Mr and Mrs Twins Return

পর্ব - ৩

🟢

দোয়েলের জ্ঞান ফিরতেই বোনকে খুঁজতে লাগলো মেয়েটি। চারদিকে কে আছে না আছে হুশ নেই তার। সোফা থেকে উঠে দাঁড়াতে গেলেই পায়ের ব্যাথায় মুখ কুঁচকে এলো তার, সাবিহা দ্রুত এসে আগলে ধরলে তাকে..

" বড়পাখি, আস্তে আম্মু। উঠিস না তুই পায়ে ব্যাথা পাবি তো.. "

তখন রিমান্ডে নেওয়ার পর দোয়েলের পায়ের তালুতে চিকন বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মেরেছিলো অনেক।নরম চামরা হওয়ায় অল্পতেই রক্ত জমাট বেঁধে ফুলে গেছে পায়ের তালু, এছাড়া শরীরে তো মেরেছেই কয়েক ঘা।ভাগ্য ভালো থাকায় তখন আহিশরা ছাড়িয়ে নেয় তাকে, আর একটু হলে হয়তো মরেই যেত মেয়েটি।

সাবিহার দিকে করুন চোখে তাকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে দোয়েল বললো..

"আন্টি, আমার বোন,, ওর খুব কষ্ট হচ্ছে আন্টি। ও সহ্য করতে পারবে না তো এতটা। "

সাবিহা তাকে শান্ত করার জন্য বলতে লাগলো...

"কিচ্ছু হবে না ছোটপাখির,, একটু পরেই চলে আসবে ও, তুই শান্ত হ আম্মু আমার। "

আবির ভ্রু কুঁচকে আহিশকে জিজ্ঞেস করলো..

" এ এমন করছে কেন? "

আহিশ শুনলো না হয়তো, দোয়েলের কাছে গিয়ে বললো...

" তুই চিন্তা করিস না বড় পাখি।, ছোটপাখি হয়তো বাড়ি চলে গেছে, ও ঠিক আছে। "

দোয়েল মানতে নারাজ। কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলো...

" না না আহিশ, বাড়িতে নেই ও। ছোটমা ওকে বাড়িতে ঢুকতে দেবে না। "

"বড় পাখি মাথা ঠিক আছে তোর? বাড়িতে ঢুকতে দেবে না কেন? "

" আ্ আমি দুপুরে বাড়িতে গিয়েছিলাম, ছোটমা বের করে দিয়েছে আমাকে, ব্ বলেছে আর কখনো আমাদেরকে বাড়িতে ঢুকতে দেবে না। ওকেও বের করে দেবে বাড়ি গেলে। "

হা হয়ে গেলো সবাই। কি বলবে বুঝতেই পারছে না কেউ। নিবিড় এগিয়ে এসে বসলো সোফার সামনে দোয়েল বরাবর..

"রিল্যাক্স, কিচ্ছু হয় নি, তুমি একটু শান্ত হও।"

" আমার বোন কোথায় গেছে? ওর ও খুব কষ্ট হচ্ছে, আ্ আমি জানি.. "

আহিশ হাফ ছেড়ে দাঁড়ায় আবিরের সামনে। বলে..

"ওরাও তোমাদের মতো টুইন্স ভাই। চড়ুই পাখিকে তুমি কোথায় ফেলে এসেছো? "

আবির কিছু বলার আগেই দোয়েল উঠতে উদ্ধত হয়..

"আ্ আমাকে যেতে হবে। বোনকে খুঁজতে হবে আমার। "

আবির এবার তাকে থামিয়ে বললো...

"তুমি থাকো। আ্ আমি যাচ্ছি। নিয়ে আসছি তাকে। "

দোয়েল মানতে চাইছিলো না, তবে বাড়ির সবাই তাকে বুঝিয়ে কোনো মতে আটকে রাখলো। আবির আবার বেরোলো চড়ুইকে খুঁজতেই। একটু আগে যেই পথে ফেলে এসেছিলো চড়ুইকে, সেই পথ দিয়েই এগিয়ে চলছে আবিরের গাড়ি। সে জানে না আদেও এতক্ষণ পর্যন্ত মেয়েটা একি জায়গায় আছে কি না, কোথাও চলে গেলে তো আরেকটা সমস্যা। আবির বিরক্ত হয়, মেয়েটা এতো পাগলের মতো বকবক করে তখন রাগের মাথায় মেরেই ফেলতে মন চাইছিলো তাকে।

জায়গাটায় পৌছাতেই আশপাশে তাকিয়ে তাকিয়ে চড়ুইকে খুঁজতে লাগলো আবির। বেশি বেগ পোহাতে হয়নি, পেয়েও গেলো তাকে। ঐ তো রাস্তার ধারে একটি বেঞ্চির উপর গুটিশুটি হয়ে শুয়ে আছে। তবে আবিরের চোখ কুঁচকে এলো তার সামনে একটি ছেলেকে দেখে, কি করছে লোকটি?

আবির একটু দূরত্ব নিয়ে গাড়ি থামায়। এগিয়ে এসে লোকটির কাঁধে হাত দিতেই ধরফরিয়ে ওঠে লোকটি। আবির স্বাভাবিক ভাবেই জিজ্ঞেস করে...

" কি ভাই, এখানে কি করছেন? "

লোকটি উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে..

"আপনি কে? আপনাকে তো চিনলাম না? "

"আমাকে আপনি চিনবেন না,আপনি কি করছিলেন এই মেয়েটার কাছে? ও তো ঘুমাচ্ছে বেশ। "

লোকটি আমতা আমতা করে প্রশ্ন করলো..

"আপনি কি মেয়েটিকে চিনেন? "

আবির উত্তর দিলো..

"নাহ,তেমন নাহ। কেন বলুন তো? "

লোকটা যেন জোর পেলো একটু। বললো..

" ওহ, ও আমার বোন, বাড়ি ফেরেনি তো তাই খুঁজতে এসে এখানে পেলাম। "

আবির একটু সস্থির নিঃশ্বাস ফেলে বললো..

"ওহ, যাক তাহলে সেইফ আছে। আল্লাহ বাচাইছে ভাই। আচ্ছা নিয়ে যান আপনার বোনকে। "

বলেই আবির পেছন ফিরে গাড়ির কাছে যেতে লাগলো। মনে মনে একটু শান্তিই পাচ্ছে সে, এই বাঁচাল মেয়েটাকে অন্তত সাথে করে নিয়ে যেতে হবে না, নিজের বাড়িতেই যাক। ভেবেই আবির আহিশের নম্বরে কল দিলো।...

"চিন্তা করিস না, ও সেইফ আছে। "

আবিরের কথায় আহিশও একটু চিন্তামুক্ত হয় যেন, বললো..

"আচ্ছা ভাই। ওকে নিয়ে আয়, আজ ওরা আমাদের বাড়িতেই থাকবে। "

"তার আর দরকার নেই। ওকে ওর ভাই নিয়ে যাচ্ছে বাড়িতে। "

আহিশ চমকালো..

"ভাই মানে? কোন ভাই? "

"আরে ওর ভাই। বড় ভাই হবে হয়তো দেখে মনে হলো। "

আহিশ বিচলিত হয়,বলে উঠলো..

"আবির ভাই, কি সব বলছিস তুই? পাখিদের কোনো বড়ভাই নেই। "

"আরে হবে হয়তো কাজিন কোনো ভাই.. "

"আবির ভাই, তুই শুধু আজ ছোটপাখিকে ছাড়া বাড়ি আয়, বড়আম্মু তোরে আগুন ছাড়া সিদ্ধ করবে জানোয়ার। আরেহ পাখিদের কোনো বড় ভাই নেই। নেই মানে চাচাতো, মামাতো, খালাতো কোনো বড় ভাই-ই নেই। তুই কার হাতে তুলি দিয়েছিস পাখিকে? "

"শিট.."

বলেই আবির দ্রুত আবার পিছনে ফিরে দৌড়াতে থাকে। লোকটা ইতোমধ্যেই তাড়াহুড়ো করে ঘুমন্ত চড়ুইকে তুলতে ব্যস্ত। আবির গিয়েই তার কলার টেনে ধরে একটা ঘুশি বসায় নাক বরাবর। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে..

"শালার পুত? তুই ওর কোন জনমের ভাই লাগিস হ্যা? "

লোকটাও কম যায় না, ক্ষেপে গিয়ে বলে উঠে...

"এই, তুই আমায় মারছিস কেন? তুই নিজেও তো কেউ না এই মেয়ের। "

আবির এগিয়ে গিয়ে আরেকটা ঘুশি বসায় লোকটির থুতনি বরাবর। বলে উঠে..

"ও আমার কি লাগে না লাগে তা জেনে তোর কি মাদার*দ। আমি ওর লাং লাগি, ভাতার লাগি বুঝছস? "

বলতে বলতে আরো কয়েক ঘা দিয়ে বসে আবির লোকটির গায়ে। লোকটি কোনো মতে পালায়, আবিরও আর পিছু নেয় না। শার্টের ময়লা ঝাড়তে ঝাড়তে এগিয়ে যায় চড়ুইয়ের কাছে। মেয়েটার হাত এখনো বাঁধা । আবিরের খারাপ লাগে একটু কোথাও, এভাবে এতরাতে মেয়েটাকে ফেলে যাওয়া উচিৎ হয় নি।

"এই মেয়ে, শুনছো? ওঠো? তুমি কি ঘুমাচ্ছো? "

মেয়েটার নাম কি যেন বললো তখন? মনে করতে পারছে না আবির, কি নাম যেন তার?

কিছুক্ষণ ভেবেও নামটা মনে করতে পারলো না আবির, কিছু একটা ভেবে নিজের দেওয়া নামেই ডেকে উঠলো আবার..

"ওয়াইফি? ওঠো? শুনতে পাচ্ছো? "

কে শুনে কার কথা? এই যে চড়ুই নিশ্চিন্ত মনে মাথার নিচে দু হাত দিয়ে হাটু ভেঙে ঘুমাচ্ছে, তার পাশ দিয়ে যে এতক্ষণ একটা মহা যুদ্ধ হয়ে গেলো তারও খবর নেই তার। আবির হাফ নিশ্বাস ফেললো, হয়তো জ্ঞান হারিয়েছে মেয়েটা। আচ্ছা এরাও তো টুইন্স, তাহলে রিমান্ডের কারনে কি এরও..

ভাবতেই আবির ফোনের ফ্ল্যাশ অন করে চড়ুইয়ের পায়ের কাছে তাকায়। যা ভেবেছিলো তাই, পায়ের তালুতে ক্ষত চিহ্ন। হাহ, তখন গাড়িতে মেয়েটা ব্যাথায় চিৎকার করছিলো। আর আবির কিনা তাকে পাগল ভেবে ফেলে দিলো.. নিজের কাজে নিজেকেই গা'লি দিচ্ছে আবির। আর কিছু চিন্তা না করে পাঁজা কোলে তুলে নেয় সে চড়ুইকে। গাড়িতে বসিয়ে নিজেও ড্রাইভিং সীটে বসে গাড়ি স্টার্ট দেয় সে। কিন্তু তাতেও যেন শান্তি নেই তার। একটু পরেই ঘুমের ঘোরে ঢুলে পড়ে চড়ুই আবিরের কাঁধে, কোনো মতে তাকে নিচে পড়া থেকে আটকায় আবির, বিরক্তিতে বিড়বিড় করে বলে উঠে সে.

"আল্লাহ, এ কোন জাহিলিয়া আলামতে ফালাইলা তুমি। "

কিন্তু আপসোস, প্রশ্নের উত্তর আর পাইলো না সে। একহাতে চড়ুইকে ধরে রেখেই ড্রাইভ করতে লাগলো সে।

বাড়ি ফিরে সবটা সামাল দিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিতে দিতে রাত প্রায় আড়াইটা বাজলো আবিরের। তবে চোখে ঘুম দিচ্ছে না তার, হাত নিশপিশ করছে আজ অনেক দিন পর। একটা ফালতু কারনে মাথাটা গরম হয়ে যাচ্ছে তার। তখনকার লোকটাকে জাহান্নামের রাস্তা দেখাতে ইচ্ছে করছে, শা'লা মাদারবোর্ডটা তখন ছুয়েছে সো কল্ড ওয়াইফিকে। আর এটাই কেন যেন সহ্য হচ্ছে না আবিরের।

বিছানায় শুয়েও আবার উঠে সারা রুমে পায়চারি করতে লাগলো আবির। হুট করেই কাবার্ডের দিকে এগিয়ে গিয়ে লকার খুলে কিছু একটা হাতে নিলো সে। জিনিসটার ব্যবহার করেনি এই কয়েক দিনে সে। আজ হয়তো করতেই হবে। হুট করে দরজায় কারো কড়াঘাতের শব্দে আবির আবার জিনিসটা লকারে বন্ধি করে নেয়। তারপর দরজা খুলতেই দেখে নিবিড় আর তার আম্মু দাঁড়িয়ে সামনে। আবির জিজ্ঞেস করলো..

"কি ব্যপার আম্মু? এই সময় তোমরা? "

"দেখ না আবির বাবা, মেয়ে দুটোকে বললাম আজ রাতটা না হয় থেকে যেতে, কিন্তু ওরা থাকতেই চাইছে না। বাড়িতে নাকি আরো ঝামেলা হবে থাকলে। আহিস আর জেসি দিয়ে আসবে ওদের। তাই বলছিলাম তোরাও একটু যা না বাবা, আহিশের কথা ওদের বাড়ির কেউ নাও শুনতে পারে, তোরা তো বড়, একটু বুঝিয়ে সুজিয়ে মেয়ে দুটো কে বাড়ি দিয়ে আয়? "

আবির চরম বিরক্ত হয়। কাল সকাল বেলায় আবার অফিস, আর এই সময় এই ঝামেলা মেয়েগুলোকে একটুও সহ্য হচ্ছে না তার৷ বিরক্ত হয়েই বললো...

"আম্মু আ'ম সো মাচ টায়ার্ড, নিবিড় যাক। আমি পারছি না সরি। "

নিবিড় এবার মাথা চুলকে বলে...

"ইয়ে মানে ভাই, ওদের তো পায়ে আঘাত লেগেছে, হাটতে পারছে না বেচারিরা। আমি না হয় একটারে তুললাম, আহিশের যে পাটকাঠি অবস্থা, ওর দ্বারা হবে না জানিসই তো। তাই আরেক জনের জন্য হলেও তো যেতে হবে তোকে। আমি বাবা দুটো বস্তা একত্রে তুলতে পারবো না। "

"আমি বাবা আর কোনো কথা শুনতে চাই না। এখন থেকে একটু দায়িত্ব নিতে শেখো, আবির বাবা তুমিও যাচ্ছো ব্যস। "

সাবিহা আর কোনো কিছু না বলেই চলে যায় সেখান থেকে। আর নিবিড় আবিরের দিকে তাকিয়ে দাঁত কেলাতে থাকে। আবির রেগে বলে...

"দাঁত হলুদ হয়ে আছে, হাসি বন্ধ কর। "

ব্যস নিবিড় সাথে সাথে মুখ বন্ধ করে ফেললো। তারপর হুট করে আবার হেসে বললো..

"আরে এতো রেগে যাচ্ছিস কেন ভাই? চল না? কচি কচি মেয়ে গুলো। কোলে নেওয়ার নাম করে না হয় একটু... "

আবির রুমে ফিরে যেতে যেতে উত্তর দেয়...

"ঐ চিকনা মাংস বিহীন হাড্ডির প্রতি কোনো ইন্টারেস্ট নেই আমার। তার উপর মুখ একটা এক সেকেন্ডের জন্যও বন্ধ হয় না। "

বলতে বলতেই তখনকার লকার থেকে সেই জিনিসটি বের করে কোমড়ে গুঁজে নেয়। তা দেখেই নিবিড় এক ভ্রু উঁচিয়ে বললো...

" তাহলে? বাংলাদেশে তোর প্রথম স্বীকার কে হতে যাচ্ছে? "

আবির উত্তর দেয় না, শুধু একবার নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে কাউকে কল দেয়, রিসিভ হতেই বলে...

"থানায় যাওয়ার পথে রাস্তায় আমার সাথে একজনের মারামারি হয়েছে, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নাও। ঐ লোকটাকে চাই আমার দু ঘন্টার মধ্যে। "

ড্রয়িংরুমে পৌঁছাতেই আবির নিবিড়ের চোখে পড়লো তাদের এক মাত্র আম্মাজান তাদের ছেড়ে এই আরেক টুইন্সকে নিজ হাতে ভাত মেখে খাইয়ে দিচ্ছে। চড়ুইয়ের জ্ঞান ফিরেছে ধরে এই বাড়িতে আবির নিবিড় কাউকে চোখে পড়ে নি, মূলত সে জানেই না সারাদিনের সকল সমস্যার মূল দুটি যে এই বাড়িরই মালামাল। দোয়েল নীরবে বসে খেয়ে নিচ্ছে সাবিহার হাতে, তার মাথায় একটি চিন্তাই ঘুরপাক খাচ্ছে, এতরাতে বাড়িতে ফিরার পর ঠিক কি কি হতে পারে। তবে বাচাল চড়ুই পাখির সেসব দিকে কোনো ধ্যানই নেই। সে আপন মনে দুই বান্দার নামে বিচার দিতেই লাগলো সাবিহা সহ উপস্থিত সকলের কাছে।...

"জানো আন্টি, ঐ দুই বান্দার মধ্যে একটা একদম খাটাস। আমি গেলাম একটু সাহায্য চাইতে,নাহ, বান্দা আমারেই থানায় নিয়ে যেতে লাগলো জেলে ভরার জন্য। আর আমায় বলে কিনা আমি পাগল, জালিমের মতো হাত বেধে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে চলে গেলো শয়তান লোকটা। কতটা খচ্চর বুঝতে পারছো তুমি? "

সাবিহা মিটিমিটি হাসছে আর চড়ুইয়ের কথায় হু হা তাল মেলাচ্ছে, বোকা মেয়ে জানেই না ছেলের নামে মায়ের কাছেই যে বিচার দিচ্ছে।

সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে চড়ুইয়ের সব কথাই আবির নিবিড়ের কানে যায়,নিবিড় মুখ টিপে হেঁসে আবিরকে খোঁচা মেরে বললো...

"আ'ম ড্যাম শিউর ভাই, ও তোর নামেই বিচার দিচ্ছে। "

আবির একবার নিবিড়ের দিকে তো আবার চেয়ারে বাবু হয়ে বসে থাকা চড়ুইয়ের দিকে তাকায়। সাবিহা তাদের দেখে হেঁসে জিজ্ঞেস করে...

"কিরে আবির? তুই মেয়েটাকে এভাবে রাস্তায় ফেলে এলি কি করে বলতো? আবার পাগলও বলেছিস? আমার চড়ুই পাখি কি পাগল নাকি হ্যা? "

চড়ুই তার কথাতেই মশগুল, পিছনে ফিরে তাকানোর প্রয়োজনই বোধ করলো না। বরং সাবিহার কথায় তাল মিলিয়ে বললো..

"আরে হ্যা আন্টি। ঐ খাটাশটার নাম আবিরই। কিন্তু নামের সাথে আচরণের একটুও মিল নেই জানো তো? সারাক্ষণ যেভাবে রেগে থাকে তার নাম আবির নাহ যেন আগ্নেয়গিরি, কি যেন বলে, উমম হ্যা, দানাবল, দানাবল একটা। "

চড়ুইয়ের কথায় উপস্থিত সকলেই হুহা করে হেঁসে দেয়। সাবিহা শুধু আড়চোখে আবিরকে দেখছে,তার ছেলেটা যে রেগে যাবে তা বেশ জানে সাবিহা। তবুও তিনি চড়ুইকে থামায় না। মেয়েটার কথাগুলো যে এই বাড়ির সকলেরই প্রিয়, এত্তো ইনোসেন্ট মেয়েটা, যে কারোরই ভালো লেগে যাবে।

"ওয়াইফি, ওটা দানাবল নয়, দাবানল হবে। "

চড়ুই উত্তর হিসেবে বলতে নিলো..

"ঐ একই তো হলো, দানাবল -দাবা..."

মধ্যি পথেই থেমে গেলো চড়ুই, ভ্রু কুঁচকে নিজের বা হাতের তর্জনী একটু উঁচিয়ে চিন্তিত স্বরে বললো..

"এক মিনিট, ওয়াইফি কে ডাকলো? এটা তো ঐ দানাবলটার... "

বলতে বলতেই পিছনে তাকাতেই দেখলো একটি গ্রে কালারের জামা পড়া পিলার, একটু নিচের দিকে তাকাতেই খেয়াল করলো, ওমাহ, পিলারটার দেখি দুটো হাতও আছে। মাথাটা আবার উপরে তুলতেই চড়ুইয়ের ভবলীলা সাঙ্গ।লাফিয়ো চেয়ার ছেড়ে নামনে নামতেই চেঁচাতে লাগলো....

" ইয়া আল্লাহ, দুনিয়ার হাজার কোটি ভাগের এক ভাগও জায়গা আমি দখল কইরা রাখি নাই, আমারে তুমি এত তারাতাড়ি তুইল্লা নিও না, আমি এখনো দুলাভাইয়ের জুতা চুরি করি নাই আল্লাহ, ততদিন এই জালিমের হাত থেকে আমারে বাঁচাও... "

বলতে বলতেই অসাবধানতা বসত নামতে গিয়ে পড়লো ধপাস করে টেবিলের নিচে। আহিশ হাসতে হাসতে পকেট থেকে ফোন নিয়ে ভিডিও করতে লাগলো।দোয়েল একটু ঝুঁকে চড়ুইকে তুলতে গেলেই আবির এক হাত উঁচিয়ে বাঁধা দেয় তাকে। নিজে এগিয়ে গিয়ে হাঁটু ভেঙে বসে চড়ুই বরাবর। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চড়ুইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে ভারি কন্ঠে বললো..

"আম্মু? এই পেঙ্গুইনটার খাওয়া কি শেষ হয়েছে? "

চড়ুই মুখ বেঁকিয়ে বললো..

"পেঙ্গুইনও লালন পালন করেন আপনি? "

আবির আগের মতো করেই বললো ...

"আমার বয়েই গেছে তোমায় লালন পালন করতে।"

চড়ুই বুঝতে পেরে চোখ মুখ খিঁচিয়ে মুখটা হালকা উপরের দিকে করে বলে উঠলো..

"ইয়া আল্লাহ, গজব ফেলার জন্য কি আপনি কাউকে পাচ্ছেন না? তাহলে এই দানাবলটাকে নিয়ে যান।"

"আম্মু, এর খাওয়া কি হয়েছে?"

সাবিহা উত্তর দেয়..

"খাওয়া তো হয়েছে, কিন্তু ও এখন রসগোল্লা খাবে। আয়শা? "

আয়শা বুঝতে পেরে উত্তর দেয়...

"আমি ফ্রিজ থেকে নামিয়ে রেখেছি ভাবি। এক্ষুনি নিয়ে আসছি। "

"থাক, রসগোল্লা আরেক দিন খাইয়ে দিও, আজ আর লাগবে না। লেটস গো ওয়াইফি.. "

বলতে বলতেই আবির খপ করে পাঁজা কোলে তুলে নেয় চড়ুইকে। এদিকে এমন কাজ দেখে চড়ুইয়ের ভয় মিশ্রিত ফালতু বকবকানি আবার শুরু হয়ে যায়।....

"ইয়া আল্লাহ, আমার বাঁচাও। ওও আন্টি, আহিশসার বাচ্চা, বাঁচা আমারে। এই দানাবলটা আবার আমাকে রাস্তায় হাত পা বেঁধে ফেলে দিয়ে আসবে। "

কে শুনে কার কথা, আবির নিরবে ছটফটে চড়ুইকে সামলে নিয়েই সদর দরজার দিকে হাটা ধরলো। পেছন থেকে সাবিহা ডেকে বললো...

"আবির, ছোট পাখিকে ফেললে খবর আছে তোর। "

আবিরের কানে যায়, তবে সাবিহার কথায় উত্তর না দিয়ে চড়ুইকে আরেকটু চেপে ধরে নিজের সাথে। আস্তে করে বলে...

" আসলেই তুমি ছোট পাখি। সবকিছু ছোট্ট ছোট্ট। "

Mr and Mrs Twins Return গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি -এর লেখা একটি জনপ্রিয় টুইন রিলেটেড রোমান্টিক গল্প