প্রহর কাটছে, শৌখিন ঋতু শীতের প্রভাবও বাড়ছে ধীরে ধীরে। নভেম্বরের এই শেষ সময়টা ভীষন মিষ্টি। বিকালের বাতাসে শীত শীত একটা আভাস পাওয়া যায়। চিত্ত শান্ত করার মতো আভাস।
তবে আজকের এই স্নিগ্ধ আবহাওয়ায় ও শান্ত নেই দোয়েল পাখির চিত্ত৷ নিবিড় বিন চৌধুরী, লোকটার দুষ্টুমির কারনে বরাবরই অপছন্দের তালিকায় ছিলো দোয়েলের৷ কিন্তু আজ কেন যেন ভিষণ খারাপ লাগছে দোয়েলের। দুপুরের সময়টায় লোকটি বাড়িতেই ছিলো আজ, তবে রুমে নিজেকে বন্ধি করে রেখেছিলো এক প্রকার। দোয়েল বার কয়েক চেয়েও কথা বলতে পারে নি তার সাথে।
সময়টা রাত প্রায় দেড়টা। কিন্তু দোয়েল পাখির চোখে আজ ঘুম নেই। পাশেই চড়ুই আর জেসি ঘুমাচ্ছে এলোমেলো ভাবে। আর দোয়েল ভুগছে এক জটিল সমস্যায়। নিবিড়কে সরি বলতে হবে তার। তখন তার ব্যবহারটা মোটেও ঠিক ছিলো না। হয়তো নিবিড় এই জন্যই আজ সারাদিন রেগে আছে।
পাশ থেকে ফোন হাতরিয়ে ফেইসবুকে ঢুকলো দোয়েল। ক্ষীণ আশা, লোকটির আইডি খুজে পাওয়ার জন্য প্রায় দশ মিনিট ঘাটাঘাটি করলো সে। আহিশ, জেসির আইডি ঘুরেও কোনো প্রকার ক্লু পাওয়া গেলো না তার। বিরক্ত হয় দোয়েল, উনারা কি ফেইসবুজ ব্যবহার করেন না নাকি?
অনেকক্ষণ এপাশ ওপাশ করেও ঘুমকে কাবু করতে পারছে না যেন আজ। বিরাট এক সীদ্ধান্ত নিয়ে উঠে বসলো সে।
কাজটা মোটেও ঠিক হবে না দোয়েল জানে। কিন্তু এত রাতে নিবিড় কে বিরক্ত করা ছাড়াও আর কোনো উপায় নেই, দোয়েলের যে মনের শান্তি মিলছিলো না।
মৃদু পায়ে এগিয়ে গিয়ে নিবিড়ের দরজায় দুটো টোকা দেয় সে। হয় তো এতক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছে সে। তবুও দোয়েল আরেকবার টোকা দিতে গেলেই দরজা খুলে যায় ভেতর থেকে। সামনেই নিবিড় দাঁড়িয়ে, পড়নে তার থ্রি কোয়াটার প্যান্ট আর টিশার্ট।
তবে ভেতরে বিছানার উপর আবিরকে বসে থাকতে দেখেই চমকে যায় দোয়েল। আবির যে এই সময় এখানে থাকবে, তা মোটেও আন্দাজ করে নি সে। তারাহুরো করে বলে ওঠে...
"সরিহ,আ্ আসলে আমি জানতাম না আপনারা দুজন একসাথে থাকবেন এত রাতেও। আমি আসলে... "
নিবিড় একবার আবিরের দিকে তাকিয়ে আবার তাকায় দোয়েলের দিকে। বলে...
"অফিসের কিছু কাজ নিয়ে ডিসকাস করছিলাম। তুমি এই সময় এখানে? কিছু লাগবে? "
দোয়েল দ্রুত দু পাশে মাথা নাড়ে। আবির তাকি এভাবে দেখে কি ভাবছে, সেই ভেবেই লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যাচ্ছে তার। আবির লেপটপে দৃষ্টি রেখেই নিবিড়কে উদ্দেশ্য করে বলে...
"টেক ইউর টাইম। আমি সামলে নিচ্ছি এদিকটা। "
নিবিড় হুট করেই দোয়েলের হাত ধরে বললো...
"চলো। "
দোয়েল বাঁধা দেয় না, সেও তো একটু সময়ই চেয়েছিলো নিবিড় কে সরি বলার জন্য। দোতলার খোলা বারান্দাটায় গিয়ে দোয়েলের হাত ছেড়ে দেয় নিবিড়। এগিয়ে গিয়ে রেলিংয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়ায়, দোয়েল চুপ রয়। মৃদু বাতাসে হীম হয়ে উঠে শরীর। দোয়েল এগিয়ে গিয়ে নিবিড়ের থেকে একটু দুরত্ব নিয়ে নিজেও রেলিংয়ে হাত রেখে দাঁড়ায়। আকাশ স্বচ্ছ ভিষণ। চাঁদের মৃদু আলোয় দুজনারই অবয়ব দেখা যাচ্ছে। নীরবতা ভেঙে দোয়েল বলতে শুরু করে...
"সবার ছোটবেলার গল্প অনেক মজার হয় তাই না?"
নিবিড় ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় দোয়েলের দিকে। তবে মুখে কিছুই বলে না। দোয়েলও তাকায়, পরক্ষণেই মৃদু হেঁসে আবার সামনে তাকিয়ে বলে...
"আমাদেরও মজার ছিলো। মা, বাবা, আর আমরা দু বোন। আমাদের বাড়ির নামটা খেয়াল করেছিলেন? " আনন্দ কুটির" সত্যিই আমরা আনন্দেই ছিলাম ঐ বাড়িতে। সকাল বেলায় উঠেই আম্মুর হাতে ব্রাশ করা, নাস্তা করতে করতে রুপকথার গল্প, রান্না ঘরে আম্মুর পেছন পেছন আচল ধরে এদিক ওদিক ঘোরাফেরা করা, ভাত খাওয়ার সময় দু বোন মিলে পুরো বাড়ি ছুটে বেড়াতাম, আম্মুকেও ক্লান্ত করে ছাড়তাম। আম্মুর নুপুর জোড়ার আওয়াজ এখনো আমার কানে বাজে। সন্ধ্যায় আব্বু ফিরতো অফিস থেকে, দু বোন লাফিয়ে উঠতাম আব্বুর কোলে, আব্বুও সামলে নিতো আমাদের এক সাথেই। কি যে মিষ্টি একটা পরিবার। আমাদের স্কুলে ভর্তি করানো হলো প্লে গ্রুপে। জীবনের প্রথম লম্বা ছুটি পেলাম সেবার গ্রীষ্মের বন্ধে। কি যে আনন্দ আমাদের। আম্মু প্ল্যান করলো একদিন আউটিং এ যাবে। আব্বু জানালো আমরা তিনজন মিলে চলে যেতে, আব্বু অফিস থেকে সোজা জয়েন করবে সেখানে। আম্মু আমাদের দু বোনকে নিয়েই গাড়িতে করে রওনা দিলো। নিজেদেরই গাড়ি, আম্মু ড্রাইভিং ও পারতো। তাই নিজেই ড্রাইভ করছিলো। আমরা দু বোন পেছনের সীটে বসে। হুট করে গাড়ির স্পিড বাড়ে, আমরা ভয় পাইনি একটুও। জানালা দিয়ে শো শো করে বাতাস ঢুকছিলো, সে কি মজার বাতাস। লোভ হলো আমাদের, আরেকটু বেশি উপভোগ করতে চাইলাম। আম্মুকে আরো স্পিড বাড়ানোর জন্য বলতে লাগলাম দু বোন মিলে বার বার। আম্মু চাইলো না, তবে আমাদের বায়না ফেলার মতো না, বাধ্য হয়ে আরেকটু স্পিড বাড়ায় আম্মু। কিন্তু আনন্দটা বেশিক্ষণ টিকলো না। আম্মু হয়তো বুঝতে পেরেছিলো সময় ক্ষীণ। হুট করেই আম্মু চিৎকার করে বলতে লাগলো সীট থেকে নেমে পড়ো, নিচে বসো মাথা ঝুকিয়ে থাকো।।
আমরাও অনুভব করলাম গাড়িটা বেপরোয়া হয়ে গেছে। ভীষন ভাবে বেড়েই চলছে গতি। টাল সামলাতে পারছিলাম না আমরা, দু বোন একে অপরকে শক্ত করে ধরে আম্মুর কথা মতোই সীট থেকে নিচে বসে পড়লাম মাথা ঝুকিয়ে। মুহুর্তেই গাড়িটা থেমে যায়, আমাদের মাথার উপর দুয়ে কতগুলো রড গাড়ির এসপার উসপারা হয়ে যায়।
চার দিকে মানুষের চিৎকার, আমাদের গাড়ির দিকে ছুটে আসার দৃশ্য সবটা আমার মনে আছে। আমরা দু বোন চিৎকার করে কাঁদছিলাম আম্মু আম্মু বলে। কিন্তু আম্মুর কোনো সারা নেই। আমাদের একবারও আম্মু বলছিলো না যে,
"ভয় পায়না আমার পাখিরা, আমি আছি তো। "
কয়েকজন লোক এসে গাড়ির দরজা খুলে আমাদের দু বোনকে কোলে নেয়, আমাদের কিচ্ছু হয়নি বিশ্বাস করুন, একটু ফুলের টোকাও লাগে নি আমাদের। কিন্তু বাইরে আনার পর যখন গাড়ির সামনে এলাম, তখন দেখলাম আ্ আমাদের আ্ আম্মুর শরীরে কত গুলো রড..........."
দোয়েলের গলা কাপে ভীষণ। কথা বের হতে চাইছে না আর। ঘন নিশ্বাসের আওয়াজ যেন নিবিড়ের বুকে গিয়ে বিঁধছে। মেয়েটাকে কি বলবে সে, ভাবতে পারছে না নিবিড়। চোখের সামনে নিজেদের মায়ের এমন মৃত্যু দেখেছে এরা। কিভাবে সহ্য করেছিলো তখন?
দোয়েল চোখ মুখে দাঁড়ায়। নিজেকে নিজেই শান্ত করে। নিবিড়ের দিকে মুখ করে তাকায় সে। মাথাটা একটু ঝুকিয়ে বলে...
"আপনাকে তখন আমি অনেক বাজে কথা বলে ফেলেছি, আপনি রাগ করে আছেন আমার উপর। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমি ওভাবে বলতে চাই নি। সেদিনের পর থেকে গাড়ির স্পিড বাড়লেই আমাদের চোখের সামনে আম্মুর ঐ বিদ্ধস্ত মূর্তিটা ভাসে। মনে হয় যেন আবারো ঐ একই ঘটনা ঘটতে চলেছে, আবারও আমাদের মজার জন্য আরেকটি প্রাণ.....। আমি ভীষণ সরি, আপনি প্লিজ রাগ করে থাকবেন না। প্লিজ?"
দোয়েলের করুন মুখের দিকে তাকিয়ে বুকে হাত গুঁজে দাঁড়ায় নিবিড়। প্রশ্ন করে...
"এত রাতে সরি বলার জন্য এসেছিলে তুমি? "
"কি করবো আমি বলুন? আমার ঘুম আসছিলো না আপনার থেকে ক্ষমা না পাওয়ার আগে। "
একটু খানি নীরবতা, তারপর মৃদু আওয়াজে নিবিড় বলে...
"কাছে আসো? "
দোয়েল মুখ তুলে তাকায় নিবিড়ের দিকে। নিবিড় এবার নিজেই এক হাতে দোয়েলকে টেনে নিজের একদম মুখোমুখি দাঁড় করায়। বাতাসে উড়তে থাকা চুল গুলো আলতো হাতে দোয়েলের কানের পিঠে গুঁজে দিতে দিতে বলে...
" মেয়ে মানুষ নাকি অনুভুতি বুঝে যায় সহজে। আমার অনুভূতি বুঝলে না কেন তুমি? "
দোয়েল ভ্রু কুঁচকে বলে..
"মানে? "
নিবিড় একটু থেমে বলে..
"সুহাসকে কি খুব বেশিই ভালোবাসো?"
চমকায় দোয়েল। নাক মুখ কুঁচকে তাকায় নিবিড়ের দিকে। বিরক্ত নিয়ে বলে..
"কি সব বলছেন, আমি কেন ওকে ভালোবাসতে যাবো? ও তো কেয়ার বয়ফ্রেন্ড। "
নিবিড় চমকায়..
"কি? "
"হ্যা, কেয়ার মাধ্যমেই তো আমাদের সাথে ওর পরিচয়, আর তারপর বন্ধুত্ব। ভীষণ ভালো ছেলে, তাই টিকে গেলো, আহিশের মতোই। "
"তার মানে তুমি ওকে ভালোবাসো না? "
"আজব, আমি কেন ওকে ভালোবাসতে যাবো? "
"তাহলে ঐ দিন ঐ গিফট আর চিঠি দেওয়ার কারন কি ছিলো? ভার্সিটির বারান্দায়? "
"ওমাহ, চিঠি কোথায় দিলাম? ওটা তো আমাদের গিফট প্রোডাক্ট, দূরের ডেলিভারি গুলো সুহাস আর আহিসই দিয়ে আসে। "
"তার মানে সত্যিই তোমার আর ওর মাঝে কিছু নেই? "
নিবিড়ের উজ্জ্বল চকচকে চোখ দেখে দোয়েল বিরক্ত হয়ে বললো...
"আপনার কি মাথা গেছে? কি সব বলে যাচ্ছেন? "
নিবিড় খুশিতে আত্মহারা, কি করছে না করছে নিজেও জানে না..
" আমি ভীষন হ্যাপি মিস এটম, কি খবর শুনাইলা তুমি। সুহাস? সুহাসকে তো আমি হাজারটা শুকরিয়া জানাই। আল্লাহ, তুমি একটা চিজ মাইরি,,আমার লাইন ক্লিয়ার ইয়াহু.. "
বলতে বলতেই নিবিড় আচমকাই জড়িয়ে ধরলো দোয়েলকে। তাতেই ক্ষ্যান্ত হয়নি। ঘন ঘন দোয়েলের দু গালে, কপালে, নাকে চুমু দিতে থাকে৷ এদিকে দোয়েল না পারছে নিবিড়কে থামাতে না পারছে এসব কিছু বুঝতে।
"আরে আরেহ,,কি করছেন আপনি, এই... "
নিবিড়ের স্তম্ভিত ফিরতেই বলে ওঠে...
"সরি সরিহ, আসলে সুহাস কে সামনে পাইনি তো তাই এক্সাইটম্যান্টে তোমাকেই.. যাই হোক। আজ তো তুমি সুহাসের সাথে দেখা করতে পারো নি। কাল রেডি থেকে আমি নিয়ে যাবো তোমাকে দেখার করাতে, আমিও দেখা করে আসবো। দেখা করতেই হবে ওর সাথে। আমার সাথেই যাবে ওকে? আমি গাড়ি আস্তে চালাবো প্রমিস। "
"আ্ আপনার রাগ কমেছে? "
নিবিড় হেঁসে বললো..
"আরেহ, আমি রাগ করিই নি। কমবে আর কি। শীত করছে তোমার? গায়ে কাটা দিয়ে দিয়েছে। রুমে যাও এবার, শান্তি মতো ঘুমাও। "
"আপনার শীত করছে না? "
"না নাহ,আমার সামনে তো আগুন দাঁড়িয়ে। "
"মানে? "
"ম্ মানে এই যে তুমি? মিস এটম, এটম মানে বোম, আর বোম মানে আগু..."
"থামেন থামেন, আপনি পাগল হয়ে যাবেন আর একটু হলেই। আমি যাচ্ছি। "
নিবিড় সবল চিত্তে নিজের রুমে ঢুকতে না ঢুকতেই আবির প্রশ্ন ছুড়ে তার দিকে..
"ক'টা খেয়েছিস? "
হাসি গায়েব হয়ে যায় নিবিড়ের। ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে...
" ক'টা খেয়েছি মানে? কি খাবো? "
"কি আবার? চুমু? "
নিবিড় ক্যাবলার মতো হাসি দেয়। আবির তার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে বলে...
"তুই কি ভাবলি? তুই পথে ঘাটে গিয়ে চুমু খাবি, ইটিস পিটিস করবি, আর আমি ফিল করবো না তা? "
নিবিড় বিছানায় হেলে পড়তে পড়তে বলে...
"শা'লার বার্থ কানেকশন। একটা চুমু খেতে গেলেও টের পেয়ে যায়। এই পরাহিত জীবন রেখে কি লাভ?"
আবির আবার বলে..
"এইই, জীবন দেওয়ার চিন্তা বাদ দে, তুই মরলে আমাকেও মরতে হবে। চুমু খাইনি এখনো আমি কোনো মেয়েকে। "
"তোকে কে বারণ করেছে? তুই ও গিয়ে খেয়ে নিতি, ছোট পাখি তো তোর পাশের রুমেই আছে। "
"এসব হালকা পাতলা চুমুতে আমার মন ভরে না।"
"এহ, আসছে চুমু বিশেষজ্ঞ হতে। যা ইচ্ছে বল, তোর থেকে আমি এগিয়ে আছি। আর থাকবোও।"
আবির ভ্রু কুটি করে জিজ্ঞেস করে..
"চ্যালেন্জ করছিস?"
"ধরে নে তাই। "
"ঠিক আছে চ্যালেন্জ এক্সেপ্টেড, তোর আগে আমি কোনো মেয়েকে লিপ কিস করবো। "
"যে কোনো মেয়েকে মানে? আমি বাবা এখন আর দয়াল নেই, মিস এটমের প্রতি আমার ভরপুর লয়ালিটি, আমি চুমু খেলে ওকেই খাবো, সে যে চুমুই হোক না কেন। সো, আমি ওকে চুমু খাবো মানে তোকেও নির্দিষ্ট একটা মেয়েকেই চুমু খেতে হবে। আর ঐ মেয়েটা হচ্ছে ছোট পাখি। "
আবির তেড়ে ওঠে..
"ওয়াট দা ফা*। আমি ঐ পেঙ্গুইনকে কেন লিপ কিস করতে যাবো? ওকে কিস করে ফিল পাওয়া যাবে নাকি ব্রো?"
নিবিড়ও ভেঙচি কেটে বলে..
"এএহ,নাকের ডগায় রসগোল্লা ভেবে চুমু খেয়েছিলি যে তখন ফিলিংস কি আমি জাগিয়ে দিয়েছিলাম তোর? এত কিছু জানি না, চুমু খেলে ওকেই খেতে হবে তোর, না হলে স্বীকার করে নে হেরে গিয়েছিস।ওরকম রাস্তা ঘাটে প্লে গার্ল গুলোকে আমিও চাইলে এক ইশারায় চুমু কেন বিছানায় ও নিতে পারি। মেয়ে নির্দিষ্ট। "
আবির ঠোঁট গোল করে নিশ্বাস ছাড়ে। সামান্য নাকে চুমু খেয়েছিলো বলেই সারা বাড়ির মানুষকে জানিয়েছে ঐ পেঙ্গুইনটা৷ ঠোঁটে চুমু খেতে এবার রাস্তায় রাস্তায় মাইকিং করে না বেড়ায়। কিন্তু আবির বিন চৌধুরী তো এত সহজে হার মেনে নেওয়ার পাত্র নয়, তাই জোর গলায় বললো..
"চ্যালেন্জ এক্সেপ্টেড।"
নিবিড় শয়তানি হাসে। বলে..
"ঠিক আছে, আমি জিতলে কি দিবি বল? "
"কি চাই? "
"উমম... যদি আমি জিতি তাহলে মিস এটম আর আমার বিয়ের সকল দায়িত্ব তোর, মিস এটম থেকে শুরু করে আম্মু পর্যন্ত সবাইকে তুই রাজি করাবি। আর তুই জিতলে কি চাস বল? "
আবির ভাব নিয়ে বললো..
" আমি জিতলে, ঐ পেঙ্গুইনটার মুখ বন্ধ করার দায়িত্ব তোর, যতক্ষণ ও আমার সামনে থাকবে ততক্ষণ যেন ওর মুখ থেকে একটা শব্দও বের না হয় সেই ব্যবস্থা করবি তুই। "
"ডান। কাল থেকে সময় শুরু। তবে ভুলেও যদি তুই আমার এটমকে চুমু খেতে যাস মাইরি, তবে আমি... "
আবির ল্যাপটপ নিয়ে বাইরে যেতে যেতে বললো...
"আমি অন্যের জিনিসে নজর দিই না তোর মতো। সুহাসের জিনিস কেড়ে নিচ্ছিস।"
নিবিড়ও চেচিয়ে বললো..
"আবে, সুহাস ওর বয়ফ্রেন্ড নাহ, ডেলিভারি বয়।"
বেচারা সুহাস......
-------
আজকাল সকাল গুলো চড়ুই পাখির মোটেও ভালো যাচ্ছে না। এই আবির দানাবলের সমস্যাটা আসলে কোথায় সেটাই বুঝে উঠতে পারছে না।একটু আগেই আবির এসে চড়ুইকে ঘুম থেকে টেনে বসিয়ে দিলো। সেই থেকেম গে ধরে বসে আছে চড়ুই, মাথা ঝুকিয়ে।ঘুমের ঘোরটা পুরোপুরি কাটেনি এখনো তার। কিন্তু এই আবিরকে কে বোঝাবে তা?
"ভার্সিটি কি তোমার বাবা কিনে রেখেছে? যখন ইচ্ছে যাবে, যখন ইচ্ছে যাবে না। এতো ঘুম কাতুরে হলে পড়ালেখার কি দরকার? তোমার সাথে দোয়েল, আহিশ, জেসি সবাই রেডি হয়ে গেছে। আর তুমি পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছো। "
চড়ুইয়ের বিরক্তি চরম পর্যায়ে, মাথা তুলে আউলিয়া বাবার পিরচুল গুলো ঝাকিয়ে বলে উঠলো...
"আপনার সমস্যাটা কোথায় দানাবল? আপনি কি সীদ্ধান্ত নিয়েই নিয়েছেন আমাকে একটু শান্তি মতো ঘুমাতে দিবেন না? "
আবির রাগে না, বরং আগের মতোই শান্ত তবে গম্ভীর স্বরে বলে...
"ঠোঁটের কোনে লালার দাগ লেগে আছে।"
"তাতে আপনার কি? ঠোঁট আমার, লালা আমার, খাচ্ছি আমি, ফেলছিও আমি।আপনার কি? "
আবির মুখ এগিয়ে নেয় চড়ুইয়ের কাছে। দৃষ্টি রাখে চড়ুইয়ের পাতলা অধরে। হাস্কি স্বরে বলে...
"তোমার সব কিছু, আমার খাদ্য। ওকেয়? "
আবির কে হুট করে এভাবে এগিয়ে আসতে দেখে চড়ুইয়ের বাক রুদ্ধ হয়। কথা ঘুলিয়ে যাচ্ছে যেন তার। লোকটা এভাবে এগোচ্ছে কেন?
আবিরের মনে চলছে তীব্র আন্দোলন, নিজেকে ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টায় নিয়োজিত সে। ভেতর থেকে কেউ একজন যেন বারবার চিয়ার আপ করেই যাচ্ছে তাকে..
"আবির, তুই পারবি। একটা কঠিন করে লম্বা চুমু তোকে খেতেই হবে মেয়েটার ঠোঁটে আজ। নিবিড়কে বুঝিয়ে দিতেই হবে তুই কত এগিয়ে। "
চড়ুইয়ের ঠোঁট ছুঁই ছুঁই আবিরের ঠোঁট। চড়ুইয়ের বুকের তীব্র কম্পন আবিরকে যেন আরো এক ধাপ এগিয়ে দিচ্ছে বারং বার। মেয়েটার মুখের রক্তিম আভা চোখে আটকাতেই আবির নিজেকে সংযত করা যেন দায় হয়ে পড়েছে। এক হাতে চড়ুইয়ের মাথার পেছনের চুল খামছে ধরতেই চড়ুই চোখ বুঁজে ফেললো, আবিরের গলা শুকিয়ে যায়, বারবার মনে হতে থাকে এক্ষুনি কিছু একটা করতে হবে। মেয়েটার ঠোঁট গুলো এতটা আকর্ষণ করছে তাকে, আর নিজেকে আটকে রাখতে পারলো না আবির, চোখ বন্ধ করেই চড়ুইয়ের ঠোঁটের দিকে আরো অগ্রসর হয়, দূরত্ব ঘুচিয়ে দিতে চায় দুটি ওষ্ঠের......
"" আবির বাবা? ছোট পাখির কি এখনো ঘুম ভাঙে নি? ""