নেশাময় আসক্তি

পর্ব - ২৮

🟢

বন্ধ দরজার ভেতরে মাহি মেঝেতে বসে হাওমাও করে কাঁদছে। চোখ লাল হয়ে গেছে তার, চুল এলোমেলো, শ্বাসপ্রশ্বাস ভারী। কোনোভাবেই আদিল’কে ভুলতে পারছে না সে। ভুলবেই বা কীভাবে? মানুষটা তো তার জীবনের প্রথম এবং শেষ ভালোবাসা । ছোট ছোট কত স্বপ্ন ছিল—আদিলে‘র সাথে একটা ছোট্ট সংসার হবে। কিন্তু সেই অমূল্য স্বপ্নগুলো যেন একে একে ভেঙে ধুলো হয়ে গেছে। কারণ যাকে সে নিজের সবকিছু ভেবে বসেছিল, সেই মানুষটার জীবনে অন্য কেউ আছে, যাকে সে একদিন নিজের অর্ধাঙ্গিনী করে নেবে।

এই সত্যটা মেনে নেওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠছে। মাহি মাথা নিচু করে বসে থাকে। হঠাৎ দু’হাত দিয়ে নিজের মাথা শক্ত করে চেপে ধরে। যেন স্মৃতিগুলোকে জোর করে থামাতে চাইছে। কিন্তু তাতে লাভ হয় না। উল্টো সেই দৃশ্যগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ফিরে আসে। আদিলে’র সঙ্গে মৌরি’র সেই মুহূর্তটা, আদিলে’র হাত ধরে হাঁটা, তার দিকে ঝুঁকে থাকা, তাকে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জরিয়ে ধরা। চোখ বন্ধ করলেই সব আবার চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত মূহুর্ত।

সে হঠাৎই কান্নার ভেতর বলতে শুরু করে,

"আপনি আমার কেন হলেন না, আদিল ভাইয়া…? আমি তো আপনাকে পাগলের মতো ভালোবাসি। আপনি চাইলে আমার হয়ে থাকতে পারতেন না? আমি তো আপনার কাছে বেশি কিছু চাইনি, ভালোবাসা পর্যন্ত চাইনি। শুধু আপনার নামের পাশে আমার নামটা বেঁধে দিতেন। এতটুকুই তো চেয়েছিলাম, কিন্তু আপনি সেটাও দিলেন না আমায়।

তার গলা ভেঙে আসছে, মুখ থেকে শব্দ বের হতে কষ্ট হয়। তবুও সে বলে,

"আপনি এত স্বার্থপর কেন? কেন আমার বুক ফাঁটা চিৎকার শুনতে পান না? আমি যে প্রতিটা নামাজে আপনাকে চেয়েছি…প্রতিটা মোনাজাতে আপনার নাম নিয়েছি। এভাবে কি কাউকে ভুলে থাকা যায়?

আপনাকে ভালোবাসা কি আমার পাপ হয়ে গেল? আপনি তো বলতেন, ভালোবাসা কোনো পাপ নয়। তাহলে আমার বেলায় এত নিষ্ঠুর হলেন কেন? একটু আপন করে নিলে কি এমন ক্ষতি হয়ে যেত?

তার শ্বাস রুদ্ধ হয়ে আসছে। মনে হচ্ছে বুকের ভেতর বাতাস আটকে গেছে। তবুও কান্না থামছে না। রুমের চার দেয়ালের ভেতর তার কণ্ঠ প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরছে। হঠাৎ সে উঠে দাঁড়াল। চোখে অদ্ভুত এক ভাঙা উন্মাদনা। সে আদিলে’র দেওয়া প্রতিটা জিনিস এক এক করে ছুড়ে ফেলতে লাগল। সব জিনিস এলোমেলো হয়ে মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ল।

কাঁদতে কাঁদতে চিৎকার করে উঠল,

"লাগবে না আপনার দেওয়া কোনো গিফট! যেখানে এত করে চেয়েও আপনাকেই পেলাম না, সেখানে এই জিনিসগুলো দিয়ে আমি কী করবো? চাই না এসব…আমার শুধু আপনাকেই চাই, শুধু আপনাকে!

তার কণ্ঠ ভেঙে প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসে। কিন্তু এই কান্না, এই চিৎকার সবকিছু আটকে আছে ওই চারটা দেয়ালের ভেতরেই। কারণ তার রুম সাউন্ডপ্রুফ। বাইরের কেউ তার বুক ছিঁড়ে যাওয়া চিৎকার শুনতে পায় না। কেউ জানে না, নিজের ভালোবাসাকে হারানোর যন্ত্রণায় মাহি ভেতরে ভেতরে কীভাবে ভেঙে যাচ্ছে। কেউ দেখে না, একটা মেয়ের হৃদয় ধীরে ধীরে উন্মাদনার কিনারায় পৌঁছে যাচ্ছে। শুধু রুমের নিঃশব্দ দেয়াল গুলোই সাক্ষী হয়ে থাকে তার অসহায় ভালোবাসার।

"থাকবো না আমি আপনাকে ছাড়া, পারবো না আমি আপনিহীনা বেঁচে থাকতে। হারিয়ে যাবো আমি, অনেক দূরে হারিয়ে যাবো। আপনি চাইলেও আর কোনোদিন আমাকে ফিরিয়ে আনতে পারবেন না। একদিন আমাকে এক নজর দেখার জন্য আপনি পাগলের মতো ছটফট করবেন কিন্তু তখন আমি আর ফিরবো না। তখন হয়তো বুঝবেন, আমি কতটা আপনাকে ভালোবেসে ছিলাম।

এই স্বার্থপর পৃথিবী আমার জন্য নয়। এই পৃথিবীর মানুষগুলো শুধু নিজের কথাই ভাবে। এমনকি আপনিও, নিজের জন্য সুখ খুঁজে আমাকে পাহাড় সমান দুঃখ দিলেন? একটা বারও ভাবলেন না, আমি সেই দুঃখ বহন করতে পারবো না। তাই আজ আমি চিরদিনের জন্য আপনার জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছি, ফিরবো না আর কোনোদিন।

কথাগুলো বলতে বলতে মাহি’র কণ্ঠ ভেঙে যাচ্ছিল। বুকের ভেতর জমে থাকা দীর্ঘদিনের কষ্ট যেন আজ আর থামতে চাইছে না। সে পাগলের মতো কাঁদতে থাকে। তার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে মুখের উপর পড়ে আছে, চোখ দুটো ফুলে গেছে অবিরাম কান্নায়। ঠোঁট কাঁপছে, শ্বাস ভারী হয়ে আসছে। কিন্তু সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই।

মনের ভেতরে জমে থাকা না-পাওয়া ভালোবাসার তীব্র যন্ত্রণা তাকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এতদিন সে নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করেছে, হাসিমুখে সব সহ্য করেছে। কিন্তু আজ আর পারছে না।

দেয়ালে টানানো আদিলে'র হাসি মাখা ছবির দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,

"আপনাকে মুক্তি দিয়ে গেলাম আমার না হওয়া মহারাজ। আপনি আমাকে ছাড়া থাকতে পারবেন কিন্তু আমি আপনিহীনা নিঃশ্বাসও নিতে পারবো না। আপনাকে অন্য কারো হয়ে যেতে দেখার মতো ধৈর্য আমার নেই। এতটা সহনশীলতা নিয়ে আমি জন্মাইনি। মৃত্যুর আগেও একটা কথায় বলতে চাই, আমি আজও আপনাকে অসম্ভব ভালোবাসি!

তার গাল বেয়ে টপটপ করে অশ্রু ঝরতে থাকে। প্রতিটা অশ্রুবিন্দু যেন তার হৃদয়ের গভীর ক্ষতের কথা বলছে। মাহি আর এক মুহূর্তও দাঁড়িয়ে থাকে না। দ্রুত ওয়ারড্রবের দিকে এগিয়ে যায়। ওয়ারড্রব খুলে একের পর এক কাপড় এলোমেলো করতে থাকে। তারপর আলমারি, তারপর ক্যাবিনেট—সব জায়গা তন্নতন্ন করে খুঁজতে থাকে। অবশেষে তার হাতে আসে একটা শাড়ি। শাড়িটা হাতে নিয়েই সে স্থির হয়ে যায়।

এটা সেই শাড়ি, যেটা একদিন আদিল তাকে মেলা থেকে কিনে নিজের হাতে দিয়েছিল। সেই দিনের কথা মনে পড়তেই তার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। কাঁপা হাতে শাড়িটা বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে বলল,

"আপনাকে তো পেলাম না, আদিল ভাইয়া…কিন্তু আপনার দেওয়া ভালোবাসার শেষ চিহ্নটা সঙ্গে নিয়েই আমি হারিয়ে যাবো। হয়তো আপনি কোনোদিনও বুঝবেন না, আমি আপনাকে কতটা ভয়ংকর ভাবে ভালোবাসি!

তার চোখ থেকে অঝোরে পানি ঝরছে। তবুও সে থামে না। ধীরে ধীরে বিছানার উপর উঠে দাঁড়ায় মাহি। কিন্তু সিলিং ফ্যানের নাগাল পায় না। চারদিকে তাকিয়ে একটা ভ্যানিটি স্টুল টেনে আনে। সেটাকে বিছানার উপর রেখে তার উপর উঠে দাঁড়ায়। তার হাত কাঁপছে, বুক দ্রুত ওঠানামা করছে। তবুও সে শাড়িটা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে বাঁধতে শুরু করে। কাঁপা কাঁপা আঙুলে গিট দিতে দিতে তার চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে, তবুও অশ্রু থামছেই না।

শেষ বারের মতো সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে আবার চোখ নামিয়ে নেয় মাহি। সে কোনোদিন এমন ভয়ংকর কাজ করতে চায়নি তবে আজ সে বার্থ, অনেক চেষ্টা করেছে নিজেকে সামলাতে কিছু পারেনি। সে গভীর শ্বাস নিয়ে বলল,

"লাল শাড়ি পড়ে আপনার বউ হওয়ার তীব্র ইচ্ছে ছিল আমার। কিন্তু আমি ভাগ্যের কাছে হে'রে গেলাম। তাই তো সাদা কাফন পড়ে আপনাকে চিরদিনের জন্য মুক্তি দিয়ে গেলাম!

মাহি শাড়িটা নিজের গলায় শক্ত করে পেঁচিয়ে নিল। তার চোখে তখন আর কোনো আলো নেই, শুধু অসীম ক্লান্তি আর ভাঙা স্বপ্নের ছায়া। ঠিক সেই মুহূর্তে বাইরে থেকে ভেসে এলো এক হৃদয় বিদারক চিৎকার—

"মাহুউউউউ…!

আহি মাহি’র রুমে এসেছিল। দরজা বন্ধ দেখে কৌতূহলবশত জানালা দিয়ে উঁকি দিয়েছিল। কিন্তু ভেতরে যে এমন ভয়ংকর দৃশ্য দেখতে হবে তা কল্পনাতেও ছিল না।

মুহূর্তের মধ্যে তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।

"মাহু এটা তুই কি করছিস!

আহি আতঙ্কিত হয়ে দরজায় ধাক্কা দিতে লাগলো।

বিজ্ঞাপন

"প্লিজ দরজা খোল, মাহু।

সে আরো জোরে চিৎকার করে উঠলো,

“ভাইয়া! তুমি কোথায়? তাড়াতাড়ি আসো! অয়ন ভাই, আব্বা, বাবাই আপনারা কোথায় তারাতাড়ি আসেন। মাহু দরজা আঁটকে সুইসাইড করতে যাচ্ছে।

বাড়ির ভেতর মুহূর্তের মধ্যে হুলস্থুল পড়ে গেল। কিছু সময়ের মধ্যেই সবাই দৌড়ে এসে উপস্থিত হলো মাহি’র রুমের সামনে। অয়ন জানালার দিকে তাকাতেই তার বুকটা যেন ধক করে উঠলো। তার প্রান প্রিয় ছোট বোন, তার আদরের মাহি সিলিং ফ্যানের সাথে ফাঁস লাগাতে যাচ্ছে। অয়ন কাঁপা কাঁপা কন্ঠে প্রতিধ্বনিত করে,

“বোন এটা তুই কি করছিস!

অয়নের কণ্ঠ কেঁপে উঠলো। চোখের সামনে বোনের এমন মর্মান্তিক ভয়ংকর দৃশ্য দেখতে হবে তা দু- স্বপ্নেও ভাবেনি। সে অসহায়ের মতো তাকিয়ে বলল,

“এমন করিস না বোন, কি হয়েছে তোর? ভাইকে বল, ভাইকে তো সব কথা বলিস তাহলে কি এমন হলো যার জন্য সুইসাইডের মতো ভয়ংকর ডিসিশন নিয়েছিস।

মাহি’র চোখ বেয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। সে দরজার দিকে তাকিয়ে ভাঙা কণ্ঠে বলল,

"ভাইয়া…আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি আর পারছি না, আমি এভাবে আর বাঁচতে পারবো না। আমি আর জিন্দা লাশ হয়ে থাকতে চাই না। আমি একটু শান্তি চাই আর আমার শান্তি শুধু মৃত্যু দিতে পারবে। তোমরা ভালো থেকো সবাই।

বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই যেন জমে গেল। এই কথা শুনে আহি হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো।

"না, না মাহু তুই এমন কথা বলবি না! প্লিজ দরজা খোল বনু, কেন এমন পাগলামো করছিস।

অয়ন তখন দরজায় জোরে জোরে ধাক্কা দিতে শুরু করেছে। নিজের শরীরের সব শক্তি দিয়ে দরজা ভাঙার চেষ্টা করছে সে।

“বোন প্লিজ থাম! এমন জঘন্য কাজ কেন করছিস? তোর কিছু হলে আমরা বাঁচবো কিভাবে বল? দরজাটা খোল না বোন, প্লিজ দরজাটা খোল…

মাহি'র মা সহ বাড়ির সব মহিলারাও কাঁদতে শুরু করেছে। কারও মাথায় ঢুকছে না, কি এমন হলো যে তাদের আদরের মেয়েটা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাজ্জাদ ও দরজা ধাক্কা দিচ্ছে কিন্তু কোনো ভাবেই ভাঙতে পারছে না। অয়নে’র চোখ ঝাপসা হয়ে গেছে।

জানালার ফাঁক দিয়ে সে দেখছে—তার প্রাণের বোনটা মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তার বুকের ভেতরটা ছিঁড়ে যাচ্ছে।

“বোন, তোর ভাইয়ের খুব কষ্ট হচ্ছে প্লিজ দরজাটা খোল। তোকে আদিল কিছু বলেছে? বল বোন কি বলেছে ও?

আহি আর মুন হাউমাউ করে কাঁদছে। তাদের চোখ লাল হয়ে গেছে, গলা কাঁপছে আতঙ্কে আর অসহায়তায়। আহি কাঁদতে কাঁদতে দরজায় ধাক্কা দিতে দিতে বলল,

"এই মাহু তুই আমাদের একা করে কোথায় যেতে চাচ্ছিস? তোকে ভাইয়া বকা দিয়েছে বল না! আমিও ভাইয়াকে অনেক মারবো তবুও এমন পাপ কাজ তুই করিস না।

মাহি ধীরে ধীরে চোখ তুলে তাকালো নিজের বাবা-মায়ের দিকে। তার চোখে তখন অদ্ভুত এক শূন্যতা। জাহিদ শেখ কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন,

- মা, দরজাটা খোলো না। আমাদের একা করে দিয়ে তুমি কোথায় হারিয়ে যেতে চাচ্ছো? তোমার কি আমাদের কথা একবারও মনে পড়ছে না? তোমাকে ছাড়া আমরা কিভাবে বেঁচে থাকবো?

তার কণ্ঠে ছিল অসহায় বাবার আকুতি। চারদিকে কান্নার শব্দ। ভাঙা ভাঙা অনুনয়। আতঙ্কে জমে থাকা নিঃশ্বাস। কিন্তু মাহি’র মুখে কোনো কথা নেই। সে আর কারো দিকে তাকাল না। ধীরে ধীরে শাড়িটা নিজের গলায় আরও শক্ত করে পেঁচিয়ে নিল। জানালার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই আতঙ্কে চিৎকার করে উঠলো,

"মাহি এমন করিস না…

পরের মুহূর্তেই মাহি নিজের পা দিয়ে ভ্যানিটি স্টুলটা ধাক্কা দিল। ঠিক তখনই, ধাম করে দরজা ভেঙে হুড়মুড় করে রুমে ঢুকে পড়ে অয়ন আর সাজ্জাদ। এক সেকেন্ডও দেরি করেনি অয়ন। সে দৌড়ে গিয়ে ঝুলে পড়া মাহি’কে দুই হাতে জড়িয়ে ধরে ওপরে তুলে নেয়।

সাজ্জাদ তড়িঘড়ি করে গলা থেকে শাড়ির ফাঁস খুলতে লাগলো। কয়েক সেকেন্ডের সেই মুহূর্তটা যেন সবার কাছে এক যুগের মতো লাগছিল। অবশেষে ফাঁস খুলে যায়।

অয়ন জোর করে মাহি’কে নিচে নামিয়ে বিছানার উপর বসায়। তারপর নিজের রাগ সামলাতে না পেরে ঠাসস ঠাসস করে জোরে চড় বসিয়ে দেয় মাহির গালে। তার চোখ লাল, বুক ওঠানামা করছে দ্রুত।

“কি করতে যাচ্ছিলি তুই? তোর কি একবারও আমাদের কথা মনে হলো না? আমরা কি কেউ তোর আপন না? তুই মরে গেলে আমরা বাঁচবো কিভাবে বল? ভাইকে কষ্ট দিতে কি খুব ভালো লাগে।

মাহি ততক্ষণে ছুটে এসে অয়নে’র বুকে ঝাপটে পড়ে। পরমুহূর্তেই তার বুক থেকে বেরিয়ে আসে ভাঙা, অসহায় একটা কান্না। যেন এতক্ষণ ধরে জমে থাকা সব কষ্ট একসাথে বেরিয়ে আসতে চাইছে। আজ তার চোখের অশ্রু কোনো ভাবেই বাধ মানছে না। অয়ন শক্ত করে বোনটাকে জড়িয়ে ধরে। তার নিজের বুকও যেন ভিতর থেকে ছিঁড়ে যাচ্ছে।

মাথার ভেতর বারবার একই দৃশ্য ঘুরে ফিরে আসছে, আর একটু দেরি হলেই হয়তো আজ ভয়ঙ্কর কিছু ঘটে যেত। তার বুকের ধন, তার আদরের দুই বোন৷ আর তাদের একজন আজ তার চোখের সামনেই নিজের জীবন শেষ করে দিতে যাচ্ছিল। কথা গুলো ভাবতেই শরীর ঠান্ডা হয়ে আসে অয়নে’র।

অয়ন আরও শক্ত করে মাহি’কে আগলে নেয়, যেন বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখবে ছোট্ট বোনটাকে। এক হাতে মাহি’র মাথা চেপে ধরে, অন্য হাতে তার পিঠে ধীরে ধীরে হাত বুলিয়ে দেয়। মাহি তখনও থামতে পারছে না। বড় বড় শ্বাস নিচ্ছে সে। কাঁদতে কাঁদতে গলার ভেতর কথাগুলো এসে দলা পাকিয়ে যাচ্ছে। ঠিক করে কিছু বলতে পারছে না। তার আঙুলগুলো শক্ত করে আঁকড়ে আছে অয়নে’র শার্ট।

কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করেই সে ভেঙে পড়া কণ্ঠে বলে ওঠে,

"ভাইয়া…

বিজ্ঞাপন
নেশাময় আসক্তি গল্পটি বন্যা সিকদার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় স্পেশাল রোমান্টিক গল্প