মাহৈয়াপুরের মাটির রাস্তাখানার আশপাশের পরিবেশ ভীষণই মনোমুগ্ধকর ঠেকছে সকলের কাছে। আবির, নিবিড়, আহিশ, জেসি,জিসান এদের কাছে এসব পুরোনো হলোও তারা, হৃদ আর পাখিদের কাছে সম্পূর্ণ নতুনই।
ব্যাটারি চালিত ভ্যান গাড়িতে পা দুলিয়ে বসে আছে চড়ুই। একটু পর পর ছটফট করছে মেয়েটা। আবিরের একটি হাত শক্ত করে মেয়েটির কোমড়ে জড়ানো। এর বিশ্বাস নেই কিনা। বাস থেকে নেমে সহজেই সিএনজি পাওয়া যেতো। কিন্তু চড়ুই আর হৃদের বায়নায় ভ্যানই ভাড়া করা হলো দুইটি। প্রথমটায় জিসান তারা, আহিশ আর জেসি। আর দ্বিতীয়টায় দুই পাখি, টুইন ব্রাদার্স আর হৃদ।
মাহৈয়াপুরের নাম করা বাড়ি সগরেদ চৌধুরী বাড়ি৷ আজমলদের দাদার নামে এই বাড়ি পরিচিত।সামনের সরু রাস্তা দিয়ে ভেতরে গিয়ে ভ্যান থামায়। সবাই নেমে দাঁড়ায়। পুরোনো দিনের রাজকীয় বাড়িটি যেন, দেওয়ালে দেওয়ালে পোড়ামাটির ফলক। এগিয়ে যেতে যেতে দোয়েল নিবিড়কে প্রশ্ন করে....
"আপনার পুর্বপুরুষরা কি জমিদার ছিলো?"
নিবিড় আলতো হেঁসে উত্তর দেয়...
"নাহ, তবে সৌখিন ছিলো। ভেতরে চলো। রেস্ট নিয়ে তারপর বাড়ি ঘুরে দেখা যাবে৷ "
"আমরা যে এলাম, রান্নাবান্না কে করবে? "
"আমার আব্বুদের চাচাতো ভাইয়ের পরিবার আছে তো ঘরে। চলোই না... "
আজমলদের দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই হিমান সাহেব। শহরে নিজস্ব বাড়ি করার পর এই বাড়িখানা তার কাছেই রেখে গিয়েছিলো আজমলরা। কোনো অর্থ সম্পদের বিনিময়ে নয়, শুধু শর্ত ছিলো বাড়িটা যেন সুন্দর থাকে। এমন পুরোনো দিনের ভাষ্কর্য হারাতে চান না তারা।
হিমান সাহেব মান রেখেছে কথার। এই বাড়িই তিনি নিজের বাড়ির মতো যত্ন করে গেছেন বছরের পর বছর। তার এক মেয়ে রুবাইতা আর বড় ছেলে সাফোয়ান। আবির নিবিড়দের দেখেই তাদের চাচি কনকা খানম এগিয়ে এসে বুকে জড়িয়ে নেয়। সাথে একে একে পরিচিত হয় বাড়ির তিনটি নতুন বউয়ের সাথেও। সাফোয়ানের স্ত্রী রিক্তা ব্যাস্ত হয় সবার জন্য জলখাবারের ব্যবস্থা করতে। রুবাইতা এগিয়ে এসে বলে...
"চলো তোমাদের সবাইরে ঘরে পৌঁছাইয়া দেই.."
চড়ুই ডেকে বলে...
"রুবা শোনো.. আমাকে আগে ওয়াশরুমটা দেখিয়ে দাও৷ "
চড়ুইয়ের কথা কানে যেতেই আবির এগিয়ে আসে। রুবাইতা কিছু বলার আগেই আবির চড়ুইয়ের হাত আগলে ধরে বলে...
"তুই বাকিদের সাথে যা,আমি ওকে নিয়ে যাচ্ছি। "
রুবা কিটকিটে হেঁসে বলে...
"ভাইয়া, তোমরা কিভাবে নিজেদের বউকে চেনো গো? ভাবিরাও তো তোমাদের মতোই একদম একই দেখতে৷"
আবির আড়চোখে চড়ুইকে দেখে বললো..
"এটা বেশি পাকনামি করে, এভাবেই চিনি। চলো?"
চড়ুই মুখ ভেঙচি কেটে এগিয়ে যায় আবিরের সাথে।
------
সন্ধ্যা রাতে গ্রামের পথ ঘাট ঘুরে বাড়ি ফিরেছে আবির নিবিড়রা। মেয়েরা দুপুরে ভাত ঘুম দিয়েছিলো বলে তাদের আর নিয়ে যাওয়া হয় নি সাথে করে। বাড়ির উঠোনে দেখা মিলে কনকা খানমের সাথে। ঐ তো মাটির চুলো থেকে কলা পাতার পাতুরি তুলে রাখছিলেন তিনি। পাশে দোয়েল বসে তার সাথে কথায় মসগুল। আবির জিজ্ঞেস করে...
"বাকিরা কোথায়? "
কনকা খানম উত্তর দেয়...
"ঘরেই আছে বাবা। যা যা তোরা হাত মুখ ধুয়ে নে, পিঠা বানিয়েছি সবার জন্য। "
আবিররা ভেতরে যায়। বড়ঘরটায় বাকি সবাইকে পাওয়া গেলেও চড়ুই আর রুবাইতা নেই। জেসি বললো...
"ছোট পাখি তো রুবার সাথে গেলো পেছনের দরজার দিকে। "
আবির আর কিছু জিজ্ঞেস করে না। এগিয়ে যায় বলে দেওয়া পথ ধরেই পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে একবার গলা উঁচিয়ে ডাকে চড়ুইকে। কিন্তু কোনো সারা শব্দ নেই। চার দিক থেকে ভেসে আসছে শুধু ঝিঝি পোকার ডাক। এদিকে এসে কোথায় গেলো মেয়ে দুটো?
আবির ফিরে আসতে নেয়, হঠাৎ পেছনে ঝোপঝাড় নড়ার আওয়াজ পেয়ে পা থেমে যায় তার৷ পেছনে ঘুরতেই আবার বন্ধ। সন্দেহ হয় আবিরের। মেয়ে দুটো তো এদিকেই এলো বললো। কিছু কি...
ফোনের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে ধীরে সাবধানী পায়ে এগিয়ে যায় আবির৷ একটু দুরে ফ্ল্যাশ পরতেই জ্বলজ্বল করে ওঠে রুবাইতার পড়নের কমলা রঙের জামাটা৷ মেয়েটা ঘাপটি মেরে লুকিয়ে আছে সেখানে। আবিরের ভ্রু সরু হয়। কন্ঠে খানিক ধমকের ভাব এনে বলে....
"ওখানে কি করছিস তোরা? বেরিয়ে আয় রুবা... "
ধরা পরে গেছে রুবাইতা। তাই আর তাল বাহানা না করে বেরিয়ে আসে ঝোপের আড়াল থেকে৷ তাকে একা বের হতে দেখে আবির জিজ্ঞেস করে...
"একা কেন? আমার চড়াই কোথায়? "
রুবাইতা মুখ কাচুমাচু করে গাছের উপর হাত ইশারা করে৷ তার ইশারা অনুযায়ী আবির ফোন তাক করতেই দেখতে পায় চড়াইকে। আম গাছের ছোট্ট একটি ডালে ব্যালেন্স নিয়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটি। আবিরের চোখে চোখ পড়তেই একটা ক্যাবলা হাসি দেয় সে৷
ক্ষেপে ওঠে আবির...
"এই রাতে গাছে কেন উঠেছো তুমি বেয়াদপ মেয়ে? নামো বলছি ওখান থেকে। দ্রুত নামো। "
চড়ুই মিনমিনিয়ে বলতে নেয়...
" আর দুটো আম নিয়ে নিই প্লিজ...."
আবিরের মাথা আরো চটে যায়। ক্ষিপ্ত গতিতে গাছের দিকে এগিয়ে যেতে নিলেই চড়ুই তরতরিয়ে বলে....
"নামছি নামছি... আমায় মারবেন না দানাবল, প্লিজ..."
নেমে আসে চড়ুই। আবির এগিয়ে এসে থাপ্পড় দেওয়ার জন্য এক হাত উঁচু করতেই চড়ুই চোখ মুখ খিঁচে মাথা বা দিকে ঝুকায়। মেয়েটার এমন ভয়াতুল মুখ দেখে থেমে যায় আবির। কিন্তু পুরোপুরি রাগ যেন কমেই না তার। পাশ থেকে কুরিয়ে একটি ছোট্টো চিকন গাছের ডাল নিয়ে চড়ুইয়ের পায়ে একটি বারি দেয়। নাহ, এই মারে একদমই ব্যথা পাওয়ার মতো নয়। কিন্তু চড়ুই হুট করেই নাক মুখ কুঁচকে কান্না শুরু করে দেয়....
"আপনি আমায় মারলেন?"
আবির ও দ্বিগুণ চেচিয়ে ওঠে...
"চুপ.. একদম চুপ.. বাচ্চা তুমি? গাছে কেন উঠতে গেলে? পরে হাত পা ভাঙার জন্য? "
বলতে বলতেই আরেকটা বারি বসিয়ে দিলো সে। এতে চড়ুইয়ের কান্নার আওয়াজ আরো বেড়ে যায়। বাচ্চাদের মতো শব্দ করে কাঁদছে মেয়েটি। এই টুকুতেই চোখের জলে বন্যা করে ফেলেছে যেন সে। আবির ধমকায়...
"এই মেয়ে, কান্না থামাও.. তোমাকে ব্যাথা পাওয়ার মতো মেরেছি আমি? এমন করছো কেন? "
"আর জীবনেও কথা বলবো না আপনার সাথে, সরুন... "
বলেই আবিরকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ঘরের ভেতর দিকে দৌড়ে চলে যায় চড়ুই৷
সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নামে ধরনীর বুকে। গ্রামের বাড়ি হওয়ায় রাত ১০ টায় সকলের রাতের খাবার খাওয়া হয়ে যায়। রান্নাঘর থেকে কাঁচের জগে জল ভরে নিয়ে নিজ রুমে প্রবেশ করে আবির। কাঠের দুই পাল্লার দরজা বন্ধ করার একটা ক্যাচক্যাচে আওয়াজে চোখ মেলে চড়ুই। আবিরকে দরজায় ছিটকিনি লাগাতে দেখে তেতো কন্ঠে চড়ুই বলে ওঠে....
" এখন বুঝি দোর আটকে আবার মারবেন আমায়?"
আবির হতাশ চোখে চায় চড়ুইয়ের দিকে। বলে ওঠে...
"তো দরজা খোলা রেখে ঘুমাবে তুমি? "
"হ্যা "
"পাগল হয়েছো? "
"হ্যা, এবার আমাকে পাগলও বলা হচ্ছে। থাকবোই না আমি আপনার সাথে। এক্ষুনি চলে যাচ্ছি। "
বলেই গটগট করে বিছানা থেকে নেমে এগোতেই আবির হাত চেপে ধরে চড়ুইয়ের...
"আরেহ, এমন কেন করছো? "
"তো কি করবো? মনে নেই আপনি আমায় মেরেছেন?"
" তো তুমি ভর সন্ধ্যায় গাছে উঠতে গেলে কেন? "
"তো উঠেছি তো কি হয়েছে? বররা কি বউদের মারে? "
আবির হেচকা টানে চড়ুইকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে তাকায় মেয়েটার ফুলিয়ে রাখা মুখের দিকে। আলতো হাতে তার এলোমেলো চুল গুলো কানের পিঠে গুঁজে দিতে দিতে আস্তে করে বলে...
"তুমিই তো ঐ দিন ইরিনকে বলেছিলে, তোমার বর তোমায় মারবে, আবার আদরও করবে। এখন আসো,মেরেছি যখন আদর করে দিই একটু। "
চড়ুইও রাগ দেখিয়ে আবিরের থেকে ছুটতে চেয়ে বলে...
"লাগবে না আমার আদর, আপনি দানাবল, দানাবলই থাকবেন। ছাড়ুন... "
বিছানায় কোনায় গিয়ে বসে পরে চড়ুই। আবির হাফ নিশ্বাস ফেলে চড়ুইয়ের ঔষধ আর পানি এগিয়ে দেয় তার দিকে...
"রাগ করেছো ভালো কথা।ঔষধ খেয়ে তারপর করো রাগ। "
চড়ুই বাধ্য মেয়ের মতো আবিরের হাত থেকে ঔষধ নিয়ে খেয়ে নেয়। তারপর নিরবে বিছানার এক পাশে গিয়ে আবিরের উল্টো দিকে ফিরে শুয়ে থাকে।
-------
কনকা খানমকে সব কিছু গোছানোর কাজে সাহায্য করে মাত্রই রুমে এলো দোয়েল। শাড়ির আচলে হাত মুছতে মুছতে এগিয়ে এসে খাটের কোনে বসতেই হঠাৎ ঘরের লাইটটি নিভে গেলো। উপরে গোল গোল ঘুরতে থাকা পাখাটাও ধীরে ধীরে নিজের গতি কমিয়ে নিলো। মুখ থেকে বিরক্তিকর আওয়াজ বের করে দোয়েল...
"উফ, লোডশেডিং... এই গরমে এবার ঘুমাবো কি করে... "
কথা শেষ হলো কি হলো না, হঠাৎ পেছন থেকে নিবিড়ের শক্তপোক্ত হাত এগিয়ে এসে দোয়েলের কোমড় জড়িয়ে নেয়। এক টানে মেয়েটাকে বিছানায় ফেলে তার উপর চড়াও হয়ে বসে নিবিড়। খাটের পাশে ছোট্ট একটি খুপরি জানালা দিয়ে চাঁদের উজ্জ্বল আলো এসে পড়ছে ঘর জুড়ে। নিবিড়ের এলোমেলো দৃষ্টিতে খেলা করছে চঞ্চলতা, বক্র হেঁসে দোয়েলের কাঁধের আচল খানা সরাতে সরাতে বললো..
" চলো তোমায় এন্টারটেইন করি এই লোডশেডিং এ। "
দোয়েল ঘাবরায়, শাড়ির আচল উন্মুক্ত স্থানে এক হাত চেপে ধরে কম্পমান কন্ঠে বলে ওঠে....
"ক্ কি করছেন? "
"এতগুলো দিন অপেক্ষা করেছি আপনার পরিক্ষার জন্য। এখন আমায় আটকায় না প্লিজ, আ'ম ডায়িং। প্রতিটা রাতে আমার আধা কেজি করে ওজন কমে যাচ্ছে খাবারের অভাবে। প্রোটিনের অভাবে দূর্বল হয়ে পরছি আমি। প্লিজ এটম... লেট মি ইট ইউ..."
দোয়েল কি বলবে খুঁজে পায় না। নিবিড়ের প্রতিটি এলোমেলো ছোঁয়ায় কেপে কেপে উঠছে মেয়েটি। হঠাৎ নিবিড় মুখ ডোবায় দোয়েলের গলায়। দোয়েল শিরশির কন্ঠে ডেকে ওঠে...
"ন্ নিবিড় প্লিজ.. ঘামে পুরো শরীর ভিজে আছে। আ্ আমি কাজ শেষ করে আর শাওয়ারও নিই নি... "
"আ'ম এনজয়িং দিস মিনারেল ওয়াটার। প্লিজ এটম... "
আস্তে করে নিজের জিহ্বা দিয়ে চিকন ঘামের রেখায় লেহন করে নিবিড়। দোয়েলের কন্ঠনালী নড়ে ওঠে। চোখ খিঁচে বন্ধ করে নেয় মেয়েটি। শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে কোনো রকমে বলে ওঠে...
"আ্ আপনার ঘৃনা লাগছে না? "
"নেভার এভার। তুমি পুরোটাই আমার অমৃত। বাঁধা না দিয়ে কম্পানি দাও না সোনা?"
বলতে বলতেই দোয়েলের বক্ষ বিভাজিকায় চুমু খেতে থাকে নিবিড়। হাত দুটি এলোমেলো বিচরণ করছে তার দোয়েলের শাড়ি ভেদ করে। ভেজা চ্যাটচ্যাটে শরীরটা যেন একটি মধুভান্ডার আজ নিবিড়ের জন্য।
হঠাৎ বিকট শব্দে ফোনখানা বেজে ওঠে নিবিড়ের। বিরক্ত হয় খানিক সে। দোয়েলের বক্ষস্থল থেকে মুখ না সরিয়েই কল রিসিভ করে কানে দেয়। সাথে সাথেই তীব্র করুনতার সহীত আওয়াজ ভেসে আসে ওদিক থেকে.....
"ভাই আমার বউটা অসুস্থ, তার উপর রাগ করে একটু ছুতেও দিচ্ছে না। একটু দয়া কর আজকের জন্য প্লিজ...."
বাঁকা হাসে নিবিড়, আবিরের এমন কথার বিপরীতে নাকোচ করে দিয়ে বলে....
"কন্ট্রোল করতে না পারলে ওয়াশরুমে যা। আজ আমায় আর বলে লাভ হচ্ছে না। বায়...."
বলেই আর আবিরকে কোনো প্রকার সুযোগ না দিয়ে কল কেটে একেবারে ফোন সুইচঅফ করে দেয় নিবিড়। এক পলক মুখ তুলে তাকায় দোয়েলের বদ্ধ চোখ, কম্পমান বক্ষের দিকে। মোহনীয় ঠোঁট দুটোর দিকে দৃষ্টি পড়তেই নিবিড় আর দেরি করে না, অতলে ডুব দেয় সে দোয়েলের। প্রথমে ঠোঁট, এরপর গলা, বুক, পেট, তারপর..........
------
মৃদু ঢোক গিলে কাঁপা হাতটি চড়ুইয়ের কাঁধে ছোয়াতেই তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে পাখিটি।...
"একদম আমায় ছুবেন না আপনি।.. "
"ওয়াইফি... আ'ম সরি সোনা... মাফ করে দাও আমায়। "
"কিসের মাফ? হ্যা? হঠাৎ এতো মিষ্টি করে কথা বলছেন কেন এখন? কি সমস্যা আপনার? "
চড়ুইয়ের সন্দেহি চোখের দিকে তাকিয়ে আবির বিরস স্বরে বললো...
"কজ আই নিড ইউ রাইট নাও... "
"নিউ ইউ মানে? "
"মানে, আমরা তো হাসবেন্ড ওয়াইফ তাই না? নাও আই নিড সাম..... "
চোখ গোল গোল হয়ে যায় চড়ুইয়ের। অবাক হয়ে বলে ওঠে মেয়েটি...
"ও্ ওসব? "
আবির চোখ হালকা ছোট করে অসহায়ের মতো উপর নিচে মাথা ঝাকায়...
"অসম্ভব... "
"প্লিজ ওয়াইফি... আমি প্ পারছি না... "
"আ্ আপনি তার মানে আমাকে এ্ এসব করার জন্যই বিয়ে করেছেন? "
আবির দ্রুত দু দিকে মাথা নাড়ায়..
"এমন নাহ চড়াই। কিন্তু এখন একটু বুঝো, ও্ ওদিকে ভাই.... "
" আমি বের হবো..."
"কিহ!!"
"আপনার কাছে আমার নিরাপদ লাগছে না,আমি বের হবো ঘর থেকে... "
আবিরের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো।এ কোন ঝামেলায় পড়লো সে... তার বউ তার কাছে নিরাপদ না? আল্লাহ, এমন দিন দেখানোর আগে উঠিয়ে নিলে না কেন?
আবির দ্রুত এগিয়ে গিয়ে চড়ুইয়ের এক হাত চেপে ধরে করুন স্বরে বলতে থাকে....
"প্লিজ পাখি, আমি তোমাকে একটুও হার্ট করবো না,আমার কাছে তুমি ১০০% সেইফ। প্লিজ.. একটু বুঝো, আমি আজ থেকে তোমার সব কথা শুনবো..."
"আর মারবেন আমায়?"
"নাহ, একদম মারবো না..."
"কালকে যদি আমায় ডিভোর্স দিয়ে দেন? "
"উপরওয়ালার কসম, জীবনেও ডিভোর্স দিবো না। সব সময় মাথায় করে রাখবো তোমাকে আমি৷ প্লিজ একটু বুঝো,আমি আর পারছি না... "
"তাহলে একটু নেচে দেখান আগে... "
"এ্যা!!"
"হ্যা, নাচুন,আমি ভিডিও করবো... "
"এসবের কি খুব প্রয়োজন বউ? একটু তো...."
"না পারলে গুড বায়, আমি ঘুমালাম..."
"এই না না নাহ... আ'ম ডুয়িং... "
এই বলে আবির বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ায়। চড়ুই নিজের ফোবে গান চালিয়ে দেয়....
"টাংকি আমার ফাইট্টা গেছে......'
আবির বার বার বারন করেও কোনো লাভ হলো না। নাচতেই হলো তাকে, নাচ থামালেই চড়ুই বলে ওঠে...
" এবার দশ বার কান ধরে উঠবস করুন,আর প্রতিবার আমি যা যা শিখিয়ে দিবো তাই তাই বলতে হবে... "
আনির গোমরা মুখ করে নিজের কান চেপে ধরে। চড়ুই বলতে শুরু করে....
"বলেন, বউ?"
"বউ?"
"আমি আপনার গোলাম হয়ে থাকবো।জীবনেও মাইর দিবো না। মহারানির মতো সম্মান করবো। আপনি ভুল করলেও আমিই সরি বলবো..... "
এমন আরো কত কত কথা চড়ুই শিখিয়ে দিতে লাগলো আর আবিরও উপায় না পেয়ে সেগুলো রিপিট করতে লাগলো। কান ধরে উঠবস করা শেষ হতেই আবির আর একটাও কথা বলার সুযোগ না দিয়েই এক লাফে ঝাপিয়ে পড়ে চড়ুইয়ের উপর...
"আর কিচ্ছু মানতে পারছি না বউ। এখন আমার আপনাকে চাই..."
আবিরের হাতের এলোমেলো ছোটাছুটির মাঝেই হঠাৎ চড়ুই হালকা আর্তনাদ করে ওঠে...
" পিঠে টান লাগছে দানাবল..."
থেমে যায় আবিরের হাত। এতক্ষণের উত্তেজনা যেন নিমেষেই গায়েব হয়ে যায়। দ্রুততার সহীত চড়ুইকে উলটো করে পিঠে চেক করতে লাগে র'ক্ত বের হচ্ছে কিনা। নাহ, তেমন নয়, তবে চড়ুই ব্যাথা পেয়েছে, এটুকুই যেন যথেষ্ট ছিলো আবিরকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য...
আবির চড়ুইয়ের কপালে দীর্ঘ একটি চুমু খেয়ে একটু নিচু হয়ে চড়ুইয়ের বুকে মুখ গুঁজে দু হাতে সাবধানে চড়ুইয়ের কোমড় জড়িয়ে ধরে। চড়ুই বলতে নেয়...
"দানাবল..."
"কিচ্ছু করবো না পাখি, কিচ্ছু না। শুধু এভাবে থাকতে দাও আমায়, একটু সহ্য করো আমায়। জড়িয়ে ধরে রাখো না আমায় একটু। আমি আর কিচ্ছু করবো না এখন। প্লিজ বউ...."