দেখতে দেখতে বেশ কয়েকটা দিন কেটে গেছে। সময় তো থামে না, কিন্তু মাহি’র কাছে প্রতিটা দিন যেন শত বছরের সমান দীর্ঘ। আজ সে একা হাঁটছে রাস্তা দিয়ে। পাশে না আছে আহি, আর না আছে মুন। ইচ্ছে করেই কাউকে নেয়নি সঙ্গে। মনটা ভারী হয়ে আছে, ভেতরে অদ্ভুত শূন্যতা। আদিলে’র আচরণ তার একদমই বোধগম্য হচ্ছে না। কখনো অকারণে খোঁজ নেওয়া, তার হাতে হাত রেখে হাসি মুখে কথা বলা, চোখে চোখ রেখে এমনভাবে তাকায় যেন সব অধিকার তারই। আবার হুট করেই দূরে সরে যায়, কথা কমিয়ে দেয়, এড়িয়ে চলে। এই টানাপোড়েন মাহি সহ্য করতে পারছে না।
ভালোবাসার মানুষটার উপেক্ষা—এ পৃথিবীর সবচেয়ে তীব্র কষ্টগুলোর একটি। যে এই কষ্ট পায়, সে বোঝে হৃদয়ের ভেতর কীভাবে শব্দহীন ভাঙন নামে। মাহি মাথা নিচু করে হাঁটছিল। হঠাৎ রাস্তার ধারের পার্কের দিকে চোখ পড়ে যায়। দুপুরের সময়, মানুষজন খুব বেশি নেই। গাছের ছায়ার নিচে দাঁড়িয়ে আছে দুজন মানুষ।
মুহূর্তেই তার পা থেমে যায়। আপনা আপনি মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে,
"আদিল ভাইয়া!
আদিল ও তার পাশে একটা মেয়ে। শুধু পাশে নয়…অনেকটা কাছাকাছি দাঁড়িয়ে। মাহি’র বুকের ভেতরটা হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। মনে হয় পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে। নিঃশ্বাস আটকে আসে। সে স্থির হয়ে তাকিয়ে থাকে। এরপর যা দেখে, তা সহ্য করার মতো নয়। আদিল হাত বাড়িয়ে মেয়েটাকে টেনে নেয় নিজের কাছে। জড়িয়ে ধরে। মুহূর্তেই মাহি’র চোখ ঝাপসা হয়ে যায়। সে আর কিছু না ভেবে দৌড়ে যায় তাদের দিকে।
হঠাৎ সামনে মাহি’কে দেখে আদিল চমকে ওঠে। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটি—মৌরি। মাহি’র চোখ রক্তবর্ণ। সে কোনো কথা না বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে মৌরি’র দিকে। চুলের মুঠি শক্ত করে ধরে টান দিয়ে আদিলে’র কাছ থেকে সরিয়ে দেয়। আচমকা আঘাতে মৌরি ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়ে যায়। ততক্ষণাক মাহি চিৎকার করে ওঠে,
",এই ডাইনি মেয়ে! তোকে বলিনি আমার জামাইয়ের আশেপাশে ঘুরবি না? কতবার বলবো তোকে? তোর সাহস হলো কিভাবে আমার জামাইকে জড়িয়ে ধরিস?
চারদিক নিস্তব্ধ। শুধু তার কণ্ঠের প্রতিধ্বনি হচ্ছে। আদিল দৌড়ে গিয়ে মৌরি’কে উঠায়। চোখে স্পষ্ট রাগ।
“মাহি! তুই ওকে ধাক্কা দিয়ে ফেললি কেন?
মাহি রক্ত চক্ষু স্বরে বলল,
"কেন দিলাম জানেন না? আপনাকে কতবার বলবো, আপনাকে অন্য কারো সাথে দেখলে আমার রাগ হয়! আমি সহ্য করতে পারি না আপনার পাশে অন্য কোনো নারীকে!
“জাস্ট শাট আপ! তুই অন্য নারী কাকে বলছিস? মৌরি আমার ফিউচার ওয়াইফ। ও তোর ভাবি হয়! আর তুই ওকে এভাবে ফেলে দিলি?
কথাটা শুনে মাহি’র বুকের ভেতর ধক করে ওঠে। মুহূর্তেই তার চোখে উন্মাদনা নেমে আসে।
“মানি না! ওই রাক্ষসীকে আমি আপনার বউ, মানি না! আমি হবো আপনার বউ, আমি! এই ডায়নি নয়।
“মাহিিি…
আদিল চিৎকার করে ওঠে।
মাহির কণ্ঠ কেঁপে যায়, তবুও থামে না,
"আপনি যতই চিৎকার করেন, আমি আপনাকেই ভালোবাসি। হ্যাঁ, এখনো ভালোবাসি! আপনি কেন বুঝেন না? কেন আমাকে এমন করে দূরে ঠেলে দেন?
এক মুহূর্তের জন্য আদিলে’র চোখে কিছু একটা ঝলকে ওঠে, কষ্ট? দ্বিধা? না কি দমিয়ে রাখা ভালোবাসা? কিছুই বুঝা যাচ্ছে না। তারপর সে মৌরি’র কাঁধে হাত রেখে অন্য দিকে হাঁটা শুরু করে। এই দৃশ্যটা মাহি সহ্য করতে পারে না। তার ভেতরের সব বাঁধ একসাথে ভেঙে যায়। সে দৌড়ে গিয়ে আবারও মৌরি’র সামনে দাঁড়ায়। আর কোনো কথা না বলে সজোরে এক থাপ্পড় বসিয়ে দেয় মৌরি’র গালে।
তার কান্ডে মৌরি, আদিল দুজনেই স্তব্ধ। মাহি’র বুক উঠানামা করছে দ্রুত। চোখে অশ্রু আর আগুন একসাথে জ্বলছে। সে কাঁপা কণ্ঠে বলে,
"আপনাকে আমি কাউকে দিতে পারবো না। কারো সাথে ভাগ করে নিতে পারবো না। মরতে হলে মরবো কিন্তু আপনাকে ছাড়বো না।
আপনি আমাকে এড়িয়ে গিয়ে ওই রাক্ষসীকে জড়িয়ে ধরে চলে যাচ্ছেন? আপনি বুঝেন না ও একটা ডাইনী, রাক্ষসী! ও কোনোদিন আপনাকে…
বাকি কথাগুলো আর শেষ করতে পারল না সে। আচমকাই নিস্তব্ধতা চিরে উঠল দুটো তীক্ষ্ণ শব্দে। মুহূর্তের মধ্যে আদিলে’র হাত উঠে গিয়ে মাহি’র গালে আছড়ে পড়ল। আঘাতটা শুধু গালে নয়, যেন তার আত্মমর্যাদায়ও গিয়ে লাগল।
আদিল গর্জে উঠল, চোখ দুটো ক্রোধে লাল—
“বেয়াদপ মেয়ে! তুই কিসের ভিওিতে মৌরি’র গায়ে হাত তুললি? ও কি তোর থেকে ছোট? তোর মা-বাবা তোকে এই শিক্ষা দিয়েছে, বড়দের সঙ্গে এভাবে ব্যবহার করতে? আর এই ভালোবাসি ভালোবাসি বলে মাথা খাচ্ছিস কেন? কতবার বলেছি, আমি তোকে ভালোবাসি না! আর কিভাবে বললে তুই বিশ্বাস করবি, বল তো?
মাহি স্তব্ধ হয়ে গেল। তার ছলছল চোখে বিস্ময়, অপমান আর ভাঙনের ছাপ স্পষ্ট। বুকের ভেতরটা যেন হু হু করে উঠল। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। এই প্রথম তার আদিল ভাইয়া তার গায়ে হাত তুলল। সেটাও অন্য একটা মেয়ের জন্য!
কাঁপা কণ্ঠে সে বলল,
"আ আ আদিল ভাইয়া, আপনি আমাকে মারলেন? একটা সামান্য মেয়ের জন্য?
আদিল আবার গর্জে উঠল,
“চুপপপপ! তুই কাকে সামান্য বলছিস? মৌরি আমার ফিউচার, আমার জান, আমার সবকিছু! আর একবার যদি ওর গায়ে হাত দিস, এই জায়গাতেই তোকে খুন করে ফেলব, মাইন্ড ইট!
তার কণ্ঠে এমন কঠোরতা ছিল, যা আগে কখনও শোনেনি মাহি। কিন্তু আশ্চর্যভাবে, সেই হুমকিতে একফোঁটাও ভয় পেল না সে। বরং যেন ভেতরের সব বাঁধ ভেঙে গেল। এক ঝটকায় এগিয়ে গিয়ে আদিল’কে শক্ত জড়িয়ে ধরল সে। বুকের ভেতর জমে থাকা কান্না বিস্ফোরিত হলো প্রবল স্রোতের মতো।
"মেরে ফেলেন আমাকে...টুকরো টুকরো করে ফেলেন! তবুও আমাকে ফিরিয়ে দেবেন না। আমি বাঁচবো না আপনাকে ছাড়া। আপনি কেন বুঝেন না, আমার বেঁচে থাকার জন্য হলেও আপনাকে আমার চাই! আপনি ছাড়া আমার পৃথিবী অন্ধকার।
তার কণ্ঠ ভেঙে যাচ্ছিল, আঙুলগুলো শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছিল আদিলে’র শার্ট। যেন ছেড়ে দিলে সে চিরতরে হারিয়ে যাবে। আদিল এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। তার চোখে বিরক্তি স্পষ্ট, সে ধীরে ধীরে মাহি’র হাত সরিয়ে দিল নিজের শরীর থেকে।
“ভালোবাসা জোর করে আদায় করা যায় না। তুই যেটাকে ভালোবাসা ভাবছিস, সেটা হয়তো আসক্তি। আমি তোকে কখনও সেই আশা দিইনি। তুই নিজে নিজে স্বপ্ন বুনেছিস। আর এখন তার দায় আমার ওপর চাপাচ্ছিস।
মাহি নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার চোখে এখন আর ঝড় নেই, শুধু গভীর শূন্যতা। যে মানুষটাকে সে নিজের সবকিছু ভেবেছে, সে-ই আজ তাকে ‘ভুল’ বলে অস্বীকার করছে।
তবুও মাহি থামলো না। বরং যেন সমস্ত লজ্জা, ভয়, অপমান ছুড়ে ফেলে দিয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো আদিলে’র সামনে। চোখ দুটো রক্তাভ, অশ্রুতে ভেজা মুখ, কাঁপা ঠোঁট তবুও কণ্ঠে অদ্ভুত এক দৃঢ়তা। হুংকার তুলে সে বলে উঠল—
"হ্যাঁ, হ্যাঁ! আপনি আমার আসক্তি। #নেশাময়_আসক্তি আপনি আমার! আমার জীবনের অংশ আপনি। যাকে ছাড়া এই মাহি কিছুই ভাবতে পারে না। আপনি জানেন ভালোবাসা কী? জানেন ভালোবাসার দহন কতটা ভয়ংকর? ভেতর থেকে মানুষকে কীভাবে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়?
তার কণ্ঠের প্রতিটি শব্দ যেন বুক ফেটে বেরোচ্ছে। আশেপাশের নিস্তব্ধতা ভারী হয়ে উঠেছে। দুপুরের রোদও যেন তপ্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই উত্তপ্ত মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে।
আদিল নিশ্চুপ। তার চোয়াল শক্ত, চোখে বিরক্তি আর কঠোরতার ছাপ। অথচ মাহি’র কান্নাভেজা মুখের দিকে তাকাতে তার কেমন অস্বস্তি হচ্ছে—তা সে নিজেও বুঝতে পারছে না।
হঠাৎ মাহি নিচু হয়ে আদিলে’র পা দু’টো আঁকড়ে ধরে বসে পড়ে।
কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলে,
"আদিল ভাইয়া, আমাকে ক্ষমা করে দিন না। আপনার জীবনের একটা অংশ করে নিন আমাকে। সত্যি বলছি, আপনি যা বলবেন আমি তাই তাই করবো। আপনার কথার অবাধ্য হবো না, আপনার সব কথা শুনবো। তবুও আমাকে একা করে দেবেন না। আমি পারবো না…আমি একটুও পারবো না আপনাকে ছাড়া।
সে হাওমাও করে কাঁদছে। তার কান্না আর্তনাদের মতো শোনাচ্ছে। এমন আকুতি, এমন অসহায় ভালোবাসা যে কারো বুক কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো। কিন্তু আদিল যেন নিজেকে পাথর বানিয়ে ফেলেছে। কঠোর, রুক্ষ স্বরে সে বলল,
“মাহি, পা ছাড় আমার।
মাহি মাথা নাড়ে, আঁকড়ে ধরা হাত আরো শক্ত করে,
"ছাড়বো না! আপনি বলেন আপনি আমার হবেন। আপনি কি আমাকে একটুও বুঝেন না? কেন বুঝেন না আমায়? একবার, একবার শুধু বুঝে দেখেন না আমার জায়গা থেকে।
আদিলে’র ধৈর্য যেন শেষ হয়ে যায়। হুট করে সে মাহি’কে জোরে সরিয়ে দেয়। মাহি ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়ে যায়।
গর্জে উঠে আদিল বলে,
“আমি কিছুই বুঝতে চাই না! তুই এখান থেকে চলে যা। তোকে দেখলেও এখন আমার ঘৃণা লাগে। অসহ্য লাগে তোর মুখ দেখলে। চলে যা এখান থেকে, আর কখনো এই মুখ নিয়ে আমার সামনে দাঁড়াবি না।
এই কথাগুলো যেন ছুরির ফলার মতো মাহি’র বুকের ভেতর বিদ্ধ হয়। কিছুক্ষণ সে মাটিতেই বসে থাকে, চোখ স্থির, কান্না থেমে গেছে—কিন্তু সেই থেমে যাওয়া কান্নার ভেতরেই জমে আছে অসীম যন্ত্রণা। মৌরি দূরে দাঁড়িয়ে আছে, বিস্মিত আর খানিকটা অস্বস্তিতে। ধীরে ধীরে মাহি উঠে দাঁড়ায়। চোখের পানি হাতের পিঠ দিয়ে মুছে নেয়। তার দৃষ্টিতে এবার আর আগের সেই আকুতি নেই, আছে এক অদ্ভুত শূন্যতা।
কাঁপা গলায় সে বলে,
"আমাকে আপনার ঘৃণা লাগে? আমার মুখ দেখলে অসহ্য লাগে? আমার ভালোবাসা আপনার কাছে শুধুই ফেলনা?
আদিল এখনো নিশ্চুপ। তার নীরবতা যেন হাজারটা কথার চেয়েও বেশি নির্মম। মাহি’র গলায় এসে সব শব্দ আটকে যাচ্ছে। চোখ দুটো টলমল করছে, তবুও ঠোঁটের কোণে এক বিদ্রূপাত্মক হাসি টেনে সে বলে,
"একজন ভিক্ষুক দশ টাকা পাওয়ার জন্য যতটা আকুতি করে, আমি তার থেকেও ভয়ংকর ভাবে আপনাকে আল্লাহর কাছে ভিক্ষা চেয়েছি! তবুও ওই খোদা আমার করে আপনাকে দিল না!
তার বুক ওঠানামা করছে দ্রুত। তপ্ত শ্বাস ছেড়ে আবার বলে,
"কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। যাকে আমি চাই, সে তো আমাকে দু’চোখে দেখতেই পারে না। তার কাছে আমি একটা খেলার পুতুল। যখন ইচ্ছে হলো কাছে টেনে নিলেন, যখন ইচ্ছে হলো দূরে সরিয়ে দিলেন। আমার অনুভূতি? আমার কষ্ট? সেগুলোর কোনো দাম নেই আপনার কাছে!
হঠাৎ মাহি হাত থেকে আংটিটা খুলে নেয়। সেই আংটি, যেটা একদিন তার কাছে ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে দামি জিনিস। কাঁপা হাতে সেটা আদিলে’র দিকে বাড়িয়ে দেয়।
"যান, দিলাম আপনাকে মুক্ত করে। আমার জীবন থেকে, চিরতরের জন্য। আপনার দেওয়া কোনো গিফট লাগবে না আমার আর আপনাকে লাগবে।
তার চোখ দিয়ে অনবরত অশ্রু ঝরছে, কিন্তু কণ্ঠে দৃঢ়তা,
"মাহি নির্লজ্জ হতে পারে, বেহায়া হতে পারে কিন্তু তারও আত্মমর্যাদা আছে। যাকে পায়ে ধরে পেলাম না, তাকে আর কোনো কিছুর বিনিময়ে চাইবো না। আজ থেকে আপনি আর আমি আলাদা। শ্বাস নিতে না পেরে যদি মরেও যাই, তবুও আপনাকে আর কোনোদিন চাইবো না!
আংটিটা আদিলে’র হাতে রেখে দু’কদম এগিয়ে যায় মাহি। প্রতিটি পদক্ষেপে যেন বুকের ভেতরটা ছিঁড়ে যাচ্ছে। তবুও থামে না।
হঠাৎ থেমে আবার পেছন ফিরে তাকায়। চোখে তখন আর ভালোবাসার মিনতি নেই, আছে ক্ষতবিক্ষত আত্মসম্মানের আগুন।
"এই চলে যাচ্ছি, আর কোনোদিন ফিরবো না আপনার জীবনে। কিন্তু শুনে রাখুন, একদিন আপনিও আমার মতো হাহাকার করবেন। আমাকে পাওয়ার জন্য ছটফট করবেন। আমার অনুপস্থিতি আপনাকে পুড়িয়ে মারবে। তবুও আমাকে আর ফিরে পাবেন না, বলে দিলাম!
এই বলে মাহি নিজের গন্তব্যে হাঁটা দেয়। পেছন ফিরে একটুও তাকায় না, সে আর পেছন ফিরে তাকাবে না। তাকে যেভাবে তিলে তিলে কষ্ট দেওয়া হয়েছে তার পরিনাম সবাই একদিন পাবে, পাবেই পাবে।