পুরো রুমটার আনাচে কানাচে খুঁজেও মিউজিক সিস্টেমের টিকিটিও খুঁজে পেলোনা নিবিড় আর দোয়েল। গান বেজেই চলেছে উচ্চ শব্দে. কিন্তু কোথায়?
দরজায় কড়াঘাতের শব্দ শুনে নিবিড় গিয়ে খুলে দিলো দরজাটা। সাথে সাথেই সামনে আবিরের দেখা মিললো। নিবির তাকে দেখে প্রশ্ন করে...
"কিরে, তুই এখানে কেন?"
আবির এক পলক দোয়েলের দিকে তাকিয়ে ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বলে...
"ঘরে বউ না থাকলে বাসর করবো কার সাথে... "
বলতে বলতেই এগিয়ে এসে খাটের নিচে, আলমারির চিপায় খোঁজা খুঁজি করতে লাগলো আবির। নিবিড়ও হাত লাগিয়ে বললো....
"এসেছিস যখন এই গানটা বন্ধ করার ব্যবস্থা কর একটু। শয়তান গুলা আর কি কি করে রেখেছে কে জানে.... "
নিবিড়ের কথায় পাত্তা না দিয়ে আবির বললো....
"তোর সমস্যা তুই সমাধান কর, আমার বউ পেলেই আমি চলে যাবো।"
খোঁজাখুজি করতে করতে এগিয়ে গিয়ে রুমটার জানালা খুলে বাইরে মাথা বের করে খুঁজতেই দেখতে পেলো জানালার পাশে চিপকে দাঁড়িয়ে আছে জেসি, তার হাতেই বড়সড় সাইজের একটা মিউজিক সিস্টেম। আবিরকে দেখেই একটা ক্যাবলা হাসি দিলো জেসি। আবির সরে দাঁড়িয়ে বললো.....
"ভেতরে আয়.... "
জানালা দিয়ে জেসিকে ঢুকতে দেখেই হা হয়ে রইলো নিবিড়। চমকে বলে ওঠে....
"তুই এখানে কি করে? দোতলা থেকে পড়লে তো নিশ্চিত অক্কা..."
জেসি হাসতে হাসতে বলে....
"তোমাদের রোমাঞ্চ দেখতে ঐ আর কি...."
তারপর আবির আবার এদিক ওদিক খোঁজাখুজি করে বারান্দার উপর রেলিং ধরে ঝুলে থাকা হৃদকেও নামালো। তবুও তার মন ভরেনি। ওদিকে জেসির হাতের মিউজিক সিস্টেমে এখনো গান বেজেই চলেছে। নিবিড় বিরক্ত হয়ে বললো....
"এবার এটা বন্ধ করনা?"
জেসি হেসে উত্তর দেয়......
"এটার কন্ট্রোল ছোটপাখির কাছে। এমনি এমনি বন্ধ হবে না এটা..."
আবির প্রশ্ন করে....
"তো সে কোথায়? "
জেসি উত্তর দেয় না। আবির থামার পাত্র নয়, জেসিকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করতেই বাঁকা হাসে সে। এগিয়ে গিয়ে রুমের এক কোনে থাকা ওয়াশিং মেশিনের দরজাটা টেনে খুলতেই হা হয়ে যায় নিবিড় আর দোয়েলও।
ওয়াশিং মেশিনের ভিতরে একদম গুটিয়ে বসে আছে চড়ুই। তার এই অবস্থা দেখে দোয়েল এবার শরীর কাপিয়ে হেসে দিলো....
আবির নিজস্ব ভঙ্গিমায় চড়ুইয়ের হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে অদ্ভুত গানটা বন্ধ করলো সর্ব প্রথম। মেয়েটা কেমন পিটপিটিয়ে তাকিয়ে আছে আবিরের দিকেই।ওদিকে আহিশ ও এতক্ষণে রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা।
"আজ যে তোমারও ফুলশয্যা সেটা কি ভুলে গেলে? বোনের ফুলসজ্জার ঘরে এভাবে লুকিয়ে দেখার চেয়ে নিজেই প্র্যাক্টিক্যালি করে নেওয়া বেটার না? "
চড়ুইরা ধরা পরে গেছে,আর তা হয়েছে এই দানাবলটার জন্য। তার উপর এখন এসে কি সব বলে যাচ্ছে। মুক ঝুলিয়ে আবিরের দিকে তাকিয়ে চড়ুই গমগমে কন্ঠে বলে....
"আপনার জন্য ধরা পড়ে গেলাম, পঁচা লোক কোথাকার। "
"বেরিয়ে আসো..."
"আসবো না, আমি এখানেই থাকবো।"
চড়ুইয়ের জেদের সাথে বেশ পরিচিত আবির। তাই আর কথা না বাড়িয়ে দু হাতে টেনে ওয়াশিংমেশিন থেকে বের করে মেয়েটাকে পাজা কোলে তুলে নিলো সে। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে প্রথমেই ধমকে আহিশ,জেসি, হৃদকে বের করলো রুম থেকে। নিজেও বাইরের দিকে হাঁটা ধরে নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেঁসে বললো....
" ফার্স্ট টাইম লিগাল ভাবে করতে যাচ্ছিস, তাই বেস্ট অফ লাক ব্রো..."
নিবিড়ও বললো...
"ইউ ঠু..."
আবির বেরিয়ে যেতেই নিবিড় এগিয়ে গিয়ে দরজায় খিল দিয়ে ফিরে আসতে আসতে হতাশার সুরে বলে ওঠে....
"বাবাহ, একটা মারাত্মক যুদ্ধ গেলো যেন... "
বলতে বলতেই দোয়েলের দিকে তাকাতেই থতমত খেয়ে যায় সে। মেয়েটা কেমন পিটপিটিয়ে তাকিয়ে আছে নিবিড়ের দিকেই। আবার কি হলো...
"ত্ তুমি এভাবে তাকাচ্ছো কেন এটম?"
"আবির ভাইয়া ওটা কি বলে গেলো?"
" কোনটা?"
"ফার্স্ট টাইম লিগালি... তার মানে কি হুম? এর আগে তাহলে ইলিগালি ও করা হয়েছে? "
সাথে সাথেই দু দিকে মাথা নাড়িয়ে এগিয়ে আসে নিবিড়.....
"আসতাগফুরিল্লা, নাউজুবিল্লাহ বউ.. এসব কি বলো, ছি ছিহ।। আঠাশ বছরের জীবনে এই প্রথম বার এটা আমার, তুমিই আমার প্রথম নারী বিশ্বাস করো?"
দোয়েল চোখ ছোটো ছোটো করে নীরবে তাকিয়ে থাকে নিবিড়ের দিকে। তা দেখে নিবিড় করুন মুখ করে এগিয়ে আসে দোয়েলের কাছে....
"trust me bou, I only love you... "
বলতে বলতেই দু হাত বাড়িয়ে দোয়েলকে জড়িয়ে ধরতে গেলেই দোয়েল পাশ কাটিয়ে সরে গিয়ে টাওয়াল হাতে নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বললো....
"আমার সময় প্রয়োজন, ইচ্ছে থাকলে আজ সারারাত ধরে বারান্দায় বসে গল্প করবো দুজন মিলে।আর ইচ্ছে না থাকলে ঘুমাবো..."
"আমি রাজি, এতেই চলবে আমার..."
-----------
হাত পা ছোড়াছুড়ি করেও লাভ হচ্ছে না চড়ুইয়ের। আবিরের শক্তির কাছে সে যেন ছোট্ট ইঁদুর ছানা। কত সাবলীল ভাবে চড়ুইকে কোলে নিয়ে নিজ রুমে পৌঁছালো সে। চড়ুই পাখির বকবকানি থামার নয়, সেই থেকে চেঁচিয়ে যাচ্ছে...
"ছাড়ুন আমায়,আমি থাকবো না আপনার ঘরে। বোনের সাথে ঘুমাবো আমি...."
"মাথা খারাপ নাকি মেয়ে তোমার?"
চড়ুই উপায় অন্তর না পেয়ে আবিরের৷ শক্ত বুকে খামচি বসায় নখ দিয়ে, কিন্তু অবাক করা বিষয় আবিরের মুখে একটুও ব্যথার ছাপ পরিলক্ষিত হয় না।।গন্ডারের চামড়া নাকি এর?
"শাড়ি পড়েছো যে? আমি কি ধরে নিবো যে তুমিও রাজি?"
"কিসের জন্য?"
চড়ুইকে বিছানার এক কোনে বসিয়ে দিয়ে আবির দরজায় খিল দিতে দিতে বললো....
"এই যে, এখন যা হবে..."
চড়ুই ঢোক গিলে তাকায় আবিরের দিকে। লোকটা কি সত্যি সত্যিই এখন তাকে জোর করবে নাকি?
"দ্ দেখুন, আপনি আমার সাথে কিচ্ছু করবেন না,ভালোয় ভালোয় ডিভোর্সটা দিয়ে দিবেন, আমিও যাবো গা..."
"ডিভোর্স তো পরে ভাববো,আগে একটু টেস্ট করে দেখি তোমায়, টেস্ট ভালো না লাগলে তখন না হয় ডিভোর্স নিয়ে ভাববো...."
আবিরের এগিয়ে আসা দেখে গুটিয়ে যায় চড়ুই। চঞ্চল মেয়েটা আজ বদ্ধ ঘরে সত্যিই ভয় পাচ্ছে। আবিরের প্রতিটি কাজ, প্রতিটি নজরে যেন ভয়ের রেশ বেড়েই চলেছে তার।
শরীরে থাকা টিশার্টটা এক টানে খুলে দূরে রাখে আবির। ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে নিজের পছন্দ সই পারফিউম তুলে নিয়ে পুরুষালি ভঙ্গিতে শরীরে স্প্রে করে ঘাড় ফিরিয়ে তাকায় গুটিয়ে বসে থাকা চড়ুইয়ের দিকে।
খয়েরী রঙের শাড়িটি যেন তার ছোট্ট দেহে সেটে রয়েছে। স্নিগ্ধতার চূড়ায় এই মেয়েটিকে সব সময়ই রাখে আবির। মনের এক কোনো জায়গা দিয়েছে সেই কবেই, আজ নিজের ঘরেও তার অধিপত্য বিরাজ চলছে, কি শান্তি, কি শান্তি। ঠিক কতটা পূন্যের ফল হিসেবে আবিরের নিজস্ব ঘরে আজ এই ছোট্ট গড়নের নারীটি তার বউ হয়ে বসে আছে তা আবিরই জানে।
আজ থেকে এই আবিরের রাজত্ব সম্পূর্ণই এলোমেলো পাখিটির, সেই আবিরের যে কিনা গোটা পৃথিবীর মানুষের কাছে এক ভয়ের শব্দ, যাকে সামনে দেখলে পরিপাটি লোকটিও কাঁপতে থাকে নিরলায়, আজ সেই আবির বিন চৌধুরী তার সমস্ত সত্তার দায়িত্ব তুলে দিলো এই এক অবুজ বালিকার হাতে, বোকা মেয়েটা আবিরকে সামলাতে পারলেই সই....
ভাবতে ভাবতেই ঠোঁটের কোনে এক প্রশান্তির হাসি খেলে যায় আবিরের। চোরা চোখে চড়ুই তা দেখে সন্দিহান হয়ে প্রশ্ন করে ওঠে....
"এই আপনি হাসছেন কেন?"
আবির বা হাত উঁচিয়ে চুল ঠিক করতে করতে আয়নায় তাকিয়েই উত্তর দেয়....
"খুশিতে.."
"কিসের খুশি?"
"তোমাকে খাবো, সেই খুশিতে। "
চড়ুইয়ের মুখটা গোমড়া, মেয়েটা বেশ ভয়েই আছে আবিরের এমন কাজ কারবার দেখে। মনের ভেতর উঁকি দিতে থাকা প্রশ্নটা এবার করেই ফেললো সে.....
"আ্ আপনি কি এই সব করার জন্যই আমাকে বিয়ে করেছেন?"
আবির সাবলীল ভাবে উত্তর দেয়...
"হ্যা,,আর নয়তো কি..."
বলতে বলতেই এগিয়ে এসে দাড়ায় চড়ুইয়ের সামনে বরাবর।ঠোঁটের কোনে বাঁকা হাসি রেখে মুখটা এগিয়ে নিতে নিতে লো ভয়েজে জিজ্ঞেস করে.....
"লাইটটা কি অফ করবো সোনা? নাকি আলোর মাঝেই... "
"দ্ দূরে সরুন..."
আবির শোনে না তার কথা। নিজের পেশি বহুল বাম হাতটা চড়ুইয়ের গালে ছোয়াতেই আবেশে চোখ বুজে নেয় চড়ুই। দু হাত দিয়ে বিছানার চাদরটা খামছে ধরে সে। লোকটা কি করছে এসব..
"I know, I'm so much desperate, তবে আমার লক্ষীটাকে আজ খুব বেশি কষ্ট দেবো না প্রমিস,,একটু সহ্য করে নিও আমায় প্লিজ সোনা..."
আবির ঘোরের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে যেন। চড়ুইয়ের কপালে কপাল ঠেকিয়ে ঘন শ্বাস ফেলছে সে। ডান হাতটা চড়ুইয়ের কোমড়ে ছোয়াতেই মেয়েটা মুছড়ে ওঠে। পেছাতে চেয়েও পারে না সে। বিছানার বোর্ডের সাথে পিঠ ঠেকে যায়। আবিরের হাতের বিচরন দৃঢ় হয় সময়ের সাথে সাথে। শাড়ি ভেদ করে শীতল হাত খানা চড়ুইয়ের নরম পেট ছুয়ে দেয় নিমেষেই। চড়ুই অবিরাম কাঁপছে, ভয়ের চোটে মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না তার। আবির তার গালে থাকা হাতটা মাথার পেছনে নিয়ে চড়ুইয়ের তিরতির করে কাঁপতে থাকা ঠোঁটের দিকে এগিয়ে যেতে নিলেই চড়ুই খপ করে আবিরের ঠোঁট চেপে ধরে নিজের হাত দিয়ে।
আবিরের কাজে বাঁধা দেওয়ার দরুন কিঞ্চিৎ রাগে আবির চড়ুইয়ের পেট খামছে ধরে.. সাথে সাথেই চড়ুই চোখ খিঁচে বন্ধ করে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে ওঠে.....
"প্লিজ আমায় ছেড়ে দিন,প্ পিরিয়ড চলছে.. ম'রে যাবো আমি...."
আবিরের হাত হালকা হয়ে যায়।ভ্রু জোড়া চরম পর্যায়ে কুঁচকে ওঠে তার। কন্ঠের রেশ বাড়িয়ে কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে....
"পিরিয়ড হয়েছে মানে.? কবে থেকে?"
চড়ুই একটু গুটিয়ে বসে ভয়ে ভয়ে বলে...
"এ্ একটু আগেই....."
বিরক্তিতে মুখ কুঁচকে নেয় আবির।হিতাহিত ধ্যান হারিয়ে বিছানার বোর্ডে হাতের থাবা মেরে বলে ওঠে....
"শিটট,,আজই হতে হলো এটা?... পুরো মুডটাই নষ্ট করে দিলো... "
চড়ুইয়ের থেকে সরে এসে দ্রুত কদমে রুমের এপাশ থেকে ওপাশ পায়চারি করে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে সে। মাথার চুল খামছে ধরে উপরে তাকিয়ে ঠোঁট গোল করে নিশ্বাস ফেলে চোখ নামিয়ে চড়ুইয়ের দিকে তাকাতেই বিচলিত হয় সে। মেয়েটা মাথা নিচু করে নীরবে কাঁদছে, আবির চমকায়।তড়িৎ-গতিতে চড়ুইয়ের কাছে এগিয়ে গিয়ে কন্ঠ নরম করে বলে....
"এই, কি হলো চড়াই? কাঁদছো কেন তুমি?"
চড়ুই কেঁদেই যায় নীরবে।থেকে থেকে নাক টানার শব্দ ভেসে আসে শুধু, আবির বুঝে পায় না তার এমন কান্নার কারন কি। এগিয়ে গিয়ে আলতো হাতে চড়ুইয়ের গাল স্পর্শ করতে গেলেই চড়ুই ছিটকে সরিয়ে দেয় হাতটি....
"সরুন আপনি... ছুবেন না আমায় একদম..."
আবির তাকে শান্ত করে বলে...
"আরে কি হয়েছে সেটা বলবে তো?, কাঁদছো কেন তুমি?"
"আ্ আপনি আমায় এটার জন্যই বিয়ে করেছেন তাই না? শুধু এই সব করার জন্যই..."
"আরেহ কি সব বলছো তুমি হ্যা? এটার জন্য বিয়ে করেছি মানে? কি বাজে ভাবছো তুমি..."
"তা নয় তো কি?,, তাই যদি না হতো তাহলে এখন ওসব করতে পারবেন না শুনে এত রেগে গেলেন কেন?"
"আরে বাবাহ রাগ করিনি তো..."
" তো আমায় বকলেন কেন, আমার কি দ্ দোষ... আ্ আমি কি ইচ্ছে করে প্ পিরিয়ড এনেছি ন্ নাকি আজকে... "
কাঁদতে কাঁদতে নাজেহাল অবস্থা করে ফেলছে মেয়েটা। হিচকি তুলতে গিয়ে ঠিক মতো কথাও বলতে পারছে না যেন। আবির ক্লান্ত ভঙ্গিতে করুন চোখে তাকায় চড়ুইয়ের দিকে। কি বাজে চিন্তা করে মেয়েটা নিজে নিজেই কেদে ভাসিয়ে দিচ্ছে,, কান্না কি করে থামায় এখন...
"আমি তোমায় বকি নি তো পাখি, শোনো আমার কথা, কান্না থামাও একটু। প্লিজ... আমি ওসবের জন্য বিয়ে করিনি তো তোমায়..."
"মিথ্যা বলছেন কেন হ্যা? আপনার তো ওসবই পছন্দ। কাল ই্ ইরিন আপু আপনাকে জড়িয়ে ধরে কি সব করছিলো তখন তো ভালোই লাগছিলো আপনার কাছে। আ্ আমি ওসব পারি না, আমাকে কেন বিয়ে করেছেন আপনি?"
"তোমাকে ওসব পারতে হবে না জান আমার। একটু কান্না থামাও, আমি সত্যি বলছি বিশ্বাস করো। আচ্ছা, আমি তোমার সাথে কিচ্ছু করবো না সত্যি বলছি, আর কাছে যাচ্ছি না দেখো, প্লিজ কান্না করে না বাচ্চা আমার...তুমি না লক্ষ্মী মেয়ে চড়াই? প্লিজ....."
"আ্ আপনি বেরিয়ে যান রুম থেকে, আমি ঘুমাবো..."
"মানেহ!! আমার রুম থেকে আমি বেরিয়ে যাবো কেন আজব..."
"আপনার উপর আমার বিশ্বাস নেই, আমি ঘুমিয়ে গেলে আপনি আবার ওসব করতে চাইবেন আমার সাথে..."
"আরেহ নাহ রে বাচ্চা... আমি কিচ্ছু করবো না ট্রাস্ট মি... তুমি কান্না থামাও, ঘুমাবে তো? ঘুমাও আমি কিচ্ছু করবো না..."
চড়ুই বাচ্চাদের মতো করে বা হাতের তালু দিয়ে চোখ মুছে ডিভানের দিকে আঙুল তাক করে দেখিয়ে বলে....
"তাহলে আপনি ওখানে ঘুমান..."
আবির পেছন ফিরে তাকিয়ে আবার ঘুরে বলে...
"ওখানে কেন? বিছানায় তো অনেক জায়গা..."
" আমি মোটেও আপনার সাথে ঘুমাবো না, আপনার ভরসা নেই.... "
আবির আর পারে না,,মহা মুশকিলেই পড়লো যেন বিয়ে করে। মেয়েটাকে যে এখন ধমকে জোড় করে বোঝাবে তারও উপায় নেই, কিছু করলেই কান্না জুড়ে দেবে, আর সেই কান্নাই আবিরের দূর্বলত।। শেষ একটা চেষ্টা করে করুন মুখ করে বললো....
"প্লিজ পাখি বিছানায় জায়গা দাও, দেখো ডিভানটা কতো ছোট। আমার তো ঠিক করে অধেক শরীরের জায়গাও হবে না ওটায়। আমি কি তোমার মতো এইটুকুনি বলো?"
আবিরের কথায় চড়ুই ঠোঁট উল্টে প্রতিবাদী স্বরে বলে ওঠে...
" তো আপনি কি চান, আমি ওখানে ঘুমাই? তারপর মাঝ রাতে পড়ে গিয়ে হাড্ডি ভেঙে ফেলি?"
"তো আমি ঘুমানে কি আমি পড়ে যাবো না ওখান থেকে?"
" তো পড়লে কি হবে? আপনি তো হাতি সাইজের, পড়লেও ব্যথা পাবেন নাকি আপনি। আমি তো পাবো। আপনি কি চাইছেন আমি কষ্ট পাই?"
" না নাহ, একদমই তা চাইছি না পাখি। তুমিও সেখানে ঘুমানোর প্রয়োজন নেই তো, আমরা বিছানাতেই দূরত্ব রেখে...."
"আপনি ডিভানে ঘুমাবেন নাকি আমি আম্মুর কাছে বিচার দিতে যাবো?"
বেচারা আবির,,বিয়ে করে ফেঁসে গেলো এই ভাবে? শেষমেশ নিজের রুমে, নিজের বিশালাকৃতির বিছানাতেই তার আর জায়গা হলো না।ছোট্ট ডিভানে গিয়ে মাথার নিচে বালিশ দিয়ে শরীর এলিয়ে দিতেই দেখলো তার পা দুটো হাঁটুর উপর থেকেই ডিভানের বাইরে শূন্যে ভাসছে। চড়ুইয়ের দিকে তাকাতেই চড়ুই ধমকে ওঠে...
"একদম আমার দিকে তাকাবেন না,,ও পাশ ফিরে ঘুমান... ফিরে যান ওদিকে..."
আবিরের আর কি করার,মুখ ফিরিয়েই চোখ বুজলো সে। মনে মনে হাহাকারে ভরে ওঠে সে...
"কি করলি রে আবির, শখের নারীকে বিয়ে করার জন্য এত কষ্ট, এত ঝড় ঝাপটা পেরিয়ে এসে আজ প্রথম দিনই তোর বিছানায় জায়গা হলো না।।হাহ... বোঝ এবার বিয়ের মজা। কর ভালো করে বাসর এই দু ফিটের ডিভানে শুয়ে শুয়ে...."