গে সঙ্গে মাহি’র বাড়িয়ে দেওয়া হাতটা নিজের হাতে ধরে ফেলল। তার আঙুলগুলো শক্ত করে জড়িয়ে ধরল, যেন সেই হাত আর কখনও ছাড়বে না। তার ঠোঁটে আবারও সেই মুচকি হাসি ফুটে উঠল।সে স্নিগ্ধ কণ্ঠে বলল,

"গড প্রমিজ, কুইন!

অন্যদিকে আহি কানে ধরে উঠবস করছে। মুখটা কেমন কাঁদু কাঁদু হয়ে আছে তার। আর অয়ন বেডের কর্নারে আরাম করে বসে আছে, ঠোঁটের কোণে তৃপ্তির হাসি ঝুলছে। যেন আহি’র এই অবস্থা দেখেই তার বেশ মজা লাগছে। আহি হাঁপাতে হাঁপাতে আবারও উঠবস করতে করতে বলল,

"এবারের মতো মাফ করে দিন অয়ন ভাই। আর কোনোদিন অন্য ছেলেদের দিকে তাকাবো না, সত্যি বলছি। তিনশো বার কানে ধরে উঠবস করছি। দেখেন না, আমার হাত-পা ব্যথা হয়ে গেছে। এবারের মতো ছেড়ে দেন প্লিজ।

অয়ন ঠান্ডা চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর একটু ভ্রু তুলে ধীরে ধীরে বলল,

“কোনো ছাড়াছাড়ি নেই। তখন কি প্রশংসা যেন করছিলি? একটু আবার রিপিট কর তো শুনি।

'আমি কি মিথ্যা বলছি নাকি? ছেলেটা সত্যি সত্যি অনেক কিউট ছিল। আবার আপনার থেকে বয়সেও অনেক কম। আমার সাথে তো বেশ মানাতো, কি বলেন?

কথাটা শেষ হতে না হতেই অয়নে’র মুখ শক্ত হয়ে গেল। দাঁতে দাঁত চেপে কর্কশ কণ্ঠে বলল,

“শাউ*য়্যার নাতনি! এবার তুই এক হাজার বার কানে ধরে উঠবস করবি।

আহি সঙ্গে সঙ্গে থেমে গেল। চোখ বড় বড় করে বলল,

"পারবো না আমি! আপনি বললেই হবে নাকি? আমি আর কানে ধরবো না।

এই বলে সে মেঝেতে বসে পড়তে যাবে, ঠিক তখনই অয়ন ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে এল। অয়ন’কে এগিয়ে আসতে দেখে আহি’র চোখ কপালে উঠে গেল। সে তড়িঘড়ি করে আবার কানে ধরে উঠবস শুরু করে দিল।

"পারবো পারব, আপনি যা বলবেন তাই করবো। তবুও আমাকে ওই ঠান্ডা পুকুরে ফেলে দেবেন না প্লিজ।

অয়ন ঠোঁট টিপে হাসল। আবার গিয়ে নিজের জায়গায় বসে পড়ল। আহি হাঁপাতে হাঁপাতে উঠবস করে যাচ্ছে। কয়েকবার করার পর ক্লান্ত হয়ে মেঝেতে বসে পড়ল। কিন্তু অয়নে’র কড়া দৃষ্টি পড়তেই আবার উঠে শুরু করে দিল। এভাবে গুনে গুনে প্রায় পাঁচশো বার উঠবস করার পর সে আর পারল না। ধপাস করে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল। হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,

"আমি আর পারবো না অয়ন ভাই। হাত-পা আর চলছে না। বাকি গুলো কালকে করবো। আজকের মতো ছেড়ে দেন।

অয়ন বাঁকা হেসে বলল,

“ছেড়ে দিতে পারি, তবে এক শর্তে।

আহি একটু উঠে বসল। কৌতূহলী হয়ে বলল,

"কি শর্ত?

অয়ন চোখ টিপে বলল,

“আমাকে একশোটা চুমু দিবি। তাহলেই আর কানে ধরে উঠবস করতে হবে না।

আহি যেন আকাশ থেকে পড়ল। চোখ বড় বড় করে বলল,

"কিহহহ! আমি মরে গেলেও পারবো না!

“ওকে, ফাইন তাহলে....

আহি ভয় পেয়ে শুকনো ঢুক গিলে মিনমিন স্বরে আওরায়,

"না না দেবো দেবো! আপনি কথায় কথায় আমাকে ভয় দেখান কেন? আমি কি আপনাকে ভয় পাই? একটুও ভয় পাই না আমি, হু! আচ্ছা শুনেন না, একটু পড়ে দেই চুমু?

অয়ন সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল,

“তোর হাত-পা ব্যথা করছে, মুখ তো না। তাই তাড়াতাড়ি শুরু কর। আমি কোনো এক্সকিউজ শুনতে চাই না।

আহি ঠোঁট ফুলিয়ে বিড়বিড় করে বলল,

"রাক্ষস লোক! বউয়ের উপর এমন অত্যাচার করে? ঠিক আছে, এই শাস্তির বদলা আমিও একদিন নেবো হু!

শেষমেশ আর কোনো উপায় না দেখে সে ধীরে ধীরে অয়নে’র কাছে এগিয়ে গেল। তারপর গুনে গুনে একশোটা চুমু দিতে শুরু করল, কখনো গালে, কখনো কপালে, কখনো চিবুকে। আহি’র মুখে তখন লজ্জা আর বিরক্তির মিশ্র ভাব। আর অয়ন বসে বসে সবকিছু উপভোগ করছে। একশোটা চুমু শেষ হতেই আহি হাঁপাতে হাঁপাতে দূরে সরে গেল। তবে অয়নে’র মুখে তখন এমন এক তৃপ্তির হাসি, যেন সে পুরো পৃথিবীটাই জিতে ফেলেছে।

বিজ্ঞাপন
নেশাময় আসক্তি গল্পটি বন্যা সিকদার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় স্পেশাল রোমান্টিক গল্প