Mr and Mrs Twins Return

পর্ব - ২

🟢

দুপুরের সেই পাগলাটে মেয়েটা পুলিশের হাত থেকেও পালিয়েছে। শুধু পালায়নি, বরং কি দারুণ সটান হয়ে আবির নিবিরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আর এই বিষয়টা অফিসার আহসান একবার ও জানালো না আবিরকে?

কথাগুলো মাথায় আসতেই পরিচিত রাগ চওড়া হলো আবিরের। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার মাঝে এখন কিছুটা চিন্তার ছাপ দেখা দিচ্ছে। কিন্তু সেসব দেখে আবিরদের কি। রেগে বললো...

" এই মেয়ে, তুমি পালিয়েছো কি করে? "

চড়ুই কি একটু ভয় পেলো? মনে তো হচ্ছে না, আগের মতোই সাথে সাথে উত্তর দিলো...

"রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সামনে গাছের ডাল পড়ায় গাড়ি থামায়, সবাই যখন সেটি সরাতে গেলো, তখন বোন চুপি চুপি এসে আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিজেই আমি হয়ে চলে গেলো পুলিশের সাথে। আমার বোন কে ছেড়ে দিতে বলুন প্লিজ। "

আবির যেন রাগে ফেটে পড়ছে। নিবির এগিয়ে এসে বললো...

" ভাই, চাচ্চুর গুণধর ছেলে ফোন করেছে। কি যেন ব্ল্যান্ডার করে ফেলেছে সে। যেতে হবে একটু। "

আবির দৃষ্টি মজবুত রেখেই বললো...

"তুই যা ভাই, আমি একে থানায় দিয়ে আসছি।"

নিবিড় তাকায় চড়ুই এর দিকে। এক গাল হেঁসে বললো...

"আজকে তুমি শেষ বাচাল মেয়ে। "

চলে গেলো নিবিড়। চড়ুই বার বার আবিরকে বলছে,

"আমার বোন কে ছেড়ে দিতে বলুন প্লিজ। ও কিচ্ছু করে নি। "

" করেছো তো তুমি। তোমাকে এবার আমি নিজে দিয়ে আসবো থানায়, দেখি কে বাচায় তোমায়।"

বলতে বলতেই আবির খপ করে চেপে ধরলো চড়ুই এর হাত। গাড়ির কাছে নিয়ে গিয়ে ডিকি থেকে মোটা দড়ি বের করলো সে। ফ্রন্ট সীটে চড়ুইকে বসিয়েই তার হাত পা বাঁধতে লাগলো শক্ত দড়ি দিয়ে। তা দেখে চড়ুই বলতে নিলো...

" আরে আমায় বাঁধছেন কেন?"

" যাতে দ্বিতীয় বার আর পালাতে না পারো। "

"আজব, আমিও তো যাবো,পালাবো না তো। ব্যাথা লাগছে হাতে। দড়ি খুলে দিন? "

"মামা বাড়ির আবদার? "

"মামা বাড়িই তো নেই, আবদার করবো কিভাবে? "

চড়ুইয়ের এমন অদ্ভুত কথায় তিতির বিরক্ত হয় আবির। গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে বললো...

"এভাবেই যাবে। "

পুলিশ স্টেশন এর পথ ধরে এগোচ্ছে গাড়ি। পাশে বসা মেয়েটার বকবকানিতে আবিরের কান ঝালাফালা হয়ে যাচ্ছে। একটা মিনিটের জন্যও চড়ুই এর মুখ বন্ধ হয়নি। আবিরের ধমকও যেন তার কাছে ফেইল। বেশ কিছুটা পথ যেতেই চড়ুই শুরু করলো আরেক অদ্ভুত আচরণ। হাত পা ছড়াছড়ি শুরু করলো সে। সাথে আহ উহ চিৎকার তো আছেই। আবির তেতে এক ধমন দিলো আবারো..

"এই মেয়ে, এমন করছো কেন? "

চড়ুই উত্তর দিতে দেরি করলো না একটুও৷ কাঁদো কাঁদো মুখ করে বললো...

"ওরা খুব মারছে। ওমাহ। আল্লাহ.. "

চড়ুইয়ের এমন কান্ড বাড়তেই লাগলো। আবিরের রাগ সপ্তম আশ্চর্যে পৌঁছায়। হুট করেই গাড়ি ব্রেক কষলো সে। চড়ুইয়ের দিকে তাকিয়ে রাগে রিরি করতে করতে বললো...

" ইউ নো ওয়াট, তুমি যে একটা পাগল সেটা আমি বুঝতেই পারি নি এতক্ষণ। তোমাকে পুলিশে দেওয়া আর না দেওয়া একি কথা। নাও বের হও গাড়ি থেকে.. "

চড়ুইয়ের কানে আদেও কথা গুলো পৌছেছে কি? হয় তো না, শুনলে হয়তো আবিরের কথা মতো কাজ করতো। আবির আর অপেক্ষা করলো না, চড়ুইয়ের পাশের দরজা খুলে এক প্রকার ধাক্কা মেরে ফেলে দিলো চড়ুইকে বাইরে। তারপর আর এক মুহুর্ত ও দাঁড়ায় না আবির। গাড়ি ছুটিয়ে চলে যায় সেখান থেকে।

-------------

থানার সামনে পায়চারি করছে আহিশ। গেটের দারোয়ান তাকে ঢুকতেই দিচ্ছে না ভিতরে। চিন্তায় ছেলেটার চোখ মুখ এলোমেলো হয়ে গেছে এই অল্প সময়েই। একটু পরেই নিবিড় এসে হাজির হয় আহিশের সামনে। আহিশের কাঁধে চাপর দিয়ে বলে উঠে..

"কিরে, তুই এখানে কেন? আমি তো ভাবলাম জেলের ভিতরে থাকবি তুই। "

"আরেহ নিবিড় ভাই, আমাকে তো ঢুকতেই দিচ্ছে না ভিতরে। "

"বাবাহ আহিশ, তুই নিজে থেকে জেলে যেতে চাইছিস? তা কি ব্ল্যান্ডার করলি বল?"

"আমার একটা ফ্রেন্ডকে পুলিশে দিয়েছে কোন জাউরার পুতে। ওর নাকি অনেক পাওয়ার, বিশ্বাস কর নিবিড় ভাই, ভিতরে গিয়ে অফিসারের পা চেপে ধরা বাকি ছিলো শুধু, জামিন তো দূরে থাক দেখা করতেও দিচ্ছে না আমার ফ্রেন্ডের সাথে, যে কেস করেছে তার বারন নাকি। শেষমেশ আমাকে হাবিলদার দিয়ে বের করে দিলো, আর ঢুকতেই দিচ্ছে না ভিতরে। "

নিবিড় হেঁসে উঠলো..

"বেশ হয়েছে, ম'দ গা'জা খেয়ে মাতলামি করে জেলে গেছে, একদম ছাড়া উচিত না।"

"আরে ভাই, এসব কিচ্ছু নাহ। একটা ভুল বুঝাবুঝি, তুই একটু কথা বলে দেখ না প্লিজ। জামিন টা অন্তত.. "

"আচ্ছা দেখছি আমি.. "

নিবিড় ভিতরে গেলো। তাকে দেখেই অফিসার আহসান সালাম দিয়ে বললো...

"স্যার আপনি এখানে? আমি তো আপডেট জানিয়েছি, মেয়েটাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে কিছুক্ষণ আগেই, তবে সন্দেহজনক কিছুই বলছে না এখনো, সময়ের সাথে সাথে ডোজ বাড়বে। "

নিবিড়ের একটু খারাপ লাগলো চড়ুইয়ের জন্য, মেয়েটার মাঝে মায়া মায়া একটা ভাব আছে। কিন্তু কিছুই করার নেই এখন তার।

"আমি সেই বিষয়ে আসিনি অফিসার। আমার কাজিন বাইরে দাঁড়িয়ে, তাকে নাকি আপনারা বের করে দিয়েছেন? "

"কি বলছেন স্যার? আ্ আম সরি, আসলে আমি জানতাম না যে.. এক্ষুনি ডাকছি স্যার.. "

বলেই অফিসার আহসান কনস্টেবলকে দিয়ে আহিশকে ভিতরে আসার অনুমতি দিলো। সে এসেই নিবিড়কে বললো...

"নিবিড় ভাই প্লিজ, আমার ফ্রেন্ডের জামিন টা? "

নিবিড় অফিসারকে বললো..

"ওর কোন ফ্রেন্ডকে আপনারা তুলে এনেছেন? জামিনের ব্যবস্থা করুন, লয়ার লাগলে আমি হায়ার করছি। "

অফিসার আহনাফ কাচুমাচু করে বললেন...

"ইয়ে মানে স্যার, উনি যার জামিনের কথা বলছে তাকে তো আপনারাই তুলে দিয়েছেন দুপুরে, জামিন দিতেও মানা করেছেন। "

আহিশ অবাক নয়নে নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো..

"পাখিকে তোরা জেলে দিয়েছিস? "

নিবিড়ও অবাক, বলে উঠলো...

"ওয়াট দা.. তোর ফ্রেন্ড মেয়ে? "

"হ্যা মেয়ে, তোরা এত বড় কাজ করেছিস ভাই? "

নিবিড়ও ভ্রু কুঁচকে উল্টো প্রশ্ন করে বসলো..

"তার মানে তুই তখন আমাদেরকে জাউড়ার পুত বললি? আহিশ, তোর বড় আব্বু জাউড়া? এটা তুই বলতে পারলি? "

"একদম বেশ করেছি বলেছি। আমার ফ্রেন্ডকে বের কর এক্ষুনি। "

"আরেহ ঐ মেয়েটা আজকে অফিসে গিয়ে... "

"সবটা বলবো আমি, আগে ওকে বের কর। "

নিবিড় অফিসারের দিকে তাকিয়ে ইশারা করতেই অফিসার বলে উঠলো...

"কিন্তু, ওকে তো রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে.. "

আহিশ আবারও নিবিড়ের দিকে তাকাতেই নিবিড় বলে উঠলো..

"আমি নাহ, ভাই বলেছে এসব। "

আহিশের চিন্তা যেন বেড়েই চলেছে৷ বললো...

" প্লিজ ভাই, বের কর না পাখিকে। "

অফিসারকে বলতেই তিনি দ্রুত কনস্টেবলকে বললেন মেয়েটাকে নিয়ে আসতে। নিবিড়কে বললেন...

"স্যার, আপনারা কেইস করে, আপনারাই আবার জামিন করাবেন? "

আহিশ চেঁচিয়ে বলে উঠলো..

"কিসের জামিন? কেইস উঠা তুই। "

নিবিড় শুনলো, কাগজ পত্র তৈরি হতেই নিবিড় সাইন করে দিলো কেইসটা ক্লোজ করার জন্য। আহিশকে এগিয়ে যেতে দেখে নিবিড় ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় সেদিকে। পরিচিত মুখখানা দেখলো সে, কি হাল হয়েছে মেয়েটার। হাঁটতেও পারছে না ঠিক মতো। লেডি কন্সটেবল একজন কোনো মতে তাকে ধরে টেনেটুনে একটা দরজা পর্যন্ত এনে এক প্রকার ধাক্কা মেরে ছেরে দিলো । আহিশ গিয়ে আগলে ধরলো মেয়েটাকে। উদ্বিগ্ন কন্ঠে বলে উঠলো...

"বড় পাখি, ঠিক আছিস তুই? "

দোয়েলের চোখ নিভু নিভু, সারাটা শরীর কাঁপছে তার। আহিশকে ধরে একটু খানি দাঁড়িয়ে থাকার প্রচেষ্টায় বলে উঠলো...

"আ্ আমার বোন কোথায়, আহিশ? "

আহিশ উত্তর দিলো...

"ছোটপাখি আছে। তুই আয় আমার সাথে। "

দোয়েল কদম ফেলতে গেলেই পড়ে যেতে নেয় পায়ের যন্ত্রণায়। নিবিড় এগিয়ে এসে বলে..

"আমি হেল্প করছি। "

বলেই দোয়েলকে ধরে সামলে দাঁড়ায় সে, ফিসফিসিয়ে আহিশকে বলে...

"একে তো ভাই একটু আগে থানায় নিয়ে আসবে বলেছিলো, এত তারাতাড়ি এমন কি করে হলো? ভাই তো হেলিকপ্টারের গতিতে গাড়ি চালায় না? "

আহিশ প্রথমে ভ্রু কুঁচকায়, নিবিড়ের কথার আগা মাথা বুঝে উঠতে সময় লাগলো তার। পরক্ষণেই চকিত হয়ে বললো..

"ছোটপাখি আবির ভাইয়ের সাথে আছে? আল্লাহ বাচাইছে, ওদিকে সুহাস ভাই তাকে খুঁজতে গেছে। "

এদের কথার মাঝেই লক্ষ্য করলো দোয়েলের শরীর চলছে না, জ্ঞান হারিয়েছে মেয়েটি নীরবেই। দোয়েলের এমন অবস্থা দেখে আহিশ পাগল প্রায়। আহিশকে কাঁদতে দেখে নিবিড় নাক কুঁচকে বলে উঠলো..

"এই ছেলে, পাগল হলি? মেয়েদের মতো কাঁদছিস কেন? "

" ভাই, পাখির কষ্ট হচ্ছে খুব। কি করবো এখন আমি।"

"রিল্যাক্স, কিচ্ছু হবে না। আমি দেখছি। "

নিবিড় পাঁজা কোলে তুলে নেয় দোয়েলকে। গাড়িতে বসে বলে উঠলো...

" হসপিটাল নিয়ে যাই, হাত পায়ের অবস্থা তো ভালো ঠেকছে না। ভালোই মেরেছে দেখছি। "

আহিশ বাঁধা দিয়ে বললো..

"উহুম, হসপিটালে না,ফোবিয়া আছে ওদের হসপিটালে। বাড়িতে চল,ডাক্তার ডেকে নেবো।"

" ওকেয়, বাড়ির ঠিকানা দে। "

"নিজের বাড়ি চিনিস না? "

নিবিড় ড্রাইভ করতে করতে বললো..

"আমাদের বাড়ি নিবি? সবাই কিন্তু ভাববে আমি ভাগিয়ে নিয়ে এসেছি একে। "

"রাখ তোর পেচাল, কেউ কিছু ভাববে না, তোর থেকে ওদের বেশি চিনে বাড়ির সবাই। "

"বাবারেহ "

------------

রাত বাজে প্রায় দেড়টা। সারাদিনের ধকল সব পেরিয়ে আবির মাত্রই প্রবেশ করলো বাড়িতে। ভেবেছিলো এখন সব কিছু ছেড়ে একটা শান্তির ঘুম দিবে। কিন্তু তাও যেন হলো না আর। ড্রয়িং রুমে পা রাখতেই দেখতে পেলো সোফায় লেপ্টে থাকা মেয়েটিকে। আবার সেই মেয়েটি। আজ সারাটা দিন যেন এই মেয়ে পিছুই ছারছে না তার। কি একটা অবস্থা। বিরক্ত হয়ে বলে উঠলো...

" এ এখানে কেন? "

আবিরের কন্ঠ কানে আসতেই তার দিকে ফিরে তাকালো উপস্থিত সবাই। শুধু তাকিয়েই ক্ষ্যান্ত হয় নি, একের পর এক প্রশ্ন ছুড়তে লাগলো তাকে। সর্বপ্রথমই আহিশ এসে বললো..

" ছোট পাখি কোথায়? "

পরপরই নিবিড় এসে প্রশ্ন ছুড়লো..

"তোর ফোন কই ব্যাটা, কল দিতে দিতে শহীদ হয়ে গিয়েছি। "

এতেই শেষ নয়, সাবিহাও এসে প্রশ্ন ছুড়লো..

"কিরে, চড়ুইকে আনিস নি? "

আবির বুঝতে পারলো না এমন কথার মানে, তার ভাস্য মতে সোফায় শুয়ে থাকা মেয়েটাই চড়ুই। তাহলে এরা কি সব বলছে? এগিয়ে গিয়ে সোফার সামনে দাঁড়িয়ে আঙুল তাক করে বললো...

"এই পাগল মেয়েটা এখানে কি করে এলো? একে তো একটু আগেই আমি রাস্তায় ফেলে এসেছি। "

ব্যস, সকলের মুখ হা হয়ে গেলো। আবির আবার বলে উঠলো...

"এ আমার বাড়ি পর্যন্ত চলে এলো,, আর মাফ দেওয়া যাবে না, একে এবার আমি পুলিশে দিয়েই ছাড়বো। "

বলতে বলতেই জ্ঞানহীন দোয়েলের দিকে এগিয়ে যেতে নিলেই নিবিড় আটকে দাঁড়ায় আবিরকে..

"ভাই ভাই প্লিজজ।একবার থানায় গিয়েই এই অবস্থা এর, এখনো জ্ঞান ফিরেনি, আবার দিলে এর হৃদপিণ্ডে আর রক্ত সঞ্চালন হবে না। "

আজমল চৌধুরী চিন্তিত নয়নে এগিয়ে এসে আবিরকে জিজ্ঞেস করলো...

"চড়ুই কে কোথায় রেখে এসেছিস আবির? এভাবে এতো রাতে,মেয়েটা ঠিক আছে তো? "

আবির কন্ঠে একটু বিরক্ত নিয়ে বললো..

"আব্বু কি বলছো তোমরা এসব? এই মেয়েটা দুপুরে অফিসে গিয়ে যা তা করে এসেছে। তারপর থেকেই জ্বালিয়ে যাচ্ছে এ,এখন তো দেখছি বাড়িতেও এসে বসেছে। এ নিশ্চয়ই কোনো বাজে উদ্দেশ্য নিয়ে এসব করছে.. "

আহিশ যেন চিন্তা মুক্ত হয়েও হতে পারছে না। এতক্ষণ দোয়েলের চিন্তা, আর এখন চড়ুই পাখির। ক্লান্ত স্বরে বলে উঠলো সে...

"তোরা ভুল বুঝছিস আবির ভাই। পাখিরা মোটেও খারাপ নাহ। সামান্য একটা ভুল বুঝাবুঝির কারনে আজ কি হয়ে গেলো ওদের। "

"আহিশ তুই চিনিস না এই মেয়েকে, ও আজ..."

"আমার থেকে বেশি তুই চিনিস না ওদের, আবির ভাই। আজ সকালে ভার্সিটিতে গিয়ে দেখি সিনিয়র কয়েকটা ছেলে টিজ করছে ওদেরকে৷ আমার মাথা গরম হয়ে যায়, যার কারনে ছেলেগুলোর সাথে ঝামেলা হয় আমাদের। সেই ঝামেলার রেশ ধরে ওরা আমাদের ব্ল্যাকমেইল করে তাদের কথা মতো কাজ না করলে আমাদের টিসি দিয়ে দিবে ভার্সিটি থেকে।তাই বাধ্য হয়ে আমরা রাজি হতে হয়,তখন পরিচিত কেউ ছিলোও না, আমরাও হেল্প নিতে পারি নি কারোর থেকে। ওদের কথা মতো চড়ুই পাখিকে এক জনের ছবি দেখায়, বলে যে কোন একটা অফিসে যেতে হবে, সেখানে গিয়ে নাটক করতে হবে এই লোক তার জামাই, এই সেই।, শয়তান গুলো আমাদের কাউকে ও যেতে দিলো না সাথে, চড়ুই পাখিকেই বাধ্য করলো যেতে। আর আমরা কেউই জানতাম না যে ওরা তোদের অফিসে পাঠিয়েছে ওকে, আর তারপর এই এত কিছু। "

আবির নিবিড় দু-জনেই হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। মানে তারা ঠিক কি কি ভেবে ফেলেছিলো,শত্রু পক্ষের ভেবে রিমান্ডে পর্যন্ত দিয়েছে মেয়েটাকে।

ভাবনার মাঝেই কানে এলো দোয়েলের কাতর কন্ঠ...

"বোন? আমার বোন কোথায়? "

Mr and Mrs Twins Return গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি -এর লেখা একটি জনপ্রিয় টুইন রিলেটেড রোমান্টিক গল্প