নেশাময় আসক্তি

পর্ব - ৪২

🟢

বিছানায় আধশোয়া অবস্থায় বসে আছে আদিল। অপারেশনের পর এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি, তাই তাকে সাবধানে বসে থাকতে হচ্ছে। তবুও মুখে তার সেই চিরচেনা দুষ্টু হাসি লেগেই আছে। তার ঠিক পাশে গুটিশুটি হয়ে বসে আছে মাহি। মেয়েটার অবস্থা দেখলে বোঝাই যায়—সে কতটা অস্বস্তিতে আছে। বাসার সবাই যখন রুমে ছিল, তখন থেকেই সবাই কেমন ড্যাবড্যাব করে তাদের দুজনের দিকে তাকিয়ে ছিল। সেই দৃষ্টি সহ্য করতে না পেরে মাহি লজ্জায় মাথা নিচু করে রেখেছিল। তার গাল দুটো হালকা লাল হয়ে উঠেছে।

মাহি কয়েকবার উঠে চলে যেতে চেয়েছিল।

কিন্তু প্রতিবারই আদিল তার হাত ধরে টেনে বসিয়ে দিয়েছে। আর কড়া গলায় বলে দিয়েছে,

“এক পা নড়বি না। আমার পাশেই বসে থাকবি।

তাই একরকম বাধ্য হয়েই মাহি বসে ছিল। সবাই ধীরে ধীরে রুম থেকে বের হয়ে গেলেও রুমে এখনো মাহি আছে। সবাই চলে যেতেই মাহি একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ টিকল না। হঠাৎ আদিল আবার তার হাতটা টেনে নিজের দিকে নিয়ে নিল। মাহি চমকে উঠল। সে তড়িঘড়ি করে হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করতে লাগল।

"আদিল ভাইয়া ছাড়ুন প্লিজ। কেউ এসে পড়লে কিন্তু বিপদ হবে।

তার কণ্ঠে স্পষ্ট ভয়। কিন্তু আদিল যেন এসবের কিছুই পরোয়া করে না। সে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলল,

“আই ডোন্ট কেয়ার। আমি কি ভয় পাই নাকি? বউ’কে কাছে নেবো তাতেও আবার ভয় পেতে হবে কেন? আমার বউ। যখন ইচ্ছে তখন আমার কাছে টেনে নেবো।

মাহি চোখ বড় বড় করে তাকাল। তার গাল লাল হয়ে উঠেছে, কিন্তু তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,

"থামুন তো আপনি। ইদানীং আপনার মুখটা একটু বেশি চলছে।

কথাটা শুনে আদিল মুখটা একটু বাঁকিয়ে ফেলল। তারপর হালকা হাসি চেপে রেখে বলল,

“আরো অনেক কিছুই বেশি চলে। জাস্ট মানবতার কারণে তোকে দেখাই না, বুঝলি?

কথাটা শুনে মাহি মুহূর্তের জন্য একেবারে স্তব্ধ হয়ে গেল। সে অবাক চোখে আদিলে’র দিকে তাকিয়ে রইল। মনে মনে ভাবল, এই লোকটা দিন দিন সত্যিই বদের হাড় হয়ে যাচ্ছে! আগে এমন ছিল না। আর এখন কখন কী বলে বসে, সে নিজেও বোধহয় জানে না। মাহি কিছু একটা বলবে, ঠিক তখনই হঠাৎ করিডোর থেকে কারও হাঁটার শব্দ ভেসে এলো। পায়ের শব্দটা রুমের দরজার দিকেই আসছে। মাহি মুহূর্তেই সজাগ হয়ে গেল। এক ঝটকায় নিজের হাতটা আদিলে’র হাত থেকে ছাড়িয়ে নিল। তারপর তাড়াতাড়ি একটু দূরে সরে গিয়ে বসে পড়ল। আর আদিল ঠোঁট কামড়ে হাসি চেপে বসে আছে, মাহি’র এই তড়িঘড়ি করে দূরে সরে যাওয়াটা দেখে।

হঠাৎ রুমে প্রবেশ করলেন জাহিদ শেখ, মহিবুল শেখ এবং অয়ন। তাদের তিনজনকে একসাথে ঢুকতে দেখে মাহি একটু চমকে উঠলো। তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন অজানা আশঙ্কায় ধুকপুক করে উঠলো। ঠিক কেন এমন অস্বস্তি লাগছে সে নিজেও বুঝতে পারছে না। বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসে ছিল আদিল। শরীর এখনো দুর্বল, তবে আগের থেকে অনেকটাই সুস্থ দেখাচ্ছে তাকে। মুখে সেই আগের দুষ্টুমি মাখা হাসিটা না থাকলেও চোখের গভীরে একটা স্বস্তির ছাপ আছে। জাহিদ শেখ ধীরে ধীরে এগিয়ে এলেন তার দিকে। আদিলে'র দিকে তাকানোর ভঙ্গিতে মায়া আর চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে তিনি নরম গলায় জিজ্ঞেস করলেন,

- তোমার শরীর কেমন আছে বাবা?

আদিল মাথা একটু তুলে তাকালেন বড় বাবার দিকে। তারপর হালকা হাসি ফুটিয়ে শান্ত স্বরে বলল,

"জ্বী বড় বাবাই, আগের থেকে অনেকটাই বেটার লাগছে।

জাহিদ শেখ যেন একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। তারপর বললেন,

- মেডিসিন ঠিক ঠিক সময় খেয়ে নিও। অনেক চাওয়ার পর তোমাকে আবার ফিরে পেয়েছি আমরা। আল্লাহর কাছে কত দোয়া করেছি জানো না। যদিও এখানে অয়নে’র চেষ্টা ছিল অসীম। ও না থাকলে হয়তো তোমাকে এত তাড়াতাড়ি ফিরে পাওয়া যেত না।

আদিল মাথা নিচু করে হালকা করে হাসলো। তারপর খুব নিচু গলায় বিরবির করে বলল,

"থাকবে না আবার৷ বোনের ভা'তা'র'কে শালা ছাড়া আর কে বাঁচাবে!

তার এই বিরবির করা কথাটা মহিবুল শেখের কানে এড়াল না। তিনি ভ্রু কুঁচকে তাকালেন ছেলের দিকে।

– এমন বিরবির করছিস কেন?

আদিল একটু চমকে উঠে তাড়াতাড়ি মাথা নেড়ে বলল,

"না আব্বা, কিছু না। এমনি বলছিলাম।

তারপর সে একটু অস্থিরভাবে চারদিকে তাকাতে লাগল। মনে হচ্ছে যেন কাউকে খুঁজছে। চোখ ঘুরিয়ে পুরো রুমটা একবার দেখে নিলো, কিন্তু যাকে খুঁজছে তাকে কোথাও দেখতে পেল না। তার ভ্রু কুঁচকে গেল। শেষে সে অয়নে’র দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল

"ভাই, আমার বোনটা কোথায়? এসেছি অনেকটা সময় হয়ে গেল, কিন্তু ওকে তো দেখতে পাচ্ছি না।

অয়ন কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল। তার মুখটা হঠাৎই একটু শুকনো হয়ে গেল। তারপর ধীরে ধীরে বলল,

“দোয়েল একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ওকে মেডিসিন খাইয়ে তারপর তোর সাথে দেখা করতে আসলাম।

এই কথা শুনেই মহিবুল শেখের মুখের অভিব্যক্তি বদলে গেল। তিনি কড়া দৃষ্টিতে তাকালেন অয়নে’র দিকে।

- অসুস্থ মানে? হঠাৎ করে অসুস্থ হলো কেন? তুমি কি করেছো ওর সাথে?

অয়নে’র মুখে সঙ্গে সঙ্গে বিরক্তির ছাপ ফুটে উঠলো। সে ঠান্ডা গলায় বলল,

“টেনশন নেওয়ার দরকার নেই। একটু জ্বর হয়েছে, টাইম দিলেই সেরে যাবে। আর আমাকে দেখে কি আপনার মনে হয়, দোয়েল পাখিকে কষ্ট দিয়ে আমি খুশি হবো?

মহিবুল শেখ আর কিছু বললেন না। শুধু একটু গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে রইলেন। হঠাৎ জাহিদ শেখ মাহি’র দিকে তাকালেন।

বিজ্ঞাপন

মেয়েটা এতক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছিল। জাহিদ শেখ মৃদু কণ্ঠে বললেন,

- মাহি আম্মা, অনেক রাত হয়ে গেছে। তুমি এবার নিজের রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।

মাহি একটু চমকে তাকালো তার দিকে। তারপর ধীরে মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। সে আস্তে আস্তে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল। ঠিক তখনই হঠাৎ পেছন থেকে একটা শক্ত হাত তার কব্জি ধরে ফেললো। মাহি বিস্ময়ে ঘুরে তাকালো। আদিল তার হাত শক্ত করে ধরে আছে। তার কণ্ঠে অদ্ভুত এক দৃঢ়তা,

"কোথাও যাবে না, কুইন! আজ থেকে কুইন আমার সাথে আমার রুমেই ঘুমাবে।

কথাটা শুনে মাহি যেন একেবারে স্থির হয়ে গেল। তার চোখ বড় বড় হয়ে উঠলো। রুমে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। এরপরই হঠাৎ মহিবুল শেখ জোরে কাশতে শুরু করলেন। এতদিন তিনি অয়ন’কে কথা শুনিয়েছে, এবার দেখছেন একই নৌকার মাঝি দুজন, একজন বড়, আরেকজন ছোট!

হঠাৎ জাহিদ শেখের মুখের রং বদলে গেল। তার চোখে রাগের ঝলক স্পষ্ট হয়ে উঠল। তিনি গর্জে উঠলেন,

- বেয়াদব ছেলে! কিসব বলছো তুমি? তোমার কি বোধবুদ্ধি লোপ পেয়েছে? মানলাম তোমরা দুজন দু’জনকে ভালোবাসো। সেটা আমরা জানি। কিন্তু তাই বলে বিয়ের আগেই এক রুমে থাকতে চাও। আমি আর কোনো বেয়াদবি শুনতে চাই না। মাহি আম্মা, তুমি নিজের রুমে যাও। না হলে মায়ের কাছে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।

মাহি ইতস্তত করে এক পা এগোতে যাচ্ছিল। কিন্তু ঠিক তখনই তার কব্জিতে ধরা আদিলে’র হাতটা আরও শক্ত হয়ে উঠল।

আদিল একদৃষ্টে সামনে তাকিয়ে গম্ভীর স্বরে বলল,

"বললাম না কুইন আজ থেকে এই রুমেই থাকবে।

তার কণ্ঠে এমন এক অদ্ভুত দৃঢ়তা ছিল যে মুহূর্তের জন্য সবাই থমকে গেল। জাহিদ শেখ রাগে প্রায় চিৎকার করে উঠলেন,

- আদিলললল!

পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দেখে মহিবুল শেখ তাড়াতাড়ি এগিয়ে এলেন। তিনি নিজের বড় ভাইয়ের কাঁধে হাত রেখে শান্ত করার চেষ্টা করলেন।

– ভাইজান, আমি দেখছি আপনি এত উত্তেজিত হবেন না।

তারপর তিনি আদিলে’র দিকে তাকিয়ে একটু নরম স্বরে বললেন,

– আদিল বাবা, এসব কথা বলতে নেই। আমরা তো আর বেশি দেরি করবো না। আর কিছুদিন পরই তোদের বিয়েটা দিয়ে দেবো। তখন না হয়…

কিন্তু তার কথা শেষ হওয়ার আগেই আদিল অটল কণ্ঠে বলে উঠল,

"না আব্বা। কুইন আজ এবং এখন থেকেই এখানেই থাকবে। আর আমাদের বিয়ে তো হয়েই গেছে। তাহলে থাকতে প্রব্লেম কোথায়?

এই কথাটা যেন রুমের ভেতর বোমা ফাটার মতো বিস্ফোরিত হলো। মাহি বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। মহিবুল শেখ হতভম্ব হয়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন। আর জাহিদ শেখের চোখ প্রায় কপালে উঠে গেল।

আদিল শান্ত ভাবেই আবার বলল,

"যখন রিসেপশন হবে তখন না হয় সবাই জানবে। কিন্তু আমি আর এক সেকেন্ডও আমার বউ’কে শ্বশুর বাড়িতে রেখে দিতে পারবো না।

পরের মুহূর্তেই জাহিদ শেখ আর মহিবুল শেখ দুজনেই একসাথে চিৎকার করে উঠলেন,

- হোয়াটটটটট?

রুমের ভেতর যেন বজ্রপাত হলো। মাহি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, চোখ বড় বড় হয়ে গেছে। তার মাথার ভেতর যেন ঝড় বয়ে যাচ্ছে। অয়ন পাশে দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছে। তার ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে হাসি ফুটে উঠল। অয়ন নিজেকে নিয়ে বেশ গর্ববোধ করছে। কারন আদিল ভয় না পেয়ে তার রাস্তায় হাঁটছে। জাহিদ শেখ রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে কিছু বলতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ঠিক তখনই আদিল হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিল। তারপর ঠোঁট বাঁকিয়ে আধা হাসি দিয়ে বলল,

"থামুন শ্বশুর আব্ব। এখন নিশ্চয়ই বলতে যাচ্ছেন, কে আপনাদের না জানিয়ে বিয়ে করলাম? আরে ভাই সরি... সরি শ্বশুর আব্বা! আপনারা এত স্বার্থপর কেন বলেন তো?

আপনারা দুই ভাই তো আঠারো বছর হতে না হতেই বিয়ে করে বসে আছেন। অথচ আমার বয়স ত্রিশ পেরিয়ে গেল কত দিন হলো, তবুও কেউ বিয়ের কথা বলেন না! আমার কি বউয়ের দরকার হয় না? আমারও তো ইচ্ছে হয় আমার বউটাকে জড়িয়ে ধরে পাশে বসে থাকতে। সারাদিন গল্প করবো, ওকে নিয়ে ঘুরবো, আর বেশি বেশি ভালোবাসবো। দিন রাত জরিয়ে ধরে শক্ত পোক্ত চুমু দেবো। রাতে অন্তত দুই তিনবার শাওয়ার নেওয়াবো।

তার কথার ভঙ্গি দেখে মাহি’র মুখ লাল হয়ে উঠেছে। সে লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলেছে। আদিল আবার কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই মহিবুল শেখ হঠাৎ শুকনো ঢোক গিলে ফেললেন। তারপর একেবারে মিনমিনে গলায় বললেন,

– থাক বাবা আর কিছু বলতে হবে না তোকে। তোর বউ তুই রাখ। তোর দোষ দিয়েও তো লাভ নেই। বড় ভাই যেদিকে যাবে ছোটটাও তো সেদিকেই যাবে।

শেষের কথাটা তিনি স্পষ্টভাবে অয়নে’র দিকে তাকিয়ে বললেন। অয়ন সঙ্গে সঙ্গে কৃত্রিম ভদ্রতার ভঙ্গি করে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। কিন্তু তার চোখের কোণে হাসি এখনও লুকিয়ে আছে। কিন্তু জাহিদ শেখ এখনো যেন কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। তিনি স্থির দৃষ্টিতে আদিলে’র দিকে তাকিয়ে আছেন, যেন পুরো ব্যাপারটা হজম করার চেষ্টা করছেন। সেই দৃষ্টি দেখে আদিলে’র মেজাজ একটু চড়ে গেল। সে বিরক্ত স্বরে বলল,

"ওই শালা! ড্রয়ারটা থেকে কাবিননামাটা নিয়ে আয় তো। তোর বাপ বিশ্বাস করছে না তার আদরের দুলালি আমার বউ। নিজের ছেলের বেলায় ষোল আনা আর আমার বেলায় দু আনা হু।

জাহিদ শেখ ও মহিবুল শেখ আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। তারা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে কক্ষ ত্যাক করলো। অয়ন আদিলে'র দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে,

“বেষ্ট অফ লাক শালাবাবু! যদিও মেইন কাজটা আগেই হয়ে গেছে তবুও নতুন জীবনের শুভেচ্ছা।

অয়ন রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য অগ্রসর হয়। সে পেছন ফিরে ভ্রু জোগল কুঁচকে বলে উঠে,

“বাই দ্য ওয়ে, আমার পিচ্চি বোনটাকে দেখে রাখিস, এখনো অনেক ছোট। আর হ্যাঁ, রুমের সাউন্ড যেন রুমেই বদ্ধ থাকে, তোদের জন্য আমার বউ'টা ভয়ে ছুটে আসতে চায়।

অয়ন নিজেও নিঃশব্দে হাসতে হাসতে বেরিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন
নেশাময় আসক্তি গল্পটি বন্যা সিকদার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় স্পেশাল রোমান্টিক গল্প