বেজমেন্টের শীতলতায় আজ মুখোমুখি আবির আর রায়হান। ঐ তো নেতিয়ে পড়া দৃষ্টিতে আবিরের রহস্যের হাসি যুক্ত মুখের দিকেই তাকিয়ে আছে রায়হান। ভবিষ্যৎ আন্দাজ করছে হয়তো।
সামনে বসেই আবির লোহার চেয়ারের হাতলে ধারালো চপারটায় আরেকটু ভালো করে ধার দিয়ে নিচ্ছিলো ঘষে ঘষে। ঘর্ষণের চি চি আওয়াজ নীরবতাকে একটু কুন্ঠিত করে৷ রায়হানের দৃষ্টি সেথায়। নীরবতা ছাড়িয়ে আবির চির পরিচিত কন্ঠে বলে....
" কোথায় কোথায় যেন হাত দিয়েছিলি আমার বউয়ের শরীরের?"
গলা শুকিয়ে কাঠ রায়হানের। শুকনো ঢোক গিলতে গিয়ে খেয়াল হলো গলা হতেই যেন লালা শুঁকিয়ে গেছে তার। একটু পানি কি চাইবে?
" ভীষণ সে'ক্সি আমার বউটা, তাই না রে?"
আবিরের ঠোঁটের কোনে কামনার হাসি। চপারে ধার দেওয়া শেষ করে রয়েসয়ে বলে ওঠে....
"জানিস, আজ প্রায় একটা বছরের কাছাকাছি সময় ও আমারই বাড়িতে আমারই সামনে ঘুরঘুর করছে। গতকাল রাতে তো আমারই রুমে,, আমার নিজস্ব বিছানায় আরাম করে ঘুমিয়েছে মেয়েটা। তাও আবার আমার বউ হয়ে। আর.... এই এত দিনেও আমি আবির বিন চৌধুরী ওর বুকে হাত দিই নি। সেখানে তুই.... পাতি চামচা এক দিনে মাত্র কয়েক ঘন্টায় আমার বউয়ের বুকে হাত দিয়েছিস?"
আবিরের দৃষ্টি যেন বাজ পাখির ন্যায় তীক্ষ্ণ। যা নিবদ্ধ সোজা রায়হানের দিকেই। হঠাৎ আবির চপার হাতে উঠে এগিয়ে আসে রায়হানের কাছে। চেয়ারের হাতায় দু হাত ঠেকিয়ে একটু ঝুকে সে। নিজের বা হাত দিয়ে রায়হানের ডান হাতের আঙুল গুলোর উপর স্লাইড করতে করতে বলে....
"এই আঙুল গুলো দিয়েই আমার বউয়ের শরীরের নরম মাংসপিণ্ডে চাপ দিয়েছিলি তাই না?"
আবিরের এক একটি কথা রায়হানের যেন জান বেরিয়ে আসার উপক্রম। থরথর করে কাঁপছে সে, ঘামে ভিজে চুপচুপে হয়ে গেছে তার সমস্তটাই। আবির বিকট এক হাসি দেয়, তারপরই ধীরে ধীরে নিজের হাতের ধারালো চপারটা ঠেকায় রায়হানের হাতের আঙুলের গোড়ায়। রায়হান ভয়ে জবুথবু হয়ে এলোমেলো বলতে লাগলো...
"স্ স্ স্যার... আ্ আমার ভুল হয়ে গেছে স্ স্যার.. আ্ আমি জ্ জানতাম না ওটা আ্ আপনার ব্ বউ। আ্ আমাকে মাফ ক্ করে দিন স্যার...আর জ্ জীবনেও... আআআআআআআ"
বলার আর সুযোগ দিলো কই, আবির নিজের মতোই মুখে এক চিন্তনীয় হাসি রেখেই চপারটা ধীরে ধীরে রায়হানের আঙুলের উপর দিকে একবার এপাশ তো একবার ওপাশে নিতে লাগলো।
প্রথম টানেই রায়হানের আঙুলের পাতলা চামড়া ছিড়ে ভসভসিয়ে রক্ত বের হতে শুরু করে। সরিয়ে নিতে চেয়েও পারে না সে, কারন আঙুলের ডগা গুলো আবির নিজের আরেক হাত দিয়ে চেপে ধরে নিয়েছে ইতোমধ্যেই। আর বাদ বাকি শরীরটা তো আগে থেকেই চেয়ারের সাথে শক্ত দড়ি দিয়ে বাঁধা।
রায়হানের চিৎকারে ভরে ওঠে সারাটা ঘর। কিন্তু আওয়াজ বের হয় না,বার বার প্রতিধ্বনি হয়ে তার কাছেই ফিরে আসে যেন। আবির আপন মনে নিজের মতো ধীর হস্তে চপার চালাচ্ছে। ঠিক যেমন গাছ কারাট জন্য করাত ব্যবহার করা হয়।
মাংশের লেয়ার সুচারুভাবে দু ভাগ হয়ে চপার এসে লাগে আঙুলের হাড়ে। রায়হান আর পারে না সহ্য করতে, অসহ যন্ত্রণায় নিজের অজান্তেই ইতোমধ্যে সে নিজের পড়নের প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলেছে গরম বর্জ্য তরলে। তবে সেই দিকে তার কোনো খেয়াল নেই।
আবির নিজের মতো চপার চালাতে চালাতে ফ্লোরে তরলের দিকে তাকাতেই ঠোঁট এলিয়ে হেঁসে বলে....
"কিরে? এই টুকুতেই ছেড়ে দিলি? তোর ওটার তো দেখছি ভিষণ তারা, অপেক্ষা কর.. ওটারও সময় আসছে। শা'লা... তোর এই শর্টটাইম পার্ফম্যান্স নিয়ে আমার এত হট বউয়ের শরীরে হোয়াইট সস ঢালার ইঙ্গিত দিস তুই? ছেহ...."
রায়হান পারে না এই সময় আবিরের এমন মজার কথায় তাল মেলাতে। হাঁপানি রোগীর মতো হয়ে ওঠে সে। এইবার আর প্রাণ ভিক্ষা চাইলো না যেন সে, চাইলো আরেকটু সহজ মৃ'ত্যু।। কন্ঠে টান খায় তার, তবুও বহু কষ্টে দাঁত মুখ চেপে বলতে চায়....
"স্ স্যার... এক কো'পে কেটে ফ্ ফেলুন স্যার... এভাবে আর না...হ....."
আবিরের মনে একটুও মায়া হলো না, এক কো'পে চাইলেই সে আঙুল গুলো শরীর থেকে আলাদা করতে পারে। কিন্তু তা না করে সে এইবার একটু গতি বাড়ালো চপার চালানোর। সরু একটা ক্ষত সৃষ্টি হচ্ছে চামড়া,মাংস হাড় ভেদ করে করে....
"আবিরের সম্পদের দিকে কেউ চোখ তুলে তাকাতেই তার চোখ উপড়ে ফেলি আমি, সেখানে তো তুই আমার বউটার পেটে হাত দিয়েছিস, বুকে চাপলি। এই টুকু তো প্রাপ্যই তোর তাই না? "
"আ্ আর পারছি না স্ স্যার... আ্ আর...."
সত্যিই আর সহ্য করতে পারলো না রায়হান। জ্ঞান হারিয়ে চেয়ারেই হেলান দিয়ে পড়ে সে। আবিরও সক্ষম হয় তার হাত থেকে চারটি আঙুল আলাদা করতে। কাটা শেষ হতেই আঙুল গুলো এক এক করে ফ্লোরে ছিটিয়ে পড়লো।
রায়হানের কোনো সারা না পেয়ে তার দিকে তাকাতেই বিরক্তে মুখ কুঁচকে এলো আবির।...
"যাহ শা'লা... হুশ হারালি? ঠিইইক আছে, জ্ঞান ফিরলেই আবার নতুন করে শুরু করবো আমরা হুম..."
বলতে বলতেই হাতের চপারটা ফেলে বেজমেন্ট থেকে বেরিয়ে আসে সে। বাইরেই রাতুল দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলে তার। আবিরকে বের হতে দেখেই তার দিকে মুখ করে তাকায় সে....
" রাসকেলটা মুতে দিয়েছে বা'ল.... একদম পরিষ্কার করবি না, ওকে ওগুলের মধ্যেই রাখবো। আর... নিচে চারটা আঙুল আছে। সেগুলো নিয়ে ফ্রিজিং এ রেখে দিবি। চোখের শান্তি আমার সেখানেই যে...."
জয়ের হাসি নিয়েই আজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলো আবির। পাশের সীটে নিবিড় বেশ মনোযোগ দিয়েই ল্যাপটপে ঘাটাঘাটি করতে করতে বললো....
"ভাই, জায়গাটা কেনা হয়ে গেছে। কাল থেকে বাকি কাজ শুরু হবে..."
"আমার কেবিন থেকে বরাবর দেখা যাবে তো?"
আবিরের প্রশ্নে নিবিড় ল্যাপটপ বন্ধ করে আপত্তি জানিয়ে বলে ওঠে...
"তুই একা দেখবি কেন? আমিও দেখবো৷ "
"দেখার ইচ্ছে হলে নিজের কেবিন চেঞ্জ কর, আমার কি..."
"তাই করবো। কিন্তু আমি ভাবছি অন্য কথা..."
"কিচ্ছু ভাবার দরকার নেই। বিয়ে বিয়ে করে করে তোর বউ, আমার বউ আহিশ জেসি সবগুলো পড়ালেখা কোমায় পাঠিয়েছে। এক মাসও বাকি নেই ওদের ইয়ার ফাইনালের। কাল থেকে.... না নাহ পরশু থেকে সব গুলোকে ভার্সিটি পাঠাতে হবে। "
" তাহলে এই দিকটা কবে?"
"ওদের এক্সামের পরে। "
"এত দেরি? তাহলে এইটার আগে আমরা হানিমুন প্ল্যান করি একটা?"
নিবিড়ের কৌতুহলে পানি ঢালতে আবির একাই যথেষ্ট, দারুন একটা চাঞ্চল্যকর হাসি দিয়ে বলে ওঠে....
"একদমই নাহ।। এক্সাম শেষ হওয়ার আগে কোনো হানিমুন হবে না। আর এমনিতে... আমার বউ আমাকে খাটেই জায়গা দেয়নি এখনো, হানিমুনে গিয়ে কি আঙুল চুসবো আমি?"
আবিরের শেষের কথাটা বেশ নিচু গলায়ই শোনা গেলো,,তবে নিবিড়ের প্রতিক্রিয়া ছিলো বেশ উত্তেজিত... চোখে মুখে তরতাজা হাসি নিয়ে বলে ওঠে....
"ছোট পাখি তোকে বিছানাতেই জায়গা দেয়নি? মারহাবা...যাক বাবা.. আমার বউ তাহলে ভালোই আছে, ছুইতে না দিলেও পাশে শুইতে দিয়াছে..."
আবির ড্রাইভ করতে করতে বাঁকা হেঁসে বললো..
"ওও তার মানে এখনো আমার মতোই অবস্থা? আমি তো ভেবেছিলাম তুই কালই একটা ছক্কা মেরে দিবি।"
নিবিড় মুখ গোমড়া করে বললো...
"তা আর দিলো কই। এটম সরাসরি আলটিমেটাম দিয়ে দিয়েছে ইয়ার...."
"তাও ভালো, আমার জন তো কান্নাকাটি করে সে কি অবস্থা। আল্লাহ জানে আমার ভবিষ্যতে কি হবে। "
"চল, আরেকটা চ্যালেন্জ নিই এবার... কে প্রথম লিগ্যাল ভাবে লাগাতে পারে... "
নিবিড়ের কথায় আবির ঘোর আপত্তি জানিয়ে উত্তর দিলো...
"আবে ওয়েটটট,সামলে বল ব্রো... প্রথম লিগ্যাল ভাবে মানে কি হ্যা? ইলিগ্যাল হোক বা লিগ্যাল আমার এটাই প্রথম। তুই হলে তা ভিন্ন ব্যপার..."