"শুনলাম আজকাল ভার্সিটিতে গ্যাং নিয়ে ঘোরা হচ্ছে আহিশ? "
আবিরের কথায় হাওয়া ফুসস হয়ে যায় যেন আহিশের। মুখ লটকে বললো...
"গ্যাং কোথায় ভাই, আমরা আমরাই তো। "
"আমরা আমরা বলতে? "
"এই যে আমি, জেসি, কেয়া, রাবতি, ছোট পাখি, বড় পাখি আর সুহাস ভাই। আমরা সাত জনই তো। "
"তো এটা গ্যাং নয় তো কি? "
চড়ুই এবার কোমড়ে হাত গুঁজে এগিয়ে আসে এক কদম আবিরের দিকে। ভ্রু নাক কুঁচকে তেজিয়ান কন্ঠে বললো..
"বন্ধুরা একসাথে চলা ফেরা করলে যদি গ্যাং মনে হয়, তাহলে আমরা গ্যাং ই৷ হয়েছে? "
জেসি দাঁত দিয়ে নখ কাটতে কাটতে বললো..
"দেখেছিস তো পাখি, কলেজেও আমাদের সবাই এই কথাটাই বলতো। শা'লার জিন্দেগী, বড় সড় বন্ধু মহল হলেও দোষ আজকাল। "
আবির তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায় চড়ুইয়ের দিকে। টেনে টেনে বলে..
" মাই.. ফা'কিং.. ওয়াইফি। আমি আরো শুনলাম আপনি নাকি এই গ্যাং এর লিডার। "
চড়ুই নেকি সুরে জিজ্ঞেস করলো...
"এটাও বলেছে?কোন শালির ঝি বলেছে শুনি? "
"আমি যতদুর জানি তোমাদের প্রিন্সিপাল একজন পুরুষ মানুষ, শালির ঝি হওয়ার চান্স নেই বললেই চলে। "
চড়ুইরা এবার সেন্টি ইমোজির মতো মুখ করে একে অপরের দিকে তাকালো। তারপর সব গুলো একসাথে আবিরের দিকে ফিরে বলে উঠলো..
"তাহলে কি আমাদের ভার্সিটি থেকে বের করে দিবে? "
আবির উত্তর দেয় না, নীরবে গাড়ি স্টার্ট দিতেই চড়ুই চেঁচিয়ে ওঠে পেছন থেকে ..
"আরেহ দানাবল, থামুন থামুন। আমার বোন আসে নি তো.."
"ও ভাইয়ের সাথে যাবে। "
চড়ুই ভাবলেশহীন ভাবে বললো...
"তাহলে সমস্যা নেই। আপনার ভাই আপনার থেকে ভালো মানুষ। আপনি তো দামড়া খাটাস দানাবল। "
আবির পেছনে ফিরে তাকায়..
"তুমি কি করে জানলে আমিই যে আবির? "
"কেন আপনার নেকড়েদের মতো সবুজ সবুজ চোখের মনি দেখে।"
"যাক একটু হলেও বুদ্ধি আছে তাহলে মাথায়। "
----------------
"সমস্যা কি আপনার, এভাবে জোর করে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে? "
দোয়েলের কথা যেন কানেই তুললো না নিবিড়। হাত চেপে ধরে এক প্রকার টানতে টানতেই গাড়ির কাছে নিয়ে এলো। দোয়েল রাগে চেচিয়েই যায়...
"হাত ছাড়ুন বলছি, আজব লোক তো আপনি.. "
নিবিড়ের চোখ দুটো লাল টকটকে হয়ে আছে। ফর্সা চামড়ার অধিকারী হওয়ায় কপালের পাশে ফুলে থাকা রগ গুলো স্পষ্ট নীল রঙ ধারণ করে আছে। দোয়েলের হাত চেপে ধরা হাতটায়ও ফুলে থাকা শিরা গুলো চোখে পড়ার মতোই।
" ঐ ছেলেটা কে ছিলো? "
নিবিড়ের এমন প্রশ্নে বিরক্ত হয় দোয়েল। বলে..
"কোন ছেলেটা?"
"যাকে তখন গিফট দিয়েছো আর সাথে... "
"ও তো সুহাস, আমাদের ফ্রেন্ড।"
"তো ফ্রেন্ড হলে এতো আলাদা ভাবে গিফট দেওয়ার মানে কি হ্যা? এতো প্রাইভেসি কেন? সত্যি করে বলো ও কে তোমার..? "
"ও আমার যাই হোক, আপনার তাতে সমস্যা কি? "
"সমস্যা আছে আমার।"
" আপনি আমাকে চেনেন কতদিন হ্যা? আমার লাইফ নিয়ে ইন্টারফেয়ার কেন করছেন? "
"যতদিনই চিনি, তোমার লাইফ নিয়ে ইন্টারফেয়ার করার সম্পূর্ণ রাইট আমার আছে৷ "
"কিসের রাইট, কোন অধিকারে আপনি কথা গুলো বলছেন? "
"অধিকার চাও না তুমি? ঠিক আছে, সময় আসুক, আমি বুঝিয়ে দেবো আমার অধিকার। কিন্তু ততদিন তোমার আশপাশেও যদি সন্দেহজনক কোনো ছেলেকে দেখি আমি, তাহলে তোমায় কিচ্ছু করবো না আমি মিস এটম, তবে ঐ ছেলের যে কি করতে পারি তা আন্দাজও করতে পারছো না তুমি। "
------------------
"মহারানীরা এই আসার সময় হলো বাড়িতে?"
ঘরে ঢুকতেই এমন কথা শুনে মুখ শুকিয়ে যায় দোয়েল চড়ুইয়ের। আমেনা বেগম, সম্পর্কে পাখিদের মা, থুরি,সৎ মা। পাখিদের বয়স যখন পাঁচ বছর তখন তাদের সংসারে আগমন হয় এই মহিলার। সেই থেকে এই এখন পর্যন্ত পাখিরা বাড়িতে প্রাণোচ্ছল নয়,
বা পাশে তাকিয়ে নিজেদের বাবার দিকে তাকায় চড়ুই, যিনি নিরুদ্দেগ সোফায় বসে ছোট ভাই অনুজকে অঙ্ক বুঝিয়ে দিচ্ছে।
"কি হলো, কথা কানে যায় না? ভার্সিটি ছুটি হয়েছে সেই কখন, আর সময় তোরা কোথায় ছিলি? "
আমেনা বেগমের কথায় দোয়েল মাথা নিচু করে উত্তর দেয়..
" আজ একটু দূরে অর্ডার ছিলো ছোটমা। তাই... "
"এসব কথা আমায় শুনিয়ে লাভ নেই বাপু। তোদের যদি আমার বাড়িতে থাকতেই হয় তাহলে সময় মতো ফিরতে হবে৷ নেহাতই দরদ দেখিয়ে তোদের চাচা পড়ার খরচ চালাচ্ছে, নাহলে কবেই এসব বেলেল্লাপনা বন্ধ করতাম দুটোর। "
পাখিরা উত্তর দেয় না। মাথা নিচু করেই নিজেদের রুমে যেতে নিলেই আমেনা বেগম আবার বলে..
"একদম রুমে গিয়ে দোর দিলে খবর আছে আজকে। আমার ভাইজি - ভাইপোরা আসবে কাল। আজ রাতের মধ্যে যেন পুরো বাড়ির ঝাড়পোঁছ হয়ে যায়। "
"ঠিক আছে ছোটমা। "
"আর এই যে বড় মহারানী, কাল ভার্সিটির নাম নিলে পিঠের চামড়া তুলে ফেলবো বলে দিলুম। রান্নাটা তোকেই করতে হবে কাল, আরেকজন তো রান্নার র ও জানে না। কোন কুক্ষণে যে এই দুটো আমার ঘাড়ে এসে পড়লো কে জানে। "
পাখিরা কথা বাড়ায় না নীরবে রুমে গিয়ে চেঞ্জ করে আমেনার কথা মতোই পুরো বাড়ি ঝাড়পোঁছ করার কাজে লেগে পড়ে।
-------
পরদিন বিকেল প্রায় সাড়ে চারটা....
একটা ক্লায়েন্ট মিটিং শেষ করে মাত্রই গাড়িতে গিয়ে বসলো আবির। আজ সে একাই এসেছে, অফিসে কাজের একটু চাপ বেশি থাকায় নিবিড় আর আসে নি। গাড়িতে বসেই আবির নিবিড়কে কল দেয়...
"ডিল ফাইনাল ভাই।"
নিবিড় হেঁসে বলে..
"আরেহ, তুই গিয়েছিস আর ডিল ফাইনাল হবে না এমনটা হয় নাকি। "
"অফিসে কতদূর এগোলো? আসতে হবে? "
"নাহ, মিস লিনা আর রাতুল সহ সামলে নিয়েছি আমি। অলমোস্ট শেষ, তোর আর আসতে হবে না উল্টো দিকে।"
"ওকেয়, তাহলে আমি বাড়ি যাচ্ছি, উমম.. জিসান ভাই আছে কিনা দেখি, অনেক দিন রিফ্রেশমেন্টের জন্য পার্টি করা হচ্ছে না। "
"ওকেয়, তাহলে আমিও আসছি। আর ওটাও আনছি.. "
আবির কল কেটে দেয়, গাড়ির গতি বাড়াতে যাবে, হঠাৎই পাশের একটা রেস্টুরেন্টের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে আসে তার৷ গাড়িটা সাইডে থামিয়ে এগিয়ে যায় সে। রেস্টুরেন্টে ঢুকতেই ম্যানেজার এগিয়ে এসে সালাম দেয় তাকে, আরো বলে...
"স্যার, কর্নার টেবিল আমি এক্ষুনি খালি করছি, যাস্ট গিভ মি ওয়ান মিনিট। "
আবির হাতের ইশারায় তাকে না করে দেয়, সামনে এগিয়ে যেতে যেতে ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করে..
"ওখানে কি সমস্যা? "
"স্যার, মেয়েটা পেমেন্ট না করে চলে যাচ্ছিলো, তাই একটু... "
আবিরের ভ্রু কুঁচকায়, সামনে এক প্রকার শোরগোল বেঁধে গেছে বলতে গেলে। রেস্টুরেন্টের কর্মী সহ বাকি ম্যানেজাররাও ঘিরে ধরেচে মেয়েটিকে বলতে গেলে। আবির এগিয়ে গিয়ে সরাসরি তাকায় তার দিকে। মাথা একটু নাড়িয়ে ইশারায় জিজ্ঞেস করে "কি হয়েছে? "
মেয়েটি যেন একটু সস্তি পেলো পরিচিত কাউকে দেখে। আবির এবার জিজ্ঞেস করে...
"কেন পাখি তুমি? "
মেয়েটি সাথে সাথেই উত্তর দেয়..
"দেখুন না দানাবল, এরা কি করছে আমার সাথে। "
চড়ুইয়ের কথা শেষ হতে না হতেই একজন ওয়েটার বলে উঠলো...
"স্যার, এই মেয়েটা একটা চোর। পেমেন্ট না করে... "
আবির এক নজর তাকায় ওয়েটারের দিকে। সাথে সাথেই ওয়েটারের মুখ বন্ধ হয়ে যায়,আবির আবার ফিরে তাকায় চড়ুইয়ের দিকে..
"এসব নিয়েও তুমি দুষ্টুমি শুরু করেছো? "
"দেখুন দানাবল, আমি সত্যি বলছি। আমি কোনো দুষ্টুমি করি নি। আমি তো পেমেন্ট করে দিয়েছি ওদের..."
চড়ুইকে বলতে না দিয়ে ওয়েটার বলে..
"এ মিথ্যা বলছে স্যার।"
আবির আবার চোখ গরম করে তাকায় ওয়েটারটার দিকে, তা দেখে মাথা নিচু করে ফেলে। আবির আবার চড়ুইয়ের দিকে তাকায়,..
"শুরু থেকে বলো? "
"আমি খাবার অর্ডার দিয়েছিলাম, পাঁচ মিনিট পর আবার ক্যান্সেল করতে চাইলে এই ওয়েটার ভাইয়াটা বলে যে অর্ডার ক্যান্সেল করার নিয়ম নেই। তাই আমি বললাম যে ঠিক আছে খাবারটা সার্ভ করা লাগবে না, আমি পেমেন্ট করে দিচ্ছি।, উনিও রাজি হয়। আমি বললাম যে বিকাশে পেমেন্ট করবো, উনি তাতেও রাজি হয়, তাপর আমি বিকাশে পেমেন্ট করি, উনি ফোনে দেখিও বলেছিলো ও যে টাকা পেয়েছে। এরপর আমি বের হতে গেলেই চোর বলে এখানে বসিয়ে রেখেছে। "
চড়ুই শেষ করতেই ম্যানেজার বলে ওঠে..
"কিন্তু স্যার, আমাদের এখানে এসএমএস আসেনি উনি যে পেমেন্ট করেছে তার। "
আবির ফিরে তাকায় চড়ুইয়ের দেখিয়ে দেওয়া ওয়েটারের দিকে।..
"ফোন টা দিন। "
ওয়েটারও বাধ্য ছেলের মতো নিজের ফোনটা আবিরের হাতে তুলে দেয়।
"অনলাইন পেমেন্টের নম্বর এটাই তো? "
"জ্বী স্যার. "
আবির চেক করে দেখে আসলেই কোনো মেসেজ আসে নি। তা দেখে চড়ুইয়ের দিকে তাকাতেই চড়ুই বলতে থাকে...
"আপনি আমায় বিশ্বাস করুন, দানাবল। আমি মিথ্যা বলছি না, আমি পেমেন্ট করেছি। আমি চোর নাহ. "
চড়ুইয়ের চোখ চিকচিক করছে পানিতে৷ আর একটু হলেই যেন গড়িয়ে পড়বে। আবির ঢোক গিলে, চড়ুইয়ের ফোনটা টেবিলেই ছিলো, আবির হাতে তুলে নেয় সেটি। লক নেই তার ফোনে, তবে এতদিকে আবির ঘাটলো না। প্রয়োজনীয় মেসেজ চেক করতেই দেখলো একটু আগেই একটি নম্বরে ৩৫০ টাকা সেন্ড মানি হয়েছে। আবির এবার মুখ তুলে আশপাশে তাকায়, একটা জিনিসে চোখ আটকাতেই ম্যানেজারকে বলে...
"সিসিটিভি ফুটেজ চেক করবো। ফাস্ট.. "
ম্যানেজার না করতে পারে না,, আবির বিন চৌধুরীকে চেনে তিনি, না করার সাধ্যি যে নেই। ফুটেজ চেক করতেই দেখলো চড়ুইয়ের কথাই সত্যি। ওয়েটারটা নিজেই চড়ুইকে QR code এনে দিয়েছে, তারপর টাকা পেতেই চড়ুইকে দেখিয়েছেও টাকা যে পেয়েছে। তারপর চড়ুই বের হতে গেলেই নিজেই আবার চেচিয়ে বলে যে চড়ুই টাকা না দিয়ে চলে যাচ্ছে। বাকিরা চড়ুইকে ঘিরে ধরতেই ওয়েটারটি কৌশলে নিজের ফোনের মেসেজটি ডিলিট করে দেয়।
এতটুকু দেখেই আবির রক্তচক্ষু নিয়ে তাকায় ওয়েটারটির দিকে। সে তো ভয়ে কাঁপছে। আবির এগিয়ে গিয়ে কসিয়ে একটা থাপ্পড় বসায় তার গালে। দাঁত কিড়মিড় করতে করতে পুলিশ অফিসার আহসানকে কল দিয়ে বলে এই ওয়েটারের নামে কেস ফাইল করতে কাস্টমারকে হ্যারাসমেন্টপর অভিযোগে। রেস্টুরেন্টের ম্যানেজারকেও শাসিয়ে যায় সে। এই এতক্ষণ সময় ধরে চড়ুই মুখ গোমড়া করে একটা চেয়ারে বসেই ছিলো। আবির এবার তাকে জিজ্ঞেস করলো...
"সারাজীবন কি এভাবেই বসে থাকার প্ল্যান করছো? "
চড়ুই আজ আর লাফালে না। একদম মিনমিনিয়ে শান্ত স্বরে বললো..
"আপনি যান, আমি যাবো পরে। "
"হ্যা আমি চলে যায়, তারপর তুমি আরেকটা গন্ডগোল বাঁধাও এখানে। উঠো, চলো। "
চড়ুই উঠেও দাঁড়ায় না,উত্তর ও দেয় না। আবির বিরক্ত হয়ে বলে...
"তুমি হেঁটে যাবে নাকি আমি কাঁধে তুলে নিয়ে যাবো?"
চড়ুই মুখ কুঁচকে বললো...
"বললাম তো আপনি যান, আমি যাবো একটু পর। "
আবির আর অপেক্ষা করে না। চড়ুইয়ের ফোনটা নিজের পকেটে পুরে নেয়, তারপর হুট করেই চড়ুইয়ের দিকে ঝুকে সে৷ কাঁধে না তুললেও পাঁজা কোলে তুলে নেয় সে। চড়ুই চেয়েও থামাতে পারে না তাকে, আকষ্মিক কাজে চড়ুই শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আবিরের গলা। মুখ খিঁচে লুকিয়ে নেয় আবিরের গলা- বুক সংলগ্ন এলাকায়।।
আবির খেয়াল করে, মেয়েটা নিজেকে যতটুকু পারছে আড়াল করার চেষ্টা করছে আবিরের মাঝেই। এমন ভাবে মুখ গুঁজে আছে, তার প্রতিটি নিশ্বাসের অস্তিত্ব আবির অনুভব করছে দারুন ভাবে। চার দিকে এতো গাড়ির হর্ন, মানুষের শোরগোল, মাইকিং সব কিছুর শব্দ যেন হুট করেই গায়েব হলে গেলো, আবিরের কানে পৌঁছায় না তা, সে শুধু একটি শব্দই শুনতে পায়, হৃৎস্পন্দন। তার বুকে লেপ্টে থাকা চড়ুই পাখির হৃৎস্পন্দন। শব্দ খানা কোনো সুরেলা কন্ঠি গানের চাইতে কম মনে হলো না আবিরের। নিজ তালে চলছে এক অন্তর্দহনের ছন্দ। যেই ছন্দের রহস্য আবির উদঘাটন করতে পেরেও করতে চাইছে না যেন।
গাড়ির কাছে এসেই আবির চড়ুইকে কোল থেকে নামিয়ে দেয়।...
"এমন ভাবে চেপে ধরলে ওয়াইফি, মনে হলো যেন... "
বলতে বলতেই নিজের হাতের দিকে চোখ যেতেই থেমে যায় আবিরের কথা। শরীরে আঁটসাঁট হয়ে থাকা শুভ্র শার্টটির হাতায় একটুখানি লাল তরলের অস্তিত্ব। চড়ুইয়ের চোখ সেথায় যেতেই চোখ বড়বড় হয়ে যায় তার। ভয়ে ভয়ে মুখ তুলপ আবিরের দিকে তাকাতেই দেখতে পায় আবির তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তার দিকেই তাকিয়ে, লজ্জায় ভয়ে চড়ুই চোখ খিঁচে বন্ধ করে নেয়। ইতোমধ্যেই তার হাত পায়ের কম্পন শুরু হয়ে গেছে যেন।
আবির কিছু একটা আছ করতে পেরেই চড়ুইয়ের বাহু ধরে তাকে পেছনে ঘুরিয়ে আবার নিজের দিকে ঘুরায়।
চড়ুইয়ের মাথা কাজ করছে না। সব যেন ঘুলিয়ে ফেলছে সে। মুখ ফুটে আবিরকে কিছু বলতে চাইছে, কিন্তু ভয়ের কারনে তাও যেন পারছে না মেয়েটি...
" আ্ আমি স্ সরি, আ্ আ্ আমি বুজ্..."
আবির তাকায় চড়ুইয়ের কম্পমান হাত দুটোর দিতে, মেয়েটা এতটাই ভয় পেয়েছে যে হাত দুটো যেন ভুমিকম্পের মতো থরথর করে কাঁপছে। আবির নিজের দু হাত দিয়ে চড়ুইয়ের কম্পমান হাত দুটি চেপে ধরে, কোমল স্বরে বলে...
"ইটস ওকেয়, ইটস ওকেয়, কিচ্ছু হয় নি। শান্ত হও তুমি।"
চড়ুই কান্নারত দৃষ্টিতে ভয়ে ভয়ে তাকায় আবিরের মুখের দিকে। আবির তার অবস্থা বুঝতে পেরে বলে..
"তুমি কাঁদছো কেন? ভয় পায় না, আমি কিচ্ছু করছি না।"
"ব্ বকবেন না তো?"
"আরেহ, বকবো কেন আজব? কান্না থামাও ওয়াইফি। ইটস ওকে না.."
চড়ুই নিজের হাতের পিঠ দিয়ে চোখ মুছে নেয়।
"তুমি আমাকে বলবে তো নাকি,, আসো, গাড়িতে বসো তুমি, আমি আসছি। "
বলতে বলতেই আবির চড়ুইকে গাড়িতে উঠিয়ে বসায়। তারপর নিজে চলে যায় প্রয়োজনীয় কিছু আনতে। একটু পরে ফিরেও আসে সে হাতে একটি প্যাকেট নিয়ে। গাড়ির ডোর খুলে চড়ুইয়ের হাতে দেয় সেটি। চড়ুই চেক করে দেখে বলে..
"ড্রেস কেন? "
"চেঞ্জ করে নাও, আমি বাইরে আছি। "
"ড্রেস লাগবে না তো, ছোট মা দেখলে বকবে.. "
"বলছি না চেঞ্জ করে নিতে৷ "
"আ্ আপনার শার্টে তো.. "
আবির তাকায় নিজের হাতের দিকে। বলে..
"আমার সমস্যা নেই, বাড়ি গিয়ে ক্লিন করে নেবো। তুমি টাইম নাও, গাড়ির গ্লাস উঠিয়ে দাও, আমি আছি। ওকেয়? "
চড়ুই উত্তর দেয় না, নীরবতাকেই সম্মতির লক্ষ্মণ ধরে আবির চড়ুইয়ের দিকে এক পলক তাকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়।