চড়াই পাখি বরাবরই বোকা প্রকৃতির হলেও আজ বুদ্ধি করে একটা প্রয়োজনীয় কাজ করে নিয়েছে সে। আবিরদের অফিস থেকে বেরিয়ে দ্রুত পার্কিং এরিয়ায় ছুটে যায় সে। আবিরের গাড়ি থেকে তখনকার সেই বাক্সটা নিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে এসেছে সবার অগোচরে। তারপর নিশ্চিন্তে খুশি মনে বাড়ি ফিরলো সে।
সন্ধ্যার কিছুটা সময় অতিবাহিত হয়েছে। চড়ুই আজ আবারো শাড়ি পড়েছে সুন্দর করে। নাহ,,সে দিনের মতো বাজে শাড়ি নয়, সাবলীল একটি খুতের শাড়ি। গ্রীনি শাড়ির সাথে ম্যাচিং করে সুন্দর সুতির সাদা রঙের ব্লাউজ। আজ সবটাই আবিরের জন্য। লোকটি তাকে ভালোবাসে বলেছে। আদেও এই কথাটাই শোনার ব্যকুলতা ছিলো কিনা জানা নেই চড়ুই পাখির। তবে আজ মনটা বেশ ফুরফুরে লাগছে। নতুন একটা শুরুর স্বপ্ন।
আয়নায় নিজেকে দেখে নিজেই যেন মুগ্ধ হচ্ছে চড়াই। একদম বউ বউ লাগছে, আবিরের ঘরনী। চঞ্চল চড়ুই পাখিরও সংসার হবে, তার আর আবিরের সংসার, ইশশশ...
ভেবেই কেমন লজ্জায় দু হাতে নিজের মুখ ঢেকে ফেললো পাখিটি। তখনই কেউ যেন হঠাৎ তার বাম হাতের বাহু টেনে পেছনে ঘোরায়। আকস্মিক এমন টানে হকচকিয়ে যায় চড়ুই। তবে পেছনে ফিরে আবিরকে দেখে হাফ নিশ্বাস ফেলে সে। প্রশ্ন করতে নেয়...
"কি হলো...."
কিন্তু সম্পূর্ণ করার আগেই আবিরের শক্তপোক্ত হাতের একটা থাপ্পড় এসে পড়লো তার গালে। কানটা শো শো করে উঠলো যেন,, আশপাশের শব্দ বিলীন হয়ে যায় হঠাৎ করেই। চড়ুই কিছু শুনে পাচ্ছে না। বা গালে হাত দিতেই মনে হলো যেন গালটি অবস হয়ে এসেছে। অদ্ভুত, হতভাগ চোখে আবিরের দিকে তাকাতেই বুঝলো আবির বেশ চেচাচ্ছে, কিন্তু কি বলছে? চড়ুই যে কিছু শুনতে পাচ্ছে না। হঠাৎ আবির তার মুখের উপর ছুড়ে মারলো তখনকার সেই বাক্সটি। তারপর হনহনিয়ে বেরিয়ে যায় রুম থেকে৷
ফ্লোরে গড়িয়ে পড়া বাক্সটির দিকে চোখ যেতেই চড়ুইয়ের চোখ বড় বড় হয়ে এলো। এটা তো সে অফিসের ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছিলো। আবিরের হাতে পৌঁছালো কি করে?
বাক্সটা খোলা, সাইডেই এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে বাক্সের ভেতরে থাকা ডিভোর্স পেপারটি। যেটায় গুটি গুটি অক্ষরে চড়ুইয়ের সাক্ষর ভাসছে। আবিরের সই করার জায়গাটা এখনো খালি। লোকটা সই করে নি, হয়তো করবেও না। কিন্তু চড়ুইকে যে ভুল বুঝবে সে?
ছুটে যায় চড়ুই রুম ছেড়ে। দ্রুততার সহীত সিঁড়ি ডিঙিয়ে নেবে এদিক ওদিক তাকিয়ে পেলো না আবিরের ছায়াটুকুও। ড্রয়িং রুমের সোফায় জেসিকে দেখে চড়ুই দ্রুত জিজ্ঞেস করলো...
"দানাবলটা কোন দিকে গেলো দেখলি তুই? "
জেসিও দুষ্টু হেঁসে মাথা দুলিয়ে উল্টে বলে...
"কেন? আবির ভাইয়াকে বুঝি খুব মিস করছিস আজ? "
"আহ, বল না কোথায় গেছে? "
"নিচে নামেনি। দেখিনি.... "
চড়ুই পাখি আবার ছুটে যায় উপর তলায়, সব গুলো রুম চেক করেও আবিরকে পেলো না সে। আর বাকি রইলো ছাঁদ। কিন্তু এই রাতে ছাদে যাবে সে? ভয় করছে যে?... ধুর,, দানাবলটার সাথে কথা বলা জরুরি, একবার গিয়ে দেখেই আসা যাক আছে কিনা সেখানে...
ভেবেই চড়ুই গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে যায় ছাঁদের দিকে। অন্ধকার ছাঁদে উঁকিঝুঁকি দেয় সে ভয়ে ভয়ে। খুব বেশি খোঁজার আর প্রয়োজন হয় না, পাশ থেকেই ভেসে আসছে আবিরের রাগী স্বর....
"তোমাকে আমি লাস্ট টাইম বলছি,,, আমার ওয়াইফির মাথায় এসব উল্টাপাল্টা কিছু ঢুকালে আমি তেমায় ছেড়ে দেবো না ইরিন... "
ইরিন?... ভ্রু কুঁচকে যায় চড়ুইয়ের। দানাবলটা উনার সাথে কথা বলছে?....
অতি আগ্রহ নিয়ে দু কদম এগিয়ে গিয়ে দেখে সত্যিই সেখানে আবির একা নয়, ইরিনও আছে। আবিরের মাত্র বলা কথার প্রেক্ষিতে ইরিন কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে...
"ইউ নো না আবির, হাউ মাচ আই লাভ ইউ... কেন তুমি ওমন একটা মেয়ের জন্য আমাকে রিজেক্ট করছো, প্লিজ ওকে ছেড়ে দাও...ওটা তো একটা এক্সিডেন্টাল বিয়ে, সেদিন তো তুমি আমায় বিয়ে করার কথা ছিলো তাই না? আই ওয়ান্ট টু ম্যারি ইউ... "
আবির এক হাত উঁচিয়ে বাঁধা দেওয়ার ভঙ্গিতে বলে....
"ইরিন প্লিজ.... হোয়াই ডোন্ট ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড? তোমার জন্য আমার সংসারে অশান্তি হচ্ছে। ওয়াইফি আর আমার বিয়েটা এক্সিডেন্টাল নয় এটা তুমি বেশ ভালো করেই জানো। আমি ওকে বিয়ে করেছি কজ আই লাভ হার। আই রেসপেক্ট ইউর ইমোশান, তাই এখনো তোমাকে ভালো ভাবে বলছি এখান থেকে চলে যাও। নিজের মতো থাকো...."
ইরিনকে এত করে বোঝানোর পরও যেন সে মানতে নারাজ। এগিয়ে এসে আবিরকে জড়িয়ে ধরতে গেলেই চড়ুই এবার ছুটে গিয়ে আবিরের সামনে দু হাত মেলে দাঁড়ায়, দ্রুত বলে ওঠে...
"এই এই এই... আমার স্বামীকে একদম ছুঁবে না তুমি। "
ইরিনের মাথায় রক্ত উঠে যায়। এই মুহুর্তে আবির আর তার মাঝে চড়ুইকে তৃতীয় ব্যক্তি ছাড়া আর কিছুই মনে হচ্ছে না তার। ক্ষ্যাপা স্বরে বলে ওঠে...
"এই মেয়ে... তুমি এখানে কেন এসেছো,, দেখছো না আমরা কথা বলছি... "
চড়ুইও ফটাফট উত্তর দেয়...
"উনাকে এসব লাভ ইউ টাভিউ বলার জন্য আমি আছি। আর জড়িয়ে ধরার জন্যও আমিই থাকবো সব সময়। তুমি কেন করছো এসব? কাছে আসবে না তুমি উনার..."
বলেই আর ইরিনকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই চড়ুই আবিরের দিকে ঘুরে আবিরের এক হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে দ্রুত বলে ওঠে...
"দেখুন দানাবল,, আমি আপনাকে ইচ্ছে করে ডিভোর্স দিতে চাই নি। আমি ভেবেছিলাম আপনি ইরিন আপুকে..... "
আবির আগ্রহ দেখালো না, এক ঝটকায় চড়ুইয়ের থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে হাঁটা ধরলো ছাঁদের দরজার দিকে। চড়ুইও ছুটতে নেয়, পরক্ষণেই পেছন থেকে ইরিন বাঁকা হেঁসে বলে ওঠে....
"বেশ হয়েছে একদম। নির্লজ্জ মেয়ে কোথাকার, একটু আগেই না আবিরের হাতে থাপ্পড় খেয়েছিলে,এখন আবার ধেইধেই করে ওর কাছে এসে মাফ চাইছে... "
চড়ুইয়ের পটু মুখ খানা থেমে থাকে না। তরতরিয়ে উত্তর দেয়...
"আমার বর আমাকে একটা কেন হাজারটা থাপ্পড় মারবে, তাতে তোর কি শাঁকচুন্নি? আমার বর আমাকে মারবেও, আবার আদরও করে দিবে, বুঝেছিস...হুহ..."
রাগ রাখার উপায় রাখে না ও মেয়ে। এই যে সিঁড়ি ঘর পেরোতে পেরোতে চড়ুইয়ের এমন কথা শুনে ফিক করে হেঁসে দিলো আবির.. পারেও বটে মেয়েটা। কানে আসে তার নুপুরের ঝুমঝুম শব্দ, তীব্র গতিতে আবিরের কাছেই ছুটে আসছে চড়াই। হঠাৎ থেমে যায় সেই শব্দ। আবির মাথা ঘামায় না,, ও মেয়ে এখন আবিরের কাছেই আসবে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই তার। তাই আর পেছন ফিরে না তাকিয়ে নিজের রুমের দিকেই এগিয়ে গেলো আবির।
-----
"আর ক'দিন ওমন শুকানো চুমুতে মন ভরাবো মিস এটম? এবার আপনার তেজে আমাকে একটু ঝলসে যাওয়ার সুযোগটা দিন? "
সন্ধ্যার আবছায়া পরিবেশ কেটে গিয়ে রাত্রির কালো আধারি নেমে এসেছে চার দিকে। যদিও কৃত্রিম আলোয় সজ্জায়িত ঘরটি, তবে একটু খানি চাঁদের সহীত সাক্ষাৎ করার প্রচেষ্টায় দোয়েল গিয়ে দাড়িয়েছিলো রুমের সাথে লাগোয়া বারান্দাটায়। মনটা আজ ভীষণ ফুরফুরে। একটু আগেই চাচা আর হৃদকেও তাদের সো রুমের কথাটা জানিয়েছে। সবাই খুশি, কারোর স্বপ্ন পূরন হওয়ার আনন্দটাও যে ভাগ করে নেওয়া যায় তা দারুণ ভাবে অনুভব করছে দোয়েল। আল্লাহ কি নিবিড়কে তার জীবনের আলো হিসেবেই পাঠিয়েছে তবে?....
পেছন থেকে দুটো হাত এসে আলতো আগলে ধরে দোয়েলের কোমড়। ছোয়াটা বেশ পরিচিত তার, এটা নিবিড়, দোয়েলের এক মাত্র ভরসার স্থান।
দোয়েল লজ্জায় রাঙা হয়,আবছা আলোয় পেছন থেকে নিবিড় তার লজ্জাময় মুখ খানা দেখে খনিক হাসে। বা হাতের আঙুলের সাহায্যে দোয়েলের পিঠে ছড়িয়ে থাকা হালকা কোঁকড়ানো চুল গুলো সরিয়ে মুখ নামিয়ে আবেশে চুমু খেলো তার ব্লাউজের উপরিভাগে।
" এক্সামটা শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষায় কাতর হয়েছি এটম... আমার ঘরে আমার বিছানায়, চমার পাশেই পুরোটা রাত ঘুমাতে তুমি, অথচ তোমাকে ছোঁয়ার জন্য অপেক্ষা আর অপেক্ষা। "
দোয়েলের শরীর তরতর করে কাপে,আপত্তি নেই,কিন্তু মুখ ফুটে রাজি শব্দটা বলার মতো সাহস ও নেই তার।
"নীরব কেন এটম? বারণ আজও? "
দোয়েল উত্তর দেয় না,শুধু প্রচন্ড লজ্জায় মাথা নুইয়ে নেয়। তা দেখেই নিবিড় যেন তার উত্তর পেয়ে যায়। নীরবে হেঁসে মুখ নামিয়ে আবারো ঘন ঘন করেক খানা চুমু দিতে থাকে দোয়েলের পিঠ জুড়ে। শীতকায় কাঁপছে দোয়েল, মুহুর্তে হঠাৎ দোয়েল হালকা আর্তনাদ করে ওঠে...
"আহ নিবিড়,ব্যাথা পাই..."
নিবিড় চঞ্চল হেঁসে বলতে নেয়....
"সামান্য চুমুতেই ব্যাথা পাচ্ছো? এখনো তো একটু বাইটও দিলাম না.. ও গড..৷ তুমি আমায় সামলাতে পারবে তো মিস এটম?"
দোয়েলের ভ্রু জোড়া কুঁচকে আছে যন্ত্রণায়, ডান হাত পেছনে নিয়ে ব্যথার স্থানে অনুধাবন করার চেষ্টা করে বলে.....
"সত্যি বলছি, এই খানটায় জ্বলছে... "
নিবিড় এবার হাসি থামিয়ে স্বাভাবিক হয়ে বলে...
"কই দেখি,আমাকে দেখতে দাও..."
বলেই দোয়েলকে পেছনে ঘুরিয়ে পিঠের ব্লাউজের দিকটায় একটু ভালো করে লক্ষ্য করতেই নিবিড় চিন্তিত হয়ে বলতে নেয়...
"লালছে হয়ে গেছে,কিছু কি...."
"ওহ, নিবিড়...."
ব্যথায় আবারো কুঁকড়ে ওঠে দোয়েল।পায়ের ভার সামলে রাখতে না পেরে পড়তে নিলেই নিবিড় ধরে ফেলে তাকে।উদ্বিগ্ন হয়ে বলতে থাকে..
"কি হলো?"
দোয়েলের চোখ ছলছল করছে।উত্তর দেয়...
"পায়ের তালু তে কিছু একটা গেথেছে যেন...."
সাথে সাথেই পা উঠিয়ে দেখে নিবিড়। বলে...
"কই কিছু তো নেই..."
"আমার বোন কোথায়? "
চমকে বলে ওঠে দোয়েল। নিবিড় হা করে থাকে,কি বলবে বুঝতে পারার আগেই দোয়েল ছুটে যায় রুমের বাইরে, বোন বোন বলে ডাকতে ডাকতে। নিবিড় ও যায় তার পিছু পিছু।
নিচতলায় চড়ুইয়ের উপস্থিতি না পেয়ে দোয়েল এবার ছুটলো আবিরের রুমের পানে... রুমে গিয়ে আবিরকে পেয়েও গেলো৷ জিজ্ঞেস করলো...
"বোন কোথায় ভাইয়া?"
আবির স্বাভাবিক ভাবেই বলতে নেয়....
"ছাঁদে আছে৷ "
দোয়েল আর দাঁড়ায় না সেখানে। আবারো ছুটে যায় ছাঁদের সিঁড়ির দিকে। নিজের যন্ত্রণা যেন লাঘব করতে চাইছে না সে। কিন্তু সহ্যও করার মতো নয়। এক পায়ে খুড়িয়ে খুড়িয়েই ছুটছে সে৷ মন বলছে তার বোনের কিছু হয়েছে। সিঁড়ির দুটো কদম উঠতেই ব্যথায় আর দাঁড়াতে পারে না দোয়েল, হোচট খেয়ে পড়ে যায় সে। পেছনে নিবিড় থাকায় আলগোছে ধরে নেয়...
"আহা দোয়েল, ছুটছো কেন..."
দোয়েল উত্তর দেয় না,উদ্বিগ্ন হয়ে উল্টো সিঁড়ির দিকে আঙুল তাক করে বলে...
"একটু দেখো না গিয়ে বোনের কিছু হয়েছে কিনা। যাও না প্লিজ..."
নিবিড় উঠার আগেই আবির উপরে উঠতে উঠতে নিবিড়কে বলে...
"তুই বড় পাখিকে সামলা, আমি যাচ্ছি চড়াইয়ের কাছে। "
আবির এগিয়ে যায় উপরের দিকে। তবে বেশি দূর যেতে হয়নি। সিঁড়ির উপরি ভাগের সামনেই দেখা মিললো চড়ুইয়ের। রেলিঙের সাথে গা ঘেঁসে বসে আছে, দু হাত দিয়ে নিজের ডান পা খানা চেপে রেখেছে, কিন্তু সেথায় যেন বাঁধ মানছে না গড়িয়ে পড়া রক্ত, দু হাত রক্তে মাখামাখি হয়ে গেছে তার।
মেয়েটার মুখের দিকে তাকাতেই আবিরের মুখের রং উবে গেলো, কান্নায়র তোপে সারাটা শরীর কাপছে তার। ছুটে যায় আবির, চড়ুইয়ের র'ক্তে ভেজা পা খানা নিজের দিকে টেনে নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে বলে ওঠে....
"এসব কি করে হলো,একটু আগেই না ঠিক ছিলো,,চড়াই?.... "
চড়ুই ছলছল চোখে আবিরের দিকে চায়। সাহায্যের জন্য কিছু বলতে চেয়েও কান্নার তোপে কথা যেন আঁটকে আসছে তার। র'ক্তে মাখানো দুটো হাত বাড়িয়ে দিতেই আবির দ্রুত মেয়েটাকে পাঁজা কোলে তুলে নেয়। দাঁড়ানোর পরে এক পলক চেয়ে দেখে সাদা ফ্লোরের টকটকা র'ক্ত। ভেতর গত রাগ, হতাশার সম্মেলনে মুখ ঘুরিয়ে নেয় সে, সহ্য করতে পারছে না। এটা তার চড়াইয়ের র'ক্ত....
ড্রয়িং রুমের সোফায় চড়ুইকে বসাতেই বাড়ির সকলের আগমন হয়। মেয়েটার কান্না চিৎকারে পরিনত হয়েছে এই কিছু মুহুর্তেই। সকলে মিলেও যেন থামাতে পারছে না তাকে। আহিশ দ্রুত ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে আসে। পায়ের ক্ষতটায় পরিষ্কার করার সময়ই চড়ুইয়ের শরীর কাপে। র'ক্ত মাখা হাত দুটো কম্পমান অবস্থায় আবিরের দিকে এগিয়ে নিতেই আবির দ্রুত স্বযত্নে মেয়েটার কোমড়ের দিক থেকে হাত এনে ছোট্ট হাত দুটি মুষ্টি বদ্ধ করে নেয়। মেয়েটার ভয় কাটানোর প্রচেষ্টায় বলতে নেয়....
"কিচ্ছু হবে না চড়াই, ভয় পেও না। এই দেখো ঠিক হয়ে যাবে, একটু শান্ত হও পাখি...একটু...."
চড়ুইয়ের কান্না থেমে যায়, নিস্তেজ হয়ে সামনের দিকে আবিরের বুকে ঢলে পরে সে জ্ঞান হারিয়ে। আবিরের মন উতলা। নিরেট হাত খানা চড়ুইয়ের চুলের ভাঁজে বুলিয়ে দিতে গিয়ে কিছু একটার খোঁচা লাগে যেন। সন্দেহবশত মেয়েটার পিঠের চুল গুলো সরাতেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জেসি চিৎকার করে ওঠে আচমকা।
সাদা রঙের ব্লাউজটার বেশিরভাগ অংশই র'ক্তে ভেজা। নিচের দিকে গড়িয়ে পরে ভিতরকায় বিলীন হচ্ছে র'ক্তের স্রোত। উৎস? ব্লাউজটার ঠিক মাঝ বরাবর একটা ডানদিক করে ছিঁড়ে চড়ুইয়ের কোমল পিঠে গেথে আছে এক টুকরা জং ধরা ভাঙা টিন জাতীয় কিছু।
হুট করেই শক্তপোক্ত লোকটার হাত কাঁপতে শুরু করে, জিনিস টা ভেতরে ঠিক কতটা ডেবেছে তা নিয়েই যেন ভয় প্রতিটা প্রাণের মাঝে।কম্পমান হাতে আবির সেই জং ধরা বস্তুটা টান দিয়ে বের করে আনে, নাহ, তেমন বিশাল কিছু নয়। মাংস ভেদ করে হাড় ছুতে পেরেছে কিনা জানা নেই,এর গভীরে হলে সমস্যা।
আহিশ দ্রুত উঠে চড়ুইয়ের পিঠের কাটা স্থানে ব্যন্ডেজ করার উদ্দেশ্যে হাত বাড়াতেই আবির বাঁধা দেয় তাকে।
"আমি করে নেবো... "
উঠে দাঁড়িয়ে চড়ুইকে আলগোছে কোলে তুলে নেয় সে। কন্ঠ শীতল হয়ে যায় তার, সবার উদ্দেশ্যে বলে....
"কেউ এখন আর আমার ঘরে আসার প্রয়োজন নেই। ডিনার করবো না আমি। ওর জ্ঞান ফিরলে আমি জানাবো। "
আর কিছু না বলেই চড়ুইকে নিয়ে রুমে চলে যায় আবির। দরজা বন্ধ করে ফার্স্ট এইডটা পাশে নিয়ে চড়ুইকে কোলে করেই বসে খাটে সে। মেয়েটার ঘুমন্ত মুখখানার দিকে কিয়াৎক্ষণ তাকিয়ে থেকে আস্তে করে কপালে চুমু খায় আবির..
"আ'ম সরি পাখি, আমায় ভুল বুঝো না তুমি... "
তৃপ্ততার লেশ কাটিয়ে চড়ুইয়ের চোখেই দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখে বা হাত এগিয়ে আনে মেয়েটার বুকের কাছে। এক এক করে ব্লাউজের বাটন গুলো খুলে শরীর থেকে আলাদা করে সেই রক্তমাখা ব্লাউজটি। পিঠের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারে এতটুকুতেও হচ্ছে না যেন। ক্ষত স্থানটি উন্মুক্ত করতে হলে আরো অনাবৃত করতে হবে মেয়েটির সংবেদনশীলতাকে।
ঢোক গিলে আবির। বারবার উপরওয়ালার কাছে নিজেকে সংযত করার শক্তি চায় সে। এই অসময়ে যেন তার দ্বারা কোনো ভুল না হয়ে বসে। এতে যে পাখিটা আরো যন্ত্রণায় ভুগবে।
ধীর হস্তে পিঠের উপর থেকে চড়ুইয়ের অন্তর্বাসের হুক খুলে পিঠ খানা সম্পুর্ণ উন্মুক্ত করে এবার। সামনে যেন ভুলেও তাকাতে চাইছে না আবির, যদি দিশা হারিয়ে ফেলে তো?...
ভেজা তুলো দিয়ে শুকিয়ে যাওয়া র'ক্তগুলো মুছে নিয়ে ক্ষত স্থানের ব্যবস্থা করতে থাকে সে। প্রতিটা স্পর্শের সাথে সাথে আবিরের প্রাণে জ্বলে এক দগ্ধ অনুভুতি। জাল বুনতে থাকে যেন আরো একটি মৃ'ত্যু শিখার....