লাঞ্চ টাইমে টেবিলে বসে এদিক ওদিক চোখ ঘোরায় আবির। কাঙ্ক্ষিত মানুষটিকে দেখতেও পায় ড্রয়িং রুমের সোফায়। দোয়েল এগিয়ে এসে আবির নিবিড়ের প্লেটে ভাত তুলে দেওয়ার সময়ই নিবিড় আরচোখে চেয়ে থাকে তার দিকে। দু জনের চোখাচোখি হতেই নিবিড় হালকা চাপা স্বরে গম্ভীর ভাবে বলে ওঠে..
"আজকে অন্তত বারণ করেছিলাম এসব করতে। "
দোয়েল আশপাশে তাকিয়ে দেখে লজ্জা কাটানোর প্রয়াশ চালিয়ে বলে....
"এই টুকুই তো,,কোনো সমস্যা নেই। "
কিচেন থেকে তারা এগিয়ে এসে দোয়েলের হাত থেকে বাটিটা নিয়ে বলে....
"হয়েছে, এতক্ষণ নিবিড় ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা করে গেলে,এবার বসে যাও। আমি সার্ভ করে দিতে পারবো। "
তারার কথা কানে যেতেই নিবিড়ের মেজাজ যেন আরেকটু বেড়ে যায়।চোখ রাঙিয়ে দোয়েলকে বলে....
"এখনো লাঞ্চও করো নি তুমি? "
দোয়েল আমতা আমতা করে কিছু বলতে নেয়, তার আগেই তারা হেঁসে বলে...
"আপনার জন্যই তো অপেক্ষা করছিলো ভাইয়া, আমরা খেতে বলেছিলাম,বলে কিনা উনি আসলে খাবো..."
দোয়েল তো লজ্জায় লাল, নিবিড় পাশে চেয়ার টেনে বলে...
"বসো এখানটায়।"
"থাক না, আপনাদেরকে দিয়ে নিই, তারপর না হয়..."
"বসতে বলেছি এটম...."
দোয়েল আর কথা বাড়ায় না। বহু কালের এক প্রবল ইচ্ছে আজ বাস্তবে রূপ নিচ্ছে যেন তার। একটা বাড়ির লক্ষ্মী বউ হওয়ার ইচ্ছেটা যেন সব মেয়েরই থাকে। আজ হয়তো তারই সূচনাকাল দেখছে দোয়েল। মনের ভেতর সুখময় দোলা দেয় তার, নীরবে তারার হাতে বোলটা দিয়ে বসে পড়ে নিবিড়ের পাশে।
আবির ঘার কাত করে পেছনে চড়ুইয়ের দিকে ইশারা করে তারাকে জিজ্ঞেস করে...
"ও খেয়েছে? "
তারা সাবলীল ভাবে উত্তর দেয়...
"জ্বী ভাইয়া, ছোটপাখি খেয়ে নিয়েছে। "
আবির ফের এক পলক চড়ুইয়ের দিকে তাকিয়ে নিজের খাওয়ায় মনোযোগ দেয়। পুরো বিষয়টা চড়ুই বেশ ঠাওর করলো। আবিরের চাহনি, জিজ্ঞেস করার ধরন সবটাই। কিছুটা ভাবান্তর হয় সে.. আচ্ছা,আমি উনার জন্য অপেক্ষা করিনি বলে কি উনি মন খারাপ করেছে?......
খাওয়া শেষ হতেই আবির চেয়ার ছেড়ে উঠতে উঠতে চড়ুইকে উদ্দেশ্য করে বলে....
"টিভি অফ করে সোজা রুমে যাও, আমি আসছি।"
বলতে বলতেই আবির এগিয়ে গিয়ে বেসিন থেকে মুখ ধুয়ে পাশের কমন ওয়াশরুমটায় ঢুকলো। তা দেখেই চড়ুইয়ের মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি চাপলো। দ্রুত উঠে ছুটতে নিয়েই হুমড়ি খেয়ে পরতে নিলে জুলেখা ধরে ফেললো তাকে,...
"আরে আস্তে ছোট পাখি। পড়ে ব্যথা পাবি তো নাকি...."
চড়ুই কোনো মতে নিজেকে সামলে নেয়। বেসিন এর কাছে ছুটতে ছুটতে বলে....
"মহৎ কাজ করতে যাচ্ছি চাচি,,প্রে ফর মি...."
ওয়াশ রুমের সামনে এসেই খট করে বাইরে থেকে ছিটকিনিটা মেরে দিলো। তারপর নিজে নিজেই খুশিতে আত্মহারা হয়ে নেচে ওঠে মেয়েটা। ভেতর থেকে দরজা বারি দিচ্ছে, তা দেখেই চড়ুই গর্ভের সহীত বলে....
"কিগো মি. দানাবল.... আমাকে অর্ডার দেওয়া না? ছোটপাখিকে হুকুম করা এত সহজ নয় বুঝলেন। আমি তো রুমে যাচ্ছিই কিন্তু আপনি এখানেই আটকে থাকেন, গুড বায়য়য়য়...."
ভেতর থেকে বার বার দরজা বারি আসলেও চড়ুই সেথায় আর পাত্তা না দিয়ে সরে এলো সেই স্থান থেকে। মনের সুখে হেলেদুলে সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় নিচ থেকে দোয়েল ডেকে বললো....
"বোন, কালকের চারটা অর্ডার আছে। আমি রেডি করে রেখেছি, তুই ফ্রী থাকলে গিয়ে কালার আর্টটা করে দিস। "
চড়ুই আর রুমের দিকে এগোলো না। বাকি সব যা তা, নিজেদের কাজের প্রতি সে যথেষ্ট সময় নিষ্ঠা বান। তাই সব ছেড়ে এগিয়ে গেলো কাজ কমপ্লিট করতে। আপাতত দানাবলটার চিন্তা মাথা থেকে বাদ.....
----------
"আপনার ড্রয়ারে ওগুলো কি? "
রুমে ঢুকেই দোয়েল এমন একটা প্রশ্ন করলো যার মানে নিবিড় ঠিক বুঝে উঠতে পারলো না। তাই ফোনে চোখ রেখেই পাল্টা প্রশ্ন করলো....
"কোন গুলো?"
দোয়েল এগিয়ে যায়, বিছানার পাশের ড্রয়ারটা খুলে বলে...
"এই যে এগুলো... "
নিবিড় সেথায় স্বাভাবিক ভাবে তাকায়, কিন্তু এমন কিছু জিনিস দেখে সে ও থতমত খেয়ে যায়।হাত থেকে ফোন ফেলে দ্রুত উঠে ঠাস করে ড্রয়ারটা বন্ধ করে দেয়। আমতা আমতা করে বলতে থাকে....
"ইয়ে...মানে এ্ এগুলো তো এমনিই..."
"কি এগুলো? "
"ব্ বেলুন..... ঐ যে ছোট বেলায়...."
"আমায় বোকা পেয়েছেন আপনি? "
দোয়েল বেশ জম্পেস ভাবেই দু হাত ভাজ করে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নিবিড়ের দিকে। বেচারা বউ ভয় পায়। আউলিয়ে যাচ্ছে যেন বার বার.....
"মিস এটম... আসলে এগুলো এ্ এনেছিলাম ঐ আর কি.... "
"এত তাড়া আপনার? "
প্রশ্নটা কানে আসতেই নিবিড় বাধ্য ছেলের মতো দু পাশে মাথা নেড়ে বলে...
"না নাহ, একদমই নাহ।। আ্ আমি তো তোমার অনুমতি ছাড়া ছুবোও না তোমায়, আ্ আর সামনেই তো তোমার এক্সাম, এর আগে তো ভুলেও কিচ্ছু হবে না.... "
দোয়েল বেশ রয়েসয়ে ভ্রু উঁচিয়ে বলে....
"এক্সামের আগে কিচ্ছু না? "
"একদমই নাহ, তোমার সব কিছু আগে সামলে তারপরই ঐ সব। বিয়ে করেছি সারাক্ষণ তোমায় দেখছি আমার এতেই অনেক। "
দোয়েল বলে...
"ঠিক আছে, তবে.... কথার মান থাকবে তো? "
"হ্যা হ্যা, আই ক্যান কন্ট্রোল মাই সেল্ফ। শুধু মাঝে মধ্যে ঐ একটা দুটো কিস দিলেই.... "
"তা না হয় দেখেই নেবো, কতটা কন্ট্রোল করতে পাটেন আপনি নিজেকে। "
বলতে বলতেই ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ে দোয়েল। নিবিড় যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে। মেয়েটাকে আজ কাল এত ভয় পাচ্ছে কেন সেই জানে। সবার সামনে ঠিকঠাক, কিন্তু আলাদা ঘরে আসলেই যেন রূপ বদলে যাচ্ছে। এভাবে চললে তো হবে না...
বেশ অনেকক্ষণ চিন্তা করার পরও নিবিড় এই বিশাল সমস্যাটার কোনো সমাধান খুঁজে পেলো তাই। তাই অবশেষে ফোন হাতে নিয়ে গুগলে সার্চ দিলো...." বউকে ভয় না পাওয়ার উপায়"
-----------
বিকেল প্রায় সাড়ে পাচটা বাজে। চড়ুই নিজের হাতের কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছে। তখনই দরজার সামনে এসে হাজির জুলেখা এসে জিজ্ঞেস করে.....
"তোর মেঝো চাচুকে কোথাও দেখেছিস ছোটপাখি?"
চড়ুই ভ্রু কুঁচকে বললো...
"না তোহ,,কি হয়েছে চাচি?"
"আরেহ দেখ না,দুপুরে লাঞ্চ করে রুমেই ছিলো। পরে আমি গিয়ে দেখি রুমে নেই। ভাবলাম বাইরে কোথাও গেছে চলে আসবে। এতক্ষণ হয়ে গেলো, এখনো আসেনি। কল করে দেখি ফোনটাও ঘরেই রেখে গেছে। ভাইয়াদের ও জিজ্ঞেস করলাম, তারাও কেউ দেখেনি। চিন্তা হয় না এমন, বল আম্মু..... "
চড়ুই চিন্তিত হয়ে উঠে এগিয়ে আসে জুলেখার সাথে বাইরে। ড্রয়িং রুমে এসে দেখে মোটামুটি সকলেই আসমত চৌধুরীকে নিয়েই চিন্তাগ্রস্ত। এমন তো কখনো হয় না,, বেশিরভাগ সময়ই তারা তিন ভাই একত্রে থাকে, আর বাইরে কোথাও গেলেও বলে যায়।আজ এমন হওয়ার কারন কি....
আজমল চৌধুরী একের পর এক নিজের পরিচিত আশপাশের লোকজনদের ফোন করে খবর নিচ্ছে তারা আসমতকে কোথাও দেখেছে কিনা এর মধ্যে। তবে তেমন কেউই ভালো খবর দিতে পারছে না।
জিসান বাড়িতে নেই, আহিশও বেরিয়েছে কোথাও। নিবিড়ও চাচার খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছে ফোনে। সকলের চিন্তার মাঝেই ঘুম ঘুম চোখে সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসতে আসতে আবির জিজ্ঞেস করে....
"কি হয়েছে? সবাইকে এত টেনসড দেখাচ্ছে কেন? "
আবিরের কন্ঠ পেয়েই চড়ুই চমকে তাকায় পেছনে তার দিকে। এই লোক তো ওয়াশরুমে থাকার কথা, এখানে কি করে...
"তোর মেঝো চাচা কোথায় যে গেলো, বলেও যায় নি,ফোনও রেখে গেছে। "
সাবিহার কথার প্রসঙ্গে আবির কিছু বলতে নেবে তার আগেই চড়ুই অবাক হয়ে তাকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠে....
"আপনাকে কে দরজা খুলে দিলো? ওয়াশ রুম থেকে বের হলেন কি করে আপনি?"
চড়ুইয়ের কথায় আবির ভ্রু কুঁচকায়, কি আজব বকে যাচ্ছে এই মেয়ে....
"দরজা খুলে দেবে মানে কি, আর কিসের ওয়াশরুম। আমি তো রুমে ছিলাম, ঘুমিয়েছি। আসতে বললাম আসো নি কেন? "
চড়ুইয়ের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো যেন। এই লোকটা ঘুমিয়েছে এতক্ষণ, তাহলে ওয়াশরুমে কাকে আটকালো সে?
কিছু একটা চিন্তা করতেই চড়ুইয়ের মুখপর রং বদলে যায়। দ্রুত ছুটে গিয়ে ওয়াশরুমের দরহা খুলে দিতেই সে যেন সপ্তম আসমান থেকে পড়লো।
ওয়াশ রুম থেকে বেরিয়ে আসে আসমত চৌধুরী। তাকে সেখান থেকে আসতে দেখেই রীতিমতো সকলেই অবাক। আজমল চৌধুরী তো বেশ খানেকটা রাগ নিয়ে বলেই বসলো...
"তোকে সবাই এতক্ষণ ধরে খুঁজছে আসমত। আর তুই ওয়াশরুম গিয়ে বসে আছিস? "
আসমতও প্রতিত্তোরে বলে ওঠে....
"আমি কি আর সাধে বসেছিলাম তিন ঘন্টা ধরে সেখানে? তোমার পাজি মেয়েটা কোথায়.... "
বলতে বলতে এদিক ওদিক চোখ ঘুরিয়ে খুঁজতে গিয়ে চড়ুইকে পেয়েও গেলো তিনি। চড়ুই তো এতক্ষণে ভয়ে গুটিয়ে সাবিহার পেছনে লুকিয়েছে। আসমত তার দিকে তাকিয়ে ডেকে ওঠে....
"কি হলো,,এখন ভাবির পেছনে লুকিয়ে কি লাভ, আয় সামনে আয়.... "
সকলের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় চড়ুইয়ের দিকে। বুঝতে আর দেরি হয় না কারোরই, যে এটা চড়ুইয়েরই কাজ। দোয়েলও বেশ চোখ রাঙিয়ে বলে....
"বোন? তুই এসব.... "
আজমল চৌধুরীও গম্ভীর কন্ঠে ডেকে ওঠে....
"ছোটপাখি,, এদিকে আয়... "
চড়ুই কাঁদো কাঁদো মুখ নিয়ে বেরিয়ে আসে সাবিহার পেছন থেকে। চোখ তুলে এক বার সবার দিকে তাকিয়ে আবার দৃষ্টি নামিয়ে নেয়..
"তুই আসমতকে বাইরে থেকে আটকে দিয়েছিলি? "
চড়ুই উপর-নীচ মাথা ঝাকায়। অস্বীকার করার মতো মেয়ে সে নয়।
"কেন করেছিস এমন টা? "
চড়ুই আর সামলে রাখতে পারে না নিজেকে। ঠোঁট উল্টে কেঁদেই ফেলে মেয়েটা ভয়ে। নাক টেনে বলে....
"আমি কি জানতাম নাকি ভেতরে চাচু ছিলো, আমি তো ভেবেছিলাম দানাবলটা..."
চোখ গোলগোল করে আবির চমকে তাকায় চড়ুইয়ের দিকে। মেয়েটা এত্তো পাঁজি....
"তুমি আমাকে ওয়াশরুমে আঁটকে রাখতে চেয়েছো?"
"তো আর কি করবো? আপনি আমার সাথে ত্যাড়ামি করেছেনে কেন? "
চড়ুইয়ের কথায় আজমল চৌধুরী প্রশ্ন করে....
"কি করেছে আবির? "
চড়ুই নাক টেনে নিচের দিকে মুখ করে বাচ্চাদের মতো ঠোঁট ফুলিয়ে বলে ওঠে...
"ও্ ওসব লজ্জা, সবাইকে বলা যাবে না..."
আবিরের মাথায় হাত, বাকি সবাই তো ফিক করে হেসেই দিলো এইবার। আজমল চৌধুরী না পারছে হাসতে না পারছে কাঁদতে। ভ্যাবলার মতো চেহারা করে সাবিহার দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকায়, সাবিহাও মুখ টিপে হেঁসে চোখের ইশারায় কিছু একটা বোঝায় তাকে।
চড়ুই এতক্ষণে কান্নার বাদ ভেঙেছে। শব্দ করে কাঁদতে কাঁদতে আবিরকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলো....
"আপনার জন্য সবটা হয়েছে। আপনি সব সময় আমাকে বিপদে ফেলে দেন। আপনার জন্য সবাই এখন আমার উপর রেগে গেছে, আব্বু মারবে আমায়.. আপনি একটা গন্ডার.. সব সময় সমস্যা করেন খালি.."
আবির ক্যাবলার মতো বলে ওঠে...
"আমি কি করলাম এতে....!!"
"কি করলেন জানেন না?, আর দুটো মিনিট ওয়াশরুমে বসে থাকলে কি হতো হ্যা? আমি গিয়ে আপনাকেই আটকাতাম বাইরে থেকে,, তাহলেই তো আর চাচু ভেতরে আঁটকে থাকতো না। সবাই এভাবে বকাও দিতো না আমাকে। "
আবির হতাশায় হাত দিয়ে চোখ মুখ ঢেকে দীর্ঘ এক নিশ্বাস ফেলে...
"আল্লাহ,এ কোন মুসিবত এনে দিলে কপালে?"
কথাটা কানে যেতেই চড়ুইয়ের কান্না আরো বাড়তে থাকে..
"এএ,,আমায় এখন মুসিবত বলছে। আমি থাকবো না আর এখানে, ডিভোর্সটা হতে দিন শুধু, চলে যাবো আমি... "
আবির আর পারে না সহ্য করতে। এই মেয়ের মাথা পুরো গেছে, কি বকছে নিজেই হয়তো জানে না।ধমকে কোনো লাভ হবে না তা বেশ জানে আবির। তাই নিজেকে শান্ত করে এগিয়ে গিয়ে এক হাতে জড়িধরে চড়ুইকে। অপর হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে তার চোখ মুছিয়ে দিতে দিতে বলে...
"ওহ সোনা, জান আমার কান্না করে না প্লিজ।।আ'ম সরি... আমার ভুল হয়েছে ক্ষমা করে দাও প্লিজ... তুমি কেদো না পাখি, আমার বউকে কেউ বকবে না। এই আমি বলে দিচ্ছি সবাইকে। কান্না থামাও? "
মুখ এগিয়ে নিয়ে চড়ুইয়ের নরম দুটো গালে দুটো চুমু খেয়ে বসে আবির। চড়ুই সরতে নিয়ে মুখ কুঁচকে বলে ওঠে...
"এই ছিহ!!"
আবির কি আর পাত্তা দেয় তাকে। হাবিজাবি বলে আবারও চুমু খেতে গেলে নিবিড় বলে ওঠে...
"ভাই, হোয়াট আর ইউ ডুয়িং? আব্বু চাচ্চু সবাই আছে এখানে..."
আবির সাথে সাথেই প্রতিত্তোরে বলে ওঠে....
"সো ওয়াট? আমি আমার বিয়ে করা বউকে চুমু খাচ্ছি, পরনারীকে তো নাহ,,আর লজ্জার কি আছে হ্যা? আব্বু চাচ্চুরা কি এসব জানে না নাকি? তুই আমি কি এমনি এমনি দুনিয়ায় চলে এসেছি? কি চাচ্চু, আমি কি ভুল কিছু বললাম?"
আসমতের কাশি উঠে যায়। আজমল চৌধুরী সাবিহার দিকে তাকিয়ে বলে...
"তোমার ছেলে যে এত ইতর হয়েছে বলো নি তো... "
আবির সতর্কতার সহীত বলে ওঠে...
" এইই সামলে আব্বু, ইতর বললে কিন্তু বউ ছেড়ে অন্য মেয়ের কাছে যাবো। আমার সমস্যা নেই এতে, তোমাদোর মেয়েরই কপাল পুড়বে তখন। "
আজমল চৌধুরী হাল ছেড়ে দিয়ে বললেন....
"না না বাপ, তুই নিজের বউয়ের কাছেই থাক। যখন যেখানে যা ইচ্ছে কর, তবুও অন্য মেয়ের কাছে যাইস না। "
আবির চমৎকার হেঁসে চড়ুইয়ের গলা জড়িয়ে ধরে নরম তুলতুলপ গালে টুপ করে আরেকটা চুমু খেয়ে বলে...
"থ্যাংকিউ আব্বু, টেনশন নিও না, এত কিউট একটা বউ থাকতে আমি আবির বিন চৌধুরী পরনারীর দিকে চোখ তুলেও তাকাবো না। তুমিও চাইলে আম্মুর সাথে রোমান্স করতে পারো সবার সামনে। আমরা কিচ্ছু মনে করবো না... "