Mr and Mrs Twins Return

পর্ব - ৫

🟢

"আই কান্ট বিলিভ দিস ভাই, একটু আগে চড়ুইকে ব্লা ব্লা বললি তুই। এখন আবার তাকে ছোঁয়ার অপরাধেই ঐ লোকটাকে এভাবে মারলি তুই? মানে ব্যাপারটা কেমন চুদলিংপং হয়ে গেলো না? "

নিবিড়ের কথায় আবির বাঁকা চোখে তাকায় তার দিকে। বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে বলে...

"একটা শান্তির ঘুমের জন্য এটা করেছি, আর তুই এতরাতে আমার রুমে এসে ঘুমাতেই দিচ্ছিস না। "

নিবিড় এগিয়ে এসে আবিরের পাশেই লাফিয়ে শুয়ে পরলো উপুর হয়ে। আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলো..

"মানে ভাই, আমি কি সামথিং সামথিং ধরে নিবো? আম্মুকে তাহলে বলতেই পারি যে, আম্মু আমি ঐ এটমকে, আই মিন বড় পাখিকে আর ভাই ছোট পাখিকে বিয়ে.... "

আবির কসিয়ে একটা লাথি মারে নিবিড়ের গায়ে।..

"ফা'ক অফ দিস ছোট পাখি। আবে.. ও নামেই পাখি ভাই, আসলে ও একটা পেঙ্গুইন, সারাদিন পেঙ্গুইনের মতো লাফায় দেখিস নি? আর মুখ একটা তো আল্লাহর দান, পক পক পক পক করতেই থাকে। এমন পাগলকে বিয়ে করা যায় নাকি। "

"তাহলে আজ ওকে ছুঁয়েছে বলে লোকটাকে মারলি কেন?"

"ঐ পেঙ্গুইনের জায়গায় অন্য কেউ থাকলেও আমি সেইম কাজটাই করতাম। দ্যাটস ইট।"

"আমার কেন জানি... "

"নিবিড়, আমার ঘুম পাচ্ছে, তুই বের হ আমার রুম থেকে। "

"উঠতে ইচ্ছে করছে না ভাই। "

"তাহলে চুপচাপ ঘুমা, আর একটাও ফালতু কথা মুখ দিয়ে বের করবি না। "

---------------

সকাল বেলার এই সময়টায় চৌধুরী বাড়ির রান্নাঘরটায় আলাপ চলে তিন জা এর। আজও তার ব্যতিক্রম নয়। সাবিহা পাতিলে দক্ষ হাতে খুন্তি চালাতে চালাতে বললেন..

"মেঝো, কাজ শেষ হলে পাখিদের ফোন করার কথা মনে করিয়ে দিস তো একটু। মেয়ে দুটোর শরীরের অবস্থা তো তেমন একটা ভালো না। "

আয়শা উত্তর দিলো..

"জেসিকেই বলবো না হয়, আজ তো ভার্সিটি যাবে বলে মনে হচ্ছে না একটাও। জেসিকে ডাকলাম ঘুম থেকে, তেমন তাড়া নেই দেখি মেয়ের। "

জুলেখা বলে..

"কাল যা হলো, ঘুমাতে ঘুমাতেই তো রাত পাড় হয়ে গেলো। একদিন রেস্ট নিক ওরা। "

"ভাবি দেখেছো তো, আবির নিবিড়কে বেশ মানিয়েছে না ওদের সাথে? আমি বলি কি এবার বড় ভাইয়ের সাথে কথাটা বলেই রাখো তুমি। "

আয়শার কথায় সাবিহা হাসলো হালকা। বললো..

"বলবো না হয়, কিন্তু তার আগে তো জিসানের বিয়েটা দিতে হবে। ছেলেটার বিয়ের দিন খন ঠিক কর এবার। "

"আমি আর কি বলবো ভাবি, আহিশ, জেসি ওদের এই এক্সাম সেই এক্সাম করে করেই তো বিয়েটা আটকে আছে। জিসানের তো এক কথা, বিয়েটে সবাই টেনশন ফ্রী হয়ে আনন্দ করবে, এখন দেখি কি বলে আবার। "

"কি নিয়ে কথা হচ্ছে শুনি? "

বাড়ির তিন কর্তাও একসাথেই এসে বসলেন ব্রেকফাস্ট টেবিলে। আজমলের কথায় সাবিহা উত্তর করে..

"আর কি নিয়ে কথা হবে, ছেলে মেয়ে গুলো তো বড় হচ্ছে, বাড়িতে সদস্য কি আর বাড়বে না? "

আজমল উত্তর দেয়..

"বুঝেছি, তা জিসান কেথায়? সে আসুক,এবার কি বলে শুনি। "

"আমায় নিয়ে কথা হচ্ছে বুঝি?"

সিঁড়ি দিয়ে নামছে চৌধুরী বাড়ির তিন রাজপুত্র একত্রে, তাদের মধ্যে থেকেই জিসান কথাটি বলে এগিয়ে এসে টেবিলে বসে সবার সাথে। আবির আর নিবিড়ও বসে সাথে।

আসমত চৌধুরী এবার একটু সিরিয়াস ভঙ্গিতে বললেন..

"বলছি, তারা মাকে আর কতদিন অপেক্ষা করাবে তুমি? মেয়েটাকে ভালো পেয়ে তো বারাবারি করছো, এবার বিয়ের দিনটা কি আমরা ঠিক করতে পারি? "

জিসান বলে..

"আরেহ আব্বু, আমি তো সবার কথা ভেবেই পিছিয়েছি বিয়ে, আহিশ জেসি ওদের এক্সাম ছিলো আর আবির নিবিড়ও তো দেশে ছিলো না তখন। আমি একা একা বিয়ে করবো নাকি বলো? "

এতটুকু বলেই জিসান বিরবির করে বলে.

" আর এমনিতেও বউকে নিজ থেকে দূরে রাখতে চায় নাকি মানুষ। "

"ঠিক আছে, তাহলে আমরা তারা মায়ের পরিবারের সাথে কথা বলে বিয়ের ডেট ফিক্সড করবো। আপত্তি যেন না দেখি। "

একটু পরেই আহিশ তারাতারি করে নেমে এসে দেখে আবির নিবিড়ের নাস্তা প্রায় শেষ দিকে। সে টেবিল থেকে একটি ব্রেড নিয়ে কামড় বসাতে বসাতে বললো..

" ভাই, আমাকে একটু লেফট দিবি? "

আবির তাকিয়ে প্রশ্ন করে..

"ভার্সিটি যাচ্ছিস, অথচ ব্যাগ নেই। "

"নোপ ভাই, ভার্সিটি আজ যাবো না, পাখিরা সুস্থ হোক, দেন যাবো। আমাকে তোমরা আরেক জায়গায় নামিয়ে দিস প্লিজ।"

নিবিড় সম্মতি জানায়। আবিরও আর কিছু বলে না।

খাওয়া শেষ করে আবির,নিবিড় আহিশ একত্রেই বেরিয়ে আসে। গাড়িতে বসে আহিশ বলে..

" ভাই, কাল একটু আমাদের ভার্সিটি যেতে হবে তোদের। ঝামেলা যখন লেগেছে, আই থিং ঐ ছেলে গুলো টিসির জন্য লাগবেই আমাদের পিছনে। তোরা প্লিজ একটু প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলে নিস৷ "

"সময় করতে পারলে যাবো৷ "

----------

পরদিন যথারীতি ভার্সিটি ক্যাম্পাসে একত্রিত হয় আহিশ, জেসি,সুহাস,রাবতি,কেয়া আর পাখিরা। একটু আগেই প্রিন্সিপালের রুম থেকে বেরিয়ে এসেছে তারা সাতজন। প্রিন্সিপাল স্যার সহ আরো কয়েকজন স্যারও ওয়ার্নিং দিয়েছে তাদের। দোয়েল চিন্তিত কন্ঠে বললো...

"আমি জানতাম ঐ শয়তানটা কথা রাখবে না, শুয়োরটা কাল এত কিছু করালো, আজ আবার সেই বিচারও দিলো।

সুহাস বিরক্ত হয়ে বলে..

" আরে আমি তো তোদের সিনিয়র, আমায় কেন ওয়ার্নিং দিলো ইয়ার? "

চড়ুইও জোস নিয়ে বললো..

"আহ আসুক ঐ বেয়াদপ গুলো , দেখাবো মজা ওদের। "

দোয়েল সতর্ক করে বলে..

"একদম না বোন, এবার নিশ্চিত টিসিটা হাতে ধরিয়েই ছাড়বে। কাকাই শুনলে খুব কষ্ট পাবে। আর এরপর আমরা সবাই কি করবো? "

সুহাস গেটের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো..

"ঐ দেখ, আসছে একটা। "

সবাই তাকায় ছেলেটির দিকে। জেদ মাথায় চাড়া দিয়ে ওঠে সবার। আহিশ সবাইকে গোল করে বলে..

"শোন, আমার ভাইয়ারা আসবে একটু পরেই, টিসি নিয়ে কোনো প্যারা নেই। তার আগে সবাই মিলে এর একটা ধোলাই করি চল, মনের ঝাঁজ কমানো যাবে। "

কেয়া কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলে উঠলো..

"সত্যিই টিসি ধরিয়ে দেবে না তো? "

জেসিও তাল মিলিয়ে বললো..

"ভাইয়ারা আসলে আর কোনো ভয় নেই দোস্ত। চলই না, একজন আছে এখন। কিছু করতেও পারবে না, "

দোয়েল বলে.....

"আমার ঠিক লাগছে না। "

সাথে সাথেই চড়ুই উঠে দাঁড়িয়ে জামার হাতা গুটাতে গুটাতে এগিয়ে যায় ছেলেটার দিকে, দোয়েলকে বলে যায়...

"তোরা যা ইচ্ছে কর, আমি তো আজ দেখে নেবো ওকে। "

এদিকে ভার্সিটির গেট দিয়ে প্রবেশ করতেই অযাচিত হট্টগোল চোখে পড়তেই পা থেমে গেলো টুইনস ব্রাদার্স এর। মারতে থাকা মেয়েটা চড়ুই নাকি দোয়েল, তা তাদের চেহারা দেখে না চেনা গেলেও মুখের কথা শুনে ঠিকই চিনে ফেললো তারা। চড়ুই ছেলেটিকে মাটিতে ফেলে সমানে লাথি মারছে আর বলছে..

" তোর জন্য, ঐ দিন আমাকে দানাবলটা জেলে পাঠাতে চাইছিলো, তোর জন্য বোনকে পুলিশে মেরেছে, ঐ শয়তান খাটাস দানাবলটা আমাকে হাত পা বেধে রাস্তায় ফেলে চলে গেছে, তোকে তো আজ আমি জাহান্নামের পথ দেখিয়েই ছাড়বো। "

নিবির আবিরের দিকে তাকিয়ে মুখ টিপে হেঁসে বললো...

" আমার মিস এটম না এটা, আমি ভাই ওর কাছে যাচ্ছি, কি করবি করে নে। "

বলেই নিবিড় এগিয়ে গেলো বাকিদের কাছে। আবির একটা হাফ নিশ্বাস ফেলে ডাকলো...

"ওয়াইফি? "

কে শুনে কার কথা, চড়ুই পাখি তো নিজের কাজেই ব্যস্ত। আবির আবারও ডাকে তবে তার কোনো হেলদোল নেই। এবার আবির বাধ্য হয়ে বা হাতের কব্জি ধরে টেনে আনে চড়ুইকে নিজের কাছে।

"ওয়াইফি, থামো এবার। "

চড়ুই ঘন গন নিশ্বাস ফেলছে, তীব্রতায় তার বক্ষস্থল দ্রুত ওঠানামা করছে, মা'রার সময় বেখেয়ালে ওড়নাটা গলার সাথে লেগে গেছে চড়ুইয়ের, সে দিকে মেয়ের খেয়ালই নেই।

আবিরের চোখ আটকায় চড়ুই পাখির স্পন্দিত বক্ষস্থলে, ভেতর থেকে নড়ে ওঠে আবির। গলা শুকিয়ে যায় মুহুর্তেই তার। ঢোক গিলে নিয়ে দ্রুত হাতে চড়ুইয়ের ওড়নাটা টেনে ঠিক করে দেয় সে৷ তারপর চড়ুইয়ের হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলে..

"চলো "

"আরে কোথায় যাচ্ছেন আপনি, এই ছেলেটাই আমাকে আপনার বউ হয়ে অফিসে যেতে বলেছে। আপনার ছবি দেখিয়ে বলেছে যাতে আপনাকে আমার সোয়ামি বলি। একে তো আমি মেরেই ফেলবো। "

চড়ুই হাত ছাড়ানোর জন্য ছটফট করতে থাকে, আবির ছাড়ে না, এগিয়ে যায় বাকিদের সামনে।আহিশ বলে...

"আবির ভাই, তুই ওকে থামালি কেন? এই শুয়োরগুলোর জন্য ঐদিন এত কিছু হলো। পাখিদের টিজ করেছে ওরা.."

আবির নিবিড়ের দৃষ্টিতে সূচালো হয়,তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে একবার তাকায় ছেলেগুলোর দিকে। তারপর শান্ত অথচ গম্ভীর কন্ঠে একত্রেই বলে উঠলো...

"ওদের আমরা দেখে নেবো৷ "

আহিশ এবার হেঁসে বলে..

"তাহলে ঠিক আছে। "

দোয়েল আহিশের মাথায় চাপড় দিয়ে বলে...

"তোর বা'ল ঠিক আছে। টিসি নিয়ে ভাব। "

নিবিড় ঢং করে নিজের দু কানে হাত চেপে বললো..

"ছিহ মিস এটম, তোমার মুখ দিয়ে গালিও বের হয়? "

দোয়েল বিরক্ত হয়ে বলে..

"হ্যা বের হয়, শুধু এটা নয় আরো কিছুও বের হয়। আপনাকে দিই কয়টা গালি? "

নিবিড় জিভ কেটে বলে..

"আল্লাহ মাফ করুক, আমাদের সম্পর্কটায় তো গালি মানায় না, তবে তুমি চাইলে অন্যরকম কিছু বলতেই পারো আমাকে, যেমন আই কিস....."

নিবিড়কে সম্পূর্ণ করতে না দিয়েই আবির বলে..

"আমরা কথা বলছি প্রিন্সিপালের সাথে, তোরা ক্লাসে যা।"

--------

প্রিন্সিপালের সাথে কথা শেষ করে আহিশদের ক্লাসের কাছে আসতেই করিডোরে একটি দৃশ্য দেখে পা থেমে যায় আবির নিবিড়ের। সামনেই পাখিদের মধ্যে কেউ একজন সুহাসের হাতে একটি গিফট বক্স তুলে দিচ্ছে, পরপরই একটি ভাজ করা কাগজও সুহাসের হাতে তুলে দেয়, দুজনের মুখেই হাসি বিরাজ করছে৷ এদিকে এমন কিছু দেখে দুজনেরই মাথার রগ ফুলে ওঠে, সুহাস চলে যায় জিনিস গুলো নিয়েই। আবির আর নিবিড় ক্রস্ত পায়ে এগিয়ে আসে সামনের দিকে। পাখির সামনে আসতেই আবির জিজ্ঞেস করে....

"তুমি কোন পাখি? "

"দোয়েল। কেন ভাইয়া? "

ব্যাস, আবির একবার নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে পাশ কাটিয়ে ভেতরে ঢুকে পরে৷ আর নিবিড়ের চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে আরো বেশি।

দোয়েল একবার তাকায় নিবিড়ের দিকে, কিছু না বলেই সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে রুমের ভেতরে যেতে নিলেই নিবিড় খপ করে চেপে ধরে তার হাত।

---------

এদিকে আবির ক্লাসের ভেতরে ঢুকতেই মেয়েরা ফিদা। আবির নিবিড় ছেলেদুটোই যে এমন। চলন বলন, পোশাক সঙ্গে তাদের গুরুগম্ভীর এটিটিউড যে কোনো মেয়েকেই আকর্ষণ করে সাথে সাথে। আজও তার ব্যতিক্রম হয় নি। চার দিকে কানাঘুষো শুরু হয়ে যায় তাকে নিয়েই। আবির পাত্তা দেয় না সেসবে। চোখ ঘুরিয়ে খুঁজতে থাকে আহিশদের। পেয়েও যায় রুমের একদম শেষের দিকে। হাতের ইশারায় বেরিয়ে আসতে বলে সবগুলোকেই। আহিশরাও তারাহুরো করে বের হতে থাকে, প্রিন্সিপালের সাথে কি কথা হয়েছে শুনতে হবে তো নাকি। আহিশ আবিরের সামনে আসতেই আবির গম্ভীর কন্ঠে বললো..

"সোজা গিয়ে গাড়িতে বসবি সব গুলো। "

আহিশও কথা না বাড়িয়ে এগিয়ে যায় বাকিদের নিয়ে। এদিকে চড়ুইও লাফাতে লাফাতে এসে পৌঁছায় আবিরের সামনে, আবির তাকেই পর্যবেক্ষণ করছে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে। মেয়েটার মুখে কি উদয়মান হাসি। আবিরের সামনে আসতেই বললো..

"এই দানাবল, শুনুন শুনুন?"

বলেই হাতের ইশারায় আবিরকে নিচু হতে বোঝায় সে। উচ্চতায় আবিরের থেকে অনেকটা কম হওয়ার কারনে আবিরের কানের কাছে এমনি এমনি পৌছাতে পারছে না মেয়েটা৷ আবির নিচু হয়, চড়ুইও নিজের দু পায়ের তালু একটু উঁচিয়ে আবিরের কানের কাছে ঠোঁট ছুইছুই করে বলে..

"আপনাকে একটা ভালো আর প্রয়োজনীয় কথা বলি হ্যা.."

আবিরের কানের লতিতে চড়ুইয়ের পাতলা ঠোঁটদুঠি ছুঁয়ে যায়, শরীরের প্রতিটি রক্তবিন্দু যেন শীতল হয়ে ওঠে আবিরের, চোখ বুঁজে নেয় সে আবেশে, অদম্য কিছু বেপরোয়া কাজ মাথা চারা দিয়ে উঠছে তার, মনে মনেই উচ্চারণ করলো আবির..

"কন্ট্রোল ইউর সেল্ফ আবির, তুই এতটা ছেছড় কবে থেকে হলি?"

নিজেকে শান্ত রাখার প্রয়াস চালায় আবির। তবে তার এমন আবেশিত মুহুর্ত খানা আর বেশিক্ষণ টিকলো না, কারণ চড়ুই তাকে এতটাই ভালো আর প্রয়োজনীয় কথা বলেছে যে আবির বিরক্তিতে চোখ মুখ কুঁচকে নেয়। চড়ুই বলে...

"দেখুন কত কত সুন্দরী মেয়ে আপনাকে দেখেই বোল্ড হয়ে গেছে। আমাদের মধ্যে তো ছেলেদের চারটা বিয়ে করা জায়েজ আছে, আপনিও এখান থেকে চারটে মেয়েকে বিয়ে করে ফেলুন, আইডিয়াটা কেমন দিলাম বলুন তো, দানাবল? "

তৎক্ষনাৎ আবির সোজা হয়ে দাঁড়ায়, চড়ুই কোমড়ে দু হাত গুঁজে বত্রিশ পাটি দাত বের করে হাসছে। আবির বিরক্তিতে মুখ কুঁচকে বললো..

"তুমি আসলেই একটা পাগল। "

বলেই আবির হাটা ধরলো বাইরের দিকে, চড়ুইও পেছন পেছন এক প্রকার দোড় লাগিয়ে বলতে নেয়..

"আরেহ, আমি আপনার ভালোর জন্যই.."

"স্যাট আপ, ওয়াইফি। "

Mr and Mrs Twins Return গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি -এর লেখা একটি জনপ্রিয় টুইন রিলেটেড রোমান্টিক গল্প