"আরেকটা ড্রেস? "
"হ্যা, তোমাদের যতবার দেখেছি সেইম সেইম ড্রেসেই দেখেছি। তো ভাবলাম এখন তোমার জন্য ড্রেস আনলাম বড়পাখি আর বাদ যাবে কেন। ওটা বড়পাখির। "
আবিরের কথায় এই এতক্ষণে চড়ুই একটু হাসে।
"এই দিকে কেন এসেছিলে? তোমাদের বাড়ি তো এদিকে না। "
"একটা অর্ডার ছিলো। "
"কিসের অর্ডার?"
"আমরা অনলাইনে কাস্টমাইজড গিফট তৈরি করে বিক্রি করি, মিনি বিজনেস বলা যায়। আজকে এদিকে ছিলো, সুহাস ভাইকে কে যেন মেরে হসপিটালে ভর্তি করিয়ে দিয়েছে কাল। আর বোনও সকাল থেকে রান্নায় ব্যস্ত, তাই আমাকেই আসতে হলো আজ। "
"ঐ দিন বড়পাখি যে ছেলেটাকে কি যেন গিফট করেছিলো, ওটাই সুহাস তাই না? "
"সুহাস ভাইকে গিফট কেন করবে বোন। ওটা তো সুহাস ভাই মাঝেমধ্যে ডেলিভারি বয় হিসেবে দূরের কাস্টমারের কাছে গিফট গুলো পৌঁছে দেয় তাই দিয়েছিলো। "
"আর চিঠি কেন দিয়েছিলো? "
"কোথায় চিঠি? "
"দেখলাম একটা কাগজ ভাজ করা.."
"আরেহ ওটায় তো ডেলিভারির এড্রেস লিখা থাকে। "
চড়ুইয়ের কথা শুনে আবির ঠোঁট চেপে হেঁসে দেয়। সুহাসকে যে নিবিড়ই মেরে হসপিটালে পাঠিয়েছে, তা অজানা নয় আবিরের।বেচারা সুহাস, শুধু শুধুই এত মার খেলো।
"যাইহোক, তুমি অর্ডার দিয়ে আবার ক্যান্সেল কেন করে দিলে শুনি? মাথায় কি ঝোঁক আছে?"
"অর্ডার দেওয়ার পরে যখন সমস্যা বুঝতে পারলাম, তখন মনে হলো তারাতারি বাড়ি যেতে হবে। তাই......, খাটাস গুলা যা করলো, নির্ঘাত আমি সমস্যায় পড়েছিলাম বলে, না হলে উঠে কয়েক ঘা লাগিয়েই দিতাম আজ.. "
"তা বেশ জানা আছে আমার। "
চড়ুইয়ের মুখের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আবির, আনমনেই বলে ওঠে...
"রসগোল্লা। "
চড়ুইও ভেবলা বেহুশের মতো উপর নিচ মাথা ঝাঁকিয়ে বলে..
"হুম খাবো তো। প্রচুর খুদা লেগেছে। "
আবিরের স্তম্ভিত ফিরে, বলে..
" রসগোল্লাই খাবে? "
"হুম "
"ওকেয়, ওয়েট করো। আসছি আমি। "
বলেই আবির গাড়ি ছেড়ে এক কদম এগিয়ে যায়, পরক্ষণেই আবার ফিরে এসে ঝুঁকে চড়ুইয়ের দিকে। চড়ুই খানিকটা চমকে বলে...
" কি হলো? "
"আমারও খিদে পেয়েছে। "
"তাহলে আপনার জন্যও রসগোল্লা নিয়ে আসেন?"
"কাঁদতে কাঁদতে পেঙ্গুইনটা নাক লাল করে একদম রসগোল্লার মতোই করে ফেলেছে বুঝলে?"
"মানে? "
আবির কিচ্ছু বলে না, তবে করে বসে এক অদ্ভুত কাজ। হুট করেই ঝুঁকে এসে চড়ুইয়ের লালছে নাকের ডগায় চুমু খেয়ে বসে সে। তারপর কিচ্ছুটি না বলে উঠে চলে যায় বাইরে। এদিকে আকষ্মিক কাজে চড়ুই চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকে সামনের দিকে।
একটু পরেই আবির ফিরে আসে হাতে এক প্যাকেট রসগোল্লা নিয়ে। চড়ুইয়ের কোলের উপর রসগোল্লার প্যাকেটটা রাখতে রাখতে বললো...
" একটা দুইটা বিক্রি করে না, তাই এক কেজি নেওয়া লাগলো। বাকিগুলো বাড়ি নিয়ে যেও। "
বলতে বলতেই আবির চড়ুইয়ের দিকে ফিরে তাকাতেই হা হয়ে গেলো সে। চড়ুই একটার পর একটা, একটার পর একটা রসগোল্লা গালে দিয়েই যাচ্ছে, আবির চড়ুইয়েরহাত খপ করে ধরে ফেলে..
"এই মেয়ে, কয়টা খেয়েছো?"
"মাত্র চারটা। "
বলেই আবার চড়ুই আরেকটা তুলতে গেলে আবির বাঁধা দেয় তাকে।
"আর নাহ, এত মিষ্টি খেলে পেট খারাপ করবে। ওহ, তুমি ওয়েট করো আমি পানি নিয়ে আসছি৷ "
বলেই আবির একটু এগিয়ে গিয়ে আবার ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে ফিরে তাকাতেই বেক্কল হয়ে গেলো যেন। চড়ুই পাখি এবার একসাথেই কতগুলো রসগোল্লা মুখে পুরে নিয়েছে। আবির এগিয়ে গিয়ে আবার ধমক লাগায় তাকে..
"এই মেয়ে, কি করছো কি হ্যা? বের করো মুখ থেকে ওগুলো। "
চড়ুইয়ের গালে জায়গা নেই, এতগুলো মুখে দেওয়ার কারনে একটাও ঠিক মতো চিবাতে পারছে না, তবুও সে পন করেছে খেয়েই ছারবে যেন। তবে আবিরও কি হেরে যাওয়ার ছেলে নাকি। একদম এগিয়ে এসে এক হাতে চড়ুইয়ের থুতনি চেপে ধরলো আলতো করে। তারপর তার মুখের সামনে নিজের ডান হাতটা মেলে বললো...
"সব গুলো বের করো মুখ থেকে। "
বেশ কিছুক্ষণ বাড়াবাড়ি করেও লাভ হয় নি চড়ুইয়ের। এক এক করে মুখ থেকে মোট আট পিস রসগোল্লা ফেললো সে আবিরের হাতে৷ আবির হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে তার মুখের দিকেই, চড়ুইও কেমন ঠোঁট উল্টে তার দিকেই তাকিয়ে।
"তোমার গাল তো দেখি সাপের গালের থেকেও ডেঞ্জারাস, এতগুলো মুখে ঢুকালে কি করে? "
চড়ুই ক্ষেপে ওঠে..
"যেভাবে ঢুকিয়েছি সেভাবে গিলেও নিতাম।আপনি আমায় খেতে দিচ্ছেন না কেন? "
"তোমার এত বেশি খিদে পেলে আমায় বলো। ভালো কিছু খাও, এসব কেন? "
"আমি এসবই খাবো। আমার এসবেরই খিদে পেয়েছে। ভালো কিছুর খিদে পায়নি আমার। "
"ফাজিল মেয়ে কোথাকার।"
বলতে বলতেই আবির হাত ধুয়ে ঘুরে গিয়ে ড্রাইভিং সীটে গিয়ে বসলো। এসি অন করতেই চড়ুইয়ের মানা...
"এসি বন্ধ করুন?"
আবির আড়চোখে তাকিয়ে এসি বন্ধ করে দিলো।
"জানালার গ্লাস খুলুন? "
আবির কথা বাড়াতে চায় নি এই মেয়ের সাথে। তাই চুপচাপ তাই করলো।
"গাড়ি একদম জোরে চালাবেন না ওকে?"
"আমি কি রেস করছি? রাস্তায় যে জ্যাম দেখতে পারছো না তুমি? "
"দেখতে পাচ্ছি, তবুও জোরে চালাবেন না। "
আবির বিরক্ত হয়ে বলে..
"আসো, তুমিই চালাও.. "
"আমি তো পারি না। "
"তাহলে একদম চুপ থাকো। "
চড়ুই ভেঙ্গচি কেটে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রইলো, আবিরও হাফ নিশ্বাস ফেলে ড্রাইভিং এ মনোযোগ দিলো। তবে চড়ুই কি আর চুপ থাকার মানুষ? একটু পরে আবারও মিনমিনিয়ে ডাকে আবিরকে...
"দানাবল? "
আবির উত্তর দেয় না, তাকায়ও না। চড়ুই আবার ডাকে..
"এই যে, দানাবল? "
আবির রাগে এবার গজগজ করে বলে ওঠে..
"ওয়াট দানাবল? আমার একটা নাম আছে আবির, ওকেয়? আবির ভাইয়া, স্যার যা ইচ্ছে ডাকো। "
"কিন্তু আপনাকে তো দানাবল বলে ডাকতেই আমার ভালো লাগে। "
"আর একটাও কথা নয়,একদম চুপ। "
"আচ্ছা আর একটাই কথা বলি? "
"ওয়াট? "
"আপনি কি আমার বন্ধু হবেন? "
আবির সামনে তাকিয়েই বলে..
"আমার বয়েই গেছে। "
"না মানে, আমি কি আপনাকে বিশ্বাস করতে পারি? "
আবির ভ্রু কুঁচকে বিরক্ত নিয়ে সরাসরি তাকায় চড়ুইয়ের দিকে..
"সমস্যা কি তোমার? কি চাই? "
"আমার না খুব ঘুম পাচ্ছে। আপনি কি আমাকে সহি সালামত বাড়ি পৌছে দিবেন? তাহলে আমি একটু ঘুমাই? "
"একদম নাহ, ঘুমের ঘোরে এদিক ওদিক ঢুলে পড়ার জন্য নাকি। "
" কিন্তু আমার তো ঘুম পাচ্ছে। আর কথা না বললে এমনিতেও ঘুম পায় আমার।"
"তুমি কথাও বলবে না, ঘুমও যাবে না। চুপচাপ এভাবে বসে থাকো।"
চড়ুই কথা বাড়ায় না। ঠোঁট উল্টে বাইরে তাকিয়েই বসে থাকে।
চড়ুই মানতে পারে নি আবিরের নিষেধখানা। ঘুম কি আর অনুমতির অপেক্ষা করে? এসেই পড়লো তার ঘুম। আবির দেখে বিরক্ত হলেও আর কিছু বলে না। সীটটা আরেকটু পেছনে হেলিয়ে দেয়, যাতে চড়ুইয়ের অসুবিধা না হয়। অন্তত মুখটা তো বন্ধ আছে তার, এতেই শান্তি।
------------
রাত প্রায় সাড়ে আটটা....
চৌধুরী ভিলার বিশালাকৃতির ছাঁদের এক পাশে জায়গা নিয়েছে আজ আবির নিবিড় আর জিসান। আহিশের অপেক্ষায় আছে তারা। আহিশ ছাঁদে উঠে সবার মাঝে কয়েকটি বোতল দেখেই চোখ চকচক করে ওঠে তার। দৌড়ে এসে বোতল গুলো নেওয়ার উদ্দেশ্যে বলে ওঠে...
"ওয়াও ভাই,, তোরা তো আজ সেই জিনিস এনেছিস, আজ তো হবেই একসের। "
তবে বোতল গুলো ছোঁয়ার আগেই আবির খপ করে তা সরিয়ে নেয় তার সামনে থেকে। আহিশ বিরক্ত নিয়ে বলে..
"এটা কি হলো ভাই? "
নিবিড় বললো..
" তুই ছোট মানুষ, এসব তোর জন্য নাহ। "
জিসানও বললো..
"তোকে এখানে কে আসতে বললো রে?"
"আম্মুরা বলেছে তোমরা তিনজন ছাঁদে, তাই..."
আবির একটা বোতলের দিকে তীক্ষ্ণ ভাবে তাকিয়ে হাতে নিয়ে ঘুরাতে ঘুরাতে বললো..
"ওয়ানা ট্রাই ইট, আহিশ? "
আহিশ চকচকে দৃষ্টিতে বলে..
"অভিয়েসলি.."
"তাহলে তোকে একটা টাস্ক দিই। যদি পূরণ করতে পারিস তাহলে, এখান থেকে পুরো একটা ওয়াইন তোর.."
আহিশ খুশি হয়ে বলে..
"তুই যাস্ট একবার বল, আমি দু মিনিটে পুরন করে দিবো।"
"দু মিনিট নয়, আধ ঘন্টা। "
আবিরের কথায় জিসান বলে..
"আধ ঘন্টা? "
"হ্যা, তোকে আধঘন্টা সময় দিলাম। এরমধ্যে আআআ....পাখিদের বাড়িতে গিয়ে দেখে আয় ওরা কি করছে, কেমন আছে, এনিথিং। "
আহিশের মুখ ভ্যাবলার মতো হয়ে গেলো। অড়ম্ভুশের মতো বলে উঠলো..
"এটা আবার কেমন টাস্ক? "
"এটাই টাস্ক, রাজি থাকলে বল, আর না হলে এখান থেকে ভাগ.. "
"কিন্তু, পাখিদের বাড়িতে তো আজ মেহমান ভর্তি। কাল যাই ভাই? "
"নো,,এখন মানে এখনই। "
আহিশ উঠে দাঁড়ায়, প্যান্ট ঝাড়তে ঝারতে বলে..
"যাচ্ছি যাচ্ছি, তবে আধঘন্টায় হবে না। ওদের বাড়ি পৌছাতেই এখান থেকে কমপক্ষে চল্লিশ মিনিট লাগবে৷ আমি এক ঘন্টার মধ্যে খবর দিচ্ছি। "
নিবিড় পেছন থেকে চেচিয়ে বলে..
" মিস এটমের একটা ছবি তুলে আনিস তো। দেখি বাড়িতে কেমন করে থাকে। "
আহিশও ছাঁদ থেকে নামতে নামতে বলে..
"সব হবে, শুধু বোতল যেন রেডি থাকে আমার। "
----------
পাখিদের যেন কাজের ফুসরত নেই। এটা নয় সেটা লেগেই আছে আজ সারা দিন। ছোটমা কোনো ভাবেই জিরানোর ফুসরত দিচ্ছে না তাদেরকে। একটু আগেই সন্ধ্যার নাস্তা তৈরি করে দিলো দোয়েল সবাইকে। চড়ুই মাত্রই রুমে গিয়ে বিছানায় হেলান দিয়ে বসলো, ওমনি আমেনা বেগমের ডাকে আবার ছুটে গেলো কিচেনে, সে যেতেই আমেনা বেগম খেকখেক করে বলে উঠলো..
"সারাদিন কি করেছিস হ্যা? এখন আবার গিয়ে আরাম করা হচ্ছে যে খুব? তানিম কফি চাইছে, ওকে গিয়ে কফিটা দিয়ে আয় যা.."
বলেই হনহনিয়ে তিনি রান্নাঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলো। চড়ুই হাফ নিশ্বাস ফেলে এগিয়ে গেলো দোয়েলের কাছে। দোয়েল তাকায় বোনের দিকে। দু জনেরই চোখ মুখে ক্লান্তি স্পষ্ট। দোয়েল করুণ স্বরে জিজ্ঞেস করে...
"বেশি কষ্ট হচ্ছে বোন? "
চড়ুই উত্তর দেয়..
"তোরও তো হচ্ছে। পিরিয়ড তো আমার একার হয় নি। "
"সে যাই হোক, তুই তো এমনিতেই একটু উইক। "
"সেসব বাদ দে তো এখন, বলে লাভ আছে কিছু? জানিস বোন ঐ ছেলেগুলোকে আমার একদম সহ্য হচ্ছে না। কেমন যেন গায়ে পড়া স্বভাবের। "
দোয়েল ক্লান্ত নিশ্বাস ফেলে বলে..
" হুম, আস্তে বল, ছোট মা শুনলে রক্ষা থাকবে না আজ। ওরা নাকি আরো কয়েকদিন থাকবে সবাই। এই কয়টা দিন একটু সামলে চলিস বোন আমার। "
চড়ুই মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দেয়। কফির কাপ টা হাতে নিয়ে ড্রয়িং রুমে গিয়ে তানিম নামক ছেলেটির হাতে দেয় চড়ুই। কিন্তু তখনই তানিম কায়দা করে কফি টুকু ফেলে দেয় চড়ুইয়ের গায়ের উপর। গরম কফি টুকু শরীরে পরতেই লাফিয়ে ওঠে চড়ুই, তানিমও একদম কিচ্ছু না জানার মতো এগিয়ে গিয়ে বলতে থাকে..
"ওহ পাখি, কি করে ফেললে বলো তো। ইশশ সারা গা ভরিয়ে ফেলেছো একদম.."
বলতে বলতেই তানিম ইচ্ছে করে চড়ুইয়ের গা থেকে কপি ঝারার বাহানায় স্পষ্টকাতর জায়গায় হাত দেয়, ঠোঁটের কোনে বাঁকা হাসি তার। চড়ুই বুঝতে পেরেই এক কদম পিছিয়ে যায় সাথে সাথে। তানিম সহ আরো দুটো ছেলে এগিয়ে আসতে গেলেই একটি হাত চড়ুইকে টেনে সরিয়ে দেয়...
"ছোটপাখি, ঠিক আছিস তুই? "
এতক্ষণের পুরো দৃশ্যটাই দেখেছে আহিশ আর জেসি। মাত্রই বাড়িতে পা রেখেছিলো তারা, এমন দৃশ্য দেখে আহিশের মাথায় রক্ত চড়ে বসে। হাত মুষ্টি বদ্ধ হয়ে যায় তার। রাগে চোয়াল শক্ত করে এক কদম তানিমদের দিকে এগিয়ে যেতে নিলেই জেসি আটকে দেয় তাকে, ফিসফিসিয়ে বলে..
"আহিশ শান্ত হ। এখন কিছু করলে পাখিদের সমস্যা হবে পরে। প্লিজ..."
আহিশ ঘন ঘন নিশ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে। দোয়েলও পৌঁছে যায় এতক্ষণে, চড়ুইয়ের এমন অবস্থা দেখে উতলা হয় সে,..
"বোন? দেখি আমি? কোথায় লেগেছে দেখি? "
চড়ুইয়ের চোখে জল, হিচকি টানতে টানতে বললো..
"খুব জ্বলছে বোন। "
"তোরা ভেতরে যা, বরফ লাগিয়ে দে দ্রুত। "
আহিশের কথায় সম্মতি জানিয়ে জেসিও ওদের সাথে রুমে চলে যায়। এদিকে আমেনা বেগম কিছু বলতে গেলেই আহিশ মুখে হাসি ঝুলিয়ে এগিয়ে আসে তার দিকে..
"আরেহ আন্টি,,, আজ তো দেখি আপনার বাড়িতে চাঁদের হাট বসেছে। বেশ বেশ.. তা কারা এরা? "
আমেনা বেগম ঢোক গিলে ফেললেন, আহিশকে উত্তর দিলেন..
"আমার ভাইদের ছেলে মেয়েরা।"
"বাহ ভালো তো, তা.. রাতে থাকবেন এনারা? "
আমেনা বেগম বিরক্তি নিয়ে বলে..
"ওমাহ , থাকবে না কেন? ওরা সবাই আরো কয়েকদিন আমার বাড়িতেই থাকবে। "
আহিশও অবাক হওয়ার ভান ধরে বলে..
" কি বলেন আন্টি? তো এতজন রাতে ঘুমাবে কিভাবে, আপনাদের রুম তো মাত্র চারটা। অতিথিদের তো আর ড্রয়িং রুমের ফ্লোরে ঘুমাতে দেওয়া যায় না তাই না? তার উপর আপনাদের একটা রুম, পাখিদের একটা, আর দুটো রুমে এত জনের ম্যানেজ করতে তো কষ্ট হয়ে যাবে। "
" ওরা কেন ফ্লোরে ঘুমাতে যাবে, পাখিদেরকে ফ্লোরে দেবো.."
" উমম, আমি বলি কি আন্টি, যতদিন আপনার অতিথিরা আছে, ততদিন না হয় আমি পাখিদেরকে নিয়ে যাই আমাদের সাথে। এমনিতেই তো দেখতে পারছেন, ছোটপাখিটা এত্তো দুষ্টু, ইশশ রে আপনার কত সুন্দর কফি কাপটি ভেঙে ফেললো। "
আহিশের করুন অভিনয় আমেনা ধরতে না পারলেও উপস্থিত একজন ঠিকই ধরে ফেলেছে, আমেনা বেগম নাকোচ করে বললো..
"না নাহ, ওরা চলে গেলে আমার কাজ গুলো করবে কে.."
আহিশ আবার কিছু বলতে যাবে তার আগেই আমেনা বেগমের মেঝো ভাইয়ের মেয়ে তানহা এসে বললো...
" ও ঠিকই বলছে ফুপি, এই মেয়ে দুটোকে পাঠিয়েই দাও এই কয়েকদিন। আমরাও একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারবো। "
"কিন্তু আমার কাজ.."
"আরেহ কি এমন কাজ করে ওরা, বলোতো? একটা ঠিক করলে দশটা করে ভুলভাল। আমরা না হয় তোমাকে সাহায্য করবো টুকটাক, কি বলিস মিহি? "
মিহি মেয়েটিও তাল মিলিয়ে বলে..
"হ্যা হ্যা, এমনিতেই এই মেয়ে দুটোকে আমার একদম সহ্য হচ্ছে না ফুপি, এদের তুমি পাঠিয়েই দাও। "
তানহা আর মিহি আরো কিছু টুকটাক বুঝাতেই আমেনা বেগম রাজি হয়ে গেলো, সঙ্গে আহিশের বিশ্ব বিখ্যাত নাটক তো আছেই। আমেনা বেগম রুমে চলে যেতেই তানহা এগিয়ে আসে আহিশের দিকে। প্রশ্ন করে..
" আপনি ওদের কে হন? "
আহিশ উত্তর দেয়..
"ফ্রেন্ড "
"কেমন ফ্রেন্ড? "
"ক্লাসমিট + বেস্ট ফ্রেন্ড, যা মনে করেন আরকি আপু। "
"কোথায় নিয়ে যাবেন ওদের? "
"আমাদের বাড়িতে, আর কোথায়? "
"ওখানে ওরা সেইফ থাকবে তো? "
আহিশ ভ্রু কুঁচকে তাকায় তানহার দিকে। মিহিও এগিয়ে এসে বলে..
"আসলে আমরা আমাদের ভাইদের ভালো মতোই চিনি, এখানে থাকাটা মেয়ে দুটোর জন্য সেইফ মনে হচ্ছে না। কিন্তু আপনাকে দেখে তো ওদের ক্লাসমেট মনে হচ্ছে না। "
আহিশ কোমড়ে হাত ঠেকিয়ে বললো..
"আমি ঠিকই আছি আপু, বরং ওদেরকেই ক্লাসের তুলনায় বাচ্চা মনে হয়। "
তানহা বলে..
"তাও ঠিক,সারাদিন যা কাজ করাচ্ছে ফুপি এদের দিয়ে, বলার বাইরে। নিয়ে যান, কয়েকদিন বাড়িতে না থাকাটাই বেটার। "
" আপনাদেরও থ্যাংকস আপু হেল্প করার জন্য. "
"ইটস ওকেয়। ওদের ভালো রাখবেন. "
"সে আমাদের আম্মু, চাচিরাই দেখে রাখবে ওদের, চিন্তা করবেন না।"
পাখিদের নিয়ে তাদের বাড়ি থেকে বের হতেই আহিশ কল লাগায় আবিরের নম্বরে। রিসিভ করতেই আহিশ বলে...
" মহৎ কাজ করে ফেলেছি ভাই। বোতল একটা নাহ, দুইটা রেডি রাখ আমার জন্য। "
ওপাশ থেকে নিবিড় চেঁচিয়ে বললো..
"আমার ছবি? "
আহিশ হেঁসে বললো..
"ছবির থেকেও বেশি কিছু নিয়ে আসছি ভাইগন, রেডি থাকো তোমরা।"