নেশাময় আসক্তি

পর্ব - ৩৯

🟢

রাতের শেষ প্রহরে হঠাৎ আহি’র ঘুম ভেঙে যায়। ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকাতেই সে অবাক হয়ে যায়। কারণ তার পাশে অয়ন নেই। বিষয়টা তার বোধগম্য হলো না। অয়ন তো সব সময় সেহেরির সময় তাকে ডেকে তোলে। কিন্তু এখন তো সেহেরির সময়ও হয়নি। তাহলে লোকটা গেল কোথায়?

এই ভাবনাই তার মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগল। আহি বিছানা থেকে নেমে এক এক করে রুমের প্রতিটি কোণা খুঁজে দেখল। কিন্তু কোথাও অয়ন’কে পাওয়া গেল না। ঠিক তখনই হঠাৎ ফোনে মেসেজ আসার শব্দ ভেসে এল।

শব্দের উৎসের দিকে তাকিয়ে আহি ধীরে ধীরে টেবিলের কাছে এগিয়ে গেল। সেখানে অয়নে’র ফোনটা পড়ে আছে। স্ক্রিনটা জ্বলজ্বল করছে।

আহি ফোনের স্ক্রিনে তাকাতেই তার বুক কেঁপে উঠল। একটা অচেনা নাম্বার থেকে মিনিট দশেক আগে একটা মেসেজ এসেছে—

“জান, আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি। প্লিজ তাড়াতাড়ি এসো।

মেসেজটা পড়তেই আহি’র হাত-পা থরথর করে কাঁপতে শুরু করল। তার হৃদস্পন্দন যেন বিদ্যুৎ গতিতে লাফাচ্ছে। বুঝতে তার আর বাকি রইল না, মেসেজটা কোনো মেয়ের। ঠিক তখনই হঠাৎ কেউ একজন বিদ্যুৎগতিতে তার হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিল।

আহি বিস্ময়ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখল, অয়ন তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখে স্পষ্ট ভয় ফুটে উঠেছে। কয়েক মুহূর্ত নীরবতার পর আহি দৃঢ় কণ্ঠে বলল,

"অয়ন ভাই, এত রাতে কোথায় গিয়েছিলেন আপনি? জানেন, কতক্ষণ ধরে আমি আপনাকে খুঁজছি?

অয়ন আহি’কে আর কিছু বলতে না দিয়ে হুট করে তাকে কোলে তুলে নেয় এবং বিছানায় শুইয়ে দেয়। তারপর নিজেও পাশে শুয়ে পড়ে, আহি’র কোমর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। আচমকা অয়ন আহি’র গালে গাল ঘষতেই আহি চেঁচিয়ে উঠল,

"অয়ন ভাই! আপনাকে কতবার বলেছি এমন করবেন না। আপনার এই খোঁচা খোঁচা দাঁড়ির জন্য আমার গাল ব্যথা করে।

অয়ন হালকা হেসে বলল,

“ওকে, আগামীকাল সকালেই ক্লিন শেভ করে নেবো। এবার তো হলো? তবুও তোর গালে চুমু না দিয়ে থাকতে পারব না।

আহি হঠাৎ চোখ বড় বড় করে বলল,

"কিহহহ? কী বললেন? আপনি ক্লিন শেভ করবেন? রিয়েলি? না না, এমন কাজের কোনো দরকার নেই। এমনিতেই আপনাকে বিড়ালের মতো লাগে। ক্লিন শেভ করলে তো একদম নেংটি ইঁদুরের মতো দেখাবে! তার চেয়ে এভাবেই ঠিক আছেন। আমি কোনোভাবে ম্যানেজ করে নেব।

হঠাৎ অয়ন চোখ বড় বড় করে কঠিন কণ্ঠে বলল,

“কিহহহ বললি তুইইই?

"কিছু যখন শুনতে পাননি, তাহলে আমিও কিছু বলিনি।

অয়ন ভ্রু কুঁচকে বলল,

“তুই আমাকে বিড়াল বলেছিস। আমি কান দিয়ে স্পষ্ট শুনেছি।

আহি মুচকি হেসে বলল,

"আমি কি আপনাকে বলেছি আপনি মুখ দিয়ে শুনেছেন। বাই দ্য ওয়ে, আপনি কোথায় গিয়েছিলেন সেটা আগে বললেন।

অয়ন দুষ্টুমি ভরা চোখে তাকিয়ে বলল,

“কেন? খুব মিস করছিলি আমার ভালোবাসা গুলো?

"ফাজলামো বাদ দেন। সত্যি করে বলুন কোথায় গিয়েছিলেন। আবার আরেকটা মেয়ের সাথে ইন্টু মিন্টু করতে যান নি তো?

কথাটা শুনতেই অয়ন হঠাৎ কাশতে শুরু করল। কিছুক্ষণ পরে নিজেকে সামলে নিয়ে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে বলল,

“ছিঃ! এমন পঁচা কাজ আমি করব কেন? ঘরে বউ থাকতে আরেকজনের কাছে যাব? নো, নেভার!

"তার মানে বউ না থাকলে ঠিকই যেতেন? পুরুষ মানুষ আসলেই ভালো না। আপনারা পুরুষ জাতিই এক একটা লুচ্চার কারখানা।

অয়ন ভ্রু কুঁচকে বলল,

“এখন যত দোষ আমাদের! তোরা যে সামনে এসে ঘুরঘুর করিস, তার বেলায় কিছু না। আর আমরা এদিক-ওদিক তাকালেই দোষ। শালী, তোরা নারী জাতিই ভালো না।

আহি রক্তিম দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তার দিকে তাকিয়ে রইল। সঙ্গে সঙ্গে অয়ন মাথা নিচু করে ফেলল। তারপর ধীরে ধীরে বলল,

“সরি বউ। আমরা পুরুষ জাতিই খারাপ। নারী জাতি পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো। এই আমার বাজে মুখটা কেন যে সব সময় সত্য কথা বলে, কে জানে।

"পরের বার আপনার বাজে মুখ যদি কিছু বলে তাহলে মেরে মুখ ভেঙে দেবো।

অয়ন মাথা এদিক ওদিক করে স্বীকার করলো এবং ফিসফিসিয়ে আওরাল,

“সামান্য মুখ তো ভাঙবি আর কিছু তো ভাঙতে পারবি না।

আহি চোখ রাঙিয়ে কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,

"আমি আরো কিছু ভাঙতে পারি। যার জন্য আপনি একদম অকেজো হয়ে যাবেন। কয়দিন আগে নিউজ দেখেনি জামাই তিরিং বিরিং করেছিল বলে তার ভবিষ্যৎ কেঁটে নিয়েছে। আপনিও তিরিং বিরিং করেলে সেম কাজ আমিও করবো হু।

“যা বউ পঁচা কথা বলে না। আমার বউ অনেক লক্ষী, তাই তার মুখে এসব পঁচা কথা ভালো লাগে না।

আহি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। গভীর মনোযোগ দিয়ে ভাবতে লাগল, কে সেই মেয়ে? অয়নে’র সাথে তার আদৌ কোনো সম্পর্ক আছে কি? নাকি এমনি? আহি’র খুব ইচ্ছে হচ্ছিল জিজ্ঞেস করতে, মেয়েটি আপনার কী হয়?

কিন্তু সে মানুষটাকে অবিশ্বাস করতে চায় না। যে সম্পর্কে সন্দেহ বেশি, সেই সম্পর্কই সবচেয়ে দ্রুত ভেঙে যায়। তাছাড়া অয়ন এমন ছেলে নয় যে নিজের বউকে রেখে অন্য কোনো নারীতে মত্ত হবে। এইসব কল্পনা-জল্পনা করতে করতে আহি কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে, সে নিজেও টের পায়নি।

অথচ অয়ন তখনও তার গলায় মুখ গুঁজে রেখেছে। সে মৃদু স্বরে ডাকল,

“বউ!

কোনো সাড়া পেল না। সে আবারও বলল,

“এই বউ, শোন না। আমার না ভীষণ প্রেম-প্রেম পাচ্ছে। একটু প্রেম করি?

তবুও কোনো উত্তর নেই। অয়ন কয়েকবার ডাকল, কিন্তু ফলাফল শূন্য। অবশেষে সে মাথা তুলে তাকাল। আহি’কে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন দেখে তার মুখটা একটু শুকিয়ে গেল। সে বিড়বিড় করে বলল,

“যাহ বাবা! একটু প্রেম-ট্রেম করব, তা না। এই মেয়ে তো ঘুমিয়েই পড়ল। এর জীবনে মনে হয় আমার চেয়ে ঘুমের গুরুত্ব বেশি!

বিজ্ঞাপন

আর কথা বাড়াল না সে। মেয়েটার শান্ত মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর আলতো করে তার কপালে ছোট্ট ছোট্ট ভালোবাসার পরশ এঁকে দিল। এরপর আহি'র ছোট্ট শরীরটাকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে অয়নও ধীরে ধীরে ঘুমের দেশে তলিয়ে গেল।

সূর্যের ক্ষীণ আলোর তীর্যক রশ্মি জানালার কাচ ভেদ করে ধীরে ধীরে রুমের ভেতরে প্রবেশ করছিল। সেই নরম আলো অয়নে’র ঘুম ভাঙিয়ে দিল। অয়ন ধীরে ধীরে চোখ মেলল, তারপর চোখ কচলাতে কচলাতে একটু পাশ ফিরে তাকাল। তার দৃষ্টি গিয়ে থামল আহি’র উপর।

আহি তখনও গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। শান্ত, নিষ্পাপ একটা মুখ। ঘুমের মাঝে তার শ্বাস-প্রশ্বাসের ওঠানামা করছে। অয়ন একটু ঝুঁকে এলো। খুব সাবধানে নিজের হাতটা বাড়িয়ে দিল এবং আহি’র গালে আলতো করে রাখল। তারপর মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার দিকে। মনে হচ্ছিল যেন এই মুহূর্তটা সে যতটা সম্ভব দীর্ঘ করতে চায়।

ঘুমের ঘোরে আচ্ছন্ন আহি টেরই পাচ্ছে না যে কেউ একজন কতটা মুগ্ধতা নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। এদিকে সূর্যের আলো ধীরে ধীরে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। একটু পরেই সেই আলো গিয়ে পড়ল আহি’র চোখের উপর। অয়ন সঙ্গে সঙ্গে চমকে উঠল। দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে বড় বড় পা ফেলে জানালার দিকে গেল। এক টানে জানালার পর্দা টেনে দিল যাতে আলো আর ভেতরে না আসে। সে চায় না আহি’র ঘুমে কোনো ব্যাঘাত ঘটুক।

সবকিছু ঠিক করে আবার এসে ধীরে ধীরে আহি’র পাশে শুয়ে পড়ল অয়ন। আগের মতোই তার কোমর জড়িয়ে ধরল। বুকের কাছে টেনে নিয়ে আবারও পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার ঘুমন্ত মুখের দিকে।

সময় যেন থমকে আছে। ঘড়ির কাঁটা তখন এগারোটা ছুঁইছুঁই করছে, কিন্তু তাদের কারওই সেই দিকে খেয়াল নেই।

কিছুক্ষণ এভাবেই কেটে যায়। হঠাৎই নীরব রুমের মধ্যে ফোনের তীক্ষ্ণ রিংটোন বেজে ওঠে। শব্দটা অয়নে’র ভাবনার জগৎটা এক নিমিষেই ভেঙে দিল। অয়ন বিরক্ত হয়ে পাশ থেকে ফোনটা তুলে নিল। স্ক্রিনে চোখ পড়তেই ভ্রু কুঁচকে গেল তার। কাঙ্ক্ষিত নাম্বারই বটে, তবে এই মুহূর্তে সে কারও সাথেই কথা বলতে চায় না। প্রথমবার রিংটা সে কেটে দিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার ফোন বেজে উঠল। দ্বিতীয়বারও উপেক্ষা করল। তৃতীয়বার যখন আবার একই নাম্বার থেকে কল এলো, তখন বিরক্তি চরমে পৌঁছে গেল।

অবশেষে সে ফোনটা রিসিভ করল। ওপাশ থেকে কী বলা হচ্ছে সেটা শুনতেই তার মুখের অভিব্যক্তি বদলে গেল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তার মেজাজ সম্পূর্ণ বিগড়ে গেল। আজ তার অফ-ডে ছিল। বহুদিন পর একটা দিন পেয়েছিল যেখানে সে একটু শান্তিতে সময় কাটাবে—বিশেষ করে আহি’র সাথে। অথচ এখন তাকে আবার হসপিটালে যেতে হবে। ইমারজেন্সি অপারেশন আছে। অয়ন বিরক্ত কণ্ঠে বলল যে সে আজ যেতে পারবে না। কিন্তু ওপাশ থেকে বারবার অনুরোধ করা হতে লাগল। পরিস্থিতি নাকি খুব সিরিয়াস।

শেষ পর্যন্ত বিরক্ত হয়ে সে রাগান্বিত কণ্ঠে বলে উঠল,

“সব স্যা*টা ভাঙা, বা*ল ছাল আমার কপালেই জুটেছে। এত্তো এত্তো বা*ল পাকনা ডক্টর থাকতে সবার আমার কথায় মনে পড়বে। একটু বউ’কে নয়ন ভরে দেখবো তার যো নেই হু!

রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ফোনটা কেটে দিল অয়ন। কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইল সে। তারপর অনিচ্ছা সত্ত্বেও বুঝতে পারল, তাকে যেতেই হবে। ডক্টর পেশা এমনই, চাই বা না চাই দায়িত্ব এড়ানো যায় না। হঠাৎ তার চোখ গিয়ে পড়ল দেয়ালে ঝোলানো ক্যালেন্ডারের দিকে। কাল আদিলে’র অপারেশন। এই কথা মনে পড়তেই সে একটু থেমে গেল। এমনিতেই আজ হসপিটালে যাওয়া দরকার ছিল কিছু প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য।

দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস ফেলে অয়ন উঠে দাঁড়াল। তারপর দ্রুত ওয়াশরুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে নিল এবং তাড়াহুড়ো করে রেডি হতে শুরু করল। এদিকে আহি তখনও গভীর ঘুমে ডুবে আছে। সে কিছুই জানে না, এই মুহূর্তে তার অয়ন ভাই ঠিক কতটা অনিচ্ছা নিয়েই তাকে ছেড়ে হসপিটালে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অন্যদিকে মাহি ধীরে ধীরে আদিলে’র রুমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সে এখনো কিছু খায়নি। যেহেতু সে শারীরিকভাবে অসুস্থ, ওষুধ খেতে হবে আর আগামীকাল তার অপারেশনও। তাই তাকে রোজা থাকতে দেওয়া হয়নি। হাতে খাবারের প্লেট নিয়ে মাহি গুটিশুটি হয়ে রুমে ঢুকল। পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে দেখল, কিন্তু কোথাও আদিল’কে দেখা যাচ্ছে না। হয়তো শাওয়ার নিচ্ছে,মনে মনে ভাবল সে।

মাহি টেবিলের উপর খাবারের প্লেটটা রেখে রুম থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য এগিয়ে গেল। ঠিক তখনই হঠাৎ বিদ্যুৎগতিতে কেউ এসে তাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরল। আচমকা এমন ঘটনায় মাহি ভয় পেয়ে গুটিয়ে গেল। সে চোখ পিটপিট করে তাকাল। সামনে আদিল’কে দেখে একটু স্বস্তির শ্বাস ফেলল। কিন্তু আদিল কোনো কথা বলল না। সে একের পর এক টুপটুপ করে মাহি’র গালে কয়েকটা চুমু খেল। তারপর তার কোমর জড়িয়ে নিজের সাথে শক্ত করে মিশিয়ে নিল।

মাহি সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে ছাড়ানোর জন্য ছটফট করতে লাগল।

- আদিল ভাইয়া, ছাড়ুন প্লিজ, কেউ দেখে ফেলবে।

আদিল নির্লিপ্ত স্বরে বলল,

"দেখুক। আই ডোন্ট কেয়ার, বউ তুই আমার, তাই বউয়ের সাথে আমি যা ইচ্ছে করব তাতে অন্যদের কী?

মাহি কিছু বলার আগেই আদিল ধীরে ধীরে তার মুখটা আরও কাছে নিয়ে এল। তার ঠোঁট দুটো এগিয়ে যাচ্ছে মাহি’র ঠোঁটের দিকে। মাহি পরপর কয়েকটা শুকনো ঢোক গিলল। আদিল তার চিবুকে আলতো করে চুমু দিতেই মাহি আবার ছটফট করে উঠল।

- আদিল ভাইয়া, ছাড়ুন প্লিজ! আমি রোজা আছি কিন্তু।

আদিল হালকা হাসল।

"সো হোয়াট? তুই রোজা, আমি তো না। তাহলে আমি থেমে যাব কেন? তুই কিছু করবি না, তাহলেই তো হলো। গতকাল বিয়ে করেছি। এখন যদি বউয়ের কাছাকাছি না থাকি, তাহলে কি লাঠি নিয়ে হাঁটার বয়সে থাকব? তখন তো আমার মধ্যে কোনো এনার্জিই থাকবে না। তাহলে কাছাকাছি থেকে কি করবো।

মাহি কটমট করে তাকাল তার দিকে। কিন্তু সেসব যেন আদিলে’র চোখেই পড়ল না। সে আরও একটু ঝুঁকে এল। হঠাৎই মাহি ব্যথায় কুঁকড়ে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে আদিল থেমে গেল।

উদ্বিগ্ন কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,

"কুইন, কী হয়েছে?

মাহি কষ্টভরা গলায় বলল,

- শরীর ব্যথা করছে।

"এখনো? মেডিসিনে কোনো কাজ হয়নি? শালা কি আমাকে ডেড ওভার হওয়া মেডিসিন দিল নাকি! আচ্ছা ওয়েট কর, আমার কাছে অন্য মেডিসিন আছে,ওটা খেয়ে নে।

মাহি বিরক্ত চোখ মুখ কুঁচকে বলল,

- হ্যাঁ, আমি তো বসে আছি শুধু মেডিসিন খাওয়ার জন্য। টর্চার করার সময় মনে ছিল না? এখন এই ব্যথার জন্য নাকি রোজা ভাঙব? সরুন আপনি।

আদিল একটু হেসে বলল,

"এটা টর্চার নয় ভালোবাসা ছিল ভালোবাসা। বাই দ্য ওয়ে, অনেক ব্যথা করছে কুইন?

মাহি মাথা নেড়ে সম্মতি দিল। আদিল একটু নরম হয়ে বলল,

"একটু সহ্য করে নে কুইন। দেখবি ধীরে ধীরে সেরে যাবে। মনে হয় অনেকটা ব্যথা দিয়ে ফেলেছি তাই না?

মাহি রুম থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে আদিল তার হাত আঁকড়ে ধরল।

"সরি কুইন, আই’ম রিয়েলি রিয়েলি সরি।

মাহি কটু স্বরে জিজ্ঞেস করল—ল,

- সরি বললেই কি ব্যথা কমে যায়?

আদিল ঠোঁটের কোণে হালকা বাঁকা হেসে ধীরে ধীরে আওরাল,

"ওকে, ফাইন। গতকাল রাতে তোকে কষ্ট দিয়েছি, আজ রাতে না হয় আমাকে কষ্ট দিস। তাহলেই তো সেম সেম হয়ে যাবে, তাই না?

মাহি রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। হঠাৎ আদিল পেছন থেকে ধীরে ধীরে তাকে জড়িয়ে ধরল। ফিসফিস করে আওরাল,

"কুইন, একটা কথা বলি?

মাহি’র মন মুহূর্তেই গলে গেল। প্রিয় মানুষটার ছোট্ট একটি বাক্যেই সব অভিমান উধাও হয়ে গেল। সে ধীরে ধীরে মাথা নত করে বলল,

- বলেন।

"কালকে যদি আমি আর ফিরে না আসি, নিজেকে কষ্ট দিস না প্লিজ। জানিস তো, নিয়তি বলে কিছু একটা আছে। ভাগ্যে না থাকলে আমরা কখনো একসাথে থাকতে পারব না।

মাহি’র চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। এই কথাটা ভাবতেই তার বুক কেঁপে উঠে। আর আদিল কত সহজভাবে এই কথা বলল, সেটাও তার হৃদয়কে আরও ভেঙে দিল। মাহি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। নিজেকে ধীরে ধীরে আদিলে’র কাছ থেকে ছড়িয়ে দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। তার যাওয়ার দিকে অপলকভাবে আদিলে’র তাকিয়ে রইল। মেয়েটাকে কষ্ট দিতে চাইছে না, কিন্তু ভাগ্যের বাহিরে সে কিভাবে যেতে পারে? জানা নেই কাল কি হবে তার সাথে। তবে সে বাঁচতে চাই, নিজের জন্য ন হলেও মেয়েটার জন্য সে বেঁচে ফিরতে চায়।

বিজ্ঞাপন
নেশাময় আসক্তি গল্পটি বন্যা সিকদার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় স্পেশাল রোমান্টিক গল্প