সোফায় বাবু হয়ে বসেছে চড়ুই। কোনোমতেই সে এখান থেকে নড়বে না, আবিরের সাথে এই বাড়ি ছেড়ে কিছুতেই যাবে না সে। কোলের মাঝে লিও ঘাপটি মেরে বসে আছে তার।
ওদিকে সাবিহা আজমল সহ বাড়ির প্রতিটি সদস্য আবিরকে বুঝিয়ে যাচ্ছে এই সেই। বাড়ি ছেড়ে যাওয়াটা কখনোই সমাধান নয়। আবিরের ঐ এক কথা....
"তোমরা কেউ চাও নি আমি চড়াইকে বিয়ে করি, এখন আমি আর মনের বিরুদ্ধের কোনো মানুষের সাথে থাকতে পারবো না। কয়েকটা দিন চড়ুইকে নিয়ে অন্য কোথাও থাকবো, ততদিনে চড়ুইয়ের পাসপোর্ট, ভিসা প্রসেসিং কমপ্লিট হলেই আমরা ইউএসএ চলে যাবো চির দিনের জন্য। "
সাবিহার কন্ঠ আজ করুন, চোখে তার পানি ছলছল। ছেলের করা প্রতিটা কাজ তার মেনে নেওয়ার মতো হলেও এই কাজটা কিছুতেই গ্রহন করার মতো নয়। তাই আজ প্রায় কাকুতির সুরেই বলছেন তিনি....
"দেখ আবির বাবা, তুই হয়তো ছোটবেলা থেকে একা ওভাবে থেকেছিস তাই তোর তেমন সমস্যা হবে না। কিন্তু ছোটপাখির দিকে একটু তাকিয়ে দেখ বাবা, ও তো ওভাবে থাকতে পারবে না কিছুতেই। ওর তো একটা হাসিখুশি পরিবার দরকার বল। তুই বিয়ে করেছিস, ঠিক আছে আমি মেনে নিলাম। আমি আর তোর থেকে ওকে আলাদা করতে চাইবো না, কিন্তু বাবা ওকে এভাবে দূরে সরিয়ে দিস না। "
আবির তাকায় তার সদ্য বিয়ে করা বউটার দিকে। ঐ যে বসে বসে হিচকি তুলে কাঁদছে কেমন বাচ্চাদের মতো, কে বলবে এই মেয়েটা এখন তার বউ?
এতক্ষণ দোয়েলও আবিরের এমন সীদ্ধান্তে নীরবে কান্না করলেও আর সহ্য করতে পারলো না সে। হাতের পৃষ্ঠ দিয়ে চোখ মুছে এগিয়ে যায় চড়ুইয়ের কাছে।......
"বোন, চল ওঠ...."
চড়ুই হিচকি তুলতে তুলতে ভেজা চোখে তাকায় দোয়েলের দিকে। করুন কন্ঠে মাথা দু পাশে নাড়িয়ে বলে ওঠে....
"আমি তোকে ছাড়া কোথাও যাবো না বোন.."
দোয়েলের কন্ঠ কাঠ, উত্তরে বলে.....
"আমাকে ছাড়া থাকতে হবে না, চল বেরোবো.... "
"কোথায় যাবো?"
"জানি না, কিন্তু এই বাড়িতে আর এক মুহুর্ত ও নয় চল....."
বলতে বলতেই চড়ুইয়ের হাত ধরে টেনে দাঁড় করায় দোয়েল। নিবিড়ের মস্তিষ্ক জানান দিচ্ছে তার এটম আবার অগ্নিরূপ ধারন করছে। মেয়েটা এইবার কোনো সীদ্ধান্ত নিয়ে নিলে নিবিড় যে আর ফেরাতে পারবে না তা বেশ বুঝতে পারছে। তাই দ্রুত এগিয়ে এগিয়ে দোয়েলের হাত টেনে রুখে দাঁড়িয়ে বললো....
"এই এই এই.. এটম... ত্ তুমি আবার কোথায় যাচ্ছো এখন? একটু পরেই তো আমাদের বিয়ে তাই না? "
সাথে সাথেই দোয়েল ঝাড়ি মেরে নিবিড়ের হাতটা ছাড়িয়ে চিৎকার করে ওঠে....
"কোনো বিয়ে হবে না।আমি করবো না আপনাকে বিয়ে। কি পেয়েছেন আপনারা দু ভাই মিলে? একবার ইচ্ছে হচ্ছে বিয়ে করবেন বলছেন, আবার কদিন পর বলবেন বিয়ে করবেন না, আরেকজন প্রথমেই বললো আমার বোনকে সে ঘৃণা করে, তারপর নিজ থেকেই বিয়ে করার জন্য পাগল হয়ে গেলো। একটু আগে ইরিন আপুকে নিয়ে গেলো বিয়ে করার জন্য, এখন তাকে বিয়ে না করে আমার বোনটাকে জোর করে বিয়ে করে নিয়ে এলো, এখন আবার বলছে আমার থেকে বোনকে আলাদা করবে। কি সার্কাস পেয়েছেন আপনারা? আমরা আপনাদের বাড়িতে আশ্রিতার মতো থাকছি তাই এমন পুতুলের মতো পেয়েছেন আমাদের দুজনকে... "
দোয়েলের কথা শুনেই সকলে চমকে তাকায় মেয়েটার দিকে। আবির নীরব শ্রোতার মতো দৃষ্টি ফ্লোরে নিবদ্ধ করে সটান দাঁড়িয়ে। সাবিহা করুন কন্ঠে ডেকে ওঠে....
"বড়পাখি... "
দোয়েল আজ আর থামে না, সাবিহাকে থামিয়েই বলে ওঠে...
"আমায় বলতে দাও আম্মু। এনারা তো আমাদের তাই মনে করে। দোষ আমাদেরই, আমার দোষ আমি তোমাদের এই বিলেত পড়ুয়া, হাই ক্লাস মেন্টেন্ড ছেলেটাকে না চাইতেও ভালোবেসে ফেলেছি, আর আমার বোনের দোষ ও বোকা, ও পরিস্থিতি বুঝে না, ও সারাটাক্ষন সবাইকে নিয়ে একটু আনন্দে থাকতে চায়। "
নিবিড়ের কন্ঠ শীতল, প্রশ্ন ছুড়লো....
"আমার ভালোবাসাটা তোমার কাছে দোষ মনে হচ্ছে এটম?"
"হ্যা মনে হচ্ছে, আপনাদের এসব আর নিতে পারছি না আমি। আপনাদের কাছে অপর পাশের মানুষ গুলোর ইমোশানের থেকে নিজেদের ইগোটাই বেশি। নিজেদের জেদ বজায় রাখতে আপনারা যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন। আমার বোনকে এমন হার্টলেস মানুষের কাছে রাখতে পারবো না আমি, আর না নিজে থাকবো এখানে।
আমাদের দুজনকে নিয়েই যেহেতু আপনাদের এতো এতো সমস্যা, তো বেশ আমরাই চলে যাচ্ছি এই বাড়ি ছেড়ে। আপনারা নিজেদের বাড়ি ছাড়ার দরকার নেই আর। এই বাড়ির সাথে আর কোনো প্রকার সম্পর্ক রাখতে চাই না আমরা। না আম্মুর সাথে মা মেয়ের সম্পর্ক, না আহিশের সাথে বন্ধুর সম্পর্ক আর না কোনো প্রকার স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক। আবির ভাই আর বোনের বিয়ে যেহেতু হয়েছে ডিভোর্সটাও হওয়া জরুরি। আমি সময় মতো ডিভোর্স পেপার পাঠিয়ে দেবো, ভাইয়া সাইন করে দিবেন ব্যস। চল বোন.... "
চড়ুইকে নিয়ে যখন সদর দরজা দিয়ে বের হতে যাবে দোয়েল ঠিক তখনই কেউ একজন হেঁচকা টান দিয়ে চড়ুইকে দোয়েলের থেকে ছাড়িয়ে নেয়।বিরক্ত হয়ে দোয়েল পেছনে ফিরে তাকাতেই দেখতে পায় আবিরের বাহুডোরে লেপ্টে আছে চড়ুই। ছুটার আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও কোনো ভাবেই আবির তাকে ছারে না। বা হাতের তর্জনী আঙুল উঁচিয়ে ধরে সে দোয়েলের দিকে। রুষ্ট কন্ঠে বলে ওঠে.....
" আমার বউকে তুমি আমার অনুমতি ছাড়া এক ইঞ্চিও দূরে সরাতে পারবে না,রইলো বাকি ডিভোর্সের কথা।"
দোয়েল রাগে ফুঁসছে, আবিরের মুখের উপর কিছু বলতে যাবে তখনই আবির আবার তাকে ধমকে বলে ওঠে.....
"চুপচাপ গিয়ে নিজের বিয়ের জন্য রেডি হয়ে নাও, সন্ধ্যা প্রায় ঘনিয়ে এসেছে। "
তারপর উপস্থিত সকলের উৎসুক মুখের দিকে তাকিয়ে আবিরের দৃষ্টি থামে আহিশের উপর। হুট করেই তার ঠোঁটের কোনে খেলে যায় এক বাকা হাসি। লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে সকলের সামনেই আহিশকে বলে ওঠে.......
"আমার রুমটা সুন্দর করে সাজিয়ে দিবি আহিশ, তাজা ফুল দিয়ে। আমার আর চড়াইয়ের স্পেশাল নাইটে যেন আমাদের বিছানাটাও স্পেশাল ভাবেই সাজানো থাকে।"
এই এতক্ষণ সকলের মনে সস্থি ফিরলো৷ যাক, শেষমেশ আবিরের মাথা থেকে তাহলে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার ভুতটা নেমেছে। নিবিড় হেঁসে আহিশের দিকে তাকিয়ে বললো...
"সাথে আমার রুমটাও সাজিয়ে দিস কেন ভাই আমার..."
----------------
সন্ধ্যায় পরিকল্পনা অনুযায়ী দুটো বিয়ে হওয়ার কথা থাকলেও বিয়ে হয়েছে একটা। নিবিড় আর দোয়েলের বিয়েটা বেশ স্বাভাবিক ভাবেই সম্পন্ন হয়ে গেলো একটু আগেই। ডিনার সেরে সকলে যে যার ঘরে গিয়েছে বড়রা। ছোটরা সবাই দুটো ঘরে ফুলসজ্জার খাট সাজাতে ব্যস্ত৷
খোলা বারান্দায় মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে আবির আর নিবিড়। আবিরের পড়নে সাধারন পোলো টিশার্ট হলোও নিবিড়ের পড়নে এখনো সন্ধ্যার সেই সূক্ষ্ম কারুকাজের পাঞ্জাবি খানা রয়েছে। চাঁদের আলোয় স্পষ্ট নিজের পুরুষালি এক হাত আবিরের দিকে হ্যান্ডসেক করার উদ্দেশ্যে বাড়িয়ে দেয় নিবিড়....
"কনগ্রেচুলেশন ব্রো..."
আবির হাত মিলিয়ে দেয় নিজেও, ঠোঁট নাড়িয়ে বলে....
"কনগ্রেচুলেশন ঠু..."
"শেষমেশ আমরা সব কাজের মতো বিয়েটাও একসাথেই করে নিলাম।"
"উহুম... তোর থেকে এইখানেও এগিয়ে আছি আমি। চার ঘন্টার ডিফারেন্স, আমি বিয়ে করেছি দুপুর তিনটায়, আর তুই সন্ধ্যে সাতটায়। "
নিবিড় চোখ কোনা করে তাকায় আবিরের দিকে....
"তুই আর ভালো হলি না ব্রো... "
"ওরা কি এত করছে বলতো, নিজের ঘরেই ডুকতে দিচ্ছে না। "
"কেন ভাই? এইটুকু তর সইছে না বুঝি? "
আবির ঠোঁট গোল করে নিশ্বাস ফেলে বলে...
" চড়াইয়ের সাথে আমার প্রথম দেখার কথা মনে আছে তোর?"
"সে আর ভুলার মতো কথা?, পুলিশে দিয়েছিলি তুই মেয়েটাকে, তার শাস্তি পেলো আমার এটম। "
"সেদিন কথার ছলে আমি ওকে ওয়াইফি ডাকা শুরু করেছিলাম, এন্ড টুডে, আই মেইড ইট ট্রু.. "
নিবিড় আলতো নির্মল চোখে তাকায় আবিরের দিকে। ধীর কন্ঠে বলে ওঠে....
"ওর মনটা রাখতে পারবি তো ভাই? যুদ্ধ তো জয় করে নিলি.. "
"সেই যুদ্ধে আমার বিপক্ষ দল ছিলি তোরা, আমি এই সময়টা কখনোই ভুলে যাবো না ভাই। আমিই জানি শুধু, ঠিক কতটা যন্ত্রণা সয়ে আজ আমি ওকে পেয়েছি নিজের করে। আজ সকালে তো প্রায় আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। তাইতো ইরিনকে নিয়েই...."
"ইরিনকে কি করে সামলালি বলতো ভাই, ও তো এত কিছুর পর চুপ থাকার মতো মেয়ে না।আজ একটা কথাও বললো না তুই চড়ুইকে বিয়ে করর পর?"
আবির তীর্যক হেঁসে তাকায় নিবিড়ের দিকে। মাথা দুলিয়ে বললো....
"স্বার্থে ঘা লাগলে লোক দেখানো ভালোবাসা জানালা দিয়ে পালায় ব্রো।ইরিন অলরেডি গোপনে দুটো বিয়ে করেছে এই অবদি। সবটা উশুল হয়ে গেলেই তাকে ছেড়ে আরেকটা বিয়ে করে, দ্যাটস কলড বিজনেস..."
"মাই গড... ডেঞ্জারাস তো ও..."
"ওসব ছাড় এখন, আজ রাতের জন্য বেস্ট অফ লাক।"
"আহিশকে সাজানোর দায়িত্ব দিয়ে তোর ঘরেই ছোটপাখির সাথে ছেড়ে এসেছিস। যা গিয়ে দেখ তোর ফুলের মধু সে আবার.... "
"সাট আপ...."
বলেই আবির উল্টো ঘুরে দ্রুত হাটা ধরে নিজের রুমের দিকে। এদিকে তার এমন ভয় পাওয়া দেখে নিবিড় হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা।
দরজার সামনে আসতেই দেখে আহিশ দাঁড়িয়ে আছে আবিরের রুমের সামনে। তা দেখে আবির ভ্রু কুঁচকে বললো....
"পথ আটকালি কেন?"
আহিশ নিজের বত্রিশ পাটি দাত বের করে হেঁসে বলে....
"টাকা না দিয়ে বাসর ঘরে ঢুকবি ভাই?"
আবির বাঁকা হেঁসে বলে....
"তোর হবু বউকে বিয়ে করে এনেছি, এখন বাসরও করতে যাচ্ছি, কষ্ট হচ্ছে না তোর?"
আহিশ হাসি থামিয়ে কান্না করার মতো ভান করে নাক টেনে টেনে বলে....
"হ্যা ভাই, কষ্ট তো হচ্ছেই, এখন কষ্ট কমাতে ইয়ে ঢালতে হবে গলায়,,তাই তো টাকা চাইতে এসেছি,, দিয়ে দে না টাকাটা,কত কষ্ট করে তোর জন্য ঘর সাজালাম নিজ হাতে। দে না?"
আবির কথা বাড়ায় না, আহিশের এসব নাটক দেখে কিছুটা অবাক সে। কিন্তু এই মুহুর্তে চড়ুইয়ের কাছে যাওয়ার চেয়ে এসব নিয়ে ভাবার সময় তার নেই, তাই পকেট থেকে ফোন বের করে টিপাটিপি করে বলে....
" টুয়েন্টি থাউজেন ফোনপে করে দিয়েছি দেখ। তোর একার না,,জেসি আর হৃদেরও আছে সেখানে। "
আহিশ নিজের ফোনে চেক করে হেঁসে সরে যেতে যেতে বলে...
"বেস্ট অপ লাক ভাই, রাতে সমস্যা হলে লিওকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিও, এনজয়....."
আহিশের যাওয়ার পানে তাকিয়ে হাফ নিশ্বাস ফেলে নিজের ঘরের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে আবির।
অন্ধকারে ভরপুর রুমটায় হাতরে লাইট জালাতেই চারদিক আলোকিত হয়ে উঠলো। এদিক ওদিক তাকিয়ে পরখ করে দেখলো সে...
নাহ, বেশ ভালোই সাজিয়েছে বেটা।চার দিকে ফুলের গন্ধে ম ম করছে। বিছানায় সাদা বেডসিটের মাঝে বড় করে লাল গোলাপের পাপড়ি দিয়ে লাভ সেপ একেছিলো হয়তো। তবে তা আর এখন আগের রুপে নেই। লিও এদিক এদিক ছড়িয়ে পুরো বিছানাময় করে ফেলেছে পাপড়ি গুলো। নাহ, এভাবেও মন্দ লাগছে না বেশ।
হাত থেকে ফোনটা রেখে আবির এগিয়ে গিয়ে হাত বাড়িয়ে ডাকে লিওকে। সাথে সাথেই লিও এসে আবিরের হাত জড়িয়ে ধরে। আবির তাকে প্রশ্ন করে....
"Where is your mammah?"
লিও 'মিয়াওও' করে জবাব দেয়।কি বুঝাতে চাইছে তা সাধারন মানুষের বোধগম্য নয়।
"আজ রাতে তুমি বাইরে থাকবে ওকেয়? একদম মাম্মার কাছে শোয়ার জন্য বায়না করবে না।"
লিও আবারও 'মিয়াও' করে ডেকে ওঠে।
"তুমি যেমন এতদিন তোমার মাম্মার বুকে মুখ লুকিয়ে ঘুমাতে, আজ থেকে সেখানে আমি ঘুমাবো। তোমার মাম্মার যেই যেই জায়গা গুলো ছোঁয়ার অধিকার আমি তোমাকেও দিই নি, সেই জায়গা গুলোও আজ আমি পরম যত্ন নিয়ে ছুঁয়ে দেবো গভীর ভাবে। "
লিও কি বুঝলো কে জানে, শুধু কৌতুহলী নয়নে তাকিয়ে থাকে আবিরের মুখের দিকে। বির আপন মনেই প্রশ্ন করে....
"আচ্ছা, তোমার মাম্মাহ কি তখন খুব ব্যাথা পাবে?"
এতটুকু বলতেই লিও এবার বেশ রাগী ভাবেই ডেকে ওঠে যেন। সবটা না হোক ব্যথা শব্দটা তার পরিচিত। আবির দ্রুত বলে ওঠে....
"ওকেয় ওকেয় রিল্যাক্স।তোমার মাম্মাহকে বেশি ব্যথা দিবো না আমি, একটু খানিই দিবো ঠিক আছে? তাতে আর না করা চলবে না। নাও গো.... "
লিওকে ছেড়ে দিলেই সে শান্ত বাচ্চার মতো দরজা দিয়ে বেরিয়ে যায় বাইরে। আবির এবার চড়ুইকে ডাকে। কে জানে কোথায় লুকিয়ে বসে আছে মেয়েটা আবার৷ একে একে ওয়াশরুম, বারান্দা সব খুঁজে ফেললেও চড়ুইকে পাওয়া গেলো না রুমে। বাধ্য হয়ে আনির বেরিয়ে আসে তাকে খোঁজার জন্য।
নিবিড়কের ঘরের সামনে আসতেই আহিশকে পেয়ে গেলো সে। যে মাত্রই নিবিড়ের থেকে টাকা উশুল করে খুশি মনে গুনে দেখছে সেগুলো। আবির তড়িৎ গতিতে গিয়ে আহিশের কলার চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বলে ওঠে....
"ঐ, আমার বউ রুমে নেই কেন? ফুলসজ্জা কি একা একা করবো আমি?"
ঠিক তখনই নিবিড়ের রুমের ভেতর থেকে ভেসে আসে একটি অদ্ভুত গান....
-----
ঘরে ডুকতেই নিবিড় দেখতে পায় তার বউটা ড্রেসিন টেবিলের সামনে বসে কানের দুল খুলছে। আলতো হেঁসে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে নিবিড় এগিয়ে যায় সেদিকে। দোয়েলের পেছনে দাঁড়িয়ে আয়নায় এক দৃষ্টিতে দেখতে থাকে তাকে। পকেট থেকে একটি ছোট্ট সোনার লকেট যুক্ত হার দোয়েলের গলায় পড়িয়ে দিয়ে কানের কাছে ঝুঁকে ফিসফিসিয়ে বলে ওঠে.....
"আমার ছোট্ট স্বর্গে আপনাকে স্বাগতম মিসেস নিবিড় বিন চৌধুরী। আশা করি আজ থেকে আজন্ম পর্যন্ত আপনি এই নিবিড়ের মনরাজ্যের রানী হয়ে থাকবেন। "
দোয়েল লাজুক হেঁসে মুখ নামিয়ে নেয় নীরবে। নিবিড়ও দেখে যায় সেই হাসি, ঐ এক হাসিতেই যে কুপোকাত হয়ে যায় সে বারণবার।
দোয়েলের কোমল গ্রীবায় দৃষ্টি স্থির হতেই নিবিড়ের স্বত্বা কেঁপে ওঠে। চুম্বকীয় শক্তিতে নিজেকে টেনে নিয়ে যায় দোয়েলের কাছে, আরো কাছে...
নিজের পুরু ঠোঁট খানা এগিয়ে নিয়ে দোয়েলরে ঘাড়ে ছোঁয়াতেই কেঁপে ওঠে দোয়েল। নিবিড় যেন আরো আশকারা পায় তাতে। নিজেকে আরো গভীরে নিতে চায়, একটা দুটো করে করে চুমুটা যখন দোয়েলের বিভাজিকায় এসে পৌঁছায় তখনি বিকট শব্দে কোথা থেকে বেজে ওঠে একটি খরস্রোতার মতো গান....
"" ধীরে ধীরে চালাও গাড়ি মাথা ঠান্ডা করে..
৮০ র বেশি তুললে গাড়ি পড়বে গিয়ে খাদে..
ধীরে ধীরে চালাও গাড়ি ইঞ্জিন ভালো রবে..
৮০ র বেশি তুললে গাড়ি এক্সিডেন্ট হবে...
১০০ কিলো যাওয়ার পরে
রং চা খেয়ে আবার স্টার্ট দেবে....
যত গুতাও কাজ হবে না বন্ধ হয়ে যাবে.
বিরতিহীন ভাবে গাড়ি চালাইলে পরে...
গাড়ি যাবে গরম হয়ে মবিল বেশি খাবে...."""