Mr and Mrs Twins Return

পর্ব - ৭৭

🟢

চৌধুরী বাড়িতে পাখিদের আগমন ছিলো শুভারম্ভের মতোই। মেয়ে দুটো যবে থেকে এই বাড়িতে আসা শুরু করেছে বাড়ির প্রতিটি মুহুর্তই যেন এক রঙিন তুলিতে অঙ্কিত হয়েছে।

সাবিহা বেগম বরাবরই চিন্তিত ছিলেন তার ছেলে দুটোকে নিয়ে। আজকাল উচ্চ বংশীয় মেয়ে গুলো কেমন যেন নিজের নিজেরই চিন্তা করে। পাখিরা এই বাড়ির বউ হয়ে আসায় আবির নিবিড়ের সাথে সাথে পুরো বাড়িটাকেই যেন সামলে আসছে নিজেদের উৎফুল্লতা দিয়ে। সেই সাথে নিজেদের ছোট্ট ব্যবসারও হাল ধরেছে শক্ত হাতে। অবশ্যই আবির নিবিড় সহযোগিতা করে আসছে বরাবরই। ঠিক যেন একে অপরের পরিপূরক।

সময় বইছে উজ্জলা নদীর মতো, চড়াই পাখির পেট ফুলেছে বেশ খানিকটা৷ সেদিন আবির পারেনি তার চড়াই পাখির চোখের পানিকে উপেক্ষা করতে। বাচ্চাটাকে সে অবজ্ঞা করতে পারে নি। ওহ, বাচ্চাটাকে নয়, বরং বাচ্চা গুলোকে... আরেকটি বার জোড়ার বহর দেখা দিয়েছে চৌধুরী পরিবারে। চার দিকে খুশি খুশি রব, কিন্তু আবির হয়েছে নিদ্রাহীন।সাথে চিন্তার এক বিশাল ভার। মেয়েটার উর্ধ্বে গিয়ে কিছুই ভাবতে পারে না এখন সে। ব্যবসার ভারখানা নিবিড়ের কাঁধেই তুলে দিয়েছে কিছু মাসের জন্য। একেবারেই যে ঘরকুনো হয়েছে না নয়, তবে দিনের বেশিরভাগ সময়ই বাড়িতে কাটায় সে এখন।

আজকের আবহাওয়াটা ভরপুর উচ্ছাস ভর্তি। গুরুত্বপূর্ণ মিটিং থাকায় বেলা করে অফিস গিয়েছে আবির। দুপুরেই চলে আসার কথা, কিন্তু তখন হঠাৎ দোয়েল শপেই মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যাওয়ার কারনে নিবিড় তাকে সামলাতে যায়। তাই আর আবিরের আসা হয়নি তখন। তবুও যথাসম্ভব কাজ গুছিয়ে ঘরে প্রবেশ করলো এই ভর সন্ধ্যায়।

কলিংবেল বাজতেই কয়েক সেকেন্ডের মাথায় দরজা খুলে দেয় চড়ুই। আবিরকে দেখে চঞ্চল হেঁসে দু হাত বাড়িয়ে দিতেই আবির দু কদম পিছিয়ে যায়। শাসনের সুরে বলে...

"ভেতরে যাও... "

চড়ুই ঠোঁট উল্টায়, কিন্তু তার এমন কাঁদো কাঁদো ভাবখানা আবিরের মন গলায় নি... আবারো কন্ঠের স্বর উঁচিয়ে বলে....

"যেতে বলছি তোমায়..."

চড়ুই ঠোঁট বাকিয়ে চলে যায় দরজা ছেড়ে। আবির এক পলক তাকিয়ে দেখে মেয়েটার ধীরে ধীরে হাটার দৃশ্য। হ্যা, পেঙ্গুইনটা এখন আর তেমন লাফাতে পারে না,ভারী পেটের কারনে ধীরে সুস্থেই হাটতে হয় তাকে।

আবির ভেতরে ঢুকে জুতা খুলে রেখে দেয়। দরজার পাশেই ছোট্ট একটা টেবিল রাখা হয়েছে। সেখানে তেমন কিছুই নেই, আছে দেশলাই কাঠির বাক্স আর হাত মুখ পরিষ্কার করার জন্য স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা। এসবই সাবিহার কাজ। পুরোনো দিনের মানুষ হিসেবে বহু কিছুই মেনে আসছেন তিনি৷ ঘরের প্রতিটি মানুষকে কড়া করে আদেশ দেওয়া হয়েছে, বাইরে থেকে ফিরেই প্রথমে আগুনের তাপ নিতে হবে। তারপর হাত মুখ ধুয়ে ভেতরে আসতে হবে।

আগুন ছোঁয়ার ব্যপারটা বরাবরই কুসংস্কার আবিরের কাছে। কিন্তু বিষয়টা এখন তার চড়াই পাখির সুরক্ষার জন্য, তাই আবির নিয়ম করেই মেনে নেয় সব কিছু। হ্যা বিলেত ফেরত ক্লাসি, স্মার্ট বুদ্ধিমান ছেলেটাও আজকাল কুসংস্কার মানছে। ভালোবাসা শব্দটায় সত্যিই একটা ম্যাজিক আছে। পৃথিবীতে যারা সত্যিকারের ভালোবেসেছে তারা এই কথাটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে। আবিরও ঠিক তাই।

দেশলাই কাঠি দিয়ে আগুন ছুঁয়ে হাত পরিষ্কার করে নিলো সে। তবে এতটুকুতেই তার হয় না। কিচেনে গিয়ে হাতে থাকা একটা প্যাকেট টেবিলে রেখে ভেতরে খুজলো কাউকে। আয়েশাকে দেখতে পেয়ে তাকেই বললো...

"চাচি, এখানে ওয়াইফির জন্য নলেন গুড়ের সন্দেশ আছে। ফ্রীজে রাখার আগে ওর জন্য দু পিস তুলে রেখো আলাদা করে। বাকিদের ঠান্ডা দিও, সমস্যা নেই... "

বলতে বলতেই ওয়াশরুমের দিকে চলে গেলো সে। আয়েশা কিঞ্চিৎ হেঁসে এগিয়ে এসে প্যাকেনটা খুলে দেখে। এটা নতুন নয়,ইদানীং রোজই আবির কিছু না কিছু নিয়ে আসে চড়ুইয়ের জন্য। অবশ্য এই দিকটায় শুধু আবিরের কথাই বলা ঠিক নয়। বাড়ির প্রতিটি সদস্যই একই কাজ করছে যেন, এইতো একটু আগেই আসমত চৌধুরী কল করে জিজ্ঞেস করলো...

"ছোটপাখির কি খেতে ইচ্ছে করছে জিজ্ঞেস করো তো? কি নিয়ে আসবো ওর জন্য? "

চড়ুই হাসি মুখে ডেকে বলে..

" চাচু, তরমুজ আনবে আমার জন্য? "

আসমত হেঁসে উত্তর দিয়েছিলো..

"অবশ্যই আনবো আম্মা.. "

অথচ এখন তরমুজের সিজনই নয়। তবুও আয়েশা জানে, আসমত ঠিক কোথাও না কোথাও থেকে তরমুজ নিয়েই হাজির হবে আজ। আসার পর যদি জিজ্ঞেস করা হয় কোথা থেকে এনেছে, সে হেঁসে উত্তর দেবে

"ছোট পাখি চেয়েছে, আর আমি আনবো না? খুঁজে নিয়েছি ক্ষন... ভালো করে আগে পানিতে ভিজিয়ে রেখো কিছুক্ষন, তারপর ওকে দিও... "

আহিশ, নিবিড় আজমল চৌধুরী সহ প্রতিটা সদস্যই এই একই রোগে আক্রান্ত এখন। আয়েশার ভালো লাগে তারাকে দেখেও৷ মাঝে মধ্যে মনেই হয়না পাখিরা আর তারা জা, একদম যেন বোনের মতো থাকে। চড়ুই একবার যদি উচ্চারণ করে "ভাবি এটা খেতে ইচ্ছে করছে.. "

তারা মেয়েটা হাতের সব কাজ ফেলে রেখে চড়ুইয়ের পছন্দের জিনিসটা বানিয়ে দেবে সাথে সাথে। সেদিন সোফায় বসে কাতর হয়ে তাকিয়ে ছিলো চড়ুই। তারা এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেই বলে পায়ে ব্যথা। মেয়েটার পা ফুলেছে অসম্ভব। লক্ষ্মণ গুলো অস্বাভাবিক নয়। তাই খুব একটা চিন্তা না করে সাময়িক ব্যথা কমানোর জন্য তারা কিছু না বলেই চড়ুইয়ের পা নিজের কোলে টেনে নিয়ে টিপতে শুরু করলো। চড়ুই চমকে বলে ওঠে..

"কি করছো ভাবি.. পায়ে হাত দিচ্ছো কেন..."

তারা হেঁসে জবাব দেয়..

"চুপচাপ বোস তো তুই। পায়ে হাত দিলে কি সমস্যা। যখন আমার বেবি হবে তখন তুইও আমার সেবা যত্ন করিস, শোধবোধ.... "

আবির হাত পা ভালো করে ধুয়েমুছে বেরিয়েছে ওয়াশরুম থেকে। ড্রয়িংরুমের সোফায় চড়ুইকে বসে থাকতে দেখে এগিয়ে যায় তার কাছে। কোনো প্রকার বাক্য ব্যয় না করে ধীরেসুস্থে পাঁজা কোলে তুলে নেয় মেয়েটার ভারী শরীরটাকে।

চড়াই পাখিও অভ্যস্ত আবিরের এমন কাজে। তাই খুব একটা বিচলিত না হয়ে হাসি মুখে গলা জড়িয়ে ধরে আবিরের। সিঁড়ি বেয়ে খুব সাবধানে উঠে নিজ রুমে যায় তারা। তারপর আবির ওভাবেই চড়ুইকে কোলে নিয়ে ডিভানে বসে আলতো হাতে মেয়েটার ফোলা ফোলা গাল দুটো আগলে ধরে। আস্তে আস্তে শান্ত ভাবে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয় মেয়েটার কপালে, দু গালে, চোখের পাতায়, নাকে, ঠোঁটে, থুতনিতে, কানের লতিতে। গাল ছেড়ে একটু ঝুঁকে একের পর এক চুমু খেয়ে যায় চড়ুইয়ের পেটে। রোজকার অভ্যাস তার এটা। বাইরে থেকে ফিরেই এভাবে চড়ুইকে কোলে নিয়ে অনেকক্ষণ বসে থাকবে।

"শরীর ঠিকঠাক? "

"হুম, কিন্তু মাথায় টেনশন ধরেছে। "

চড়ুইয়ের এমন কথায় আবির ভ্রু কুঁচকে তাকায় তার মুখের দিকে। হালকা চিন্তিত হয়ে বলে...

"কেন? কিসের টেনশন আবার? "

"জামা গুলো টাইট হয়ে গেছে দেখুন, আমি অনেক মুটকু হয়ে গেছি... "

আবির এক পলক চড়ুইয়ের উপর থেকে নিচে পর্যবেক্ষণ করে শান্ত স্বরে বলে...

"কাল নতুন জামা নিয়ে আসবো কিছু ঢিলা দেখে। টাইট গুলো এখন আর পড়া লাগবে না। "

"আরো একটা টেনশন আছে... "

"আবার কি? "

"এই যে মোটা হচ্ছি দিনে দিনে, দু দিন পর তো আপনি আমায় কোলেই তুলতে পারবেন না। তখন কি আমার নিচে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে? "

আবির কিঞ্চিৎ হেঁসে ফেলে।বলে...

"আমি এভারেজ ধরো চার- পাঁচশো কেজি তুলতে পারি, আশা করছি তুমি অত বেশি ওজনের হবে না কখনো। "

চড়ুই মুখ ফুলিয়ে বললো...

" হতেও তো পারি। সারাদিন খিদে পায়, সারাদিনই খাই, কেউ একটু বারনও করে না, উল্টো আরো এটা ওটা এনে দেয় খাওয়ার জন্য। এত খাওয়ার পর পাঁচশো কেজি হওয়াটা কোনো ব্যপার হলো?"

আবির দু হাতে চড়ুইকে জড়িয়ে নিয়ে বলে...

"ঠিক আছে বাবা, কাল থেকে জিমে গেলে আরো বেশি প্র্যক্টিস করো ওজন তুলার। ওকেয়? "

"হুমম, তাই করবেন...শুনুন না? "

"বলো না? "

"একটা খুশির খবর... "

"কি? "

"বোনও প্রেগন্যান্ট... "

চড়ুইয়ের উচ্ছ্বাস দেখে আবির হালকা হাসে। চড়ুই নিজের মতোই বলে ওঠে...

"আমার খুব খুশি লাগছে। বোন আমার থেকে বড়, কিন্তু ওর বাচ্চা আমার বাচ্চার থেকে ছোট হবে। মজা না ব্যপারটা? "

"খুউব মজার... "

--------

"কাল থেকে তোমার শপে যাওয়া বন্ধ..."

ড্রয়িংরুমে সবার মধ্যে থেকে নিবিড় কথাটা বলে উঠতেই দোয়েল ভ্রু কুঁচকে তাকায় তার দিকে...

"ওমাহ, শপে না গেলে ওদিকে চলবে কি করে.. "

"সে জেসি, আহিশ মিলে ঠিক সামলে নেবে। তুমি যাবে না মানে যাবে না।"

বিষয়টা নিবিড়ের একার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়নি। বাড়ির সকলেও কড়া বারন দিয়েছে এই সময় বাইরে যাওয়ার। অগত্যা দোয়েলের আর রাজি না হয়ে উপায় ছিলো না। পাশ থেকে চড়ুই এগিয়ে এসে দোয়েলের গলা জড়িয়ে হেঁসে বলে ওঠে..

"ভালোই হলো,আমি আর সারাদিন একা বাড়িতে থাকতে হবে না, আজ থেকে বোনও থাকবে আমার সাথে.. "

দোয়েল হালকা হাসে, ড্রয়িং রুমের বড় ঘড়িতে শব্দ করে ওঠে। এলার্মই তা... সময়টা জানান দিচ্ছে বরাবর নয়টা। আর একটা মিনিটও দেরি করলো না, আজমল চৌধুরী সাবিহার দিকে তাকিয়ে হাক পাড়ে..

"কই, রান্নাঘরে যাও..ছোটপাখির ডিনারের সময় হয়েছে.. "

তার কথার মাঝেই জুলেখা, তারা, সাবিহা একত্রেই উঠে দাঁড়ায়। এগিয়ে যায় রান্না ঘরের দিকে। সময়টা নিত্যদিনের জন্য ঠিক করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল, দুপুর, রাতে একটা নির্দিষ্ট সময় চড়ুইয়ের খাওয়ার জন্য।

দোয়েলও পাশ থেকে উঠতে উঠতে বলে...

"যাই তোর ডিনার রেডি করি গিয়ে..."

তাকে উঠতে দেখে সাবিহা থেমে দাঁড়ায়। দোয়েলের দিকে তাকিয়ে নির্দেশ দেয়...

"আজ থেকে তোরও এই টাইম গুলো ফিক্সড। ডিনার রেডি করতে নয়, বরং নিজের ডিনার করতে আয়। "

দোয়েল বলে..

"বোনকে খাইয়ে দিয়ে তারপর না হয় খাই আম্মু.. "

সাবিহা কিছু বলার আগেই চড়ুই-ই বলে ওঠে..

"আমাকে আর তোর খাইয়ে দেওয়া লাগবে না এখন। আমি বরং নিজেই খেয়ে নিবো.. "

দোয়েল বারন করে বলে..

"না নাহ, নিজ হাতে খেতে হবে না তোর..আমি.."

তার কথা সম্পূর্ণ হওয়ার আগে আবির ও সাবিহা একত্রেই বলে ওঠে প্রায়...

"আমি খাইয়ে দিচ্ছি... "

কথাটা শেষ হতেই সকলে একবার সাবিহার দিকে, তো আবার আবিরের দিকে তাকায়। তাদের এমন কান্ড দেখে চড়ুই মুখ চেপে হেঁসে ফেলে। আবির সোফা ছেড়ে উঠতে উঠতে বলে..

"আম্মু তুমি থাকো,এবার থেকে আমিই খাইয়ে দেবো ওকে."

সাবিহাও বলে ওঠে..

"না নাহ,, তুই কি সব সময় বাড়ি থাকিস নাকি। দুপুর সময়টায় আমিই খাইয়ে দিবো রোজ ওদেরকে। "

এদের এমন কথা কাটাকাটি দেখে চড়ুই এবার দুজনকে থামিয়ে বলে ওঠে...

"ঠিক আছে বাবাহ,তোমরা আর ঝগড়া করো না তো। প্রতিদিন দুপুরে আম্মু আমাদের খাইয়ে দিবে, আর রাতে দানাবল।"

নিবিড় এগিয়ে এসে বলে...

"এই এই... আমার বউকে আবার ভাই খাইয়ে দিতে যাস না যেন।এটা আমার দায়িত্ব... "

দোয়েল আস্তে করে বলে...

"এসবের কি দরকার।আমি তো নিজে নিজেই..."

সাবিহা এগিয়ে এসে দোয়েলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে...

"আমরা জানি তুই নিজে নিজেই পারবি। কিন্তু যতক্ষণ আমরা আছি, আমাদেরই করতে দে।"

চড়ুই বলে..

"এখন আম্মু খাইয়ে দিক,কাল থেকে নতুন নিয়মে চলবে...চলো আম্মু..."

চড়ুইকে টেবিলে বসিয়ে দিয়ে আবির সরে আসে। সোফায় বসতেই নিবিড়ও পাশে এসে বসে।

"ভাই, কিছু টিপস দে?"

নিবিড়ের এমন কথায় আবির ভ্রু কুঁচকে তাকায়। জিজ্ঞেস করে..

"কিসের টিপস?"

"এই অবস্থায় কি কি করা লাগবে, কিভাবে সামলে আসছিস তুই সেসব... "

আবির হালকা হেঁসে রয়েসয়ে বললো..

"আর কি করবি না করবি জানি না। তবে ঘুম হারাম হবে নিশ্চিত।"

নিবিড় চোখ কোনা করে তাকায় আবিরের দিকে। আবির উঠে দাঁড়িয়ে এক পাশে এগিয়ে যেতে যেতে বলে...

"চল ছাদে গিয়ে কথা বলি। আসার সময় ওটা নিয়ে আসিস..."

--------

ডিনার শেষে টুকটাক কাজ সব সামলে তারপর রুমে ঢুকলো তারা। বিছানায় জিসান হেলান দিয়ে বসে তারই অপেক্ষা করছে হয়তো। তারা ফ্রেশ হয়ে এসে জিসানের পাশে এসে বসে। জিসান নিজের ফোন সাইডে রেখে তারাকে টেনে বুকে জড়িয়ে নেয়। কথার রেশ আনতে বললো...

"বাড়িতে এখন কেমন একটা খুশি খুশি ভাব তাই না? "

তারা আলতো হেঁসে বলে..

"তা তো হবেই, একসাথে এতজন নতুন সদস্য আসতে চলেছে যে... "

"তাহলে কি আমরাও আরেকটা নতুন সদস্য এনে খুশিটাকে আরেকটু বাড়িয়ে দিতে পারি না? "

জিসানের কথায় তারা চোখ তুলে তাকায় তার দিকে। আস্তে করে জিজ্ঞেস করে...

"এখন? "

"হুম...."

"পরে এসব নিয়ে ভাবলে হয় না জিসান? "

"কি সমস্যা এখন? "

"তেমন সমস্যা নয়, কিন্তু তুমি একটু ভাবো, পাখিরা দুজনেই এখন এই অবস্থা। এখন আমিও যদি বেবি কনসিভ করি তো বাড়ি সামলাবে কে? আম্মু, চাচিদের তো বয়স হচ্ছে তাই না? "

" বড় বউ হয়েও পরে... "

"বাড়ির বড় বউ তো কি হয়েছে? ওসব বলো না তো,, পাখিরা আমার বোনের মতো। ওদের এই অসময়ে আমি কি করে সরে যাই বলো? ছোটপাখিকে দেখেছো? সারাক্ষণ ওকে চোখে চোখে রাখতে হয়। সেদিন একটু আড়াল হতেই একা একা সিঁড়ি বেয়ে নামতে গিয়ে পড়তে যাচ্ছিলো।ভাগ্যিস তখন চাচি ধরে ফেলে ওকে। এখন চাচি, আম্মুদেরও তো বয়স হচ্ছে তাই না? ওরা কি আর সারাক্ষণ এভাবে পারবে বলো?"

জিসান আলতো হাসে।জীবনে কতটুকু উন্নতি করেছে তার জানা নেই। কিন্তু একটা অন্তত ভালো কাজ করেছে সে। জীবন সঙ্গীকে সঠিক ভাবে বেছে নিতে পেরেছে সে।

"তুমি ওদের খুব খেয়াল রাখো তাই না? "

"কি করবো বলো,মেয়ে দুটো এতো মিষ্টি আর আদুরে। আমি কখনো চাইলেও ওদের উপর রাগ দেখাতে পারি না। ওদের এখন যত্নের প্রয়োজন। এই সময়টায় তুমি প্লিজ আমাকে বেবির জন্য ফোর্স করো না।"

"ঠিক আছে বাবাহ, আমরা পরেই ভাববো এই নিয়ে।... তারা? "

"বলো?"

"এভাবেই আমাদের পরিবারের বন্ধনটা অটুট রেখো সারাজীবন। আবির- নিবিড়, আহিশ আমার চাচাতো ভাই হলেও আমরা কখনো তা মনেই করি না৷ওরা আমার নিজের ভাই,এই পরিবারটা আলাদা হয়ে গেলে আমি ভেতরে ভেতরে দুমড়ে মুচড়ে যাবো তারা।আমরা একে অপরের পরিপূরক... "

"আমি জানি জিসান। পরিবার ভাঙার কষ্টটা আমি বুঝি। এই পরিবারটা আলাদা হোক সেটা আমিও কখনো চাই না। প্রতিটি মানুষ এত ভালো, কি করে এদের ছাড়া থাকবো বলো? আমি আমার স্থান থেকে বলছি, এই বাড়ির বড় বউ হিসেবে আমি আমার সব দায়িত্ব পালন করবো। কখনো পরিবারটা আলাদা হতে দেবো না।.... "

Mr and Mrs Twins Return গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি -এর লেখা একটি জনপ্রিয় টুইন রিলেটেড রোমান্টিক গল্প