নেশাময় আসক্তি

পর্ব - ৩৮

🟢

শেষমেশ আর কোনো উপায় না দেখে সে ধীরে ধীরে অয়নে’র কাছে এগিয়ে গেল। তারপর গুনে গুনে একশোটা চুমু দিতে শুরু করল, কখনো গালে, কখনো কপালে, কখনো চিবুকে। আহি’র মুখে তখন লজ্জা আর বিরক্তির মিশ্র ভাব। আর অয়ন বসে বসে সবকিছু উপভোগ করছে। একশোটা চুমু শেষ হতেই আহি হাঁপাতে হাঁপাতে দূরে সরে গেল। তবে অয়নে’র মুখে তখন এমন এক তৃপ্তির হাসি, যেন সে পুরো পৃথিবীটাই জিতে ফেলেছে।

আহি ধপাস করে বিছানায় লুটিয়ে পড়তেই অয়ন তার দিকে ঝুঁকে পড়লো। ফিসফিস করে আওরাল,

“এই অল্পতে হাপিয়ে গেলে চলবে বউ? এখনো আমিটাই তো রয়ে গেলাম।

আহি চোখ বড় করে তাকাল, ড্যাব ড্যাব করে। অয়নে’র কথার মানে তার বোধগম্য হলো না। তারপরই সে চোখ বন্ধ করে বলে উঠে,

"অয়ন ভাই!

অয়ন টুপটুপ করে আহি’র কপালে উষ্ণ স্পর্শ ছুঁড়ে শীতল কণ্ঠে আওরায়,

“বলেন ম্যাডাম!

"মাহি কোথায়? ওকে ওর রুমে খুঁজলাম, কিন্তু পেলাম না। এমনকি মুনে’র সাথেও নেই। তাহলে ও ঘুমালো কোথায়?

“আমাদের পাশের রুমে আছে। আম্মু ওর রুমে থাকতে দেয়নি। বুঝিস তো, আম্মু কিছুটা আগের জেনারেশনের মায়েদের মতো রয়ে গেছে। ধারনা, মাহি ওর রুমে সুইসাইড করতে গিয়েছিল। এখন আবারও যদি করে, তাই অন্য রুমে থাকতে বলেছে।

"আরেকটা কথা বলি?

অয়ন আহি'র মসৃণ গালে নাক ঘষতে ঘষতে বলল,

“তোকে বলতে মানা করেছে কে?

“ভাইয়ার অপারেশন কবে?

আহি কাঁপা কণ্ঠে জানতে চাইল।

“দুদিন পর।

হঠাৎ আহি অয়নে’র বুকে লেপ্টে পড়ল। সে ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠল। মূহুর্তেই অয়ন ঘাবড়ে গেল। বিষ্ময় দৃষ্টিতে বলল,

“কাদছিস কেন, পাখি?

অশ্রু সিক্ত কন্ঠে আহি ছোট্ট ছোট্ট করে বলল,

"ভাইয়া আমাদের কাছে ফিরে আসবে তো?

অয়ন শান্ত স্বরে বলল,

“ইনশাআল্লাহ্!

"আমার ভাইয়াকে কিন্তু আমার চাই ই চাই। ভাইয়ার কিছু হলে আমি থাকবো কিভাবে? তাছাড়া মাহি তো বাঁচতেই পারবে না।

অয়ন ধীরে কণ্ঠ কমিয়ে আওরাল,

“আমি জানি। আমি আমার সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করবো আদিল’কে মৃত্যুর দার প্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য। আমার বোনটার কথা তো অবশ্যই ভাবতে হবে।

আহি ধীরে ধীরে আরো ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে অয়নে’র বুকে লেপটে গেল। তার হৃদয় যেন শান্তির একটি নীরব প্রবাহে ভরে উঠল, এমন অনুভূতি যা হয়তো সে কাউকে খুলে বলতে পারবে না। হঠাৎ পাশের রুম থেকে হালকা আওয়াজ কানে এসে পৌঁছালো। আহি অয়নে’র কাছে থেকে উঠে বসল, তড়িঘড়ি করে এগোতে চাইল, কিন্তু তার পথ আটকে দিল অয়ন। অয়ন তার হাত ধরে ফেলল এবং ভ্রু জোড়া কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,

“কোথায় যাচ্ছিস পাখি? রাতে আমি কিন্তু বউ ছাড়া ঘুমাবো না, সো তাড়াতাড়ি বিছানায় এসে শুয়ে পড়।

আহি স্থির গলায় বলল,

"আপনাকে বউ ছাড়া শুতে হবে না, তবে আমার একটু দরকার আছে।

“কি দরকার?

"আরে বুঝতে পারছেন না কেন? আমি এসেই বলছি।

অয়ন ঘাড় ঘুড়িয়ে বলে উঠেলো,

“না, আগে বলবি তারপর যাবি। তোকে দিয়ে আমার বিশ্বাস নেই, আবার যদি আম্মুর রুমে গিয়ে শুয়ে পড়িস, তখন আমার কি হবে? এমনিতেই রোজা থেকে দিনে তোর কাছে পেতে পারি না।

মূহুর্তেই আহি ক্ষেপে উঠল,

"এবার কিন্তু আপনার মুখ আমি ভেঙে দেবো।

“তোর যা ইচ্ছে ভেঙে দে, তবুও আমি তোকে ছাড়ব না

আহি দু-হাত দিয়ে নিজের মাথা চেপে ধরে ধীরে ধীরে বলল,

"আমি মাহু’কে এক পলক দেখেই চলে আসবো। ওর জ্বর হয়েছে, তাই ঘুমের ঘোরে গোঙানির শব্দ আসছে। আমি যাচ্ছি জিজ্ঞেস করতে, ওর কিছু লাগবে কি না, ওষুধ খেয়েছে কি না। আমি শিওর ওই পেত্নী ওষুধ খায়নি।

অয়ন আহি’র কথায় মুচকি মুচকি হাসলো। এই হাসিতে আহি’র রাগ আরও বেড়ে গেল। তার বোন অসুস্থ, অথচ সে হাসছে। আহি কোমরে হাত গুঁজে কর্কশ কণ্ঠে আওরাল,

"দাঁত কেলানি বন্ধ কর! বোনের কষ্ট হচ্ছে আর আপনি হাসছেন। মাহু আমার কিউট ভাবি হবে তাই ওর যত্ন আমি নিজেই নেব। আপনাকে যেতে হবে না, খাচ্চর লোক।

আহি আরও এগোতে গেলে অয়ন আচমকা টান দিয়ে তাকে নিজের বুকে লুটিয়ে নিল। অয়ন তার কোমর আঁকড়ে ধরে বিছানায় শুইয়ে ফেলল এবং নিজেও তার দিকে ঝুঁকে পড়ল। আহি রক্তিম দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তাকিয়ে রইল,

"অয়ন ভাই, এবার কিন্তু আমি সত্যিই রেগে যাচ্ছি। আমি মাহু’র কাছে যাবো, আমাকে যেতে দিন।

অয়ন ঠোঁট টিপে হাসলো,

“যেতে হবে না তোকে।

"যাবো আমি, একশোবার যাবো। আপনি বললেই হলো নাকি?

“বললাম তো যেতে হবে না, তবুও জেদ করছিস কেন?

আহি ফ্যাল ফ্যাল করে কিছু সময় তাকিয়ে রইলো। তারপর বিরক্ত কণ্ঠে বলল,

"আপনি মাহু’র ভাই হতেই পারেন না। আজ আবার হসপিটাল থেকে এক্সচেঞ্জ হয়ে এসেছেন নাকি? আমার অয়ন ভাই তো সবার দিকে নজর রাখে, এমনকি দুই বোনকেও অনেক ভালোবাসে। তাদের কষ্ট আমার অয়ন ভাই সহ্য করতে পারে না, অথচ আপনি নিজে যাচ্ছেন না, আমাকে যেতে দিচ্ছেন না।

অয়ন আগের মতোই শান্ত কণ্ঠে আওরাল,

“কয়টা বাজে সেটা দেখ?

বিজ্ঞাপন

সঙ্গে সঙ্গে আহি ঘড়ির কাঁটায় চোখ দেয়। রাত তখন বারোটা দশ। আহি সহজভাবে বলল,

"১২:১০ বাজে, আপনি চোখ দেখতে পাচ্ছেন না?

“আমি দেখতে পাচ্ছি, তবে তুই দেখতে পাচ্ছিস না। এতো রাতে কারো রুমে যেতে নেই, বুঝিস না?

আহি মুখ বাকিয়ে বলে উঠলো,

"এই আপনি সরুন তো, আমি আবারও মাহু’র আওয়াজ শুনলাম। আমি যাবোই, যাবো।

অয়ন আহি’র হাত ছেড়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

“হ্যাঁ, যা যা, গিয়ে দেখে আয় তোর ভাই ভাবি কিভাবে কিভাবে রোমাঞ্চ করছে। তুই তো সেটা দেখতেই যাচ্ছিস। নির্লজ্জ মেয়ে, বোন হয়ে ভাই ভাবির পিরিত দেখতে যাবে ছিঃ ছিঃ।

সঙ্গে সঙ্গে আহি স্তদ্ধ হয়ে রইল। চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে, শুকনো গলায় মিনিমিন স্বরে জিজ্ঞেস করল,

"মা মা মানে?

অয়ন মূহুর্তেই এক গাল হেসে ফেললো। তারপর আরেকটু ঝুঁকে ফিসফিসিয়ে আওরাল,

“রাতে তোর সাথে যা আমি করি, সেটাই তোর ভাই করছে। বুঝতে পেরেছিস নাকি প্র্যাকটিকালি বুঝিয়ে দেবো?

আহি চোখ বড় করে বলল,

"কিন্তু বিয়ের আগেই ভাইয়া এমন পঁচা কাজ কেন করছে?

অয়ন ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ঝুলিয়ে বলল,

“কে বললো তোকে, ওরা বিয়ে করেনি? বিকেলে বিয়ে করেছে।

হঠাৎ আহি চিৎকার দিয়ে উঠল,

"কিহহহহহ? আমাকে না জানিয়ে ভাইয়া বিয়ে করে ফেললো। আমি তো তার একটা মাএ বোন, আমাকেও তো কিছু বললো না?

“তোর ভাইয়ের কুরকুরানি উঠছিল, তাই সবাইকে না জানিয়ে বিয়ে করে ফেললো। শালা আর দু’টো দিন অপেক্ষা করতে পারলো না।

"কেন অপেক্ষা করবে? ভাইয়ার বিয়ের বয়স হয়েছে তাই বিয়ে করে ফেলেছে এখানে আবার বলার কি আছে? আপনিও তো কাউকে কিছু না জানিয়ে বিয়ে করে ফেললেন এখন আমার ভাইকে বলছেন হু। আগে নিজে ঠিক হন তারপর আমার ভাইয়াকে নিয়ে বলবেন হু।

অয়ন চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো। যার পক্ষে কথা বলছে সেই এখন উল্টো সুর তুলছে। তবে অয়ন কিছু বলল না বরং তার সাথে আরো ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে নেয়। আহি হাসফাস করতে করতে ছুটাছিটি শুরু করলো।

"অয়ন ভাই ছাড়ুন প্লিজ।

“ওহু, আমি বেঠিক মানুষ তাই বেঠিক কাজ করবো। এতে বেশি পাকনামি করলে মাইর দেবো। সো চুপচাপ আমার ভালোবাসা গুলো ফিল কর।

আহি ঘুম জড়িত আধো আধো কন্ঠে প্রতিধ্বনিত করে,

"আমি ঘুমাবো, মাথা ব্যথা করছে ভিষণ। আপনি যা বলছেন তাই হবে তবে কালকে কেমন? বউয়ের কথা রাখতে হয় জানেন তো।

“চুপ কর শালি, তোর কাল আর কালকে আসবে না। ভান্ডামি আমার সাথে করতে আসিস না মেরে একদম তক্তা বানিয়ে ফেলবো হু।

আহি শিশু সুলভ কন্ঠে আওরায়,

"আপনি শুধু শুধু মাইরের ভয় দেখান কেন? আমি কি বাচ্চা আমাকে মার দেবেন?

মূহুর্তেই অয়ন আহি'র ওষ্ঠ জোর নিজের দখলে নিয়ে নেয়। উম্মাদের মতো তার সারা মুখে অজস্র স্পর্শ একে দেয়। আহি ছটফট করেও ছাড়া পায় না বরং অয়ন তাকে আরো আষ্ঠেপৃষ্ঠে জরিয়ে নেয়।

অয়ন দু’হাত দিয়ে আহি'র পেট চেপে ধরলো। তারপর সে ধীরে ধীরে আহি'র উন্মুক্ত পেটের দিকে ঝুঁকে আচমকা কামড় বসিয়ে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে আহি ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলো। চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে নেয়। দু-হাত দিয়ে অয়নে’র টি শার্ট খাঁমচে ধরলো। সে মুখ বিবৃতি করে ফিসফিস করলো,

"অয়ন ভাই কি করছেন আপনি?

অয়ন তার মুখের দিকে এক পলক তাকিয়ে আবারও সেই ক্ষত স্থানে পর পর কয়েকটা কামড় বসিয়ে দিল। এবং সাথে সাথে আহি হালকা চেঁচিয়ে উঠলো,

"অয়ন ভাই ব্যথা করছে তো।

সঙ্গে সঙ্গে অয়ন আহি'র গলায় এসে মুখ গুঁজে দিল। তারপর ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে ফিসফিসিয়ে আওরাল,

“জান ভিষণ ব্যথা করছে? একটু পর কি কন্টিনিউ করবো?

আহি’র চোখ আপনা আপনি বড় হয়ে গেল। সে সাথে সাথে অয়নে’র বুকে হালকা থাপ্পড় বসিয়ে দিল।

"খাচ্চর লোক মুখ এতো লাগাম ছাড়া কেন হ্যাঁ? আপনার মুখ দিয়ে কখনোই কি ভালো কথা বের হয় না?

“কে বলেছে আমার মুখ দিয়ে ভালো কথা বের হয় না? যখন তুই আমার কাছাকাছি থাকিস তখন এমনিতেই মিষ্টি মিষ্টি কথা বের হয় কিন্তু তুই বুঝিস না। আমার এত্তো এত্তো ভালোবাসা তোর তো চোখে পরবে না।

সে নাক মুখ কুঁচকে উঠে,

"এগুলোকে ভালোবাসা বলে না, টর্চার বলে টর্চার। আপনার টর্চারে আমি অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি।

“তবুও কিছু করার নেই জান। সারাজীবন এই ভালোবাসা নামক টর্চার সহ্য করতে হবে তোকে। নে এবার হাজার খানেক চুম্মা দে তো, অনেকক্ষন হলো মিষ্টি কিছু পাই না।

"অয়ন ভাই....

“চিৎকার করিস না তো। আর টাইম ওয়েস্ট করা ভালো লক্ষন নয়। তারাতাড়ি শুরু কর এরপর ইমপোর্টেন্স কাজ আছে আমার।

"যান সেটায় করুন গিয়ে।

অয়ব আহি'র ভাঁজকৃত গলায় ঠোঁট ছুঁয়ে ফিসফিস করে,

“ওহু তার আগে তোকে চাই আমার। তোর নেশায় আসক্ত হয়ে গেছি, এবার এই নেশা কাটিয়ে দে।

"পারবো না।

অয়ন দুষ্টু হাসলো,

“ওকে ফাইন, আমি নিজেই শুরু করি তাহলে। বাকিটা তুই সামলে নে।

বিজ্ঞাপন
নেশাময় আসক্তি গল্পটি বন্যা সিকদার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় স্পেশাল রোমান্টিক গল্প