ভার্সিটিতে আসার আগেই আবির বেছে বেছে বেশ কয়েক রকমের খাবার নিয়ে নিয়েছে গাড়িতে। যার এক একটিতে বাইট দিয়ে দিয়ে নিজের পছন্দ মতো খাচ্ছে চড়ুই। অবস্থান এখনো আবিরের কোলেই তার। আবিরের গায়ে এক পেশে হয়ে হেলান দিয়ে বসে সীটের উপর দু পা তুলে বসে আরামসে খাচ্ছে সে। আবিরের ডান হাত চড়ুইয়ের নরম পায়ে নিবদ্ধ। যেন বিশেষ মনোযোগ দিয়ে সে মেয়েটির পা দুটোর প্রতিটি কোষ পর্যবেক্ষণ করছে। চড়ুইয়ের সেসবে তেমন খেয়াল নেই। পেটের শন্তিকে প্রাধান্য দেওয়াটাই জরুরি।
পকেটে থাকা ফোনটি বেজে উঠতেই আবির ধীর হস্তে সেটি কানে চেপে ধরে। ওপাশ থেকে রাতুলের তারাহুরোর স্বর....
"স্যার, ক্লায়েন্টরা অলরেডি অন দা ওয়ে, আর মাত্র পাঁচ মিনিটেই অফিসে প্রবেশ করবে। আপনি এখনো আসেন নি,,এনি প্রবলেম স্যার?"
আবিরের মধ্যে তেমন তারাহুরো দেখা যায় না। চড়ুইয়ের নরম পায়ে হাত ডলতে ডলতেই উত্তর দেয়...
"বউ আমার রাগ করে না খেয়েই বেরিয়ে এসেছে। তাকে খাইয়ে নিই, তারপর আসছি। ততক্ষণ ক্লায়েন্টদের চা নাস্তার ব্যবস্থা করো না হয়। "
ওপাশে রাতুল ভ্যবলার মতো করে বলে ওঠে...
"স্যার... ইম্পর্ট্যান্ট মিটিং... "
"সরি টু সে,আমার ওয়াইফের থেকে বেশি ইম্পর্ট্যান্ট কিছুই হতে পারে না। হ্যান্ডেল করো.. "
বলেই কল কেটে দিয়ে আবার চড়ুইয়ে মনোযোগ দেয় আবির। চড়ুই ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে...
"আমার বউ, আমার বউ বলে ঢং করার কি আছে?"
"কেন বলবো না? নিজের বউকে কি বোন বোন বলবো?"
"আপনি এখনো ডিভোর্সটা করাচ্ছেন না কেন? আমার আর ভালো লাগছে না আপনার কাছে থাকতে। "
আবিরের হাসি হাসি মুখটা হঠাৎই কেমন চুপসে যায়।চড়ুই কি বললো এটা....
"কার কাছে থাকতে ভালো লাগে তোমার?"
"যার কাছেই হোক,আমি আপনার সাথে থাকবো না... "
আবিরের রাগ সংযত করা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে যেন, ধীরে ধীরে কন্ঠের জোর বাড়তে থাকে তার।...
"তোমার কোন দিকটায় অপূর্ণ রেখেছি আমি যে আমার সাথে থাকতে ভালো লাগছে না? উত্তর দাও..."
চড়ুই ভয় পায় না, উল্টো আবিরের চোখে চোখ রেখে বলে ফেলে এক কঠিন বাক্য..
"আমি কোনো চরিত্রহীন পুরুষের বউ হয়ে থাকতে চাই না। "
চোয়াল শক্ত হয়ে আসে আবিরের। হুট করেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চড়ুইয়ের লতানো কোমড় শক্ত করে চেপে ধরে সে। দাঁতে দাঁত চেপে বলে...
"কি করেছি তোমার সাথে আমি? বিয়ের এতদিন পরও তোমার অনুমতি ছাড়া ইন্টিমেন্ট হইনি। এক বিছানায় থাকছি না, তারপরও আমায় চরিত্রহীন বলছো তুমি। তুমি কি চাও আমি জোর করি তোমার সাথে? আদেও তুমি সামলাতে পারবে মেয়ে? "
"আপনি চরিত্রহীনই, আপনি আমায় বিয়ে করেছেনই ওসব করার জন্য। আপনি তো ইরিন আপুকে পছন্দ করেন। কি ভেবেছেন আমি বুঝি না এসব? আমাকে কয়দিন ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলে দিবেন। আমি কি ফেলনা নাকি? বোকা নাকি আমি?"
"তুমি বোকাই, বুঝেছো, তুমি বোকাই। "
"তো বিয়ে করেছেন কেন আমার মতো বোকা মেয়েকে? ঘরে বউ রেখে পরকী'য়া করার জন্য? কি ভেবেছেন আমি এসব বুঝতে পারবো না? কাল রাতে আমি সব দেখেছি। "
"কি দেখেছো তুমি?"
"কি দেখেছি মানে? আপনি আমায় ছেড়ে ইরিন আপুর রুমে গিয়েছিলেন রাত কাটানোর জন্য... "
"চড়াই!!!! একটা থাপ্পড় মারবো এবার... "
কন্ঠের রেশ বেশ জরোসরোই শোনায় আবিরের। চোখ দুটো অসম্ভব রকমের লাল হয়ে গেছে মুহুর্তেই। কথার আঘাত অন্তর ছুঁয়ে যায়, কথাটার প্রতিফলন এইতো তারই সামনে আজ। চড়াই পাখি নিতান্তই বোকা মেয়ে। ভেতরের ক্ষোভ থেকে এসব বলছে তাও জানে আবির, তবুও যেন বিষাক্ত লাগছে কথা গুলো। রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে এমন ধমকে উঠে সে..
চড়ুইয়ের অভিমানের পাল্লা ভারী হয়। মুখের ভেতরের খাবার গুলো চিবানো বন্ধ করে ঠোঁট উল্টে তাকায় ছলছল দৃষ্টিতে। লোকটা তাকে এবার মারবেও বললো। রাগে অভিমানে হাতে থাকা খাবারের প্যাকেটটা ছুড়ে ফেলে দ্রুততার সহীত আবিরের কোল থেকে নামার প্রয়াশ চালায় সে। দরজাটা খুলে লাফিয়ে নামতে গিয়েই হুমড়ি খেয়ে পড়ে যায় রাস্তায়। ঘটনাটা এত দ্রুত হয়েছে যে আবির সামলে উঠতে পারলো না ঠিক। চড়ুইকে পড়তে দেখে নেমে এসে হাত বাড়িয়ে তুলতে নিলেই চড়ুই ঝাপটা মেরে ছাড়িয়ে দেয় তাকে। আবির তবুও এগিয়ে যায় কন্ঠে কোমলতা এনে...
"চড়াই, ত্যাড়ামো করে না বাচ্চা, ওঠো, দেখি কোথায় লেগেছে... "
চড়ুইয়ের সেসবে কান যায় না, তার মনোযোগ এখন সম্পূর্ণ সামনে থাকা এক দল মেয়ের দিকে। যারা চড়ুইকে পড়ে যেতে দেখেই হাসতে শুরু করেছে। তার উপর একটা মেয়েতো আবার পিত্তি জ্বালানো কথা বলাও শুরু করে দিয়েছে...
"কিরে, হ্যান্ডসাম ছেলে দেখে গায়ে পড়তে গেছিলি নাকি, দিলো তো ধাক্কা মেরে সরিয়ে?... "
বলেই আবার হাসতে শুরু করলো মেয়েগুলো। আবিরের কানে আসে কথা গুলো, সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে মাত্রই কিছু বলতে যাবে তার আগেই ন্যনো সেকেন্ডে চড়ুই রাস্তা থেকে এক মুঠো ধুলোবালি নিয়ে ছুড়ে মারলো মেয়ে গুলোর গায়ে।
হা হয়ে যায় আবির। কি বলবে না বলবে নিজেই বুঝে উঠতে পারে না, চড়ুই এগিয়ে গিয়ে নিজেই তর্জনী তুলে মেয়ে গুলোকে বলতে থাকে...
"আমাকে উনি ধাক্কা মারবে... আমাকে? এই জগতে চৌদ্দ বার জন্মালেও তো এত সাহস হবে না উনার। আর কি বললি তুই, উনি হ্যন্ডসাম দেখে আমি গায়ে পড়তে গেছি? এই হ্যান্ডসাম লোকটা আমার জামাই হয় বুঝেছিস,,আমার জামাই... "
তুড়ি বাজিয়ে কথা বলার ধরন দেখে আবিরের পেট ফেটে হাসি আসার অবস্থা। এই মেয়ে দু মিনিটও তাকে রেগে থাকতে দেয় না। মেয়ে গুলো হা হয়ে এক পলক আবিরের দিকে তাকাতে গেলেই চড়ুই আবারো স্বর উঁচিয়ে ডেকে ওঠে....
"এইই,,, উনার দিকে তাকাচ্ছিস কি হ্যা? চোখ দুটো টেনে বের করে নিয়ে আসবো শাঁকচুন্নি কোথাকার। আমার ইশারায় চলে উনি বুঝলি, এই চড়ুইয়ের ইশারায়,, ওয়েট দেখাচ্ছি তোদের... "
বলেই ডান হাত উঁচিয়ে চড়ুই তর্জনী নাড়িয়ে আবিরকে ইশারা করে সামনে এগিয়ে আসার, আবিরও মুখ টিপে হেঁসে বাধ্য ছেলের মতো এগিয়ে যায় চড়ুইয়ের পাশে। সাথে সাথেই চড়ুই ধ্বনিত গলায় আদেশ ছুঁড়ে তাকে...
"আমার গালে চুমু খান... "
ভ্যবাচ্যকা খেয়ে যায় আবির। এই মেয়ের মাথা ঠিক আছে? নাকি এটা অন্য কেউ...। মিনমিনিয়ে আবির বলতে নেয়...
"এটা রাস্তা চড়াই, সবাই দেখবে তো... "
"আপনি চুমু খাবেন কি না... "
আবির আর কথা বাড়ায় না, বা হাতে চড়ুইয়ের থুতনি ধরে মুখটা উপরে তুলে টপাটপ দু গালে দুটো চুমু খেয়ে বসে। সরে যাওয়ার আগেই চড়ুই নিজের একটি আঙুল দিয়ে নাক ছুঁইয়ে বলে...
"এখানটায়.."
আবির এবার তার নাকেও চুমু খায়, তারপর কপালে থুতনিতে,ঠিক যেখানে যেখানে চড়ুই দেখিয়ে দিচ্ছিলে সেখানেই। এরপর চড়ুই আবার নির্দেশ দিলো...
"আমি আপনার কে হই বলুন... "
" তুমি তো আমার এক মাত্র বউ,, আমার লক্ষ্মী বউ... "
"এবার কান ধরুন নিজের... "
"এ্যা!!!"
চড়ুইয়ের কন্ঠ নড়ে না...
"কান ধরুন, তাহলে আজ থেকে বিছানায় ঘুমাতে দিবো। "
ব্যাস, আবিরের আর কি চাই... সাথে সাথেই আশ পাশের কোনো কিছুর পরোয়া না করে দু কান ধরলো নিজের।..
"এবার বসুন... "
আবির তাই করলো,
"কান ছাড়ুন। নিচ থেকে এক মুঠো ধুলো নিন হাতে। "
আবির নাক কুঁচকে বললো...
"চড়াই... এসব কেন... "
"আজকের জন্য আমাকে জড়িয়ে ধরেও ঘুমাতে দিবো যদি এখন আপনি ধুলো নিয়ে এদের মুখে ছুড়ে মারেন তো... "
মেয়ে গুলো এবার চোখ বড় বড় করে তাকায়।। কিছু বলতে যাবে তার আগেই বাধ্য স্বামীটি তার এক মাত্র বউয়ের কথা মতো বাচ্চামো কাজটি করেই বসলো।
চড়ুই আর থামে না। গেটের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে আবিরকে উদ্দেশ্য করে বলে.....
"এই বিষয়টা নিয়ে প্রিন্সিপালের কাছে যেন বিচার না যায় আবার নামে। গেলে আপনার পিন্ডি চটকাবো আমি। "
আবির হাফ নিশ্বাস ফেলে হাত ঝাড়তে ঝাড়তে মেয়েগুলোকে বলে....
"সরি গার্লস। বউয়ের কথা ফেলতে পারলাম না। তোমরাও তারাতাড়ি বিয়ে করো, তখন তোমাদের বরও তোমাদের কথা মতো চলবে। "
--------------
ভার্সিটি থেকে ফিরেই ক্লান্ত শরীরে আবিরের রুমে প্রবেশ করে চড়ুই, কাঁধের ব্যাগটা রেখে উল্টো ঘুরে তাকাতেই হঠাৎ লক্ষ্য করে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে ইরিন। আরো ভালো করে লক্ষ্য করতেই দেখলো ইরিনের গায়ে আবিরের একটি শার্ট। যেটা পড়ে সে এই মুহুর্তে আয়নায় নিজেকে দেখছে। চড়ুইকে যে খেয়াল করে নি সেটা তার ভাবভঙ্গি দেখেই বোঝা যাচ্ছে। দাঁতে দাঁত চেপে ইরিনের কান্ড দেখতে থাকে চড়ুই। ইরিন একের পর এক আবিরের শার্ট পড়ছে, আবার খুলে আলমারির এক কোনে রেখে দিচ্ছে দলাই মলাই করে। চড়ুই তাকিয়ে দেখে প্রায় বিশটিরও অধিক শার্ট ইতোমধ্যেই ইরিন পড়ে ফেলেছে।
আর সহ্য হয় না মেয়েটির। ক্ষিপ্ত গতিতে এগিয়ে গিয়ে পেছন থেকে হেচকা টানে ইরিনকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেয়। কোনো প্রকার কাল বিলম্ব না করেই রেগে প্রশ্ন করে...
" দানাবলের শার্ট গুলো পড়ছো কেন তুমি? এই রুমে কি করো। আর উনার আলমারি খোলার সাহস কে দিয়েছে তোমায়? "
ইরিনের ঠোঁটের কোনে ফুটে ওঠে বাঁকা হাসি। ঘাড় দুলিয়ে বলে ওঠে...
"আবিরের সব কিছুতেই আমার অধিকার আছে। সাহসের প্রয়োজন হয় না। "
"না নেই। কোনো অধিকার নেই তোমার উনার উপর। উনার শার্টটা রাখো, নেক্সট টাইম থেকে আমার স্বামীর কোনো কিছুতেই তুমি হাত দেবে না। "
ইরিন যেন কোনো মজার কবিতা শুনে ফেললো, বিকৃত হেঁসে বলে...
"তোমার স্বামী? ডেমন ফা***... আবির শুধু আমার, আবিরকে তৃপ্তি দেওয়ার মতো কিছুই নেই তোমার। নিজের দিকে তাকাও আর আমার দিকে দেখো। আমি সব দিক দিয়ে পার্ফেক্ট। আমার ফিগার দেখলে ছেলেদের মন লাফিয়ে ওঠে। আর তুমি কিনা.... হাউ সিলি গার্ল..."
চড়ুই তর্জনী তাক করে ইরিনের দিকে। কন্ঠে শীতলাভাব এনে আত্মবিশ্বাসী গলায় বলে...
"উনি আমার স্বামী,, আর আমারই থাকবে। একদম আমার স্বামীকে নিজের দিকে ডাইভার্ট করার চেষ্টা করবে না। "
ইরিন দমে যায় না, নিজেও এক প্রকার চড়ুইকে হেয় করে বলে ওঠে...
"আমি তো করবোই, পারলে আটকে দেখিও... আবির তোমায় যাস্ট ময়লা হিসেবে রেখেছে। "
--------------
সময় কাটছে অবলীলায়। সন্ধ্যায় ক্লান্ত শরীরে নীড়ে ফিরে আসে নিবিড়। তাকে দরজা খুলে দিয়েছে চড়ুই, পাশে চোখ বুলিয়ে নিয়ে নিবিড়কেই উৎকন্ঠা নিয়ে জিজ্ঞেস করে...
"দানাবল আসেনি নিবিড় ভাই?"
দু সেকেন্ডের জন্য নিবিড় নীরব ভুমিকা পালন করে। সে জানে আবির কোথায়। ঐ রায়হানের ভবলীলা সাঙ্গ করতেই তো আবিরের প্রস্থান। আজ তার ইতিউতি টেনেই বাড়ি ফিরবে আবির।
মুখে হালকা হাসি এনে নিবিড় দু পাশে মাথা নাড়িয়ে বললো...
"নাহ..."
"কখন ফিরবে? "
"তা তো বলেনি ঠিক। তবে দেরি হবে বললো..."
চড়ুইয়ের মুখটা চুপসে যায়। আস্তে করে ঠোঁট গোল করে 'ওহ' উচ্চারণ করে ধীর পায়ে হাঁটা ধরে আবিরের রুমের দিকে। নিবিড় এক পলক সেদিকে তাকিয়ে এগিয়ে যায় দোয়েলের নীকট। জিজ্ঞেস করে....
"ছোট পাখির কি হয়েছে গো?"
"কি জানি আজ আবার কোন মতলব। বিকেলে ছবি তোলার নাম করে শাড়ি পড়েছে। এখন আর চেঞ্জ করছে না।..."
নিবিড় ঠোঁট এলিয়ে হাসে।তা দেখে দোয়েল প্রশ্ন করে...
"হাসছেন কেন? "
"ও কিছু না। ছোট পাখি ভাইয়ের জন্য এমন সেজেছে বুঝলে। দেখো কত রোমান্টিক, আর আমার জনকে দেখো, সারাক্ষণ এটমের মতো ফুলে থাকে। "
ভ্রু কুঁচকে নেয় দোয়েল, জিজ্ঞেস করে...
"আমি ফুলে থাকি?"
"তা নয় তো কি,, কোথায় আমি এলাম, এখানে কেউ নেই ও, টুস করে একটা কিসি দিয়ে দিবে তা না।। হাতে বই নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। "
"ঠিক আছে, আজ থেকে আর তাও করবো না। "
"এই না নাহ,, সরি বউ... মজা করছিলাম... চলো রুমে চলো, আ'ম মাচ টায়ার্ড, নাও আই নিড টু টেক রেস্ট... "
"তো যান না আপনি রেস্ট নিতে। আমায় কেন ডাকছেন? "
নিবিড় হেচকা টানে দোয়েলের কোমড় জড়িয়ে ধরে নিজের কাছে নিয়ে এসে লো ভয়েজে বলে...
"আপনিই তো আমার ক্লান্তি দূর করার মহৌষধী মিস এটম... You are the rest I need... "
---------
বেজমেন্টে র'ক্তের মাখামাখি। আবিরের বাম হাতের তালুতে কতগুলো সুই। যাদের কয়েকটি ইতোমধ্যেই স্থান পেয়েছে রায়হানের পুরুষাঙ্গের গোড়ায়। খসখসে চামড়া ভেদ করে যেগুলো ঢুকে আরেক পাশ দিয়ে সুচালো দিক টি বের হয়ে এসেছে নির্বিঘ্নেই। রায়হানের সেই গোপন স্থান থেকে বী'র্যের পরিবর্তে বেরিয়ে এলো তরল ও গরম রক্ত।
আবিরের চোখেমুখে তেমন কাতরতা নেই, যেন এই মুহুর্তে একটি পুতুলের মধ্যে সুই গাঁথছে সে। ডান হাতের তর্জনী আর বৃদ্ধাঙ্গুলির গোড়ার সাহায্য আর মাত্র একটি সুই তুলে নিয়ে বাকি সুই গুলো এলোমেলো ভাবেই ছুঁড়ে ফেললো বেজমেন্টের ফ্লোরে। এগিয়ে গিয়ে নিজের বা হাতের সাহায্যে শেষ বারের মতো রায়হানের পুরুষাঙ্গটা তুলে ধরলো, চোখ ছোট ছোট করে সঠিক জায়গাটা বেছে নিলো বেশ দক্ষতার সহীত। তারপর ঠিক ন্যানো সেকেন্ডের মধ্যে হাতের সুইটি এক চাপে গেথে দিলো নালিকা বরাবর। সাথে সাথেই আরো এক বার পুরো বেজমেন্টের দেওয়ালে চিৎকারের প্রতিধ্বনি শোনা যায়, প্রাণপনে চেঁচাচ্ছে রায়হান, আর সেই সাথেই তাল মিলিয়ে পৈশাচিক হাসি বিরাজ করছে আবিরের চোয়াল জুড়ে। মাত্র দু মিনিটেই রায়হানের দেহের কম্পন থেমে যায়, চিৎকার থেমে যায়, নীরবতার সাথে হৃদপিণ্ডের স্পন্দনও আর শোনা যায় না।
আবির ঠোঁট এলিয়ে হাসে আর কিঞ্চিৎ সুর দিয়েই বলে ওঠে....
"একলা আমি, একলা তুমি, শেষ হলো সব শ্বাস।
মিটলো আজ মনের তৃষা, ঘুমাও তুমি এবার,
অন্ধকারের বন্ধু আমি, ফিরবো না তো আর।"
শেষোক্ত কয়েকটি শব্দ দাঁতের আগায় পিষে বলতে বলতে হঠাৎই ধারালো ছু'ড়ি চালিয়ে দেয় সে রায়হানের সেই বিদ্ধস্ত পুরুষাঙ্গ বরাবর, মাত্র একটি কো'পেই আলাদা হয়ে ছিটকে পড়ে অংশটি।
পেছন থেকে রাতুল এগিয়ে আসে হাতে ফোন নিয়ে। ভয়, তবুও সাহস জুগিয়ে বলে...
"স্যার, নিবিড় স্যার কল করছেন বারবার। আপনাকে প্রয়োজন। "
আবির রেগে যায় না,বরং শান্ত ভঙ্গিতেই ফোনটা কানে তুলে নেয়। ওপাশ থেকে নিবিড়ের কথা ভাসে...
"আবে বাইরে লীলা পরে করিস ভাই আমার। ঘরে আয় তারাতাড়ি। তোর বউ তোর জন্য সেই বিকেল থেকে শাড়ি পড়ে অপেক্ষা করছে... "
আবিরের হঠাৎ কি যেন হয়ে যায়। হাতে থাকা ছু'রিটা এক ঝটকায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে উঠে দাঁড়ায়। ঘন ঘন উচ্ছাসে বলতে থাকে....
" আলহামদুলিল্লাহ... আলহামদুলিল্লাহ..... রাতুল জোরে বল আলহামদুলিল্লাহ..."
রাতুল ছেলেটা বরাবরই টুইনস ব্রাদার্সের অনুগত, তাই এদিক সেদিক না ভেবেই আবিরের আদেশ মেনে বলে ওঠে...
"আলহামদুলিল্লাহ স্যার...।"
"আরে তিনবার বল ব্যাটা..."
"আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ.... "
আবিরের সেই কি তারাহুরো... দ্রুত রক্ত মাখা হাত খানা ধুয়ে নিতে নিতে বলে....
"এই কু'ত্তাটার ইয়েটা যত্ন করে ফ্রিজিং করে রাখ,,আর বাকিটা যা ইচ্ছে করে। আমায় যেতে হবে...."
রাতুল মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিয়েই,, আগ্রহ নিয়ে জানতে চায়...
"কিন্তু হয়েছে টা কি স্যার?"
"আরে আমার বউ...."
আর পুরোটা শুনার মতো ধৈর্য কুলোয় নি রাতুলের। খুশিতে দাঁত কেলিয়ে হেঁসে বলে ওঠে...
"আরেহ স্যার... মিষ্টি কবে খাওয়াবেন স্যার? ছেলে হয়েছে না মেয়ে? আর ম্যাম এখন কেমন আছে.....। কিন্তু স্যার, আপনার বিয়ের তো এখনো একমাসও হয়নি, এত তারাতারি বাচ্চা হলো কি করে? আপনি এতো ফাস্ট স্যার.... "
আবিরের মুখ চুপসে যায়, কড়া চোখে রাতুলের দিকে এক পলক তাকিয়ে হনহনিয়ে যেতে যেতে বলে...
"রায়হানের সাথে সাথে তোর ইয়েটাও কেটে ফ্রীজে তুলে রাখ... শা'লার ভাদাইম্মা কোথাকার..."