"আমি আহিশকে বারন করেছিলাম আন্টি, কিন্তু ও আর জেসি মিলে.... "
দোয়েলের কথাটা কানে যেতেই আহিশ রেগে বোম, দোয়েলের চুলের মুঠি নিজের হাতের আয়ত্তে নিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠলো...
" বারণ করেছিলাম মানে কি হ্যা? ওখানে থাকতি তুই? কি হয়েছে আমি নিজের চোখে দেখেছি,তার পরও ওখানে রেখে আসতাম তোদের? বড় পাখি, আর একবার এমন কথা বলবি তো গালে ফেডের করে মারবো, ফুরুৎ করে দাঁত পড়ে যাবে তোর। "
আহিশ দিয়েছিলো একটি ভিলেনি স্টাইলে ডায়লগ, কিন্তু তার ডায়লগ শুনে চড়ুই হু হা করে হেঁসে উঠলো। জুলেখা ভ্যাবলার মতো চেয়ে বললো...
" এই ফেডের করে, ফুরুৎ করে, এসব আবার কেমন কথা আহিশ?"
আহিশ অপ্রস্তুত হয়, নিজের কথা মাথায় আসতে নিজেরই হাসি পায় সে। তবুও রাগটা প্রকাশ করে রাখার ভান ধরে বলে..
" ওও আমি নিজেও জানি না, রাগের মাথায় বেরিয়ে গেছে মুখ থেকে। "
চড়ুই সোফায় হেলে পড়লো সাবিহার পাশে। আরামসে বললো...
" বোন যা ইচ্ছে বলুক,,তুই বহুদিন পর একটা হিরোর মতো কাজ করলি রে আহিশসার বাচ্চা। আজ সময় মতো না গেলে কাল আমার জানাজায় যেতি তোরা।"
চড়ুইয়ের উল্টা পাল্টা কথায় আহিশ বিরক্ত হয়ে তাদের ব্যাগ গুলো দুটো দু কাঁধে তুলে বলে...
"আম্মু,বড় আম্মু। এই দুই বেডি কাল রাত থেকে ঘুমের অভাবে আওলাঝাওলা বকা শুরু করছে। এদের ঘুম পাড়াও। "
বলেই আর দাঁড়ায় না সে, হনহনিয়ে পাখিদের ব্যাগ দুটো নিয়ে উপরে চলে যায়।
আয়েশ এগিয়ে এসে দোয়েলের গালে আদুরে হাত বুলিয়ে বলে..
"চোখ মুখের কি অবস্থা হয়েছে দুটোর, ডিনারটা করে নে, তারপর ঘুমিয়ে পরিস.. "
দোয়েল বলে..
"নাহ আন্টি, আঙ্কেলরা আসুক, পরে একসাথে ডিনার করবো। আমি আগেই একটু ঘুমাই, আর পারছি না। "
আয়েশা কোমলতা মিশিয়ে দোয়েলের কপালে চুমু দেয়,তা দেখে চড়ুই মুখ ফুলিয়ে বললো..
"দেখছি দেখছি, সবই দেখছি। সব আদর ওকেই করো,আমি তো কিছু না।"
চড়ুই পাখির এমন অভিমান দেখে হেঁসে ফেলে আয়েশা সহ উপস্থিত সবাই। আয়েশা এগিয়ে এসে চড়ুইয়ের কপালেও চুমু খেয়ে বলে..
"তুই তো আরেকটা লক্ষ্মী মেয়ে আমার, তোকে আদর না দিয়ে থাকতে পারি? "
চড়ুই হাসে,নির্মল হাসি যেন ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে মেয়েটার, তার এমন দুষ্ট মিষ্টি স্বভাব গুলোই যেন আরো সহজে সকলের মন কেঁড়ে নিয়েছে। সাবিহা বললো...
"অনেক আদর খাওয়া হয়েছে আম্মু, এবার যা দুটোতে নিয়ে রেস্ট নে।"
চড়ুই বলে..
"বোন ঘুমাক গিয়ে। আমি তো বিকেলে একটু ঘুমিয়ে নিয়েছি দানাবলটার গাড়িতে। আমার এখন ঘুম পাচ্ছে না আর।"
দোয়েল ক্লান্ত থাকায় জেসির সাথেই চলে যায় তার রুমে। এদিকে চড়ুই পাখি সোফায় বাবু হয়ে ফিরে বসে সাবিহার দিকে। সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলে..
"আচ্ছা আন্টি, আমি যদি তোমার ছেলের নামে তোমার কাছে বিচার দিই তাহলে কি তুমি আমায় বকবে? "
সাবিহা দু পাশে মাথা নেড়ে বলে..
"না নাহ, একদম বকবো না। কি করেছে আমার ছেলেরা? "
"ঠিক আছে, আজ তাহলে তোমার ছেলে মানে ঐ দানাবলটার নামে দুটো বিচার দিবো। ওকেয়? "
"আচ্ছা, শুনি কি করেছে. "
চড়ুই বিজ্ঞদের মতো হাতের একটা আঙুল তুলে কাউন্ট করে বলে..
"প্রথমত, ঐ দানাবলটা আজকে আমাকে মাত্র চারটা রসগোল্লা খেতে দিয়েছে, পরের গুলো তো দানবের মতো আমার মুখ থেকে বের করিয়েই নিলো খচ্চরটা। "
জুলেখা এসে বসলো চড়ুইয়ের আরেক পাশে। বললো...
"বাবাহ! এতো আবির বাবা বেশ অন্যায় করে ফেলেছে। চড়ুই পাখির মুখ থেকে রসগোল্লা কেড়ে নেওয়া? "
চড়ুই এবার দুজনকেই আগ্রহ নিয়ে বলতে লাগলো..
"হ্যা, এরপর দ্বিতীয়ত, সে আজকে আমার নাকের শ্লেষা খেয়েছে। "
"এ্যা!!!"
সাবিহা, আয়েশা, জুলেখা ভ্যাবলার মতো একে অপরের দিকে তাকায়, এটা আবার কি কথা?
এদিকে আবির নিবিড় জিসান মাত্রই ছাদ থেকে নেমে এলো, এই সময় চড়ুইয়ের মুখে এমন কথা শুনে থতমত খেয়ে গেলো আবির। সাবিহা আস্তে করে বোকার মতো প্রশ্ন করলো...
"শ্ শ্লেষা খেয়েছে ম্ মানে? "
চড়ুইও ভালো মেয়ের মতোই নিজের নাকের ডগায় আঙুল দেখিয়ে বললো...
"হ্যা তো, এই যে এখানটায় চুমু খেয়েছে ঐ দানাবলটা। "
ব্যাস, চড়ুই তো শান্ত ভাবে একটা বোম ফাটিয়েই দিলো, আবির এখন শুধু রকেটের গতিতে পাতাল ফেড়ে উড়ে যাওয়া বাকি। নিবিড় পাশ থেকে ঘাড় ঘুরিয়ে বাঁকা হেঁসে টেনে টেনে বললো...
"ভাইইইই?"
নিবিড়ের কন্ঠ কানে আসতেই নিচ থেকেও সবাই হা হয়ে তার দিকেই তাকায়। আবির অপ্রস্তুত হয়ে বলে ওঠে...
"ম্ ম্ মিথ্যা কথা, এই মেয়ে, মিথ্যা বলছো কেন? "
বলতে বলতেই আবির এগিয়ে আসে চড়ুইয়ের দিকে। চড়ুইও চোখ ছোট ছোট করে কোমড়ে হাত গুঁজে বললো..
"কি মিথ্যা বলেছি? আপনি বলেন নি আপনার খিদে পেয়েছে, আমার নাকটা কেঁদে কেঁদে লাল করে ফেলায় একদম রসগোল্লার মতো লাগছে, তারপর আপনি চুমু খান নি আমার নাকে? "
আবির যেন আরো অপ্রস্তুত হয়, কি বলতে কি বলবে যেন বুঝে উঠতে পারছে না দা গ্রেট আবির বিন চৌধুরী নিজেই। আমতা আমতা করে বলে উঠলো...
"হ্ হ্যা তো? ন্ নাকের ডগায় চুমু খেয়েছি, শ্লেষা খেয়েছি নাকি, তোমার শ্লেষা কি নাকের ডগা দিয়ে বের হয়? "
চড়ুইও তাল মিলিয়ে বলতে লাগলো..
"হুহ,আপনার বের হয় নাকের ডগা দিয়ে শ্লেষা। আপনি আমায় চুমু খেয়েছেন মানে শ্লেষাও খেয়েছেন। "
এমন সময় বাড়ির মূল দরজা দিয়ে ঢুকতে ঢুকতে আজমল চৌধুরী বলে ওঠে....
"কে কাকে চুমু খেয়েছে শুনি? "
গেলো গেলো, আবিরের আজ কপালের মতো লুঙ্গি খুলে গেলো সবার সামনে, ওহ থুরি, আবির তো প্যান্ট পড়ে আছে।
হতাশার চরম পর্যায়ে গিয়ে আবির এবার বা হাত কোমড়ে ঠেকিয়ে, ডান হাত দিয়ে নিজের কপাল সহ চোখ নাক ঢেকে ফেললো। আর মনে হচ্ছে পৃথিবীর সব মায়া ত্যাগ করে এখনই চলে যায়।
এদিকে চড়ুই তো আজমলদের দেখে মহা খুশি, একট পা এগিয়ে বলতে নিলো...
"আরেহ আঙ্কেল, ভালো হয়েছে তোমরাও চলে এসেছো। আজকে এই দানাবলটা, মানে আপনার এই সবুজ চোখওয়ালা ছেলেটা আমার নাকের.... "
আর পারলো না, তার আগেই তার টেপ রেকর্ডারের মতো মুখটা চেপে ধরলো আবির। আর একটু হলেই যেন আবিরের প্রাণটা উড়ে যাচ্ছিলো...
"আর একটা ওয়ার্ড মুখ থেকে বের হবে তোমার তো আমি তোমাকে এবার বাইরের ডাস্টবিনে ফেলে আসবো। তখন নিজের শ্লেষা নিজে খেও। "
চড়ুই ছটপট করে আবিরের থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য। আসমত তা দেখে বলে...
"আবির বাবা, কি করছিস? ছোট পাখিকে ছেড়ে দে, "
"আ্ আসলে চাচা, এই মেয়েটা আজকে কি না কি খেয়ে এসে উল্টোপাল্টা বকছে। এর মুখ ছাড়লেই আমার বিপদ। "
আলভি বলে..
"মানে? "
"মানে টানে কিছু না চাচ্চু, এই মেয়ে, চলো তুমি এখান থেকে। "
বলতে বলতেই আবির চড়ুইয়ের মুখ চেপে ধরে এক প্রকার টেনে টেনেই উপড়ে নিয়ে যেতে লাগলো। এদিকে তার এমন কান্ড দেখে আজমলরা ছাড়া উপস্থিত সবাই মুখ টিপে টিে হাসতে লাগলো।
------
"জীবনে প্রথমবার একটি মেয়েকে চুমু খেলি ভাই,কপাল দেখ,তাও বাড়ির সবার সামনে ফাঁস হয়ে গেলো। "
নিবিড় হাসতে হাসতে বিছানায় লুটিয়ে পড়লো যেন। আবির আড়চোখে তার দিকে তাকিয়ে ফের তাকায় আহিশের দিকে। রাগে রি রি করতে করতে বলে..
"তোকে বলেছিলাম ওদের দেখে আয়,সোজা বাড়িতে নিয়ে আাতে কে বলেছে তোকে?"
আহিশ বিছানায় উপুর হয়ে বালিশে মুখ গুঁজে বললো...
" ওর মায়ের ভাইয়ের ব্যাটারা এসেছে, জানো'য়ার কতগুলা। আমি গিয়ে দেখি ঐ শালায় চড়ুইয়ের সাথে... "
এতক্ষণের হাস্য রসাত্মক মনোভাব যেন উভে গেলো সবার মধ্য থেকে। আবির এক কদম এগিয়ে এসে বললো...
" কি করেছে ওরা?"
আহিশ মুখ বেজার করে বিরবির করে বললো..
" গরম কফি ফেলে দিয়েছিলো ইচ্ছে করে ছোটপাখির গায়ে, তারপর ঝেড়ে দেওয়ার নাম করে ওর গায়ে বাজে ভাবে.... যাই হোক। ঐ সময় দাঁড়িয়ে আমি পারি নি ওদেরকে রেখে আসতে। যা তা হয়ে যেতে পারে ওখানে থাকলে। "
আবির নিবিড়ের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়, নিবিড় বিরবির করে বলে..
"নেহাতই কাজিন বলে.. "
তার কথা শুনে আহিশ বিরক্ত নিয়ে বলে..
"বা'লের কাজিন। ওরা পাখিদের কেউ না। আরেহ, সৎ মায়ের আত্মীয় কখনো নিজের হয় নাকি। "
আবির চমকায়, জিজ্ঞেস করেই বসে...
"ওদের মা নেই? "
"নাহ, এক্সিডেন্টে মারা গেছে, তারপর ওদের হিটলার বাপ বিয়ে করে ঐ খসেটি কে। আর তখন থেকেই পাখিরা.... "
আহিশ থেমে যায়, এসব বলতে তারও ভালো লাগে না। কথা ঘুরানোর জন্য বললো...
"ওসব বাদ, আগে তোরা বল, বেচারা সুহাসকে কেন মেরেছিলি? "
নিবিড় বিরক্ত হয়ে বললো..
"সুহাস কোত্থেকে এলো? আগে ভাইকে জিজ্ঞেস কর, ও রসগোল্লা খেয়েছিলো কেন? "
আবির এবার চোখ গরম করে তাকায় নিবিড়ের দিকে। তখনই জেসি এসে দাঁড়ায় দরজার সামনে...
"ডিনারের জন্য ডাকছে সবাইকে।নিচে যা। "
আবির সাথে সাথেই বললো..
"আমি খাবো না, তোরা যা। "
জেসি উত্তর দিলো..
" আমি জানি না, বড় মা সবাইকে যেতে বলেছে। আমি যাই বড়পাখিকে ডেকে আনি.. "
বলে যেতে নিলেই নিবিড় লাফিয়ে খাট থেকে নেমে এগিয়ে আসে। হেঁসে বলে..
"তুই এত কষ্ট করবি কেন বল বোন, সারাদিন অনেক খেটেছিস। এখন যা আরামসে খেয়ে নে। বড় পাখিকে না হয় আমিই ডেকে আনছি। "
জেসিকে আর বলার সুযোগও দিলো না, নিজেই হাটা ধরলো জেসির রুমের দিকে নিবিড়।
"মিস এটম, ওও মিস এটম? "
আহাহা, কি মিষ্টি ডাক, নিবিড় ছাড়া এমন ডাক আর কারো মুখে মানাবেই না। দোয়েল একটু নড়েচড়ে ওঠে। ক্লান্ততায় ঘুম বেশ দারুন ভাবেই চেপে ধরেছে তাকে। ঘাড়ের দিকে চুলকাতে চুলকাতে বললো...
"বোন, মশা কামড়াচ্ছে। "
নিবিড় কপট রাগ দেখিয়ে বললো..
"ধূর শা'লি। আমি তোর বোন লাগি কোন দুঃখে। ডাকার হলে জামাই ডাক, জান ডাক। বোন কি হ্যা? "
দোয়েলের কানে আদেও কিছু পৌঁছেছে কিনা কে জানে, সে নিজের মতোই বলতে লাগলো...
"মশা কামড়াচ্ছে তো। "
এবার নিবিড় গকটু অসহায়ের মতো ফেইস করে বলতে লাগলো..
"আহারে, আমার এটম বোমটাকে আমি কামড়ানোর বদলে রাক্ষস মশায় কামড়াচ্ছে, এই মশা দূর হ, যাহ.. "
বলতে বলতেই দোয়েলের মুখের উপর হাত দিয়ে মশা তাড়াতে লাগলো। নিবিড়ের চোখ আটকায় দোয়েলের মুখশ্রীতে। বদ্ধ চোখ দুটোর দিকে তাকাতেই নিবিড়ের কেমন যেন লেগে উঠলো, একটি প্রশান্তির দোলা, মনকে যে শীতল করার প্রয়াশ চালায় সে। চোখের ঘন পাপড়ি গুলো থেকে থেকে কেঁপে উঠছে দোয়েলের। তাতেই যেন ধ্যান হারায় নিবিড়। মেয়েটার ঠোঁট গুলো জলের অভাবে যেন শুকিয়ে কাঠ, নিবিড় একদম কাছে চলে যায় দোয়েলের। দৃষ্টি তার শুষ্ক ঠোঁটে নিবদ্ধ করে ফিসফিসিয়ে বলে....
"ঠোঁটের যত্ন নাওনা কেন মেয়ে? আমার জিনিসে এত অবহেলা করছো তুমি? "
কেঁপে ওঠে দোয়েল। মুখের উপর গরম নিশ্বাস পড়তেই ঘুম ছুটে যায় তার। নড়চড় করতে দেখেই নিবিড় সরে বসে। মুখের ভাব ভম্গি পরিবর্তন করে নেয় মুহুর্তেই।
দোয়েল চোখ মেলতেই নিবিড়কে পাশে বসা দেখে উঠে বসে দ্রুত, নিবিড়ও তার চিরচারিত ফাইজলামি শুরু করে বলে..
"আল্লাহর ওয়াস্তে কুম্ভির ঘুম ভাঙছে তাহলে। আমি গলা ফাটিয়ে ফেলেছি ডাকতে ডাকতে। খেতে চলো এবার।"
------
খাবার টেবিলে আবির একদম নীরব। জড়োসড়ো হয়ে মাথা নিচু করে খাচ্ছে কোনো মতে। এদিকে সাবিহারা তার এমন কান্ড দেখে মুখ টিপে হাসে।
দোয়েল চুপচাপ খাচ্ছে, তবে চড়ুই পাখির বুলি কি এত সহজে ফুরানোর কথা? খাচ্ছে কম বকছে বেশি। তার কাছে কাহিনীর অবাব নেই, এই সেই করে কথা বলতে বলতে সে পুরো রাত কাটিয়ে দিতে পারবে। আবিরও ভয়েই আছে। তখনকার মতো যদি এই মেয়ে আবার আব্বুদের সামনে ওমন কথা তুলে তাহলে তো কাহিনি খতম। ঠিক হলোও তাই। চড়ুই নিজের একটা কথার ইতি টেনে আজমলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতেই শুরু করলো...
"আঙ্কেল, আজ কি হয়েছে জানেন? আপনার এই দ...."
"আআআআআ"
কথার মাঝেই পাশ থেকে দোয়েলের এমন চিৎকারে থতমত খেয়ে যায় চড়ুই।
"কি হলো বোন? চেঁচালি কেন?"
দোয়েল ব্যথায় মুখ কুঁচকে নিজের সামনে বরাবর তাকায়, আবির নিবিড় দুজনেই চোখ গোলগোল করে তাকিয়ে আছে। এই কাজটা কার তা ঠাওর করতে পারছে না দোয়েল৷ এদিকে আয়েশারা সবাই বার বার জিজ্ঞেস করছে কি হয়েছে, দোয়েল মুখ নামিয়ে আমতা আমতা করে বলতে নিলো...
"প্ পায়ে কে যেন... আ্ আসলে পায়ে ব্যথা করছে আ্ আন্টি। সারাদিন এদিক ওদিক ছোটাছুটি করেছি তো৷ তাই একটু... "
সাবিহা সস্থির নিঃশ্বাস ফেলে বললো..
"ওহহ,আমি তো ভয় পেয়ে গেছিলাম। এভাবে চিৎকার করে কেউ। "
"স্ সরি আন্টি.. "
"সমস্যা নেই, খেয়ে নে। পায়ে মুভ লাগিয়ে নিস, ব্যাথা সেরে যাবে।"
দোয়েল মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিয়ে আবার খাওয়া শুরু করে। এদিকে নিবিড় চোখ কোনা করে তাকায় আবিরের দিকে। আবিরও মুখ কুঁচকে ফিসফিসিয়ে বললো..
"ওয়াট? "
"তুই তো বহুত খাতারনাগ নিকলা ভাই, গাছেরও খাবি, আবার তলারও ফুরাবি? আমার বান্দিরে সিগনাল দিলি কেন? "
"আবেহ, মিসটেক হয়ে গেছে। সরি। "
"মিসটেক কি করে? "
"আমি ভাবছিলাম ওটা পেঙ্গুইনটার পা। "
আবিরের পাশেই আহিশ বসা ছিলো। আবিরের ফিসফিসানি কথা তার কানেও যায়, এবার সে গলা কাশ দিয়ে বললো...
"ছোটপাখি, তোর দেখি বাজে অভ্যাস গুলো আর গেলো না। চেয়ারেও তোকে পা উপরে ভাজ করে বসতে হবে?"
চড়ুই সাথে সাথেই উত্তর দিলো..
"তোর সমস্যা কি ব্যাটা। গরুর মতো গিলছিস, গিল না?"
এদিকে আবির ভ্যাবলার মতো মুখ করে নিবিড়ের দিকে তাকায়, আর নিবিড় সেন্টি ইমোজি লুক দিয়ে তাকায় আবিরের দিকেই।