নেশাময় আসক্তি

পর্ব - ২৯

🟢

অয়ন আরও শক্ত করে মাহি’কে আগলে নেয়, যেন বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখবে ছোট্ট বোনটাকে। এক হাতে মাহি’র মাথা চেপে ধরে, অন্য হাতে তার পিঠে ধীরে ধীরে হাত বুলিয়ে দেয়। মাহি তখনও থামতে পারছে না। বড় বড় শ্বাস নিচ্ছে সে। কাঁদতে কাঁদতে গলার ভেতর কথাগুলো এসে দলা পাকিয়ে যাচ্ছে। ঠিক করে কিছু বলতে পারছে না। তার আঙুলগুলো শক্ত করে আঁকড়ে আছে অয়নে’র শার্ট।

কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করেই সে ভেঙে পড়া কণ্ঠে বলে ওঠে,

"ভাইয়া ও ভাইয়া, আদিল ভাইয়াকে আমার নামে লিখে দাও না। আমি ওনাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না, দম বন্ধ লাগে, নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। ওনি কেন বুঝে না, মাহি'র বেঁচে থাকার জন্য হলেও ওনাকেই লাগবে। ওনি আমাকে কেন ভালোবাসে না, সারাদিন বেহায়ার মতো ঘুরি তবুও আমার দিকে ফিরে তাকায় না। ভাইয়া তুমি যদি ওনাকে আমার করে না দাও আমি সত্যি সত্যি মরে যাবো, আর কোনোদিন ফিরে পাবে না আমায়!

মুহূর্তের মধ্যেই অয়নে’র বুক ধক করে ওঠে। মনে হলো যেন কেউ ভেতরটা মুঠো করে চেপে ধরেছে। সে তড়িঘড়ি করে ছোট্ট বোনটাকে নিজের বুকের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে। আজ প্রথমবারের মতো অয়ন নিজেকে ভীষণ অসহায় মনে করছে।

তার আদরের বোন,যে বোনকে সে চোখের মণির মতো আগলে রেখেছে সবসময়, সে আজ ভালোবাসা না পেয়ে নিজের জীবন শেষ করে দিতে যাচ্ছিল। ভাবতেই তার গা শিউরে ওঠে। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে সে বলল—

“বোন…এমন করে বলিস না। তোদের ভাই সহ্য করতে পারে না।

এই কথা শুনতেই মাহি ডুকরে কেঁদে ওঠে। বুক ভেঙে কান্না করতে করতে সে বলে,

"ভাইয়া, তুমি তো আমার সব চাওয়া, পাওয়া, ইচ্ছে, স্বপ্ন পূরণ করো। তাহলে আদিল ভাইয়াকে আমার করে দাও না। জানো ভাইয়া, আদিল ভাইয়া আমাকে বিন্দু পরিমাণও ভালোবাসে না। আমাকে শুধু কষ্ট দেয়, আমার দিকে তাকিয়েও দেখে না।

কথা বলতে বলতে সে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে।

"আমি তার পায়ে ধরে ভিক্ষা চেয়েছি ভাইয়া, তবুও সে আমার হলো না। ও ভাইয়া তুমি সারাজীবনের জন্য আদিল ভাইয়াকে আমার নামে লিখে দেবে? তাকে আমার করে পেলে আমি আর কিছু চাইবো না। সত্যি বলছি, জীবনে আর কোনো আবদার করবো না।

রুমে উপস্থিত সবাই নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে। সবার চোখে পানি চিকচিক করছে। শান্তা শেখের বুকটা যেন ভেঙে যাচ্ছে। তিনি কোনোদিন বুঝতেই পারেননি তার ছোট্ট মেয়েটা এত বড় হয়ে গেছে—এত গভীরভাবে কাউকে ভালোবেসে ফেলেছে। এমনকি সেই ভালোবাসার জন্য নিজের জীবনটাও শেষ করে দিতে যাচ্ছিল।

তিনি আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না। দ্রুত এগিয়ে এসে মেয়েকে নিজের বুকে টেনে নিলেন। কাঁদতে কাঁদতে বললেন,

- মা, এমন কাজ কেন করতে গেলি? আজ তোর কিছু হয়ে গেলে আমি মা হয়ে কিভাবে সহ্য করতাম। একবারও আমাদের কথা ভাবলি না?

মাহি মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে,

"আই’ম সরি আম্মা, আমি সহ্য করতে পারিনি আদিল ভাইয়ার এভয়েড করে চলা। আমি তাকে অনেক ভালোবাসি। তাকে ছাড়া কিছুই ভাবতে পারি না। তবুও সে আমাকে দেখতে পারে না।

তারপর আবার অয়নে’র দিকে তাকায়। চোখে ভেজা অনুনয়।

"ভাইয়া ও ভাইয়া তুমি কিছু বলো না কেন? তুমি কি তোমার ছোট্ট বোনের এই আবদারটুকুও পূরণ করবে না? আমার শুধু তাকে চাই। তুমি আদিল ভাইয়াকে বলো আমাকে শুধু বিয়ে করে তার কাছে রেখে দিতে। আমাকে ভালোবাসতে হবে না, তিনি চাইলে আরেকটা বিয়েও করুক তবুও আমাকে দূরে ঠেলে দিও নয়। আমি শুধু তাকে চোখ ভরে দেখতে চাই।

আহি আর মুন দুজনেরই বুক ফেটে যাচ্ছে এই দৃশ্য দেখে। আর অয়ন…তার চোখ দুটো রক্তলাল হয়ে আছে। রাগে তার ভেতর যেন আগুন জ্বলছে। হাতের শিরাগুলো ফুলে উঠেছে। মনে হচ্ছে আর এক মুহূর্তেই হয়তো বিস্ফোরণ ঘটবে।

মাহি হঠাৎ দৌড়ে গিয়ে আহি’কে জড়িয়ে ধরল। তার চোখ লাল, মুখ ভেজা অশ্রুতে। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলল,

"এই আহি তুই বল না ভাইয়াকে। ভাইয়া বললেই আদিল ভাইয়া আমাকে বিয়ে করবে। তুই চাস না আমি তোদের সাথে হাসিখুশি ভাবে বেঁচে থাকি?

আহি কিছু বলার আগেই হঠাৎ করে অয়ন রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে দরজা ঠেলে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। উপস্থিত সবাই হতভম্ব হয়ে তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল। মাহি’র বুক কেঁপে উঠল। অয়নে’র এমন আচরণে তার ভয় আরও বেড়ে গেল। সে আরও জোরে কেঁদে উঠল।

"আহি, ভাইয়া কি সত্যিই চায় না আমার আর আদিল ভাইয়ার বিয়ে হোক?

আহি দ্রুত তাকে জড়িয়ে ধরে শান্ত করার চেষ্টা করল।

"মাহু, প্লিজ শান্ত হ। এভাবে কাঁদলে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। আমরা কথা বলব ভাইয়ার সাথে।

মাহি অসহায় কন্ঠে প্রতিধ্বনিত করে,

"শুধু কথা বলবি? তার মানে কেউ চায় না আমি ভালো থাকি। আমি মরে গেলেই তোমরা সবাই খুশি হবে তাই না? ঠিক আছে, তাহলে আমি তাই করব।

এই বলে সে দ্রুত দরজার দিকে ছুটে যায়। কিন্তু দরজার কাছে যেতেই হঠাৎ কারও শক্ত বুকের সাথে ধাক্কা খায়। মাহি থমকে যায়। ধীরে ধীরে মাথা তুলে তাকাতেই তার চোখ বড় হয়ে যায়। সামনে দাঁড়িয়ে আছে আদিল। আর তার ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে আছে অয়ন। অয়নে’র চোখে ভয়ঙ্কর রাগের ঝিলিক। আদিলে’র ঠোঁটের কোণে জমাট বাঁধা রক্ত। তাকে দেখেই মাহি আঁতকে ওঠে।

সে তড়িঘড়ি করেক অয়নে’র সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। কাঁপা গলায় বলে ওঠে,

"ভাইয়া! তুমি আমার আদিল ভাইয়াকে কেন মেরেছো? আমি তো তোমাকে বলেছি ওনাকে আমার নামে লিখে দিতে, ওনাকে কষ্ট দিতে বলিনি।

তারপর সে ধীরে ধীরে আদিলে’র দিকে তাকায়। চোখে দু'টো অদ্ভুত ভাবে লাল হয়ে আছে। সে ভাঙা গলায় বলে উঠলো,

"আদিল ভাইয়া, আমি সত্যি ভাইয়াকে বলিনি আপনাকে আঘাত করতে। আমি শুধু আপনাকে চেয়েছি। আপনার অনেক কষ্ট হচ্ছে তাই না?

হঠাৎ আদিল এগিয়ে এসে মাহি’কে শক্ত করে নিজের বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে। আদিলে’র আচমকা এমন আচরণে মাহি এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে যায়। আদিলে’র বুকটা কাঁপছে। তার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসছে, গলা কাঁপছে স্পষ্টভাবে। কম্পিত কণ্ঠে সে বলে ওঠে,

"কুইন, এমনটা কেন করতে গিয়েছিলি? তোর কি কোনোদিন সেন্স হবে না? একজন মানুষকে পাবি না বলে কেউ সুইসাইডের মতো ভয়ংকর কাজ করে?

বিজ্ঞাপন

তার গলার ভেতর জমে থাকা ভয় আর অস্থিরতা স্পষ্ট। কথাটা শেষ করতেই মহিবুল শেখ বিদ্যুৎগতিতে এগিয়ে এসে দু’জনকে আলাদা করে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে তার হাত উঠে গিয়ে পরপ আদিলে’র গালে। সে পরপর কয়েকটা থাপ্পড় বসিয়ে দেয় নিজের ছেলের গালে। মূহুর্তেই সবাই স্তব্ধ হয়ে যায়।

আদিল অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। সে প্রতিরোধ করে না, শুধু অসহায় চোখে তাকিয়ে থাকে।

মহিবুল শেখ রাগে কাঁপছেন। তার বুক ওঠানামা করছে দ্রুত। গর্জে উঠে তিনি বলেন,

- বেয়াদব ছেলে! তোমার সাহস হয় কী করে আমাদের মেয়েকে এভাবে কষ্ট দাও? অনেক বড় হয়ে গেছো তাই না? ফাজিল ছেলে, তোমার কোনো ধারণা আছে আজ মাহি মা কী করতে যাচ্ছিল? শুধু তোমার জন্য আমরা আমাদের কলিজার টুকরোটাকে হারাতে বসেছিলাম!

তিনি আবার হাত তুলতে যান। ঠিক তখনই মাহি দৌড়ে এসে তার সামনে দাঁড়িয়ে যায়। দু’হাত ছড়িয়ে আদিলে’র সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ায় সে।

"ছোট বাবাই, আপনি আদিল ভাইয়াকে মারবেন না প্লিজ। ওনার কষ্ট হবে।

তার কণ্ঠ কাঁপছে, চোখ ভিজে যাচ্ছে অশ্রুতে। সবাই তার কান্ডে হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। আর আদিল যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না এসব। বিস্ময়ে তার চোখ স্থির হয়ে যায় মাহি’র দিকে।

এই মেয়েটাকে সে এত কষ্ট দিয়েছে যে আজ তার কারণেই এমন ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিতে গিয়েছিল। আর সেই মেয়েটাই এখন তাকে বাঁচাতে সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আদিলে’র বুকের ভেতর হঠাৎ অদ্ভুত একটা অনুভূতি জেগে ওঠে অপরাধবোধে। মেয়েটার এই আচরণে সে বারবার মুগ্ধ হয়ে যায়। এতটা আঘাত পাওয়ার পরেও, এখনও সে তার কথাই ভাবছে।

হঠাৎ করেই নীরবতা ভেঙে ঝড়ের মতো এগিয়ে আসে অয়ন। এক ঝটকায় সে আদিলে’র হাত টেনে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেয়। তারপর মুহূর্তের মধ্যে তার শার্টের কলার শক্ত করে চেপে ধরে। অয়নে’র চোখ তখন রাগে লাল, চোয়াল শক্ত করে রাখা। গর্জে উঠে সে বলল,

“দেখেছিস তুই কী করেছিস? কাকে পেতে গিয়ে কাকে আঘাত করেছিস সেটা বুঝতে পারছিস?

তার হাতের মুঠো আরও শক্ত হয়ে ওঠে।

“শুধু আমার বোনটার জন্য তুই আজ আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছিস। নয়তো এতক্ষণে তোর লাশ আমি জিন্দা কবর দিয়ে দিতাম আমি। বল তো, আমার বোনটার মধ্যে কী নেই? কিসের কমতি আছে ওর মধ্যে? কোন দিক দিয়ে সে কম যে তুই তাকে এভাবে কষ্ট দিলি?

তুই কি বুঝতে পারছিস আজ আমার আদরের বোনটা কী করতে যাচ্ছিল? এমন একটা নিকৃষ্ট কাজ, যার জন্য হয়তো আমি তাকে কোনোদিন আর ফিরে পেতাম না!

অয়নে’র চোখে তখন তীব্র যন্ত্রণা। এদিকে আদিল মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। সে একবারও চোখ তুলে তাকাচ্ছে না। যেন প্রতিটি কথাই তাকে ভেতর থেকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে। এই নীরবতা অয়ন’কে আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে। সে আবারও ঝাঁকিয়ে ওঠে আদিল’কে।

“কথা বলছিস না কেন? আজ যদি আমার বোনটার কিছু হয়ে যেতো তাহলে ফিরিয়ে দিতে পারতি আমার বুকে, আমি ভাই হয়ে কিভাবে বোনের লাশ কাঁধে তুলতাম বলতো।

সাথে সাথে আদিলে’র বুকটা যেন ছ্যাঁৎ করে উঠলো। বুকের ভেতর অদ্ভুত এক যন্ত্রণা ছড়িয়ে পড়লো মুহূর্তেই।

"অয়ন,,,

অয়ন দমে না বরং তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার দিকে।

“এখন চিৎকার করছিস কেন? তখন মনে ছিল না? যখন স্বার্থপরের মতো আমার বোনটাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলি। কিভাবে এতো খারাপ হলি তুই?

আদিল নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। মাথা নিচু, চোখে অপরাধবোধের ছাপ। ঠিক তখনই মাহি ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসে। তার চোখ লাল, মুখ ভেজা কান্নায়। কাঁপা, কান্না মেশানো কণ্ঠে সে বলে—

"আদিল ভাইয়া৷ আপনি কি আমাকে বিয়ে করবেন? শুধু বিয়ে করলেই হবে। আমি আপনার রুমের এক কোনায় সারাজীবন কাটিয়ে দেবো। কখনো আপনার কাছে বউয়ের অধিকার চাইবো না। তবুও আপনার নামের পাশে আমার নামটা লিখে দিন না। আমি থাকতে পারবো না আপনাকে ছাড়া। অনেক ভালোবাসি আপনাকে।

তার চোখ দিয়ে অবিরাম অশ্রু গড়িয়ে পরলো গাল বেঁয়ে। কোনো ভাবেই চেখের অশ্রু থামছে না। সে আবারও ডুকরে কেঁদে উঠে,

"কেন বুঝেন না আপনি ছাড়া আমি শূন্য আদিল ভাইয়া। একটু আপন করে নিন না আমায়। আমার অশান্ত মনটা একটু শান্ত করে দিন।

এই কথাগুলো যেন আদিলে’র বুকের ভেতর তীরের মতো বিঁধতে থাকে। এক মুহূর্তও আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না সে। হঠাৎ ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে যায়। আজ আর লুকিয়ে রাখা যাবে না। আজ তাকে সব সত্যি বলতেই হবে। দ্রুত পায়ে সে নিজের রুমে গিয়ে আলমারি খুলে কয়েকটা ফাইল বের করে নেয়। তারপর বড় বড় পা ফেলে আবার সেই রুমের সামনে এসে দাঁড়ায়।

রুমে ঢুকেই সে ফাইলটা ছুড়ে দেয় অয়নে’র দিকে। এবং কাতর কণ্ঠে বলে,

"আমি খারাপ হ্যাঁ, আমি সত্যি সত্যি খারাপ। সবাই শুধু আমাকেই দোষ দিচ্ছে। কিন্তু তোমাদের কেউ কি একবারও জানতে চেয়েছো, যে মেয়েটাকে আমি ছোট থেকে আগলে রেখেছি তাকে হঠাৎ কেন দূরে সরিয়ে দিলাম? কেন তাকে রেখে অন্য একজনকে বিয়ে করার কথা বলেছিলাম?

সবাই বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে থাকে। আদিল ধীরে ধীরে মাহি’র সামনে এগিয়ে আসে। তার দু’গাল আলতো করে নিজের হাতে তুলে নেয়।

সে ভাঙা কণ্ঠে ফিসফিস করে,

"আই’ম সরি, কুইন! আই’ম রিয়েলি, রিয়েলি সরি। আমি কখনোই তোর কোমল হৃদয়ে আঘাত দিতে চাইনি, বিশ্বাস কর। তুই যতটুকু আমাকে ভালোবাসিস, আমি তার থেকেও হাজার গুণ বেশি ভালোবাসি তোকে।

মাহি’র চোখ আরও ভিজে যায়। তাকে আদিল ভালোবাসে ভেবেই বুকের ভেতরে অদ্ভুত শীতল অনুভব হয়। মনে হয় শত বছরের আগুন নিভে গিয়েছে। তবে আদিলে’র পরের কথাগুলো যেন সবাইকে স্তব্ধ করে দেয়।

"কিন্তু এই ভালোবাসা যে চিরস্থায়ী নয়। বল তো কুইন, আমি কীভাবে নিজের সুখের জন্য তোকে আঘাত দিই? আমি যে এই পৃথিবীতে ক্ষণস্থায়ী সময়ের জন্য এসেছি। তোকে ভালোবেসেও সারাজীবন বুকে জড়িয়ে রাখতে পারবো না। তোকে একা ফেলে আমাকে চিরতরে চলে যেতে হবে।

মাহি’র শরীর কাঁপতে শুরু করে। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে সে জিজ্ঞেস করে,

"আ আ আপনি কী বলতে চাচ্ছেন আদিল ভাইয়া?

আদিল চোখ বন্ধ করে এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর ধীরে, ভাঙা কণ্ঠে বলে,

"আমি ইসোফ্যাজিয়াল ক্যা.....

বিজ্ঞাপন
নেশাময় আসক্তি গল্পটি বন্যা সিকদার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় স্পেশাল রোমান্টিক গল্প