Mr and Mrs Twins Return

পর্ব - ৬৪

🟢

সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত্রির মধ্যভাগ চলমান। আহিশের ঘরে আড্ডা জমেছে আজ আবার। বিছানার উপর বই খাতা নিয়ে বসলেও পড়া লেখার নাম নেই কারোর মুখে। ব্যতিক্রম দোয়েল। সে নিরবে এক কোনায় বসে বইয়ে মুখ ডুবিয়ে রেখেছে। জেসি আর চড়ুই খাতায় কি সব আঁকিবুঁকি করে খেলছে, ওদিকে আহিশ ব্যস্ত ফোনে হৃদের সাথে কথা বলতে। হৃদ হস্টেলে ওঠার পর থেকে আর মনে শান্তি নেই এই ছেলেটার।

নিবিড়ের আগমনে সকলেই ধ্যান দেয় তার দিকে। এগিয়ে এসে চমৎকার হেঁসে বিছানার কোনে বসে এক পলক তাকায় দোয়েলের দিকে। তারপর চড়ুই আর জেসিকে উদ্দেশ্য করে বলে....

"কি চলে?"

" SOS খেলি নিবিড় ভাই। খেলবেন?"

চড়ুইয়ের কথায় নিবিড় গলা কাশ দিয়ে আস্তে করে বলে.....

"বউয়ের সাথে খেলার সময় শালির সাথে সস খেলার অফার দিচ্ছে, নট ইন্টারেস্টেড।"

নিবিড়ের কথায় ঘাড় কাত করে তাকায় দোয়েল। চোখাচোখি হয় দারুণ ভাবে৷ নিবিড় ভেবেছিলো এই বুঝি মেয়েটা তার অগ্নি রূপে চোখ রাঙাবে। কিন্তু তার ধারনাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমান করে দিয়ে দোয়েল একটা লাজুক হাসি দিলো। সামনে থেকে বই বন্ধ করে উঠে বাইরের দিকে যেতে যেতে বললো...

"বোন, আমি ঘরে গেলাম। ডিনারের সময় হলে ডাকিস, এর আগে নয় কিন্তু.... "

জেসি মিচকে হেঁসে নিবিড়কে খোঁচা দিয়ে বললো...

"তোমার বউ ডাকছে তো, যাও নিবিড় ভাই... "

নিবিড় দোয়েলের যাওয়ার পানে তাকিয়েই চোখ বড় বড় করে হতভম্ব হয়ে বললো....

"ওটা সত্যিই আমার এটম ছিলো তো?"

এইবার বেশ শব্দ করেই হেঁসে দিলো জেসি। নিবিড়ও ঘোর কাটিয়ে হাঁটা ধরলো নিজের রুমের দিকে। তারপর........

-----

রাত্রির সময় সাড়ে বারোটা প্রায়। সেই সন্ধ্যায় যে আবির বেরিয়েছিলো ঘরে ফিরলো এই তো মাত্র। সচরাচর বাড়িতে দেরি করে ফিরলে কাউকে বিরক্ত করার অভ্যাস নেই তার। তাই তো নিজের কাছে থাকা এক্সট্রা চাবি দিয়েই দরজা খুলে ঢুকেছে। নিজ রুমে আসতেই কিছুটা এলোমেলো ভাব দেখে একটু চমকায় সে। তার ঘরের মেঝেতে সাদা মার্বেল টাইলসের উপর দৃশ্যমান হয়ে আছে এলোমেলো মেয়েলি লম্বা চুল। এই চুল যে চড়ুইয়ের তা বুঝতে দেরি হয় না আবিরের। যাক, তার অনুপস্থিতিতে মেয়েটা যে এই ঘরে এসে মানিয়ে নিচ্ছে এই অনেক। কিন্তু এত হেয়ারপল হচ্ছে কেন মেয়েটার। যত্ন নেয় না একটুও...

বিছানার উপর চড়ুইয়ের বাসি জামাটা পড়ে আছে। আবির এগিয়ে গিয়ে জামাটা তুলে ঝুড়িতে রাখার জন্য তুলতেই আরেকটি পরিধানের বস্র পড়লো নিচে। আবির নিচে তাকায়, বেবি পিংক কালারের বস্র খানা ঝুঁকে হাতে তুলে নিয়ে ঠোঁট বাকিয়ে হাসে সে। চিতলুম দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে সেই জিনিসটার দিকেই, বা হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে হালকা স্লাইড করছে তারই উপর। তার চড়াই পাখির শরীরের সাথে মিশে থাকা জিনিসটি আবেশে নাকের কাছে নিয়ে ঘ্রাণ নিতে চায় সে তীব্র ভাবে। কিন্তু তার আগেই হঠাৎ বাতাসের গতিতে চড়ুই এসে ছো মেরে জিনিসটি ছিনিয়ে নেয় আবিরের হাত থেকে।

লজ্জায়, সংকোচে মেয়েটা গুটিয়ে যাচ্ছে বার বার। ঢোক গিলতে গিলতে হাত লুকায় পিছনে। আবির ঠোঁট এলিয়ে শয়তানি হেঁসে বলে....

"এসব রেখে আমাকে সিডিউজ করার কি প্রয়োজন, মুখে বললেই হয় ইউ ওয়ান্ট মি ইনসাইড অফ ইউ.... "

চড়ুইয়ের গাল দুটি টকটকে লাল রঙ ধারন করে, তবুও সে নিজের রাগ প্রকাশ করার ভঙ্গিতে ধমকে ওঠে....

"অসভ্য, ক্যারেক্টারলেস লোক একটা। আমার এসবে হাত দিতে বলেছে কে আপনাকে? "

আবির এক কদম এগিয়ে এসে বলে....

"অনুমতির কি আছে? আফটার অল আ'ম ইউর হাসবেন্ড নাও, আমার পুরো অধিকার আছে তোমাকে.... "

চড়ুই এক কদম পিছিয়ে চাতক চোখে চেয়ে বলে....

"আ্ আপনি সত্যিই ও্ ওসব করতে চান? "

আবিরও ধীর গতিতে চড়ুইয়ের দিকে এগোতে এগোতে লো ভয়েজে বলে....

"অফকোর্স আই ওয়ান্ট... আই নিড ইউ ব্যাডলি ইন মাই আর্ম...."

চড়ুইয়ের চোখ ছলছল করে। সামনের লোকটাকে কেমন৷ যেন লাগছে তার। তবুও দৃষ্টি সরিয়ে নেয় সে। এলোমেলো পায়ে এগিয়ে এসে আবিরের হাত থেকে নিজের জামাকাপড় গুলো ছিনিয়ে নিয়ে ঝুড়িতে রেখে দেয়। তারপর রুম থেকে বের হতে হতে কিঞ্চিৎ কড়া কন্ঠে বলে যায়.....

"ডিনার রেডি করছি , ফ্রেশ হয়ে তারাতারি আসুন... "

চলে যায় চড়ুই। পেছন থেকে আবির চমৎকার হেঁসে আপন মনেই বলে ওঠে....

"বাব্বাহ, বউ বউ আচরণ করছে দেখি.... "

ডায়নিং টেবিলে বসে নিশ্চিন্তে খাচ্ছে আবির। সামনেই চড়ুই চেয়ার ধরে দাঁড়িয়ে আছে আবিরের থেকে কিছু কাঙ্খিত আবদার বাক্য শোনার লোভে৷ কিন্তু তার এমন নিশপিশ ভাব দেখে আবির ভাবলো হয়তো তার ঘুম পাচ্ছে। তাই বলে ওঠে....

"দাঁড়িয়ে আছো কেন? রুমে গিয়ে ঘুমাও, আমি খাওয়া শেষ করে আসছি। "

চড়ুই বলতে নেয়...

"আপনি খান না, আমি.... "

আবির তার কথা সম্পূর্ণ করতে না দিয়েই হালকা ধমকে বললো...

"রুমে যেতে বলছি না তোমাকে? এক কথা কয়বার বলা লাগে? "

আর সহ্য হলো না চড়ুইয়ের। চোয়াল শক্ত হয়ে এলো তার। রাগে ঘন ঘন নিশ্বাস ফেলে স্থান ত্যাগ করলো সে দীর্ঘ পায়ে। আবির তার এমন রেগে যাওয়ার কারন বুঝে উঠতে পারলোই না হঠাৎ...

খাওয়া শেষ করে রুমে আসতেই আবির দেখলো গুটিশুটি মেরে কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে চড়ুই। আবির এলো, শব্দ করে দরজায় খিল দিলো, চড়ুইয়ের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য বার দুয়েক শুকনো কাশি দিলো, কিন্তু কিছুতেই চড়ুইয়ের নড়চড় হলো না। কি হলো মেয়েটার আবার?

ভাবতে ভাবতেই আবির ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে চড়ুইয়ের পাশে বসে তার কাঁধে হাত রাখতেই চড়ুই ঝামটি মেরে সরিয়ে দেয় আবিরের হাত....

"ছুবেন না আপনি আমায়। "

"বিয়ে করেছি কি বউকে না ছুঁয়ে রাখার জন্য? "

" যত তারাতারি সম্ভব ডিভোর্সের ব্যবস্থা করুন। "

আবিরের রাগ হয় হালকা। এই মেয়ে এমন কেন, নিজের রাগকে সংযত রেখে বলে ওঠে....

"ডিভোর্স কি মুখের কথা নাকি, এমনি এমনি ছেড়ে দেবো তোমাকে মেয়ে? "

আবিরের কথা শেষ হতে দেরি, চড়ুই তৎক্ষনাৎ তার দিকে ঘুরে কন্টকিত রক্তগরম চোখে বলে ওঠে....

"তাহলে কি আমাকে দুদিন ভোগ করে নিয়ে তারপর ছাড়বেন? "

চড়ুইয়ের চোখ দুটি টকটকে লাল হয়ে আছে। নাকের ডগার এই লালাভ ভাবটা আবিরের ভিষণ পরিচিত, মেয়েটা কান্না করলে এমন নাক মুখ টসটসে লাল হয়ে যায়। তবে কি চড়ুই.......

ভাবতেই আবির ঝুঁকে নিজের পুরুষালী হাত রাখে চড়ুইয়ের নরম এক গালে। চকিত নয়নে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে...

"তুমি কাদছিলে পাখি? "

চড়ুই আবার মুখ ফিরিয়ে নিতে চায়, কিন্তু আবির তার গালে আলতো চেপে ধরে বাঁধা দিয়ে কি অদ্ভুত নিংড়ানো কন্ঠে সুধায়....

"এই মেয়ে, কাঁদছো কেন? "

মেয়েটা সত্যিই গলে গেলো যেন। কিছুক্ষণের পুসে রাখা সব রাগ অভিমান ভেঙে চোখ বেয়ে মাত্রই পানির ঢল নামতে নিচ্ছিলো। নাকে বাজিয়ে নিয়ে বলতে নিচ্ছিলো....

"আপনি আমায় একবার ও জিজ্ঞেস করলেন না আমি খে...."

পারলো না কথা শেষ করতে। তার আগেই বিকট শব্দে টেবিলে থাকা আবিরের ফোনটা বেজে ওঠে। আবির, চড়ুই দুজনই ঘাড় ফিরিয়ে তাকায় ফোনের দিকে। স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে ইরিন নামটি। তা দেখে আবির এড়িয়ে যায়, আবার চড়ুইতে মনোযোগ দিয়ে জিজ্ঞেস করে...

"কি হলো বলো, কি বলতে নিচ্ছিলে?"

চড়ুইয়ের মুখ দিয়ে কথা বের হয় না। নির্লিপ্ত তাকিয়ে থাকে সে আবিরের মুখের দিকে। কলটাও বাজতে বাজতে থেমে গেলো৷ আবির সময় দিচ্ছে মেয়েটাকে। সাথে নিরবে পর্যবেক্ষণ করছে তার চোখ, নাক, গাল, ঠোঁট সব কিছু। সেই প্রথম বারের মতো আবারো কিছু তীব্র বাসনা বার্তা দিচ্ছে তাকে যেন। নিজেকে থামিয়ে রাখার কোনো প্রশ্নই ওঠে না যেন। মুখ নামিয়ে চড়ুইয়ের নাকেট ডগায় ঠোঁট ছুইছুই.. ঠিক তখনই আবারো বেজে ওঠে ফোনটি। আবির মুখ কুঁচকে বিরক্ত নিয়ে সরে আসে। ফোন হাতে নিয়ে অনিচ্ছাসহীত রিসিভ করে কানে তোলে ফোনটি....

"কি হয়েছে, এত বার কল দিচ্ছো কেন.... "

সাথে সাথেই ও পাশ থেকে ইরিনের কান্নারত কন্ঠ ভেসে আসে....

"আবির... আবির আমাকে বাঁচাও আবির.... আমার খুব ভয় করছে আবির... একটু এই রুমে আসো না.... "

চমকায় আবির, এর আবার কি হলো। জিজ্ঞেস করে...

"কি হয়েছে ইরিন?"

"তুমি এই রুমে একটু আসো না প্লিজ... আমি খুব ভয় পাচ্ছি... "

ইরিনের এমন কান্নায় আবিরও চিন্তিত হয়। না জানি কি না কি হলো আবার তার। বিছানা ছেড়ে উঠে কানে ফোন চেপেই এগিয়ে গেলো ইরিনের রুমের দিকে। চড়ুই আবার নীরব হয়ে যায়। কিছুটা সময় ওভাবেই কাটে। অপেক্ষা করে আবির কখন আসবে, কিন্তু সে আসে না। বিরক্ত হয়ে চড়ুই নিজেই উঠে এগিয়ে যায় ইরিনের রুমের দিকে। দরজার সামনে দাঁড়াতেই দেখতে পেলো আবির আর ইরিনকে। একে অপরকে জড়িয়ে ধরেছে নির্লিপ্তে তারা, চড়াই পাখির কি আরেকটি বার মন ভাঙলো আজ?...

Mr and Mrs Twins Return গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি -এর লেখা একটি জনপ্রিয় টুইন রিলেটেড রোমান্টিক গল্প