অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আদিল’কে। স্ট্রেচারের উপর শুয়ে আছে সে। মুখটা অস্বাভাবিক রকম শুকনো, চোখে এক ধরনের শূন্যতা। আজ সে যেন মৃত্যুর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। হয়তো কিছুক্ষণ পর সে আবার নিজের আপন মানুষদের কাছে ফিরে আসবে নয়তো চিরদিনের জন্য তাদের ছেড়ে চলে যাবে এমন এক জগতে, যেখান থেকে আর কেউ ফিরে আসে না।
ভেতরে ভেতরে ভয় তাকে গ্রাস করছে। বুকের ভেতরটা যেন তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে। তবুও উপরে উপরে সে শান্ত থাকার চেষ্টা করছে। কাউকে বুঝতে দিতে চায় না—এই মুহূর্তে তার হৃদয় কতটা আতঙ্কে কাঁপছে। হসপিটালের করিডোরে এক অদ্ভুত ভারী পরিবেশ। আদিলে’র মা, বাবা কিংবা চাচিরা কেউই আজ হসপিটালে আসেনি। কারণ আদিলে’র মা আজ সকালে সবকিছু জানতে পেরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
ছেলেটার শরীরের ভেতরে এত বড় অসুখ বাসা বেঁধেছে,এই খবরটা তিনি সহ্য করতে পারেননি। এখন তিনি বিছানায় শুয়ে আছেন, বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। কিছুটা দূরে গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে আছেন জাহিদ শেখ। তার চোখে কোনো অশ্রু নেই, কিন্তু সেই স্থির মুখের ভেতরেই লুকিয়ে আছে অসহ্য কষ্ট। তিনি যেন নিজের ভেতরের ঝড়টাকে কঠিনভাবে আটকে রেখেছেন।
আর একটু দূরে আহি, মাহি আর মুন ডুকরে ডুকরে কাঁদছে। তাদের কান্না যেন পুরো করিডোর জুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
সাজ্জাদ আর রাকিব চেষ্টা করছে তাদের সামলাতে। কিন্তু পারছে না। প্রিয় ভাইয়ের এমন অবস্থা কেউই মেনে নিতে পারছে না। অবশেষে স্ট্রেচারটা অপারেশন থিয়েটারের দরজার সামনে এসে থামল। দরজার ওপরে বড় অক্ষরে লেখা— “Operation Theatre”
এই দরজার ভেতরেই নির্ধারণ হবে আদিলে’র ভাগ্য। স্ট্রেচার থামতেই আহি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। দৌড়ে গিয়ে আদিলে’র কাছে পৌঁছাল। পরের মুহূর্তেই সে ঝাপিয়ে পড়ল আদিলে’র বুকে। আদিল হাত তুলে এক হাতে বোনকে জড়িয়ে ধরল। আহি কাঁদতে কাঁদতে বলল,
"ভাইয়া, প্লিজ তুমি চলে যেও না। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। জানো, আম্মু বারবার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে। তুমি যদি চলে যাও, আমরা কেউ বাঁচতে পারব না। প্লিজ ভাইয়া, তুমি ফিরে এসো।
আদিল ছোট বোনের কপালে আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল। তার কণ্ঠ নরম,
“বোন, কাঁদিস না প্লিজ। তোদের চোখের অশ্রু আমি সহ্য করতে পারি না। আল্লাহ চাইলে সব ঠিক হয়ে যাবে।
কিন্তু আহি’র কান্না থামল না। তার চোখ থেকে অঝোরে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। গাল বেয়ে সেই অশ্রু থামার কোনো নামই নেই। সে শক্ত করে ভাইয়ের হাত ধরে রেখেছে—যেন এভাবেই ধরে রাখলে ভাইটা কোথাও যেতে পারবে না।
হঠাৎ করেই অয়ন দ্রুত পায়ে সেখানে এসে দাঁড়াল। তার মুখটা গম্ভীর, চোখে কঠিন দায়িত্বের ছাপ। সে দৃঢ় কণ্ঠে বলে উঠল,
“নার্স, পেশেন্ট এখানে কেন? ফাস্ট থিয়েটারে নিয়ে চলুন।
আহি ছলছল চোখে অয়নে’র দিকে তাকিয়ে রইল। তার বুকটা কেমন যেন হাহাকার করে উঠছে। আদিল নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে। আর অন্য দিকে মাহি তার থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়িয়ে আছে। সে এখনো আদিলে'র সাথে একটাও কথা বলেনি। আদিল ধীরে ধীরে তার দিকে তাকিয়ে নরম স্বরে জিজ্ঞেস করল,
“কুইন, কথা বলবি না আমার সাথে?
মাহি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তার চোখ ভরে উঠেছে অশ্রুতে। অবশেষে খুব ধীর কণ্ঠে শুধু একটা বাক্য বলল,
"আপনার অপেক্ষায় থাকবো!
এই কথাটার ভেতরেই লুকিয়ে ছিল হাজারটা ভয়, হাজারটা প্রার্থনা। নার্স আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করল না। স্ট্রেচারটা দ্রুত ঠেলে নিয়ে গেল অপারেশন থিয়েটারের দরজার ভেতরে। দরজাটা বন্ধ হয়ে গেল। আর সেই দরজার ওপাশে অদৃশ্য হয়ে গেল আদিল। মাহি আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে দেয়াল ঘেঁষে ধীরে ধীরে বসে পড়ল মেঝেতে। চোখ থেকে অঝোরে অশ্রু ঝরছে। মনে হচ্ছে বুকের ভেতরটা ফেটে যাচ্ছে।
আহি অয়নে’র দিকে এগিয়ে আসছিল।
কিন্তু মাঝপথেই অয়ন হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিল। এবল গম্ভীর স্বরে বলল,
“স্টপ দিস। এটা হসপিটাল, যা কথা হবে বাসায় গিয়ে হবে।
এই কথা বলেই সে আর দাঁড়িয়ে রইল না। ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্রুত অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে ঢুকে গেল। আজকের দিনটা অন্য সব দিনের মতো নয়। আজ সে শুধু একজন ডক্টর নয়। আজ তাকে নিজের ভাইয়ের জীবন বাঁচানোর জন্য লড়তে হবে। আজকের অপারেশনটা তার জন্য শুধু দায়িত্ব নয়—একটা যুদ্ধ। নিজের ভাইকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনার যুদ্ধ। তাই তাকে শক্ত থাকতে হবে। যাই হয়ে যাক, আদিল’কে ফিরিয়ে আনতেই হবে।
অয়নে’র এই আচরণটা আহি’র খুব খারাপ লাগল। কথাটা অন্যভাবেও বলা যেত।
তার বুকের ভেতর অভিমান জমে উঠল।
সে কিছু না বলে ধীরে ধীরে মাহি’র পাশে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। দুজনেই চুপচাপ কাঁদছে। সময়ের যেন শেষই হচ্ছে না। প্রায় দুই ঘণ্টা পর অপারেশন থিয়েটারের লাল আলোটা হঠাৎ নিভে গেল। সাজ্জাদ আর আহি প্রায় দৌড়ে গিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াল। মাহি এখনো আগের মতোই নিস্তেজ হয়ে বসে আছে। মনে হচ্ছে তার শরীর থেকে সব শক্তি হারিয়ে গেছে।
কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে অয়ন বাইরে বেরিয়ে এল। তার মুখটা গম্ভীর, মাথা নিচু। জাহিদ শেখ এগিয়ে এসে ছেলের দিকে তাকিয়ে কাঁপা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,
- বাবা, আদিল ঠিক আছে তো?
একই সাথে সাজ্জাদও উৎকণ্ঠিত কণ্ঠে বলল,
"ভাই, সব ঠিকঠাক হয়েছে তো?
কিন্তু অয়ন কোনো উত্তর দিল না। সে শুধু মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। তার এই নীরবতা দেখে আহি’র বুক কেঁপে উঠল। পরের মুহূর্তেই সে ডুকরে কেঁদে উঠল। কারণ এই চুপ থাকার মানেটা সে ভয় পাচ্ছে, ঠিক তখনই হঠাৎ অয়ন এগিয়ে এসে আহি’কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। তারপর তাকে নিয়ে চারদিকে ঘুরতে লাগল। তার কণ্ঠে আনন্দ আর স্বস্তির কম্পন,
“দোয়েল পাখি, আমি পেরেছি! আমি সত্যি সত্যি পেরেছি। অপারেশন সাকসেসফুলি হয়েছে। আদিল এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। ওর জীবনে আর কোনো ভয় নেই।
কথাটা শোনার পর যেন সবার বুক থেকে একসাথে একটা ভার নেমে গেল। আহি হাউমাউ করে কেঁদে ফেলল। সাজ্জাদও চোখ মুছে ফেলল অজান্তেই। মাহি দূরে বসে আছে কিন্তু তার চোখ দিয়ে নীরবে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু। এবার সেই অশ্রু কষ্টের নয়, স্বস্তির। দূরে কয়েকজন ডক্টর আর নার্স দাঁড়িয়ে অয়নে’র দিকে তাকিয়ে আছে।
আজকের দিনটা তার জন্য সত্যিই এক যোদ্ধার দিন ছিল। নিজের ভাইকে বাঁচানোর যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধে, অবশেষে সে জয়ী হয়েছে।
চারপাশে সবার দৃষ্টি নিজের দিকে পড়ে থাকতে দেখে অয়ন দ্রুত আহি’কে ছেড়ে দিল। আহি হঠাৎ করেই লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল। তার গাল দুটো হালকা লাল হয়ে উঠেছে। এদিকে মাহি আর অপেক্ষা করতে পারছিল না। সে হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে প্রায় দৌড়ে অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে ঢুকতে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই অয়ন তার হাত টেনে ধরে থামিয়ে দিল। নরম কণ্ঠে বলল,
“বোন, একটু পর দেখা কর। আগে আদিল’কে কেবিনে শিফট করা হোক। তুই তো বুঝতেই পারছিস, আমি শুধু তোর ভাই নয়, একজন ডক্টরও। নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারবো না।
মাহি কিছুক্ষণ চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। কিছুক্ষণের মধ্যেই নার্সরা সাবধানে আদিল’কে স্ট্রেচারে করে নিয়ে গেল। ধীরে ধীরে তাকে তার নির্দিষ্ট কেবিনে শিফট করা হলো। অপারেশনের কারণে সে তখনো অচেতন। তাই কেউই তার সাথে কথা বলতে পারল না। কেবিনের ভেতর একটা অদ্ভুত নীরবতা নেমে এলো। সবাই অপেক্ষা করছে,
কখন আদিল চোখ খুলবে।
প্রায় আধ ঘণ্টা পর আদিল ধীরে ধীরে চোখ নড়াল। তারপর আস্তে করে চোখ খুলল। চোখ পিটপিট করে চারপাশে তাকাতেই দেখতে পেল, তার পরিবারের সবাই তার জ্ঞান ফেরার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। তার মা, চাচিরাও কিছুক্ষণ আগে হসপিটালে এসে পৌঁছেছেন। মায়ের চোখ দুটো কান্নায় লাল হয়ে আছে। ছেলেকে চোখ খুলতে দেখে তিনি আল্লাহর নাম নিতে নিতে চোখ মুছলেন। এক এক করে সবাই আদিলে’র কাছে গিয়ে খোঁজখবর নিল। কেউ মাথায় হাত বুলিয়ে দিল, কেউ কপালে চুমু খেল। তারপর ধীরে ধীরে সবাই কেবিন থেকে বের হয়ে গেল। শেষে কেবিনে রয়ে গেল শুধু মাহি।
সে একটু দূরে গুটিশুটি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার ফর্সা মুখটা এখনো ফ্যাকাশে হয়ে আছে। চোখ দুটো কান্নায় ফুলে গেছে। মনে হচ্ছে এতক্ষণে তার ভেতরের সব শক্তি শেষ হয়ে গেছে। আদিল ধীরে ধীরে চোখ তুলে তার দিকে তাকাল। তারপর চোখের ইশারায় তাকে কাছে ডাকল। মাহি একটু ইতস্তত করল। তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন কাঁপছে। তবুও ধীরে ধীরে পা বাড়িয়ে আদিলে’র সামনে এসে দাঁড়াল। আদিল উঠতে চেষ্টা করল। কিন্তু শরীর এখনো দুর্বল। নিজে নিজে ঠিকমতো বসতেও পারছে না। মাহি তাড়াতাড়ি এগিয়ে এসে তাকে ধরে আধশোয়া করে বালিশে ঠেস দিয়ে বসিয়ে দিল। তারপর সরে যেতে চাইছিল।
কিন্তু আদিল হঠাৎ তার হাত ধরে ফেলল। মৃদু টান দিয়ে তাকে নিজের পাশে বসিয়ে নিল। তার চোখে তখন দুষ্টু ঝিলিক।
ভ্রু নাচিয়ে নরম কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল
"কুইন ভয় পাচ্ছিস কেন?
মাহি নিশ্চুপ হয়ে বসে রইল। তার চোখ দুটো নিচের দিকে নামানো, ঠোঁট শক্ত করে চেপে রেখেছে। আদিল কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর আবারও নরম স্বরে ডাক দিল,
"কি হলো? কথা বলছিস না কেন?
হঠাৎ করেই মাহি ঝুঁকে এসে আদিল’কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। এতটা আকস্মিকতায় আদিল ব্যথায় হালকা কুঁকড়ে উঠল। পরের মুহূর্তেই মাহি বিষয়টা বুঝতে পেরে দ্রুত সরে গেল। উদ্বিগ্ন হয়ে বলল,
- সরি, সরি! আমি ভুলেই গিয়েছিলাম আপনি অসুস্থ। অনেক ব্যথা পেয়েছেন?
আদিল হালকা হাসল। মাথা নেড়ে বলল,
"ওহু! আগে বল তো, মন খারাপ করে আছিস কেন? আমি তো সুস্থ হয়ে গেছি, তবুও আমার কিউট বউ’টা মুখ ভার করে বসে আছে। এটা কিন্তু আমার একটুও ভালো লাগছে না। অভিমান করেছিস?
মাহি এবারও কিছু বলল না। আগের মতো চুপচাপ বসে রইল। আদিল ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে তার থুতনিটা আলতো করে তুলে ধরল। তার চোখের দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলল,
"এখনো বলবি না?
এইবার আর নিজেকে সামলাতে পারল না মাহি। হুট করে কেঁদে ফেলল।
কাঁপা কণ্ঠে বলল,
- আপনি ভালো না, আপনি অনেক পঁচা। আপনি অপারেশন থিয়েটারে চলে গেলেন, অথচ আমাকে একবারও বুকে জড়িয়ে ধরলেন না। এমনকি একটা পাপ্পিও দিলেন না। ভাইয়া তো সবার সামনেই নিজের বউকে ভালোবাসে, আর আপনি একটু জড়িয়ে ধরতেও সাহস পেলেন না! জানেন তখন আমার কত কষ্ট হয়েছে।
মাহি’র কথাগুলো শুনে আদিলে’র ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটে উঠল। সে বুঝতে পারল, তার কুইনটা একটু অভিমান করে আছে। ধীরে ধীরে সে মাহি’র মুখের দিকে ঝুঁকে এল। তার ওষ্ঠের উপর পরপর কয়েকটা নরম চুমু রেখে ফিসফিস করে বলল,
"তার মানে তুই চাস৷ সবার সামনে তোকে ভালোবাসি? ওকে, ফাইন। আগে একটু সুস্থ হয়ে নেই, তারপর কিন্তু আবার এই ভালোবাসার জন্যই তুই নিজেই অসহ্য হয়ে যাবি।
মাহি তখনও চোখ ভেজা অবস্থায় বসে আছে কিন্তু আদিলে’র কথা শুনে তার ঠোঁটের কোণে অজান্তেই একটা ছোট্ট হাসি ফুটে উঠেছে।
আদিল ধীরে ধীরে চোখ ঘুরিয়ে পুরো কেবিনটা একবার দেখে নিল। কিন্তু কোথাও অয়ন বা আহি’কে দেখতে পেল না। তার ভ্রু দুটো কুঁচকে গেল। সে মাহি’র দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
"কুইন, অয়ন আর বনু কোথায়?
মাহি ঠোঁট চেপে হাসি আটকানোর চেষ্টা করল। কিন্তু পারল না। হালকা হেসে ফেললো,
- ভাইয়া তার বউকে নিয়ে কেবিনে গেছে,এক্সট্রা ক্লাস করতে।
এই কথাটা বলেই মাহি আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে খিলখিল করে হেসে উঠল। তার সেই হাসি দিকে আদিল কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে রইল তার দিকে। আনমনে সে ধীরে ধীরে বলে উঠল,
"কুইন, তোর হাসিটা এত সুন্দর কেন? তোরা তিন ভাইবোনই একদম সেম। হাসলেই মনে হয় পুরো পৃথিবীটা আলো হয়ে গেল।
তারপর দুষ্টু চোখে তাকিয়ে আবার বলল,
"আচ্ছা বল তো, বড় আম্মার পেটে যখন তোরা ছিলি তখন উনি কী খেতেন?
মাহি ভ্রু কুঁচকে তাকাল। আদিল আবারও মুচকি হেসে বলল,
"কারণ তুই যখন প্রেগন্যান্ট হবি তখন আমিও তোকে সেই একই জিনিস খাওয়াবো। তারপর দেখবি আমাদেরও একটা কিউটের ডিব্বা হবে।
কথাটা শুনে মাহি একদম লজ্জায় লাল হয়ে গেল। সে আর আদিলে'র দিকে তাকানোর সাহস পেল না, তাই মাথা নিচু করে রাখে।