নেশাময় আসক্তি

পর্ব - ২৭

🟢

বিকেলের মৃদু, স্নিগ্ধ বাতাসে ছাদের দোলনাটা ধীরে ধীরে দুলছিল। সেই দোলনার এক কোণে চুপচাপ বসে ছিল আদিল। চারদিক থেকে শো শো শব্দ তুলে বাতাস এসে তার শরীর ছুঁয়ে যাচ্ছিল, কপালের চুলগুলো এলোমেলো করে দিচ্ছিল বারবার। তবুও সে চুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছিল না। যেন এই অগোছালো হাওয়ার ভেতরেই সে নিজের অগোছালো মনটাকে খুঁজে পেতে চাইছিল।

তার চোখ দুটো বন্ধ। বাইরের পৃথিবীটাকে কিছু সময়ের জন্য দূরে সরিয়ে রেখে সে ডুবে ছিল নিজের ভেতরের অন্ধকারে। ইদানীং তার নিজের ভেতরটা কেমন যেন অচেনা লাগে। শরীরটাও আর আগের মতো নেই। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে দিন দিন সে ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ছে। মুখের রঙ ফ্যাকাশে, চোখের নিচে কালি জমেছে। আয়নায় নিজেকে দেখলে নিজের প্রতিচ্ছবিকেই অপরিচিত মনে হয়।

কোনো কিছুতেই মন বসে না এখন। মানুষের ভিড়, হাসি-আড্ডা—সবকিছুই কেমন যেন বিরক্তিকর লাগে। সারাদিন একা থাকতে ইচ্ছে করে। নীরবতায় ডুবে থাকতে ভালো লাগে। মনে হয়, দূরে কোথাও চলে যেতে পারলে ভালো হতো, এমন কোনো জায়গায়, যেখানে তার অনুপস্থিতি কারো জীবনে খুব বেশি পরিবর্তন আনবে না। যেখানে তার জন্য কেউ কষ্ট পাবে না, অপেক্ষা করবে না।

দোলনার দোল ধীরে ধীরে থেমে আসে। আদিল চোখ মেলে তাকায় আকাশের দিকে। নীল আকাশটা আজ অদ্ভুত রকম ফাঁকা। এক টুকরো সাদা মেঘ ভেসে যাচ্ছে ধীরে ধীরে—যেন তার নিজের জীবনের মতো, অনিশ্চিত আর ভাসমান। সে বাঁচতে চায়। ভীষণভাবে বাঁচতে চায়। নিজের প্রাণপ্রিয় মানুষটার হাত ধরে, পাশাপাশি হেঁটে, ছোট্ট একটা সুখের সংসার গড়ে তুলতে চায়। সকালে একসাথে চা খাওয়া, বিকেলে ছাদে বসে গল্প করা, ঝগড়া-মান অভিমান—সবকিছু মিলিয়ে খুব সাধারণ একটা জীবন চাই। এই সামান্য স্বপ্নগুলোই তার কাছে এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় চাওয়া।

কিন্তু ভাগ্য যেন অন্য হিসাব কষে রেখেছে। মনে হয়, খোদা তাকে খুব অল্প দিনের মেহমান করেই এই দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। তার জন্য দীর্ঘ সুখের গল্প লেখা হয়নি। হয়তো কেবল একটি ছোট অধ্যায়, তারপর হঠাৎ সমাপ্তি।

এই ভেবে তার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। যদি সত্যিই অল্প দিনের জন্যই তাকে পাঠানো হয়ে থাকে, তাহলে কেন তার হৃদয়ে এত গভীর অনুভূতি জন্ম দিল? কেন তাকে কারো প্রতি এতটা আসক্ত হতে দিল? কেন এমন এক মানুষকে তার জীবনে এনে দিল, যার অনুপস্থিতি সে কল্পনাও করতে পারে না? সে ভাবে, যদি চলে যেতেই হয়, তবে প্রিয় মানুষটার প্রতি অনুভূতি জন্ম নেওয়ার আগেই তাকে পৃথিবী থেকে মুছে দেওয়া যেত। তাহলে অন্তত কারো চোখে তার জন্য অশ্রু ঝরত না। কেউ তার স্মৃতির ভার বয়ে বেড়াত না।

বাতাস আবার জোরে বইতে শুরু করে। আদিল চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নেয়। বুকের ভেতর জমে থাকা ব্যথাগুলো যেন হাওয়ার সঙ্গে উড়ে যেতে চায়।

হঠাৎ কারো পায়ের নুপুরের ক্ষীণ ঝুনঝুন শব্দ আদিলে’র ভাবনার সুতো ছিঁড়ে দিল। সে ধীরে ধীরে চোখ মেলে ভ্রু কুঁচকে ছাদের দরজার দিকে তাকাল। বিকেলের নরম আলোয় দরজার ফাঁক দিয়ে একটুকরো ছায়া ভেসে উঠছে। টিপটিপ পায়ে এগিয়ে আসছে মাহি। তার হাতে ছোট্ট একটি ওয়াটারিং ক্যান। ছাদের এক কোণে ছোট্ট ফুলের বাগান—সেই গাছগুলোকেই পানি দিতে এসেছে সে। পা ফেলার সঙ্গে সঙ্গে নুপুরের শব্দ বাতাসে মিশে এক অদ্ভুত মায়া তৈরি করছে।

আদিল দোলনায় বসেই স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার দিকে। চোখ সরাতে পারে না। যেন বহুদিন পর কোনো প্রিয় দৃশ্য চোখে পড়েছে। মাহি গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গিয়ে প্রথম টবে পানি ঢালে। পানির ধারা মাটিতে পড়তেই হালকা সোঁদা গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। বাতাস এসে তার খোলা চুলগুলো এলোমেলো করে দেয়। কয়েক গোছা চুল বারবার তার গালে এসে পড়ছে, কিন্তু সে সেগুলো সরানোরও প্রয়োজন বোধ করছে না। সে নিজের কাজেই মগ্ন। মাহি’র মুখের দিকে তাকিয়ে আদিলে’র বুক হঠাৎ কেঁপে ওঠে। মেয়েটার মায়াবী মুখখানা আজ অদ্ভুত রকম ফ্যাকাশে। চোখদুটো ফুলে আছে, নিশ্চয়ই অনেক কেঁদেছে রাতভর।

ঠোঁটের কোণে হাসির চিহ্ন নেই, আছে শুধু গভীর বিষণ্নতা। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া না করায় আগের তুলনায় অনেকটাই শুকিয়ে গেছে সে। তার এই অবস্থা দেখে আদিলে’র বুকের ভেতরটা হাহাকার করে ওঠে। সে ভাবছিল, নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখলেই হয়তো মাহি তাকে ভুলতে পারবে। কিন্তু আজ বুঝতে পারছে, তার দূরত্বই হয়তো মেয়েটার সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা।

মাহি একে একে সব টবে পানি দেয়। গোলাপ, রজনীগন্ধা, জবা, প্রতিটা গাছের দিকে যত্ন নিয়ে তাকায়, যেন তারা-ই তার একমাত্র সঙ্গী। এতটাই ডুবে ছিল সে নিজের নিঃশব্দ জগতে যে ছাদের অন্যপ্রান্তে আদিল বসে আছে, তা টেরই পায়নি। সব গাছে পানি দেওয়া শেষ হলে মাহি ওয়াটারিং ক্যানটা একপাশে রেখে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যায়। তার পদক্ষেপে দু’কদম এগোতেই হঠাৎ শীতল, পরিচিত এক কণ্ঠ বাতাস চিরে ভেসে আসে—

“মাহি কুইন!

শব্দটা শুনেই মাহি স্থির হয়ে যায়। বুকের ভেতরটা ধড়ফড় করতে থাকে। ধীরে ধীরে পেছন ফিরে তাকাতেই সে চমকে ওঠে। দোলনায় বসে আদিল তার দিকে তাকিয়ে আছে। চোখে সেই চিরচেনা ঝিলিক নেই, আছে অসহায়ত্বের ছাপ। সে চোখের ইশারায় মাহি’কে কাছে ডাকল। মাহি’র গলা শুকিয়ে আসে। যেতে চায় না অভিমান আছে, কষ্ট আছে, অজস্র না বলা অভিযোগ আছে। তবুও পা যেন নিজের ইচ্ছেতেই এগিয়ে যায়। নিঃশব্দে এসে আদিলে’র সামনে দাঁড়ায় সে। মাথা নিচু, চোখ মাটিতে স্থির।

আদিল ভ্রু জোড়া কুঁচকে মাহি’র দিকে তাকাল। তার চোখে বিরক্তি নয়, বরং কণ্ঠে স্পষ্ট তীব্রতা—

“ইদানীং আমাকে দেখলেই এত দূরে দূরে থাকছিস কেন? আর নিজের শরীরের এই কী অবস্থা করেছিস? ঠিকমতো খাস না, ঘুমাস না…একটা অনাকাঙ্ক্ষিত মানুষ চলে গেছে বলে তার জন্য নিজেকে এভাবে কষ্ট দিবি?

শেষ কথাটা বলার সময় তার গলায় অদ্ভুত এক কাঁপন ফুটে উঠল। মাহি নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার দিকে। চোখদুটো গভীর শূন্যতা। ঠোঁট নড়ে না, যেন কথাগুলো তার কানে পৌঁছালেও হৃদয়ে ঢুকতে পারছে না। কিংবা হয়তো ঢুকছে, কিন্তু সে স্বীকার করতে চাইছে না।

মাহি কোনো উত্তর না দিয়ে ধীরে ধীরে পা বাড়ায়। সে চলে যেতে চায়। এভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে আরো ভেঙে পড়বে, তা সে খুব ভালো করে জানে। ঠিক তখনই আদিল হঠাৎ তার হাত আঁকড়ে ধরে। মুহূর্তের মধ্যেই মাহি কেঁপে ওঠে। যেন সেই স্পর্শ তার শরীরে আগুন ছড়িয়ে দিয়েছে। এক ঝটকায় নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয় সে। চোখে তীব্র রাগ, কণ্ঠ কর্কশ হয়ে প্রতিধ্বনিত হয়,

"আমাকে টাচ করার কোনো অধিকার নেই আপনার । তাই হুটহাট আমার হাত ধরবেন না, ভালো লাগে না এসব।

শব্দগুলো ছুরির মতো এসে বিঁধে যায় আদিলে’র বুকে। তবুও সে অবাক হয় না। যেন আগেই জানত, এমনই কিছু শুনতে হবে তাকে। সে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে মাহি’র চোখের দিকে। চোখে তীক্ষ্ণতা, কিন্তু তার গভীরে জমে থাকা ব্যথা স্পষ্ট।

“এখন কি আমাকে তোর কাছ থেকে শিখতে হবে কোনটা অধিকার, আর কোনটা নয়?

কথাগুলো খুব শান্ত স্বরে বলল। মাহি ঠোঁট কামড়ে নেয়। বুকের ভেতর ধড়ফড় করছে, কিন্তু সে নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করে। মুখ ঘুরিয়ে নেয় সামান্য।

"দেখুন, আপনার সাথে অযথা কথা বলার ইচ্ছে নেই আমার। যদি কোনো দরকার থাকে তাহলে বলুন। নয়তো আমি যাচ্ছি।

আদিল কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইল। মাহি’র চোখের ভেতর জমে থাকা অভিমান সে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে। হঠাৎ খুব শান্ত স্বরে প্রশ্ন করল—

“আমি মানুষটা কি খুব খারাপ, কুইন?

কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে মাহি বলল,

বিজ্ঞাপন

"মৌরি আপু…সরি, ভাবি থাকতে আমাকে জিজ্ঞেস করছেন কেন?

‘ভাবি’ শব্দটা উচ্চারণ করার সময় তার গলা আটকে গেল। শব্দটা যেন তার নিজের বুকেই আঘাত করল। আদিল শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। চোখে না রাগ, না বিস্ময়। বুকের ভেতর চাপা কষ্টটা লুকিয়ে রেখে সে হালকা হেসে বলল—

“আমি তোর কাছ থেকে কমপ্লিমেন্ট চেয়েছি।

মাহি ঠোঁট বাঁকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল। কিন্তু সেই হাসির আড়ালে কান্নার রেখা স্পষ্ট।

"অধিকারবিহীন সম্পর্কে কোনো কমপ্লিমেন্ট হয় না। আমি আপনার কাছে তুচ্ছ…তাই আমার কাছ থেকে কমপ্লিমেন্ট চাওয়া বোকামি।

শব্দগুলো ধীরে ধীরে উচ্চারণ করলেও প্রতিটা শব্দের আঘাত ছিল তীব্র। আদিল দীর্ঘ একটা শ্বাস ছাড়ল। যেন বুকের ভেতর জমে থাকা ভারটা একটু হালকা করতে চাইল। নিচু স্বরে বলল,

“এতটা বড় কবে হলি তুই?

মাহি চোখ তুলে তাকাল এবার। তার চোখে অশ্রু চিকচিক করছে, কিন্তু সে কান্না আটকানোর চেষ্টা করছে মরিয়া হয়ে।

"যেদিন থেকে বুঝতে পেরেছি, আমার আমি ছাড়া দ্বিতীয় কেউ নেই।

এক মুহূর্তের জন্য আদিলে’র মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেল। সে ধীরে বলল,

“নিজেকে একা ভাবিস কেন?

মাহি এক পা পেছনে সরে দাঁড়াল। তারপর দৃঢ় স্বরে আওরায়,

"একা হয়ে সঙ্গী চাইবো কিভাবে? যে জীবনে আপনি নেই, সেখানে অন্য পুরুষ নিষিদ্ধ!

কথাটা বলেই সে চোখ নামিয়ে ফেলল। আদিল কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর গলা শক্ত করে বলল,

“কারো জীবন কারো জন্য থামিয়ে রাখা ঠিক নয়। একজনের অভাব আরেকজনকে দিয়ে পূরণ করে নিতে হয়।

মাহি তাচ্ছিল্য ভরা হাসি হেসে উঠল।

"জীবনের সবকিছু অভাব ক্ষণস্থায়ী হলেও, আপনাকে না পাওয়ার অভাব টা চিরস্থায়ী’ই থেকে যাবে। যেমনটা থাকে জন্মদাগ..!

আদিলে’র চোখের কোণে অদৃশ্য যন্ত্রণা জমে ওঠে। সে জানে, এই ভালোবাসা দু’জনের মাঝেই আছে—কিন্তু সময়, পরিস্থিতি আর অদৃশ্য বাধাগুলো তাদের এমন এক জায়গায় দাঁড় করিয়েছে, যেখানে ভালোবাসা থাকলেও অধিকার নেই। সেই বাঁধা যদি না থাকতো তাহলে কখনোই নিজের প্রিয়তমা’কে এতোটা কষ্ট, যন্ত্রনা পেতে দিতো না। সমস্ত দুঃখ, কষ্ট থেকে আগলে রাখতো।

মাহি আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। বুকের ভেতরটা যেন কেউ মুঠো করে চেপে ধরেছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। আদিলে’র সামনে সে নিজেকে শক্ত রেখেছিল, কিন্তু ভেতরে ভেতরে সে ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে।

হঠাৎ ঘুরে বড় বড় পা ফেলে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল সে। নুপুরের শব্দ আজ কেমন এলোমেলো, অসামঞ্জস্যপূর্ণ। যেন তার অস্থির হৃদস্পন্দনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। দু’ধাপ নামতেই চোখের জল আর বাধা মানল না। গাল বেয়ে টপটপ করে অশ্রু ঝরতে লাগল। সে বারবার হাতের পিঠ দিয়ে চোখ মুছতে চাইল, কিন্তু জল থামল না। যতই মুছছে, ততই যেন বাড়ছে।

সিঁড়ির মাঝামাঝি এসে সে থেমে দেয়ালে হেলান দিল। বুকের ভেতরটা ফেটে যাচ্ছে। দম বন্ধ লাগছে। ঠোঁট কাঁপছে। নিজের মনে অস্ফুট স্বরে বলতে লাগল—

"আপনি এটা কেন করলেন, আদিল ভাইয়া? আমি যে কষ্ট পাচ্ছি, সেটা কি একবারও বুঝতে পারেন না? বুঝতে পারছেন তবুও কেন একবার ফিরে আসতে পারেন না আমার কাছে?

তার কণ্ঠ ভেঙে যাচ্ছিল। প্রতিটা শব্দ যেন কান্নার সঙ্গে বেরিয়ে আসছিল।

"আপনি কি কোনোদিনও বুঝবেন না, আপনাকে ছাড়া আমি কতটা শূন্য? আমি তো চেষ্টা করেছি নিজেকে সরিয়ে নিতে, আপনাকে ভুলতে…কিন্তু পারিনি। আপনার জায়গাটা আমার জীবনে এমন, যেটা কেউ নিতে পারবে না।

সে দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কাঁদতে লাগল। যেন এতদিনের চেপে রাখা সব অনুভূতি আজ একসাথে বেরিয়ে আসছে। কিছুক্ষণ পর নিজেকে সামলে নিতে চাইল। চোখের পানি মুছে নিয়ে আয়নার মতো চকচকে সিঁড়ির রেলিংয়ে নিজের ভেজা মুখটা দেখল। ফিসফিস করে বলল,

"আজ না বুঝলেও একদিন ঠিকই বুঝবেন। বুঝবেন আমি আপনাকে কতটা চেয়েছি, কতটা ভালোবেসেছি। কিন্তু হয়তো সেদিন আমি আর আপনার কাছে থাকবো না। হয়তো খুব দূরে চলে যাব…যেখানে আমার অভিমান, আমার ভালোবাসা কোনোটাই আপনাকে আর ছুঁতে পারবে না।

বিজ্ঞাপন
নেশাময় আসক্তি গল্পটি বন্যা সিকদার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় স্পেশাল রোমান্টিক গল্প