নেশাময় আসক্তি

পর্ব - ৩৬

🟢

আদিলে’র চোখে হঠাৎ এক অদ্ভুত ছায়া নেমে এল। সে আস্তে করে বলল,

“যদি বিয়ে হওয়ার আগেই আমি হারিয়ে যায় তখন?

মাহি’র বুকটা কেঁপে উঠল। সে কাঁতর দৃষ্টিতে আদিলে’র দিকে তাকিয়ে রইলো। সঙ্গে সঙ্গে আদিল’কে মাহি শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠল

"এমন করে বলবেন না, প্লিজ। আপনি যা চাইবেন তাই হবে, কিন্তু আমি আপনাকে হারাতে চাই না। অনেক চাওয়ার পর আপনাকে আমি পেয়েছি।

আদিল মৃদু হেসে মাহি’কে নিজের বুকের ভেতর আরও শক্ত করে টেনে নিল। তার বুকের গভীরে হঠাৎ এক অদ্ভুত শীতল অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল। মেয়েটার মধ্যে এমন কী এক নেশা আছে, যার টানে আদিল বারবার পরাজিত হয়ে যায়, নিজের সব শক্তি যেন হারিয়ে ফেলে।নিজের বাহুতে মাহি’কে আবদ্ধ করে সে ধীরে ধীরে মাথা ঝুঁকিয়ে তার কানের কাছে ঠোঁট ছুঁইয়ে ফিসফিস করে বলল—

“কুইন..!

মাহি হালকা কেঁপে উঠল।

"হুম,

“আমি যদি তোর জীবন থেকে হারিয়ে যাই, তখন কি তুই আমার জায়গাটা অন্য কাউকে দিবি? তখন কি আমার কুইন অন্য কারো হাসির কারণ হবে? তারপর কি আমাকে সারাজীবনের জন্য ভুলে যাবি?

মুহূর্তেই মাহি’র বুকটা ধক করে উঠল। যেন কেউ হঠাৎ করে তার বুকের ভেতরটা শক্ত করে চেপে ধরেছে। চোখ দুটো ছলছল করে উঠল। সে ধীরে ধীরে মুখ তুলে আদিলে’র দিকে তাকাল। তারপর কাঁপা কাঁপা স্বরে বলল,

"আমাকে কষ্ট দিতে আপনার খুব ভালো লাগে, তাই না শিশির ভাইয়া? আপনি এমন কেন? আপনি কি বুঝতে পারেন না, আপনার এই কথাগুলো আমার বুকটা ছিঁড়ে দেয়? আপনি তো জানেন, আপনাকে পাবো না বলে সুইসাইড করতে গিয়েছিলাম। আর আপনি বলছেন আমি নাকি অন্য কারো হাসির কারণ হবো? এটা কিভাবে বলতে পারেন আপনি?

কথা শেষ করতে না করতেই মাহি আবারও আদিলে’র বুকে মুখ গুঁজে কান্নায় ভেঙে পড়ল। আর আদিল নিঃশব্দে তাকিয়ে রইল। বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে মোচড় দিয়ে উঠছে। মেয়েটার কান্না তার নিজের হৃদয়কেই ধীরে ধীরে ভেঙে দিচ্ছে। সে মৃদু স্বরে আওরায়,

“আই’ম সরি, কুইন! তোকে নিয়ে বড্ড ভয় হয় আমার। মাঝে মাঝেই অদ্ভুত একটা চিন্তা মাথায় আসে। মনে হয়, আমি যদি হঠাৎ করে হারিয়ে যাই তুইও হয়তো অন্য কারো হয়ে যাবি।

আদিলে’র কণ্ঠে লুকানো ভয়টা স্পষ্ট। কথাগুলো বলার সময় তার বুকের ভেতরটা যেন হালকা কেঁপে ওঠে। মাহি আদিলে’র বুকে ছোট্ট পাখির ছানার মতো লেপ্টে থাকে। তার মাথাটা আদিলে’র বুকের ওপর রাখা। আদিলে’র বুকের ধুকপুক শব্দ যেন সে স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে। আদিল’কে হারানোর কথা কল্পনা করতেই মাহি’র বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। শরীরটা হালকা কেঁপে ওঠে। এই মানুষটাকে সে কোনোভাবেই হারাতে চায় না। তার পৃথিবীটা যেন এই একজন মানুষকে ঘিরেই। দুজনেই কিছু সময় নীরব হয়ে থাকে।

কিছুক্ষণ পর আদিল নিজেই নীরবতা ভাঙল। খুব ধীরে ধীরে বলল,

“কুইন, একটা কথা বলব তোকে?

মাহি মুখ তুলে তাকাল না। আগের মতোই তার বুকে মাথা রেখেই মৃদু স্বরে বলল,

"একটা নয়, হাজারটা বলুন। আপনাকে কথা বলতে বারণ করেছি কি আমি?

মাহি’র উত্তর শুনে আদিলের ঠোঁটে মৃদু হাসি ফুটে ওঠে। কিছুক্ষণ চুপ থেকে হঠাৎ বলল,

“বিয়ে করবি আমায়?

মাহি এবার ধীরে ধীরে মাথা তুলে তাকাল। তার চোখে বিস্ময়ের ছাপ হলেও সে দ্বিধা দন্দ ছাড়া উওর দিল,

"একশোবার করবো।

আদিল হালকা হেসে আবার বলল,

“তাহলে চল, আজকেই বিয়ে করে ফেলি?

কথাটা শুনে মাহি যেন মুহূর্তেই থমকে গেল। সে দ্রুত মাথা তুলে আদিলে’র দিকে তাকাল। ছোট ছোট চোখ করে তাকিয়ে আছে সে। তার চোখে স্পষ্ট দ্বিধা, আদিল তার সেই চোখের দৃষ্টি দেখেও থামল না। বরং আরও একটু কাছে ঝুঁকে এল। তার কণ্ঠটা এবার কাঁপছিল।

“তোকে কাছে পেতে খুব ইচ্ছে করে, কুইন! মাঝে মাঝে নিজেকে পাগল পাগল লাগে। মনে হয়, তোকে নিজের করে না পাওয়া পর্যন্ত শান্তি নেই। বিয়ে করে তোকে একদম নিজের করে পেতে চাই, যেখানে আমাদের ভালোবাসার ওপর কোনো অপবিত্র ছাপ থাকবে না।

মাহি কিছু বলল না। শুধু ছলছল চোখে তাকিয়ে রইল আদিলে’র দিকে। তার চোখে জমে ওঠা অশ্রু যেন হাজারটা না বলা কথা বলছে। আদিল আরেকটু ঝুঁকে এল এবং ফিসফিসিয়ে বলল,

“প্লিজ কুইন, কয়েকদিন পর তো এমনিতেই বিয়ে হবে। কিন্তু এতদিন অপেক্ষা করার ধৈর্য আমার নেই। তোকে খুব কাছে চাই আমার। এই অশান্ত মনটা একটু শান্ত করতে পারবি না?

মাহি এখনও নিশ্চুপ। তার ভেতরে যেন হাজারটা ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে। এই মুহূর্তে কী বলবে, কীভাবে বলবে, কিছুই যেন বুঝে উঠতে পারছে না সে। অবশেষে ঠোঁট নড়ল তার।

"কিন্তু…

মাহি’কে বাকিটা বলতে না দিয়েই আদিল দ্রুত বলে উঠল,

“অয়ন’কে আমি বলেছি। ও বলেছে তুই চাইলে কোনো প্রব্লেম নেই। এরপর যদি ফ্যামিলি থেকে কোনো প্রব্লেম হয় তাহলে ও সামলে নেবে।

মাহি কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল। তারপর ধীরে ধীরে বলল

"আমি বাসার সবাইকে নিয়ে ভাবছি না। আমি জানি, আপনি থাকলে কিছুই হবে না। কিন্তু একটু পর তো আজান দেবে, এই অল্প সময়ের মধ্যে কি আমরা ফিরে আসতে পারব?

মাহি’র কথা শুনে আদিল হুট করে হেসে ফেলল। তারপর সে মৃদু গলায় বলল,

“ফিরে আসতে না পারি, তাহলে বাহিরেই বা’স’র সেরে নেব। তবুও আজকেই তোকে বিয়ে করব আমি।

আদিলে’র কথা শুনে মাহি’র গাল মুহূর্তেই লাল হয়ে ওঠে। লজ্জায় সে আর আদিলে’র চোখের দিকে তাকাতে পারে না। দ্রুত মুখ লুকিয়ে নেয় আদিলে’র বুকের ভেতর। আদিল মুচকি হেসে মাহি’কে আরও কাছে টেনে নেয়। তার বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে রাখে। যেন এই ছোট্ট মুহূর্তটাকেও সে নিজের করে রাখতে চায়। মাহি চুপচাপ তার বুকের ভেতর মুখ লুকিয়ে থাকে। আর আদিলে’র বুকের ধুকপুক শব্দ যেন তার কানে স্পষ্ট বাজতে থাকে। মানুষটা তাকে এতো ভালোবাসে অথচ সে কিছু বুঝতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন

অয়ন আহি’র হাত ধীরে ধরে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। পশ্চিম আকাশে সূর্য ধীরে ধীরে অস্তাচল স্পর্শ করছে। সেই লাল সোনালি আলো শহরের রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ছে, আর সেই আলোর খেলা দেখে আহি’র চোখে আনন্দের ঝলক। ছোট্ট ইচ্ছে পূরণের জন্য অয়ন নিজেই তাকে বাইরে এনেছে, আর আ’হির মনটা এই মুহূর্তে পূর্ণ সুখে ভরে উঠেছে। কিন্তু আহি এতেই থেমে নেই। রাস্তাঘাটের পাশের দোকানগুলোয় থামে সে। মিষ্টি, টক জাতীয় ছোট ছোট সব খাবার কিনে নিল। প্রতিটা খাবারের প্যাকেটই সে অয়নে’র হাতে গুঁজে দিচ্ছে। অয়ন একদমই বিরক্ত হয়নি। বরং, আহি’র এই ছোট ছোট আনন্দের মুহূর্তগুলোই তার হৃদয় খুশিতে ভরে দিচ্ছে।

হঠাৎ আহি রাস্তার পাশে থাকা এক মেয়ের দিকে তাকিয়ে উচ্ছ্বাসে বলল,

"দেখেন অয়ন ভাই, মেয়েরা কতো সুইট! একদম রসগোল্লার মতো।

কিন্তু অয়ন কোনোভাবেই মেয়েটার দিকে তাকাল না। সে অপলক দৃষ্টিতে শুধু আহি’র দিকে তাকিয়ে আছে। আহি’র চোখের সেই উজ্জ্বল আনন্দ তার বুকের ভেতর অদ্ভুত শান্তি নিয়ে আসে। মেয়েটির হাসিটা যেন মুহূর্তেই অয়নে’র মনে তাপের মতো ছুঁয়ে গেল। আহি কুঁচকে ভ্রু নিয়ে বলল,

"এই অয়ন ভাই, আপনি ওই মেয়েটার দিকে না তাকিয়ে আমার দিকে তাকাচ্ছেন কেন? একটু দেখুন না, ওই মেয়েটা কত সুইট।

অয়ন হালকা হাসি দিয়ে বলল,

“আমার ব্যক্তিগত নারী আছে, তাই অন্য নারীর দিকে তাকানোর প্রয়োজন মনে করি না।

আহি মুখে চতুর দুষ্টুমি নিয়ে বলল,

"একটু তাকান না প্লিজ?

“পাখি, বিরক্ত করিস না। তুই ভালো করেই জানিস আমি তুই ব্যতিত অন্য মেয়েদের দিকে তাকাই না।

"আজকে একটু তাকাও না, প্লিজ।

অয়ন তখন দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

“ফাজলামো করছিস আমার সঙ্গে, মাইর কিন্তু দেবো।

সঙ্গে সঙ্গে আহি মুখ বাকিয়ে আওরায়,

"মাইর দিয়ে দেখেন? আমি তো রোজা আছি। এখন আমি আপনাকে অভিশাপ দিয়ে দেবো, আর তখন আমার অভিশাপে আপনি লেটকাইয়া পইড়া যাবেন হু।

“বাসায় চল, তোর আজাইরা কথা শুনতে শুনতে আমি বোর হয়ে যাচ্ছি।

তাদের হাঁটা চলছিল, রাস্তায় মানুষের ভিড় তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ হাঁটতে হাঁটতে আহি এক জায়গায় থেমে গেল। তার চোখ বড় হয়ে রোদেলা হয়ে উঠল। এবং চিৎকার দিয়ে বলল,

"ওয়াও ছেলেটা কি কিউট, তাই না অয়ন ভাই?

অয়ন অবিলম্বে সেই দিকে তাকাল। সেখানে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে এক সুদর্শন যুবক। শরীরে কোনো জামা নেই শুধু টাওজার পরিধান করা। আহি এখনও কৌতুহলভরে তাকিয়ে আছে, একটুও অন্য দিকে মনোযোগ দিচ্ছে না। অয়ন যেন অচেতন হয়ে গেল। তার মুখ রক্তচাপের মতো লাল হয়ে উঠল। রাগে দাঁতে দাঁত চেপে সে আওড়াল,

“ওই মাতারী ভা’তা’র দিকে তাকানোর টাইম পাস না অথচ আরেক জনকে না*ঙ্গকে বলিস ওয়াও ছেলেটা কি কিউট? দাঁড়া তোর ওই ওয়াও, কিউটের গুষ্টি মারি!

এই কথার সঙ্গে সঙ্গে আহি, অবাক হয়ে, হঠাৎ ছুটে সেখানে থেকে দৌড়ে চলে যায়। হঠাৎ দৌড়াতে গিয়ে আহি তাল সামলাতে পারল না। সে প্রায় সামনে থাকা সেই অচেনা ছেলেটার উপর পড়েই যাচ্ছিল। ঠিক তখনই অয়ন দ্রুত হাত বাড়িয়ে আহি’র কব্জি শক্ত করে ধরে টেনে নেয় নিজের বুকে। এক ঝটকায় আহি অয়নে’র বুকে এসে পড়ে। ভয়ে সে চোখ-মুখ শক্ত করে বন্ধ করে নেয়। মনে হচ্ছিল, আরেক সেকেন্ড দেরি হলেই হয়তো সে সত্যিই ছেলেটার উপর পড়ে যেত।

অয়ন এক হাতে আহি’কে আগলে রাখল। তার চোখ তখন রাগে লাল হয়ে আছে। সে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সেই ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বজ্রকণ্ঠে বলে উঠল

“ওই শাউ*য়্যার বডি আর কারো নেই? বা*ল ফালাইবার জন্য রোজার দিনে উলঙ্গ হয়ে রাস্তায় এসেছিস। পারলে নিচেরটাও খুলে চলে আসতি, ওইটা বা ঢেকে রেখেছিস কেন?

অয়নে’র এমন তীব্র কথা শুনে পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন লোক হেসে ফেলল। কেউ কেউ মুখ চেপে হাসি আটকানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু ছেলেটা সম্পূর্ণ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। যেন সে বুঝতেই পারছে না, হঠাৎ করে এমন তিরস্কার কেন শুনতে হচ্ছে। তার চোখ বড় বড় হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে, এই প্রথম কেউ তাকে এভাবে সবার সামনে অপমান করল। এদিকে আহি এখনও অয়নে’র বুকের মধ্যে লেপ্টে আছে। ভয়ে তার চোখ বন্ধই রয়েছে। কয়েক সেকেন্ড পর ধীরে ধীরে সে চোখ খুলে তাকাল।

অয়ন এখনও রাগে ফুঁসছে। তার চোখে যেন আগুন জ্বলছে। সে আবারও কর্কশ কণ্ঠে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বলে উঠল,

“কিরে, এখনো দাঁড়িয়ে আছিস কেন নির্লজ্জের মতো? তোর কি মনে হয় আমাদের এই স্যা*টার বডি নেই?

ছেলেটা অয়নে’র থেকে অনেকটা বয়সে ছোট। তার মুখে ভয় জমে গেছে। সে তেতলাতে তেতলাতে, কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলল,

"ভা ভা ভাইয়া, আমি ত

অয়ন সঙ্গে সঙ্গে তার কথা কেটে দিয়ে আরও রাগান্বিত স্বরে বলল,

“তোর বা*লের কথা কে শুনতে চেয়েছে? একদম চুপ! নেক্সট টাইম তোকে এমন রূপে দেখলে পুরো লেংটা করে ছাড়ব। এখন যা, ভাগ এখান থেকে।

অয়নে’র এমন ভয়ংকর রাগী চেহারা দেখে ছেলেটা আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না। প্রায় দৌড়েই সেখান থেকে সরে গেল। ছেলেটা চলে যেতেই আহি ফিক করে হেসে ফেলল। অয়নে’র এমন অগ্নিমূর্তি দেখে হাসি চাপতে পারল না সে। তার চোখে-মুখে দুষ্টুমির ঝিলিক।

কিন্তু আহি’র সেই হাসিটা অয়নে’র চোখ এড়াল না। বরং তা দেখে তার রাগ যেন আরও বেড়ে গেল।

সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

“তোর ব্যবস্থা বাসায় গিয়ে হচ্ছে। তখন হাসি কোথায় যায় দেখব।

এই বলে অয়ন শক্ত করে আহি’র হাত আঁকড়ে ধরলো এবং কোনো কথা না বলে তাকে টেনে নিয়ে বাসার দিকে হাঁটা দিল।

বিজ্ঞাপন
নেশাময় আসক্তি গল্পটি বন্যা সিকদার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় স্পেশাল রোমান্টিক গল্প